মফস্বল শহর অশোকনগরে বেড়ে ওঠা। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে। ছোটবেলা থেকেই পড়ার বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বইয়ের নেশা ছিল। লেখার নেশা জাঁকিয়ে বসে কলেজে পড়াকালীন৷ ওই সময়েই "আদরের নৌকা" লিটল ম্যাগ প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রবেশ। প্রথম বই ২০০৮ সালের বইমেলাতে প্রকাশিত হয় , "এক কুড়ি গল্প"। পরবর্তী কালে অফিস থেকে ফিরে ফেসবুকে লিখতে বসা এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাওয়া।
গান গাইবার পাশাপাশি ঘুরতে, ফটোগ্রাফি করতে ভালবাসেন লেখক।
কিছু কিছু বই পড়ে সত্যিই কিছুক্ষন চুপ করে থেকে শান্তভাবে সেই গল্পের ব্যাপ্তি অনুভব করতে হয়। এই বইটিতে দুটি ছোট উপন্যাসিকা আছে। খেলা ভাঙার খেলা, আজ জোৎস্না রাতে। কিছু বছর আগে ফ্লাইওভার পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই গল্প আবর্তিত হয়েছে। বইটি পড়ে একটা mixed expression অনুভব হচ্ছে। প্রত্যেকের জীবনের না পাওয়ার অনুভূতি, আবার অনেক কিছু হারিয়ে, অন্য কিছু পাওয়ার অনুভূতি, দুঃখের অনুভূতি, মিলনের অনুভূতি। অবশ্য পাঠ্য।
নাম: যারা ভেবেছিল ওরা ফ্লাইওভারে ছিল প্রকাশক: আদরের নৌকা মূল্য: ₹২৫০ (মুদ্রিত মূল্য) পৃষ্ঠা: ১২৬
অভীক দত্তের "যারা ভেবেছিল ওরা ফ্লাইওভারে ছিল" মূলত দুটি নভেলার সংকলন, যেখানে ফ্লাইওভার শুধুমাত্র একটি স্থাপত্য নয়, বরং মানুষের মানসিক অবস্থান, বিচ্ছিন্নতা এবং অস্তিত্বের সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে। লেখক বাস্তব ঘটনার পুনর্নির্মাণের চেষ্টা না করে সম্পূর্ণ কাল্পনিক পরিসরে মানবমনের অন্ধকার ও অনিশ্চয়তাকে অনুসন্ধান করেছেন।
বইটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর পরিবেশ নির্মাণ। অভীক দত্ত খুব অল্প কথায় এক ধরনের চাপা অস্বস্তি এবং রহস্যের আবহ তৈরি করতে পারেন। চরিত্রগুলির মানসিক টানাপোড়েন এবং নিঃসঙ্গতা পাঠককে গল্পের ভিতরে টেনে নিয়ে যায়। তাঁর ভাষা সহজ, কিন্তু তাতে একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যিক ঘনত্ব রয়েছে।
তবে বইটির কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। গল্পের গতি ইচ্ছাকৃতভাবেই ধীর, ফলে দ্রুত প্লট-নির্ভর পাঠকদের কাছে কিছু অংশ দীর্ঘ মনে হতে পারে। এছাড়া কয়েকটি চরিত্র আরও বিস্তৃত পরিসর পেলে তাদের মানসিক জটিলতা অধিক গভীরভাবে ফুটে উঠত।
যাঁরা মনস্তাত্ত্বিক সাহিত্য, প্রতীকী আখ্যান এবং সমকালীন বাংলা নভেলা পড়তে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য বইটি আকর্ষণীয়। অন্যদিকে, শুধুমাত্র ঘটনাবহুল বা থ্রিলারধর্মী কাহিনি প্রত্যাশা করলে কিছুটা অপূর্ণতা থেকে যেতে পারে।
সার্বিকভাবে, "যারা ভেবেছিল ওরা ফ্লাইওভারে ছিল" সমকালীন বাংলা সাহিত্যে এক চিন্তাশীল ও আবহময় সংযোজন। এর শক্তি গল্পের ঘটনায় নয়, বরং গল্প শেষ হওয়ার পরও পাঠকের মনে থেকে যাওয়া প্রশ্নগুলিতে।
প্রথম গল্পটা থ্রিলার। তবে এটা যে থ্রিলার, সেটা বোঝার জন্য শেষ পাতা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর শেষ পাতা পর্যন্ত অপেক্ষা করার যাত্রাটা মন্দ হবেনা।লেখকের গল্প বয়ানের দক্ষতা দারুণ।
দ্বিতীয় গল্পটা একজন হেরে যাওয়া মানুষ যযাতিকে নিয়ে। হেরে যাওয়া মানুষটাই কীভাবে সময়ের চক্রে হিরো হয়ে উঠলো সেটা নিয়েই মূলত গল্পটা। এছাড়া মা-বাবা- রক্তের সম্পর্ক বা রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও যে ভালোবাসা গুলো হয়, সেগুলো সুন্দর মত ফুটে উঠেছে এই গল্পে।