স্নেহ - মানুষের জীবন থেকে ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে এই একটি আবেগ। গল্পটি পড়া শেষ করে, শুধুমাত্র এই একটা কথা মাথায় বার বার ঘুরপাক খেতে লাগল। জামালপুর, মুঙ্গের - এসব শহর এর কথা শুনলে শরদিন্দু বাবুর কথা মনে পরে যায়। এ এক সাধারণ মেয়ে কুমুদিনী (কুমি) ও তার স্বভাব-আচরণ, সরলতায় মুগ্ধ, তার স্নেহজালে আচ্ছন্ন নীরেন এর গল্প। দুই জন এ শুধু গল্প করতে ভালোবাসে। নীরেন কুমি কে প্রথম দেখে তার পিসিমার বাড়ির প্রতিবেশিনী হিসেবে এবং তৎক্ষণাৎ প্রেমে পরে। তাদের বিয়ের প্রস্তাব এলেও বিয়ে হয় না জাতিবিভেদের ন্যায়। ভাগ্যের এই নিষ্ঠুর পরিহাস কে মেনেই এগিয়ে চলে দুজন যে যার জীবন নিয়ে। ক্রমে, নীরেন বিয়ে করেন বয়লার কর্মীর মেয়ে সুরমা কে, আর কুমুদিনী এক গরিব মুদির দোকানের চাকর কে। তবু মাঠে-ঘটে , ফুলের গন্ধে, শীতল হাওয়ার নেশায় ফিরে ফিরে আসে একসাথে কাটানো দিন গুলির কথা। নীরেন ভাবে হয়তো একমাত্র সেই এত ভালোবেসেছিলো কুমুদিনী কে যে তাকে ভুলতে পারেনি, বুঝলো শেষে এক অরন্ধনের নিমন্ত্রনে যে শুধু দূরত্ব বাড়ালেই মন সরিয়ে দেওয়া যায় না।