Gayatri Chakravorty Spivak is University Professor at Columbia University. She is known for her English translation of Jacques Derrida's seminal work Of Grammatology, and her own philosophical writings on the postcolonial condition that introduced the term "subaltern" into the philosophical lexicon.
পুরা বক্তৃতার সারবস্তু হিসাবে যদি কিছুকে ইঙ্গিত করতে হয় তবে সেটা অবশ্যই- একটা আকাঙ্ক্ষা। এমন একটা আকাঙ্ক্ষা, যখন মানুষ কোন একটা বিরূপ পরিস্থিতিতে থেকেও, প্রচণ্ড চাপ-ভয়-আতঙ্ক এমনকি আশার কোন পথ না থাকলেও, বুদ্ধি যখন বলে যে ব্যর্থ হবার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ তখনও কাজটা চালিয়ে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনুভব করে। কথাগুলি হয়তো একটু জটিল হয়ে গেল। উপায় নাই। আমাদের সময়ের জন্য, তা সেটা বাংলাদেশের জন্য খুব খাটে, আবার ভারত-পাকিস্তানের জন্যও।
এই অঞ্চলে একটা গণতান্ত্রিক আবহ তৈরি করার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে কার্যকর করে বহু মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং কল্পনা করা জরুরী। এর জন্য বোঝা জরুরী গণতন্ত্র কি, রাষ্ট্র কি এবং রাষ্ট্র নিপীড়ক সত্তা/প্রতিষ্ঠান হবার পরও কিভাবে বহু মানুষের জীবনমান কার্যকর অর্থে বদলে দিতে পারে। আমাদের এমন সব কল্পনা করতে হবে এবং কল্পনা করার আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে।
এখন এই কল্পনাশীল মানুষেরা কারা? তাদের কুলজি কি? সঙ্গত কারণেই মনে হয় এরা শিক্ষিত, বইপত্র পড়তে পারেন হয়তো বিদ্যাচর্চাও করেন। এরাই শুধু নিজেকে নিয়ে না, যে অপর, তাকে কে নিয়েও ভাববে, যে নিজের মতন না তাকে নিয়েও একটা সামস্টিক বর্তমানের কল্পনা করতে পারবে। গায়ত্রী অবশ্য ইঙ্গিত করেন যে এমনকি গরীবকেও এই দলে সামিল হতে হবে, তাকেও হেরে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকার পরও আকাঙ্ক্ষা/কল্পনা করতে হবে। তবে এই গরীব মানুষজন এই বুৎপত্তি কিভাবে হাসিল করবে তার ইঙ্গিত এই বক্তৃতায় নাই। যদিও 'হাজার বছরের শিক্ষা, কুশিক্ষা' বলে একটা কথার উল্লেখ করেছেন। তাই আমরা ধরে নিতে পারি 'প্রকৃত শিক্ষা'র মাধ্যমেই এই মোকামে হয়তো পৌঁছানো যাবে।
এখানেই আবার বিপত্তি বাঁধে। কারণ এখানে ধরেই নেয়া হয়, একজন ব্যক্তির মধ্যে আপসে আপ এমন সব প্রেরণা জমা হতে পারে। বোঝাই যাচ্ছে ব্যক্তি সম্বন্ধে এই আন্দাজ ইউরোপের বিশেষ বাস্তবতায় তৈরি হওয়া ব্যক্তির ধারণাকে ভিত্তি করে করা হয়েছে। কিন্তু এখনকার বাংলাদেশের বাস্তবতা ভিন্ন। এমন ব্যক্তি, যে ব্যক্তি অপরের মুক্তির জন্য লড়াই সংগ্রাম করবে, গণতন্ত্রকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মাস্তানির বাইরেও নতুন নতুন বাস্তবতায় ফুটিয়ে তুলবে বা সম্পূর্ণ ভিন্নমতাবলম্বীর জন্য সম্মানজনক পরিসর তৈরির জন্য চেষ্টা করবে, গণতন্ত্র মানেই যে ভিন্নমতকে সম্মানের সাথে গভীরভাবে বোঝা এবং সেই ভিন্নমতকে আদব-লেহাজের সাথে পারসু (parsue) করা আর এই পারসু মানেই হচ্ছে অপরকে যুক্তির মাধ্যমে কথার মাধ্যমে বশে আনার অনিঃশেষ চেষ্টা, এই বোধ-প্রেরণা সম্পন্ন সেই মহান ব্যক্তির জন্মটা হবে কিভাবে এই বাংলাদেশের বৈষয়িক বাস্তবতায়? বাংলাদেশের বাস্তবতায়, ধরা যাক অপেক্ষাকৃত একাডেমিক এবং দায়িত্বশীল চিন্তাচর্চা চুইয়ে যে জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়বে, বিচিত্র পেশাজীবী জনগোষ্ঠী যে নানা কর্মতৎপরতায় সকলের জন্য একটা সম্মানজনক বাস্তবতা তৈরি করতে নামবে, তার বাস্তবতা এবং প্রস্তুতি কতটা হাজির আছে? হয়তো এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা এবং কল্পনা।
তবে এমন পরিস্থিতি, কর্মতৎপরতার এমন গমগমে পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশের বিদ্যায়তনিক/একাডেমিক আবহ ভয়ঙ্কর রকমের প্রতিকুল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে চলে ক্ষমতাশীল দলের জমিদারি এবং ক্ষমতার পক্ষের ডমিন্যান্ট ডিস্কোর্সগুলির বেশরম পুনরুৎপাদন। যদি অপেক্ষাকৃত মুক্ত পশ্চিমা ধাঁচের একাডেমিক চর্চার দিকেও খেয়াল করি তবে ভিন্ন বাস্তবতা সামনে আসে, বিপত্তিও চোখে পড়ে। এমন সব বিপত্তি নিয়ে ভূমিকায় কিছু কাজের কথা তুলেছেন মানস চৌধুরী। পেশাগত-প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না থাকলে এমন পর্যবেক্ষণ সম্ভব না। কিন্তু বাকিদের জন্য কাজের। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদ্যায়তনিক জ্ঞান উৎপাদন এবং এর বিলিবণ্টন কোন নিরীহ ঘটনা না। এর পিছে পিছে চলতে থাকে প্রকাশনা সংস্থা বা গবেষণায় অর্থলগ্নিকারি সংস্থার আধিপত্য এবং একটু খুলে বলতে গেলে তাদের কায়েমি স্বার্থ। এমন কায়েমি স্বার্থের খেলার মাঠে ব্যক্তি চিন্তাচর্চাকারি কতটা স্বাধীন সেটাও বিবেচনা করতে হবে।
শেষ কথা হিসাবে, কারো কারো মনে এমন প্রশ্ন আসতে পারে, আশাটাই স্বাভাবিক, যে ভীষণ রকম বিরূপ পরিস্থিতে ক্ষমতার বিকারের মাঝখানে কিছু কিছু মানুষের ভিতরে পরাজয়কে অগ্রাহ্য করার আকাঙ্ক্ষা কেন জমা হয়, কিভাবে জমা হয়? এই বিষয়ে বিস্তারিত ভাবতে চাইলে মজহারের “মার্কস, ফুকো ও রুহানিয়াত” বইটা পড়া যেতে পারে। যেখানে মজহার ঠিক একাডেমিক প্রণালি পদ্ধতিতে না হলেও, মজহারের নিজস্ব অনায়াস মুনশিয়ানায় মানুষের মধ্যে বিচিত্র আকাঙ্ক্ষা/কল্পনা জমা হওয়ার বিষয়টাকে তত্ত্বায়ন করার দারুণ চেষ্টা করেছেন। তার চিন্তাগুলি একটু পরীক্ষা করে দেখা আমাদের জন্য লাভজনকই হবে বলে মনে করি।