ক্যাম্পাসের সুন্দরী মেয়ে রুমি। সিনিয়র থেকে জুনিয়র সব ছেলেই চায় রুমির সান্নিধ্য। কিন্তু রুমি কী চায়? সে যে চুপি চুপি মন দিয়ে বসে আছে তারই সহপাঠী চপলকে। চপলও রুমিকে পছন্দ করে, কিন্তু ভার্সিটি জীবনের দুই বছরেও কেউ কারো মুখোমুখি হয়নি। ভালোলাগা শুধু চোখের দেখাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। সাইলেন্ট প্রেম সদ্য ভাষা পেলো।
ইফতেখার উদ্দিন সাহেবের বিশাল প্রাচুর্যের মাঝেও সুখ নেই। বন্ধুর মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন একমাত্র ছেলে সৌরভকে। কিন্তু সৌরভ রাজি না। সে মন দিয়েছিল এক বিদেশিনীকে। সম্পর্ক টেকেনি তাদের।
সদ্য পিতাহারা দিশেহারা সুরাইয়া। রাতে ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছিল গ্রামের বাড়ি বাবাকে শেষ দেখা দেখতে। পথেই ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। সেখানে দেখা হয় চপলের সাথে। অসহায় সুরাইয়াকে সাহায্য করে চপল। নিয়ে যায় বোনের বাড়ি। কিন্তু সেখানে তো চপলের নিজেরই প্রবেশাধিকার নেই!
চপলের এক রাতের করা সাহায্য আর তাকে দায়িত্ব নিয়ে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ায় চপলের প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ে সুরাইয়া। কিন্তু এতে লাভ হবে কি? চপলের মন জুড়ে যে আছে শুধুই রুমি।
এক রাতের দেখায় সৌরভ প্রেমে পড়ে যায় রুমির। কারণে অকারণে রুমিকে ফোন করে। রুমি কি বুঝতে পারে সৌরভের ভালোবাসা? রুমির মন জুড়ে তো শুধুই চপল।
রুমির সবথেকে কাছের বান্ধবি রিম্পা। সে চপলেরও বান্ধবি। দুইজনের সাইলেন্ট প্রেমের মাঝে রিম্পা-ই ভাষার যোগান দিয়ে এসেছিল। রিম্পার মনে শান্তি নেই। বাবা জোর করে বিয়ে দিতে চান তার বন্ধুর ছেলের সাথে। অনেকটা ব্যবসায়িক লাভের জন্যই। নিজেকে পণ্য মনে হয় রিম্পার।
এদিকে রুমির বাবা আজিজুর রহমান সাহেব তার মেয়েকে নিয়ে শুনেছেন ভয়ানক কথা! স্বাধীনতা দিয়ে মেয়েকে কি নষ্ট করে ফেললেন তিনি?
সৌরভ রুমির বাসায় এসে রুমির উদ্দেশ্যে একটা খাম দিয়ে যায়। রুমি কি খুলেছিল সে খাম? কী ছিল সেই খামে?
শেষ মুহূর্তে এসে সব ওলট পালট হয়ে গেল। চপলের জীবন, রুমির জীবন, সৌরভের অব্যক্ত ভালোবাসা, সুরাইয়ার ভরসার শেষ তরী সব কেমন যেন হয়ে গেল। এর শেষ কোথায়? না-কি জীবনের বৃত্তে চরকির মতো ঘুরপাক খেতে থাকবে সবাই?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
সমকালীন ধারার এক উপন্যাসের নাম ❝চরকি❞। কয়েকটা পরিবার, তাদের সাধারণ জীবন নিয়ে চরকি।
সমকালীন ধারার হলেও বেশ রোমান্টিক ভাব এনেছেন লেখক বইতে। আমার কাছে লেখায় অনেকটা হুমায়ূন আহমেদ ভাব লেগেছে। তবে সেটা ভালো হিসেবেই।
উপন্যাসের মূল চরিত্র রুমি। রুমিকে ঘিরে বাকি চরিত্র গুলো আবর্তিত হয়েছে। রুমির বর্ণনা আমার লেগেছে। উপন্যাসে বা আজকাল নাটকগুলোতে সুন্দরী মেয়ে বলতেই দুধে আলতা গায়ের রং কে ফোকাস করা হয়। চরকিতে রুমির উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের মাঝেও রুমির অতুলনীয় সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
রুমির বাবা-মায়ের প্যারেন্টিং কৌশল ভালো লেগেছে।
উপন্যাসে খুব স্পিড ছিলো। পড়তে একঘেয়ে লাগেনি। অল্প সময়েই পড়ে ফেলা গেছে।
এবার আসি একটু খারাপ লাগায়,
রুমির প্রতি চপলের ভালোবাসা ঠিক ছিল। কিন্তু সৌরভের কাছে রুমিকে নিয়ে বলা কথা আমার ভালো লাগেনি। যাকে আমরা মন থেকে ভালোবাসি তাকে নিয়ে সাধারণত এ ধরনের কথা বলা যায় না। এর চেয়ে রুমির প্রতি সৌরভের ভালোবাসা আমার কাছে ভালো লেগেছে।
উপন্যাসে কিছু কাকতালীয় ব্যাপার ছিল যেটা একটু সিনেম্যাটিক লেগেছে।
সমকালীন ধারার হলেও আমার কাছে একটু বেশি রোমান্টিক টাইপ লেগেছে (রোমান্টিক জনরা আমি খুব একটা পড়িনা সেজন্য হতে পারে)।
উপন্যাসের পরের পার্ট এলে (যদি আসে) অসামঞ্জস্যগুলো উনি শুধরে আরো সুন্দর লেখা উপহার দিবেন আশা করি।
সব মিলে লেখক সুন্দর লিখেছেন চরকি উপন্যাসটি।
লেখক সম্পর্কে মন্তব্য:
মনোয়ারুল ইসলাম ভাইয়ার থেকে এ পর্যন্ত অতিপ্রাকৃত জনরার বই-ই পেয়ে এসেছি। সম্প্রতি সিরিয়াল কিলিং নিয়ে লিখেছেন। সেটাও ভালো লেগেছিল। তবে সমকালীন ধারায় এই প্রথম তিনি লিখলেন। লেখকের জন্য নতুন তেমন আমাদের পাঠকের জন্যও। আশা করি সমকালীন ধারায় উনি আমাদের আরো ভালো লেখা উপহার দিবেন। লেখকের জন্য শুভকামনা।
প্রচ্ছদ:
অতি সাধারণ একটা প্রচ্ছদ। তবে সুন্দর। সাধারণের মাঝে সুন্দর বলা যায়। হিজিবিজি কিছু নেই। নামলিপিটা খুব সুন্দর।
প্রচ্ছদ প্রকাশ পাবার পরে অনেকেই বলেছিল প্রথম দেখায় বিকাশ এর লগো মনে হয়েছে। তবে কালার ছাড়া আর কিছু বিকাশ জাতীয় আমার কাছে মনে হয়নি।