নন-ফিকশন কি থ্রিলারের চেয়েও বেশি রুদ্ধশ্বাস এবং মহাকাব্যের চেয়ে বেশি ট্র্যাজিক হতে পারে? পারে— যদি তা আলোচ্য বইটির মতো হয়। এটি রুদ্ধশ্বাস, কারণ তৃতীয় রিপুর দ্বারা তাড়িত মানুষদের কথায় একবার ডুবে গেলে তা শেষ (আপাতত) না হওয়া অবধি সরে আসা যায় না। এটি ট্র্যাজিক, কারণ নিয়তি বা দেবনির্ধারিত পরিণতির বদলে এখানে মানুষেরই হাতে ক্রীড়নক হই আমরা। হ্যাঁ, আমরাই এই বিচিত্র ক্রীড়ায় কন্দুক— যাদের সবটুকু আবেগ বিকিয়ে যায় অর্থ, নারীদেহ, সুরা, খ্যাতি বা ক্ষমতার লোভে ডুবে থাকা অন্য ক'টি মানুষের হাতে। 'ভূমিকা' আর 'প্রকাশকের কথা'-র পর বইটি বিন্যস্ত হয়েছে নিম্নলিখিত ক'টি অধ্যায়ে~ ১) ভূমিকা, টস, পিচ ও অন্যান্য; ২) বাংলাদেশ, বিপিএল ও আসরাফুল (দু'টি ভাগে) ৩) হ্যান্সি ক্রোনিয়ে পর্ব; ৪) পাকিস্তান পর্ব (ন'টি ভাগে); ৫) ক্রিকেট ও ক্রাইম (চারটি ভাগে); ৬) ক্রিকেট জুয়ার খুঁটিনাটি (দু'টি ভাগে— যার দ্বিতীয় পর্বটি ভালোভাবে মগজস্থ করতে পারলে আপনি এ-জীবনে আর ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা আর বাংলাদেশের ক্রিকেট দেখতে পারবেন না, কারণ আপনার চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হবে কীভাবে এই দলগুলোর, এমনকি এ-দেশে হয়ে যাওয়া প্রায় প্রতিটি উল্লেখযোগ্য খেলা ফিক্সড হয় তথা হতে বাধ্য); ৭) ভারত পর্ব (সাতটি ভাগে); ৮) আইপিএল পর্ব (আটটি ভাগে)। বেটিং আর ম্যাচ-ফিক্সিং যে ক্রিকেটে হয়— এটা অস্বীকার করার মতো অপাপবিদ্ধ বা মূর্খ আমি নই। সব্যসাচী সরকারের 'বাইশ গজে অন্ধকার'-এর একেবারে প্রথম পাঠকদের মধ্যে আমিও ছিলাম। তবু বলব, এই বইটির মতো মন-মেজাজ ভার করে দেওয়া কোনো লেখা আমি সম্প্রতি পড়িনি। আমাদের আবেগের সমিধে যে ডি কোম্পানির রাজসূয় যজ্ঞও আয়োজিত হয়ে চলেছে— এটা এর আগে ঠিক এতটা 'চোখে আঙুল দিয়ে' কেউ দেখায়নি তো! হয়তো একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে; আর জীবনে কখনও নীল রঙের জার্সিটাকে তেরঙার সঙ্গে এক করে দেখব না। আবার এও সত্যি যে সরল কিশোরের উন্মত্ত উল্লাসের সহমর্মীও এ-জীবনে হওয়া হবে না। বইটির ছাপা পরিষ্কার ও বানান শুদ্ধ হলেও সূচিপত্র নেই; অধ্যায়ের নামকরণেও কিছু গোলমাল চোখে পড়েছে। তবে সে-সবের জন্য থেমে থাকতে হয় না। বরং একবার পড়তে শুরু করলে ধেয়ে চলতেই হয়। তারই সঙ্গে ক্রমেই তলিয়ে যেতে হয় এক অদ্ভুত আবর্তে— যার বাইরের সোনালি আবরণের আড়ালে আদতে নিঃসীম ক্ষুধা নিয়ে অপেক্ষা করছে তৃতীয় রিপু।
Cricket is a religion in India & the book surely is an eyeopener. But I feel the account would be the red pill which many would not want to take.
As for myself, I had my suspicions long back. Pakistan's abysmal fielding & catching during 2011 WC quarterfinal match, multiple occasions in the 90's when India snatched defeat from the jaws of victory, thereby giving rise to the notion - "Sachin gone, India gone", a number of dicey unpiring decisions by Asad Rauf, Steve Bucknor, the vulgar display of wealth, sleaze, liquor & entertainment during the IPLs...the list goes on.
Thus the book didn't come as an outright shock to me, but still a few events I found unnerving.
Surely you don't expect the highest wickettaker's personal phone number in a bar-dancer-cum-bookie's diary. Surely you feel Aravinda De Silva & Arjuna Ranatunga are not to be purchased by money. Surely you wouldn't dream people like Wasim Akram, Martin Crowe & Dean Jones being involved in anything shady.
But the book wakes you up with a tight slap.
Also, one thing I noticed, "the betting history of Pakistani cricket" deserves a separate 500 page book in itself. Pakistan is probably the only nation where cricketers take up the bat & bowl, with the sole intention of landing themselves in a "bada" bookie's payroll. Playing cricket, winning for the country takes the backseat.
No wonder, India has such a taint-free record against them in WC matches, where in many occassions, Pakistan had the better team.
Anyways, the book is a must-read. It's very well written, just like a thriller & deserves to be a path-breaker in the history of the "gentleman's game".
🏏 এই উপমহাদেশে ক্রিকেট খেলাকে কীভাবে বর্ণনা করা যায়? যেখানে একটি খেলা আবেগের সাথে সম্পর্কিত, ভালোবাসায় পরিপূর্ন; সেই খেলাকে বর্ণনা করার ভাষা খুঁজে পাওয়া খুব একটা সহজ নয় বোধহয়। হ্যাঁ, এই উপমহাদেশের মাটিতে ক্রিকেট খেলাটা এমনই। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান কিংবা শ্রীলংকায় ক্রিকেটের নামে উৎসব হয়। এই উৎসবে এক হয়ে মিশে যায় নানা বর্ণের, নানা ধর্মের মানুষ।
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় কেবল একটি নাম, 'বাংলাদেশ, বাংলাদেশ'। চায়ের কাপে ঝড় ওঠে। তর্কে বিতর্কে আসর জমে। ক্রিকেটকে ছেড়ে থাকা যায় না। বিজয় যেমন আনন্দের আবেশে জড়িয়ে রাখে, পরাজয়ে তেমনই আক্ষেপে মন পোড়ে। দু'চোখের কোণে অশ্রু জমে। জেদের বসে কেউ কেউ বলে, "দেখবোই না খেলা!" তারপরও প্রিয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে আবার খেলা দেখতে বসে যাওয়া। ওই খেলাটাকে যে প্রচুর ভালোবাসা যায়। মতভেদ থাকতে পারে, থাকতে পারে ধর্মের বিভেদ। তবুও সবাই এক জায়গাতেই এক হয়ে যায়। ক্রিকেট আর বাংলাদেশ। ওরা একসাথে হাসে, একসাথে কাঁদে। চিৎকার করেও একসাথে। 'বাংলাদেশ, বাংলাদেশ' নামে মুখরিত হয় চারিপাশ।
ক্রিকেটের এই উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে শহর থেকে গ্রামে। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে আয়েশ করে, কিংবা কড়া সূর্যের উত্তাপে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে খেলা দেখার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সবার ভিন্ন ভিন্ন আত্মা এক হয়ে মিলেমিশে যায়। সবার মনে একটাই আশা, একই আবেগ। কিশোর থেকে তরুণ, তরুণ থেকে বৃদ্ধ; সবার মনে ক্রিকেটের বাইশ গজে যে ভালোবাসার জন্ম নেয়, প্রতিটি জয়ে কিংবা পরাজয়ে যে আনন্দ-বেদনার সাক্ষী হতে হয়; তার মধ্যে কোনো খাদ নেই।
খাদ আছে খোদ ক্রিকেটে। যাদের জন্য ক্রিকেট খেলাটার প্রতি এ ভালোবাসা, যাদের দেখে এই ক্রিকেট প্রেম; তারা কি সত্যিই ক্রিকেট খেলে? না-কি কারো হাতের পুতুল হয়ে ওই বাইশ গজে সেই দৃশ্য-ই মঞ্চস্থ করে, যা তাকে শেখানো হয়? ঠিক যেভাবে পুতুল নাচের গল্প চলে। ক্রিকেটের উজ্জ্বল আলোর পেছনে আছে অন্ধকার। আছে মিথ্যের হাহাকার। চলুন সেই অন্ধকার জগতে প্রবেশ করি। দেখি, ক্রিকেটের সুস্থ দেহে কীভাবে এক তীব্র অসুখ ছড়িয়ে পড়েছে। যেই অসুখের বিস্তৃতি এতটাই বিশাল যে, কোনোভাবেই তা নিরাময় করা সম্ভব নয়। আর এভাবেই ক্রিকেট খেলাটা মরে যাচ্ছে। একটু একটু করে শেষ শ্বাসটুকু হারিয়ে যাচ্ছে।
🏏 তৃতীয় রিপু ও ক্রিকেট :
কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ এবং মাৎসর্য - এই ছয়টি অভ্যাস কিংবা বদভ্যাসকে একত্রে বলা হয় ষড়রিপু। আমাদের জীবনে এই ছয়টি রিপুর প্রভাব অনন্য। এই ছয়টি রিপুর প্রভাবে একজন মানুষ নিজের মূল্যবোধ, নৈতিকতা হারিয়ে অমানুষে পরিণত হতে পারে। তাইতো আমাদের গল্পে তৃতীয় রিপুর (লোভ) প্রভাব অবিশ্বাস্য। যেখানে ভালোবাসাকেও টাকার দাড়িপাল্লা মাপা হয়!
বলা হয়, "লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।" লোভ করলে পাপ হয়, আর সে পাপে মৃত্যু অনিবার্য। আসলেই কি তাই? আরেকটি প্রবাদ দেখা যাক, "চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা, যদি না পড়ো ধরা।" ব্যাপারটা সাংঘর্ষিক হয়ে গেল না? লোভে পড়ে মানুষ চুরি করে। পাপ হয়। কিন্তু মৃত্যু হচ্ছে কোথায়? যতক্ষণ না ধরা না পড়া হয়, দিব্যি ভালো থাকা যায়। চোখের আড়ালে থেকে নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে হারিয়ে দেওয়া যায় ক্রিকেট নামের ভালোবাসার খেলাকে।
সেই জন্য ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত হাজার ঘটনার মধ্যে সামান্য কিছু ঘটনা আমাদের সামনে আসে। আমরাও মেনে নেই, এমন বিচ্ছিন্ন ঘটনা কেবল ক্রিকেটকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা। অথচ অনেকেই দাবি করেন, ক্রিকেটের সবগুলো খেলাতেই গড়াপেটা সম্ভব। কে জানে, হয়ত সবগুলো খেলাতেই গড়াপেটা হয়! আমাদের জানার এখতিয়ার যে সবখানে নেই।
🏏 যাত্রা হোক ক্রিকেটের অন্ধকারে :
ধরুন আপনি খেলা দেখছেন। টানটান উত্তেজনা চলছে। দুই পক্ষ সমানে সমানে লড়াই করছে। কে জিতবে বলা যাচ্ছে না। ব্যাটিং দলের পক্ষে জেতা খুব সম্ভব। আবার বোলিং দল এক দুইটি ভালো বল খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। পেন্ডুলামের মতো দুলছে খেলার ভাগ্য। তারচেয়েও দ্রুততর হচ্ছে হৃদযন্ত্রের ওঠানামা। এমন পরিস্থিতিতে হুট করে বোলারের অসাধারণ বোলিং, ব্যাটার ভুল করে আউট! কিংবা কোনো অদ্ভুত কারণে রান আউটে কাটা পড়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। কী মনে হবে তখন? চাপ নিতে না পেরে এমন ভুল? না-কি আগে থেকেই এমন দৃশ্য মঞ্চস্থ হওয়া নির্ধারিত হয়ে আছে? যদি তাই হয়, তাহলে কী আর ক্রিকেটে বিশ্বাস থাকে? যেই বিশ্বাস, আবেগ দিয়ে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা; তার ভিত নড়বড়ে হয়ে যায় অচিরেই। যেন কোনো এক মৃদু ভূমিকম্পেও তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে আবেগ দিয়ে তৈরি ক্রিকেটের অট্টালিকা।
ক্রিকেটে এই ফিক্সিং শুরু হয় কবে থেকে? ক্রিকেটের সূচনালগ্ন থেকেই ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ায় বৈধ বেটিং পদ্ধতি চালু আছে। কিন্তু এই খেলাটা যখন উপমহাদেশে রাজত্ব করতে এলো, তখনই ঘটল বিপত্তি। দূরদর্শনের যুগ শুরু হওয়ার সাথে সাথে বেটিং যেন নতুন মাত্রা পেল। ছড়ানো শুরু হলো কালো টাকা। আর যেখানে কালো টাকার ছড়াছড়ি, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায় অপরাধের মাত্রা। কেতাবি ভাষায় যার নাম ম্যাচ ফিক্সিং। বাংলায় বলি, ম্যাচ গড়াপেটা বা ম্যাচ পাতানো।
বাংলাদেশে ম্যাচ গড়াপেটার প্রথম কেচ্ছা সামনে আসে মোহাম্মদ আশরাফুলকে দিয়ে। এর আগে যদিও মাশরাফি প্রস্তাব পেয়েছিলেন, তিনি দক্ষ হাতেই তা সামাল দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু আশরাফুল পারেননি। লোভে পড়েছিলেন। সাথে অনেকেই সাথী হয়েছিলেন। যাঁর বা যাঁদের নাম ছিল, তাঁদের কেউ মুখে স্বীকার করেননি অপরাধের কথা। আশরাফুল স্বীকার করেছিলেন। এর শাস্তিও পেয়েছিলেন। এছাড়া সাকিব আল হাসানের গল্প তো এখনো পুরনো হয়নি। সাকিবের দোষ কেবল ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েও আইসিসি বা বিসিবিকে না জানানো। কেন জানাননি? সেটা জানা যাবে না কোনোদিন। এর পেছনের গল্প সাকিবের মুখ বন্ধের সাথে সাথে হারিয়ে গেছে।
ক্রিকেট ফিক্সিংয়ে সবচেয়ে বড়ো ধাক্কাটা বোধহয় খেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বর্ণবাদের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৯২ সালে যখন আবার ক্রিকেটে ফিরল, সেদিন দলটির হয়ে অভিষেক হয়েছিল হ্যান্সি ক্রোনিয়ে নামের এক তরুণের। এত বছর পরও হ্যান্সি ক্রোনিয়েকে দেশটির সেরা অধিনায়ক ভাবা হয়। এমন একজন পথ ভুল করে হারিয়েছেন অন্ধকারে। ক্রিকেটের মতো খেলাকে অপবিত্র করেছেন। তার ফল হাতেনাতে পেয়েছেনও। কয়েকশ ফুট উঁচু থেকে যখন কার্গো বিমানটা মাটিতে পড়ছিল, কী ভাবছিলেন হ্যান্সি? নিজের কৃতকর্মের জন্য আক্ষেপ করছিলেন, না বেঁচে থাকার শেষ আকুতি ফুটে উঠেছিল চোখে মুখে। জানা যাবে না আর। আঁধার জগতের নিষ্ঠুর রাজনীতির বলি হয়ে হ্যান্সি হারিয়ে গিয়েছেন, হারিয়ে গিয়েছেন সম্ভাবনাময় এক ক্রিকেটার।
ক্রিকেটের ফিক্সিংয়ের আঁতুড়ঘর কাকে বলা যেতে পারে? স্বভাবতই পাকিস্তানের নামটা সবার আগে আসে। ক্রিকেট পাড়ায় প্রচলিত আছে, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের খুব সহজেই কেনা যায়। এবং এই কথা যে সত্য, তার অনেক প্রমাণ নানা সময়ে দেখা গিয়েছে। এক দশক আগেই আসিফ-আমির নো বল কান্ড তো পুরো বিশ্ব তোলপাড় করে ফেলেছিল। আর এতে আমরা আমিরের মতো একজন সম্ভাবনাময় তরুণকে হারিয়ে ফেলেছি। এছাড়াও পাকিস্তান ক্রিকেটের কেলেঙ্কারি তো শেষ হবার নয়! "তৃতীয় রিপু" বইটি পড়তে গিয়ে এমন কিছু নাম দেখেছি, যাদের দেখে আমাদের নব্বই দশকের প্রজন্মের ক্রিকেট প্রেম শুরু হয়েছিল। অথচ তাঁরাই ক্রিকেটকে বিক্রি করে দিলো! ক্রিকেটে ফিক্সিং করা যায়- জুয়ার দুনিয়ায় এই বিশ্বাস যে পাকিস্তানিদের হাত ধরেই জন্ম নিয়েছিল।
এবার আসি ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশটির কথায়। ভারতে ক্রিকেট খেলাটা ধর্মের মতো। আর খেলোয়াড়রা যেন তাদের দেবতা! সেই দেশেও ক্রিকেট ধর্মকে পায়ে পিষে মেরে ফেলার চেষ্টা চলেছে। টাকার গন্ধ পেয়ে ক্রিকেটাররা পাকিস্তানীদের পথে হাঁটা ধরেছিলেন। যার সূত্রপাত মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে দিয়ে। এছাড়াও ছিলেন অজয় জাদেজা, নভোজিত সিং সিধু প্রমুখ। একজন জুয়াড়ি তো আজহারউদ্দিনকে "ভয়ংকর অপরাধী মানসিকতার মানুষ" বলেও আখ্যায়িত করেছে। এছাড়াও এমন কিছু খেলোয়াড়ের নাম উঠে এসেছে, যা ঠিক বিশ্বাস করার মতো না। তৃতীয় রিপু বইয়ের লেখকের একটা আক্ষেপ ব্যক্ত করেছেন। ক্রিকেট খেলাটিকে বিক্রি করে দেওয়া, দেশের সাথে বেইমানি করা মানুষগুলো যখন গুরুত্বপূর্ন অবস্থানে যায়, ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করে; তখন লেখকের সাথে আমারও আক্ষেপ হয় বৈকি।
লেখকের সাথে আমিও একটা বিষয়ে একমত। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বিশ ওভারের খেলা ঠিক পছন্দ হয় না। নিজের দেশ খেলে তাই দেখতে হয়। কিন্তু মন ভরে না। ক্রিকেটকে নষ্ট করে দেওয়ার মূল এই বিশ ওভারের মহাযজ্ঞ। আর সেই মহাযজ্ঞে ক্যান্সারের মতো আবির্ভাব হয়েছে আইপিএল নামক এক অসুখের। চারিদিকে আলোর রোশনাই, টাকার উড়াউড়িতে ক্রিকেট বিশ্বে আইপিএলের পথচলা ক্রিকেটের মৃত্যু যেন আরও একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে টাকা-ই সব, সেখানে অনিয়ম, অপরাধ যে দানা বাঁধবে তা তো আর বলে দিতে হয় না। এই আইপিএলের অনিয়ম, দুই দলের নিষেধাজ্ঞা, ক্রিকেটারদের গ্রেফতার হওয়া, জুয়ার দুনিয়ায় ভারতীয় পুলিশের আঘাত বারবার আইপিএলের কঙ্কালটিকেই তুলে এনেছে। তবুও খেলোয়াড়রা আইপিএল-এ মজে থাকে। টাকার হাতছানি তো দূরে ঠেলা যায় না। আর হাতছানিতে আরও অনেকেই ছুটে আসে। শুরু হয় ক্রিকেটের সাথে অক্রিকেটীয় এক যুদ্ধ। যেখানে বারবার ক্রিকেট হারে, হারিয়ে যায় অন্ধকারে।
যেখানে টাকার ছড়াছড়ি, সেখানে মাফিয়া জগতের আনাগোনা থাকবে স্বাভাবিকভাবেই। আর মাফিয়ে জগৎ মানেই অপরাধের নিত্যনতুন পন্থা। যা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েন দুবাইয়ের ডন দাউদ ইব্রাহিম। আর সেখানে চলে ক্ষমতার প্রদর্শন, অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়া! ক্রিকেটের এই অসুখ নিরাময়ের চেষ্টা চললেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির জোরে সেই চেষ্টা বিফলে গিয়েছে অসংখ্যবার। ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের রাজনীতির এ মারপ্যাঁচ বোঝার সাধ্য তো সাধারণ মানুষের নেই।
🏏 পাঠ প্রতিক্রিয়া :
"তৃতীয় রিপু" বইটি পড়ে প্রথম যে অনুভূতি হয়েছিল, আমার মতো মানুষের এ বইটি পড়া উচিত হয়নি। আমি কেন, কোনো ক্রিকেট পাগল মানুষের এই বইটি পড়া উচিত নয়। আরেকদিক দিয়ে ভাবলে ক্রিকেটের এই অন্ধকার দিক জানাটাও জরুরি। লেখক সোমনাথ সেনগুপ্ত খুব সুন্দর করে সব তুলে ধরেছেন। প্রতি দেশের ম্যাচ গড়াপেটা ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়ে বেশ সুন্দরভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন। ফিক্সিং ঘটনা যেহেতু উপমহাদেশের উপজীব্য, তাই লেখকের লেখায় উপমহাদেশের ঘটনাই বেশি এসেছে।
এছাড়াও লেখক বেটিং পদ্ধতি, কীভাবে ক্রিকেট নিয়ে জুয়া খেলা হয়; খুঁটিনাটি সব তুলে ধরেছেন। অতুল কুমার নামের একজনের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক দাবি করেছেন, ক্রিকেটের সব খেলাতেই ফিক্সিং করা সম্ভব। এর পেছনে গাণিতিক ব্যাখ্যাও দেওয়া আছে। যাঁরা গণিতে পড়েননি, তাঁদের এই বিষয় বুঝতে অসুবিধা হতে পারে। গাণিতিক ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে বাকিটুকু পড়ার অনুরোধ রইলো। যাঁরা বুঝতে পারবেন না, বারবার পড়বেন। আশাকরি বুঝতে অসুবিধা হবে না।
লেখক বইয়ের বেশ কিছু অংশে যৌক্তিকভাবে কিছু প্রশ্ন রেখে গিয়েছেন। সাক্ষ্য প্রমাণ থাকার পরও অনেক অভিযুক্তকে দোষী হিসেবে সাব্যস্ত করা যায়নি। নানান অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘায়িত হয়নি তদন্ত। হয়ত অনেক কিছুই বেরিয়ে আসতে পারত। ক্ষমতার শীর্ষে থাকা মানুষগুলো তা চায়নি। লেখক এখান��� পাঠকের জন্য ভাবনার দুয়ার খুলে রেখেছেন। পাঠক নিজেই ভেবে বের করতে থাকুক, পরবর্তীতে কী ঘটেছে। যেখানে অভিযোগ থাকার পরও অপরাধী চিহ্নিত করা যায়নি, সেখানে কারও বিরুদ্ধে আঙ্গুল তোলা যায় না। লেখক সে কাজটি করেননি। পাঠক নিজেরাই সনাক্ত করুক ক্রিকেটকে বিক্রি করে দেওয়া সেইসব মানুষগুলোকে।
"তৃতীয় রিপু" বইটি পড়ে খুব কষ্ট লেগেছে। যে সকল খেলোয়াড়দের নাম লেখক তুলে ধরেছেন, তাঁদের দেখেই আমাদের অনেকের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার সূচনা। এখনো অনেকে তাঁদের আইডল মনে করে। তরুণ অনেক ক্রিকেটারই তাঁদের মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখে। বইটি পড়ে তাঁরা কী শিক্ষা পাবে জানি না, আমার শিক্ষাটা খুব একটা সুখকর ছিল না।
🏏 কিছু অসঙ্গতি :
বইটির কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরা জরুরি। সেগুলো যেন বিরিয়ানির মধ্যে এলাচি হয়ে বইটির গুণগত মান কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
• বইয়ের বাংলাদেশ অংশে মাশরাফি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করেছেন লেখক। লেখকের অভিযোগ মাশরাফি ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও কেন বিসিবিকে আগে জানাননি? সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার বিসিবি জানতে পেরেছিল। তবে কী সংবাদপত্রে প্রকাশ না হলে মাশরাফি বিসিবিকে জানতেন না?
এই অভিযোগ নিতান্তই অমূলক। মাশরাফি সে সময় বিপিএলে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের অধিনায়ক ছিলেন। ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি তাঁর দলের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরপর সাংবাদিকদের জানান, যেন দেশবাসী জানতে পারে। কেননা নিয়ম অনুযায়ী এ রকম কোনো প্রস্তাব পেলে হয় বিপিএল কর্তৃপক্ষ, না হলে নিজ দল কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করতে হয়।
তিনি নিজে বলেছিলেন, ঢাকা গ্লাডিয়েটরস ম্যানেজমেন্টের একাধিক কর্মকর্তাকে তিনি ব্যাপারটা জানিয়েছিলেন। দলটির মিডিয়া ম্যানেজার ক্রিকইনফোকে নিশ্চিত করেছিলেন যে, তারা মাশরাফির কাছ থেকে রিপোর্ট পেয়ে বিপিএল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন। সেখান থেকে পরবর্তীতে বিসিবি জানতে পারে।
• বইয়ের শুরুর দিকে লেখক কিছু জায়গায় গত সপ্তাহে, গত মাসে এমন শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। এখানে তারিখ না সাল উল্লেখ করলে বুঝতে সুবিধা হতো।
• বইয়ের বিভিন্ন অংশে লেখক কিছু ভিডিও লিংক সংযুক্ত করে দিয়েছেন। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, একটা বই থেকে সে লিংকের মাধ্যমে ভিডিও কীভাবে দেখব? এমন উপায় যে আমার জানা নেই। কেউ জেনে থাকলে জানাতে পারেন।
• লেখক তাঁর অনুসন্ধানের খাতিরে বেশ কিছু উদ্ধৃতি হুবহু ইংরেজিতে তুলে ধরেছেন। কিছু জায়গায় বাংলা বা ইংরেজি অক্ষরে হিন্দি লিখেছেন। এই বইটি হয়ত এমন মানুষের হাতে যাবে, যারা ইংরেজি খুব ভালো বোঝেন। কিন্তু এমন মানুষও তো থাকতে পারে, ইংরেজিতে কিঞ্চিৎ দুর্বল। আবার যেহেতু বাংলাদেশে বই প্রকাশ পেয়েছে, সবাই হিন্দি বুঝবে এমনও কথা নেই। তাই ইংরেজি বা হিন্দিগুলো বাংলায় অনুবাদ হলে ভালো লাগত। কিছু জায়গায় লেখক অনুবাদ করেছেন। সব জায়গায় কেন নয়?
• এই অভিযোগ গুরুতর হতে পরে। একটি জায়গায় লেখক ইনজামাম উল হকের মতো মুসলিম, ধার্মিক একজন ক্রিকেটারের বয়ানে "ভগবান" শব্দটি বসিয়ে দিয়েছিলেন। ব্যাপারটি ভালো লাগেনি। শব্দচয়ন আরও ভালো হতে পারত। ধর্মীয় দিক খুব স্পর্শকাতর। তাই এসকল বিষয়ে দুই বাংলার লেখকদের সচেতন থাকা ভীষণ প্রয়োজন।
🏏 বানান, প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন :
বানানের ব্যাপারে বিশেষ কিছু বলছি না। দুই বাংলার বানানে কিছু পার্থক্য থাকে বলেই ভিন্ন বানান গুলো মেনে নিলাম। কিছু মুদ্রণ প্রমাদ লক্ষ্য করেছি। সম্পাদনাজনিত ভুল ছিল কিছু জায়গায়। দুই বাংলার ভাষাগত ভিন্নতার কারণে তাও আমলে নিলাম না। প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। তবে আমার কাছে ভারতীয় সংস্করণের প্রচ্ছদ বিশেষ ভালো লেগেছিল। ঈহা প্রকাশের প্রোডাকশন কোয়ালিটি বরাবর ভালো। এই বইয়েও তার ব্যতিক্রম নয়।
🏏 আমার আক্ষেপ ;
ক্রিকেট নিয়ে আমার আক্ষেপ বেশ পুরনো। ক্রিকেটের বিশ্বায়ন হতে না পারা বেশ পীড়া দেয়। তবে এখন মনে হয়, ক্রিকেটের বিশ্বায়নের আসলে কোনো প্রয়োজন নেই। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো যদি ক্রিকেটের আশ্রয়ে চলে আসে তবে ক্রিকেটের যতটুকু অবশিষ্ট আছে, তারও কিছু থাকবে না। ক্রিকেট খেলাটিকে শেষ করতে জুয়ার দুনিয়া আরও বড়ো হবে। একজন ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে তা কখনো চাইতে পারি কি?
🏏 পরিশেষে, আমি বিশ্বাস করি ক্রিকেট এখনো বেঁচে আছে। ক্রিকেট বেঁচে থাকবে যুগের পর যুগ। আমি বিশ্বাস করি আমাদের ৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানো কোনো নাটকের দৃশ্যপট না। আমি বিশ্বাস করি করুনারাত্নে, স্টোকস, মিলাররা যেসব ম্যাচ একা হাতে জিতিয়েছেন, সেগুলো তাদের যোগ্যতা ছিল। কোনো অদৃশ্য সুতোর টানে নয়। আমি বিশ্বাস করি শেষ ওভারের লড়াইয়ে এখনো সবাই জীবন দিয়ে জিততে চায়। হারার জন্য কেউ খেলে না। আমি বিশ্বাস করতে চাই, ক্রিকেটে এখনো স্বচ্ছতা আছে। ক্রিকেট আবার ফিরবে। অন্ধকার ঠেলে আলোর পথে আসবে। আমাদের আবেগের মর্যাদা দিয়ে সমস্ত অপশক্তিকে হারিয়ে দিয়ে জিতে যাবে। আমি বিশ্বাস করতে চাই, বিশ্বাস করতে চাই!
বই : তৃতীয় রিপু (ক্রিকেটীয় কিন্তু ক্রিকেট নয়) লেখক : সোমনাথ সেনগুপ্ত প্রচ্ছদ : জাওয়াদ উল আলম প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি, ২০২২ প্রকাশনী : ঈহা প্রকাশ পৃষ্ঠা : ২৮৮ মুদ্রিত মূল্য : ৪৫০৳ ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৫/৫
কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য - এই ছয়টি রিপুকে বলা হয় ❝ষড়রিপু❞। এইগুলোকে সবসময় নিজের বশে রাখতে হয়। না হয় পরিণতি সুখকর হয় খুব কম ক্ষেত্রেই। ᴛᴏ ᴍᴇ, ᴄƦꞮᴄᴋᴇᴛ Ɪꜱ ᴀ ꜱꞮᴍᴘʟᴇ ɢᴀᴍᴇ. ᴋᴇᴇᴘ Ɪᴛ ꜱꞮᴍᴘʟᴇ ᴀɴᴅ ᴊᴜꜱᴛ ɢᴏ ᴏᴜᴛ ᴀɴᴅ ᴘʟᴀʏ. -- 𝗦𝗵𝗮𝗻𝗲 𝗪𝗮𝗿𝗻𝗲 ক্রিকেট একটা সাধারণ খেলা হতে পারে, কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে আবেগ উপমহাদেশের মানুষের কাছে সাধারণ না। অনন্য ভালোবাসার জায়গা হলো ক্রিকেট। ভারতে তো ক্রিকেট একটা ধর্ম আর খেলোয়াড়রা সে ধর্মের দেবতা প্রতিম। জেন্টেলম্যানের এই খেলার উৎপত্তি ইংল্যান্ডে হলেও বিশ্বজুড়ে এর খ্যাতি রয়েছে। ক্রিকেট আমাদের ভালোবাসা, আমাদের আবেগ। আজকে কোন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে মানে সব কাজ বন্ধ। কলেজ থাকলে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার তাগিদ, অফিস থেকে সটান বাসায় এসে টিভি সেটের সামনে বসে ব্যাট বলের এই মহারোহ দেখার উৎসব। তথ্য প্রযুক্তির এই দিনে তো মুঠোফোনেই খেলা দেখা একদম ইজিপিজি ব্যাপার। নিজের দেশের খেলোয়াড়কে টাইগার বা সিংহ উপাধি দিয়ে দিই আমরা। প্রিয় দলের ম্যাচে গলা ফাঁটিয়ে সমর্থন দিই। গালে পতাকা এঁকে বা মাথায় পতাকা পেঁচিয়ে যাই প্রিয় দলের খেলাটা নিজ চক্ষে দেখতে। আহ! কি দারুণ এক ভালোবাসা ঘিরে থাকে এই ক্রিকেটকে ঘিরে। প্রিয় দল জিতে গেলে তাদের জন্য শুভকামনা আর খুশীতে ভেসে যাই। তেমনি হেরে গেলে রাগ ঝারি বলি, ❛ধুর, দেখবোই না আর খেলা❜। কিন্তু আবার নতুন ম্যাচ আসে পিছনের দুঃখ ভুলে আবার গলা মেলাই দেশের সমর্থনে। আবার বিপক্ষ দলের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে কতো কান্ডই না ঘটে। এই তো ভক্তদের সাধারণ আচরণ। এইতো আপামর ক্রিকেটপ্রেমী জনতার ক্রিকেট নিয়ে বিনোদন। কিন্তু যাদের জন্য আমরা নিজেদের ভালোবাসা নিঃস্বার্থভাবে বিলিয়ে দিই, আবার কখনো নিজের ক্ষ তিও করে বসি- সেই ক্রিকেট আইকন বা ক্রিকেটপ্রেমী জনতার আইডলরা ঠিক কতটা ভাবে ভক্তদের জন্য? বা নিজ দেশের জার্সি গায়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করাকেই কি একমাত্র দায়িত্ব মনে করে না পুরোটাই শুভংকরের ফাঁকি? অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডে ক্রিকেট বেটিং খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। তবে ক্রিকেটপ্রেমী এই উপমহাদেশের কাছে ক্রিকেট বেটিং বা বাজি শব্দটা নতুন। ভক্তদের জন্য তো অবশ্যই নতুন। কিন্তু এই উপমহাদেশে ম্যাচ পাতানো ব্যাপারটা কবে থেকে? দুঃখজনকভাবে হলেও সত্যি একদম গোড়ার দিক থেকেই ম্যাচ পাতানো হয়ে আসছে। মাঠে দর্শক তার প্রিয় দলের সমর্থনে গলা ফাঁটিয়ে চেচাচ্ছে তো আপনারই পাশে কোন অসাধু ক্রিকেট বুকি ম্যাচ নিয়ে জু য়া খেলছে। আর তাতে সঙ্গ দিচ্ছে ঐ ২২ গজেই থাকা আপনার আমার কিছু প্রিয় ক্রিকেট আইকন। বাংলাদেশে প্রথম এই ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ যার বিরুদ্ধে আসে সে প্রতিটা বাঙ্গালী ক্রিকেট ভক্তের প্রিয় নাম ❛মোহাম্��দ আশরাফুল❜। যে অস্ট্রেলিয়ার সাথে নিজের দাপুটে ব্যাটিংয়ে প্রায় একাই জিতিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। বিপিএল কেলেংকারিতে আশরাফুলের নাম তারার মতো জ্বলজ্বল করছিল। যদিও নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছিলেন এবং তার ফলও ভোগ করতে হয়েছে। এক হাতে তো তালি বাজে না, তাই এই ম্যাচ গড়াপেটায় আশরাফুল একা ছিলেন না। যারা তাকে সঙ্গ দিয়েছে তারা বেঁচে গেল কোনো এক অদৃশ্য সুতোর টানে। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সফল অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রোনিয়ে। তার ঘাড়েও একই অভিযোগ। ম্যাচ পাতিয়েছিলেন তিনি। তৃতীয় রিপুর বশীভূত হয়ে লাভের মুখ যেমন দেখেছিলেন তেমন তার মাশুলও চুকিয়েছিলেন নিজের জীবন দিয়ে। আরো কঠিন সত্য হয়তো জানা যেত, কিন্তু তার আগেই কার্গো দু র্ঘটনা তার মুখ চিরদিনের মতো বন্ধ করে দিয়েছে। আসলেই কি দু র্ঘটনা ছিল? উপমহাদেশের ক্রিকেট বুকি দুনিয়া চালায় ভারত আর পাকিস্তানের বুকিরা। কাঁটাতারের শ ত্রুতা পেরিয়ে জুয়ার বন্ধনে এই দুই দেশ যেন সাত পাকে বাঁধা পড়েছে। ক্রিকেট বুকি আর জুয়ারিরা মাঠে ওত পেতে থাকে কাকে বাগানো যায় সুন্দর উপহার আর ❛ভক্ত হিসেবে ভালোবাসা❜ এর নামে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের হাতছানি দিয়ে। ক্রিকেটে অনাকাঙ্ক্ষিত কান্ড, ম্যাচ ফিক্সিং এর গোডাউন বলা যায় পাকিস্তান ক্রিকেটকে। বলা হয় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নাকি সহজেই খরিদ করা যায়। বাস্তবিক অর্থেও তাই। পাকিস্তান ক্রিকেটের পেস পাওয়ার দিয়ে বিপক্ষ ব্যাটিং শিবিরকে নাস্তানাবুদ করে দেয়ার মতো অনেক বোলার ছিল। কিন্তু সেই দলটার মাথা থেকে ❛আনপ্রেডিক্টেবল❜ এর তোকমাটা যাচ্ছেইনা। জেতা ম্যাচ অচিন্তনীয়ভাবে হার আবার হারা ম্যাচ অকল্পনীয় ভাবে জিতে যাওয়া এগুলো ঠিক কতোটা বাস্তব আর কতোটা অদৃশ্য সুতোর খেল? আসিফ-আমীর এর কথাই ধরা যাক। সেই নো-বল কান্ড। বাড়তি আয় আর দামী উপহারের টানে বিকিয়ে দিল নিজেকে, নিজের দেশকে আর আপামর দেশের সমর্থনকে। তরুণ প্রতিভাবান বোলার হিসেবে যে নাম কামাতে পারতো লোভে পড়ে সে হলো নির্বাসিত। সালমান বাট, উমর আকমল আরো কতো যে নাম আছে এই সারিতে। তাদের মধ্যে আছে আমার আপনার প্রিয় অনেক তারকার নাম। যাদের নাম শুনে চক্ষু ছানাবড়া থেকেও বড়ো কিছু হবার থাকলে হতে পারে। পাকিস্তান ক্রিকেটের সাথে গড়াপেটার এই দু র্নাম যেন মিটবেই না। গড়াপেটা করতে পিছিয়ে নেই ভারত ক্রিকেটও। কপিল দেব, আজহারউদ্দিন, অজয় জাদেজা আরও কত ভারতবাসীর ক্রিকেট দেবতারা যে এই ফিক্সিংয়ের রোলে অভিনয় করে গেছেন। পুরো ক্রিকেট ভক্ত মানুষদের কাছেই যারা আদর্শ, উঠতি যেসব খেলোয়াড় তাদের মতো হতে চায় তারাও আদর্শ বিকিয়ে পাতিয়েছেন ম্যাচ। শ্রীশান্ত এর কথাই ধরি। দারুণ বোলার সাথে রাফ ব্যবহারের অধিকারী এই খেলোয়াড়ও দামী উপহার, লাক্সারী লাইফের কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছেন। পরিণামে পেয়েছেন নির্বাসন। কিন্তু বুকিরা কিন্তু বহাল তবিয়তে তাদের পরবর্তী শিকারের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। কোটি টাকার ব্যবসা হচ্ছে একটা ম্যাচকে ঘিরে। তাতে মদদ দিচ্ছেন রাঘবক-বোয়াল জাতীয় অনেক লোকেরা। অবশ্যই পর্দার আড়ালে। আইপিএল কান্ড তো সব ক্রিকেট ভক্তেরই জানা। এ খেলায় ম্যাচ পাতানো হয়, হয় কোটি টাকার ব্যবসা। মাঠের কুশীলব থাকেন আমাদের ক্রিকেট আইকনেরা। গলার চেইন সামনে পেছনে করে, আকাশে তাকিয়ে বা রুমালের পরিবর্তন করে এরা সিগনাল দেন ❛নিজেকে ডুবাচ্ছি❜। ইচ্ছা করে হয় আউট হবো, না হয় আউট অফ নোহোয়ার লেংথের বল করে ব্যাটসম্যানের পিডানী খাবো। ওদিকে হয়ে যাবে ক্রিকেট জু য়া রিদের দর পতন বা কারো কারো লাভ। কী সুন্দর না? নিজের ইনকামের অর্থ দিয়ে আমরা সাজানো নাটক দেখতে যাই গ্যারালিতে। ক্রিকেট শুধু জু য়া তেই থেমে নেই। এর সাথে জড়িয়ে আছে রাজনীতি, ব্যবসা এমনকি ক্রা ই ম ও। নিজের অনুশচনায় যদি সব স্বীকার করে, এতেই তো আতে ঘা লাগবে বড়ো সব জু য়া রির। পিঠ বাঁচাতে তাই খু ন করতেও এক মিনিট ভাবে না ক্রিকেট বুকিদের হর্তা কর্তারা। ঠিক কতো বড়ো তাদের হাত চিন্তা করা যায়? তো এইযে ভদ্দরলোকের খেলাকে ঘিরে এতো কু ৎসিত কাজ হয় বিচার হয়না? বা কেউ আগে থেকে টের পায় না? পায় তো। কিন্তু এতো এতো বুকি, আর রাঘব-বোয়ালদের ভিড়ে বিচার সংস্থার কাজ করাটাই একটা চ্যালেঞ্জ। আকসু, মগদুল, সিবিআই অনেক প্রমাণ জোগাড় করা স্বত্তেও ঐ অদৃশ্য হাতের ইশারায় অনেক কেসই কার্পেটের নিচে চলে যায়। নানা দেশে একই সময়ে চলে অনেক খেলা। কয়জনকেই বা নজরে রাখা যায়। ভারপ্রাপ্ত আকসু প্রতিনিধি তো বলেইছিলেন,❛𝐈 𝐜𝐚𝐧𝐧𝐨𝐭 𝐛𝐞 𝐢𝐧 𝐞𝐯𝐞𝐫𝐲 𝐡𝐨𝐭𝐞𝐥, 𝐚𝐭 𝐞𝐯𝐞𝐫𝐲 𝐦𝐚𝐭𝐜𝐡❜. এভাবেই যে কয়টা চোখে পড়ছে, অকাট্য প্রমাণ মিলছে তাদের ধর পা কড় আর সাজা দিয়েই ক্রিকেট চলছে। সাথে একইতালে চলছে পর্দার আড়ালে ক্রিকেট ম্যাচ গড়াপেটা। আর আমরা দর্শক দল জিতে গেলে খুশিতে নাচছি, আবার হেরে গেলে চোখের জলে ভেসে যাচ্ছি। কেউ কেউ আবার হার মেনে নিতে না পেরে স্ট্রো ক করে ভব লীলা সাঙ্গ করছেন, কেউ রা গ সামলাতে না পেরে টিভি ভাং চুর করছেন। ওদিকে জু য়ায় জেতার আনন্দে আমাদের আইডলেরা ককটেল পার্টি করছে। আমাদের দুঃখে তাদের থোরাই কেয়ার। পাঠ প্রতিক্রিয়া: আসলে প্রতিক্রিয়া নেই। ক্রিকেটকে জান-প্রাণ, কলিজা-ফ্যাপসা দিয়ে ভালোবাসেন এমন কেউ এই বই থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখুন। বইতে কী আছে সেই লোভে পড়তে গেলে নিজের রিস্কে পড়েন। লেখক অনেক অনুসন্ধান, গবেষণা করে ২৮৮ পৃষ্ঠার এই বিষাদ সিন্ধু রচনা করেছেন। বিশ্বাস তো আগেই একবার ভেঙ্গেছিল যখন জেনেছিলাম ❛শাবানা-আলমগীর স্বামী-স্ত্রী নয়❜। এই বই পড়ে আবারো বিশ্বাস টুকরো হলো, ❛ℂ𝕣𝕚𝕔𝕜𝕖𝕥 𝕔𝕒𝕟 𝕟𝕖𝕧𝕖𝕣 𝕓𝕖 𝕒 𝕘𝕖𝕟𝕥𝕖𝕞𝕒𝕟'𝕤 𝕘𝕒𝕞𝕖❜. বইটাকে লেখক বেশ কয়েকটা অধ্যায়ে ভাগ করেছেন। কীভাবে ক্রিকেট বেটিং হয় সে সম্পর্কে ধারনা দিয়েছেন। এরপর ক্রিকেট বেটিংয়ের সাথে জড়িত নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন। প্রতিটা পৃষ্ঠা পড়ছিলাম আর বিশ্বাসের ভীত নড়ে যাচ্ছিল। আম্বুজা সিমেন্টও পারেনি বিশ্বাসের দেয়াল অটুট রাখতে। যে খেলার প্রতি ভালোবাসায় একটা সময় বাসায় না জানিয়ে নিজেই ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হয়ে গিয়েছিলাম ভবিষ্যৎ ক্রিকেট নিয়ে গড়তে সে ক্রিকেট নামক প্রদীপের নিচে ঠিক কী পরিমাণ কলুষিত অন্ধকার থাকতে পারে সে সত্য জেনে কেমন লাগতে পারে আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এখন মনে হয় ২২ গজের মাঠ ছেড়ে আসার সিদ্ধান্তটা হয়তো ভুল ছিল না। ভক্তের আবেগ যেখানে বিক্রি হয়ে যায় ম্যাচের প্রতিটা ওভারে। সেই খেলার প্রতি পরবর্তীতে আসলে মনোভাব কেমন হবে জানি না। ধাক্কা লেগেছে খুব বড়ো ধাক্কা লেগেছে যখন পড়েছি, ৯৯ এর পাকিস্তান ব ধ শুধুই ছিল একটা নাটক। একটা পাতানো ম্যাচ। পাকিস্তান ক্রিকেটের অনেক খেলোয়াড় জড়িত ছিল ম্যাচ পাতানোয়। জিতিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। বিশ্বাস ঠিক এখনও করতে পারি না। হয়তো বিশ্বাস রয়েই গেছে, না এটা পাতানো নয়। হতেই পারে না। একটা টানটান উত্তেজনার ম্যাচ মুহুর্তে ঘুরিয়ে দেয়ার সময় আমরা যেমন বলতে গেলে হার্ট হাতে নিয়ে বসে থাকি। প্রতিটা সেকেন্ডে থ্রিল। এই বুঝি কী হয়। কিন্তু আদতে সেই উত্তেজনার দৃশ্যটাও উচ্চমানের কোন থ্রিলার সিনেমার মতোই ❛অভিনয়❜। বেস্ট প্লেয়ার ফর্মে নেই, রান পাচ্ছে না, উইকেট পাচ্ছেনা? আহা কী খারাপ লাগে না? কিন্তু তার কারণ যে মাঝে মাঝে বা অনেকক্ষেত্রেই হয় ❛টাকার বিনিময়ে খারাপ খেলা❜ এই চিন্তা তো মাথাতেই আসে না। আসলেই কি ❛Form is temporary, but class is permanent❜? না পুরোটাই রোলেক্স ঘড়ি, সুন্দরী নারীর সঙ্গ আর দামী গাড়ির সাথে সম্পর্কিত? সত্যিই আমি বিস্মিত। এক দুইটা খেলা হয়তো পাতানো যায়, ইচ্ছে করে খারাপ খেলা যায় এটা বিশ্বাস করি বা করতাম। কিন্তু আদতে ব্যাপারটা যে পুরো উলটো এইটা বিশ্বাস করতে আসলেই বেগ পেতে হয়েছে। লেখক অসাধারণভাবে ক্রিকেট এর কালো দিকগুলো তুলে এনেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ দিবো না বিশ্বাস ভেঙ্গে দেয়ার জন্য রাগ ঝারবো কোনটা করা উচিত জানি না। তবে এতো অসাধারণ লেখার মাঝেও কিছু এলাচি ছিল। সেগুলো বলছি, ১. ধর্ম খুব সেন্সিটিভ ব্যাপার। তাই সেটা ফিকশন হোক আর নন ফিকশন সবখানে একটু সচেতনভাবে হ্যান্ডেল করা উচিত। ইনজামামুল হকের সাথে বব উলমারের একটা ঘটনার বর্ণনায় লেখক ইনজামামুলের ভাষ্যে ❛ঈশ্বর❜ এবং ❛ভগবান❜ শব্দের প্রয়োগ করেছেন। আমার কাছে ব্যাপারটা যথেষ্ট দৃষ্টিকটু লেগেছে। ২. মাশরাফিকে নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন লেখক। আমার জানামতে মাশরাফি বিপিএলের ব্যাপারটা ক্লিয়ার করেছিলেন। ডিটেল মনে নেই তবে নিয়ম মেনেই কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। ৩. ২৬২ পৃষ্ঠায় মসজ��দ মন্দিরের ছবির সাথে খেলোয়াড়দের সমান মর্যাদা দেয়া কথাটাও জুতসই লাগেনি। এছাড়াও বাক্য গঠনে বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা ঠেকেছে। একই শব্দের ব্যবহার একই লাইনে প্রয়োজন ছাড়াও দেখা গেছে। ❛রাত কাটানো❜ কে এক জায়গায় ❛তাঁর কাটানো❜ লিখেছেন। তবে সব মিলে বইটা থ্রিলার থেকে কোন অংশে কম নয় এবং বিশ্বাসের প্রাচীর কে লন্ডভন্ড করে দিতে সক্ষম। লেখার সাথে লেখক কিছু ভিডিও লিংক দিয়েছেন। আমি পড়ার সাথে সাথেই সে লিংকগুলোতে গিয়ে (গুগল লেন্সে ধরলে লিংক অনায়সে কপি করে দেখতে পারেন) প্রমাণের ভিডিওগুলো দেখছিলাম। তবে ২০১৩ সালের রাজস্থান রয়্যালস আর মুম্বাই এর ম্যাচে শ্রীশান্থের করা সেই পাতানো ওভারের ভিডিও আমি অনেকভাবে কমান্ড দিয়ে খুঁজেছি। পাইনি। লেখক যদি আমার রিভিউ দেখে থাকেন আর ভিডিওটা আপনার কাছে থাকলে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। শুনেছি খুব শীঘ্রই নাকি এই বইয়ের পরের কিস্তি আসবে। এবং বাংলাদেশী সংস্করণ করার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। পরের কিস্তি জানার জন্য অবশ্যই ভারত থেকে বইটা আনাতে হবে। তবে এদেশে যেহেতু প্রথম কিস্তি প্রকাশ পেয়েছে সেক্ষেত্রে পরেরটা প্রকাশ করতে সমস্যা কোথায় ঠিক জানি না।
ক্রিকেটভক্ত হলে তৃতীয় রিপু পড়ে মন ভেঙে পড়া অবশ্যম্ভাবী। লোভের রাজত্ব এমনই— আপনি যখন ভাবছেন খেলা চলছে, তখন নেপথ্যে আসলে চলছে নাটক। অভিনয়। স্টার প্লাসের evening soap না হলেও, এর বাজেট, প্রোডিউসার, স্ক্রিপ্ট, এমনকি ক্লাইম্যাক্স পর্যন্ত সাজানো। ক্রিকেট ভালোবাসলে এই বই পড়া উচিত নয়। কারণ তারপরে আর ভালোবাসতে পারবেন না। আর সেই মুহূর্তেই বুঝবেন, "Match-fixing is the cancer of sports."— হর্ষ ভোগলের এই কথা নিছক ক্যামেরা-ফ্রেন্ডলি মন্তব্য নয়— তা এই বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়তে পড়তে রক্তচক্ষুর মতো জ্বলে উঠবে।
এই বই আসলে এক ধরনের এক্সরে—ক্রিকেটের পুরুষালি পেশির তলায় লুকিয়ে থাকা ক্ষত, যেখানে flesh wound নয়, বিদ্যমান একেবারে deep tissue corruption। একটা সময় ভাবতাম, হান্সি ক্রোনিয়ে ছিলেন একমাত্র দোষী। পরে দেখি এই দলে সবাই আছে। নামীদামি ক্রিকেটার থেকে শুরু করে বেনামে থাকা ক্যামেরার পেছনের লোক, সবাই যেন একেকজন অভিনেতা।
আর টিভিতে আমরা যা দেখি তা একেকটা ফিল্মের মতোই রচিত। আর প্রোডিউসার? “দাউদ অ্যান্ড কোম্পানি”। দুনিয়ার অসংখ্য প্রান্তে খেলা হচ্ছে, আর তার ‘লাইভ টেলিকাস্ট’ আসলে মঞ্চস্থ নাটক—scripted, rehearsed, even choreographed।
এই বই পড়ে বুঝবেন, “Betting and match-fixing have taken the soul out of the game. The trust is broken, and trust is what sport is built on.” — রাহুল দ্রাবিড়ের এই কথাটা যেন ঠিক এখানকার প্রতিটি কাহিনীর সারাংশ। তৃতীয় রিপু—লোভ—এর কথা বলে, কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে জড়িয়ে যায় প্রথম রিপু (কাম) আর পঞ্চম রিপু (মদ, হানিট্র্যাপ ইত্যাদি)। একেকটা প্লেয়ারকে যেভাবে এই চক্করে ফেলা হয়, তাতে তারা আর ক্রীড়াবিদ থাকে না। “The moment a player agrees to fix a match, he ceases to be a sportsman,”—জাস্টিস মুদগালের এই কথাটা রীতিমতো লাল কালিতে লেখা এক জ্বলন্ত ট্রাজেডি।
এই লেখার শক্তি শুধু তার তথ্যভিত্তিক আলোচনা নয়, তার প্রমাণে। ইউটিউব লিংকসহ প্রমাণ—আর কোনো জল্পনা নয়, একেবারে চোখের সামনে তথ্য। একটাই সমস্যা, সূচিপত্র নেই। ফলে পড়ার সময় বারবার ঘুরে যেতে হয়। তবে পড়া বন্ধ করার মতো বই নয়। “Every fix erases a dream. A dream of the underdog, the loyal fan, the young player watching from the stands.”—এক অচেনা দুর্নীতিদমন অফিসারের এই উক্তি যেন এ বইয়ের প্রতিটি পাতার প্রতিধ্বনি। কারণ এই বই পড়ে মনে হয়, প্রতিটা স্পিন, প্রতিটা ফিল্ড সেটিং, এমনকি কোনো ব্যাটারের উইকেট পড়াও পূর্বনির্ধারিত। অর্থাৎ probability-র হাত ধরেই আসে ম্যাচ ফিক্সিং-এর গাণিতিক যুক্তি—যেখানে সব জুয়াড়ি জেতে, খেলোয়াড় হারে।
এই বই পড়ে বারবার মনে পড়ে স্টিভ ওয়-এর কথা: “Innocence in sport is precious. Once gone, it rarely returns.” এই অপাপবিদ্ধতা হারানোর মুহূর্তেই বইটা তার সর্বোচ্চ tragic point ছুঁয়ে ফেলে। একেবারে শেক্সপিয়রের মতো শোনায়—"O, what a world of vile ill-favored faults, looks handsome in three-piled cunning!" লোভ—greed—এমনই এক রিপু, যে রং মেখে নিজেকে ধর্ম, দেশপ্রেম আর ‘খেলার স্বার্থে’ বলে বিক্রি করে দিতে জানে।
এই বই পড়ে আপনার যদি এখনও মনে হয়, “It’s just a game,” তাহলে আপনি বোধহয় সেই ফ্যান নন, যে শচীনের সেঞ্চুরিতে অঝোরে কেঁদেছিলেন, বা লর্ডসের গ্যালারিতে সৌরভের জার্সি ওড়ানো দেখে কেঁপে উঠেছিলেন, বা ধোনির হেলিকপ্টার শটে উড়িয়ে দেওয়া শেষ ছক্কায় লাফিয়ে উঠেছিলেন। কারণ "Fixing is the silent assassin of sporting excellence."—মাইকেল হোল্ডিংয়ের এই বাক্য কেবল কাগজে ছাপা নয়, ধীরে ধীরে হৃদয়ে গাঁথা এক অমোঘ উক্তিতে পরিণত হয়ে যায়।
এই বই পড়া মানে শুধু এক্সপোজার নয়, এক ধরনের স্বপ্নভঙ্গ। একটা সাবধানবাণীও বটে: “You can bet on the game. But don’t let the game bet against you.”
সূচিপত্র নেই বলে বারবার ফিরতে হয়েছে পেছনের পাতায়, পুরনো অধ্যায়ে, ভুল জায়গায়। মনে হয়েছে, আমি তো শুধু পাঠক, অথচ নিজেই একধরনের investigative journalist হয়ে উঠেছি—ক্রিকেটের অন্তর্লীন ক্যান্সার খুঁজে বেড়াচ্ছি। আর এই ক্যান্সার, যা খালি ম্যাচ নয়, মন ভেঙে দেয়। প্রাক্তন BCCI President, Anurag Thakur, একদম ঠিক বলেছিলেন, "A few corrupt players can tarnish the legacy of a whole generation."
হান্সি ক্রোনিয়ে শুধু এক নাম নয়, একটা যুগের অবসান। আমরা যারা ভেবেছিলাম ফিক্সিং বুঝি তার থেকেই শুরু, তারা এই বই পড়ে বুঝি কে নেই! পাকিস্তান পর্ব, ভারত পর্ব, আইপিএলের ধাপ্পাবাজি, আর তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য মুখ, যাদের আমরা একদিন হিরো ভেবেছিলাম—সব মিলিয়ে একটা ট্র্যাজিক মহাকাব্য। Justice Mudgal বলে গেছেন, "The moment a player agrees to fix a match, he ceases to be a sportsman." সেটা কেবল আইনি সত্য নয়, সেটা নৈতিক পরাজয়।
প্রতিটি অধ্যায়ে, ইউটিউব লিংকসহ বিশদ প্রমাণ—সাবধান করে দেয়, এ বই শুধু বাজার গরম করার হাওয়ায় লেখা কিছু নয়। এটা একজন লেখকের years-long আর্কাইভ, যা পড়লে বিশ্বাস না করেও বিশ্বাস করতে হয়। “Fixing is the silent assassin of sporting excellence,” বলেছেন Michael Holding। এই বইয়ের পর তা যেন চিৎকার করে বেরিয়ে আসে।
জুয়ার অঙ্ক, বুকির লাভ-লোকসান, এবং ম্যাচের পর ম্যাচ কেন রেজাল্ট উলটো যায়—সব বিশ্লেষণ দিয়ে স্পষ্ট করে যে ফিক্সিং কেবল অনুমান নয়, বাস্তব। "Match-fixing is not a mistake. It is a calculated crime," Lalit Modi-র উক্তিটি এই বই পড়ে হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়।
তবে বইয়ের শারীরিক গঠন দারুণ—প্রিন্ট ভালো, বাঁধাই মজবুত। যদিও আমার কপিতে কয়েকটা পৃষ্ঠা একটু কুঁচকে গিয়েছিল। তবু বদলে নিইনি, কারণ 'টেরা হ্যায়, ফির ভি মেরা হ্যায়' টাইপের এক অনুভব জড়িয়ে গিয়েছে। আর প্রকাশক একেবারে সহৃদয়, পরে বদলে দিতে চেয়েছিলেন, সেটা জানিয়ে।
এই বই পড়ে আপনি আর নির্দ্বিধায় ক্রিকেট দেখতে পারবেন না। সেই নির্ভেজাল ছক্কা, সেই দুর্ধর্ষ ফাইনাল ওভারের নাটক সবই বেমানান লাগবে — কারণ আপনি মনে মনে জানবেন, সবটাই নাটক ছিল, পুরোটাই গড়াপেটা। "Every fix erases a dream. A dream of the underdog, the loyal fan, the young player watching from the stands." সেই স্বপ্নগুলোই বোধহয় আমার বুক চেপে বসে রইল।
সবচেয়ে কষ্ট হয়েছে সেই সময়টাতে, যখন চিরকালীন নায়কেরা হঠাৎ ভিলেন হয়ে ওঠে। যে বই পড়ে খেলা উপভোগ করার ইচ্ছাটাই মরে যায়, সেটা বই হিসেবে সফল না ব্যর্থ—সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়, এই বই একটা আগুন। এমন একটা বই, যা পড়লে বুঝে যাবেন, “Innocence in sport is precious. Once gone, it rarely returns.”
বই পড়ে যেমন ছ্যাঁকা খেয়েছি, তেমনি শিখেছি, এই কেবল লোভের দুনিয়া নয়, এখানকার খেলোয়াড়রা অনেক সময় victim—honeytrap, ফাঁদে ফেলা, মদ খাইয়ে চুক্তি করানো, আবার নামমাত্র পারিশ্রমিকেও ম্যাচ ফিক্সিং করানো। এখানকার evil subtle, কিন্তু জঘন্য। ঠিক যেমন Ed Hawkins বলেছিলেন, "Spot-fixing is a subtle evil; it's harder to detect but equally dangerous."
আমার জীবনে আর কোনো বই ক্রিকেট নিয়ে এত গভীর বিরক্তি, হতাশা, আবার এমন অনুরণিত হাহাকার তৈরি করেনি। প্র্যাকটিসে যাইনি, টেস্ট ম্যাচ দেখে বিশ্বাস রাখতে পারিনি, বাচ্চাদের বলিনি, 'চলো খেলা দেখি'। কারণ এখন থেকে, প্রতিটা চার, প্রতিটা আউট, আমার মনে সন্দেহ জাগায়—“Athletes must choose between glory and greed. One lasts forever, the other haunts forever.”
তৃতীয় রিপু শুধু ক্রিকেট নয়, আমাদের সমাজের, আমাদের আবেগের এক নির্লজ্জ এক্সপোজার। একটা system, যেখানে "The black market thrives on secrecy; transparency is the first step to rescue sports." তাই বইটি যেমন অসহ্য, তেমনই অপরিহার্য। পড়তে গেলে মন খারাপ হবেই, কিন্তু মনে না পড়লে, এই লোভের পৃথিবীর আসল চেহারা জানা হবে না।
এই বই কেবল তথ্য দেয় না, আঘাত করে। তবু পড়া দরকার, কারণ “Corruption in sport is not just a matter of ethics; it is a matter of criminal justice.” এবং criminal justice শুরু হয় জানার মধ্যে দিয়ে। একমাত্র সাবধান পাঠকই লোভের এই বিশ্বব্যাপী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
বছরে টিভির সামনে বসি সাধারণত একটা সময়েই। ঐ IPL চলাকালীন মাস দেড়েক। সত্যি বলতে কর্মব্যস্ত জীবনে T20 আসার পর One Day বা Test দেখার কথা ভাবতেও পারি না। যদিও অনেকেই বলেন আসল ক্রিকেট উপভোগ করার একমাত্র ফর্ম্যাট Test - আপাতত সেই বিতর্কে যাচ্ছি না।
সমস্যা হল এই যে আমার আর টিভির এই seasonal প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন সোমনাথবাবু। কয়েক মাস আগে বইচই এর website ঘাটতে ঘাটতে এই লেখাটায় চোখ আটকে গেল - - - -
“সেঞ্চুরীয়ান পার্কের ৫ম টেস্টের (১৪ই থেকে ১৮ই জানুয়ারি, ২০০০) প্রথম দিনে ৪৫ ওভার খেলার পরে যখন দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান তুলেছে, তখন মাঠে নেমে এল প্রবল বৃষ্টি। প্রথম দিনের বাকি খেলা তো বটেই, পরের তিনদিন কোন খেলাই সম্ভব হল না। শুধু একদিনের খেলা বাকি আর ৩৪টা উইকেট রয়েছে, সেক্ষেত্রে তো ড্র ছাড়া আর কিছুই সম্ভব নয়। অথচ সবার চিন্তাকে ব্যর্থ করে দিয়ে....”
প্রায় তৎক্ষণাৎ তৃতীয় রিপুর বশবর্তী হয়ে order করে ফেললাম বইটি।
এই উপমহাদেশে ক্রিকেটকে ঘিরে আলাদাই উন্মাদনা। আর ক্রিকেটাররা সেখানে নায়ক। এই নায়কদেরই কেউ কেউ কখনো কিভাবে খলনায়ক হয়েছেন, সেটা নিয়েই সোমনাথবাবুর বই - “তৃতীয় রিপু”।
এই বইয়ের কিছু ঘটনা আমরা অনেকেই হয়ত ওপর ওপর জানি। তবে লেখক এখানে সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বইয়ের শুরুতেই পরিচয় করিয়েছেন match fixing দুনিয়ার terminology-এর সঙ্গে। বই যতই এগিয়েছে, শৈশব আর কৈশোরের অনেক তারকার নেপথ্যকাহিনী মন ভারাক্রান্ত করেছে। কখনো match ধরে ধরে দেখিয়েছেন কিভাবে বুকিদের সব ভবিষ্যৎবাণী মিলে গেছে। এমন কয়েকজন ক্রিকেটারও আছেন যারা এখনো সসম্মানে খেলার সাথে যুক্ত। বইটির আরেকটি বিশেষত্ব হল ঘটনার সাথে সম্পর্কিত কিছু Youtube link যা লেখক পাঠকের কৌতুহল নিরসনে দিয়েছেন।
বইটি শেষ করার পর চলতি ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের অনেক ঘটনাও সন্দেহের উদ্রেক করছে। অপেক্ষায় থাকবো লেখকের এই বিষয়ে পরবর্তী প্রকাশের জন্য যেখানে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের ব্যাপারে বিষদে জানা যাবে।
তৃতীয় রিপু। লোভ। এই বই লোভের বিশ্বজয়ের কাহিনী। চোখের সামনে হয়ে চলা অভিনয়কে সত্যি ভেবে বাকিদের heart বন্ধ হওয়ার কাহিনী। ক্রিকেটকে যদি অত্যন্ত ভালোবাসেন, এই বই আপনার জন্য নয়।
বইটির একটি প্রধান অসুবিধে হচ্ছে সূচিপত্র না থাকা। খায়া লাগায়ার দুনিয়াতে আমার মত যারা নতুন, পুরনো chapter পড়তে তাদেরকে বেশ কয়েকবার ফিরতেই হবে। ফিরতে হবে ক্রিকেট জুয়ার গণিত বুঝতে। তাই সূচিপত্র না থাকা আমাকে ভীষণ বেগ দিয়েছে। বইটির একটি সংক্ষিপ্ত বিষয়সূচি দেওয়া গেল~ ১) ভূমিকা ২) প্রকাশকের কথা ৩) ভূমিকা, টস, পিচ ও অন্যান্য; ৪) বাংলাদেশ, বিপিএল ও আসরাফুল (দুই'টি ভাগে) ৫) হ্যান্সি ক্রোনিয়ে পর্ব; ৬) পাকিস্তান পর্ব (নয়'টি ভাগে); ৭) ক্রিকেট ও ক্রাইম (চারটি ভাগে); ৮) ক্রিকেট জুয়ার খুঁটিনাটি (দুই'টি ভাগে); ৯) ভারত পর্ব (সাতটি ভাগে); ১০) IPL পর্ব (আটটি ভাগে)।
আগে জানতাম যে ম্যাচ কখনো সখনো ফিক্স হয়। এখন আর কখনো সখনো বলার জায়গায় নেই। আন্তর্জাতিকের না হলেও, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সব ম্যাচই যে ফিক্সড, সে বিষয়ে আর সন্দেহ পোষণ করি না। ভাবতাম হান্সি পর্ব থেকেই শুরু। কিন্তু তারপর দেখি কে নেই। বইটি পড়ে দিন দুয়েক প্র্যাক্টিস এও গেলাম না। কী হবে খেলে? খেলোয়াড় ভাবছি যাদের তারা অভিনেতা। টিভিতে চলছে সম্প্রচারের নামে সিনেমা। যার প্রোডিউসার দাউদ অ্যান্ড কোম্পানি। এই সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে সকল সমস্যার উৎস। আমার আবেগে চলছে দুনিয়ার ফুর্তি। কেবল তৃতীয় রিপুর দুনিয়া নয়, জড়িয়ে আছে প্রথম আর পঞ্চম রিপুও। হানিট্রাপ থেকে বারে মদ খাওয়ানো অভিনেতাদের পারিশ্রমিক অনেক সময় বেশি নয় মোটেই।
~কী ভালো লেগেছে ১. ক্রিকেট জুয়ার খুঁটিনাটি নিয়ে এতো সুন্দর বই এর আগে পড়িনি। প্রাঞ্জল ও ঝরঝরে ভাষার দাপটে না বোঝার জন্য অবকাশই নেই! ২. ইউটিউব লিংক সমেত প্রমাণ! এখানেই অন্যদের সাথে পার্থক্য। এই বই কেবল বাজার গরম করার জন্য যা ইচ্ছে লেখা না। যা লিখেছেন, সব কিছুর প্রমাণও দিয়েছেন। বিশ্বাস করবনা বললেও হবেনা। বিশ্বাস হবেই। ৩. বইটির বাঁধাই চমৎকার। প্রুফ চেকিংয়ের সমস্যা নেই বললেই চলে। তবে বারদুয়েক অধ্যায়ের নামকরণে উল্টোপাল্টা হয়ে গেছে। ৪. গাণিতিক প্রমাণ। অঙ্ক যদি সত্যি হয়, জুয়ারির জেতার কথা সবসময়। বুকির জেতার কথা লাখে একবার। কিন্তু হয় ঠিক তার উল্টো, জেতে বুকি। লোকে জুয়ায় টাকা হারে। লাভজনক না হলে বুকিরা এই ব্যবসা করত না। জুয়ার ফলাফল আগে থেকে না জানলে probability কে bias করা কি সম্ভব? না নয়। তাই ম্যাচ ফিক্স হয়, তার এর থেকে বড় প্রমাণ আর নেই।
~কী ভালো লাগেনি ১. সূচিপত্র নেই। এটি ছাড়া সে অর্থে আর কিছুই খারাপ নেই বইটার বিষয়ে। ২. (সম্ভবত আমার একার বইতেই) ৪৬ থেকে ৫০ পৃষ্ঠা অবধি ছাপার মান বেশ খারাপ। কালি কিছু জায়গায় ধেবরে গেছে। এর পরেও এক দুবার আছে, কিন্তু সেগুলো এক পাতাই বা তারও কম। (সহৃদয় প্রকাশক মহাশয় বদলে নেওয়ার জন্য বহু অনুরোধ করেছিলেন, কেনার ৩-৪ মাস পরেও, কন্ডিশনের কথা শুনে। কিন্তু আমি 'টেরা হ্যায় ফির ভি মেরা হ্যায়' নীতিতে বিশ্বাসী) ৩. উপমহাদেশের বাইরের আলোচনা নেই। ক্রণিয়ে পর্বও উপমহাদেশের সূত্রেই এসেছে। তবে পরবর্তী খন্ডে পুষিয়ে যাবে হয়তো।
~ শৈশব এর হিরোদের হিরো রেখে দিতে চাইলে এই বই পড়বেন না। বা ক্রিকেট দেখার আনন্দ মাটি করতে না চাইলেও পড়বেন না। অযথা মন খারাপ হবে। বইটি শেষ করার পরেরদিন থেকে ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজ ছিল। দুটো ম্যাচই শেষ হলো ৩ দিনে। স্পিনার ভেলকি না রিপুর প্রভাব? ঝোপে ঝোপে বাঘ দেখবেন এই বই পড়ার পর। অতএব পাঠক সাবধান।