Nirad C. Chaudhuri (Bangla: নীরদ চন্দ্র চৌধুরী Nirod Chôndro Choudhuri) was a Bengali−English writer and cultural commentator. He was born in 1897 in Kishoreganj, which today is part of Bangladesh but at that time was part of Bengal, a region of British India.
He was awarded the Sahitya Akademi Award, in 1975 for his biography on Max Müller called Scholar Extraordinary, by the Sahitya Akademi, India's national academy of letters. In 1992, he was honoured by Queen Elizabeth II of the United Kingdom with the title of Commander of Order of the British Empire (CBE). His 1965 work The Continent of Circe earned him the Duff Cooper Memorial Award, becoming the first and only Indian to be selected for the prize.
In 1951 he published his most famous book, Autobiography of an Unknown Indian, a penetrating and challenging analysis of Indian history, culture and British rule. The controversial dedication to the memory of the British Empire caused a furore at the time but the book is now considered a classic work of Indian literature. He was awarded the Duff Cooper Memorial Prize for The Continent of Circe (1965), was made CBE in 1992 and received the Hon.D.Litt from the University of Oxford; the University of Viswa Bharati also awarded him Deshikottama, its highest honorary degree.
A passionate admirer of western culture, he first visited England in 1955, a visit which inspired his book Passage to England. He decided to make his home in Oxford in 1970 when he was over seventy. He was a familiar and arresting sight out and about in Oxford, a diminutive figure, always impeccably dressed in a three-piece suit, although he wore Indian attire at home. He wrote his last book Three Horsemen of the New Apocalypse only a year before his death at the age of nearly 102.
এই বইয়ের নাম ‘বাঙালী জীবনে রমণী’ না হয়ে ‘বাঙালী সাহিত্যে রমণী’ হলেই বোধহয় বেশি উপযুক্ত হত। প্রাচীন বাংলা সাহিত্য থেকে শুরু করে আধুনিক সাহিত্যে নারী চরিত্র এবং তার অবস্থানই মূলত বইয়ের আলোচনার বিষয়। নীরদচন্দ্র চৌধুরীর লেখার সাথে এবারই প্রথম পরিচয় এবং অভিজ্ঞতা বেশ হতাশাজনক। বই পড়তে যেয়ে মনে হয়েছে কুয়াশায় হাতড়ে হাতড়ে পথচলার মত, যদিও এটা সম্পূর্ণই আমার অক্ষমতা। বেশকিছু অংশ পড়ে বুঝতে পারিনি, কিছু পড়ে বিরক্ত হয়েছি, কিছু অনুমান করেছি, তবে যেটুকু পড়ে উপভোগ করেছি তা আসলেই অসাধারণ। ৩ তারা সেজন্যই। দু’চার পাতা উপন্যাস পড়ে নিজেকে বেশ বিদগ্ধ সাহিত্য বোদ্ধা বলে মনে করতাম। এতদিনে সেই দর্প চূর্ণ হল বৈকি!
প্রথমত, বইটার নামকরণে গোলমাল আছে। এই বইটি বঙ্গজীবনে নারীর অবস্থান, ভূমিকা, গুরুত্ব, তার অতীত, পরিবর্তনশীল বর্তমান, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, এসব নিয়ে আদৌ লেখা নয়। এটি স্বল্পমাত্রায় বাংলা এবং বেশি করে ধ্রুপদী সাহিত্যে নারীর ডেপিকশন বা পোর্ট্রেয়াল নিয়ে লেখা। দ্বিতীয়ত, ওই বিষয়ে ব্যাপ্তি ও গভীরতায় এমন একটি বই লিখতে যে পাণ্ডিত্য ও নির্মোহ মানসিকতা প্রয়োজন, তা লেখকের ছিল। তাই তাঁর সময়ে দাঁড়িয়েও তিনি এমন একটি লেখা পেশ করেছেন যা এখনও দেদীপ্যমান তথা জ্বলন্ত। তৃতীয়ত, কোনো প্রাবন্ধিক ও গবেষক স্বাধীনতার পর ভারত, পূর্ব পাকিস্তান, এবং বাংলাদেশের সাহিত্যে ('জীবনে' নয়। সেটা একান্তভাবেই সমাজতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক, এবং নারীবাদীর এক্তিয়ারে চলে যাবে) নারীর বদলাতে থাকা অবস্থা তথা অবস্থান নিয়ে এমন করেই কিছু লিখবেন, সেই আশায় আছি। তবে কাজটা অসম্ভব কঠিন, কারণ আলোচ্য বইয়ের লেখকের মতো পার্সপেক্টিভ ও জ্ঞান অর্জন করা 'মুশকিল হি নহি, নামুমকিন হ্যায়' বলে মনে হয়েছে। আমি লেখাটা নীরদচন্দ্র চৌধুরী শতবার্ষিকী সংকলন-এর অংশ হিসেবে পড়লাম। আপনারা যদি বইটি আলাদাভাবে পান, তাহলেও অতি অবশ্যই পড়ুন। এই লেভেলের পাণ্ডিত্য আমরা এখন ভাবতেই পারি না!
জীবনে রমণী নাকি সাহিত্যে রমণী? বিরাট বড় প্রশ্ন। আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে সাহিত্য কি জীবন থেকে নেয়া নয়? তাহলে কি বলা যায় সাহিত্য এবং জীবন আলাদা? জীবনের কোন প্রতিফলন সাহিত্যে পাওয়া যায় না?
বইটা লেখা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ষাট বছর আগে। তখন ক'জন শিক্ষিত বাঙালি ঘরে ঘরে খুঁজে পাওয়া যেত? এই সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই যে বাঙালির অগ্রযাত্রায় ইউরোপীয় প্রভাব কতটা বেশি, এবং আজ থেকে ষাট বছর আগে বাঙালি সমাজে নারীদের অবস্থান কোথায় ছিল এবং সেই অবস্থানের যে উত্তরণ সেটাও ইউরোপীয় প্রভাব বর্জিত নয়।
নীরদচন্দ্র চৌধুরীর বিরাট পন্ডিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর রচনা বুঝবার মত বোধবুদ্ধি নিঃসন্দেহে এখনও অর্জন করতে পারি নাই। সমালোচনা করবার তো প্রশ্নই উঠে না।
‘প্রেম কখনওই দেহ নিরপেক্ষ নয়। চুম্বন নিরপেক্ষ প্রেম নাই। সুতরাং দেহ নিরপেক্ষ প্রেমও নাই। …জীবনের উৎস যে কাম, তাহাকে পাপ বলিলে কোথায় দাঁড়াইব?’
এই উদ্ধৃতি নীরদের ‘বাঙালী জীবনে রমণী’ গ্রন্থ থেকে। বাঙালি ও তার ‘মেয়েমানুষ’-দের নিয়ে এমন বই পৃথিবীতে আর লেখা হবে কি না জানি না। নীরদচন্দ্র যে আয়নাটা একদিন বাঙালির সামনে ধরেছিলেন, সেটাকে আমরা আজও এড়িয়ে চলতে চাই। অথচ অস্বীকার করলেই কি বাস্তব বদলায়? বরং সেই অস্বস্তিটাই আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
আদিরসের প্রতি বাঙালির সম্পর্কটা বরাবরই দ্বিমুখী। বাইরে ভদ্রতা, ভিতরে কৌতূহল; মুখে লজ্জা, মনে প্রবল আকর্ষণ। এই দ্বৈততার মধ্যেই তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত সংস্কৃতি যেখানে কামনা সরাসরি উচ্চারিত হয় না, কিন্তু সর্বত্র ছায়ার মতো ঘুরে বেড়ায়। নীরদচন্দ্র এই ছায়াটাকেই ধরতে চেয়েছিলেন। কোনও নৈতিকতার মুখোশ না পরে, কোনও কাব্যিক আড়াল না টেনে।
বাঙালি ও তার মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্কের সবচেয়ে হাস্যকর দিকটা হল, হিন্দু সাহিত্য ও জীবনের আদিরসও বাঙালি গ্রহণ করতে পারেনি। নীরদের ভাষায়, ‘প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে যে আদিরস আছে তাহাকেও ভদ্রভাবে গ্রহণ করা সে যুগের বাঙালির পক্ষে সম্ভব রহিল না। প্রাচীন হিন্দুর তীব্র মদিরা তৃষ্ণায় কাতর হইয়াও আমরা ওষ্ঠের কাছে তুলিতে পারিলাম না।’
নীরদচন্দ্র অবশ্য বাঙালি কী কাজে আদিরসাত্মক কাব্যকে নিয়োগ করতে হাত পাকিয়েছিল, সে-বিষয়টা ভুলে যাননি। একটু লেখাপড়া জানা বাঙালি প্রৌঢ়রা যুবতী স্ত্রী-র অনুগ্রহ পেতে রাত্রে বিছানায় তাদের আদিরসের কাব্য ব্যাখ্যা ও বর্ণনা করে বোঝাতেন। নীরদের ভাষায়, ‘ভুঁড়ি ঊর্ধ্বগামী, ও অধোগামী নানাপ্রকার দুর্গন্ধ ইত্যাদির দ্বারা পত্নীকে প্রতিকূল করিয়া কামপ্রবৃত্তির সাহায্যে অনুকূল করিবার জন্য আদিরসাত্মক কবিতার সাহায্য লইতেন।’ এই কাজের একটি পেলব রাবীন্দ্রিক-সংস্করণ আমরা পাই ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসে। সন্দীপ তার বন্ধু নিখিলেশের স্ত্রী বিমলাকে ফুঁসলাতে একটি দৃশ্যে কামোদ্দীপক বই ও ছবির সাহায্য নিচ্ছে। তবে সন্দীপ সরাসরি বিমলাকে পর্নোগ্রাফি পড়ে শোনাচ্ছে না। আদিরসাত্মক কাব্য পড়ছেও না তার সামনে। কিন্তু বিমলার বসার ঘরে কিছু আদিরসাত্মক বই ‘ভুল’ করে রেখে আসছে এবং পরে লুকিয়ে গিয়ে দেখছে, সেই বইগুলি সেখানেই পড়ে আছে না বিমলার হস্তগত হয়েছে!
এই যে প্লেটোনিক প্রেমের এত ঢাকঢোল, এর ভিতরেই লুকিয়ে আছে শরীরের দাবি। বাঙালি প্রেমকে যতই ‘উচ্চতর’ বলে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে, ততই তাকে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার এক ধরনের ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়েছে। অথচ সেই বিচ্ছিন্নতা কখনও সম্পূর্ণ হয়নি। বরং প্রেমের ভাষা হয়ে উঠেছে আরও জটিল, আরও ইঙ্গিতপূর্ণ, আরও কৃত্রিম।
নীরদচন্দ্র কামনাবর্জিত প্রেমে আদৌ বিশ্বাস করেন না। বাঙালি যত আধুনিক হয়েছে, তত ঘোমটার নিচে খ্যামটায় বিশ্বাস করেছে। রোম্যান্টিক বা প্লেটোনিক প্রেমের শঠতা বিদেশ থেকে ধার করে, তার নিজস্ব শরীরবাদের ঢাকনা হিসেবে এই ধারকরা প্রেমদর্শন বাঙালি নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করেছে।
বাঙালির সর্বনাশ হল, সে রমণী দেখলেই প্রেমের আদিখ্যেতায় যায়। কিন্তু প্রেম-প্রেম করে মরে কী লাভ? প্রেম এমন এক ফেনা, যাকে বোঝা যায় না। তাই নীরদচন্দ্র ভোট দিচ্ছেন বিশুদ্ধ কামের পক্ষে। এবং বলছেন, বাঙালি খোকাবাবুরা, জেনে রাখুন, কাম তিনপ্রকার, মানে মূলত তিনপ্রকার। বাঙালি মেয়েরা কাম অনেক বেশি বোঝে। এবং কাম সম্পর্কে তাদের তেমন হাত কচলানিও নেই। তিনরকমের কাম হল, কাম-কোয়াত্রঁ, কামের চেরিব্র্যান্ডি ও কামের ক্রেম দ্য মাঁথ। তিনপ্রকার কামকেই তিন স্বাদের সুরার সঙ্গে তুলনা করেছেন নীরদচন্দ্র। এবং কামের রকমভেদের বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করেছেন বাঙালি মেয়ের কামদর্শনের নির্দেশে! যদি কোনও রমণী দয়িতের কাছে বিয়ের আগে তার কন্যকা হারানোর উত্তেজনার কথা বলে কামোদ্দীপন উপভোগ করে, তাহলে সেটা হল, নীরদচন্দ্রর মতে, খুবই সফিস্টিকেটেড কাম– কাম-কোয়াত্রঁ, যে সুরার অনেকগুলি স্বাদ-স্তর আছে। এবার ধরা যাক, সংগমের এক স্তরে পৌঁছে মেয়েটি পুরুষকে বলে, আমার আলগা হয়ে যাওয়া চুল তুমি বেঁধে দাও, আমার স্তনতটে ছিঁড়ে যাওয়া মালা আবার গেঁথে দাও, এ হল কামের চেরিব্র্যান্ডি। আবার কামের ক্রেম দ্য মাঁথ হল, সংগমরত অবস্থায় উত্তেজক কথা। পুরুষ এবং রমণী, উভয়কেই সংগমরত অবস্থায় কামের ক্রেম দ্য মাঁথ হতে হবে! কিন্তু যে বাঙালি ‘যৌন যৌন’ করে সর্বক্ষণ চিৎকার করছে, সেই বাঙালি পুরুষ কতটুকু বোঝে কামশাস্ত্রর এই তিন আদি অধ্যায়?
মজার ব্যাপার হল, কামের ব্যাপারে বাঙালি পুরুষের থেকে অনেক এগিয়ে বাঙালি মেয়েরা। নীরদচন্দ্র লিখছেন, আমরা অল্পবয়সে দেখেছি, ভদ্রঘরের যুবতী খোল-করতাল-হারমোনিয়াম সহযোগে রতিসুখসারে গতমভিসারে গাইছেন আর প্রৌঢ় ও বৃদ্ধরা হাউহাউ কেঁদে গড়াচ্ছেন। এটা সংস্কৃত জ্ঞানের অভাবের জন্য ঘটত, না কি চোরা লোচ্চামির জন্য ঘটত, তা বলতে পারি না। বাঙালির প্রেমদর্শনের ওপর নীরদচন্দ্রর এ-কথা আজও সত্য। বাঙালির প্রেমদর্শনে লোচ্চামি মিশেই আছে। তবে একটা আধ্যাত্মিক ঢাকনাও আছে বইকি সেই কামুক লোচ্চামির।
আজকের বাঙালি আরও আধুনিক, আরও বিশ্বায়িত। কিন্তু সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেই পুরোনো দ্বিধা এখনও অটুট। প্রেমের ভাষা বদলেছে, মাধ্যম বদলেছে, কিন্তু সংকোচের প্রকৃতি খুব একটা বদলায়নি। বরং এখন তা আরও সূক্ষ্ম, আরও পরিশীলিত।
শেষ পর্যন্ত নীরদচন্দ্র আমাদের যে জায়গায় এনে দাঁড় করান, তা আরামদায়ক নয়। কিন্তু সত্যি কথা খুব কমই আরামদায়ক হয়। প্রেমকে বুঝতে হলে, আগে কামনাকে স্বীকার করতে হবে। তাকে আড়াল করে, তাকে অন্য নামে ডেকে, তাকে ‘উচ্চতর’ বলে চালিয়ে দিলে কেবল বিভ্রান্তিই বাড়ে।
বাঙালির প্রেমদর্শনের মধ্যে তাই একসঙ্গে দুটি স্রোত বয়ে চলে একটি প্রকাশ্য, অন্যটি গোপন। একটি কবিতার, অন্যটি শরীরের। আর এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই তৈরি হয় সেই জটিল, প্রায়শই হাস্যকর, কিন্তু গভীরভাবে মানবিক চিত্র যেটাকে নীরদচন্দ্র নির্দ্বিধায় তুলে ধরেছিলেন।
আল্লাহ রে! ছয় মাসের বেশি লাগল বইটা শেষ করতে। একটানা দুই পৃষ্ঠার বেশি পড়তে রীতিমতো নিজের সাথে যুদ্ধ করা লাগছে। আমারই অক্ষমতা। এখানে বাঙালী জীবনে রমনী নাম হলেও তিনি মূলত সাহিত্যে (বাংলা ও বিশ্ব) রমনীদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিছু জিনিস এমন ভয়ংকর অন্তর্ভেদী দৃষ্টিতে দেখেছেন যা অনেক ক্ষেত্রেই বিস্ময়কর এবং আমার বোধগম্যতার বাইরে। এই ধরনের বই রসিয়ে রসিয়ে পড়ে উপভোগ করার জন্য যে ধরনের সময়, মানসিকতা দরকার সেটা এখন আর নাই। লেখক সাহেবের পাণ্ডিত্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই। তবে সেই পাণ্ডিত্য নেয়ার মতো জ্ঞান এই জমানায় ক'জনের আছে সেটা সন্দেহ আছে।