What do you think?


সোনালি কাবিন
সোনালী কাবিন আল মাহামুদের সনেট জাতীয় কাব্য যা ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। আল মাহমুদ যে সকল সাহিত্য রচনা করেছেন তার মধ্যে সোনালী কাবিন তাকে বেশি পরিচিতি প্রদান করেছে। এতে মোট ১৪টি সনেট রয়েছে এবং ৪১টি কবিতা রয়েছে।
- GenresPoetry
103 pages, Hardcover
First published December 1, 1966
About the author
Al Mahmud
133 books60 followersMir Abdus Shukur Al Mahmud (best known as Al Mahmud) was a Bangladeshi poet, novelist, and short-story writer. He was considered one of the greatest Bengali poets to have emerged in the 20th century. His work in Bengali poetry is dominated by his frequent use of regional dialects. In the 1950s he was among those Bengali poets who were outspoken in their writing on such subjects as the events of the Bengali Language Movement, nationalism, political and economical repression, and the struggle against the West Pakistani government.
Notable awards: Bangla Academy Award (1968)
Ekushey Padak (1987)
Notable awards: Bangla Academy Award (1968)
Ekushey Padak (1987)
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 38 reviews
February 7, 2021
ভুলভাল সময়েই পড়লাম কিনা কে জানে! তেমন ভালো লাগে নাই। গত বছর এজন্য রেখে দিয়েছিলাম, কাল ভাবলাম শেষ করে রাখি। তোমার হাতে কবিতায় লোকটার সাথে মুন্সী বাড়ির কাউয়ার মতো আচরণ করে তাকে ভাগিয়ে দেয়া হয়েছিল। বইটা শেষ করে মনে হয়েছে ঐ নারী বেশ করেছে! কোনো রকমে শেষ করেছি বইটা।
বুঝলুম না, এমুন লাগলো ক্যান!? ক্যামুন খসখসা!😒
~ ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
বুঝলুম না, এমুন লাগলো ক্যান!? ক্যামুন খসখসা!😒
~ ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
June 25, 2025
আল মাহমুদের 'সোনালি কাবিন' বাংলা কাব্যজগতে স্বর্ণালঙ্কারের মতোই জাজ্বল্যমান। উক্ত কাব্যগ্রন্থে আল মাহমুদের স্বতন্ত্র কাব্যভাষা, উপমা আর কাব্যিক ঢংয়ের শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ পেয়েছে। কবি হিসেবে আল মাহমুদের বিবর্তন বেশ বিতর্কিত। তবে তিনি যে বাংলা সাহিত্যের কবিতার জগতে চিরস্থায়ী আসনটি নিশ্চিন্ত করে ফেলেছেন তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।
' সোনালি কাবিন' এর কবি আর আমার জন্মস্থান একই শহরে। যে তিতাসের রূপালি জলে কবি তাঁর প্রিয়ার রূপ দেখে সোনানি কাবিনের ইন্তেজাম করেছেন আমিও সেই তিতাসের স্বচ্ছ প্রতিফলিত জলে নিজের প্রেয়সীর রূপ আবিষ্কার করেছি। কবির বেড়ে উঠার নানান অনুষঙ্গ 'relate' করতে পেরেছি বলে বিশেষ এক অনুভূতির সন্ধান পেয়েছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু আঞ্চলিক শব্দ আমার খুব পছন্দের, ভেবেছিলাম যদি কখনো লিখি লেখায় সেসব ব্যবহার করে ভিন্নত্বের সৃষ্টি করবো। কিন্তু আল মাহমুদ এই বইতে তা করে ফেলেছেন দেখে কিছুটা হতাশামিশ্রিত আনন্দ পেয়েছি।
' সোনালি কাবিন' এর কবি আর আমার জন্মস্থান একই শহরে। যে তিতাসের রূপালি জলে কবি তাঁর প্রিয়ার রূপ দেখে সোনানি কাবিনের ইন্তেজাম করেছেন আমিও সেই তিতাসের স্বচ্ছ প্রতিফলিত জলে নিজের প্রেয়সীর রূপ আবিষ্কার করেছি। কবির বেড়ে উঠার নানান অনুষঙ্গ 'relate' করতে পেরেছি বলে বিশেষ এক অনুভূতির সন্ধান পেয়েছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু আঞ্চলিক শব্দ আমার খুব পছন্দের, ভেবেছিলাম যদি কখনো লিখি লেখায় সেসব ব্যবহার করে ভিন্নত্বের সৃষ্টি করবো। কিন্তু আল মাহমুদ এই বইতে তা করে ফেলেছেন দেখে কিছুটা হতাশামিশ্রিত আনন্দ পেয়েছি।
November 26, 2022
৪১টি কবিতার মধ্যে অন্তরভেদী অবলোকন, আমি আর আসবো না বলে, উল্টানো চোখ, কবিতা এমন, চোখ যখন অতীতাশ্রয়ী হয়, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা, যার স্মরণে, স্বপ্নের সানুদেশে এই ৮টি কবিতা আমার ভাল্লাগছে। আর ১৪টি সনেটের মধ্যে প্রথম এবং নবম সনেট ভাল্লাগছে।
এই কবিতার বইয়ের অনেক প্রশংসা শুনছিলাম। তবে আমার তেমন ভাল লাগেনি। হয়তো বুঝিনি। চোখ যখন অতীতাশ্রয়ী হয় কবিতায় নদী ভাঙ্গনের ফলে মানুষের অসহায়ত্বের চিত্ররূপ দেখতে পেলাম।
মোটামোটি ভাল; আমার মতে।
এই কবিতার বইয়ের অনেক প্রশংসা শুনছিলাম। তবে আমার তেমন ভাল লাগেনি। হয়তো বুঝিনি। চোখ যখন অতীতাশ্রয়ী হয় কবিতায় নদী ভাঙ্গনের ফলে মানুষের অসহায়ত্বের চিত্ররূপ দেখতে পেলাম।
বিবসন হও যদি দেখতে পাবে আমাকে সরল
পৌরষ আবৃত করে জলপাই পাতাও থাকবেনা,
তুমি যদি খাও তবে আমাকেও দিও সেই ফল
জ্ঞানে ও অজ্ঞানে দোঁহে পরষ্পর হব চিরচেনা
পরাজিত নই নারী, পরাজিত হয়না কবিরা;
দারুণ আহত বটে আর্ত আজ শিরা- উপশিরা।
মোটামোটি ভাল; আমার মতে।
October 3, 2020
কবিতা কেন পড়ি?
গল্প উপন্যাসে থাকে ঘটনার ঘনঘটা; উত্তেজনা কাজ করে, এরপর কী, এরপর কী জানার আগ্রহ । কবিতা কি গল্প বলে? কবিতা গল্পের মত নির্ঝরিণী না বটে, তবে কখনো তা জলপ্রপাতের চেয়েও প্রবল, কখনো সে সমুদ্র, হোক শান্ত কৃষ্ণ সাগর কি ঝঞ্ঝা বিক্ষুদ্ধ আরব সাগর । কখনো জোয়ার ভাটার টানে চিরঞ্জীব নদী । কবিতা সর্বকালীন, সর্বজয়ী ।
আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা কবি । অন্যতম প্রধান কবি বললেও অত্যুক্তি হবে না । সোনালি কাবিন তার শ্রেষ্ঠতম কীর্তি বলে স্বীকৃত । স্বাধীনতার অনতিকাল পরেই প্রকাশিত এই কাব্য সংগ্রহে একই শিরোনামে চৌদ্দটি সনেটের সাথে বেশ কিছু কবিতা রয়েছে ।
অধিকাংশ কবিতায় প্রেম প্রকৃতি আর নারী হয়ে আছে মূল অনুষঙ্গ । দ্রোহের উচ্চারণ কদাচিৎ বরং সংশয় আর পিছুটানে কবি নত হন প্রেমে ।
“কতদূর এগোল মানুষ !
কিন্তু আমি ঘোরলাগা বর্ষণের মাঝে
আজও উবু হয়ে আছি । ক্ষীরের মতন গাঢ় মাটির নরমে
কোমল ধানের চারা রুয়ে দিতে গিয়ে
ভাবলাম, এ মৃত্তিকা প্রিয়তমা কিষাণী আমার ।”
শহুরে জীবন ছেড়ে ফিরতে চান অস্তিত্বের শেকড়ে কিন্তু -
“সোনালি খড়ের স্তূপে বসতে গিয়ে – প্রত্যাগত পুরুষ সে জন
কী মুস্কিল দেখলো যে নগরের নিভাঁজ পোশাক
খামচে ধরছে হাঁটু । উরতের পেশী থেকে সোজা
অতদূর কোমর অবধি
সম্পূর্ণ যুবক যেন বন্দী হয়ে আছে এক নির্মম সেলাইয়ে ।
যা কিনা এখন তাকে স্বজনের সাহচর্যে আর
দেশের মাটির বুকে অনায়াসে
বসতেই দেবে না ।”
সোনালি কাবিন শিরোনামের কবিতাগুলোয় পাই অন্য কবিকে । সংশয়কে ধুয়ে মুছে প্রেয়সীর প্রতি উৎসর্গ করেন নিজেকে। আত্মবিশ্বাসী কবির কণ্ঠে উচ্চারিত হয় -
“সোনার দিনার নেই দেনমোহর চেয়ো না হরিণী
যদি নাও দিতে পারি কাবিনহীন হাত দুটি
আত্মবিক্রয়ের স্বর্ণ কোনকালে সঞ্চয় করিনি
আহত বিক্ষত করে চারদিকে চতুর ভ্রুকুটি।”
কিংবা -
“বৃষ্টির দোহাই বিবি তিলবর্ণ ধানের দোহাই
দোহাই মাছ মাংস দুগ্ধবতী হালাল পশুর
লাঙল জোয়াল কাস্তে বায়ুভরা পালের দোহাই
হৃদয়ের ধর্ম নিয়ে কোন কবি করে না কসুর ।”
পড়াশোনা ও জীবিকার তাগিদে নদী নিয়ে কাজ করি । তাই হঠাৎ চোখ আটকে যায় এই কবিতায় -
“আমার বাপের ছিল অঘুমের অসুখ । সারারাত
ধসনামার শব্দ পোহাতেন । কখনো দেখতাম
সড়কি নিয়ে নদীর দিকে যাচ্ছেন ।
আমি তার পেছন নিলে বলতেন, আয়
কোথায় চর জাগল দেখে আসি ।”
“যেদিন নদী এসে আমাদের বাড়ীটাকে ধরলো
সেদিনের কথা আমার চোখের উপর স্থির হয়ে আছে ।
বাক্স পেটরা থালা ঘটিবাটি নিয়ে আমরা
গাঁয়ের পেছনে বাপের কবরে গিয়ে দাঁড়ালাম ।
জায়গাটা ছিল উঁচু আর নিরাপদ । দেখতে
অনেকটা চরের মতই ।”
কঠিন গল্পগুলো কবিতায় যত সহজে কবিরা বলতে পারেন, গল্প উপন্যাসে কী সেভাবে পারা যায়!
গল্প উপন্যাসে থাকে ঘটনার ঘনঘটা; উত্তেজনা কাজ করে, এরপর কী, এরপর কী জানার আগ্রহ । কবিতা কি গল্প বলে? কবিতা গল্পের মত নির্ঝরিণী না বটে, তবে কখনো তা জলপ্রপাতের চেয়েও প্রবল, কখনো সে সমুদ্র, হোক শান্ত কৃষ্ণ সাগর কি ঝঞ্ঝা বিক্ষুদ্ধ আরব সাগর । কখনো জোয়ার ভাটার টানে চিরঞ্জীব নদী । কবিতা সর্বকালীন, সর্বজয়ী ।
আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা কবি । অন্যতম প্রধান কবি বললেও অত্যুক্তি হবে না । সোনালি কাবিন তার শ্রেষ্ঠতম কীর্তি বলে স্বীকৃত । স্বাধীনতার অনতিকাল পরেই প্রকাশিত এই কাব্য সংগ্রহে একই শিরোনামে চৌদ্দটি সনেটের সাথে বেশ কিছু কবিতা রয়েছে ।
অধিকাংশ কবিতায় প্রেম প্রকৃতি আর নারী হয়ে আছে মূল অনুষঙ্গ । দ্রোহের উচ্চারণ কদাচিৎ বরং সংশয় আর পিছুটানে কবি নত হন প্রেমে ।
“কতদূর এগোল মানুষ !
কিন্তু আমি ঘোরলাগা বর্ষণের মাঝে
আজও উবু হয়ে আছি । ক্ষীরের মতন গাঢ় মাটির নরমে
কোমল ধানের চারা রুয়ে দিতে গিয়ে
ভাবলাম, এ মৃত্তিকা প্রিয়তমা কিষাণী আমার ।”
শহুরে জীবন ছেড়ে ফিরতে চান অস্তিত্বের শেকড়ে কিন্তু -
“সোনালি খড়ের স্তূপে বসতে গিয়ে – প্রত্যাগত পুরুষ সে জন
কী মুস্কিল দেখলো যে নগরের নিভাঁজ পোশাক
খামচে ধরছে হাঁটু । উরতের পেশী থেকে সোজা
অতদূর কোমর অবধি
সম্পূর্ণ যুবক যেন বন্দী হয়ে আছে এক নির্মম সেলাইয়ে ।
যা কিনা এখন তাকে স্বজনের সাহচর্যে আর
দেশের মাটির বুকে অনায়াসে
বসতেই দেবে না ।”
সোনালি কাবিন শিরোনামের কবিতাগুলোয় পাই অন্য কবিকে । সংশয়কে ধুয়ে মুছে প্রেয়সীর প্রতি উৎসর্গ করেন নিজেকে। আত্মবিশ্বাসী কবির কণ্ঠে উচ্চারিত হয় -
“সোনার দিনার নেই দেনমোহর চেয়ো না হরিণী
যদি নাও দিতে পারি কাবিনহীন হাত দুটি
আত্মবিক্রয়ের স্বর্ণ কোনকালে সঞ্চয় করিনি
আহত বিক্ষত করে চারদিকে চতুর ভ্রুকুটি।”
কিংবা -
“বৃষ্টির দোহাই বিবি তিলবর্ণ ধানের দোহাই
দোহাই মাছ মাংস দুগ্ধবতী হালাল পশুর
লাঙল জোয়াল কাস্তে বায়ুভরা পালের দোহাই
হৃদয়ের ধর্ম নিয়ে কোন কবি করে না কসুর ।”
পড়াশোনা ও জীবিকার তাগিদে নদী নিয়ে কাজ করি । তাই হঠাৎ চোখ আটকে যায় এই কবিতায় -
“আমার বাপের ছিল অঘুমের অসুখ । সারারাত
ধসনামার শব্দ পোহাতেন । কখনো দেখতাম
সড়কি নিয়ে নদীর দিকে যাচ্ছেন ।
আমি তার পেছন নিলে বলতেন, আয়
কোথায় চর জাগল দেখে আসি ।”
“যেদিন নদী এসে আমাদের বাড়ীটাকে ধরলো
সেদিনের কথা আমার চোখের উপর স্থির হয়ে আছে ।
বাক্স পেটরা থালা ঘটিবাটি নিয়ে আমরা
গাঁয়ের পেছনে বাপের কবরে গিয়ে দাঁড়ালাম ।
জায়গাটা ছিল উঁচু আর নিরাপদ । দেখতে
অনেকটা চরের মতই ।”
কঠিন গল্পগুলো কবিতায় যত সহজে কবিরা বলতে পারেন, গল্প উপন্যাসে কী সেভাবে পারা যায়!
January 14, 2021
তোমার হাতে...
তোমার হাতে ইচ্ছে করে খাওয়ার
কুরুলিয়ার পুরনো কই ভাজা;
কাউয়ার মতো মুন্সী বাড়ির দাওয়ায়
দেখবো বসে তোমার ঘষা মাজা।
বলবে নাকি, এসেছে কোন গাঁওয়ার?
ভাঙলে পিঠে কালো চুলের ঢেউ
আমার মতো বোঝেনি আর কেউ,
তবু যে হাত নাড়িয়ে দিলে হাওয়ায়
শহরে পথ দেখিয়ে দিলে যাওয়ার।
- পুরো কাব্যগ্রন্থের মধ্যে কেবল এই কাব্যটিই ভালো লেগেছে।
তোমার হাতে ইচ্ছে করে খাওয়ার
কুরুলিয়ার পুরনো কই ভাজা;
কাউয়ার মতো মুন্সী বাড়ির দাওয়ায়
দেখবো বসে তোমার ঘষা মাজা।
বলবে নাকি, এসেছে কোন গাঁওয়ার?
ভাঙলে পিঠে কালো চুলের ঢেউ
আমার মতো বোঝেনি আর কেউ,
তবু যে হাত নাড়িয়ে দিলে হাওয়ায়
শহরে পথ দেখিয়ে দিলে যাওয়ার।
- পুরো কাব্যগ্রন্থের মধ্যে কেবল এই কাব্যটিই ভালো লেগেছে।
July 30, 2023
আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বন্টন,💙
July 13, 2023
কবিতা কি?
❝ কবিতা চরের পাখি, কুড়ানো হাসের ডিম,গন্ধভরা ঘাস
ম্লান মুখ বউটির দড়ি ছেঁড়া হারানো বাছুর
গোপন চিঠির প্যাডে নীল খামে সাজানো অক্ষর
কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।❞
কবিরা কেমন হয়?
- স্তব্ধতার মধ্যে যাদের ঠোঁট নড়ে!
❝ কিন্তু একজন কবিকে কি দেবে তোমরা? যে ভবিষ্যতের দিকে
দাঁড়িয়ে থাকে বিষণ্ণ বদনে? অঙ্গুলি হেলনে যার নিসর্গও
ফেটে যায় নদীর ধারায়।উচ্চারণে কাঁপে মাঠ,
ছত্রভঙ্গ মিছিল,মানুষ,পাক খেয়ে এক হয়ে যায়।❞
কবিতা আর কবিদের পরিচয় তো পাওয়া গেলো, কিন্তু এই কাব্যগ্রন্থের নাম ভূমিকায় রয়েছে যে কাব্য, ভূমিকা ও পর্যালোচনায় মোহাম্মদ আজম সেটিকে “বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ইশতেহার” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে সোনালি কাবিনের মতো উচ্চভিলাষী প্রকল্প বাংলা গীতিকবিতার বিশাল ভুবনে সম্ভবত আর একটিও নেই। আর সেজন্যেই তিনি মূল কবিতায় প্রবেশের আগে প্রায় ৪৫ পৃষ্ঠা জুড়ে ভূমিকা ও ব্যাখ্যার মতন পর্যালোচনা করেছেন। সত্যি বলতে তার সিকিভাগ ও আমার মাথায় ঢুকেনি, সব উপর দিয়ে গেছে। ভাষার গুরুগম্ভীর অবস্থা আর দুরূহ শব্দের আবহে সে পর্যালোচনায় মনযোগ দেয়া ছিল কষ্টকর। কবিদের রূপক আর অলঙ্কারশাস্ত্রের বেড়াজালে এম্নিতেই পাঠকের জীবন যেখানে ওষ্ঠাগত সেখানে ভূমিকায় ফের এমন শব্দের ব্যবহার ঠিক বোধগম্য না।
হ্যাপি রিডিং💙
❝ কবিতা চরের পাখি, কুড়ানো হাসের ডিম,গন্ধভরা ঘাস
ম্লান মুখ বউটির দড়ি ছেঁড়া হারানো বাছুর
গোপন চিঠির প্যাডে নীল খামে সাজানো অক্ষর
কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।❞
কবিরা কেমন হয়?
- স্তব্ধতার মধ্যে যাদের ঠোঁট নড়ে!
❝ কিন্তু একজন কবিকে কি দেবে তোমরা? যে ভবিষ্যতের দিকে
দাঁড়িয়ে থাকে বিষণ্ণ বদনে? অঙ্গুলি হেলনে যার নিসর্গও
ফেটে যায় নদীর ধারায়।উচ্চারণে কাঁপে মাঠ,
ছত্রভঙ্গ মিছিল,মানুষ,পাক খেয়ে এক হয়ে যায়।❞
কবিতা আর কবিদের পরিচয় তো পাওয়া গেলো, কিন্তু এই কাব্যগ্রন্থের নাম ভূমিকায় রয়েছে যে কাব্য, ভূমিকা ও পর্যালোচনায় মোহাম্মদ আজম সেটিকে “বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ইশতেহার” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে সোনালি কাবিনের মতো উচ্চভিলাষী প্রকল্প বাংলা গীতিকবিতার বিশাল ভুবনে সম্ভবত আর একটিও নেই। আর সেজন্যেই তিনি মূল কবিতায় প্রবেশের আগে প্রায় ৪৫ পৃষ্ঠা জুড়ে ভূমিকা ও ব্যাখ্যার মতন পর্যালোচনা করেছেন। সত্যি বলতে তার সিকিভাগ ও আমার মাথায় ঢুকেনি, সব উপর দিয়ে গেছে। ভাষার গুরুগম্ভীর অবস্থা আর দুরূহ শব্দের আবহে সে পর্যালোচনায় মনযোগ দেয়া ছিল কষ্টকর। কবিদের রূপক আর অলঙ্কারশাস্ত্রের বেড়াজালে এম্নিতেই পাঠকের জীবন যেখানে ওষ্ঠাগত সেখানে ভূমিকায় ফের এমন শব্দের ব্যবহার ঠিক বোধগম্য না।
হ্যাপি রিডিং💙
June 29, 2016
বাংলা সাহিত্যর আধুনিক কবিতায় মুসলিম ভাবাদর্শের কবি হিসেবে আল মাহমুদ যথেষ্ট সুপরিচিত। তার সোনালী কাবিন তার কবি জীবনের সমস্ত কাজের মধ্যে অনন্য এবং সম্ভবত তার কবি মুকুটের শ্রেষ্ঠতম পালক। উনি তার সমস্ত লেখা লেখিতেও কখনো নিজের এই সৃষ্টিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। এমনকি এই কাব্যগ্রন্থের অন্যান্য কবিতাদেরও যেন সোনালী কাবিনের পাশে নিতান্তই মৃয়মান মনে হয়! বাংলা ভাষায় দ্রোহ ও প্রেমের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা সোনালী কাবিনে বিভিন্ন ফার্সী, আরব তথা মুসলিম শব্দের স্বতঃস্ফূর্ত ব্যবহার হয়েছে। মাহমুদ তার কবিতার পশমী জায়নামাযের রোঁয়ায় যেমন মুসলিম শব্দের প্রাঞ্জল ব্যবহার করেছেন তার লেখা সেই ভাবাদর্শ সবসময় যে অনুসরণ করেছে তা বলা যায় না। "সতেজ খুনের মতন এঁকে দেব হিঙ্গুলের টিকা" বাক্যটি দিয়ে তিনি যেই সিঁদুর পড়ানোর কথা বলেছেন তা মুসলিম সংস্কৃতির সাথে বেশ সাংঘর্ষিক। কিন্তু এই অপূর্ব মিশেলই হয়ত কবিতাকে করেছে অনন্য সাধারণ।
January 23, 2021
"কবিতা চরের পাখি, কুড়ানো হাঁসের ডিম, গন্ধভরা ঘাস
ম্লান মুখ বউটির দড়ি ছেঁড়া হারানো বাছুর
গোপন চিঠির প্যাডে নীল খামে সাজানো অক্ষর
কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।"
এ চারটি লাইন এত সুন্দর লাগে কেনো?
ম্লান মুখ বউটির দড়ি ছেঁড়া হারানো বাছুর
গোপন চিঠির প্যাডে নীল খামে সাজানো অক্ষর
কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।"
এ চারটি লাইন এত সুন্দর লাগে কেনো?
August 4, 2025
"কবিতা তো কৈশোরের স্মৃতি। সে তো ভেসে ওঠা ম্লান
আমার মায়ের মুখ; নিম ডালে বসে থাকা হলুদ পাখিটি
পাতার আগুন ঘিরে রাতজাগা ভাই-বোন
আব্বার ফিরে আসা, সাইকেলের ঘন্টাধ্বনি–রাবেয়া রাবেয়া–
আমার মায়ের নামে খুলে যাওয়া দক্ষিণের ভেজানো কপাট!
কবিতা তো ফিরে যাওয়া পার হয়ে হাঁটুজল নদী
কুয়াশায়-ঢাকা-পথ, ভোরের আজান কিম্বা নাড়ার দহন
পিঠার পেটের ভাগে ফুলে ওঠা তিলের সৌরভ
মাছের আঁশটে গন্ধ, উঠানে ছড়ানো জাল আর
বাঁশঝাড়ে ঘাসে ঢাকা দাদার কবর।
কবিতা তো ছেচল্লিশে বেড়ে ওঠা অসুখী কিশোর
ইস্কুল পালানো সভা, স্বাধীনতা, মিছিল, নিশান
চতুর্দিকে হতবাক দাঙ্গার আগুনে
নিঃস্ব হয়ে ফিরে আসা অগ্রজের কাতর বর্ণনা।
কবিতা চরের পাখি, কুড়ানো হাঁসের ডিম, গন্ধভরা ঘাস
ম্লান মুখ বউটির দড়ি ছেঁড়া হারানো বাছুর
গোপন চিঠির প্যাডে নীল খামে সাজানো অক্ষর
কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।"
এই কবিতাই আল মাহমুদ কে অমর করতে যথেষ্ট।
জ্ঞানের গভীরতার অভাবে দুই একটা ছাড়া বাকী কবিতা গুলা অতো মনে দাগ কাটতে পারে নাই।
আমার মায়ের মুখ; নিম ডালে বসে থাকা হলুদ পাখিটি
পাতার আগুন ঘিরে রাতজাগা ভাই-বোন
আব্বার ফিরে আসা, সাইকেলের ঘন্টাধ্বনি–রাবেয়া রাবেয়া–
আমার মায়ের নামে খুলে যাওয়া দক্ষিণের ভেজানো কপাট!
কবিতা তো ফিরে যাওয়া পার হয়ে হাঁটুজল নদী
কুয়াশায়-ঢাকা-পথ, ভোরের আজান কিম্বা নাড়ার দহন
পিঠার পেটের ভাগে ফুলে ওঠা তিলের সৌরভ
মাছের আঁশটে গন্ধ, উঠানে ছড়ানো জাল আর
বাঁশঝাড়ে ঘাসে ঢাকা দাদার কবর।
কবিতা তো ছেচল্লিশে বেড়ে ওঠা অসুখী কিশোর
ইস্কুল পালানো সভা, স্বাধীনতা, মিছিল, নিশান
চতুর্দিকে হতবাক দাঙ্গার আগুনে
নিঃস্ব হয়ে ফিরে আসা অগ্রজের কাতর বর্ণনা।
কবিতা চরের পাখি, কুড়ানো হাঁসের ডিম, গন্ধভরা ঘাস
ম্লান মুখ বউটির দড়ি ছেঁড়া হারানো বাছুর
গোপন চিঠির প্যাডে নীল খামে সাজানো অক্ষর
কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।"
এই কবিতাই আল মাহমুদ কে অমর করতে যথেষ্ট।
জ্ঞানের গভীরতার অভাবে দুই একটা ছাড়া বাকী কবিতা গুলা অতো মনে দাগ কাটতে পারে নাই।
December 29, 2024
ত্রি-চরণে স্মরি: সোনালি কাবিন
এই কাবিন বাংলাদেশের কবিতার কাবিন। মানুষের সঙ্গে দেশের কাবিন। সমাজ, সংস্কৃতি, মা, পরিবার, ইচ্ছেরা, ও নিজেই অংশ সে কাবিননামার। আল মাহমুদ কত সুন্দর করে সেই কাবিনে সাক্ষর করে দিয়েছেন পূর্ণতা।
এই কাবিন বাংলাদেশের কবিতার কাবিন। মানুষের সঙ্গে দেশের কাবিন। সমাজ, সংস্কৃতি, মা, পরিবার, ইচ্ছেরা, ও নিজেই অংশ সে কাবিননামার। আল মাহমুদ কত সুন্দর করে সেই কাবিনে সাক্ষর করে দিয়েছেন পূর্ণতা।
May 6, 2021
সোনার দিনার নেই, দেনেমাহর চেয়ো না হরিণী
যদি নাও, দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দু’টি,
আত্মবিক্রয়ের স্বর্ণ কোনোকালে সঞ্চয় করিনি
আহত বিক্ষত করে চারদিকে চতুর ভ্রুকুটি;
ভালোবাসা দাও যদি আমি দেব আমার চুম্বন,
ছলনা জানি না বলে আর কোনো ব্যবসা শিখিনি;
দেহ দিলে দেহ পাবে, দেহের অধিক মূলধন
আমার তো নেই সখী, যেই পণ্যে অলংকার কিনি।
বিবসন হও যদি দেখতে পাবে আমাকে সরল
পৌরুষ আবৃত করে জলপাইয়ের পাতাও থাকবে না;
তুমি যদি খাও তবে আমাকেও দিয়ো সেই ফল
জ্ঞানে ও অজ্ঞানে দোঁহে পরস্পর হব চিরচেনা
পরাজিত নই নারী, পরাজিত হয় না কবিরা;
দারুণ আহত বটে আর্ত আজ শিরা-উপশিরা।
যদি নাও, দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দু’টি,
আত্মবিক্রয়ের স্বর্ণ কোনোকালে সঞ্চয় করিনি
আহত বিক্ষত করে চারদিকে চতুর ভ্রুকুটি;
ভালোবাসা দাও যদি আমি দেব আমার চুম্বন,
ছলনা জানি না বলে আর কোনো ব্যবসা শিখিনি;
দেহ দিলে দেহ পাবে, দেহের অধিক মূলধন
আমার তো নেই সখী, যেই পণ্যে অলংকার কিনি।
বিবসন হও যদি দেখতে পাবে আমাকে সরল
পৌরুষ আবৃত করে জলপাইয়ের পাতাও থাকবে না;
তুমি যদি খাও তবে আমাকেও দিয়ো সেই ফল
জ্ঞানে ও অজ্ঞানে দোঁহে পরস্পর হব চিরচেনা
পরাজিত নই নারী, পরাজিত হয় না কবিরা;
দারুণ আহত বটে আর্ত আজ শিরা-উপশিরা।
April 15, 2022
"সোনার দিনার নেই, দেন-মোহর চেয়ো না হরিণী
যদি নাও, দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দু'টি,
আত্নবিক্রয়ের স্বর্ণ কোনকালে সঞ্চয় করিনি
আহত বিক্ষত করে চারদিকে চতুর ভ্রুকুটি ;"
সম্ভবত আল মাহমুদ এই একটা কাব্যগ্রন্থ লিখলেও আজীবন বাঙ্গালির মনে রয়ে যেতেন।
কী অসাধারণ সব কবিতা! একদম জ্বলজ্বল করছে প্রতিটি বাক্য।
যদি নাও, দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দু'টি,
আত্নবিক্রয়ের স্বর্ণ কোনকালে সঞ্চয় করিনি
আহত বিক্ষত করে চারদিকে চতুর ভ্রুকুটি ;"
সম্ভবত আল মাহমুদ এই একটা কাব্যগ্রন্থ লিখলেও আজীবন বাঙ্গালির মনে রয়ে যেতেন।
কী অসাধারণ সব কবিতা! একদম জ্বলজ্বল করছে প্রতিটি বাক্য।
November 27, 2020
থাক। এই নিয়ে পরে কথা হবে।
August 17, 2021
কয়েকটা কবিতা ভালো না লাগায় একটা স্টার কম৷
July 11, 2023
কেউ বক্তৃতা করলে,
আমি শুনতে পাইনা।
বরং বক্তার জিভের উপর
তার আত্নাকে দেখতে পাই।
কেউ সিজদায় নত হলে,
আমি দেখি একটি কলস ভরা লোভ উবুড় হয়েছে।
আমি শুনতে পাইনা।
বরং বক্তার জিভের উপর
তার আত্নাকে দেখতে পাই।
কেউ সিজদায় নত হলে,
আমি দেখি একটি কলস ভরা লোভ উবুড় হয়েছে।
April 23, 2024
সত্যি বলতে বইটির একটা পিডিএফ পড়া হইছে।
অসাধারণ লেখা।
অসাধারণ লেখা।
Read
August 26, 2017বইয়ের নামঃ সোনালী কাবিন
লেখকঃ আল মাহমুদ
প্রকাশনীঃ নওরোজ সাহিত্য সম্ভার (নসাস)
ধরণঃ কাব্য
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৭২
দামঃ ৭০ টাকা (সপ্তম প্রকাশ)
পঞ্চাশের দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত তৎকালীন ঢাকা কেন্দ্রিক যে কজন কবির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক কবিতার বিপ্লব ঘটে আল মাহমুদ তাদের মধ্যে অন্যতম একজন কবি। এই জীবন্ত কিংবদন্তী কবিকে বাংলা সাহিত্যের ভূমিপুত্র বলা হয়। আল মাহমুদের সোনালী কাবিন নিয়ে কিছু বলতে গেলে মূলত 'সোনালী কাবিন' কবিতার কথাই ঘুরে ফিরে বলতে হয়। আল মাহমুদের সোনালী কাবিন এর আলোচনা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেওয়া যেতে পারে। ৪১টি কবিতা নিয়ে বইটি প্রকাশিত হলেও বইয়ের একটি কবিতা সোনালী কাবিন এর নামানুসারে বইটির নামকরণ করা হয়। প্রকাশের পর অদ্যাবধি বইটি যতটা না আলোচনায় আসে তার চেয়ে বেশি আলোচনায় নাম করে নেয় সোনালী কাবিন কবিতাটি। এই কবিতাটি গ্রন্থভুক্ত হওয়ার অনেকে আগেই বাংলা কাব্য সাহিত্যে আলোড়ন ফেলে দেয়। কবিতাটি ১৮ মাত্রার ১৪টি সনেটের সমন্বয়ে সাজানো। সোনালী কাবিন কেবল আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কবিতাই নয়, এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম একটি প্রধান শ্রেষ্ঠ কবিতা। বস্তুত সোনালী কাবিন কবিতাই আল মাহমুদকে নতুন আঙ্গিকে কবি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে।
সোনালী কাবিন একটি বহুমাত্রিক কবিতা। প্রেম বিপ্লব দ্রোহের স্বপক্ষে তার অনুরাগ একই উষ্ণতায় ব্যক্ত। কাবিনবিহীন দুটি হাত অর্পণ করেও কবি বয়ান করেন তার অমর প্রতিশ্রুতি। গ্রাম্য কিশোরীর লজ্জাবিধূর এবং অসংস্কৃত মনের কাছে হাজির করেন ইতিহাস লোকাচার রাজনীতির এক জটিল উপস্থাপনা। সনেট গুচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার চিত্র উঠে এসেছে। কিন্তু এই কবিতার মূল আকর্ষণ হচ্ছে প্রেমময় কাব্যকলায় সমর্পণের ভাষা। যে কোন কাব্যপ্রেমীর কাছে এর আকর্ষণ শক্তি অনেক। এই টান যে কোন প্রেমিক প্রেমিকার কাছেই মনোরম হওয়ার কথা। কেননা এ টান কারুর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী
যদি নাও, দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দু'টি,
(সোনালি কাবিন-১)
এক সহজ সরল সাদামাটা বিবাহের পয়গাম নিয়ে এসে দাঁড়ান কবি। কখনো কবিকে দ্বিধাহীন কামাতুর হয়ে উচ্চারণ করতে দেখা যায়-
দেহ দিলে দেহ পাবে, দেহের অধিক মূলধন।
(সো.কা-১)
অর্থাৎ কবি রিরংসু, পিপাসু, তৃষ্ণার্ত। তাই আবারো বলেন-
হাত বেয়ে উঠে এসো হে পানোখী, পাটিতে আমার /
(সো.কা-২)
পালক উদাম করে দাও উষ্ণ অঙ্গের আরাম /
সুনীল চাদরে এসো দুই তৃষ্ণা নগ্ন হয়ে বসি/
চরের মাটির মত খোলে দাও শরীরের ভাঁজ /
উগোল মাছের মাংস তৃপ্ত হোক তোমার কাদায়/
দ্রুত ডুবে যাই এসো, ঘূর্ণমান রক্তের ধাঁধাঁয়।
(সো.কা-৩)
সোনালী কাবিন তৎকালীন কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে সবচে দ্রোহী কবিতা, সবচে যৌন কবিতাও বলা যায়। আল মাহমুদ তেমনি এক কবি যিনি অতি সহজে যৌনতা এবং বিপ্লবের মাঝে সমন্বয় ঘটাতে পারেন।
কামনা যৌনতা প্রেম ছাড়াও এই কবিতায় অন্যান্য যেন দিক লক্ষ্য করা যায় আবহমান গ্রাম বাংলার লোকাচার ধর্ম ইতিহাস এবং রাজনীতি। তবে কবির মন্ত্রে শোনা যায় সাম্যের বাণীও। গ্রামজীবনের চিত্র রূপায়িত করতে কবি বলেন-
নদীর চরের প্রতি জল খাওয়া ডাঙ্গার কিষাণ /
ফাটানো বিদ্যুতে আজ চেয়ে দেখো কাঁপছে ঈশান /
ঝড়ের কসম খেয়ে বলো নারী, তুমি কার /
উঠোনে বিন্নীর খই, বিছানায় আতর, অগুরু /
গাঙের ঢেউয়ের মতো বলে কন্যা কবুল, কবুল /
বৃষ্টির দোহাই বিবি, তিলবর্ণ ধানের দোহাই /
লাঙল জোয়াল কাস্তে বায়ু ভরা পালের দোহাই।
পল্লীজীবনের এই সব সহজ পিছিয়ে পড়া চিত্র আঁকলেও জসীম উদদীন থেকে আল মাহমুদ স্বতন্ত্র থাকতে পেরেছিলেন। ৯, ১০, ১১ সনেটে কবি এঁকেছেন বাঙালির গৌরবময় ইতিহাস এবং বর্তমান পঙ্গুত্ব নিষ্প্রাণতার প্রতিচিত্র। ১৩ সনেটে কবির কলমে ফুটে উঠে লোকিক আচার উৎসব বধূবরণের বর্ণনা ইত্যাদি।
আল মাহমুদের সোনালী কাবিনের অন্যতম স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর শব্দ সম্ভার, শব্দ চয়ন, লোকজ শব্দের ব্যবহার। তৎসম-তদ্ভব শব্দের পাশাপাশি কৃষিজীবী মুসলমান সমাজের ঘরোয়া শব্দের ব্যবহারও দেখা যায়। খেলাপ, জবান, নাপাক, রোজগার, তালাক, কসুর, বানু, লানৎ, সবক, কবুল, বিবি, গতর ইত্যাদি শব্দের প্রয়োগ দেখা যায়।
যদিও বইয়ের প্রধান একটি অংশ হলো সোনালী কাবিন কবিতাটি, কিন্তু এটিও স্বীকার না করার কোন উপায় নেই, তার অন্যান্য কবিতাও তার জন্য শ্রেষ্ঠত্ব বয়ে বেড়ায়।
কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।
(কবিতাঃ কবিতা এমন)
অথবা যখন বলেন-
বৈঠকখানা থেকে আব্বা
একবার আমাকে দেখে নিয়ে মুখ নিচু করে পড়তে থাকবেন
ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান....
(কবিতাঃ প্রত্যাবর্তনের লজ্জা)
পরিশেষে আবার বলা যায় আল মাহমুদের সোনালী কাবিন একটি বহুমাত্রিক কবিতা। সোনালি কাবিন বাংলা কবিতার ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা দ্রোহী এবং যৌন কবিতা। অনেকে প্রেম প্রকৃতির বাইরে মার্ক্সবাদের সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন। যে যেভাবেই বিশ্লেষণ করুন না কেন সোনালী কাবিন বাংলা কাব্য ইতিহাসের এক অনন্য সৃষ্টি যা আল মাহমুদকে অমর করে রাখবে।
পাঠক পতিক্রিয়াঃ
আল মাহমুদ বলেন- তরুণরা যখন কবিতা লিখে, তখন সবাই নতুন কিছু আশা করে। আমিও করি। হ্যাঁ, আল মাহমুদের সোনালী কাবিন আমাদের প্রত্যাশার বেশি কিছুই দিয়েছে। এ দিক থেকে কবি সার্থক। সোনালী কাবিন নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলার মতো স্পর্ধা আমার নেই। সনেট কবিতার ভিন্নতর স্বাদ পেতে চাইলে প্রত্যেক কবিতাপ্রেমীর সোনালী কাবিন কবিতাটি অবশ্যই পড়া উচিৎ।
লেখকঃ আল মাহমুদ
প্রকাশনীঃ নওরোজ সাহিত্য সম্ভার (নসাস)
ধরণঃ কাব্য
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৭২
দামঃ ৭০ টাকা (সপ্তম প্রকাশ)
পঞ্চাশের দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত তৎকালীন ঢাকা কেন্দ্রিক যে কজন কবির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক কবিতার বিপ্লব ঘটে আল মাহমুদ তাদের মধ্যে অন্যতম একজন কবি। এই জীবন্ত কিংবদন্তী কবিকে বাংলা সাহিত্যের ভূমিপুত্র বলা হয়। আল মাহমুদের সোনালী কাবিন নিয়ে কিছু বলতে গেলে মূলত 'সোনালী কাবিন' কবিতার কথাই ঘুরে ফিরে বলতে হয়। আল মাহমুদের সোনালী কাবিন এর আলোচনা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেওয়া যেতে পারে। ৪১টি কবিতা নিয়ে বইটি প্রকাশিত হলেও বইয়ের একটি কবিতা সোনালী কাবিন এর নামানুসারে বইটির নামকরণ করা হয়। প্রকাশের পর অদ্যাবধি বইটি যতটা না আলোচনায় আসে তার চেয়ে বেশি আলোচনায় নাম করে নেয় সোনালী কাবিন কবিতাটি। এই কবিতাটি গ্রন্থভুক্ত হওয়ার অনেকে আগেই বাংলা কাব্য সাহিত্যে আলোড়ন ফেলে দেয়। কবিতাটি ১৮ মাত্রার ১৪টি সনেটের সমন্বয়ে সাজানো। সোনালী কাবিন কেবল আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কবিতাই নয়, এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম একটি প্রধান শ্রেষ্ঠ কবিতা। বস্তুত সোনালী কাবিন কবিতাই আল মাহমুদকে নতুন আঙ্গিকে কবি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে।
সোনালী কাবিন একটি বহুমাত্রিক কবিতা। প্রেম বিপ্লব দ্রোহের স্বপক্ষে তার অনুরাগ একই উষ্ণতায় ব্যক্ত। কাবিনবিহীন দুটি হাত অর্পণ করেও কবি বয়ান করেন তার অমর প্রতিশ্রুতি। গ্রাম্য কিশোরীর লজ্জাবিধূর এবং অসংস্কৃত মনের কাছে হাজির করেন ইতিহাস লোকাচার রাজনীতির এক জটিল উপস্থাপনা। সনেট গুচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার চিত্র উঠে এসেছে। কিন্তু এই কবিতার মূল আকর্ষণ হচ্ছে প্রেমময় কাব্যকলায় সমর্পণের ভাষা। যে কোন কাব্যপ্রেমীর কাছে এর আকর্ষণ শক্তি অনেক। এই টান যে কোন প্রেমিক প্রেমিকার কাছেই মনোরম হওয়ার কথা। কেননা এ টান কারুর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী
যদি নাও, দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দু'টি,
(সোনালি কাবিন-১)
এক সহজ সরল সাদামাটা বিবাহের পয়গাম নিয়ে এসে দাঁড়ান কবি। কখনো কবিকে দ্বিধাহীন কামাতুর হয়ে উচ্চারণ করতে দেখা যায়-
দেহ দিলে দেহ পাবে, দেহের অধিক মূলধন।
(সো.কা-১)
অর্থাৎ কবি রিরংসু, পিপাসু, তৃষ্ণার্ত। তাই আবারো বলেন-
হাত বেয়ে উঠে এসো হে পানোখী, পাটিতে আমার /
(সো.কা-২)
পালক উদাম করে দাও উষ্ণ অঙ্গের আরাম /
সুনীল চাদরে এসো দুই তৃষ্ণা নগ্ন হয়ে বসি/
চরের মাটির মত খোলে দাও শরীরের ভাঁজ /
উগোল মাছের মাংস তৃপ্ত হোক তোমার কাদায়/
দ্রুত ডুবে যাই এসো, ঘূর্ণমান রক্তের ধাঁধাঁয়।
(সো.কা-৩)
সোনালী কাবিন তৎকালীন কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে সবচে দ্রোহী কবিতা, সবচে যৌন কবিতাও বলা যায়। আল মাহমুদ তেমনি এক কবি যিনি অতি সহজে যৌনতা এবং বিপ্লবের মাঝে সমন্বয় ঘটাতে পারেন।
কামনা যৌনতা প্রেম ছাড়াও এই কবিতায় অন্যান্য যেন দিক লক্ষ্য করা যায় আবহমান গ্রাম বাংলার লোকাচার ধর্ম ইতিহাস এবং রাজনীতি। তবে কবির মন্ত্রে শোনা যায় সাম্যের বাণীও। গ্রামজীবনের চিত্র রূপায়িত করতে কবি বলেন-
নদীর চরের প্রতি জল খাওয়া ডাঙ্গার কিষাণ /
ফাটানো বিদ্যুতে আজ চেয়ে দেখো কাঁপছে ঈশান /
ঝড়ের কসম খেয়ে বলো নারী, তুমি কার /
উঠোনে বিন্নীর খই, বিছানায় আতর, অগুরু /
গাঙের ঢেউয়ের মতো বলে কন্যা কবুল, কবুল /
বৃষ্টির দোহাই বিবি, তিলবর্ণ ধানের দোহাই /
লাঙল জোয়াল কাস্তে বায়ু ভরা পালের দোহাই।
পল্লীজীবনের এই সব সহজ পিছিয়ে পড়া চিত্র আঁকলেও জসীম উদদীন থেকে আল মাহমুদ স্বতন্ত্র থাকতে পেরেছিলেন। ৯, ১০, ১১ সনেটে কবি এঁকেছেন বাঙালির গৌরবময় ইতিহাস এবং বর্তমান পঙ্গুত্ব নিষ্প্রাণতার প্রতিচিত্র। ১৩ সনেটে কবির কলমে ফুটে উঠে লোকিক আচার উৎসব বধূবরণের বর্ণনা ইত্যাদি।
আল মাহমুদের সোনালী কাবিনের অন্যতম স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর শব্দ সম্ভার, শব্দ চয়ন, লোকজ শব্দের ব্যবহার। তৎসম-তদ্ভব শব্দের পাশাপাশি কৃষিজীবী মুসলমান সমাজের ঘরোয়া শব্দের ব্যবহারও দেখা যায়। খেলাপ, জবান, নাপাক, রোজগার, তালাক, কসুর, বানু, লানৎ, সবক, কবুল, বিবি, গতর ইত্যাদি শব্দের প্রয়োগ দেখা যায়।
যদিও বইয়ের প্রধান একটি অংশ হলো সোনালী কাবিন কবিতাটি, কিন্তু এটিও স্বীকার না করার কোন উপায় নেই, তার অন্যান্য কবিতাও তার জন্য শ্রেষ্ঠত্ব বয়ে বেড়ায়।
কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।
(কবিতাঃ কবিতা এমন)
অথবা যখন বলেন-
বৈঠকখানা থেকে আব্বা
একবার আমাকে দেখে নিয়ে মুখ নিচু করে পড়তে থাকবেন
ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান....
(কবিতাঃ প্রত্যাবর্তনের লজ্জা)
পরিশেষে আবার বলা যায় আল মাহমুদের সোনালী কাবিন একটি বহুমাত্রিক কবিতা। সোনালি কাবিন বাংলা কবিতার ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা দ্রোহী এবং যৌন কবিতা। অনেকে প্রেম প্রকৃতির বাইরে মার্ক্সবাদের সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন। যে যেভাবেই বিশ্লেষণ করুন না কেন সোনালী কাবিন বাংলা কাব্য ইতিহাসের এক অনন্য সৃষ্টি যা আল মাহমুদকে অমর করে রাখবে।
পাঠক পতিক্রিয়াঃ
আল মাহমুদ বলেন- তরুণরা যখন কবিতা লিখে, তখন সবাই নতুন কিছু আশা করে। আমিও করি। হ্যাঁ, আল মাহমুদের সোনালী কাবিন আমাদের প্রত্যাশার বেশি কিছুই দিয়েছে। এ দিক থেকে কবি সার্থক। সোনালী কাবিন নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলার মতো স্পর্ধা আমার নেই। সনেট কবিতার ভিন্নতর স্বাদ পেতে চাইলে প্রত্যেক কবিতাপ্রেমীর সোনালী কাবিন কবিতাটি অবশ্যই পড়া উচিৎ।
April 29, 2021
বেশিরভাগ মানুষ কবিতা নিয়ে ভাবতে সময় ব্যয় করেন না।
যদি না খুব খারাপ বা খুব বেশি ভালো লাগা কাজ করে। হতে পারে তা খারাপ কোন ব্রেকআপ বা প্রথম প্রেম। হঠাৎ করেই সবকিছুরই একটা মানে তৈরি হয়ে যায়। তখন হয়তো প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, "এমনটা কি কেউ আগে অনুভব করেছে? কি হচ্ছে এইগুলো আমার সাথে? "
তখন কবিতা ভালো লাগে। কবিতার লাইনগুলোর সাথে নিজের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তখন মনে হয় কবিতাগুলো জীবনেরই অংশ।
আমি বেশিরভাগ মানুষগুলোর একজন। আমার কবিতা ভালো লাগা শুরু কবিতা আবৃত্তি শুনে। কিছু কিছু মানুষ এতো সুন্দর করে আবৃত্তি করতে পারে!!
কিন্তু কবিতা পড়া শুরু করি আমার ভাইকে দেখে।
সে কবিতার লাইনগুলো এতো সহজ করে বুঝিয়ে দিলো যে কবিতার প্রতি ইন্টারেস্ট বেড়ে গেলো।
এই বইটার কথা বলি। বিষয়বস্তুর দিক থেকে গ্রামের জীবন, বামপন্থী চিন্তাধারা, নারী বিষয়ই মুখ্য।
কিছু কিছু লাইনে কবি জাদু দেখিয়েছেন। যেমনঃ- "কিছুই থাকে না কেন?
চড়ুইয়ের বাসা, প্রেম, লতাপাতা, বইয়ের মলাট
দুমড়ে মুচড়ে খসে পড়ে। "
অথবা দায়ভাগ নামের কবিতার প্রথম ছয়টি লাইন!
এই সম্মোহনে কবিতার পুরো গল্পটা, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার প্রত্যেকটি লাইন! সোনালী কাবিন শিরোনামের সবগুলো কবিতা।
অসাধারণ!
আমার অনেক ভাল্লাগছে।
কবি একবার বলেছিলেন, "কেউ কি আরেকটি সোনালী কাবিন লিখতে পেরেছে?
এই মুহূর্তে এই প্রশ্নের উত্তর দেবার মতো যোগ্যতা আমার নেই। আমার সাহিত্য জ্ঞান অনেক কম তাই আমি বলব আপনি নিজেই পড়ে দেখেন।
যদি না খুব খারাপ বা খুব বেশি ভালো লাগা কাজ করে। হতে পারে তা খারাপ কোন ব্রেকআপ বা প্রথম প্রেম। হঠাৎ করেই সবকিছুরই একটা মানে তৈরি হয়ে যায়। তখন হয়তো প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, "এমনটা কি কেউ আগে অনুভব করেছে? কি হচ্ছে এইগুলো আমার সাথে? "
তখন কবিতা ভালো লাগে। কবিতার লাইনগুলোর সাথে নিজের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তখন মনে হয় কবিতাগুলো জীবনেরই অংশ।
আমি বেশিরভাগ মানুষগুলোর একজন। আমার কবিতা ভালো লাগা শুরু কবিতা আবৃত্তি শুনে। কিছু কিছু মানুষ এতো সুন্দর করে আবৃত্তি করতে পারে!!
কিন্তু কবিতা পড়া শুরু করি আমার ভাইকে দেখে।
সে কবিতার লাইনগুলো এতো সহজ করে বুঝিয়ে দিলো যে কবিতার প্রতি ইন্টারেস্ট বেড়ে গেলো।
এই বইটার কথা বলি। বিষয়বস্তুর দিক থেকে গ্রামের জীবন, বামপন্থী চিন্তাধারা, নারী বিষয়ই মুখ্য।
কিছু কিছু লাইনে কবি জাদু দেখিয়েছেন। যেমনঃ- "কিছুই থাকে না কেন?
চড়ুইয়ের বাসা, প্রেম, লতাপাতা, বইয়ের মলাট
দুমড়ে মুচড়ে খসে পড়ে। "
অথবা দায়ভাগ নামের কবিতার প্রথম ছয়টি লাইন!
এই সম্মোহনে কবিতার পুরো গল্পটা, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার প্রত্যেকটি লাইন! সোনালী কাবিন শিরোনামের সবগুলো কবিতা।
অসাধারণ!
আমার অনেক ভাল্লাগছে।
কবি একবার বলেছিলেন, "কেউ কি আরেকটি সোনালী কাবিন লিখতে পেরেছে?
এই মুহূর্তে এই প্রশ্নের উত্তর দেবার মতো যোগ্যতা আমার নেই। আমার সাহিত্য জ্ঞান অনেক কম তাই আমি বলব আপনি নিজেই পড়ে দেখেন।
March 24, 2015
পুরাটা পড়ার ধৈর্য্যে কুলায় নাই :3
Read
December 24, 2018ভালো লাগে নাই :/
July 12, 2020
নারী, নদী ও সবুজ মুগ্ধ চিরপ্রেমিকের কবিতা।
February 4, 2025
আল মাহমুদের সোনালী কাবিন কাব্যগ্রন্থে তার লেখা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কবিতা একত্রিত করা হয়েছে । সবগুলো কবিতা ভালো না লাগলেও কিছু কিছু কবিতা সত্যিই অসাধারণ । ৬.৩/১০
March 3, 2026
সোনালি কাবিন
আল মাহমুদ
১৯৭৩
__________________
‘সোনালি কাবিন’ সনেট-গুচ্ছে আল মাহমুদ তুলে এনেছেন বাঙলার; দ্রোহ, প্রেম, যৌনতা আর আত্মপরিচয়ের আখ্যানসমূহ। অর্ধ-শতাব্দী পরেও যার আবেদন ম্লান হয়ে আসেনি। আধুনিক বাংলা সাহিত্যে যে কয়টা বড়ো-বড়ো নাম আছে, তন্মধ্যে প্রথম সারিতেই আল মাহমুদের নাম থাকার কথা, তবে অবহেলা আর অবজ্ঞায় তিনি নিভৃতে খুঁজে নিয়েছেন নিজের স্থান। জীবনের চেয়েও বিশাল এক জীবন তিনি পেয়েছিলেন, গদ্য থেকে পদ্য; সব কিছুতেই করেছেন সহজ বিচরণ, স্বাচ্ছন্দ্যেই।
“কবিতা চরের পাখি, কুড়ানো হাঁসের ডিম, গন্ধভরা ঘাস
ম্লান মুখ বউটির দড়ি ছেঁড়া হারানো বাছুর
গোপন চিঠির প্যাডে নীল খামে সাজানো অক্ষর
কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।”
গ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ৪১, চিরচেনা আল মাহমুদিও প্রতিটি কবিতা। এর সাথে আমার ব্যাক্তিগত একটা স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ক্লাসের পর আমাদের ফুচকা খাওয়ার কথা ছিল, কী যেন একটা ছুতোয় আমাদের ঝগড়া হয়ে যায়। আমি ক্লাস শেষে একটা বৈঠকে যোগ দিলাম, সেটা সেরে বের হতে হতে দেখি উনি হাওয়া! ফোন-টোন দিয়ে অবশ্য লাভ হয়নি। আমি মেজাজ সপ্তমে চড়িয়ে হাঁটা দিলাম জেলা গ্রন্থাগারের দিকে; দু-তলায় উঠেই একটার পর একটা শেল্ফ ঘেঁটে চলেছি। হঠাৎ চোখ গেলো “সোনালি কাবিন”-এর দিকে, আল মাহমুদের এই বইটার কথা আগে শুনিনি, উল্টেপাল্টে দেখলাম বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি অনুবাদটাও দেওয়া আছে। ঝপ করে বসে পড়লাম টেবিলে, চোখমুখ কুঁচকে বাংলা এবং ইংরেজি দুইটা ভার্সনই পড়ছিলাম, পড়ার সময় ফুচকা, ঝগড়া, দুপুরের খাবার আর বাড়ি ফেরা; বেমালুম মাথা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। তারপর রবার্ট ফ্রস্টের সেই বিখ্যাত পংক্তিগুলো মনে পড়ে গেল:
“The woods are lovely, dark, and deep
But I have promises to keep,
And miles to go before I sleep,
And miles to go before I sleep.”
দায়িত্ববোধ বলতে, সেসময় বাড়ি ফেরার তাড়নাই মুখ্য লেগেছিল। সেই যে আধ-পড়া বইটা আবার রেখে এসেছিলাম শেল্ফে, আর সেটা পড়া হয়নি, কর্পূরের মতন উবে গেছে মন থেকে। গতকাল রাতে ‘ফতা’ খাওয়ার আগে, আল মাহমুদ পড়ার ‘ক্রেইভিং’ হল, তাই ঝটপট ‘পদফ’টা নামিয়ে নিলাম, বইটা যেহেতু আমার কাছে ছিল না। আজ (৩ মার্চ) সারাদিন বিছানা আর আমার পড়ার টেবিলে গড়াগড়ি দিয়ে শেষ করলাম অতি শীর্ণ এই বইখানা, এখান থেকে আমার বর্তমান পাঠাভ্যাস সম্পর্কে একটা ‘সাটল হিন্ট’ আপনারা পেতে পারেন। অহ আচ্ছা! মনে পড়েছে, আমি তো রিভিউ লিখতে বসেছিলাম, যাক গে কবিতা-টবিতার রিভিউ আমাকে দিয়ে হবে না। এটুকুই বলতে পারি যে, প্রতিটি কবিতার রস সম্পূর্ণরূপে আহরণ করতে পারিনি, তবে যতটুকু পেরেছি তাতে কবির ‘উইটিনেস’ এর প্রেমে পড়ে গেছি, যথাযথ মনোরঞ্জন হয়েছে। এ-মাসে সুযোগ পেলে একবার উনার গদ্য নিয়েও বসতে চাই।
(০৪\০৩\২৬)
আল মাহমুদ
১৯৭৩
__________________
‘সোনালি কাবিন’ সনেট-গুচ্ছে আল মাহমুদ তুলে এনেছেন বাঙলার; দ্রোহ, প্রেম, যৌনতা আর আত্মপরিচয়ের আখ্যানসমূহ। অর্ধ-শতাব্দী পরেও যার আবেদন ম্লান হয়ে আসেনি। আধুনিক বাংলা সাহিত্যে যে কয়টা বড়ো-বড়ো নাম আছে, তন্মধ্যে প্রথম সারিতেই আল মাহমুদের নাম থাকার কথা, তবে অবহেলা আর অবজ্ঞায় তিনি নিভৃতে খুঁজে নিয়েছেন নিজের স্থান। জীবনের চেয়েও বিশাল এক জীবন তিনি পেয়েছিলেন, গদ্য থেকে পদ্য; সব কিছুতেই করেছেন সহজ বিচরণ, স্বাচ্ছন্দ্যেই।
“কবিতা চরের পাখি, কুড়ানো হাঁসের ডিম, গন্ধভরা ঘাস
ম্লান মুখ বউটির দড়ি ছেঁড়া হারানো বাছুর
গোপন চিঠির প্যাডে নীল খামে সাজানো অক্ষর
কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।”
গ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ৪১, চিরচেনা আল মাহমুদিও প্রতিটি কবিতা। এর সাথে আমার ব্যাক্তিগত একটা স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ক্লাসের পর আমাদের ফুচকা খাওয়ার কথা ছিল, কী যেন একটা ছুতোয় আমাদের ঝগড়া হয়ে যায়। আমি ক্লাস শেষে একটা বৈঠকে যোগ দিলাম, সেটা সেরে বের হতে হতে দেখি উনি হাওয়া! ফোন-টোন দিয়ে অবশ্য লাভ হয়নি। আমি মেজাজ সপ্তমে চড়িয়ে হাঁটা দিলাম জেলা গ্রন্থাগারের দিকে; দু-তলায় উঠেই একটার পর একটা শেল্ফ ঘেঁটে চলেছি। হঠাৎ চোখ গেলো “সোনালি কাবিন”-এর দিকে, আল মাহমুদের এই বইটার কথা আগে শুনিনি, উল্টেপাল্টে দেখলাম বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি অনুবাদটাও দেওয়া আছে। ঝপ করে বসে পড়লাম টেবিলে, চোখমুখ কুঁচকে বাংলা এবং ইংরেজি দুইটা ভার্সনই পড়ছিলাম, পড়ার সময় ফুচকা, ঝগড়া, দুপুরের খাবার আর বাড়ি ফেরা; বেমালুম মাথা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। তারপর রবার্ট ফ্রস্টের সেই বিখ্যাত পংক্তিগুলো মনে পড়ে গেল:
“The woods are lovely, dark, and deep
But I have promises to keep,
And miles to go before I sleep,
And miles to go before I sleep.”
দায়িত্ববোধ বলতে, সেসময় বাড়ি ফেরার তাড়নাই মুখ্য লেগেছিল। সেই যে আধ-পড়া বইটা আবার রেখে এসেছিলাম শেল্ফে, আর সেটা পড়া হয়নি, কর্পূরের মতন উবে গেছে মন থেকে। গতকাল রাতে ‘ফতা’ খাওয়ার আগে, আল মাহমুদ পড়ার ‘ক্রেইভিং’ হল, তাই ঝটপট ‘পদফ’টা নামিয়ে নিলাম, বইটা যেহেতু আমার কাছে ছিল না। আজ (৩ মার্চ) সারাদিন বিছানা আর আমার পড়ার টেবিলে গড়াগড়ি দিয়ে শেষ করলাম অতি শীর্ণ এই বইখানা, এখান থেকে আমার বর্তমান পাঠাভ্যাস সম্পর্কে একটা ‘সাটল হিন্ট’ আপনারা পেতে পারেন। অহ আচ্ছা! মনে পড়েছে, আমি তো রিভিউ লিখতে বসেছিলাম, যাক গে কবিতা-টবিতার রিভিউ আমাকে দিয়ে হবে না। এটুকুই বলতে পারি যে, প্রতিটি কবিতার রস সম্পূর্ণরূপে আহরণ করতে পারিনি, তবে যতটুকু পেরেছি তাতে কবির ‘উইটিনেস’ এর প্রেমে পড়ে গেছি, যথাযথ মনোরঞ্জন হয়েছে। এ-মাসে সুযোগ পেলে একবার উনার গদ্য নিয়েও বসতে চাই।
(০৪\০৩\২৬)
June 2, 2026
নসাস এর বই। নতুন প্রিন্ট। এতো বাজে হওয়ার কোনো জাস্টিফেকেশন নাই। প্রথম কয়েক পেইজের পরে - যখন নামের বানান ভুল, অন্যান্য এরকম বেসিক ভুলে ভরা - এতোটা খারাপ ছিলো না - কিন্তু পরে আবার, একটা কবিতার নাম নাই, আর আমি শিওর ওই কবিতার একটা অংশ পরের কবিতার শেষে গিয়ে জোড়া লাগাইসে। এইটা কি মানা যায়? প্রতিটা কবিতাই সন্দেহ নিয়ে পড়া লাগসে। এইটা অতিরিক্ত, অতিরিক্ত খারাপ, বাংলাদেশ। এতোটা হইলে হয় না - একটা ক্লাসিক বই, নতুন করে একটা পুরানো পাবলিশার করলে যদি এই অবস্থা হয়।
ধ্রুব এষ এর বস্তা ভরা গুয়ের প্রচ্ছদও মানা যায় না আর। কেনো এই শুয়রের বাচ্চারই সব বই করা লাগবে? ছাগলের বাচচা দেশ একটা।
কবিতাগুলা ভালো। এক সময় মনে হইতেসিলো একটু ভ্যারিয়েশন কম, কিন্তু পরে অনেক অনেক ভ্যারাইটির কবিতা ওই বোধ কে তাড়াইতে পারসে। চোদন ও ছিলো কবিতায়! সারপ্রাইজিং, চমৎকার!
বেশি ভালো ছিলো একটু আত্মজৈবনিক, গল্পের মতো গুলা। রাজনৈতিক, সমসাময়িক জিনিস গুলা যখন আসে, অনেকটা ওই টাইপেরই একটা সাব-টাইপ হিসাবে, হয়তো, ভালো লাগে।
মুল টাইপটাও খুব ভালো। আসলেই একটা স্পেশাল ট্যালেন্ট। জীবনান্দ টাইপ।
আল মাহমুদের কবিতা তো পড়সি আগেও, এই বইএর অনেক গুলাও। একটা গানও - সানির, ওইটা সুরে পড়তে হইসে, ওইগুলাও ভালো।
সোনার কাবিন - ১৪টা - ১৪ লাইনের কবিতা -অনেক, অনেক ভালো।
ধ্রুব এষ এর বস্তা ভরা গুয়ের প্রচ্ছদও মানা যায় না আর। কেনো এই শুয়রের বাচ্চারই সব বই করা লাগবে? ছাগলের বাচচা দেশ একটা।
কবিতাগুলা ভালো। এক সময় মনে হইতেসিলো একটু ভ্যারিয়েশন কম, কিন্তু পরে অনেক অনেক ভ্যারাইটির কবিতা ওই বোধ কে তাড়াইতে পারসে। চোদন ও ছিলো কবিতায়! সারপ্রাইজিং, চমৎকার!
বেশি ভালো ছিলো একটু আত্মজৈবনিক, গল্পের মতো গুলা। রাজনৈতিক, সমসাময়িক জিনিস গুলা যখন আসে, অনেকটা ওই টাইপেরই একটা সাব-টাইপ হিসাবে, হয়তো, ভালো লাগে।
মুল টাইপটাও খুব ভালো। আসলেই একটা স্পেশাল ট্যালেন্ট। জীবনান্দ টাইপ।
আল মাহমুদের কবিতা তো পড়সি আগেও, এই বইএর অনেক গুলাও। একটা গানও - সানির, ওইটা সুরে পড়তে হইসে, ওইগুলাও ভালো।
সোনার কাবিন - ১৪টা - ১৪ লাইনের কবিতা -অনেক, অনেক ভালো।
May 1, 2021
সোনালী কাবিন! প্রেম, সাম্য ও বিপ্লবের কবিতা।
কবির প্রেম হল ক্ষীরের মত গাড় নরম মাটি, আর- নারী। তাঁর কাছে প্রেম ও বিপ্লব সমার্থক, পরিপূরক। কবির কবিতার প্রতিপাদ্য ইতিহাসচেতনার আলোকে সম্ভাব্য বিপ্লবের আশাবাদ। সোনালী কাবিনে কবি তুলে ধরেছেন বাঙালির গৌরবময় ইতিহাস এবং বর্তমান পঙ্গু নিষ্প্রাণতার প্রতিচিত্র।
কবি কাবিনবিহীন হাত দুটি নিয়ে এসে দাঁড়ালেন এক হরিণীর সামনে। তারপর তাঁর পরশে কবি মেলে ধরলেন নিজেকে।
কবি স্মরণ করলেন পূর্বপুরুষদের, যারা একদা গড়েছিলো পুন্ড্রের নগর, যারা ছিলো পুরীর গৌরব। কিন্তু এরপর এলো মনসার কাল নাগিনী, রাক্ষসী গুল্মের ঢেউ গ্রাস করে নিল সব- হারিয়ে গেল সাম্যের ধ্বনি।
কবি আর্তনাদ করে উঠলেন, আকুতি জানালেন প্রেয়সীর কাছে, বেহুলার মত করে তাঁর প্রবল বাহুতে বেঁধে নিতে, জীবনের স্পর্ধা দেখে যাতে নত হয় যম।
কবি ক্ষুব্ধ কন্ঠে উচ্চারণ করলেন- বাংলাদেশ ছিল জ্ঞানীর আতুড়, কিন্তু আজ পোকায় ধরেছে এ দেশের বিবেককে, মগজ বিকিয়ে দিচ্ছে পন্ডিত সমাজ।
তারপর কবি ডাকলেন যাদের শরীরে শস্যের সুবাস আছে তাঁদেরকে- খাদ্যলোভী খোরাকির শত্রুকে তাড়াতে- বিপ্লবে...
বইয়ের অন্য কবিতাগুলোয় আছে প্রকৃতির কোলে প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্খা, আর স্মৃতিকাতরতা, এবং আরও...
কবির প্রেম হল ক্ষীরের মত গাড় নরম মাটি, আর- নারী। তাঁর কাছে প্রেম ও বিপ্লব সমার্থক, পরিপূরক। কবির কবিতার প্রতিপাদ্য ইতিহাসচেতনার আলোকে সম্ভাব্য বিপ্লবের আশাবাদ। সোনালী কাবিনে কবি তুলে ধরেছেন বাঙালির গৌরবময় ইতিহাস এবং বর্তমান পঙ্গু নিষ্প্রাণতার প্রতিচিত্র।
কবি কাবিনবিহীন হাত দুটি নিয়ে এসে দাঁড়ালেন এক হরিণীর সামনে। তারপর তাঁর পরশে কবি মেলে ধরলেন নিজেকে।
কবি স্মরণ করলেন পূর্বপুরুষদের, যারা একদা গড়েছিলো পুন্ড্রের নগর, যারা ছিলো পুরীর গৌরব। কিন্তু এরপর এলো মনসার কাল নাগিনী, রাক্ষসী গুল্মের ঢেউ গ্রাস করে নিল সব- হারিয়ে গেল সাম্যের ধ্বনি।
কবি আর্তনাদ করে উঠলেন, আকুতি জানালেন প্রেয়সীর কাছে, বেহুলার মত করে তাঁর প্রবল বাহুতে বেঁধে নিতে, জীবনের স্পর্ধা দেখে যাতে নত হয় যম।
কবি ক্ষুব্ধ কন্ঠে উচ্চারণ করলেন- বাংলাদেশ ছিল জ্ঞানীর আতুড়, কিন্তু আজ পোকায় ধরেছে এ দেশের বিবেককে, মগজ বিকিয়ে দিচ্ছে পন্ডিত সমাজ।
তারপর কবি ডাকলেন যাদের শরীরে শস্যের সুবাস আছে তাঁদেরকে- খাদ্যলোভী খোরাকির শত্রুকে তাড়াতে- বিপ্লবে...
বইয়ের অন্য কবিতাগুলোয় আছে প্রকৃতির কোলে প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্খা, আর স্মৃতিকাতরতা, এবং আরও...
November 15, 2025
সোনালি কাবিন পড়তে গেলে চোখে জল আসার রেকর্ড আমার মোটামুটি একশো শতাংশ। কাব্যগ্রন্থের অন্য অনেকগুলো কবিতাও বেশ কাছের। কয়েকটার সঙ্গে তো অনেক ব্যক্তিগত স্মৃতিও জড়িত ('প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' যেমন)। কিন্তু আমার কাছে অবশ্য এই বইটাকে আলাদা করে তুলেছে বইয়ের নামাঙ্করণকারী কবিতাটাই।
দীর্ঘ আট পাতার কবিতা। অবিস্মরণীয় কিছু অংশ সহযোগে। কলেজে পড়তে তার দু চারটে লাইন দেওয়ালেও পড়ে দেখেছি টেখেছি ("আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বন্টন...", ইত্যাদি)। গোটা কবিতাটা একসঙ্গে পড়ার আমেজ অবশ্য আলাদাই। নদীর মধ্যে বালির চর, তার উপরে জ্যোৎস্না মরে আছে, সুদর্শন উড়ে যাচ্ছে বাতাসে, বাঙালির এই কল্পনার নির্মাণ জীবনানন্দ করে যান যদি, তাহলে সেই চরে অন্ধকার জঙ্গলের কোলে যে কুঁড়েঘর, সেই কুঁড়েঘরের ভিতরের জীবনটা যেন আল মাহমুদ "সোনালি কাবিন"-এর মধ্যেই দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।
দীর্ঘ আট পাতার কবিতা। অবিস্মরণীয় কিছু অংশ সহযোগে। কলেজে পড়তে তার দু চারটে লাইন দেওয়ালেও পড়ে দেখেছি টেখেছি ("আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বন্টন...", ইত্যাদি)। গোটা কবিতাটা একসঙ্গে পড়ার আমেজ অবশ্য আলাদাই। নদীর মধ্যে বালির চর, তার উপরে জ্যোৎস্না মরে আছে, সুদর্শন উড়ে যাচ্ছে বাতাসে, বাঙালির এই কল্পনার নির্মাণ জীবনানন্দ করে যান যদি, তাহলে সেই চরে অন্ধকার জঙ্গলের কোলে যে কুঁড়েঘর, সেই কুঁড়েঘরের ভিতরের জীবনটা যেন আল মাহমুদ "সোনালি কাবিন"-এর মধ্যেই দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।
February 13, 2026
" প্রেম কবে নিয়েছিল ধর্ম কিংবা সংঘের শরণ?
মরণের পরে শুধু ফিরে আসে কবরের ঘাস।
যতক্ষণ ধরো এই তাম্রবর্ণ অঙ্গের গড়ন
তারপর কিছু নেই , তারপর হাসে ইতিহাস।"
প্রেম আর জীবনের সুন্দর এক সেতুবন্ধন হিসেবে এই লাইন গুলো খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ । পুরো বইটইতে লাইন গুলো এমনি খুবী সাবলীল ভাবে যেমন কবির মনোভাব ব্যক্ত করেছে , একই সাথে ছুঁয়ে গেছে পাঠকের জীবনবোধকেও বা অনেক ক্ষেত্রে হয়তো প্রভাবিত করেছে দৃষ্টিভঙ্গিকেও। এই বইয়ের কবিতা গুলোর আরেকটা উল্লেখযোগ্য দিক হল অনায়াসে তিক্ত সত্য প্রকাশ করা । যেমনঃ
"পোকায় ধরেছে আজ এ দেশের ললিত বিবেক
মগজ বিকিয়ে দিয়ে পরিতৃপ্ত পণ্ডিত সমাজ"
আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটকে সুন্দর করে ধারণ করার জন্য অত্যন্ত জুতসই একটি লাইন।
সর্বপরি "সোনালী কাবিন" কবির দর্শণ ও পাঠকের চিন্তার এক সুন্দর মিশেলের প্রতিরূপ ।
মরণের পরে শুধু ফিরে আসে কবরের ঘাস।
যতক্ষণ ধরো এই তাম্রবর্ণ অঙ্গের গড়ন
তারপর কিছু নেই , তারপর হাসে ইতিহাস।"
প্রেম আর জীবনের সুন্দর এক সেতুবন্ধন হিসেবে এই লাইন গুলো খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ । পুরো বইটইতে লাইন গুলো এমনি খুবী সাবলীল ভাবে যেমন কবির মনোভাব ব্যক্ত করেছে , একই সাথে ছুঁয়ে গেছে পাঠকের জীবনবোধকেও বা অনেক ক্ষেত্রে হয়তো প্রভাবিত করেছে দৃষ্টিভঙ্গিকেও। এই বইয়ের কবিতা গুলোর আরেকটা উল্লেখযোগ্য দিক হল অনায়াসে তিক্ত সত্য প্রকাশ করা । যেমনঃ
"পোকায় ধরেছে আজ এ দেশের ললিত বিবেক
মগজ বিকিয়ে দিয়ে পরিতৃপ্ত পণ্ডিত সমাজ"
আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটকে সুন্দর করে ধারণ করার জন্য অত্যন্ত জুতসই একটি লাইন।
সর্বপরি "সোনালী কাবিন" কবির দর্শণ ও পাঠকের চিন্তার এক সুন্দর মিশেলের প্রতিরূপ ।
January 27, 2025
লোক লোকান্তর থেকে সোনালী কাবিন বেশি ভালো লাগলো। দুই দিনে আল মাহমুদের দুইটা কাব্যগ্রন্থ হজম করার অভিজ্ঞতা বেশ ভালোই বলা চলে। আল মাহমুদের ভক্ত হয়েও পূর্বে এভাবে তার কোনো কাব্যগ্রন্থ একনাগাড়ে পড়া হয়নি।
ইনশাআল্লাহ সামনে আল মাহমুদকে আরও পড়ার চেষ্টা করব। রানিং দুইটা পলিটিক্যাল বই পড়তেছি আগে সেই দুইটা শেষ করাই প্রধান টার্গেট। সামনে আল মাহমুদের গল্প পড়ার ইচ্ছা আছে।
ইনশাআল্লাহ সামনে আল মাহমুদকে আরও পড়ার চেষ্টা করব। রানিং দুইটা পলিটিক্যাল বই পড়তেছি আগে সেই দুইটা শেষ করাই প্রধান টার্গেট। সামনে আল মাহমুদের গল্প পড়ার ইচ্ছা আছে।
August 31, 2020
A great poem. One of the finest have ever read. Is it a poem of love or cultural history of undivided Bengal? As all masterpieces transcend a singular topic and encompass a huge area of human interactions, so is Sonali Kabin.
Displaying 1 - 30 of 38 reviews





























