বৃষ্টি পড়ছে এখনও টিপটিপ করে। ঝিরিঝিরি বর্ষণে ফয়সালের ভিজতে ভালোই লাগছে। হাতে ধরে থাকা ছাতাটা খুলতে ইচ্ছে হলো না ওর। ঠান্ডা বাতাস চোখ-মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে বেশ। সংকীর্ণ এই পথটা একটা খালের রূপ ধারণ করেছে। দূরে মেইন রোড থেকে কয়েকটা গাড়ির হর্ন শোনা যায়। ফয়সাল চলতে চলতে পেছন ফিরে তাকায়। এখান থেকে সুতপার ঘরটা দেখা যাচ্ছে। অন্ধকার। আবারো চারপাশে উৎসুক দৃষ্টি ফেলে ফয়সাল। নাহ, কোনো ফুল গাছ নেই কোথাও। ফয়সালের মুখে চিন্তার ছাপ ফুটে উঠেছে। আনমনে ও বিড়বিড় করে বলে ওঠে, “ভাবতে হবে। অনেক ভাবতে হবে....
কী ভেবেছিল ফয়সাল? পেরেছিল কি ও সুতপাকে ঘিরে এই অদ্ভুত সমস্যার সমাধান করতে? নাকি রহস্যকূপ শেষপর্যন্ত রয়েই গিয়েছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে?
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের ছোট্ট একটা গ্রাম রূপনগর। ময়মনসিংহের এই গ্রামে শফিক মাহমুদের পৈত্রিক নিবাস। সময়ের কালক্রমে শুভ পরিণয় হয় রেহনুমার সাথে। খুব সাধারন আর দশটা পরিবারের মতোই টোনাটুনির সংসার ছিল শফিক মাহমুদ ও রেহনুমার। হাঁটি হাঁটি পা পা করে জীবনের তরীটা সংসার সমুদ্র তরঙ্গে ভাসিয়েছিলেন দুজন। সেই তরীর পালে ছিলোনা দমকা হাওয়ার কোন ধাক্কা, শুধুই ভালবাসা দিয়ে নিঃসন্তান বৈবাহিক জীবনের সাত বছর সংসারের বৈঠা বেয়ে গেছেন, শক্ত হাতে পাল উড়িয়েছেন দুজন মিলে। সময়ের আবর্তে ডুবি ডুবি সেই স্বপ্ন তরীর সঙ্গী হয় দুটি নতুন দুজন অতিথি। অসীম সমুদ্রের নীল জলরাশি উপর সাদা গাঙচিলের মত ডানা মেলে উড়ে বেড়াতো তারা। সময়ের আবর্তনে গুটিপোকা যেমন ধীরে ধীরে প্রজাপতি হয়ে পাখনা মেলে ঠিক তেমনি শফিক মাহমুদের দুই ফুল পরীরাও তাদের ডানা মেলতে শুরু করেছিল। দুই ফুলপরীর মাঝে একটি যখন ডানা ছিঁড়ে মুখ থুবরে পড়ে গেল, নিদারুণ যন্ত্রণা সহ্য করতে করতে যখন সবার মায়া কাটিয়ে নিল সেটা সহ্য করার ক্ষমতা ছিল না কারোরই। বেঁচে থাকা ফুলপরী তার সবল ডানায় ভর দিয়ে উড়তেও ভুলে গেল। সময় বয়ে যায়, মন ভাঙা পরীর জীবনে এসে হাজির হয় সৌমেন। সৌমেনের ভালোবাসার সোনার তরীতে দিগন্ত পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন বুনে চলে সুতপা। কিন্তু বেদনা বিধূর এই জীবন সংগ্রামে নিজের ভালবাসার বিজয়গাঁথা কি লিখতে পারবে সুতপা?