সীমান্তের শান্ত নিরিবিলি এক শহর নিশ্চিন্তপুর। নামটাকে সার্থক করে এতদিন সেখানে নিশ্চিন্তেই ছিল লোকজন। হঠাৎ করে কোথা থেকে সেখানে এসে হাজির হলো এক বুড়ো, বয়সের তার কোন গাছপাথর নেই। শহরের একপ্রান্তে রাতারাতি একটা বইয়ের দোকান খুলে বসলো সেই বুড়ো। তারপর থেকেই একের পর নিখোঁজ হতে থাকলো শহরের লোকজন। রহস্য সমাধানে নামল মামা-ভাগ্নের গোয়েন্দা দল।
Shariful Hasan hails from Mymensingh, Bangladesh. He has spent his childhood by the banks of Brahmaputra river. He completed his Masters in Sociology from University of Dhaka and is currently working in a renowned private organization.
Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.
Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.
Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'
শেষ করার পর বলব বাংলাদেশের কিশোর সাহিত্য কিংবা ইয়াং অ্যাডাল্ট সাহিত্যের অন্যতম সংজোযন হবে এই বইটি। থৃলার ঘরানার বইয়ের পর এ বইটাতেও শরীফ ভাইয়ের শক্তিশালী লেখনীতে মুগ্ধ হয়েছি :) পুরোদস্তর ফ্যান্টাসী বই, এবং সাধারণত যেমনটা দেখা যায় বাংলাদেশী পটভূমিকায় ফ্যান্টাসী এলিমেন্ট নিয়ে লেখাটা বেশ কষ্টসাধ্য। কিন্তু সেদিক থেকে অদ্ভুতুড়ে বইঘর একদম সফল :) দুর্দান্ত কাহিনীর সাথে দুর্দান্ত ক্যারেক্টারাইজেশন আরো উপভোগ্য করে তুলেছে । আশা করছি সামনে এই চরিত্রগুলোকে নিয়ে আরো বই পাবো।
প্রখ্যাত কিছু লেখক ছাড়া - নবীন লেখকদের মাঝে কিশোর উপন্যাস লেখার চল বর্তমানে দেখা যায় না। হয়ত বলা যেতে পারে যে, বর্তমান কিশোর-কিশোরীরা বই পড়ে না এজন্য নবীন লেখকরা এই জনরায় লিখতে আগ্রহী নয়।। মুদ্রার উল্টোপিঠ থেকে আবার বলা যায়, কিশোরসাহিত্যে ভালো লেখা আসছে না দেখে কিশোর-কিশোরীরা আরো বেশি অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে বই থেকে। এই দুস্ট চক্রের সমাধান করা কঠিন।
তবে এতটুক বলতে পারি যে, "অদ্ভুতুড়ে বইঘর" এর মত বই বাংলাদেশে দরকার। অনেক অনেক বেশি দরকার।
যেহেতু এই বইয়ের টার্গেট অডিয়েন্স স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা, তাই বইয়ের মূল্য একটা মেজর ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়।
একটা সময় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে সেবার তুমুল জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল বইয়ের মূল্য অত্যাধিক না হওয়া। বর্তমান সময়ে, বাতিঘর প্রকাশনীর জনপ্রিয়তারও একটি বড় কারণ - বাকিসব প্রকাশনীর তুলনায় কমমূল্যে তাদের পাঠকের হাতে তারা বই পৌছে দিচ্ছে। টার্গেট অডিয়েন্স যখন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী - তখন বইয়ের মূল্য কত নির্ধারণ করা হচ্ছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বইয়ের মূল্যের সাথে প্রোডাকশন জড়িত। "অদ্ভুতুড়ে বইঘর" বইয়ের মূল্য কিছুটা বেশি হলেও, বইটির প্রোডাকশন এক কথায় দারুণ। প্রচ্ছদ, বাইন্ডিং, পেজ কোয়ালিটি - অসাধারণ।
অসম্ভব ভাল ছিল গল্পটা। অন্যরকম স্বাদ যেন পেলাম। ছোটদের এই বইগুলো পড়তে দেয়া উচিত। শরীফুল হাসানের ৫টা (সাম্ভালা ট্রিলোজি, যেখানে রোদেরা ঘুমায়) বই কিনেছি। সবগুলো পড়ে শেষ করে ইউটিউবে একটা রিভিউ দিয়ে দিব।
সুজনের মার্ক টোয়েনের 'দুঃসাহসী টম সয়্যারের' সাথে ঘুরে বেড়ানো, হারান স্যারের স্যার আইজ্যাক নিউটনের 'প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকার' সাথে উত্তেজনাকর দিনগুলো, আর আবুল বাশার সাহেবের আলবার্ট আইনস্টাইনের 'রিলেটিভিটিঃ দ্য স্পেশাল অ্যান্ড জেনারেল থিওরি' মধ্যে থাকা শিক্ষানবিশ সময়গুলো। এগুলোই বইয়ের গল্পের ভিতর সারাক্ষণ ঢুকিয়ে রেখেছিল।
এখন থেকে প্রতিটা বই পড়ার সময় সে বইয়ের সাথে ভ্রমণ আরো ভালো হবে আগের চেয়ে।
' অদ্ভুতুড়ে অতিথি ' ক্রয় করতে গিয়ে বুঝতে পারলাম এই ব্যাটাকে কোনভাবে মিস কইরা গ্যাছি। তারপর সংগ্রহ এবং পড়া দুটো কর্মই সুসম্পন্ন করলাম। 'অদ্ভুতুড়ে অতিথি' পড়া লাগবো তো, এই জন্য।
যথারীতি খুব ভালো লেগেছে, শরিফুল হাসানের লেখা যেমন লাগে আর কি। 'অন্ধ জাদুকর' সিরিজ বাদে সবগুলো লেখাই অসম্ভব উপভোগ করেছি।যাইহোক, এখন রিভিউ লেখার ক্যাচালে না গিয়ে 'অদ্ভুতুড়ে অতিথি' তে চলে যায়।
এক বসায় শেষ করলাম বইটা। চমৎকার গল্প। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্লটকে সঙ্গী করে এগিয়েছে। আছে মজাদার আলাপন, অসংখ্য চরিত্র, রহস্য এবং রোমাঞ্চকর ঘটনাক্রম। প্রতিটি চরিত্র সপ্রতিভ, একে অপরের থেকে ভিন্ন। গল্পে মজা লেগেছে রঞ্জু-মশা গোয়েন্দা(!) যুগল। খিজির আলী, আশফাক, হারান বাবু, থানার ওসি চরিত্রগুলো।
গল্পের কিছু স্কোপ ট্রাভেল করা যেত, কিন্তু সম্ভবত লেখক ইচ্ছাকৃত করেননি। পুরো বললে স্পয়লার হয়ে যাবে তাই বললাম না। তবে গল্প শেষ করার পর মনে হয়েছে এটার সিকুয়েল লেখার স্কোপ রয়েছে পুরোমাত্রায়। তাছাড়া আরও একটা বিষয়ে খটকা আছে, সেটাও ভেঙ্গে বলা যাচ্ছে না। বললে স্পয়লার হয়ে যাবে!
কিশোর উপন্যাস হিসাবে বেশ ভাল মানের হয়েছে বইটি। প্রচ্ছদও চমৎকার। ভাল লেগেছে।
'অদ্ভুতুড়ে বইঘর' মূলত শিশু কিশোরদের জন্য হলেও,'বুড়ো'দের ও পড়তে খারাপ লাগবে না। আমার তো বেশ ভালোই লেগেছে। কাহিনী তড়তড় করে এগিয়েছে। কিন্তু শেষে এসে অতৃপ্তি রয়েই গেলো। এতো সুন্দর বইটার, এমন তড়িঘড়ি সমাপ্তি কাম্য নয়।
অনেক অনেক দিন পর এক বসায় পুরো একটা বই শেষ করলাম। লেখা ও প্লট খুব সাবলীল - চমৎকার লেগেছে। বইয়ের জগতের ভেতর ঘুরে আসার শিশুকালীন আক্ষেপ আবার জাগিয়ে তুললো আরেকবার। বাংলা কিশোর সাহিত্যের অন্যতম ক্লাসিক হিসেবে স্থান করে নিবে রহস্য উপন্যাসটি।
মন ভালো করে দেওয়া ফুরফুরে একটা বই৷ অনেক দিন পরে বেশ ভালো একটা কিশোর উপন্যাস পড়লাম। সেরা চরিত্র খিজির আলী। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার অহেতুক কোনো জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা নেই। শেষে একটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হল না বলে এক তারা কম দিলাম।
চমৎকার, কিশোর উপন্যাস হিসেবে সেরা একখানা বই৷ রহস্য, ফ্যান্টাসি’র সাথে লেখকের লেখনী, কাহিনি বিন্যাস ও গতির মিশেলে যাত্রাটা অসাধারণ ছিল বটে। প্রতিটা চরিত্রকেই ভালো লেগেছে। গল্পকথক মুশফিক ও মামা রঞ্জু দুজনকেই পার্ফেক্টলি মানিয়ে গেছে প্রধান চরিত্র হিসবে। ভালো একখানা বই!
নামের সাথে মিল কাজেরও। নিশ্চিন্তপুর শহরের লোকেরা সত্যি ই নিশ্চিন্তে দিন কাটাতো। হঠাৎ এখানে এসে আস্তানা গড়লো এক বুড়ো। বয়স ১০০ পেড়িয়ে গেছে তার। পেশা বই বিক্রেতা। তার দোকান বইয়ে ঠাসা, হরেক রকমের বই সেখানে পাওয়া যায়। বই দোকানের এসব তথ্য শুনে বইপোকা রঞ্জু তার ভাগনে মশাকে নিয়ে গেছিল সেটা দেখতে। সেখানে গিয়ে তারা শুনতে পায়,মশা'র বন্ধু সুজন নিখোঁজ। সেই থেকে মামা ভাগনে নেমে পড়ে রহস্য সমাধানে....কিন্তু রহস্যের শেষ নেই,একটা শেষ হতে আরেকটা এসে হাজির। এতে রহস্যের জ্বালে মামা ভাগনে দুজনে আরো গভীর ভাবে জড়িয়ে পড়ে রহস্য সমাধানে..! এর মধ্যে গায়ে আসে এক অদ্ভুত লোক,নাম খিজির!
শরীফুল হাসানের এই বইটার নাম শুনেছিলাম অনেক আগে। প্রিন্ট আউট থাকার দরুন পড়া হয়নি। আবার রিপ্রিন্ট হয়েছে বইটা,আমিও পেলাম পড়ার সুযোগ। একটানা পড়ে শেষ করলাম। ভালো হয়েছে বইটা। কিশোর পাঠ্য হিসেবে দুর্দান্ত।
This is probably the writer's first attempt at teenage fantasy/thriller genre. And I would say it was a pretty good attempt. Even though the story was in short and compact form, the writer managed to create some memorable and hilarious characters. The writer hinted at a possible sequel, but we still haven't got one. The main two characters uncle and nephew, forming an alliance of detective duo - jumps in to solve the disappearance case in their quiet town of Nishchintapur. After that through some side tickling adventures they come face to face with the evil in works. The rest needs to be experienced by the reader through reading the book.
মশা এবং তার মামার কান্ডকারখানা পড়তে পড়তে হেসেছি, মজা পেয়েছি। তবে অদ্ভুতুড়ে বইঘর পড়তে পড়তে নিজেকে কখনো মশার জায়গায় বসিয়ে ডুব দিয়েছি বইয়ে আবার কখনো মামার জ্ঞানের বহর দেখেও পুলকিত হয়েছি। আমি সত্যি মুগ্ধ হয়েছি লেখকের লেখাটি পড়ে। বইটি পড়ে কিশোর-কিশোরীরা যেমন একটা ভালো সময় কাটাবে তেমনই বড়রা পড়েও একটা ভালো সময় কাটাতে পারবেন বলে মনে হয় আমার।
বাংলাদেশের এক মফস্বল অঞ্চল নিশ্চিন্তপুরে “অদ্ভূতুড়ে বইঘর” গল্প আর সেই বইঘরটা রয়েছে। যেখানে গেলে, বই কিনতে চাইলে মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে। অদ্ভূৎ সেই বইঘর, তারচেয়ে অদ্ভূৎ সে বইঘরের বুড়োটা।
শরীফুল হাসান ফ্যান্টাসি-থৃলার লেখেন। জানামতে কিশোরদের জন্যে লেখা এটা তাঁর প্রথম প্রয়াস। প্রশ্ন আসতে পারে, কিশোরদের জন্যে লেখা বইটা আমার মতো বুড়ো পাঠকের, থৃলার পাঠকের ভাল লেগেছে কি না।
হ্যাঁ বেশ ভাল লেগেছে। তার যৌক্তিক কিছু কারণ বলা দরকার। যারা জানেন; থৃলার পাঠক মাত্রই রহস্য, উত্তেজনা, না জানাকে খুঁজে খুঁজে জানতে আনন্দ পান। “অদ্ভূতুড়ে বইঘর” এ এসব পাওয়া গ্যাছে? সে অর্থে না। লেখকের সাম্ভালা, ঋভু, আঁধারের যাত্রী’র তুলনায় এ বইয়ে রহস্য, রোমাঞ্চের ব্যাপ্তি অনেক কম। তবে কেন এই ভাললাগা? কেন ভাল লেগে থাকা? (লাইন দুটো সোলসের “কেন এই নিঃসঙ্গতা”র মতো করেও গাইতে পারেন গুণগুণ করে)।
ভাল লাগা, ভাল লেগে থাকার কারণ মজাদার করে লেখাটা। হ্যাঁ কি হচ্ছে, কেন হচ্ছে সেসব জেনে নিয়েই পড়তে ভাল লেগেছে মজার করে লেখার গুণে। একটা ঘটনা বলি বই থেকে।
আকাশ স্যার ভূতুড়ে ঘটনায় ভয়ে পেয়ে রাতের বেলা থানায় এসে উপস্থিত। তার এই আগমনের হেতু জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেন আকাশ স্যার- “ঘুম আসছিলোনা..”। কিন্তু কথা শেষ করার আগেই ওসি সাহেবের মেজাজ চড়ে যায়। “এলাকার সবার যদি ঘুম না এলে থানায় চলে আসে, তাহলে তো মুশকিল”। এমন সূক্ষ্ন রসবোধের প্রমাণ পুরো বই জুড়েই রেখেছেন লেখক।
“অদ্ভুতুড়ে বইঘর” ভাল লাগার, ভাল লেগে থাকার আরেকটা কারণ; প্রতিচ্ছবি। যে মায়াময় বাংলাদেশের, বাঙালীর প্রতিচ্ছবি লালন করি আমি; তেমন বাংলাদেশকেই দেখেছি নিশ্চিন্তপুরে। এখানে সবাই সবাইকে চেনে। সমস্যার সম্মুখীন হলে, সবাই একসাথে বিরিয়ানীর দোকানে বসে আলোচনা করে। নিশ্চিন্তপুরের ওসি কথা দেন, দু’দিনের মধ্যে “উধাও-রহস্য” উদঘাটন করা না গেলে, পীর-ফকির দিয়ে পুরো এলাকা “বন্ধন” দেয়া যাবে। এখানে অপরিচিত কেউ বেড়াতে এলে তাকে ডেকে নিয়ে নিজের বাড়িতে রাখা হয়; তার পছন্দে পেঁপে ভর্তা বানায় বাড়ির লোক। এমন মায়াময়ই তো আমরা ছিলাম। খুব বেশিদিন আগের কথা কি?
যে বাংলাদেশের জন্যে হাহাকার আছে বুকে, যেমন মায়াময় লোকের জন্যে ভালবাসা আছে বুকে; তেমন বাংলাদেশ, তেমন বাঙালি পেয়েছি নিশ্চিন্তপুরে। শরীফুল হাসানের “অদ্ভুতুড়ে বইঘর” এ। এর জন্যে বইটা মনে থাকবে অনেকদিন। দেশের জন্যে, দেশের মানুষের জন্যে ভালবাসার খুব কাছে থাকবে। ও, সাথে একটা প্রশ্নও থাকবে। সন্ধ্যা বেলায় ছাতা নিয়ে বেরয় কেন মুশফিকের বাবা?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ আচ্ছা কখনো কি ইচ্ছা করে বইয়ের দুনিয়ায় চলে যেতে? বইয়ের চরিত্রের সাথে কথা বলতে,সময় কাটাতে? এই ধরনের ভাবনা নিয়ে অদ্ভুতুড়ে বইঘর বইটি। অনেক দিন পর কিশোর উপন্যাস পড়লাম। বেশ ভালো লেগেছে। প্রথম অধ্যায় থেকেই রহস্য ছড়িয়ে দিয়েছেন লেখক, সেজন্য একটানে পড়ে ফেলতে হয়েছে বইটি। সাধারণত কিশোর উপন্যাসে স্কুলের ঘটনাবলি প্রধান হয়ে ঢুকে যায়। এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে শরীফুল ভাই কিছুটা হলেও এড়িয়ে যেতে পেরেছেন, যেটা বইটাকে ব্যতিক্রম করেছে। ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। রঞ্জু-মশার গোয়েন্দাগিরির মধ্যে হাস্যকর কিছু কাহিনী হাসাতে বাধ্য করবে আপনাকে। ফ্যান্টাসি দিকটাও অনেক ভালো ছিলো। বইয়ে অনেক চরিত্র থাকলেও লেখক সমান গুরুত্ব দিয়ে গল্প এগিয়ে নিয়েছেন।
গল্পে খিজির আলি চরিত্র কোথায় হতে আসেন তা বলা হয় নি। তার চরিত্রটাকে বেশি বর্ণনা করা হয় নি। আর বুড়োর কাছে আসা শয়তানের কি হলো তাও পরিস্কার হয়নি। আশা করি সিরিজের পরবর্তী বইয়ে তা পরিস্কার হবে।
ফিরে গেছি ক্লাস ফোর ফাইভের দিনগুলোতে।যখন জীবনে সত্যিকারের কোনো চিন্তা ভাবনা ছিলো না।না ছিলো পড়াশোনার টেনশন,না ছিলো অন্যকিছু।ফুল স্পিডে ফ্যান ছেড়ে দিয়ে আইসক্রিমের বাটি নিয়ে বসতাম আর স্কুলের লাইব্রেরী থেকে নিয়ে আসা মজাদার গল্পের বইগুলো।দিন দুনিয়ার খবর থাকতো না। শরীফুল ইসলামের অনেক নাম শুনেছি।মূলত আমার পড়া এটাই তার প্রথম বই। কাহিনী কনসেপ্ট , চরিত্র সবমিলিয়ে ভালোই লেগেছে। অতিপ্রাকৃত, অলৌকিক কাহিনীর সংমিশ্রণে বাস্তব "অদ্ভুতুড়ে বইঘর"।
থ্রিলার, সামাজিক উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনির এর ভীড়ে এই কিশোর উপন্যাসটি আমার কাছে গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরের একরাশ শীতল হাওয়া, কিনে অথবা কারো কাছ থেকে নিয়ে পড়ে ফেলতে পারেন, ভরপেট খাওয়ার পর রস মালাই খাবার মত তৃপ্তি পাবেন পড়া শেষ করে
বই পড়বার সময় ঘটনাগুলোকে ভিজুয়ালাইজ করে না এমন লোক খুব কম। একেকটা লাইন পড়ি আর চোখের সামনে সে দৃশ্য ভেসে ওঠে। কেমন হতো যদি সত্যিই বইয়ের সেই জগতে আমরা বিচরণ করতে পারতাম! শান্ত নিরিবিলি শহরে নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছিল নিশ্চিন্তপুরবাসী। তবে সুখে শান্তিতে চিন্তামুক্তভাবে দিন কাটালে তো আর গল্প আগাবে না। তাই বিপত্তি এলো পরপর তিনজন মানুষের নিখোঁজ হওয়া দিয়ে। মফস্বলের ওসির শুয়ে বসে ওজন বাড়ানোর দিন শেষ। কাজে লেগে পড়তে হবে। কোথা থেকে মফস্বলে হাজির হলেন শতবর্ষী এক বুড়ো। রাতারাতি এক বইয়ের দোকান দিয়ে বসলেন। এহেন বই নেই যা তার দোকানে নেই। যদি কোন বই নাও পাওয়া যায় কিভাবে জানি তা সে জোগাড় করে ফেলেন। এ এক বিরাট রহস্য। বুড়ো আর তার দোকান যেন পুরোটাই রহস্যের চাদরে মোড়া। মশা ওরফে মুশফিক-উজ-জামান-চৌধুরী ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছেলে। তার সঙ্গী হিসেবে আছে রঞ্জু মামা। নিশ্চিন্তপুরের রহস্যের কুলকিনারা করতে মামা-ভাগ্নে ছুটছে। কথায় আছে, ❝মামা-ভাগ্নে যেখানে বিপদ নাই সেখানে❞। আমাদের এই ছোট্ট মামা-ভাগ্নে চুপিচুপি গোয়েন্দাগিরি করে সুজন, হারান স্যার এবং বাশার স্যারের নিখোঁজ হবার কারণ অনুসন্ধানে লেগে পড়েছে। ইতোমধ্যে কিছু প্রাইমারী সাস্পেক্টও পেয়ে গেছে তারা। পারবে কি কুলকিনারা করতে? নিশ্চিন্তপুর কি আবার শান্ত নিরিবিলি শহরে পরিণত হবে? নিশ্চিন্তপুরে খিজির আলী নামে আরেক রহস্যময় চরিত্রের আগমন ঘটেছে। আশ্চর্য বেশভুষা আর দিনরাত বাছবিচার ছাড়াই সর্বদা চোখে কালো চশমা পরে থাকা এই ব্যক্তিকে করেছে আরও বেশি রহস্যময়। নিশ্চিন্তপুরে আগমনের হেতু কী তার? অবাক বেশভুষার ভেতরে সকল কিছুর মূল হোতা কি এই ব্যক্তিই? মামা-ভাগ্নে কী বলে? পাঠ প্রতিক্রিয়া: শিশু-কিশোর ভিত্তিক ফ্যান্টাসি ঘরনার বই ❝অদ্ভুতুড়ে বইঘর❞। বইয়ের প্লট অসাধারণ। শিশু-কিশোর সাহিত্য নিয়ে মানসম্মত লেখা খুব কম। এদিক থেকে ❝অদ্ভুতুড়ে বইঘর❞ একটি সার্থক বই। ১৪৩ পৃষ্ঠার এই বইতে শুরু থেকেই রহস্যের সূচনা হয়। ছোটো ছোটো বিভিন্ন অধ্যায়ে এগিয়ে যেতে থাকে তা। আর রহস্যের পর্দাও নামে বেশ দারুণভাবে। গল্পের খাতিরে কোথাও ভীতির সঞ্চার করেছেন আবার কোথাও খিলখিলিয়ে হাসির উদ্রেক হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া মশা থুরি মুশফিকের হিউমার গুলো বেশ মজার ছিল। মামা-ভাগ্নের জুটি ছিল খুবই উপভোগ্য। ফেলুদা-তোপসে কিংবা শার্লক-ওয়াটসন হয়ে যাবার দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল তারা। তোপসে হতে বেশি বাকি নেই এই ভেবে মুশফিকের গর্বে ছাতি ফুলে যাবার ব্যাপারটাও বেশ মজার ছিল। শেষদিকে রহস্যের উন্মচোনের দৃশ্যপটও ছিল অসাধারণ। অতিরিক্ত কিছুই ছিল না বইতে। লেখকের বর্ণনার ধরন বেশ ভালো লাগে আমার। এই বইতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মামা-ভাগ্নের জুটি আবার ফিরে আসুক এই আশা করছি। ❝অদ্ভুতুড়ে বইঘর❞ বইটি ❛কালি ও কলম পুরষ্কার ২০১৬❜ অর্জন করে, ❛শিশু-কিশোর সাহিত্য❜ ক্যাটাগরিতে। টেলিভিশনের পর্দায়ও এর সফল চিত্রায়ন হয়েছে গতবছর।