তত্ত্বতালাশ (চিন্তামূলক প্রবন্ধের কাগজ) প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা, অক্টোবর ২০২১
এ সংখ্যার সূচি ও প্রবন্ধের সংক্ষিপ্ত পরিচয় :
মেহেদী মাহমুদ চৌধুরী : গণিতের জন্ম সম্পর্কে কিছু ভাবনা
[সম্পাদকীয় নোট: প্রবন্ধটি আলাপ করেছে মূলত গণিতের ইতিহাসেরও আগের আমল অর্থাৎ প্রাক-ইতিহাস নিয়ে। স্বভাবতই আদিম মানুষের জীবন-যাপন ও ভাষা সম্পর্কেও আলাপ তুলতে হয়েছে। তত্ত্ব ও তথ্য-ভারে লেখাটিকে বিপর্যস্ত হতে না-দিয়ে প্রাবন্ধিক এগিয়েছেন বাস্তবের যাপিত জীবন থেকে নেয়া অভিজ্ঞতার বরাতে। তত্ত্বের জটিলতাকে ভাষার প্রকাশধর্মিতায় রূপান্তর করেছেন তিনি। অবশ্য পুরো প্রবন্ধে গণিতের আদি-উদ্ভব সম্পর্কে আলাপের সমান্তরালে চলেছে আরেক জরুরি তাত্ত্বিক অনুসন্ধান: সভ্যতার অগ্রগতিতে ব্যক্তি-প্রতিভার ভূমিকা।]
আবীর আহমেদ : রুহানি রাজনীতি
[সম্পাদকীয় নোট: ‘রুহানি রাজনীতি’ মানুষসহ অন্য যে-কোনো অস্তিত্বের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের এক সূক্ষ্ম দার্শনিক প্রস্তাব। অন্তত মানুষের মর্যাদা দুনিয়ায় মানুষই প্রতিষ্ঠা করেছে। আবার মানুষের তৈরি কাঠামোই, বিশেষত আর্থিক কাঠামো এবং তার অনুগামী রাষ্ট্রকাঠামো, মানুষের সার্বভৌম অস্তিত্বকে আইন ও রেওয়াজের নামে নিঃশেষ করেছে। কিন্তু মানুষ তো এতেই তৃপ্ত থাকবার নয়। আবীর আহমেদ এ অবস্থার পর্যালোচনা করে নতুন রাজনীতি প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে আসলে মানুষের চুরি-যাওয়া সম্ভাবনাই প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রধানত আগামবেনের সূত্র ও ইসলামি ধর্মতত্ত্বের কয়েকটি ধারণা ব্যবহার করে তিনি মানুষের মুক্তির শর্ত উপস্থাপন করেছেন। তার আলোচনা এগিয়েছে ভাষার পটভূমিতে; সরল ও পরিচ্ছন্ন পষ্টতায়; আর লক্ষ্যাভিমুখি একাগ্রতায়।]
মানস চৌধুরী : সংশয়ী পাঠে ধর্ম ও যৌনতা, এবং নন্দনঘন মগডালে বিকল্প চলচ্চিত্র [কেইস-স্টাডি: বৃষ্টি (২০০০), এবং লালসালু (২০০১)]
[সম্পাদকীয় নোট: প্রায় দুই দশক আগের দুটি ‘বিকল্প ধারা’র সিনেমা নিয়ে আলাপ করেছেন প্রাবন্ধিক। ঠিক চলচ্চিত্র-সমালোচনা নয়, তিনি গেছেন উপস্থাপনার রাজনীতির দিকে। ধর্ম ও যৌনতা – এ দুই স্পর্শকাতর এলাকার পর্যালোচনাসূত্রে নির্মাতা, দর্শক, গ্রাম, নগরসহ নন্দনের বাজারও ঘুরে এসেছেন তিনি। তাতে প্রতাপশালী ধ্যান-ধারণার অনেকগুলোই বিপর্যস্ত হয়েছে। মানস চৌধুরীর নিজস্ব ঢঙে রচিত প্রবন্ধটি পান-ফান ও শ্লেষের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজনীতির অন্তরঙ্গ উন্মোচনও বটে।]
ফাহমিদুল হক : চলচ্চিত্র-তত্ত্বের আদি-পর্ব
[সম্পাদকীয় নোট: একাডেমিক এলাকায় চলচ্চিত্র-সমালোচনা ও তত্ত্ব বিকশিত হওয়ার আগের পর্বের পরিচয় আছে এ প্রবন্ধে। শিল্পকলা ও বিদ্যার অন্য শাখার কারবারিরা এবং চলচ্চিত্র-নির্মাতারা ওই পর্বে চলচ্চিত্র-পাঠের তত্ত্ব ও প্রণালি-পদ্ধতি বোঝার ও বোঝাবার সাধনা করে চলছিলেন। চলচ্চিত্র-গবেষক ফাহমিদুল হক সে-পর্বের জটিল কথা সরল করে বলতে চেয়েছেন। বাস্তবে চলচ্চিত্র-নির্মাণের গতি-বিধির সাথে এর সমালোচনা ও তত্ত্বকে মিলিয়ে উপস্থাপনার দিকে প্রাবন্ধিকের মনোযোগ ছিল। পরিভাষা-সংক্রান্ত কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও আছে লেখাটিতে।]
[সম্পাদকীয় নোট: প্রবন্ধটি করোনার সমাজ-বৈজ্ঞানিক পাঠ। বাস্তব অভিজ্ঞতার উপাদানগুলোকে লেখক সাজিয়েছেন সমাজবিজ্ঞানের ভাষা ও ভঙ্গির প্রযত্নে। তাতে দেশীয় পটভূমির সাথে স্বভাবতই মিশেছে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট। মিশেল ফুকোর জৈব-ক্ষমতা, ব্রুনো লাতুরের না-মানুষ আর উলরিখ বেখের ঝুঁকিগ্রস্ত-সমাজের ধারণা ব্যবহার করেছেন তিনি। লক্ষ করেছেন করোনা-পরিস্থিতিতে ভাষা, যাপন ও ডিসকোর্সের গতিবিধি। তবে সবকিছুকেই রাখতে চেয়েছেন বোধের সরল সীমানায়।]
ঋক ভট্টাচার্য্য : পুরাতন প্রস্তরযুগের অস্ত্র
[সম্পাদকীয় নোট: আদি বা প্রাক-আদি মানবের অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি সম্পর্কে লেখালেখি বাংলায় আগেও হয়েছে। এ লেখার বিশেষত্ব তুলনামূলক সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্তের ব্যবহার, এবং নতুন তথ্য সংশ্লিষ্ট তত্ত্বে যে-নতুনত্ব সঞ্চার করে, তার সংস্থান। প্রবন্ধটিতে লেখকের দৃষ্টির স্বচ্ছতার সাথে যুক্ত হয়েছে ভাষার প্রাঞ্জলতা। এ দুয়ের মিশ্রণে অতি-পুরনো জমানার আলাপ স্থান-বিশেষে ছবির মতো পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিবর্তনবাদী তত্ত্বের কিছু সাম্প্রতিক-ধারণার ব্যবহার হয়ত ওয়াকিবহাল পাঠকের নজর এড়াবে না।]
রাশেদ রাহম : কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র ও দমনমূলক আইন: পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা (১৯৪৭-১৯৫৮)
[সম্পাদকীয় নোট: প্রবন্ধটি মূলত ঐতিহাসিক বিবরণ; তবে এতে আশ্রয় করা হয়েছে তুলনামূলক কম-চর্চিত একটি এলাকা। প্রণীত আইন ও আদালতে তার প্রয়োগ সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসাবে খুবই নির্ভরযোগ্য; কারণ এতে বিচিত্র পক্ষের যোগ থাকে, আর আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদিত লিখিত তথ্য-উপাত্ত প্রচুর পাওয়া যায়। সেদিক থেকে আমাদের গালগল্প-ভরা ইতিহাসে নৈর্ব্যক্তিকতা-প্রতিষ্ঠার একটা ধরন হিসাবে এ প্রবন্ধ পাঠ করা যায়। প্রাবন্ধিক দেখিয়েছেন, পাকিস্তান-রাষ্ট্রের প্রথম দশকে ব্রিটিশ-ভারতীয় ঔপনিবেশিক আইনের একচ্ছত্র প্রতাপ ছিল, আর পরের অংশেও তার বিশেষ বদল হয় নাই। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও তার ধারাবাহিকতা অন্তত অংশত রক্ষিত হওয়ার ইশারা আছে প্রবন্ধটিতে। লিখিত আইন ও তার চর্চার ইতিহাস প্রণয়ন করে রাশেদ রাহম রাষ্ট্রের নিপীড়ক-স্বভাব উন্মোচন করেছেন। বিপুল প্রাথমিক ও দ্বৈতীয়িক উৎসের ব্যবহার এ লেখার আরেক প্রাপ্তি।]
আধুনিক ক্ষমতা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের পুনর্বিন্যাস: সাবা মাহমুদের সাথে তালাল আসাদের সাক্ষাৎকার তরজমা: সাব্বির আজম
[মরহুমা সাবা মাহমুদ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি-শিক্ষার্থী থাকার সময় তালাল আসাদের এ সাক্ষাৎকার নেন। ১৯৯৬ সালে স্ট্যানফোর্ড ইলেকট্রনিক হিউম্যানিটিজ রিভিউয়ের পঞ্চম ভলিউমের পয়লা সংখ্যায় এটা ছাপা হয়। ঐতিহ্য ও আধুনিকতা – অপশ্চিমা দুনিয়ার গত অন্তত একশ বছরের সবচেয়ে গুরুতর তাত্ত্বিক সংকট নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলাপ করেছেন দুজন বড় তাত্ত্বিক, তাও আবার অপশ্চিমা দুনিয়ার পক্ষ হয়ে। তালাল আসাদের লেখালেখিতে ব্যাপ্ত কতগুলো সূক্ষ্...
চিন্তামূলক বা বিশ্লেষণাত্বক প্রবন্ধ আজকাল খুব একটা লেখা হয় না বলে একটি অভিযোগ শুনতে পাই। কেউ কেউ অবশ্য ফেসবুক এবং উইকিকে দায়ি করেন প্রবন্ধের এরকম হ্রাস পেয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে। তবে প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে। উৎকৃষ্ট এবং কৌতুহল সৃষ্টি করার মত প্রবন্ধ 'তত্ত্বতালাশ' দ্বিতীয় সংখ্যার বইতেই পেতে পারেন।
বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করা এই পর্বে প্রবন্ধ আছে নয়টি। তত্ত্বতালাশের প্রথম সংখ্যার পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখেছেন শহিদুল হাসান। ঐ নয়টি লিখার বাইরের এটি। লেখাগুলোর সংক্ষিপ্ত রিভিউ দেয়া হল।
১) গণিতের জন্ম সম্পর্কে কিছু ভাবনা : মেহেদী মাহমুদ চৌধুরী
এই প্রবন্ধে গণিতের উদ্ভব এবং এর সাথে ভাষার সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য নিয়ে প্রাঞ্জল ভাষায় লিখেছেন মেহেদী। বিভিন্ন রেফারেন্সের ভারে লেখাটি পর্যুদস্ত না করে বিভিন্ন সভ্যতা এবং ঐতিহাসিক ঘটনার আলোকে সহজ ভাষায় গণিত এবং ভাষা সম্পর্কিত ইনসাইটফুল একটি প্রবন্ধ হয়েছে এটি।
২) রুহানী রাজনীতি : আবীর আহমেদ
এই বিষয়টার উপর আমার প্রাথমিক একটি ধারণা হল লেখাটির মধ্য দিয়ে যাত্রা করার ফলে। মানুষের মর্যাদা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নামে লুন্ঠিত হওয়া থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টার দর্শন মনে হয়েছে। ফিলসফি, ধর্মতত্ত্ব এবং ভাষা নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে আবীর আহমেদের লেখনীতে। তবে আমার মনে হয় রুহানী রাজনীতি নিয়ে পড়াশোনা যাদের আছে তাঁরা এই লেখাটি বেশি এঞ্জয় করবেন। এই বিষয়টা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় ভুগতে পারেন অনেকেই।
৩) সংশয়ী পাঠে ধর্ম ও যৌনতা, এবং নন্দনঘন মগডালে বিকল্প চলচ্চিত্র : মানস চৌধুরী
ধর্ম ও যৌনতা। দুটি বিষয়ই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মানস চৌধুরী বিশ্লেষণ করেছেন বৃষ্টি ( ২০০০ ) , এবং লালসালু ( ২০০১ ) এর কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয়। চলচ্চিত্রগুলোর রিভিউ করেন নি তিনি। বরঞ্চ ঐ দুই মুভিতে ধর্ম এবং যৌনতা যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে সেসবের মিল-অমিল দেখিয়েছেন নিজস্ব ভাষার মুন্সিয়ানায়। খুব সম্ভবত এটি আমার সবচেয়ে প্রিয় প্রবন্ধ এই সংখ্যার।
৪) চলচ্চিত্র - তত্ত্বের আদি পর্ব : ফাহমিদুল হক
প্রবন্ধের নামটি যথার্থ-ই। ফাহমিদুল হক চমৎকার ভাষায় সংক্ষেপে চলচ্চিত্রের আদি পর্বের বিভিন্ন তত্ত্ব এবং প্রযুক্তির উদ্ভবের কথা বলেছেন। একইসাথে তাঁর লেখনীতে চলে এসেছে সিনেমার উপর সমসাময়িক রাজনীতি এবং দর্শনের প্রভাব এবং তা থেকে সৃষ্ট বহুমাত্রিকতা।
৫) করোনাময়তা : জৈব-ক্ষমতা, 'না মানুষের এজেন্সি ও ঝুঁকি সমাচার : দেবাশীষ কুমার কুন্ডু
করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে মানুষের আপাদমস্তক পরিবর্তিত যাপন, সেই যাপনের উপর পুঁজিবাদি রাষ্ট্র এবং বিশ্ব-ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং খুবই ইন্টেরেস্টিং এই 'না মানুষের এজেন্সি' নিয়ে আলোচনা করেছেন লেখক।
৬) পুরাতন প্রস্তরযুগের অস্ত্র : ঋক ভট্টাচার্য্য
মানুষের ইতিহাস প্রায় অনেকটাই যন্ত্র এবং অস্ত্রের ইতিহাস দ্বারা প্রভাবিত। আদি মানব যখন থেকে বিভিন্ন রকমের অস্ত্র নির্মাণ করতে শুরু করলো সে হয়ে উঠলো প্রকৃতিতে শিকার থেকে শিকারীতে। আরো পরে শুরু হল তাঁর যুদ্ধের ইতিহাস। পুরাতন প্রস্তরযুগের অস্ত্র সুলিখিত একটি প্রবন্ধ। পড়ে বেশ ভালো লেগেছে।
৭) কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র ও দমনমূলক আইন : পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা ( ১৯৪৭ - ১৯৫৮ ) : রাশেদ রাহম
৪৭ এ স্বাধীনতা পেলেও একটি সংবিধান গঠন করতে পাকিস্তানের লেগে গিয়েছিল প্রায় এক দশক। এই এক দশকে ঔপনিবেশিক আইনের অভিশাপ দ্বারা পুষ্ট হয়ে বিভিন্ন শাসকগণ বিরোধীদের উপর ব্যাপক দমনমূলক আইনের প্রয়োগ ঘটান। সেসবের রেশ এখনো কাটেনি। 'রুল অফ ল' এর জায়গায় চলে এসেছিল 'রুল বাই ল' যা উপমহাদেশে এখনো লক্ষ্যনীয়। তথ্যসমৃদ্ধ একটি প্রবন্ধ।
৮) আধুনিক ক্ষমতা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের পুনর্বিন্যাস : সাবা মাহমুদের সাথে তালাল আসাদের সাক্ষাৎকার - তরজমা : সাব্বির আজম
পশ্চিম-অপশ্চিমের একটা সুস্পষ্ঠ বিভাজন আছে। পশ্চিমের আধুনিকতা এবং উদারনীতিবাদের আকর্ষনীয় প্যাকেজ তো অপশ্চিমের সেরা চিন্তকরাও গ্রহন করেছেন। তবে পশ্চিমের আধুনিকতা, নীতি-নৈতিকতা এবং ধর্মের বিষয়ে দেয়া সংজ্ঞা কি যারা পশ্চিম নন তাদের জন্যে শেষ কথা? ১৯৯৬ সনে পিএইচডি অধ্যয়নকালে সাবা মাহমুদ এক চমৎকার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন তালাল আসাদের। এই দুই তাত্ত্বিক ইন্টারভিউয়ে কথোপকথনের মাধ্যমে অনেক সংকট এবং সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। সাব্বির আজমের সাবলীল অনুবাদ ভালো লেগেছে।
'বাঙালী মুসলমানের মন' আহমদ ছফার লিখা অধিক পঠিত এবং তৎকালীন সময়ে সাড়া জাগানো একটি প্রবন্ধ। মোহাম্মদ আজম এই প্রবন্ধে ছফার সেই লেখাটির বিভিন্ন তথ্যবিভ্রাট, অতিসরলীকরণ, কালবিভ্রম নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রবন্ধটি লেখকের সুন্দর গদ্য অথবা উদ্দেশ্যকে প্রশ্ন করেনি। প্রশ্ন করেছে 'বাঙালী মুসলমানের মন' লেখাটির অনেক অসঙ্গতি নিয়ে। যার মধ্যে অন্যতম প্রধান অসঙ্গতি হচ্ছে পুঁথিলেখকদের টাইমলাইন এবং বাঙালি মুসলমানের ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক কোন ঋজু অবস্থান না থাকাটা। নিঃসন্দেহে আই ওপেনিং প্রবন্ধ লিখেছেন মোহাম্মদ আজম।
তত্ত্বতালাশ, ১ম বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যায় যথারীতি শেষে গিয়ে লেখক পরিচয় আছে। আমার কাছে অবশ্য লেখকের পরিচয় তাঁর লেখনীতেই।