রহস্য রোমাঞ্চের হাত ধরে অলিগলি পেরিয়ে আসতে ভালোবাসেন সব বয়সী পাঠক। আর রহস্য যদি হয় ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের তবে তো কথাই নেই। এই বইটি লেখার সময় টক ঝাল মিষ্টি নানা স্বাদের মিলিত এক উপাদেয় পদের পরিবেশন ছিল আমার মুল লক্ষ্য। আজকালকার কিশোররা বড্ড চঞ্চল। ইন্টারনেটের দৌলতে তাদের জ্ঞানের পরিধিও বৃহৎ। আমরা ছোটবেলা চাঁদের পাহাড় পড়ে শিহরিত হয়েছি কিন্তু আজকালকার কিশোররা বুনিপকে ভয় পায় না। কল্পবিজ্ঞানের নানা ভাবনা ঘোরে ওদের মাথায়। ওরা নিজেরাই বিভিন্ন ভিডিও গেমের দৌলতে ভার্চুয়েলি পৌঁছে যায় রহস্যময় স্থানে। নিজেরাই কম্পিউটারের পর্দায় রোমাঞ্চের স্বাদ খুঁজে নেয়। মূলত সেইসব পাঠকদের কথা মাথায় রেখে বিষয়বস্তুতে বৈচিত্র্য আনতে চেয়েছি। জাপানের রহস্যময় অরণ্য আওকিগাহারার আড়ালে ঠিক কী রহস্য লুকিয়ে আছে তা ওদের মত করে কল্পনার সঙ্গে বিজ্ঞানকে মিলিয়ে দেখাতে চেয়েছি। আবার টিপুই পাহাড়ে যে পদে পদে ছড়িয়ে আছে অজানা আতঙ্ক তার স্বাদ পরিবেশন করতে চেষ্টা করেছি। মেঘের আড়ালে রহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি সেখানকার জীব বৈচিত্র্য ও আবহাওয়া সম্পর্কেও জানবে পাঠকরা। ঘরের পাশেই চুয়াড় বিদ্রোহর স্মৃতি বিজরিত শিরোমণি গড় আর জঙ্গল। অথচ আমাদের পাঠ্য বইতে এসব নেই। গল্পের ছলেই নাহয় ওরা জানুক চুয়াড় বিদ্রোহর কথা। কিছুদিন আগেই উত্তর প্রদেশের সোনপাহাড়িতে দুটি স্বর্ণখনির সন্ধান পাওয়া গেছে। সরকার এখনও পরীক্ষা চালিয়ে দেখছে ঐ অঞ্চলে মাটির নীচে এমন হলুদ ধাতুর ভাণ্ডার রয়েছে। আর তার সঙ্গে জুড়ে গেছে এক প্রাচীন ইতিহাস। রানী জুরহিদেবী আর রাজা বল শাহর নাম আজকালকার কিশোররা জানেই না। অথচ তারা আমাদের এ দেশের বুকেই জন্মেছিল। আগোরি কেল্লা আজও দাঁড়িয়ে আছে তাদের স্মৃতি বুকে নিয়ে। নাগাল্যাণ্ডের উপজাতিরা সভ্যতার ছোঁয়া বাঁচিয়ে নিজেদের এক টুকরো আলাদা পৃথিবী বানিয়ে নিজেদের মত থাকে। কিন্তু ওদের গড় আয়ু সভ্যদের থেকে বেশি। রোগ জ্বালাও কম ওদের ভেতর। জঙ্গলের গহীনে আদিম জীবন যাপনে অভ্যস্ত এই সব উপজাতিদের ভেতর এখনও রয়ে গেছে প্রচুর প্রাচীন প্রথা। কুয়াশার আড়ালে রহস্যে ঘেরা নাগা উপজাতি মাচিকুদের কথা আধুনিক সমাজ জানে না। কিন্তু তারাও উন্নত, নিজেদের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে ওরা রয়েছে ওদের মতো। এই সঙ্কলনের পাঁচটি গল্পের পটভূমিকা স্থান কাল সেভাবেই বাছা হয়েছে, যাতে পাঠকদের নতুন কিছু জানানো যায়। নতুন রহস্যর খোঁজ দেওয়া যায়। পঞ্চশরের শিহরণ বইটি আশা করি সকল পাঠকদের ভালো লাগবে।