"অলীক" বইটা আমাদের একটা এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্ট-ই বলা চলে। পরীক্ষিত আর নবীন লেখক/আর্টিস্ট দের সমন্বয়ে ৫টা শর্ট কমিক আর ইলাস্ট্রেটেড গল্পের একটা সংকলন এই বইটা।
ভিন্নধারা কমিক্স-এর ‘অলীক’ হচ্ছে একটা হরর অ্যান্থলজি, বা ভয়ের গল্প সংকলন।
কমিক বইয়ের জগতে এমন সংকলনের বেশ সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে। ইসি কমিকসের (ডিসি না কিন্তু) ‘দ্য হন্ট অফ ফিয়ার’, ‘দ্য ভল্ট অফ হরর’, ‘টেলস ফ্রম দ্য ক্রিপ্ট’-এর মতো বিভিন্ন সিরিজ এ ধরনের কমিক বইকে ভীষণ জনপ্রিয় করে তোলে। তাদের সংকলনের গল্পগুলো আজকালকার স্ট্যান্ডার্ডে যাচাই করতে গেলে একটু সাধারণ লাগতে পারে। বেশিরভাগই হতো চার-পাঁচ পৃষ্ঠার, একটা অসম্ভব ঘটনা দিয়ে শুরু হতো, সহজেই আন্দাজ করা যায় এমন কোনো টুইস্ট দিয়ে শেষ হতো, অনেকসময় জুড়ে দেওয়া হতো ঈশপের গল্পের মতো কোনো নীতিকথা। গল্পগুলো মূলতঃ শিশু বা কিশোর পাঠক-পাঠিকাদের জন্য ছিল, তাই লেখকেরা বেশি জটিলতায় যেতেন না। তবে ইসি-এর শিল্পীরা ছিলেন অসাধারণ। তাদের আর্টওয়ার্ক আজও সত্যি সত্যি ভয় ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
পরবর্তীতে ভার্টিগো’র ‘ফ্লিঞ্চ’, আপশট-এর ‘হোটেল’ আর জুনজি ইতোর বিভিন্ন মাঙ্গার মতো আরও অনেক কমিক বুক এই রীতিকে ধরে রাখে। এই গল্পগুলো আরও অনেক আধুনিক এবং ম্যাচিওর, এবং ছোটোদের পাশাপাশি বড়োদেরও ভয় লাগানোর শক্তি এদের আছে।
বাংলাদেশের হরর অ্যান্থলজি কমিক ‘অলীক’-এর প্রতি তাই বেশ আগ্রহ ছিল আমার। আমি হরর গল্প ভীষণ ভালোবাসি—পড়তে, দেখতে এবং লিখতে। এবং অলীকের লেখক/শিল্পীরাও যে আমার মতোই হরর ভক্ত, ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুবাদে তা জানতাম। তারা কেমন করলো তা নিচে তুলে ধরছি:
গল্পটায় বেশ গথিক একটা আবহ আছে। বিশেষ করে নিঃসঙ্গ, সুন্দরী নারী চরিত্র, জঙ্গলের কাছাকাছি বিশাল পোড়োবাড়ি, প্রেম, এবং সেই প্রেমের অন্ধকার ছায়া—এগুলো টেনে নিয়ে যায় অতীতে, কৈশোরে। গল্পটা বলার ধরনে একটা সরলতা আছে যেটা আমার পছন্দ হয়েছে। তবে এই গল্পটায় নতুনত্বের বেশ অভাব। একটু পড়লেই আন্দাজ করা যায় শেষে কী হতে যাচ্ছে। গল্পে পাঠকের জন্য বিস্ময় না থাকলে ভয়ও সাধারণত থাকে না, এখানেও তাই হয়েছে।
এ গল্পটার অংকন পুরো বইয়ে সবথেকে দুর্বল। একদম যে খারাপ তা বলছি না, তবে শিল্পীর আরও চর্চা দরকার। অ্যানাটমি, চরিত্রদের অভিব্যক্তি আর বিশেষ করে ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আরও সময় দেওয়া প্রয়োজন ছিল। বিভিন্ন প্যানেল দেখে মনে হয় চরিত্ররা কিছু গাছের ছায়ার সামনে ভাসছে। তবে শিল্পী কনট্রাস্ট ভালো ব্যবহার করতে পারেন, যে প্যানেলগুলোতে ব্যাকগ্রাউন্ড গাঢ় অন্ধকার সেখানে চরিত্রদের চেহারা দারুণ ফুটে ওঠে।
দ্বিতীয় গল্প: লেখক, একটা গল্প লিখতে চান? লেখা: ইশরাক অর্ণব, অংকন: ওয়াসিফ নূর
এই গল্পের শুরুটা বেশ। নব্বইয়ের দশকের প্রেক্ষাপটে লেখা গল্প, আর সেসময় যেমন ভূতের গল্প পড়তাম এটার শুরুটাও তেমন। শহর থেকে দূরে এক রিসর্টে (আগেকার আমলে হলে যা হতো ডাকবাংলো) লেখক চলে আসেন নির্জনতা আর প্রকৃতির লোভে। সেখানে এক অদ্ভুত কণ্ঠস্বর তাকে গভীর রাতে জাগিয়ে তোলে। দুঃখের ব্যাপার এই যে গল্পের শুরু যেমন কৌতূহল জাগায়, শেষটা তেমন সন্তুষ্ট করতে পারে না। অস্পষ্ট সমাপ্তি আমার বেশ পছন্দ, কিন্তু এখানে সমাপ্তিটা অতিরিক্ত দ্রুত আসে। শুরু হতে না হতেই যেন শেষ হয়ে গেলো।
এটা ঠিক কমিক গল্প নয়, ইলাস্ট্রেটেড ছোটোগল্প। লেখার ফাঁকে দুটো ছোটো ছবি এঁকেছে ওয়াসিফ নূর। সেগুলো কাজ হিসেবে খারাপ না, বিশেষ করে মহিষীদের বাস্টগুলো।
তৃতীয় গল্প: মনশ্চক্ষু লেখা: শ্রাবণ মেহেদী রাহুল, অংকন: আনিক সরকার
বইয়ের প্রথম গল্প যেটা পড়লে মনে হয় এটার শুরু, মধ্যবর্তী ঘটনা আর শেষ—তিনটাই আছে। প্ল্যানচেটের মতো একটা ঘটনা থেকে গল্পের আরম্ভ, সেখান থেকে আরও ইন্টারেস্টিং দিকে গল্পটা মোড় নেয়। এই গল্পে যে দানব আছে, তার পেছনের আইডিয়াটা ভালো। এবং একজন চরিত্র আছে যাকে অনেকটা অতিপ্রাকৃত ঘটনার শিকারদের জন্য থেরাপিস্ট মনে হলো। এটাও মজার আইডিয়া, এ নিয়ে আরও কাজ হতে পারে।
মনশ্চক্ষুর আর্টওয়ার্ক নিঃসন্দেহে বইয়ের সেরা। দানবের ডিজাইন থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্ন প্যানেল লেআউট, চরিত্রদের অভিব্যক্তি, বিভিন্ন বডি টাইপের ব্যবহার—এ সবকিছু মিলিয়ে বেশ প্রফেশনাল আর গোছানো কাজ। আরও বড়ো পরিসরে তার কাজ দেখার অপেক্ষায় রইলাম।
চতুর্থ গল্প: একটি বেনামী গল্প লেখা: শিহাবুল বাশার রবি, অংকন: ইওরি কেন, বর্ণবিন্যাস: ওয়াসিফ নূর
বইয়ের দীর্ঘতম গল্প, তবে সে তুলনায় সাবস্ট্যান্স একটু কম। অন্য লেখকদের তুলনায় শিহাবুল বাশার কিছুটা উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তিনি গল্পের নিজস্ব পৃথিবী তৈরি করার পেছনে সময় দিয়েছেন, আর গল্পের একটা প্রতিপাদ্য বা লেসন রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে দুটোই একটু কাঁচা আর পরিচিত, তাই খুব জমলো না। আঁকাও খুব আহামরি কিছু নয়। অ্যানাটমিতে সমস্যা আছে এখানেও, বিশেষ করে শিল্পীর হাত আঁকার অপরাগতা রব লাইফেল্ডের পা আঁকার অপরাগতার কথা মনে করিয়ে দেয়।
পঞ্চম গল্প: একজন কাঠুরে লেখা, আঁকা ও বর্ণবিন্যাস: ওয়াসিফ নূর
অলীকে আমার সবথেকে প্রিয় গল্প ‘একজন কাঠুরে’। এই গল্পের ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং হয়েছে আঁকায়, কথায় নয়। শেষের পাতার আগে গল্পের সমাপ্তি আন্দাজ করতে পারিনি। এবং এই রহস্য তৈরিতেও আঁকার স্টাইলটা বেশ সাহায্য করেছে। একটা চরিত্রকে দেখে তার পরিচয় বোঝা যায় না শুরুতে, যদিও শেষে মনে হয় ‘আরে, তাই তো!’ এবং প্যানেল লেআউটেও মজার কাজ করা হয়েছে, শুধু চারকোণা বাক্স নয়। বিভিন্ন স্প্ল্যাশ পেইজ আর অন্যরকম প্যানেল বর্ডার গল্পটাকে নিজস্ব ব্যক্তিত্ব দিয়েছে। ওয়াসিফ প্রথমে শিল্পী, পরে লেখক—তাই ছবির মাধ্যমে গল্প বলার টেকনিকটা ওর জন্য মানানসই মনে হয়েছে।
সব সংকলনেই কিছু ভালো গল্প থাকে, কিছু দুর্বল। অলীক ব্যতিক্রম নয়। তবে কমিক শিল্পের প্রতি আপনার আগ্রহ থাকলে পড়ে দেখতে পারেন, আপনার মতামত জানতে আগ্রহী হবো।
বাংলায় এই ধাঁচের অতিপ্রাকৃত গল্প নিয়ে কমিক্স সংকলন খুবই কম। প্রথমেই ভিন্নধারা কমিকসকে এই 'ভিন্ন ধারার' কাজের জন্যে সাধুবাদ জানাচ্ছি৷ সংকলনটায় গল্প/কমিকসের সংখ্যা ৫। এর মধ্যে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে মনশ্চক্ষু ও একজন কাঠুরের গল্প। মনশ্চক্ষুর আঁকার ধরণ যেরকম চমৎকার, গল্পটাও আগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছিল শেষ অবধি৷ একজন কাঠুরে'র বর্ণনাভঙ্গি গতানুগতিক কমিকসের তুলনায় বেশ ভিন্নমাত্রায়। ওয়াসিফ নূর ভাই যে একজন শিল্পী তার পরিচয় মিলবে গল্পটায়। ইসাদোরা ও লেখক একটা গল্প লিখবেন?-ও বেশ ভালো লেগেছে। তবে 'একটি বেনামী গল্প' জমেনি কোনদিক দিয়েই, না আঁকা, না গল্প৷
পাঁচটা একেবারেই ছোট কিন্তু বেশ অভিনব ও উদ্ভট মৌলিক গল্প নিয়ে তৈরি কমিকস সংকলন অলীক। দ্রুতই পড়ে ফেলা যায়। সবথেকে আকর্ষণীয় লেগেছে গল্পগুলোর অদ্ভুতুড়ে বৈশিষ্ট্য। ছোট্ট, কিন্তু স্বাভাবিকতার বাইরে, এন্ডিংগুলোও মজাদার। আঁকাও হয়েছে দারুণ। কমিক্স ও ছোটগল্পপ্রেমীদের ভালো লাগবে নিঃসন্দেহে।
গুডরিডসে রিভিউ পড়ছেন? তাহলে বইয়ের নামে ট্যাপ করুন, তারপর তানজীম রহমানের লেখা রিভিউটা পড়ে নিন। এই বইয়ের সবথেকে বিস্তারিত রিভিউ। এবং এর বাইরে আমার কিছু মুল্যায়ন যোগ করবারও নেই। দাঁড়ান। লিঙ্ক দিচ্ছি। https://www.goodreads.com/review/show...
আমার বলার আছে বইটা দাম অনুযায়ী কেনার উপযোগী কিনা এই বিষয়ে।
বইয়ে ৫টা গল্প আছে। একটা ওয়াসিফ নূরের আঁকা এবং লেখা, একটা অনীক সরকারের আঁকা। এই দুটা বাদে বাকি ৩টা গল্প আমার দরকার ছিল না। ইশরাক অর্ণবের লেখা গল্প অথবা লুতফুল কায়সারের লেখা গল্প অন্য কোথাও-ও পড়া যেতো, যদি প্রকাশিত হতো। বইয়ের ২টা গল্পের আঁকা খুবই দুর্বল। শিহাবুল বাশার রবির লেখা 'একটি বেনামী গল্প', এঁকেছেন ইওরি কেন, অন্যটি লুতফুল কায়সারের 'ইসাদোরা', ইবতিদা ইদ্রিসের আঁকা। 'একটি বেনামী গল্প', গল্প হিসেবেও দুর্বল। ইসাদোরা গথিক গল্প, পড়ে তক্ষুনি যেটা মাথায় এসেছে তা হলো, গল্পটা লিখিত আকারে পড়লেও বরং এরচে ভাল লাগতো।
'মনশ্চক্ষু' শ্রাবণ মেহেদী রাহুলের লেখা, অনীক সরকারের আঁকা। অনীক সরকারের আঁকায় সবসময় একটা ব্যাপার আমার দারুণ লাগে, ঘটনাপ্রবাহের গতি টের পাওয়া যায় বেশ ভালভাবে। এখানেও, গল্পটা জেঁকে ধরেছিল আমাকে।
ক্যারিশমা দেখিয়েছেন ওয়াসিফ নূর। 'একজন কাঠুরে' গল্পটার বিন্যাসে আর্টিস্টের যে স্বাধীনতা নিয়েছেন তিনি, তা পাঠকের অভিজ্ঞতাকে চমকপ্রদ করে তুলেছে। এবং ছবি দিয়ে গল্প বলার কাজটা করেছেন বেশ দারুণভাবে।
সর্বোপরি, প্রোডাকশন ভাল, এভাবে ছাপা না হলে হয়তো পড়েও শান্তি পেতাম না। আরো বড় পৃষ্ঠায় ছাপা হলে অনীক সরকারের এবং ওয়াসিফ নূরের আঁকা আরো ভালভাবে দেখতে পেতাম। অনেক সূক্ষ্ম কাজ ছিল, ভালভাবে দেখা যায়নি।
কিন্তু বাকি ৩টা কাজ আমার এই সংকলনে দেখা প্রয়োজন ছিল না। এবং তার জন্য ২০০ টাকা খরচ করা নিতান্তই বেকার।
পড়ে শেষ করলাম "অলীক।" এরকম আক্ষরিক অর্থেই ক্রিপি comics এর আগে পড়েছি বলে মনে হয় না। It's not creepy in a bad sense, it's creepy in a good way! The artwork was amazing, so hats off to the artists and editors. The stories actually were strange enough to make the name "অলীক" a success, so hats off to the storytellers, as well. All in all, it was a nice read after finishing a huge novel. My most favorite story was definitely the Mermaid one. I laughed so hard at that 🤣 Wishing the team best of luck in their future ventures!
"অলীক" বহু প্রতীক্ষার পর হাতে পাওয়ায় এক বসাতেই পড়ে শেষ করেছি। ৫ টি অদ্ভূতুড়ে টাইপ গল্প আছে এই টু-শট বইটিতে।
টু-শট বলছি এই কারণে যে গল্পগুলো কমিক্স এবং ইলাস্ট্র্যাটেড ফরম্যাটে আছে। নবীন এবং পরিণত লেখক / শিল্পীদের সমন্বয়ে মাত্র ২৪ পৃষ্ঠার এই বইটি কিছু টুইস্টেড বা মোচড়ানো অনুভূতির সৃষ্টি করেছে।
নিঃসঙ্গ এক মেয়ের গল্প। সন্ধ্যার সময় জানালা দিয়ে আকাশ দেখা মেয়েটি। একদিন তাঁর বাসার পিছনে দুজন লোককে বসে থাকতে দেখা যায়। অঙ্কন ভালো লেগেছে। লেখক অনুবাদক লুৎফুল কায়সারের এই গল্প প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো কলকাতার "অদ্ভূতুড়ে" ম্যাগাজিনে। লিটারেলি এই গল্পে এক ভয়ানক টুইস্ট আছে। একদম লিটারেলি।
২) লেখক, একটা গল্প লিখতে চান?
গল্প : ইশরাক অর্ণব। অলংকরণ : ওয়াসিফ নূর
যেকোন লেখক একজন মৌলিক লেখনীর অধিকারি হতে চান। এই চাওয়ার প্রচন্ড তাগিদে ৯০ এর দশকে চাকরি থেকে ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে একজন চলে যান শহরের বাইরে। সাথে এক টাইপরাইটার। ভাগ্য কি লেখকের প্রসন্ন হবে? ওয়াসিফ নূর ভাইয়ের অলংকরণ সবসময় ভালো লাগে। তবে লেখক বেশ ভালো গল্প লিখেছেন অত্যন্ত সংক্ষেপে।
ইউটিউবে ভিডিও দেখে চার বন্ধু প্ল্যানচ্যাটের মতো আয়োজন করেন এক "জিনিস" কে পৃথিবীতে আনতে। ফল হয় ভয়াবহ। গল্প ভালো লেগেছে। অংকন এক কথায় চমৎকার। গল্প মনে হয় দুই লেয়ারের।
ভবিষ্যতের পৃথিবী, এক ডিস্টোপিয়া। চরম বৈষম্য এবং অরাজকতায় ভরা ঐ অনিশ্চিত সময়ে সকলে ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়। এই সময় ৪ জন জেলে মাছ ধরতে গিয়ে পেয়ে যায় এই মহামূল্যবান প্রানী। এরপর গল্প এক ডার্ক এন্ডিঙের দিকে যেতে থাকে। গল্পটা ডার্ক। অংকন মোটামোটি।
৫) একজন কাঠুরে
গল্প, অংকন এবং বর্ণবিন্যাস : ওয়াসিফ নূর
সবকিছু বিবেচনায় আনলে এই বইয়ের ফেভারিট গল্প এটি বলবো আমার বিবেচনায়। গহীন জঙ্গলে এক নির্ভীক কাঠুরে গাছ কাটতে যায়। সেখানে কে যেন তাঁকে ফলো করে। হয়তো কোন শিকারি। রহস্যময় এই শিকারির শিকার কি কাঠুরে হবে? অংকন এবং গল্প মিলিয়ে সবচেয়ে প্রিয় গল্প এটি আমার।
৫ টি গল্পই ভিন্ন ভিন্ন ধরণের। তবে সব গল্পে একটি কমন উপাদান বিদ্যমান। সব গল্পগুলো "ডার্ক এন্ড গ্রিটি"। ভিন্নধারা কমিক্স "অমর্ষ" দিয়ে খুব সম্ভবত বাংলাদেশে প্রথম "ডার্ক এন্ড গ্রিটি" যুগের সূচনা করে। এডগার এলান পোর গল্পের টাইপ একটা ভাইব পেতে আছে। মানব মনের অদ্ভূত এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন, মোচড়ানো দিক কিছুটা এইসব গল্পে পাঠক পেতে পারেন। প্রতিটি গল্পই মনে হয় দুই লেয়ারের।
অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন যে ২৪ পৃষ্ঠার বইয়ে এতকিছু কিভাবে এলো? একটা কথা আছে না, "আ পিকচার ইজ য়োর্থ থাউজেন্ড য়োর্ডস।" কমিক্স / ইলাস্ট্রেশান ফরম্যাটে প্যানেল টু প্যানেলে কমিক্স আর্টগুলো ল্যাটারিঙের বা বর্ণবিন্যাসের বাইরে অনেক কিছুই বলে দেয়।
সমালোচনা করতে গেলে বলবো যে কমিক্স আর্ট মনে হয় আরো ভালো হতে পারতো। ৩) এবং ৫) এর অঙ্কনের মতো অন্যগুলো হয় নি। এটা অবশ্য স্বাভাবিক কারণ নতুন-পূরাতনের টিমওয়ার্কে এই বই গড়া। গল্প ২) এবং ৫) বেশি ভালো লেগেছে। প্রচ্ছদ খুব ভালো করেছেন শিল্পী। "অমর্ষ" এর প্রচ্ছদের মতোই অনেকক্ষণ ধরে এক অস্বস্তিকর সুন্দরের দিকে তাকিয়ে থাকা যায়।
“অলীক” ৪ টি কমিক্স এবং ১ টি গল্পের সংকলন যার সবগুলোই হরর জনরার। বইটি প্রকাশিত হয়েছে ভিন্ন্ধারা কমিক্স থেকে। গল্প নিয়ে বলতে গেলে, ছোটর মধ্যে গল্পগুলো। আর্টের কথ�� বলতে গেলে মনশ্চক্ষু কমিক্সের আর্টটিই সবচেয়ে শক্তিশালী মনে হয়েছে। এটি এঁকেছেন অনিক সরকার। এই বইয়ের আরেকটি ভিন্নধর্মী কাজ হচ্ছে ওয়াসিফ নূরের “একজন কাঠুরে”। ওনার ইলাস্ট্রেশনের কাজ পূর্বে দেখে থাকলেও কমিকসে ওনার কাজ প্রথম দেখলাম তাই বেশ ভালো লাগলো।
বইটি ৫টি ছোট গল্পের সংকলন।সব গুলো গল্পই অনেক সুন্দর ছিল কিন্তু আমার ভালো লেগেছে গল্পটা।শেষমেষ অনেক অনেক শুভকামনা লেখকদের জন্য।বইটির আঁকাগুলো অনেক সুন্দর ছিল
পাঁচটা অদ্ভুতুড়ে গল্প নিয়ে ছোট্ট একটা বই অলীক। গল্পের সাথে পাতায় পাতায় ছবি।
যারা গ্রাফিক নভেল পড়তে ভালোবাসেন এবং অদ্ভুত, অলীক, ভৌতিকে ভালোবাসা, তাদের জন্য একদম পারফেক্ট একটা বই৷
পাঁচটা গল্পের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় গল্পটা হলো মনশ্চক্ষু। যদিও সবগুলোই ভালো ছিল, এই গল্পটা আমার কাছে একটা পরিপূর্ণ গল্প বলে মনে হয়েছে৷ অল্প কয় পাতায় একটা সম্পূর্ণ গল্প উঠে এসেছে!
অনেকেই গ্রাফিক নভেলের খবর চান, বাংলা গ্রাফিক নভেল নিয়ে শুনতে চান, তাদের সবার জন্য এটা একটা অবশ্য পাঠ্য। বাংলাদেশে এত ভালো মানের গ্রাফিক নভেল হচ্ছে এটাও কি ভীষণ আনন্দের বিষয়!