প্রথমত, বইটার নামকরণে গোলমাল আছে। এই বইটি বঙ্গজীবনে নারীর অবস্থান, ভূমিকা, গুরুত্ব, তার অতীত, পরিবর্তনশীল বর্তমান, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, এসব নিয়ে আদৌ লেখা নয়। এটি স্বল্পমাত্রায় বাংলা এবং বেশি করে ধ্রুপদী সাহিত্যে নারীর ডেপিকশন বা পোর্ট্রেয়াল নিয়ে লেখা।
দ্বিতীয়ত, ওই বিষয়ে ব্যাপ্তি ও গভীরতায় এমন একটি বই লিখতে যে পাণ্ডিত্য ও নির্মোহ মানসিকতা প্রয়োজন, তা লেখকের ছিল। তাই তাঁর সময়ে দাঁড়িয়েও তিনি এমন একটি লেখা পেশ করেছেন যা এখনও দেদীপ্যমান তথা জ্বলন্ত।
তৃতীয়ত, কোনো প্রাবন্ধিক ও গবেষক স্বাধীনতার পর ভারত, পূর্ব পাকিস্তান, এবং বাংলাদেশের সাহিত্যে ('জীবনে' নয়। সেটা একান্তভাবেই সমাজতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক, এবং নারীবাদীর এক্তিয়ারে চলে যাবে) নারীর বদলাতে থাকা অবস্থা তথা অবস্থান নিয়ে এমন করেই কিছু লিখবেন, সেই আশায় আছি। তবে কাজটা অসম্ভব কঠিন, কারণ আলোচ্য বইয়ের লেখকের মতো পার্সপেক্টিভ ও জ্ঞান অর্জন করা 'মুশকিল হি নহি, নামুমকিন হ্যায়' বলে মনে হয়েছে।
আমি লেখাটা নীরদচন্দ্র চৌধুরী শতবার্ষিকী সংকলন-এর অংশ হিসেবে পড়লাম। আপনারা যদি বইটি আলাদাভাবে পান, তাহলেও অতি অবশ্যই পড়ুন। এই লেভেলের পাণ্ডিত্য আমরা এখন ভাবতেই পারি না!