এ কাহিনি মেহনাজের, এ কাহিনি বিবরের। কিংবা এটাকে আপনি পিহু ও তার আদরের বিড়াল তুলতুলের কাহিনিও বলতে পারেন, যে অবলা প্রাণীটাকে কে বা কারা যেন মেরে ফেলেছে, পৈশাচিকভাবে। পেট চিরে বের করে এনেছে নাড়িভুঁড়ি, শরীর থেকে ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে মাথাটা...
এ কাহিনি তীব্র দুর্গন্ধের...মাংসপচার...
এ কাহিনি সিনথিয়া নামে এক জুনিয়র আর্টিস্টের, যার উচ্ছৃঙ্খল জীবনের ভার আর নিতে পারছিল না তার প্রেমিক...কিংবা এ কাহিনি ফ্ল্যাট নাইন বি'র বৃদ্ধ শফিউল্লার। নাকি এ কাহিনিকে আপনি ফাহিম নামে এক তরুণের প্রতিহিংসার গল্প বলবেন-যে কি না তার বিশ্বাসঘাতিনী প্রেমিকাকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল?
প্রিয় পাঠক, এ কাহিনি কার কিংবা কেমন, তা আপনি নিজেই বিবেচনা করবেন। আধিভৌতিক আবহে রচিত সুস্ময় সুমনের এ উপন্যাস আপনাকে শিউরে ওঠাবে ক্ষণে ক্ষণে, কখনো-বা আপনি হতভম্ব হয়ে ভাববেন, আরে, আমার মেরুদণ্ড বেয়ে এমন বরফজল নেমে যাচ্ছে কেন?
ডার্ক, সাসপেন্স, অদেখা কোনো কিছুর ভয় এসব মিলেই "বিবর ছাড়াও মেহনাজের জীবনে আর একজন আছে" বইটা। এই বছরের বই পড়া শুরুটা হয়েছিল হুমায়ূন আহমেদের "অপেক্ষা" বইটা দিয়ে টানা দুই বসায় পড়ে শেষ করছিলাম। এরপর আবার কোনো বইতেই মন বসেনা ঐভাবে বিশেষ কিছু পড়াও হচ্ছিল না। শনিবার বাংলাবাজার থেকে নিয়ে আসলাম এই বইটা প্রথমদিন ৩৫ পৃষ্ঠা পড়ে ঘুম৷ আজ আবার সারাদিন টানা পড়লাম কোনোরূপ বিরক্তি কাজ করেনি। এর মূল কারণ সুস্ময় সুমনের লেখনশৈলী। উনার লেখা বরাবরই আমার খুবই পছন্দের। আমি যে টাইপের লেখা পড়তে পছন্দ করি তা নিয়েই যেন সুস্ময় সুমন হাজির হয়েছে তাঁর এখন পর্যন্ত লেখা সবচেয়ে বড় পরিসরের বইটি নিয়ে। শেষ করার পরে কেমন লাগলো তা বলতে হলে এক শব্দে বলবো দারুণ। এমন চমৎকার লেখনশৈলী যে কোনো পাঠককে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখবে। যারা লেখকের বই নিয়মিত পড়েন তারা জানেন বইয়ে সাসপেন্স ক্রিয়েট করে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখতে লেখক কতোটা দক্ষ। এই বইয়ের শুরু থেকেই গল্প শুরু অযাথা কোনো লেখা নাই। বেশ কিছু চরিত্র আছে সবাই-ই কোনো না কোনো ভাবে একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত, গল্প যতই আগাবেন আমাদের আশেপাশের মানুষ গুলোকে দেখতে পারবেন এই চরিত্র গুলার মাঝে, সমাজে বসবাসরত সবারই জীবনে কালো অধ্যায় আছে তা লেখক বেশ স্পষ্ট ভাষায় লিখছেন। সবমিলিয়ে বইটা পড়ার সময়টা আমি বেশ উপভোগ করছি।
বইয়ের নাম : বিবর ছাড়াও মেহনাজের জীবনে আর একজন আছে। লেখক : সুস্ময় সুমন জনরা: অতিপ্রাকৃত হরর প্রকাশনা : গ্রন্থ রাজ্য প্রকাশকাল : জানুয়ারি ২০২২ প্রচ্ছদ : সুরঞ্জিত তনু পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২০০ পেজ মূল্য : ৪৩০ টাকা মুদ্রিত মূল্য।
কাহিনী সংক্ষেপ : মেহনাজ আর বিবর এর ছোট্টো সংসার৷ মেহনাজ বিবরকে এবং বিবর মেহনাজ কে অনেক ভালোবাসে। প্রেমের বিয়ে ছিলো। একদিন সকালে বিবর অফিসে যাওয়ার সময় লক্ষ্য করে তার বাসার সিঁড়িতে তাদের পাশের ফ্ল্যাটের পিহুর বিড়াল তুলতুলকে কে জানি নির্মম ভাবে হত্যা করেছে৷ শুধু হত্যা করেই থামেনি, পেটের ভিতরের নাড়িভুরি রক্ত মাংশ হাড় বের করে থেতলে দিয়েছে, আর মাথাটা নেই। মেহনাজ এর সাথে ইদানীং কিছু অপ্রত্যাশিত বিষয় লক্ষ করছে বিবর। ঐদিকে পার্থদা নামের মেহনাজ এর বাল্যবন্ধু স্বপ্ন দেখে কেউ একজন গলা টিপে ধরেছে মেহনাজকে৷ তাকে সর্তক করতে পার্থদা গ্রাম থেকে ঢাকায় আসে কিন্তু তার পরিনতি ভয়ংকর হয়৷ এদিকে মেহনাজকে কেন্দ্র করে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে, তার মানে কি বিবর ছাড়াও মেহনাজ এর জীবনে অন্য কেউ আছে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া : সুস্ময় সুমন দা হরর বই এর জগতে পরিচিত নাম৷ দাদার লেখা নিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। আমি রীতিমতো ভক্ত বনে গিয়েছি৷ তার এবারের বই বিবর পড়লাম । বেশ তো ছোট্ট পরিসরে বেশ দারুণ ভাবে এগিয়েছে গল্প৷ হরর এলিমেন্ট কম থাকলেও হালকা সাসপেন্স ও থ্রিলিং ছিলো। আর দাদার লেখার সেই চিরচেনা বাস্তবতা, বইকে আরো দারুন বানিয়েছে । প্রেম ভালোবাসার পরকীয়া অপরাধ আর অতিপ্রাকৃত মিলে বেশ দারুণ উপভোগ্য ছিলো। তো আমার কাছে ভালো লেগেছে। তার বিগত বইগুলোর মতোই। দাদার কাছে একটা প্রশ্ন আপনার প্রতিটা বইয়ে মাংশ পঁচার গন্ধ টা কমন, আচ্ছা দাদা মাংশ পচার গন্ধঁটা কেমন? মানে মাংশ পঁচার গন্ধের জন্য কিসের মাংশ পঁচাবো? গরু মুরগী নাকি মানুষের?
গ্রন্থ রাজ্য প্রকাশনীর আমার পড়া প্রথম বই প্রডাকশন হিসাবে বেশ ভালো, হলদে ক্রিম কালার পেজ চোখের জন্য ভালো, পেজ বাঁধাই এর মান যথেষ্ট ভালো তবে বাংলাদেশের প্রকাশনীর সেই চিরচেনা রূপ বানান ভুল অহরহ। বেশ কিছু বানান ভুল প্রিন্ট মিস্ট্রেক লক্ষণীয়। তাছাড়া ২০০ পেজ এর বই এর গায়ের মূল্য ৪৩০ টাকা অতিরিক্ত। গায়ের মূল্য দেখেই পাঠক ভাগবে, প্রকাশনীকে এই দিকে নজর দেয়া উচিত ।
তো ছোট্টো পরিসরে অতিপ্রাকৃত গল্প যারা পছন্দ করেব তাদের জন্য বেশ উপভোগ্য হবে আশাকরি। পাঠক অচিরেই ভালোবেসে ফেলবেন মেহনাজকে৷
প্রথম দিকে ভালই ছিল। লেখক ভালই সাসপেন্স সাথে হরর হরর আবহ তৈরি করে রেখেছিল কিন্তু শেষদিকে এসে জমে নি। প্রেডিক্টেবল লেগেছে অনেকটাই।কি হবে আগেই আন্দাজ করে ফেলেছিলাম কিছুটা। অতীত এর কোন ঘটনা যে দায়ি সেটা বই এর অর্ধেক যাওয়ার পরই বুঝে গিয়েছিলাম। বাইরের চাক্যচিক্যময় প্রডাকশন ভাল হলেও সবচেয়ে বাজে লেগেছে বানান ভূল এবং চরিত্র বদলে দেওয়ার বিষয় টা! দুই তিন জায়গায় তো বইয়ের এক চরিত্র "সিনথিয়া " কে "সিলভী" বলে উচ্চারণ করছে!! তারপর বিবর এর জায়গায় পার্থ, পার্থ এর জায়গায় মেহনাজ এরকম বহুবার উলটা পালটা হয়েছে বাক্য লিখার সময়। রীতিমতো বিরক্তিকর লেগেছে এই জিনিসটা।