মধ্য এশিয়া– যেখানে জন্মেছেন বাবর, বিরুনী, আবিসেনা, নাভোয়, উলুখবেগ আর রুদাকির মত প্রখ্যাত ব্যাক্তিরা। সেই মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানে গিয়ে লেখক আমাদের শোনান উজবেক নারীদের সমসাময়িককালের জীবনধারার গল্প। তার সাথে-সাথে আমরাও চলি দক্ষিণ উজবেকিস্তানের বুখারায়; সঙ্কীর্ণ সড়কে ঘুরে বেড়াই, দেখি– চারমিনার, হারেম-বিলাসী আমীরের দারুনির্মিত প্রাসাদ। এরপর আমরা ককেশাসের দেশ জর্জিয়ায় এসে ৯ই এপ্রিল নামক পার্কের বেঞ্চে বসে এক চারুবাক জর্জিয়ান নারীর অপেক্ষায় প্রহর গুনি। তার সাথে গল্প সাঙ্গ হলে কৃষ্ণসাগর পেরিয়ে ইস্তাম্বুলের টিউলিপ উৎসবে গিয়ে চোখ ধাঁধাই। সেখানে আগত হাজারো নর-নারীদের একজন তার শৈশবের গল্প তুলে ধরে, যেটি কেটেছে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের এক নিষিদ্ধ শহরে। গল্পের সন্ধানে এবারে আমরা পৌঁছাই মাল্টায়। সেখানে সমুদ্রের ধারের বাঁধানো রাস্তায় বিড়ালকে খাবার দেবার মুহূর্তে ফরাসি তরুণী শে গল্পচ্ছলে শোনায় ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ওর মাতৃভূমির কথা, যেটি আদতে মূল ফরাসি ভূমি থেকে হাজার মাইল দূরের এক উপনিবেশ। মাল্টা থেকে বসনিয়ার সারায়েভো হয়ে আমাদের যাত্রা চলে জার্মানির বার্লিন অবধি। পথিমধ্যে বারো পদের মানুষের সাথে দেখা হয়, পরিচয় হয়, কিংবা হয় নিছক পর্যবেক্ষণ। বার্লিনে বিশ্বযুদ্ধ আর স্নায়ুযুদ্ধের স্মৃতিবাহী বেশ কিছু স্থাপনা দর্শন শেষে আমরা চলি হিমেল আইসল্যান্ডে। সেখানে দুধসাদা প্রপাত আর তুন্দ্রা অঞ্চল থেকে উড়ে আসা পাফিন পাখি আমাদেরকে স্বাগত জানায়। লেখকের সাথী হয়ে দুটো মহাদেশের বিস্তৃত পথে পরিভ্রমণকালে বহু নগর, বন্দর, স্থাপনা দেখবার পাশাপাশি আমরা শুনি নানা বর্ণের মানুষের জীবনের টুকরো গল্প। শুনতে শুনতে মনে হয়– সেই আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন আর আত্মকথার অকপট বয়ানগুলো যেন আমাদেরই কথা।
৩.৫/৫ বইয়ের ভ্রমণ গল্পগুলো সংক্ষিপ্ত। কোমল, শান্ত, স্নিগ্ধ একটা ব্যাপার আছে সঞ্জয় দে'র লেখনীতে। পড়তে পড়তে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে।ঠিক সেভাবে "ঘটমান" না হলেও তাই লেখকের সাথে বিবি খানুম মসজিদ, বুখারা, ইস্তাম্বুল, বার্লিন, সারায়েভো, ড্রেসডেন, আইসল্যান্ড, ৯ এপ্রিল পার্ক দিব্যি ঘুরে আসা যায়। পরিচয় হয় বিচিত্র সব মানুষ আর বিচিত্র সব গল্পের সাথে।
পর্যটক প্রকৌশলী সঞ্জয় দে’র লেখার সাথে আমার পরিচয় ২০১৮ নাগাদ। শৈশবের স্বপ্নপূরণে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর ওপর এক চক্কর মেরে আসার আগের সেই সময়টায় প্রচুর ভ্রমণকাহিনি পড়া হয়েছিলো আমার; সঞ্জয়ের ‘রিগা থেকে সারায়েভো’ নামের সংকলনটি, বলা যায় সেই অঞ্চলে ঘুরতে যেতে আগ্রহী পাঠকের জন্য রীতিমতো ‘কাস্টম মেইড’। বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়েছিলাম বইটা।
তারপর থেকে সঞ্জয় দে’র ভ্রমণগদ্য টুকটাক পড়ি অনলাইনে, পত্রিকার পাতায়। তবে বই আকারে তাকে আবার পড়লাম সদ্যই, ‘গ্রানাডার গোলকধাঁধা’য়।
যেমনটা হয় পরিচ্ছন্ন ভ্রমণগদ্যগুলোয়, স্বল্প পরিসরে দ্রুত হাতে কিছু স্থান-চরিত্র-ইতিহাস বর্ণনা করে গেছেন সঞ্জয়। আকর্ষণীয় ভ্রমণকাহিনিগুলোয় একটা ব্যাপার বেশ উপভোগ করি আমরা, সেখানে পাঠককে ধরে রাখতে লেখক কোনো নির্দিষ্ট ব্যাক্তি (তার কোনো ভ্রমণসঙ্গী)কে ধরে একটা কাহিনি বলে যান, বা নির্দিষ্ট কোনো এলাকা ভ্রমণের বর্ণনা দ্যান কিংবা নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় কাটান কোনো এলাকায় (ফলে আমরা লেখককে অনুসরণ করে যাই যাত্রাটার শেষে কী হলো, তা জানতে)। সঞ্জয়ের এই সংকলনের ক্ষেত্রে কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা নেই। কারণটা অবশ্য সহজেই অনুমেয়, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে টুকরো টুকরো এই ভ্রমণ ছবিগুলো আঁকা, ফলে সিনেমার বদলে পাঠক পায় অ্যান্থোলজি গল্পের সিরিজ।
চমৎকার লাগে সেই সিরিজটা। বোমা হামলা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া মাল্টার সেই গির্জা, তিবলিসির পার্কের তামার নামের সেই মেয়েটিকে রীতিমতো চোখে দেখতে পাই যেন। অগণিত গণকবরের সেই সারায়েভো দেখার সাথে মিলিয়ে নেই নিজের অভিজ্ঞতা, নতুন করে আবিষ্কার করি নিসের বাজারের অলিগলি।
ক্যামেরাম্যান হিসেবে সঞ্জয় নিজেকে অবশ্য আড়ালেই রাখেন, পাঠক হিসেবে আমি আরও বেশি নৈকট্য অনুভব করতাম যদি তিনি নিজের গল্পকে আরো জড়াতেন গল্পের টুকরো চরিত্র হয়ে আসা মানুষগুলোর সাথে।
মানুষ পৃথিবীর নানান জায়গা ভ্রমণ আত্মতুষ্টি লাভ করে কিংবা বলা যায় ভ্রমন কারো জন্য নেশা আবার অন্য দিকে ভ্রমণ পছন্দ করে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। ভ্রমণ অনেক কিছুর জন্যই হতে পারে। লেখক সঞ্জয় দে উনার লেখা "গ্রানাডার গোলকধাঁধায়" বইটিতে তেমনই কিছু ভ্রমণের কাহিনীর সংযোজন ঘটিয়েছেন। একজন ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছ থেকে ভ্রমণের গল্প শোনার পাশাপাশি আমরা তাঁর ভ্রমণ করা জায়গাগুলোতে পরিচিত হওয়া নানান মানুষের গল্পও পড়তে পারি। লেখকের উজবেকিস্তান, জর্জিয়া, তুরষ্ক, মাল্টা, স্পেন, সান মেরিনো, জার্মানি, আইসল্যান্ড, ফ্রান্স ইত্যাদি সহ আরো বিভিন্ন স্থান ভ্রমণের মোট ১৫ টি ভ্রমণ কাহিনী রয়েছে বইটিতে। আমরা যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করি তখন আমরা নতুন সংস্কৃতির সাথে, নতুন মানুষের সাথে, নতুন পরিবেশের সাথে পরিচিত হই। লেখক এই জিনিসগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছে খুব ভালো ভাবে। লেখকের ডাক টিকিট সংগ্রহের ছোট বেলার শখের কথাও পড়া হয় এই ফাঁকে, লেখার মধ্যে দিয়ে জানতে পারি সেই শখে ভাটা পড়েনি এখনো। দেশ ভ্রমণের ফাঁকে ফাঁকে তিনি বিভিন্ন দেশের ডাকটিকিটও সংগ্রহ করেন সানন্দে। তাছাড়া লেখক নতুন জায়গা গিয়ে পরিচিত হওয়া নতুন মানুষ গুলোকেও আনন্দের সাথে বইতে আশ্রয় দিয়েছেন। বইটি পড়ার সময় একটি কথা খুব করে মনে হচ্ছিলো, এমন ভ্রমণ পিপাসুর কাছ থেকেই নানা স্থানের, নানা গল্প পাওয়া সম্ভব। যা আবার ছাপার অক্ষরে বের হয়েও সমানে আনন্দ দিতে পারে পাঠককে। কল্পনায় পাঠককে নিয়ে যেতে পারেন লেখকের ভ্রমণ করা জায়গাগুলোতে। তাই তো বিভিন্ন স্থানের গোলকধাঁধাতে হারিয়ে গিয়ে লেখক সাবলীল একটি বই উপহার দিয়েছেন পাঠককে। লেখক তার ভ্রমণ করা স্থান গুলোর গল্প বলেই ক্ষান্ত হননি, যদি ঐসব স্থান গুলোর কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে থাকে তো সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের গল্পও বলেছেন হালকা চালে। সব মিলিয়ে পাঠককে ভ্রমণের গল্প বলে ভ্রমণে উৎসাহী করতেও বইটির জুড়ি নেই।
মূল সড়ক ছেড়ে গলিপথে হাঁটার অভিজ্ঞতা ঠিক কতটা মনোরম হতে তা মনে করার জন্য সঞ্জয় দে'র ভ্রমণ কাহিনীগুলো হাতে তুলে নেওয়া যায়। সামাজিক ইতিহাসে টুকিটাকি নাক ডোবালেও তার ঘটনাক্রমের প্রধান আকর্ষণ থাকে সেই সব টুকরো অভিজ্ঞতা যা হয়তো বিরাট কোনও চমকের সৃষ্টি করবে না, কিন্তু এনে দেবে প্রশান্তি। আর প্রতিটি ঘটনাই দাঁড়িয়ে আছে যে শক্ত ভিতটির উপর তা হল মধুর বর্ণনা। দেখে তো সব চোখই, কিন্তু দেখাতে পারে ক'জন? সাধারণ এক টুকরো দৃশ্যকে অনন্য করতে যে সুষমামণ্ডিত ভাষা লেখক তার বইতে প্রয়োগ করেছেন তা নিঃসন্দেহে অনবদ্য। নিজের অক্ষমতা স্বীকার করেই বলছি, এত গুছিয়ে লেখার সাধ্য আমার নেই। সমকালীন পরিচিত, অপরিচিত অধিকাংশের মধ্যেই এতটা চমৎকারিত্ব দেখিনি ভাষার প্রয়োগে। কিছু কিছু বাক্য, পরিচ্ছেদ, পাতা এত সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে মনে গেঁথে যায়। সেখানে ঘটনা তেমন বিশেষ নয়, কিন্তু গুছিয়ে দেখাতে পারার গুনেই চলে গেছে হৃদয়ের খুব কাছে। এছাড়াও লেখকের একাকী ঘুরতে পারা এবং অনায়াসে আলাপ জমাতে পারার গুণটিকে রীতিমত ঈর্ষা হয়। কই, আমি তো পারিনি এভাবে মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে, টুকরো আলাপে তার সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে এপথ সেপথ! আর ঠিক এই কারণেই ভদ্রলোক একজন সফল ভ্রমণ প্রেমী। অর্থাৎ, আমার মতো আরও অগণিত সফল ঘরকুনো বাঙ্গালীর সরাসরি বিপরীত। আমরা বসে থাকি এসব গল্প পড়ার আগ্রহে, আর তাঁরা আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন জীবনের অগণিত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা গাঁথার হাত ধরে।
আশা রইল লেখকের আরও অনেক লেখা আগামীতে পড়ার সৌভাগ্য হবে। আর মন ছুটে যেতে চাইবে সেইসব অঞ্চলে যেখান দিয়ে লেখক হেঁটে গেছেন প্রকৃতিকে সঙ্গী করে।
সাগরমুখী একটা ক্যাফে। মুখোমুখি বসে গল্প শোনাচ্ছেন সঞ্জয় দে। সামনে রাখা গ্লাসভর্তি শীতল পানীয়। একটু একটু করে চুমুক দিচ্ছি তাতে। মাঝেমধ্যে চোখ চলে যাচ্ছে গাংচিলদের দুধেল ডানায়। কিন্তু গল্প থেকে মন সরছেনা একটুও। যে গল্প শুরু হয়েছে উজবেকিস্তান থেকে। বুখারা হয়ে গল্পের স্রোত একটানে নিয়ে ফেললো জর্জিজায়। সেখানে স্বল্প সময় কাটিয়ে গল্পের ডানায় চড়ে স্বপ্নভূমি ইস্তাম্বুল পৌঁছে গেলাম।
সেখানকার টিউলিপ উৎসব দেখে যাত্রা এবার মাল্টায়। যেখানে ফ��াসী তরুণী ‘শে’ দেয় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক শিক্ষা। তারপর বসনিয়ার সারায়েভো হয়ে পথচলা জার্মানির বার্লিন অবদি। পরিচয় হয় ইতিহাসের সাথে, গল্প হয় মানুষের সাথে। তারপর হিম হিম আইসল্যান্ড থেকে উড়ে আসে পাফিন পাখি। স্বাগত জানায় তাদের দেশে। রেইকাভিকের বেঞ্চে থাকা এক ডায়েরি শোনায় ইলা এবং ইলিয়াসের মিষ্টি প্রেমের গল্প। জানায় লরা এবং ক্যাথির নতুন অভিযানের প্রস্তুতি।
সব শেষে গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে মনে হয় কদিন আগে একটি বই পড়া কয়েকটি বাক্য—‘দেশের পরে দেশ মিলে আশ্চর্য বিপুলা আমাদের এই পৃথিবী। সেই পৃথিবীর কত সহস্র পাহাড়ের বাহার, কত মায়া নদীর জাল,কত তার আশ্চর্য দৃশ্য। ভিন্ন দেশের অপরুপ সব মানুষ ভিন্ন চেহারা,ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে সব মানুষ অলৌকিকভাবে একরকম।’
সাধারণত আমি ভ্রমণকাহিনী পড়িনা, কিন্তু কিন্তু এই ভ্রমণ কাহিনীটি পড়ে আমি রাখতে পারছিলাম না। লেখনি এবং অসাধারণ বর্ণনাতে আমি সেই দেশে চলে গিয়েছিলাম ঘুরতে। ঘুরে বেরিয়েছি খে গ্রানাডার পথে পথে, হারিয়ে গিয়েছিলাম ফ্রান্স নিস, মালটা আরো অনেক দেশে। লেখককে এমন অনেক সুন্দর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক, পরিব্রাজক সঞ্জয় দে, তাঁর ভ্রমণ উপন্যাসগুলো মোটাদাগে মানুষের গল্প। একদম খাঁটি গল্প। তাঁর লেখায় ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাস গল্পের ঢং-এ ব্যক্ত করেন যা কখনো গৎবাঁধা নিরস থিওরেটিকাল বই না হয়ে হয়ে যায় পাঠকদের প্রিয় বই। কারণ যে আমরা আমাদেরই মতোন সুখ, দুঃখ, বেদনার গল্প পাই সুদূরের দেশে। পথে প্রান্তরে, শহরে গঞ্জে, কফিশপ ট্রেন স্টেশনে লেখক খুঁজে ফেরেন গল্প। "গ্রানাডার গোলকধাঁধায় " বইটা লেখকের অন্যান্য বই থেকে আলাদা। আগের বইগুলো যেমন নির্দিষ্ট ভূ-বৃত্ত কে কেন্দ্র করে, এটা তেমন নয়, বরঞ্চ মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তান থেকে যে যাত্রা শুরু, এরপর ককেশাস অঞ্চলের দেশ জর্জিয়া হয়ে ইউরোপের জার্মানির ড্রেসডেন, বার্লিন, তুরস্কের ইস্তাম্বুল পার হয়ে গল্প পাই নর্ডিক দেশ আইসলেন্ডের ও। এ যেন ভ্রমণ রেখার এক রোলার কোস্টার রাইড!
চোখে পড়ে বুখারা ও সামারকান্দকে বহু দূরে তাপদগ্ধ শূন্য স্তেপভূমি সান্ধ্যবায়ু মৃদুমন্দ ব্যাজনি ঢুলায় এশিয়া! কী আশ্চর্য শতরূপা তুমি!" ~ উজবেক কবি রইম ফারহাদি
রূপময় এশিয়ার স্তেপভূমি উজবেকিস্তানে যাত্রা শুরু লেখকের। মধ্য এশিয়ার দেশ এটি। এখানে জন্মেছেন মুঘল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তনকারী বাবর, বিখ্যাত পরিব্রাজক বিরুনী। বিভিন্ন রকম ধর্ম আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনের ভূমি উজবেকিস্তান। মধ্য এশিয়া থেকে উদ্ভূত চারটি ধর্ম: জরথুস্ত্রিয়ান, ইহুদি, ইসলাম, খ্রিস্টান ধর্ম আবার প্রাচ্য যেমন পারস্য আর পাশ্চাত্য চিত্রকলা- স্থাপত্যের প্রভাব। এখান দিয়েই পুরাকালে চলে গিয়েছিল রেশম পথের উজবেক ব্যবসায়ী চোগা-আচকান পরে, আর এখন সেখানে কোট প্যান্ট, আর জরির টুপি জায়গা করে নিয়েছে। সময় বদলে দেয় সভ্যতা আর সংস্কৃতিকে। সোভিয়েত আমলে তাসখন্দে গড়ে উঠেছিল যুদ্ধ সামগ্রীর শিল্পকারখানা, যেখানে শত্রুর চিত্ত কাঁপিয়ে দেওয়া কাতিউশা রকেট তৈরির কারখানা ছিল। সোভিয়েত পতনের ফলে সেসবের পাট চুকিয়ে গেছে। লেখক খুঁজে ফেরেন বিবি খানুম মসজিদ আর চার মিনারের ইতিহাসকে, মানুষের গল্পকে। উজবেকিস্তানের মানুষের সোনাঝরা হাসিতে আমরাও আপ্লুত হই, সত্যি ই যে তাদের দাঁত সোনায় মোড়া, এটা তাদের বিলাসিতা, তাদের আনন্দ , ক্ষয়ে যাওয়া দাঁত রক্ষা করে হাসি বিলানোতে৷ আলিম খানের প্রাসাদ দেখতে দেখতে এক কিশোরী যখন ভিনদেশী লেখক কে পেয়ে ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করে, "ইউ লিভ হয়ার?", প্রতিত্তোরে ক্যালিফোর্নিয়া বলায়, কিশোরী স্বপ্নালু হয়ে বলে, " ও, ক্যালিফোর্নিয়া? হলিউড? " এমন স্মৃতি পুলক জমায় মস্তিষ্কে।
ককেশাস অঞ্চলের দেশ জর্জিয়া তে লেখকের ভ্রমণ তিবলিসি শহরে, যেখানে উঠেছেন, তার উলটো দিকে মস্ত বড় পোড়োবাড়ি আছে। আর পথ-চলতি সময়ে আন্ডারপাস দেয়ালে বইয়ের সন্ধান পাওয়া অনেক তৃপ্তিদায়ক। এইরকমই পথ চলাতে লেখক আবিষ্কার করেন ৯ এপ্রিল পার্ক। এই পার্ক স্মৃতিবহন করছে জর্জিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে। কিভাবে সোভিয়েত বলয় থেকে বের হয়ে আলাদা দেশ গঠিত হয়, গল্পের পরতে পরতে জানতে পারি লেখকের বয়ানে। লেখকের পূর্বপরিচিত জর্জিয়াবাসী তামারের জীবনের গল্প শুনি আমরা। শুনতে শুনতে বিভোর হই, কখনো তার দুঃখে কাতর হই৷ জর্জিয়া। প্রসিদ্ধ তার উষ্ণ জলবায়ুর জন্য। ওয়াইন আর স্বর্গের অপ্সরাতুল্য সুন্দরীদের জন্য বিখ্যাত জর্জিয়া। লেখকের সাময়িক ভ্রমণসঙ্গী ফরাসী অর্থনীতিবিদ মসিউ পিঁয়েরে ওয়াইন ফ্যাক্টরিতে ওয়াইনে মজে শান্তিনিকেতনি ব্যাগে চার বোতল কাখচালা ওয়াইন নেন যেটা স্তালিনেরও প্রিয় ওয়াইন ছিল। জর্জিয়ার কাখেতি অঞ্চলে, যেটা শহর নয়, সেখানেও সুসজ্জিত মিলনায়তন আর সংস্কৃতির চর্চা দেখেন লেখক৷ মূলত প্রাক্তন সব সোভিয়েত অঞ্চলগুলোতে এই সুবিধেগুলো ছিল যেখানে শহর আর গ্রামে, সংস্কৃতি চর্চার আকাশপাতাল প্রভেদ থাকতো না৷ জর্জিয়ায় অভিবাসী বলতে বেশ ভারতীয়রা পড়াশোনা করতে যেমন আসে, দূরত্ব কম সাথে কম খরচায় পড়া যায়, তেমনি পার্শ্ববর্তী ইরান আর মধ্যবিত্ত আরবরা প্রমোদ ভ্রমণ করতে আসে, উচ্চবিত্ত আরবরা যায় অস্ট্রিয়া -সুইজারল্যান্ডে।
লেখকের হিউমার আকৃষ্ট করে, যখন এটা পড়ি,, তুরস্কে প্রমোদতরি তে, উর্বশীদের বেলিড্যান্স শেষ হওয়ার পরে উপস্থাপক ঘোষণা দেয়, "মাশাল্লা, মাশাল্লা, মাশাল্লা! হোয়াট আ বিউটিফুল ডান্স!" তখন আচানক এক বাংলাদেশি বলে," ভাই , এই পেট ভাসাইন্যা নাচের সাথে মাশাল্লা কথাটা কি যায়,ভাই? বলেন,যায়?"
সুলতান হেমেতের টিউলিপ বাগান আকৃষ্ট করে আমাদের। বাগানের হাঁটাপথে জীবনের গল্প বলে যায় লেখকের নায়ক নায়িকারা। আর আকীর্ণ হয়ে শুনি সে কথকতা। লেখক ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাস যেমন ব্যক্ত করেন, ঠিক তেমনি রসনাবিলাসকেও উপেক্ষা করেন না। উজবেকবাসীর পিলাফ-রুটিতে যেমন মজেন, তেমনি জর্জিয়াতে খুঁজে পাওয়া থাই রেস্তোরাঁতে তৃপ্তিদায়ক টমিয়াম স্যুপে, গ্রানাডার তাপাসে। দূর পৃথিবীর গল্প ও লেখকের বরাতে শোনা হয়ে যায়, যেমন মাল্টা, সান মেরিনো, মোনাকো, আইসল্যান্ড। এসব দেশের হয়তো রাজধানী নাম পর্যন্ত জানা ছিল। সংস্কৃতি, ইতিহাস, মানুষের যাপিত জীবনের গল্প, এই তো লাভ ভ্রমণ কাহিনি পড়ে। না যেয়েও মানসপটে ভ্রমণ করি লেখকরে সাথে। টিটন পাহাড় ঘিরে যে সান মেরিনো দেশটা, এর নামকরণ হয় এক পয়মন্ত যোগী পুরুষ সাধু মেরিনোর নামে৷ আরেকটা ব্যাপার ইন্টারেস্টিং যেটা হল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, প্রথম দেশ সান মেরিনো, যে ভোটের মাধ্যমে বামপন্থীরা ক্ষমতা গ্রহণ করে, কোনো প্রকার সশস্ত্র বিপ্লব বা সামরিক অভ্যুত্থান, কিংবা বহিঃশক্তির প্ররোচনা ছাড়া।
লেখকের বার্লিন ভ্রমণ হয়ে উঠে ইতিহাসের ওঙ্কার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনি বার্লিন নিয়ে, বার্লিন দেওয়াল, বার্লিন টানেল ২১, টানেল ৫৭। এসব হৃদয়কে ভারী ক���ে দেয়। টিয়ারগারটেন সমাধি, ট্রাপটাওয়ার স্মৃতিসৌধ এসব যুদ্ধদিনের বেদনাবিধুর স্মৃতিকেই রোমন্থন করে৷ জার্মানির ফ্লোরেন্স হিসেবে খ্যাত ড্রেসডেনও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
"এইবার বুঝি পৌঁছাুবে এই রূপকথা ট্রেন, দুই চোখ দুই শবরীর মতো, দূরে ড্রেসডেন।" ~ ড্রেসডেন, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র।
মোনাকোর গল্প শুনি লেখকের বয়ানে৷ একটা ক্যাসিনো যে দেশকে দেউলিয়াত্বের থেকে বাঁচাতে পারে, তা বোঝা যায় মোনাকোর ইতিহাস থেকে৷ ইউরোপের বিখ্যাত ক্যাসিনো মন্টে কার্লো, যেটা স্থাপনের বুদ্ধি বাতলান মোনাকোর রাজকুমারী। আলফ্রেড হিচককের চলচ্চিত্র "To Catch A Thief " এর গ্রাস কেলি, বিখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী, তাঁর বিয়ে হয় মোনাকের যুবরাজের সঙ্গে। সারাজীবন মোনাকোতেই কাটিয়ে দেন এরপর। লেখক স্মৃতি স্বরূপ গ্রেস কেলির নব্বইতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অবমুক্ত ডাকটিকেট সংগ্রহ করেন। ডাকটিকেট সংগ্রহ আশি-নব্বইয়ের দশকে প্যাশন ছিল অনেকেরই। লেখকও শৈশব-কৈশোরে টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ডাকটিকেট কিনতেন, সে স্মৃতি রোমন্থন করেন৷ তাই তো ইস্তাম্বুলে একটা ডাকটিকেটের শপে লেখক তাই তাঁর স্মৃতির অবগাহন করেন। হারিয়ে যান শৈশবে। নর্ডিক দেশ আইসল্যান্ড। দেশটি অসংখ্য আগ্নেয়গিরির উপরে অবস্থিত। কিন্তু সে রুক্ষ বৈরি পরিবেশে প্রকৃতি অকুণ্ঠ চিত্তে সংরক্ষণের চেষ্টা করছে। জলপ্রপাতের চারপাশের ঘিরে থাকা মস, সবকিছু সবুজের সমুদ্র করে তোলে। তেমনি এক জলপ্রপাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানানোর জন্য লেজ নেওয়ার চেষ্টা করে ইংরেজি কোম্পানি । কিন্তু ঐ জলপ্রপাতের জমির মালিক দরিদ্র কৃষক, তার পরিবার কিভাবে জয়ী হয় ইংরেজ কোম্পানির সাথে, এটা অত্যন্ত ভালো লেগেছে। তাদের প্রকৃতির প্রতি যে ভালোবাসা, ঋণ, সেটা ভুলবার নয়। আরেকটা বিষয়, যেটা চমৎকার, আইসল্যান্ডের অধিকাংশই পাঠক। তাদের বই পড়ার অভ্যাস আছে বেশ৷
লেখক সঞ্জয় দে ভাইয়া, ফ্রেঞ্চ রিভেয়ারার সাগরতীরের শহর নিস, ইম্প্রেশনিস্ট শিল্পী রেনোঁর বাড়ি, থেকে অমূল্য কার্ডটি নিয়ে এসেছেন আমার জন্য। জর্জেস স্যুরাত এর অসাধারণ একটা পেইন্টিং "Bathers at Asnieres"। পাঠক হিসেবে এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে প্রিয় লেখকের থেকে এমন উপহার পেয়ে! এটা আমার সারাজীবন অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে।
পেপরা ভয়েজার এর অসাধারণ প্রোডাকশন এটা। প্রচ্ছদ করেছেন Arafat Karim ভাইয়া। তিনি অদ্ভুত সুন্দর আঁকেন। ডাস্ট জ্যাকেটের নিচেও হার্ড কাভারে আলাদা লেটারিং আছে বইটার। এটা রাদুগা, প্রগতির বইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। এখানে অনেকগুলো কালারড ফটোগ্রাফস আছে। শুভেচ্ছা পেপার ভয়েজার এর জন্য। বইটা পড়ুন৷ অবশ্যই রেকমেন্ডেড বইটা।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ স্প্যানিশ লা-লীগার নিয়মিত দর্শক হওয়াতে স্পেনের প্রতি একটা দূর্বলতা কাজ করে, রিয়াল মাদ্রিদের সাপোর্টার যেহেতু মাদ্রিদ শহরটায় অন্তত একবার পা ফেলতে মন চায়৷ লা-লীগার কল্যানে স্পেনের বেশকিছু শহর সহ গ্রানাডা কে ও চেনা হয়েছে৷ গ্রানাডার গোলকধাঁধায় বইটার নামকরণ সেই শহরকে কেন্দ্র করে। যদিও বইটি গ্রানাডার নামে কিন্ত বইটিতে উজবেকিস্তান, জর্জিয়া, তুরষ্ক, মাল্টা, স্পেন, ইতালি, জার্মানি, আইসল্যান্ডের বিভিন্ন শহর, গ্রামের অলিগলি ঘোরার গল্প আছে, আছে সেই শহর কিংবা গ্রাম সংক্রান্ত ঐতিহাসিক তথ্য৷ সেখানকার মানুষের জীবনমান, সংস্কৃতি, ভাষার ইতিহাস।
"সোনাঝরা হাসি" কথাটাকে উপমা হিসেবে ব্যাবহার করা হয়, কিন্ত লেখকের তথ্যে উজবেক নারীদের সোনাঝরা হাসির মানে সত্যিকারের সোনাঝরা হাসি৷ গল্পের নামটা পড়ে উপমা হিসেবেই ধরে নিয়েছিলাম, উজবেকের নারীদের হাসি সম্ভবত বিশ্ববিখ্যাত। আসলেই তাই, বিশ্ববিখ্যাত ই বটে, তবে তার রহস্য ভিন্ন। এই গল্পে আরো ছিলো বিবি খানুম মসজিদের প্রতি নারীদের আলাদা আকর্ষণের কারণ। বুখারের চার মিনার নামক গল্পটিতে ছিল আমিরের নানা উদ্ভট খায়েশের গল্প। রুস্তাভেলি রোডের গল্পটা আমার বেশ ভালো লেগেছে, লেখার মাধ্যমে লেখকের সাথে হাঁটছিলাম সেই রাস্তায়, লোলনি রোসেস এর মত ফুলের দোকান, ভুতুড়ে বাড়ি দেখে আসলাম। জর্জিয়ার বিভিন্ন স্মরণীয় বরণীয় ব্যাক্তি দের ভাস্কর্য দিয়ে ভরা ৯এপ্রিল পার্ক এর নামকরণে গল্পটির ব্যাপ্তি তুলনামূলক বড় বাকিগুলোর থেকে। এই গল্পে বেশকিছু অজানা ইতিহাস জানা যাবে৷ ইস্তাম্বুল এর সুলতান হেমেতের টিউলিপ উৎসব ঘোরার অভিজ্ঞতা, গ্রানাডার তাপাস খাওয়ার গল্পটা বেশ ইন্টারেস্টিং। শুধু কোল্ড ড্রিংকস কিনলে তার সাথে পরিবেশনকারীর নিজের ইচ্ছেমতো যেকোনো একটি খাবার ফ্রি তে দেয়া হয়। এটাকেই তাপাস বলে সেখানে৷ এমন আরো বেশ কিছু মজার ইন্টারেস্টিং অভিজ্ঞতার গল্প তুলে ধরেছেন লেখক বিশ্বঘুরে৷
ভ্রমণ বিষয়ক বই আমার বরাবরই পছন্দের। ভালো মানের লেখক হলে বই পড়েই লেখকের সাথে ঘুরে আসা যায় দেশ-বিদেশ। পরিব্রাজক সঞ্জয় দে এর লেখার মান ও ঠিক তেমন, বেশ চমৎকার গল্প বলেন তিনি, পড়ার পাশাপাশি কল্পনায় চলে আসে সেই পথ ঘাট, স্থাপত্য। খুব সুন্দর বাক্যগঠনের পাশপাশি অনেক ভালো উপস্থাপন। বিশেষ করে লেখকের উপমাগুলো অনেক নজরকাড়া। রমনীদের তিনি এক অনন্য উপমায় উপস্থাপিত করেছেন বেশ কিছু জায়গায়৷ খুব অল্প সময়ের মধ্যে জায়গা গুলো সম্পর্কে তথ্য, ইতিহাস, যোগাযোগ ব্যাবস্থার ধারণা দিয়েছেন লেখক, পুরো বইটি অনেক সুখপাঠ্য ছিল৷ লেখকের তোলা বেশ কিছু সাদাকালো ও রঙিন ছবি দেয়া আছে বইটিতে।
বইয়ের প্রোডাকশন আমার অসম্ভব পছন্দ হয়েছে। নজরকাড়া প্রচ্ছদ, জ্যাকেট টা খুললে আরো বেশী সুন্দর দেখায় বইটিকে, ধবধবে সাদা একটি বই হয়ে যায় তখন। বাইন্ডিং ও অসাধারণ, পৃষ্ঠাগুলোও যথেষ্ট মজবুত পাশাপাশি অনেক মসৃণ। সর্বোপরি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির প্রোডাকশন এর বইটি।
লেখকের আরো দুইটা আগে পড়েছি। এই নিয়ে লেখকের তৃতীয় বই পড়লাম। বরাবরের মতো ভালো লেগেছে। লেখক বইতে স্থানের বর্ণনা অনেক সুন্দরভাবে তুলে ধরেন। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়বস্তুগুলো লেখক ভালোভাবেই উপস্থাপন করতে পেরেছেন। বইতে প্রকৃতির বর্ণনা যেমন উঠে এসেছে, ঠিক তেমনি লেখক তুলে ধরেছেন মানুষের জীবণযাত্রার গল্প। একটি বই সাফল্য তখনিই পায়, যখন পাঠক বইয়ের লেখাগুলো উপলব্ধি করতে পারে। যখন বইটি পড়ছিলাম, তখন যেনো মনে হচ্ছিলো সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে ব্যাগপত্র গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ি কোনো অজানার উদ্দেশ্যে।
লেখক শিল্প ও সাহিত্যের ব্যাপক সমঝদার। ইতিহাস, ভূগোল এবং অন্যান্য ভাষা ও সংস্কৃতির যথেষ্ট ভালো জ্ঞান রাখেন। লেখক সুলেখকও বটে। ইউরোপ ঘোরার পয়সা না থাকলে এই বইটি কিনলে সেখানে ঘুরে বেড়াবার স্বাদ পাবেন, সেটার কৃতিত্ব লেখকের লেখনীর। পাতায় পাতায় ছবি সংযুক্ত করার ব্যাপারটা প্রশংসার দাবিদার। সবশেষে, লেখকের জন্যে শুভকামনা।