পার্কে ঘুরতে এসে দুজন ব্যক্তির দেখা। আলাপে আলাপে পরিচয় থেকে বাড়িতে দাওয়াত পর্যন্ত গড়ালো বিষয়টা। এদিকে শহরে এক মগজখেকোর আবির্ভাব ঘটেছে। পাওয়া যাচ্ছে মগজবিহীন লাশ। শেষ পর্যন্ত কি পরিণতি হবে ওই দুই ব্যক্তির? মগজখেকো কি ধরা পড়বে? খুন ঠেকাতে বহুদিনের পুরনো রাগ ভুলে লেখক বন্ধু ইমতিয়াজের সাথে দেখা করতে গেলো পুলিশ অফিসার মাহিন। আসলেই কি তা খুন, নাকি কাউকে ফাঁসানোর ঘৃণ্যতম ষড়যন্ত্র?
আত্মহত্যা করতে গিয়ে দূর্ঘটনা বশতঃ পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে জয়িতার স্বামী রাজীবের। তদন্ত করতে এসেছে তারই প্রাক্তন প্রেমিক শফিকুল। কেন আত্মহত্যা করতে চাইলো রাজীব? তদন্ত কি সঠিক পথে এগুবে? নাকি নিছক দূর্ঘটনা থেকে শুরু হবে কাছে আসার নতুন গল্প? ভাবতে ভাবতে শুভ এমন এক থিওরি আবিষ্কার করে ফেললো যা পরিবর্তন করে দিতে পারে মানবজীবনের উদ্দেশ্যই। সে তা শেয়ার করতে গেলো তারই ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক প্রফেসর মঞ্জুরের কাছে। এ বিষয়ে জানাটাই কি কাল হয়ে দাঁড়ালো তাদের দুজনের জন্য?
জীবনানন্দ দাশের 'আট বছর আগের একদিন' কবিতা শুনে জেগে উঠলো একজন। লাশকাটা ঘরে আড্ডা জমিয়েছে বেশ কয়েকজন লাশ। তাদের মৃত্যুর ঘটনার মধ্য দিয়ে উঠে আসলো সমাজের নানা অসংগতি। কিন্তু তাদের গল্প শুনছে কে এই আগন্তুক?
গল্পের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা রহস্যে রোমাঞ্চিত হয়ে উঠার জগতে পাঠককে স্বাগতম।
বইঃ লাশকাটা ঘরে বইটায় মোট ৫টা ছোট গল্প আছে। মগজ, বিষ, সন্দেহ, ইশ্বর এবং লাশকাটা ঘর। রিভিউ এর শুরুটা আমার পছন্দের গল্পের কথা নিয়েই হোক..
💠 লাশকাটা ঘরে: বইটির ৫টা গল্পের মধ্যে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে 'লাশকাটা ঘরে' গল্পটা। খুবই সুন্দর এবং গুছানো গল্প। লাশকাটা ঘরের ভেতরে কয়েকটি লাশের আড্ডা বেশ ভালোই জমে উঠেছিল। যে যার মত তাদের মৃত্যুর পেছনের ঘটনাবলী বর্ননা করতেছিলো। গল্পের শুরুটা হয়েছে কবি জীবনানন্দের কবিতা দিয়ে। গল্পটি পড়েতে বেশ ভালো লাগতেছিলো, হয়তো লেখক চাইলে গল্পটা আরো বড় করতে পারতে। আরো পড়ার ইচ্ছা রয়ে গেছে।
💠 সন্দেহ: আমাদের আশেপাশে এমন অনেকেই আছে যাদের সন্দেহ বাতিক আছে। এটা আমার কাছে সমকালীন থ্রিলারই মনে হয়েছে। এক কথায় খুবই সাধারণ একটা গল্প। হয়তো অনেকেই নিজের কিছু অভ্যাসের সাথে মিল পাবে, তাই তাদের জন্য এইটা একটা ভালো মেসেজ হিসাবে কাজ করবে। জীবনসঙ্গীকে সন্দেহ, এর জের ধরের ঝগড়া, বিবাদ। এবং জয়িতার স্বামী রাজীবের মৃত্যু। প্রাক্তন প্রেমিক শফিকুল আসলেন তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে। এর পরে ঘটনা মোড় নিলো অন্য দিকে।
💠 মগজ: সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, এই গল্পটা আগেও পরেছি আমি। এবার আরো পরিমার্জন করা হয়েছে। আগেরবার পড়েই ভালো লেগেছিলো, এখন আরো একটু গুছানো এবং বাস্তব মনে হয়।
💠 বিষ: ভবিষ্যতে খুনের ঘটনা ঘটতে পারে এমন সন্দেহে লেখক বন্ধু ইমতিয়াজের সাথে দেখা করতে গেলো পুলিশ অফিসার মাহিন। কিন্তু বন্ধুর বাসায় আসলেই কি খুন হতে যাচ্ছে নাকি অন্য কাউকে ফাঁসানোর ঘৃণ্যতম ষড়যন্ত্র হচ্ছে, তা নিয়ে এই ছোট্ট গল্প বিষ। গল্পটা এডাপ্টেশন করা হয়েছে। এইটার কাহিনী আমার কাছে তেমন একটা ইন্টারেস্টিং মনে হয় নাই, এডাপ্টেশনে গেলে আরো অনেক ভালো ছোট রসহ্য গল্প আছে।
💠 ঈশ্বর: মানব জীবনের উদ্দেশ্য পরিবর্তন করে দিতে পারে এমন এক থিওরি আবিষ্কার করে শুভ। এবং সে সেটা তারই ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক প্রফেসর মঞ্জুরের কাছে বুঝিয়ে বলে। শুরু হয় নানা ঘটনার। হয়তো এই থিউরির বিষয়ে জানাটাই কি কাল হয়ে দাঁড়ায় তাদের দুজনের জন্য। এই গল্পটিতে আরো সময় দিলে আমার মনে হয় আরো সুন্দর হতে পারতো। ১ম বার পড়ে আমি তেমন কিছু বুঝি নাই, পরে আবার পড়ছি। গল্পটা আরো একটু গুছানো যেত।
🔶 ওভারঅল পুরো বইটা আমার ভালো লেগেছে। লেখক নতুন হিসাবে ভালো। বইটির সম্পাদনা ভালো হয়েছে, অতিরিক্ত বানান ভুল বা আন্চলিকতা পাইনি। লেখক সময় দিলে সুন্দর উপন্যাস লিখে ফেলতে পারবে। - লেখক, প্রকাশনী, প্রকাশক সবার জন্য শুভ কামনা রইল। সর্বোপরি সবার সুস্বাস্থ্য ও সুখী জীবন কামনা করছি। সবাই ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুক.. 🎭 - ✅ বই: লাশকাটা ঘরে ☑️ লেখক: Hasbitul Hasan Nijhum ☑️ প্রচ্ছদ: Jawad Ul Alam ☑️ জনরা: থ্রিলার গল্প সংকলন ☑️ প্রকাশনী: বেনজিন প্রকাশন ☑️ পৃষ্ঠা: ১৫২ [ক্রাউন সাইজ, হার্ড বাইন্ডিং] ☑️ মলাট মূল্য: ২৩৫ টাকা - #বুকরিভিউ #bookaholicSAZIB #BOOK_REVIEW_BY_SAZIB
ঈশ্বর গল্পটা সবচেয়ে ভাল ছিল।এরপর আসবে সন্দেহ গল্পটা।এভারেজ মানের একটা থ্রিলার সংকলন।তবে লেখকের প্রথম বই হিসেবে ঠিকঠাক আছে।আশা করি সামনে আরো দারুণ কাজ পাব
থ্রিলার গল্পের সংকলন।সংকলনটিকে পাচটি গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে,যা কখনো সিরিয়াল কিলিং,কখনো অতি প্রাকৃত বা কখনো মানবজাতির ইতিহাস নিয়েও ভাবিয়ে তুলে।গুডরিডস এ বইটার যেসব রিভিউ দেখলাম,তার অধিকাংশই বইটিকে ভালো লাগা পাঠকদের রিভিউ।ভালো লাগেনি এমন কোনো রিভিউ চোখে পড়েনি।তাই ভাবলাম প্রতিটি গল্প ধরে ধরে ছোটো করে হলেও আলোচনা করি।থ্রিলার গল্পের রিভিউ দিতে গিয়ে আমার স্পয়লার এসে পড়ে।ওয়ার্নিং দেওয়া থাকলো।নিজে দায়িত্বে পড়বেন।
১ম গল্পঃ 2🌟(মগজ) প্লটটা বেশ প্রমিজিং ছিলো।কিন্তু ভিক্টিমকে বইয়ের পৃষ্ঠায় ড্রাগ মিশিয়ে তা দিয়ে পাঠককে অবশ করার আইডিয়া রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি থেকে ধার করা।আর শেষে বড় টুইস্টটার আগে, গত এক বছর ধরে খুন করেছি ১০ টা,কিন্তু শহরে নাকি মগজহীন লাশ পাওয়া গেছে ১৪ টা। এই টাইপের কথা বলে গল্পের মোড়টাকে অনুমেয় বানিয়ে ফেলেছিলেন।ওই বক্তব্য দিয়ে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কাহিনীতে অন্য আরেকজন সিরিয়াল কিলারের আগমন ঘটছে।কী?ভাবছেন স্পয়লার দিয়ে দিলাম?ভাই,বইটা খুলেই ফ্ল্যাপটার প্রথম ৬-৭ লাইন পড়লে আপনি এ গল্পের মূল টুইস্টের স্পয়লার পাবেন।স্পয়লার না।রীতিমতো পুরো গল্পটাই ফ্ল্যাপে জানিয়ে দিয়েছেন।এই ব্যাপারটায় চরম বিরক্ত লেগেছে।সেজন্যে একটা তারা কেটেছিও। এসবের বাইরে গল্পের একটা অংশে সিরিয়াল কিলারটা মস্তিষ্ককে কেটে ভাজি করে খাওয়ার বর্ণনা দেয়।বর্ণনা খুব ডিস্টার্বিং লেগেছে।এই ডিস্টার্বিং ফিলিংটা ফিল করানো লেখকের কৃতিত্ব।
২য় গল্পঃ 3🌟(বিষ) এই গল্পটা ভালো লেগেছে।যখনই ভাবি,আরে এইতো কাহিনীটা অনুমেয় হয়ে যাচ্ছে,তক্ষুনি লেখক নতুন টুইস্ট নিয়ে আসেন।কিন্তু পুলিশ অফিসার মাহিন-একই সাথে রাশেদকে পটাশিয়াম সায়ানাইড কিনতে,ইমতিয়াজকে ডাক্তারের চ্যাম্বার থেকে বের হতে,আবার রাশেদ ও ইমতিয়াজের হবু স্ত্রীকে প্রেম করতে দেখে নিলো কীভাবে তা স্পষ্ট নয়।গল্পের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে এই তিন ঘটনার উপর।তার তিনটাই কাকতালীয় হলে তো আর চলছে না।
৩য় গল্পঃ 1🌟(সন্দেহ) স্ত্রী খুন হলে(বা যদি মেনেও নিই,আত্মহত্যা করেছে)আপনাতেই সন্দেহটা এসে গড়ায় স্বামীর উপর।উল্টোটাও সত্য।স্বামীর ওই অবস্থা হলে পুলিশ স্ত্রীর দিকে সন্দেহের দৃষ্টি দিবে,তাই স্বাভাবিক।আর এ গল্পে স্বামীর আত্মহত্যা করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর স্ত্রী জানায়,ঘটনার আগের দিন স্বামীকে সে অন্য মহিলার সাথে রেস্টুরেন্টে হেসে হেসে কথা বলতে দেখে ফেলে।তখন সে সন্দেহ আরো পোক্ত হওয়ার কথা।এতসবের পরেও পুলিশ স্ত্রীয়ের দিকে কোনো নজরই দেয় না।কেননা,তদন্তকারী পুলিশ ছিলো ওই মহিলার কলেজের প্রাক্তন প্রেমিক।মহিলা যখন জিজ্ঞাসাবাদে এসব কথা জানাচ্ছিলেন,তখন ওই পুলিশ ব্যস্ত ছিলো সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেওয়ায় কারণ ওর স্বামী মারা গেছে,আর এখন তিনি ওই মহিলাকে নিজের করে পেতে পারবেন। এখানেই শেষ না।আত্মহত্যার কথা শুনে আরেকজন পুলিশ বলছিলো, সামনে তো নির্বাচন।জনগণ যেভাবে ফুসছে,এ সরকার তো টিকে থাকতে পারবে না মনে হয়।নির্বাচনের আগেই না পতন ঘটে যায়!ক্ষমতায় টিকে থাকতে তো আপনাদের উপরই দায়িত্ব দিবেন উনি।মানুষ মারার দায়িত্বেই তো ব্যস্ত থাকবেন।বাচতে চাওয়া মানুষগুলোকে নিজের হাতে মেরে ইচ্ছাকৃতভাবে মরতে চাওয়া মানুষের কেস নিয়ে আগ্রহ পাবেন?চাইলে আজকেও ক্লোজ করে দিতে পারেন কেসটা। ওয়াও চমৎকার মাইন্ডব্লোয়িং লজিক!এক কথায় বোগাস!
৪র্থ গল্পঃ 4🌟(ঈশ্বর) এই গল্পটা সবচেয়ে ভালো লাগলো।শুরুটা আজগবি,অযৌক্তিক সব কথা দিয়ে শুরু হয়।কিন্তু আস্তে আস্তে বিশ্বাস অবিশ্বাসের দ্বন্দে সেই অযৌক্তিক কথাগুলোই যেন একেবারে যুক্তিহীন বলে মনে হয় না।বিশ্বাস করতে,মেনে নিতে,নতুন করে ভাবতে মন চায়।আমরা মানবজাতি, পৃথিবীতে কী করছি,কেন আসলাম,ছোটোবেলা থেকে ঈশ্বরের যে ধারণা পেয়ে বড় হয়েছি,সেই ঈশ্বরের ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। অনেকের কাছে মনে হতে পারে,শেষটাতে লেখক একটু তাড়াহুড়া করেছেন,কিন্তু আমি আসলে শেষটায় মুগ্ধ হয়ে গল্পটা পছন্দ করিনি।কয়েকটা অযৌক্তিক কথা দ্বারা কীভাবে যুক্তিতে পৌছানো যায়,লেখকের সেই পদ্ধতিটা মুগ্ধ করেছে আমাকে।
৫ম গল্পঃ 1🌟(লাশ কাটা ঘরে) এই গল্পের প্লট,টুইস্ট নিয়ে আলোচনায় যাবো না। 'আত্মহত্যা মহাপাপ বলে বেচে আছে আমার মতো হাজারো জীবন্ত লাশ!' কিংবা, 'গণিতে আমি বরাবরই কাচা ছিলাম,কিন্তু জগৎ সংসারের যোজন বিয়োজন বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারি।' টাইপের 'ফেইসবুকীয় হার্ট টাচিং' কথা বার্তায় ক্রিঞ্জ এটাক খাচ্ছিলাম। আর পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় আত্মহত্যার খবর শুনে, 'পুরুষ মানুষকে এতটা নাজুক মানায় না।' 'সজীব কাদতে লাগলো।এভাবে খুব কম পুরুষকেই কাদতে দেখা যায়।' এসব মিসোজিনিস্ট লেখা পড়ে মেজাজ খারাপ হচ্ছিলো।
শেষে আরেকটা ভালো কথা বলে রিভিউ শেষ করি,উৎসর্গপত্রটা খুউবই ভালো লেগেছে।সেখানে লেখক যখন সুইসাইডাল ছিলেন,সেসময় উনার এক বন্ধু,যে কিনা উনাকে ক্রমাগত বেচে থাকার জন্য সাহস জুগিয়ে গিয়েছেন,তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।সেই বন্ধু আসলে লেখকেরই আরেক সত্ত্বা।লেখক তাই বইটা নিজের ওই সত্ত্বা তথা নিজেকেই উৎসর্গ করেছেন।
পাঁচটি ছোট গল্প দিয়ে সাজানো বইটি ১.মগজ ৪.ঈশ্বর ২. বিষ ৫. লাশ কাটা ঘরে ৩.সন্দেহ 💠১.মগজ: এটি একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মগজ খাদক এর ফাঁদে পড়ে আলফি।কিন্তু তার কথানুসারে সে ১০টি খুন করলেও শহরে পাওয়া গেছে ১৪টি মগজবিহীন লাশ। স্বভাবতই বোঝা যায় শহরে সবার চোখের আড়ালে আরো কেউ চালাচ্ছে একই নিয়মে হত্যালীলা।
💠২.বিষ: ভবিষ্যতে হতে পারা খুন আটকাতে পুরনো বন্ধুর বাড়িতে রাগ ভুলে আসে ইমতিয়াজ। কিন্তু খুন, আত্মহত্যা নাকি ষড়যন্ত্র??????? কার মৃত্যু আর কেনই বা এই মৃত্যু হবে????
💠৩.সন্দেহ :সন্দেহ কিভাবে একটি সুখে পরিপূর্ণ সংসার পুরোপুরি শেষ করে দিতে পারে তার ই চিত্র ফুটে উঠেছে এই ছোটগল্পে।
💠৪.ঈশ্বর : শুভ আবিষ্কার করে এমন একটি থিউরি যা বদলে দিতে পারে মানবজীবনের উদ্দেশ্য। তার সত্যতা নানা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তুলে ধরে প্রফেসর মঞ্জুর কাছে। পরেরদিন সকালে পৃথিবীর বুকে পাওয়া যায় ২ প্রতিভাবান ব্যাক্তির লাশ।
💠৫.লাশ কাটা ঘরে : লাশ কাটা ঘরে আসর জমে কিছু লাশের আড্ডা। আড্ডায় উঠে আসে তাদের জীবনে সকল না পাওয়া এবং কষ্ট যার কারনে , আত্মহত্যাকে মুক্তির পথ হিসেবে বেছে নিয়ে তারা আজ এই লাশ কাটা ঘরে।
প্রথমত রেটিং 3.5 🙂 তার আগে গল্প অনুযায়ী রেটিং দিতে চাই: মগজ: ৪/৫ বিষ: ৩.৫/৫ সন্দেহ: ২.৮/৫ (এটা সবচেয়ে দুর্বল এন্ডিং লাগছে) ঈশ্বর: ৩.৫/৫ লাশকাটা ঘরে: ৪.৫/৫(এটা নির্দ্বিধায় ভালো ছিলো)
"লাশ কাটা ঘরে" বইটি মূলত একটি থ্রিলার গল্প সংকলন । মোট পাঁচটি গল্পের সমন্বয়ে এর গঠন । ব্যক্তিগত ভাবে আমি ভাগ্যবান,কারণ শুরু থেকেই এই প্রজেক্টের সাথে জড়িত হতে পেরেছিলাম । যার ফলে খুব কাছ থেকে কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয় দেখার সুযোগ হয়েছিলো । তারমধ্যে একটি হলো গল্প গুলোর পুরোটা পড়তে পারা । যেহেতু বইটা আর কিছুদিন পরেই প্রকাশিত হচ্ছে, তাই আমার মতে এবার বইটা নিয়ে নিজের কিছু ভাবনা তুলে ধরার সময় হয়েছে । প্রথমত, যে কথাটা বলতে চাই তা হলো এই বইয়ে আপনি ক্রমানুসারে বিভিন্ন ধাঁচের থ্রিলার গল্পের স্বাদ পাবেন । কখনো মার্ডার মিষ্ট্রি, কখনো বা প্যারানরমাল আবার কখনো সাইকোলজিক্যাল টার্ম নিয়ে লিখা । নব্য লেখক হওয়া সত্ত্বেও উনার রচনাশৈলী ছিলো বেশ পরিপক্ক আর যার কারণ হয়তো দীর্ঘদিনের লেখালেখির অভ্যাস । প্রতিটা গল্পে আপনি কিছু না কিছু ভিন্নতা পাবেন, যা সাধারণত মারাত্মক কোনো টুইস্ট টার্নার ছাড়াই আপনার মাঝে রোমাঞ্চ সৃষ্টি করতে পারবে বলে বিশ্বাস করি। আমার জানা মতে গল্পগুলো লিখার সময় লেখক নিঝুম ভাই মূলত দুটি দিকে খেয়াল রেখেছিলেন । এর মধ্যে একটি হলো থ্রিলারের সঠিক মান বজায় রেখে পাঠকবান্ধব করা, আর দ্বিতীয়টি হলো আত্মসন্তুষ্টি । আমার মতে এই দুই নাম্বার বিষয়টিই তার লেখাকে একটা একক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে (অবশ্যই সেটা শুধুই আমার অভিমত) । তবে অতিরঞ্জিত করে বলার চেয়ে আমি সাধারণ অর্থেই বলতে চাই,পুরো সংকলনের প্রতিটা গল্প আমাকে নিজের মতো করে ভাববার সুযোগ দিয়েছে;হয়তো কখনো চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়ে, কিংবা কখনো কাহিনীর প্রেক্ষাপট নিয়ে। তবে কেউ যদি ভেবে থাকেন পুরো বই জুড়ে রোলার কোস্টার গতি থাকবে, তবে সেটা ভুল । ছোটো পরিসর হলেও লেখক সময় নিয়ে গল্প সাজিয়েছেন। আর আমার কাছে এই বিষয়টা ভালো লাগে ।
This entire review has been hidden because of spoilers.
বইয়ের নাম :- লাশকাটা ঘরে লেখক :- নিঝুম প্রচ্ছদ :- জাওয়াদ উল আলম প্রকাশনী :- বেনজিন প্রকাশন প্রথম প্রকাশ :- বইমেলা ২০২২ মুদ্রিত মূল্য :- ২৩৫ ৳ পৃষ্ঠা :- ১৫০
অনুভূতি কথন :-
লাশকাটা ঘরে বইটি লেখকের একক থ্রিলার গল্প সংকলন। বইটিতে রোমাঞ্চকর ৫ টি গল্প রয়েছে। প্রত্যেকটা গল্প মোটামুটি বেশ ভালো লেগেছে। প্রত্যেকটা গল্পে একটা আলাদা সর্তকবার্তা ও শিক্ষণীয় বিষয় বস্তু আছে আমাদের জন্য। আশাকরি সবগুলো গল্প পাঠকের ভালো লাগবে।
➰ মগজ
পার্কে ঘুরতে গিয়ে পরিচয় হয় জায়েদ ও আলফির। আলফি একজন ফ্রিল্যান্সার তবে মাঝেমধ্যে প্রকৃতির মাঝে মিশে লেখালেখি করে এবং জায়েদ পেশায় ডাক্তার। আলফি কথায় এতটা মগ্ন ও আসক্তি হয়ে যায় যে প্রথম দেখায় অপরিচিত এক ডাক্তারের বাসায় চলে যায়। একজন সিরিয়াল কিলার কিভাবে শহরে এট্যাক করে মগজ খেয়ে ফেলছে এটাই গল্পের মূল বিষয়। সিরিয়াল কিলার স্যাপিওসেক্সুয়াল যে মানুষের প্রতিভার প্রেমে পড়ে। পড়ার আগেই পুরোটা আন্দাজ করা যায় এটা বেশ খারাপ লেগেছে। তবে দুজন ব্যাক্তির কথোপকথনের মাধ্যমে ইতিহাস, কবিতা, কয়েকটা বইয়ের বর্ণনা বেশ উপভোগ করেছি। বইয়ের প্রথম গল্প হিসেবে বেশ মানানসই গল্পটি,যা পরবর্তী গল্পগুলো পড়তে বাধ্য করে।
রেটিং :- ৪/৫
➰ বিষ
বইয়ের ২য় গল্প বিষ যা আমার কাছে মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার মনে হয়েছে। ইমতিয়াজ আহমেদ বাগান বেশ ভালোবাসেন। মাহিন অপরাধ হওয়ার আগেই অপরাধ ঠেকাতে উপস্থিত হোন ইমতিয়াজ আহমেদ এর বারিতে। দুইবন্ধুর বুদ্ধির লড়াই বেশ উপভোগ করেছি। গল্পে ভালবাসা,পরোকিয়া,অন্যায় করার প্রবণতা, ও বন্ধুত্ব বিষয় বেশ সুন্দর করে ফুটে উঠেছে। তবে বইয়ে বেশ কিছু জিনিস ঘাটতি রয়েছে যা হলো মাহিন এত ইনফরমেশন মিরাক্কেল এর মতো পেয়ে গেলো যা বেশ দৃষ্টিকটু লেগেছে।
রেটিং :- ৩.৫/৫
➰ সন্দেহ
এই গল্পটা সকলের জন্য শিক্ষণীয়। আমরা অনেকেই সন্দেহের বশত সমস্যা আরো বাড়িয়ে ফেলি। একটু ভুলের জন্য জয়িতাকে অনেক বড় মাশুল দিতে হয়েছে। এদিকে পুলিশ অফ���সার তদন্ত প্রক্রিয়া ছাড়াই কেস ক্লোজ করে দিল শুধুমাত্র সে জয়িতার প্রাক্তন সেজন্য। এই গল্পটা আরো চমৎকার হতে পারতো, এই গল্পটাতেও বেশ কিছু অসংগতি রয়েছে।
রেটিং :- ৩/৫
➰ ঈশ্বর
একজন শিক্ষক ও ছাত্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দেখানো হয়েছে এই গল্পে। শিক্ষক ও ছাত্রের যুক্তিযুক্ত বাক দ্বন্দ বেশ উপভোগ্য। তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু বেশ ভালো লেগেছে।
রেটিং :- ৪.৫/৫
➰ লাশকাটা ঘরে
লাশকাটা ঘরে গল্পটা প্রত্যাকের আত্মহত্যার পিছনের গল্পকে ঘিরে ফুটে উঠেছে। প্রত্যেকের আলাদা দুঃখকষ্টের কথা বলা গল্পের প্রধান আকর্ষণ। আর এই গ���্পের কবিতাগুলো বেশ উপভোগ করেছি। এই গল্পটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।
রেটিং :- ৫/৫
প্রচ্ছদ,বানান ও অন্যান্য :-
বইয়ের প্রচ্ছদটা অনেক সুন্দর ও বানান ভুল কম থাকায় বইটা পড়ে বেশ তৃপ্তি পেয়েছি। লাশাকাটা ঘরে বইটায় রোমাঞ্চকর থ্রিলার গল্প রয়েছে। নতুন লেখক হলেও লেখা বেশ প্রমিজিং। তার কাছে চমৎকার একটা থ্রিলার উপন্যাস আশাবাদী। আশাকরি গল্প সংকলনটা সকলের ভাল লাগবে।
“লাশকাটা ঘরে” বইটি পাঁচটি ছোট গল্প নিয়ে লেখকের একক গল্পসংকলন। একেকটা গল্প একেক স্বাদের, একেক জনরার। যা বেশ উপভোগ্য করে তুলেছে। এক্ষেত্রে লেখকের প্রশংসা করতেই হয়।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ◽মগজ শহরে মগজবিহীন লাশ পাওয়া যাচ্ছে। লাশের মগজ যাচ্ছেটা কোথায়? খুনি মগজগুলো দিয়ে করছেটাই বা কি? এমন এক বিকৃত মস্তিকের সিরিয়াল কিলার নিয়ে লেখা গল্প। গল্পের শুরুটা এবং ধাপে ধাপে এগোনাটা বেশ ভালো লেগেছে। শেষটা অনেকেই আন্দাজ করতে পারবেন তেমন আমিও পেরেছিলাম। তবে লেখক শেষ দুয়েকটা লাইনে একটু টুইস্ট ধরিয়ে দিছে। এই ব্যাপারটা বেশ সুন্দর।
◽বিষ এই গল্পটা আগাথা ক্রিস্টির একটা গল্পের এডাপটেশন। গল্পের প্লটটা আমার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে। খুনের আগেই খুনিকে ধরার প্রচেষ্টা। গল্পটা আমার কাছে মোটামুটি লেগেছে।
◽সন্দেহ আত্মহত্যা করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় মৃত্যু। যেখানে তারা পারফেক্ট কাপল সেখানে কেনো তার স্বামী বিবাহবার্ষিকীর দিনই আত্মহত্যা করতে গেলো? আসলেও কি এটা আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত মৃত্যু? গল্পটা বেশ সিম্পল তবে উপভোগ্য। তবে গল্পটা আরেকটু বড় হলেও মন্দ হতো না।
◽ঈশ্বর আমার কাছে বইয়ের প্রিয় গল্প এটা। একটা থিওরি যার কোনো যুক্তি নেই, আবার ফেলে দেওয়াও যায় না। অতীতের রহস্যময়, কাকতালীয় কিছু ঘটনা যার ব্যাখ্যা নেই এমন কিছুই যেনো ধীরে ধীরে ভয়ংকর কিছুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সেই ব্যাখ্যা বা সত্য আসলেই কি মানবজাতীর জন্য হুমকির নাকি পুরোটাই এক ছাত্রের পাগলামী। গল্পটা লেখক আরও বড় করতে পারতেন, মনে হচ্ছে যেনো অল্পতেই শেষ হয়ে গেলো।
◽লাশকাটা ঘরে লাশকাটা ঘরে আড্ডা জমেছে। বেশ কিছু লাশ তাদের গল্প বলে যাচ্ছে। প্রত্যেকের জীবনের গল্প আমাদের বাস্তব সমাজেরই রূপ। প্রত্যেকেই এই ঘরে এসেছে আলাদা আলাদা গল্প নিয়ে, আলাদা আলাদা যন্ত্রণা নিয়ে। এই গল্পটাতেই লেখকের লেখার পূর্ণতা একদম পরিপূর্ণ ভাবে ফুটে উঠেছে। বইয়ের সেরা গল্প হিসেবে এটাকেই বলা যায়।
◾বানান বইয়ে অল্প কিছু ছোটখাটো ভুল ছাড়া তেমন কোনো বানানের ভুল চোখে পড়েনি।
◾প্রচ্ছদ ও বাধাই বইয়ের প্রচ্ছদটা সত্যিই অসাধারণ হয়েছে। আর বাধাই মোটামুটি। আমার বইয়ের বাধাই এখনই নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে।
অসাধারণ বই। বলতে গেলে পকেট ডায়নামো। লেখনী বেশ পরিপক্ব মনে হয়নি লেখকের প্রথম বই। কবিতাগুলো বেশ ভালো লাগছে। পাশাপাশি ভালো রেফারেন্স টেনেছেন। কয়েকটা জনরার মিশেল একটা বই, থ্রিলার, স্পিরিচুয়াল, স্যাটায়ার আর হাল্কা সায়েন্সফিকশন টাইপ। অভার অল জোশ। অনেক এঞ্জয় করছি।
আমার ছোটোগল্প তেমন ভালো লাগে না। মনে হয়, এই বুঝি শেষ হয়ে গেল! আরেকটু যদি থাকত! তাই বেশিরভাগ সময় ছোটোগল্পগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। কখনো হয়, কখনো না। এই তো পড়লাম, লেখক নিঝুম-এর লেখা লাশকাটা ঘরে। পাঁচটি ছোটোগল্প নিয়ে লেখকের প্রথম একক গল্পসংকলন। কেমন ছিল বইটি? আলোচনা করব সে বিষয়ে।
• পাঠ প্রতিক্রিয়া :
• মগজ : এই গল্পটি খারাপ না। বেশ উপভোগ করেছি। তবে আগে থেকেই পরবর্তী ধারণা করা যাচ্ছিল পরবর্তীতে কী হতে পারে। তবে শেষের টুইস্টের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। না। শেষ হয়েও হইলো না শেষ, এই ধরণের। যে কারণে আমি ছোটোগল্প এড়িয়ে চলি। রেটিং : ৩.৫/৫
• বিষ : আগাথা ক্রিস্টির একটি গল্পের ছায়া অবলম্বনে লেখা গল্পটিতে বেশ তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট। সম্ভবত বইটির সবচেয়ে দুর্বল গল্পও। তবে ঠিক খারাপও না তেমন। আরও ভালো হয়ত হতে পারত। রেটিং : ৩/৫
• সন্দেহ : এই গল্পটা বাস্তবের সাথে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা মানুষের বাহ্যিক আবরণ দেখেই ভেতরটা অনুমান করার চেষ্টা করি। কিন্তু সেই মনে কী আছে, আদৌ তা বুঝতে চেষ্টা করি কয়জন? ফলে ভুল বোঝাবুঝি হয়, আর তা মানুষকে অপরাধ জগতে নিয়ে যায়। এই গল্পের বিষয়বস্তু অনেকটাই তেমন। শেষের দিকটা প্রেডিক্টেবল ছিল। রেটিং : ৩.৫/৫
• ঈশ্বর : পুরো বইয়ে এই গল্পটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। তার প্রধান কারণ শেষের টুইস্ট। আসলে এর জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। তাছাড়া গল্পটিতে চিন্তা ভাবনা করার জন্য অনেক উপাদান আছে। কিন্তু, শেষের অংশটুকু না থাকলে আরও ভালো হতো মনে হয়। শেষ হয়েও হইলো না শেষ, ধরণ এই গল্পের সাথে মানিয়ে যেত। পাঠক নিজের মতো করে কল্পনা করে নিত। রেটিং : ৪.৫/৫
• লাশকাটা ঘরে : গল্পটির নামানুসারে বইটির নাম রাখা হয়েছে। এক গল্পের সবচেয়ে ভালো দিক ছিল টুকরো টুকরো অংশে বাস্তব কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মাঝের কবিতাগুলো আর আগন্তুকের পরিচয় ভালো ছিল। অবশ্য কবিতার অংশগুলো জানলে এমনিতেই আগন্তুকের পরিচয় বের করে ফেলা সম্ভব। রেটিং : ৪/৫
• শেষ কথা : প্রথম বই হিসেবে লেখকের লেখনী ভালো লেগেছে। তিনি পাঠককে ধরে রাখতে পারবেন। সহজ সাবলীল লেখা। তবে বানানের ক্ষেত্রে অনেক ভুল লক্ষ্য করেছি। আমরা কথা বলার সময় অনেকভাবেই উচ্চারণ করি, কিন্তু লেখার সময় বানান যথাযথ হতে হয়। যেমন, কথা বলতে গেলে বুঝা, বুঝানো, ঢুকা ইত্যাদি বললেও লেখার সময় বোঝা, বোঝানো, ঢোকা ইত্যাদি বানানে লিখতে হবে। এমন অনেক ভুল ছিল। এছাড়া কিছু অনেক ক্ষেত্রে প্রমিত বানানরীতি অনুসরণ করা হয়নি। কিছু জায়গায় একই বানান দুই জায়গায় দুইরকম ছিল। প্রুফ রিডিংয়ে যত্ন নেওয়া হয়নি। আশাকরি লেখক তার ভুলগুলো শুধরে নিবেন। ক্রাউন সাইজের কিউট বইটার প্রোডাকশন ভালো ছিল। লেখকের জন্য শুভকামনা।
বই : লাশকাটা ঘরে লেখক : নিঝুম প্রকাশনী : বেনজিন পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৫২ মুদ্রিত মূল্য : ২৩৫৳
লেখক নিঝুমের প্রথম মৌলিক “লাশকাটা ঘরে” বইটি পাঁচটি ছোট গল্পের সংকলণ। প্রথম বই হিসাবে লেখকের লেখনী আমার বেশ লেগেছে। ছোট্ট গল্প লেখা আসলে সহজ কাজ নয়। পরিসর ছোট্ট বলে অল্প কথায় পাঠককে মোহগ্রস্ত করার চাপ থাকে বলে ভজকট পাকানোর স��যোগও বেশি। এই বইয়ের গল্পগুলো পড়ার সময় এমন ভজকট নজরে পড়েনি। লেখনী বেশ ঝরঝরে লেগেছে। গল্পগুলোর মূল প্রতিপাদ্যও সচরাচর চোখে পড়ে এমন নয়। আমার মনে হয়েছে আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন পাঁচটি গল্পের মধ্য দিয়ে লেখক আসলে একটা গল্পই বলতে চেয়েছেন- “বেঁচে থাকার সাধ”-এর গল্প। পথম গল্প “মগজ” পড়ে পাঠক ভাববে, “আসলেই, মগজের জোরের কাছে সবই নস্যি।” দ্বিতীয় গল্প “বিষ” পড়ে পাঠক দ্বিধান্তিত হবে, “আসলেও কি মগজের জোর বেশি? তাই যদি হয় তবে বুদ্ধিমান মানুষেরাও আবেগের ফাঁদে পড়ে বোকামি করে বসে কেন?” তৃতীয় গল্প “সন্দেহ” পড়ে পাঠক ভাববে, “নাহ, আসলে কার জোর বেশি এটা মুখ্য নয়। মগজ আর আবেগ আসলে মিলেমিশে কাজ করবার জন্য তৈরি। আবেগের বশে তাই গ্যাঞ্জাম করে ফেললেও মগজের ধার দিয়ে সেটা কাটানো সম্ভব।” চতুর্থ গল্প “ঈশ্বর” পড়ে মনে হবে, “আচ্ছা, মগজের জোরে আবেগের দোষ ধামা চাপা দিলাম নাহয়, কিন্তু ঈশ্বরের হাত থেকে তো বাঁচার কথা নয়, তাই না? তবে কি যারা আবেগের দোষ মগজের জোরে ধামাচাপা দেয়, তারা ঈশ্বরে ভয় পায় না? নাকি মানে না?? নাকি ঈশ্বরও মাঝেসাঝে ভজকট পাকায়?” শেষ গল্প “লাশকাটা ঘরে” এসে পাঠক বলবে, “আসলে এটাই। ঈশ্বরের ভয় নিজেকে শেষ করে দেয়ার হাত থেকে কাউকে বাঁচাতে পারে না। বাঁচবার জন্য “মরিবার সাধ”- কে হারিয়ে দিতে হয়; “বাঁচতে চাই” আর “মরতে চাই” এই দুই আবেগের মধ্যেই আসলে লড়াইটা চলে দিন শেষে। হয়তো লেখক আদৌ এমন ভেবে গল্পগুলো লেখেনি কিংবা এমন চিন্তা মাথায় রেখে গল্পগুলোর ক্রম সাজায়নি। কিন্তু আমি এভাবেই ভাবতে চাই। “লাশকাটা ঘরে” আমার কাছে একটা নিছক অতিপ্রাকৃত-থ্রিলার গল্পের সংকলন হয়ে থাকবে না; এই বইটা আমার কাছে মৃত্যুর সাধকে হার মানানো এক মানুষের বাঁচার স্পৃহার জয়ের গল্প হয়েই থাকবে।
৫ খানা থ্রিলার গল্প সংকলনে লেখা বইটি ভালো ছিলো, ঘটনার প্রতিটি অংশেই ছিলো রোমাঞ্চকর ব্যাপার,। মগজখেকো,দেজা ভ্যু থিউরি আবিষ্কার কিংবা লাশ কাটা ঘরের লাশদের আড্ডা জমানোর মধ্য দিয়ে উঠে আসা সমাজের নানান অসংগতির ব্যাপারটি বেশ চমৎকার ভাবে উপস্থিত হয়েছে।
#কিছু বানানের ভুল ও প্রিন্টিং মিস্টেক ছিলো এছাড়া সব ভালো লেগেছে।
যথেষ্ট ভালো লেখনী। গল্পের প্লটও ভালো। ৫ টা গল্পের মাঝে, "মগজ" টা একটু খাপছাড়া লেগেছে, যেন চটজলদি শেষ হয়ে গেল! "ঈশ্বর" এর শেষাংশ বুঝতে একটু বেগ পেতে হয়েছে আমাকে! তবে সবগুলো গল্পই নিদারুণ উপভোগ করেছি।
আমার কাছে ৫টি গল্প মিলিয়ে ওভারঅল এভারেজ লেগেছে। মানে মনে গেঁথে যাওয়ার মত না কোনোটাই। বিভিন্ন জনরা মিলিয়ে গল্পগুলো। ভালোলাগা অনুসারে সিরিয়াল করতে হলে শেষের গল্পটিকেই (লাশকাটা ঘর) শুরুতে রাখবো।
নতুন লেখক হিসেবে ভালো প্রয়াস। আশা করি সামনে আরও ভালো ভালো কাজ দেখতে পাবো। শুভকামনা রইলো।
৫ টা ছোট গল্প নিয়ে বইটা লিখা।একদম বাচ্চা বই কিন্তু প্রতিটা গল্প একটু হলেও আপনার মাইন্ড নিয়ে খেলবে।৫ রকমের হওয়ায় বোরিং লাগবেনা আর পিচ্চি বাচ্চা একটা বই তাই ১ ঘন্টা হয়তো লাগবে পড়তে।
শোনা গেল লাশকাটা ঘরে নিয়ে গেছে তারে; কাল রাতে— ফাল্গুনের রাতের আঁধারে যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ মরিবার হ’লো তার সাধ;
'লাশকাটা ঘরে' মূলত লেখকের একক থ্রিলার গল্প সংকলন। ভিন্ন ধাঁচের পাঁচটা দারুণ গল্পের সমন্বয়ে বইটি সাজানো হয়েছে।
বইয়ের প্রথম গল্পের নাম 'মগজ'। যেখানে আমরা দেখতে পাই, পার্কে ঘুরতে এসে দুজন ব্যাক্তির দেখা। আলাপে আলাপে পরিচয় থেকে বাড়িতে দাওয়াত পর্যন্ত গড়ালো বিষয়টা। এদিকে শহরে এক মগজখেকোর আবির্ভাব ঘটেছে। পাওয়া যাচ্ছে মগজ বিহীন লাশ। শেষ পর্যন্ত কি পরিণতি হবে ওই দুই ব্যাক্তির? মগজখেকো কি ধরা পড়বে?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ এই গল্পটা আমার মোটামুটি মানের লেগেছে। বেশি খারাপও বলবো না বেশি ভালোও বলবো না। গল্পের শুরু থেকেই অনেকটা আচঁ করতে পারা যাচ্ছিল পরবর্তীতে কি হবে। তবে গল্পের প্লটটা বেশ ভালো ছিলো লেখক চাইলে গল্পটাকে আরেকটু ইউনিকভাবে লিখতে পারতেন তবে ওভারঅল ভালো ছিলো গল্পটা। ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৩/৫
বইয়ের দ্বিতীয় গল্পের নাম হলো 'বিষ'। খুন ঠেকাতে বহুদিনের পুরোনো রাগ ভুলে লেখক বন্ধু ইমতিয়াজের সাথে দেখা করতে গেলো পুলিশ অফিসার মাহিন। আসলেই কি তা খুন, নাকি কাউকে ফাঁসানোর ঘৃণ্যতম ষড়যন্ত্র?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ 'বিষ' গল্পটা মূলত রহস্যের রানি আগাথা ক্রিস্টির 'Wasp's Nest' গল্পের ছায়া অবলম্বনে লেখা। তবে লেখক নিজেও তার নিজস্বতা ও অসাধারণত্ব দেখিয়েছেন। গল্পের ডিটেইলিং ছিলো ভালো। আগের গল্পের তুলনায় এই গল্পটা বেশ দারুণ ছিলো। লেখনীও ছিলো নিখুঁত। ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৩.৫/৫
তৃতীয় গল্প 'সন্দেহ'। আত্নহত্যা করতে গিয়ে দূর্ঘটনা বশতঃ পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে জয়িতার স্বামী রাজিবের। তদন্ত করতে এসেছে তারই প্রাক্তন প্রেমিক শফিকুল। কেন আত্নহত্যা করতে চাইলো রাজীব? তদন্ত কি সঠিক পথে এগুবে? নাকি নিছক দূর্ঘটনা থেকে শুরু হবে কাছে আসার নতুন গল্প?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ এই গল্পটা বেশ রোমাঞ্চকর ছিলো। লেখক মূলত এই গল্পে সুন্দর একটি ম্যাসেজ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অনেকসময় দেখা যায় আমরা সন্দেহের বশে অনেককিছু করে ফেলি কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় ঠিক তার উল্টোটাই ঘটে। এই গল্পের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। গল্পের প্লটটাও বেশ ভালো ছিলো লেখক দারুণভাবে গল্পটাকে সাজিয়ে লিখেছেনও। গল্পটায় বলা যায় পাঠকদের ধরে রাখার একটা টান আছে। ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫
বইয়ের চতুর্থ গল্প 'ঈশ্বর'। বইয়ের এই গল্পটি বলা যায় আমার অন্যতম প্রিয় একটি গল্প। ভাবতে ভাবতে শুভ একদিন এমন এক থিওরি আবিষ্কার করে ফেললো যা পরিবর্তন করে দিতে পারে মানবজীবনে উদ্দেশ্যই। সে তা শেয়ার করতে গেলো তারই ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক প্রফেসর মঞ্জুরের কাছে। এ বিষয়ে জানাটাই কি কাল হয়ে দাঁড়ালো তাদের দুজনের জন্য?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ এই গল্পের পরতে পরতে রহস্য ও মাথা নষ্ট করা সব থিওরি! গল্পের শেষে রয়েছে এক দারুণ টুইষ্ট যা খুব সহজেই পাঠকদের ভালে লাগবে! এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলা যায় এমন গল্প। চুম্বকের মতো টান এই গল্পে আছে। বুঝা যায় লেখক অনেক শ্রম দিয়েছেন গল্পটার পিছনে। ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫
এখন আসি আমার সবচাইতে প্রিয় ও বইয়ের শেষ গল্প 'লাশকাটা ঘরে'। জীবনানন্দ দাশের 'আট বছর আগের একদিন' কবিতা শুনে জেগে উঠলো একজন। লাশকাটা ঘরে আড্ডা জমিয়েছে বেশ কয়েকজন লাশ। তাদের মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে দিয়ে উঠে আসলো সমাজের নানা অসংগতি। কিন্তু তাদের গল্প শুনছে কে এই আগন্তুক?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ আমাদের সমাজের ঘটে যাওয়া বেশকিছু বাস্তব ঘটনা নিয়ে সাজানো এই গল্পটি। ঠিক যেনো আমাদের চারপাশে নিত্যদিনই এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে যা মূহুর্তেই চোখের পলকে ঢাকা পরে যায়। লেখক সেই ঘটনাগুলো অসাধারণভাবে এই গল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। গল্পটার লেখনী, প্লট, সাজানোর ধরণ সবকিছুই যাস্ট ফাটাফাটি ছিলো। গল্পটা আরেকটু বড় হলে ভালো হতো। ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৫/৫
স্টোরি টেলিংঃ বইয়ের প্রতিটা গল্পের স্টোরি টেলিং হয়েছে যথাযথ ভাবে। বেশ দাপুটে প্লট ছিলো গল্পগুলোর। প্রথম গল্পটা যদিও একটু সাদামাটা লেগেছে তবে পরবর্তী সবগুলো গল্পই দারুণভাবে বইটাকে এগিয়েছে নিয়েছে। প্লট মেকিং ও স্টোরি বিল্ডাপ করা হয়েছে সুন্দরভাবে, এছাড়াও বইয়ের সেটিং ও থিম এনালাইসিস ছিলো দারুণ। সাধরণত লেখক এসবের সমন্বয়ে একটি বই রচনা করে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। আর লেখক সেখানেই নিজের বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণত্ব দেখিয়েছেন।
লিখনশৈলীঃ লেখকের লিখনশৈলী অসাধারণ ছিলো। অবাক করার মতো বিষয় হলো এটা লেখকের প্রথম বই এবং লেখকের প্রকাশভঙ্গী ও লিখনশৈলী পড়ে মনেই হচ্ছিল না যে নবীন কোন লেখকের বই পড়ছি, মনে হচ্ছিল বড় কোন লেখকের বই পড়ছি। খুব সুন্দর এবং সাবলীল ভাষায় তিনি বইটা সাজিয়েছেন।
নেগেটিভ দিকঃ নেগেটিভ দিক নিয়ে কথা বললে বলতেই হয় বইয়ের প্রথম গল্প 'মগজ' সম্বধে। প্রথম গল্পটা লেখক আরেকটু ফুটিয়ে তুললে ভালো হতো। গল্পে তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট ছিলো এবং ঈশ্বর গল্পের ক্ষেত্রেও তাড়াহুড়ো লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও বইয়ে কিছু যুক্তি ছিলো যা আমার মতে আরেকটু ক্লিয়ার করা যেতো। বানান ভুল ছিলো তবে তা পড়তে গিয়ে তেমন অসুবিধে করেনি।
প্রডাকশন প্রচ্ছদঃ দারুণ এই প্রচ্ছদটি করেছেন জাওয়াদ উল আলম। ক্রাউন সাইজ এই বইয়ের প্রোডাকশন খুব ভালো হয়েছে। পৃষ্ঠার মান, প্রচ্ছদ, ডাস্ট কাভার, কালার কম্বিনেশন ফন্ট সবগুলোই এক কথায় অসাধারণ। এর জন্য প্রকাশনীকে সাধুবাদ দিতেই হবে।
ব্যাক্তিগত মতামতঃ লেখক সর্বসাকুল্যে চেষ্টা করেছেন গল্পগুলোতে নতুনত্ব দেওয়ার এবং বলতে হয় অনেকখানি সফলও হয়েছেন। লেখকের এ ধরণের নতুনত্ব নিয়ে আসা আমার মনে হয় পাঠককে বইয়ের জগতে একটি নতুন ধারণার সাথে পরিচয় করে দিবে। সর্বশেষ বলতে চাই বইটা বেশ ভালো ছিলো। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। চমৎকার আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। এক বসায় পড়ে ফেলার মতো একটি বই। বইটাতে পাঠকদের ধরে রাখার একটা টান আছে। পাঠক বইটি পড়ে বেশ রোমাঞ্চিত ও উপভোগ্য করবে বলে আমি মনে করি। লেখকের জন্য অসংখ্য ভালোবাসা ও শুভকামনা রইলো।