প্রেম, একটা শাশ্বত অনুভূতির নাম প্রেম। বাস্তবের মাটিতে একটুকরো ভালোলাগার নাম প্রেম। ঠিক যেন প্রচণ্ড শীতে একফালি রোদের উষ্ণতার মতো। প্রেম এমন একটা জিনিস যা মুখে বলে বা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। এরকম প্রেমের উপন্যাস, প্রেমের গল্প, প্রেমের কবিতা তো আমরা সবাই পড়েছি কিন্তু কেমন হয় যদি এই প্রেমের গল্প পরিণত হয় অপ্রেমের গল্পে? যদি দুজন মানুষ একে অপরের প্রেমে না পড়ে অপ্রেমে থাকে?
প্রেমের সংজ্ঞা তো আমরা অনেকেই জানি? কিন্তু এই অপ্রেমের সংজ্ঞা, অপ্রেমের নিয়মাবলী আমাদের আজও অজানা।
এই অপ্রেমের সংজ্ঞা নিয়ে, অপ্রেমের মানে জানতে পড়তে হবে "মুহূর্তেরা বন্দী"।
★ "মুহূর্তেরা বন্দী" উপন্যাসে মাননীয়া লেখিকা সাথী দাস সত্যিই মুহূর্তগুলোকে বন্দী করেছেন...... না না ক্যামেরায় নয়, কলমের আঁচড়ে।
➤ এই উপন্যাসটিকে উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করতে আমার একটু আপত্তি আছে। বইটি পড়তে পড়তে আমার মনে হয়েছে এটি আমার মতো কিছু মানুষের জীবনের গল্প। বইটি আমার কাছে শুধু পড়ার মধ্যেই সীমিত থাকেনি, বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠা, শব্দ, লাইন আমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছি।
➤ বইয়ের অন্যতম মুখ্য চরিত্র লেখিকা "উজ্জয়িনী সেনগুপ্ত", আর ডাঃ "অভিরাজ সরকার"। বাদবাকি অন্যান্য চরিত্রও অনেক আছে কিন্তু আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে এই চরিত্র দুটোই লেখিকার আজ পর্যন্ত আমার পড়া উপন্যাসগুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ চরিত্র।
➤ উপন্যাসটিতে একদিকে উজ্জয়িনী/জয়ী দৃঢ় ব্যক্তিত্বময়ী নারী, অন্যদিকে অভিরাজ চিরদিন একপাক্ষিক ভালোবাসায় নিমজ্জিত একজন পুরুষ।
➤ অভিরাজ সম্পর্কে বলতে গেলে আমার শুধু মনে হয় - ভালোবাসাকে সবসময় স্বাধীনভাবে বাঁধন বিহীন বন্ধনে বেঁধে রাখাই ভালো। তাহ'লে সেই ভালোবাসার মানুষটি যদি কাছে নাও থাকেন সেই ভালোবাসার স্মৃতিকে অবলম্বন করে বেঁচে থাকার রসদ পাওয়া যায়, ঐ ভালোবাসাকে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করা যায় নিজের কল্পনায় নিজের মতো করে । প্রতিটি মুহূর্তে ঐ কল্পনাটুকুই ভালোবাসা রূপে নিজের সাথে কথা বলে যাবে। ঠিক এইরকম একটি মুহূর্তেই ডাঃ অভিরাজ সরকার নিজের ভালোবাসার মানুষের কাছে নিজেকে প্রকাশ করে সারাজীবনের মতো নিজের ভালোবাসার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হলেন।
➤ উজ্জয়িনী সেনগুপ্ত সম্পর্কে ব'লতে গেলে মনে আসে - সমান্তরাল সরলরেখা ধরে পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া যায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত, কিন্তু তারা কখনও একটি বিন্দুতে মিলিত হতে পারবে না। ইচ্ছে হ'লে পাশাপাশি হাত ধরেও হেঁটে যাওয়া যায় কিন্তু মিলিত হওয়া যায়না। আর এই উপন্যাসে জয়ী ঠিক সেটাই করেছে তাঁর ডিভোর্সী স্বামী শানুর সঙ্গে, ডাঃ অভিরাজ থেকে দূরে থেকে তাঁর সঙ্গে, আবার অসমবয়সী বন্ধু সৌজন্যর সাথেও।
➤ এখানে পাঠকদের মনে হতেই পারে যে একজন নারী তিনজন পুরুষকে নিয়ে খেলছেন, কিন্তু না তিনি খেলেননি। প্রত্যেকেই নিজের নিজের জায়গায় ঠিক ছিলেন। আসলে আমরা অন্যের সমস্যাটা সঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারিনা যতক্ষণ না আমরা নিজেরা ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়াচ্ছি, আর এখানেই এই উপন্যাসটির সার্থকতা।
★ এই উপন্যাসে আমার সবথেকে ভালো লেগেছে সৌজন্য রায়ের চরিত্রটি। তাঁর চরিত্রটি বিশ্লেষণ ক'রতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে - যদি একবার মন থেকে কাউকে ভালোবাসা যায়, তারপর শত চেষ্টা ক'রলেও তাঁকে মন থেকে মুছে ফেলা যায়না। শুধু সময়ের সাথে সাথে ধীরে ধীরে তাঁর মুখটার প্রতিচ্ছবি অস্পষ্ট হয়ে যায়। সৌজন্যর সাথেও ঠিক সেটাই হয়েছে।
➤ এই সুদীর্ঘ উপন্যাসটিতে প্রত্যেকটি চরিত্রই তাঁদের স্বরচিত মুহূর্তগুলোকে বন্দী করে আমাদের সামনে সঠিক ভাবেই উপস্থাপিত করতে পেরেছে বলেই আমার বিশ্বাস।
✪ মাননীয়া লেখিকার যতগুলো উপন্যাস আমি পড়েছি এটি তারমধ্যে শ্রেষ্ঠত্তর উপন্যাস বলেই আমার মনে হয়েছে।
➤ উপন্যাসটি পড়ে আমার নিজস্ব উপলব্ধি নিজের ভাষায় বলছি -
কিছু ভালোবাসা এমনই হয়, এই ভালোবাসা মনকেন্দ্রীক ভালোবাসা শরীরকেন্দ্রীক ভালোবাসা নয়। তার ফলে কথায় কথায় ভালোবাসা তার "Eccentricity" বৃদ্ধি করে। কোন কারণে যদি ভালোবাসার "Centre" অর্থাৎ "কথা" হারিয়ে যায়, তখন মনে হয় ভালোবাসার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে হয় সম্পূর্ণ বিপরীত, জন্ম হয় একপাক্ষিক ভালোবাসার। কষ্ট পায় কেবলমাত্র একজন, আর এ'টাই নিষ্ঠুর বাস্তব।
💚📗বইয়ের নাম - মুহুর্তেরা বন্দী📗💚 ✍🏻লেখিকা - সাথী দাস 🖨️প্রকাশক - লালমাটি 📖পৃষ্ঠা সংখ্যা - 416 💰মূল্য - 450₹
📗💚এই উপন্যাস পড়া শুরু করার পড় থেকে সবে মাত্র ৫০ পেজ পড়েছি। ওমনি ‘মুহুর্তেরা বন্দী’ আমাকে বন্দী করে ফেললো..... পাতার পর পাতা পড়েই যাচ্ছি, আর যতো এগিয়ে যাচ্ছি ততওই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি....
📗💚আপনার লেখা উপন্যাস মানেই আবার নতুন কিছু শিখবো। সেই আশা নিয়েই আপনার বই হাতে তুলে নি...এই বইটা পড়তে পড়তে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি যেমন, আবার কিছুটা পড়ার পর তার উওর ও পেয়েছি। আপনার লেখা অনেক বই তো পড়লাম। প্রথম ওই অসমাপ্ত টাই চরিত্র দের নিয়ে একটু আলোচনা করেছিলাম যতোদূর মনে পরে। তারপর নির্বাক আর ত্রিভুজে শুধুই নিজের অনুভূতি তুলে ধরেছি। এটা তেও তাই করি........ উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রই আমার কাছে মহান। অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেলো।
📗💚আপনার লেখা যতোই পড়ছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি এভাবেও কল্পনা করে লেখা যায়? লেখা যায় সেটাই আপনি বার বার প্রমান করেন নতুন বই সৃষ্টি করে।
📗💚আমার একটা প্রশ্ন আছে আপনার কাছে..... আপনি নারী চরিত্র গুলো কে মানসিক ভাবে শক্ত করতে গিয়ে, পুরুষ চরিত্র গুলোকে ভীষন কষ্ট দিচ্ছেন কিন্তু। এই একটাই আমার অভিযোগ আপনার কাছে।
📗💚আমি আপনার লেখার সাথে সবসময় নিজের যোগসূত্র পাই কেনো জানি না। অন্যান্য বই পড়ে যেমন বই সম্পর্কে আলোচনা করতে ইচ্ছে হয়। আপনার লেখা বই পড়লে শুধুই আমার অনুভূতিগুলো রিভিউ তে প্রকাশ পায়, কেনো এমন হয় জানি না। বই সম্পর্কে কিই বা আর লিখবো সে ক্ষমতা আমার নেই। আপনার লেখা পড়লে কিছু দিন এর জন্য একটা আলাদা জগতের মধ্যে প্রবেশ করি। একদম শান্ত হয়ে যাই, চুপচাপ শুধু ভাবতে থাকি, উপন্যাস নিয়েও যেমন ভাবি তেমন নিজের জীবন নিয়েও ভাবতে বাধ্য হই। বলা ভালো আপনার লেখা আমাকে ভাবতে বাধ্য করায়। আমি ও চাই আপনার সৃষ্টি করা দিয়া, নিলীমা, সৌদামিনী, জয়ী এই সব চরিত্রের মতো করেই যেনো নিজের জীবনে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
📗💚আপনার প্রতিটি বই আবারো কোনো না কোনো এক সময় পড়বো। সেই সময় হয়তো নতুন কিছু ধারণা তৈরি হবে..... আবারো নতুন করে কিছু শিখবো। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার কল্পনা শক্তিকে।
��ুহূর্ত বলতে আমরা ঠিক কি বুঝি? কিছু সময় যা আমাদের জীবনে জড়িয়ে থাকে। আমাদের জীবনে কিছু মুহূর্ত এমন হয় যা আমরা হয়তো একটা সময়ের পর ভুলে যাই। আবার কিছু মুহূর্ত এমন হয় যা আমাদের জীবনের গতিপথকে পাল্টে দেয়। একটা দাগ কেটে রেখে যায় সারা জীবনের মতো। কিছু মুহূর্ত হয় যা আমরা সকলের সাথে ভাগ করে নিতে পারি। আবার কিছু মুহূর্ত এমন হয় যা একান্ত গোপনীয়, একান্ত ব্যক্তিগত, যা কারো সাথে ভাগ করে নেওয়া যায় না।লেখিকার ভাষায় " মুহূর্ত মানে উপলব্ধি! যে মুহূর্ত আমার উপলব্ধিতে মিশে গিয়ে, নিজেকে চিনতে শিখিয়েছে। হারিয়ে ফেলা মনের জোর খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে, আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে।" এরকমই কিছু মুহূর্তের কথা লেখা আছে উপন্যাসটিতে। লেখিকার আগের উপন্যাসগুলির মতো এই উপন্যাসেও রয়েছে মানবমনের অসংখ্য ঘাত-প্রতিঘাত, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের টানাপোড়েন এবং প্রেমের অসম্ভব ছোঁয়া। সব মিলিয়ে উপন্যাসটি পড়তে মন্দ লাগবে না।