মূল বইয়ের নাম Every man his own Detective, এবং লেখক ছিলেন R Reid, তখনকার দিনে(প্রায় ১৫০ বছর আগে) কলকাতায় ডিটেকটিভ হিসেবে কাজ করতেন। সপ্তম এডওয়ার্ড যখন যুবরাজরূপে কলকাতায় ছিলেন তখন রীড সাহেব তাঁর দেহরক্ষী নিযুক্ত হয়েছিলেন।
মূল বইটি ১৮৮৭ সালে লেখা তৎকালীন সময়ে কলকাতার বিভিন্ন কেস নিয়ে এবং মূল বইয়ে বক্তৃতা অংশ বেশি ছিল। অনুবাদ বইয়ে সবই বাদ দিয়ে শুধু কাহিনীগুলো রাখা হয়েছে। মূল বইটা প্রকাশের প্রায় ১০০ বছর পর বইটার অনুবাদ করা হয়েছে।
গ্রন্থাগার রীড সম্ভবত সিপাহি বিদ্রোহের পরেই কলকাতা পুলিশে যোগদান করেন। তার দীর্ঘ পুলিশ জীবনের অভিজ্ঞতা, বিশেষত গোয়েন্দা বিভাগে, তিনি লিপিবদ্ধ করেছিলেন মূলত গোয়েন্দা বিভাগের অফিসারদের বিভাগীয় কাজে দক্ষ করে তোলার জন্য।
জনাব রীড নানারকম দৃষ্টান্তমূলক ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সফল গোয়েন্দার আবশ্যকীয় গুণাবলী অর্থাৎ তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য অপরাধীর সঙ্গে কথোপকথন এগুলি খুবই সরস ও সরলভাবে বিবৃত করেছেন। তাঁর কলমে আমরা শুধু যে একজন অত্যন্ত দক্ষ গোয়েন্দাকে পাই, তা নয়, আমাদের বিশেষ প্রাপ্তি ঘটে নানাধরনের মানুষজন, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন থেকে শুরু করে সেই পুরনো কলকাতার রাস্তাঘাট, পরিবেশের অত্যন্ত সরস উপস্থাপনা। উপরের লেখাটুকুর অধিকাংশ বইয়ের ভূমিকা থেকে নেয়া হয়েছে।
বইটা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে অনেক ভালো লেগেছে। অনেক অল্প পরিসরে তৎকালীন সময়কার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেস সম্পর্কে জানতে পেরেছি। সাধারণ পাঠক হিসেবে যদি পুলিশের তদন্তের খুটিনাটি বর্ণনা থাকতো তাহলে হয়তো পাঠক হিসেবে পড়তে একঘেয়েমি লাগতো, এক্ষেত্রে অনুবাদক দারুণ কাজ করেছেন। কাহিনীগুলো লেখক রীডের নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা এবং সংক্ষিপ্ত হলেও যথেষ্ট আকর্ষণীয় বলা যায়। আমার কাছে পুরো বইটাই ভালো লেগেছে। সবগুলো কেস কমবেশি পড়ে মজা পেয়েছি। বইটা অনেকটা আন্ডাররেটেড লাগলো।