প্রায় পুরো কাহিনি বেশ পরিপাটি। প্রায়! শেষে এসে লেখিকার মনে হয়েছে পারিবারিক এই গল্পে একটা টুইস্ট না থাকলে গল্পটা জমজমাট হবে না। অথচ কিশোরী তিতিরকে ঘিরে পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব যেভাবে ঘনীভূত হয়ে উঠেছিলো সেটাকে দুর্দান্ত বললে অত্যুক্তি হয় না। টুইস্ট এলো এবং শেষ তিন পাতায় পুরো গল্পটা স্রেফ ধ্বংস হয়ে গেলো। টুইস্টের শক ভ্যালু থাকবে না হয় সারপ্রাইজ ভ্যালু থাকবে। এই টুইস্টের শুধু "ভ্যালু" আছে গল্পটাকে "ভ্যালুলেস" করে দেওয়ার ক্ষেত্রে। অথচ কী চমৎকারভাবেই না এগোচ্ছিলো গল্পটা!!
কিছু বই থাকে যেগুলো শেষ করবার পর আপনা-আপনি মন কেমন ভারি হয়ে আসে। এই বইগুলো আমাদের মনে প্রচুর আলোড়ন তুললেও বলার সময় কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। এই বইটা একদম ঠিক তেমন একটা বই। বইটার genre খুঁজতে গেলে প্রথমেই মাথায় আসে সামাজিক উপন্যাস। আর তা হবে না-ই বা কেন। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের গল্প যেই বইয়ে উঠে আসে সেটা আক্ষরিক অর্থেই তো সামাজিক উপন্যাস।
“ইটের পর ইট মধ্যে মানুষ কীট” বইটার পুরো গল্পটাই ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকায় অবস্থিত “হাসনা ভিলা” আর এতে বসবাসরত পরিবারের মানুষগুলোকে ঘিরে। এবং বইয়ের একদম শুরু থেকেই আমি এই মানুষগুলোর দৈনন্দিন হাসি-কান্নার গল্পে এতটাই ডুবে গেছিলাম যে কখন যেন চরিত্রগুলো মিলেমিশে আমার আশেপাশের পরিচিত মানুষের রূপ ধারণ করতে শুরু করল তা টের-ই পাইনি। সুফাই রুমিন তাজিনের লেখা আরও একটি বই পড়বার সৌভাগ্য হয়েছে। এবং প্রথম লেখার সাথে এই লেখার পার্থক্য খুঁজতে গেলে চোখে পড়ে লেখনীর পরিপক্বতা। তবে লেখকের সবচাইতে বড় গুণ আমি বলব যে একদম সাবলীলভাবে চরিত্রগুলোর ভালো-মন্দ দিক পাঠকের সামনে তুলে ধরা। জোরপূর্বক কাউকে ভালো কিংবা খারাপ না বানিয়ে বরং এর ভার পাঠকের হাতে ছেড়ে দেয়া। ফলে বাস্তব জীবনে যেমন কেউ একদম শতভাগ ভালো কিংবা শতভাগ খারাপ হয় না, তেমনি বইয়ের চরিত্রগুলোর ক্ষেত্রেও এই এক-ই জিনিস চোখে পড়ে।
গল্পের মার-প্যাঁচ নয়, বরং খুব সাদামাটা ধরনের একটা গল্পকে অসাধারণ বানিয়ে ফেলার বেশ চমৎকার একটা ব্যাপার বইটাতে লক্ষ্য করেছি বারবার। সেই সাথে নতুন নতুন চরিত্রের আবির্ভাব ঘটাবার বদলে গল্পের বিদ্যমান চরিত্রগুলোর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সব ব্যাপার স্যাপার বর্ণনা করার ব্যাপারটাও ভালো লেগেছে খুব। তবে হ্যাঁ, গল্পের একদম শেষ পাতায় লেখক যেভাবে গল্পের একটি নতুন মোড় ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছেন এই জিনিসটি কেমন অবান্তর থেকেছে। মনে হয়েছে এটা না হলেও হয়ত চলত।
অবসর প্রকাশনী’র বইয়ের প্রোডাকশন বরাবর-ই চমৎকার। সেই সাথে ছিমছাম প্রচ্ছদের কারণে বইটা হয়ে উঠেছে আরও আকর্ষণীয়। প্রকাশনী থেকে বইটা উপহার দেবার জন্যে প্রকাশনীর ভেতরের মানুষগুলোকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তবে বলা-ই বাহুল্য যে লেখক অচিরেই আমার অত্যন্ত পছন্দের একজন লেখক হয়ে উঠেছেন তাঁর সহজ-সাবলীল গল্প বলার ঢঙ্গের কারণে।
বরাবরের মতোই সুফাই রুমিন তাজিন আমাকে মুগ্ধ করেছেন তার স্বচ্ছ, সাবলীল বর্ণনার মাধ্যমে। শহুরে জীবনের কিছু খণ্ডচিত্র দিয়ে এস্ট্যাবলিশ করেছেন দারুণ একটা ড্রামা। দৈনন্দিন সব ঘটনা দিয়েই গল্পের চরিত্রগুলোকে অতিপরিচিত করে দিয়েছেন আমাদের কাছে। কিন্তু তারা একপেশে হয়নি মোটেই। মাঝে মাঝেই সূক্ষ্ণ কিছু সংলাপ আর ঘটনা দিয়ে তাদের চরিত্রে এসেছে ভিন্ন মাত্রা। সবচেয়ে সুন্দরভাবে বিকশিত হয়েছেন হাসনা। কেন যেন মমতাময়ী মায়েদেরকে আমাদের সমাজে কিছুটা খেলো চোখে দেখা হয়। তারা যেন শুধু দিতেই জানেন। দশভুজা হয়ে সংসার সামলান যুগের পর যুগ। কিন্তু তাদের দিকে খেয়াল করার, তাদের মনের খোঁজ রাখার মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না।
আবার নতুন প্রজন্ম অনেক সময়েই তাদেরকে সাদাসিধে, বোকাসোকা, সেকেলে হিসেবে গণ্য করে। অথচ তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন সন্তানদের পেছনে যে মায়েরও ভূমিকা থাকতে পারে, তাদের এই আচরণ যে মায়ের স্বভাবের প্রতিফলনও হতে পারে — সেটা অনেকসময়েই ভুলে যাই আমরা।
বইটি পড়তে পড়তে দৃশ্যপটগুলো যেন ভেসে উঠছিল চোখের সামনে। গল্পটার মধ্যে ছোটবেলায় সবাই মিলে একসাথে দেখা নাটকের আবহটা আছে। খুব সহজ, সাধারণ এবং যে কোনো পাঠকের মন কেড়ে নেয়ার মতো বই। ইতিমধ্যেই ওনার আগের দুই বই পড়েছি। সামনেই গল্পরথে ওনার ছোটগল্প পড়ার অপেক্ষায়।
'ইটের পর ইট, মধ্যে মানুষ কীট' ছিমছাম ভালো একটা গল্পের বই। একটা সংসারের গল্প সুন্দরভাবে উঠে এসেছে এখানে। তবে সমকালীন, সামাজিক, ড্রামা জনরা হিসেবে এটাকে যার মধ্যেই ফেলি না কেন, সে জনরাতেই বইটা একদমই প্লেইন। বইতে এমন কোন দর্শন নেই যাতে বইটা আমার মনে দাগ কেটে যাবে। এমন কোন গল্পবাকও নেই যাতে করে বইটা আমি আরেকবার পড়বো। সম্ভবত লেখকও এটা বুঝতে পেরেছেন এবং এই সরলরৈখিক গল্প এড়াতে তিনি শেষে একটা টুইস্টের অবতাড়না করেছেন। এবং আমার কাছে এই টুইস্টের কারণে বইটা আরো খারাপ লেগেছে। জানি না, অনেকে কেন এই বইটাকে ৫,৪ দিচ্ছেন! তবে আমি যেটা ধারণা করছি সেটা যদি হয় তাহলে ব্যাপারটা বেশ দুঃখজনক।
The name speaks for the story- this book is a cityscape. Wonderfully written. I once heard the writer saying (not to me :3) she loves to read her own writings. That seemed weird to me on that moment. I never liked my writing. Also I never heard of any other writer saying so. But at this stage, I must say I'd love my writings too if I could write like this. Splendidly done but no complex plot! This is wonderful. The only part that I didn't like is the transition of the story at the very last of the book. Except that, It was a good read.
ঘটনার শুরু ধানমন্ডির এক ডুপ্লেক্স বাড়ির সামনে। চিলেকোঠার ঘরটা ভাড়া পাওয়ার আশায় মোমেনা বেগম তার নাতনি তিতিরকে নিয়ে দাড়িয়ে আছেন সেখানে। এই ডুপ্লেক্স বাড়িতে আছে আজিজ সাহেব আর হাসনা বেগমের ছোট পরিবার। কাঠিন্যের পোশাকে কোমল হৃদয়ের মানুষ আজিজ সাহেব, সংসারের প্রয়োজনে বোকার মুখোশ পরে থাকা হাসনা বেগম আর তাদের তিন ছেলেমেয়ে। বড় মেয়ে তৃণা সংসার সাজাতে গিয়ে বিসর্জন দিয়েছে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার, একমাত্র ছেলে মারুফ টাকা কামানোয় ব্যাস্ত আর ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধিমত্তা আর সমঝোতার পরিচয় দেওয়��� ছোট মেয়ে ঠোঁটকাটা এষা সবার কথার কটকট উত্তর দিতে সদা প্রস্তুত। তাদের সবার গল্প নিয়েই এই বই।
লেখিকার বই এই প্রথম পড়া হলো। উনার গল্প বলার ক্ষমতা অসাধারণ। লেখনীর মধ্যে একটা আরামদায়ক অনুভূতি আছে। বই জুড়ে সাধারণ দুটো পরিবারের সাধারণ কিছু মানুষের সাধারণ জীবনের গল্প বলে গেছেন। এই বইয়ে মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কোনো প্লট নেই, কাহিনীর খুব নতুনত্বও নেই। কিন্তু প্রত্যেকটা চরিত্র প্রচুর যত্ন নিয়ে গড়া। প্রত্যেকের নিজস্বতা আছে। ভালো গুণাবলী আছে, দোষত্রুটি আছে। আর এই খুঁতগুলোর কারণেই চরিত্রগুলোকে খুব আপন মনে হলো, চেনা লাগলো। তাদের মাঝে নিজেকে বা পরিচিতজনদের খুঁজে পেলাম বারবার।
অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা, যিনি কিনা পরিবারের সবাইকে ভালেবাসেন অনেক বেশি, কিন্তু তাদের টানাপোড়েনগুলোর প্রতি নজর দিতে পারেন না। অথচ বাইরের দুনিয়ায় কে দুঃখে কষ্টে আছে, তার কীভাবে উপকার করা যায় তা নিয়ে সদা তৎপর। একজন গৃহবধূ, পৃথিবীর সবার প্রতি অসীম মমতা নিয়ে আগলে রাখার চেষ্টা করছেন সবাইকে। সম্পত্তির লোভে অন্ধ সন্তান ফন্দি করছে কীভাবে পৈতৃক সম্পত্তিতে ভাগ বসানো যায় দ্রুত। একই পরিবেশে বড় হয়েও একেক রকম মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠছে ভাই-বোন, তাদের মধ্যে বাড়ছে দূরত্ব। পরিবার পরিজন সকলকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত একজন তবুও বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে প্রিয় কারোর মুখ চেয়ে। এই সবগুলো ঘটনাই পরিচিত, প্রতিনিয়ত ঘটতে দেখি চারপাশে। এমন অনেক সুখ-দুঃখের গল্পই লিখেছেন লেখিকা।
রেটিং থেকে অর্ধেকটা তারা কেটে রাখার কারন শেষের টুইস্ট। কিছুটা আঁচ করা যাচ্ছিলো কী ঘটতে পারে, তবুও ঘটনাটা না ঘটলেই বেশি খুশি হতাম। খুব সহজভাবে আগাচ্ছিলো গল্প, এই সরলতাটাই কেন জানি ভালো লাগছিলো। কোনো টুইস্ট ছাড়া বইটা শেষ হলেই সম্ভবত বেশি উপভোগ করতাম। তবুও এ বছর পড়া পছন্দের বইগুলোর তালিকায় নিঃসন্দেহে বইটা থাকছে।
কিছু গল্প থাকে যার রেশ সহজে কাটে না। কিছু গল্প থাকে যেটা পড়ার পর মনের মাঝে একটা দাগ কেটে যায়। এই গল্পটাও ঠিক তেমনই। সামাজিক জনরার হলেও শেষের দিকে গল্পের মোড় এমন ভাবে ঘুরে যায় বলাবাহুল্য। মনটাকে ভারী করে দিয়েছে। গল্পের শুরু থেকেই অভিমানের খেলা চলতে থাকে একেকটা চরিত্রের। কিন্তু শেষের দিকে এসে এতোটা অভিমান! অভিমানটা যেনো নিত্যদিনের সঙ্গী। এক কথায়, দারুণ একটা মন খারাপের গল্প। দূর্বল হৃদয়ের মানুষ বা নরম হৃদয়ের মানুষেরা হয়তো কাঁদতেও পারেন৷ না কাঁদলেও চোখের জল পড়ে যেতে পারে আপনা-আপনি। গল্পটাই যে এমন!
খুবই সাধারণ একটা গল্প, গল্পে খুবই সাধারণ একটা ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সাধারণ বিষয়টিই কেমন যেনো অসাধারণ করে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেই উপস্থাপনায় রয়েছে একগুচ্ছ শিক্ষনীয় বিষয়, রয়েছে টানটান উত্তেজনা। বইটা একবার পড়া শুরু করলে পড়া শেষ না করে রেখে দেওয়া আসলেই সম্ভব না। আর সেই সাথে লেখিকা তার সেই বিশেষ গুণের পরিচয় দিয়েছে। তথা "পাঠককে ঘটনাস্থলের সামনে উপস্থিত করে দেওয়া"।
বইটির সবচেয়ে ভাল একটা বিষয় হচ্ছে- বইটার শিক্ষনীয় বিষয়। লেখিকা অনেক সুন্দর সুন্দর কিছু মেসেজ দিয়েছে আমাদের ব্রেইনে। চিন্তাশীল মানুষদেরকে সেই মেসেজগুলো বারবার ভাবিয়ে তুলবে এবং শোধরাবার জন্যে যথেষ্ট নাড়া দিবে। এই বইটার এই একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য। উপন্যাস তো অনেক হয়, কিন্তু সেটায় শিক্ষনীয় বিষয় কতটুকু থাকে সেটা আসলেই ভাবার মতো।
যাইহোক, লেখিকা আরো সুন্দর সুন্দর চমৎকার গল্প লিখুক, আমাদের অবসর সময়টাকে আরো চমৎকার করে তুলুক। সাথে সাথে তার কলমটা মানুষের বিবেককে আরো বেশি ভাবিয়ে তুলুক সেই কামনা-ই করি।
বইয়ের নামখানা অনেক সুন্দর। নামের মতন বইয়ের লেখনী ও সুন্দর। একটানে পড়ে ফেলেছি। সবই ঠিকঠাক ছিল কিন্তু শেষের টুইস্ট টুকু ভাল লাগল না। গল্পের পরিণতিটা অন্যভাবে হতে পারত। অবশ্য লেখকের স্বাধীনতার ব্যাপার। সবশেষে আরাম করে পড়ার মতন বই। রেকমেন্ডেড।
গল্প বলার সুন্দর একটা অভ্যাস আছে আপুর। আটপৌরে ভাষায় সাধারণ একটি পারিবারিক গল্পকে অসাধারণ একটি আখ্যানে পরিবেশন করার জন্য আপুকে ধন্যবাদ। বইয়ের নামটা যেরকম নজরকাড়া, তবে শেষ টুকু আরেকটু সুন্দর হলেও হতে পারত। ভালো কিছু পড়লাম। রেকমেন্ডেড।
অনেক দিন ধরেই কোন গল্প বই পড়তে পারছিলাম না। দু পৃষ্ঠা পড়েই রেখে দিচ্ছি। আর আগাতে পারছিলাম না। পড়তেও ইচ্ছা করছিল না। এই বইটাও কিনে রেখে দিয়েছি অনেক দিন হল, তাই একটু পড়ে দেখার চেষ্টা করলাম।
আজকেই ছোট ভাইকে বলছিলাম, Wuthering Heights যারা পড়ে পছন্দ করে তাদের মনমানসিকতা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কিন্তু নিজেই আজকে এই বইটা পড়ে ৫ তারকা দিচ্ছি।
পাঁচ তারকা দেওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে, বইটা আমাকে বাধ্য করেছে এক বসায় পড়ে শেষ করতে। খুব ইচ্ছা ছিল দেখব, কি করে মিস হাসনাহেনা? তিতির বড় হয়ে কি হয়! তিন ভাই বোনের সম্পর্কটা কোথায় গিয়ে থিতু হয়? As a fan of Happy ever after, আমি ভাবছিলাম তিতিরকে মিস হাসনা দত্তক নিবেন।
লেখকের, তিনটা গল্প বই আমি এ পর্যন্ত পড়েছি। একটা বইও হতাশ করে নি। উনি সবচেয়ে unexpected যায়গা থেকে plot twist দেন। আর একটা সাধারণ সাংসারিক জীবন যেকরম হয় তা খুবই বাস্তবসম্মত ভাবে তুলে ধরেন। বইটা পড়ার সময় খুবই cozy একটা family vibe দিচ্ছিল। পড়তেও ভালো লাগছিল এরকম একটা বই। লেখক মানুষের psychological ব্যাপারগুলো খুব ভালো মত বুঝেন। উনি খুব সহজ ভাষায় নির্লিপ্ত ভাবে এগুলো প্রকাশ করেন। সাধারণত এসব ব্যাপার মানুষ নিজের মধ্যেই গুটিয়ে রাখে। তারপর ঠাস করে একটা climax চলে আসে।
নাহ, ending টা আমি expect করি নি। আমার মধ্যে এখন আনন্দ, দুঃখ, অভিমান কিছুই কাজ করছে না। আমি শুধু সময়টা পার হতে দিচ্ছি। একটা বুক ধরফর করা ব্যাপার কাজ করছে। বলে বুঝানো যাবে না, কারণ আমার মনের ভাব প্রকাশের দক্ষতা শূন্যের কাছাকাছি। কিছু বই আন্দাজে কিনে নিজেরই আবাক লাগে, কিভাবে এই রকম একটা বইয়ের মালিকানা পেয়ে গেলাম।
অসম্ভব সুন্দর একটা বই। Reading slump কাটানোর একটা perfect গল্প। 🥰
‘ইটের পর ইট মধ্যে মানুষ কীট’ একটি সামাজিক উপন্যাস�� পরিবারের মধ্যে একজনের সাথে আরেকজনের সম্পর্ক এবং মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়াকে কেন্দ্র করে এ গল্পটি এগিয়ে গেছে। পরিবারে কাউকে সবার থেকে দূরে রাখলে সে দলছুট হয়ে ভিন্ন মানুশে পরিণত হতে পারে, এবং এটা যে উচিৎ নয়, তা-ই হলো এই উপন্যাসের শিক্ষা। লেখিকার জন্য শুভ কামনা, এমন দারুণ একটা উপন্যাস তার পাঠকসমাজকে উপহার দেওয়ার জন্য।
" এদেশের প্রচলিত ভুল ধারণা গৃহিণীদের কিসের ব্যস্ততা? এ দেশের গৃহিণীরা সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এদের অবসর গ্রহণের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। সম্ভবত মৃত্যুর মাধ্যমেই এরা অবসর গ্রহণ করেন।"
~ কাহিনি সংক্ষেপ:
গল্পের শুরুটা হয় চোখ ধাধানো মিষ্টি ছোট্ট তিতির আর তার দাদিমাকে নিয়ে। শহরের বিভিন্ন বাসা ভাড়া দেখতে দেখতে অবশেষে ধানমন্ডিতে অবস্থানরত হাসনা ভিলা নামক এক সুন্দর বাড়ির সামনে এসে থিতু হয় দুজন। বাড়ির পরিপাটি গৃহিণী হাসনা নতুন ভাড়াটিয়াদের সব দিক বিবেচনা করে দোতলায় একটা ছোট্ট কামরায় তাদের থাকার বন্দোবস্ত করেন। আস্তে আস্তে দাদী আর নাতনি হাসনা পরিবারের ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করেন। গল্পের অন্যান্য চরিত্ররাও আছে এখানে। বাড়ির প্রধান কর্তা আজিজ সাহেব। তার দুই মেয়ে তৃণা আর এষা এবং একমাত্র ছেলে মারুফকে নিয়েই তাঁদের সাজানো গোছানো সংসার। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে ক্লাস এইটে পড়ুয়া ছোট দুই মেয়েকে নিয়ে স্বামীর সংসার করছে। এষা ডাক্তারি পাশ করে হাসপাতালে ইন্টার্নি করছে এবং সদ্য বিবাহিতা আর মারুফ তার পছন্দের মানুষটির সাথে শীগ্রই বিবাহিত জীবনে পদার্পন করবে। কাদেরের মা নামক বাসার কাজের বুয়া রান্না বান্না আর অন্য সকল কাজকর্ম নিয়ে হাসনাকে সাহায্য সহযোগিতা করে প্রতিদিন। এক সময় হাসনার মনে হয় এতো সাজানো গোছানো পরিবারটার মাঝে কোথায় যেনো একটা সুর কেটে গেছে! পরিবারের সকল সদস্যরা তার কাছে মনে হয় প্রতিনিয়ত অভিনয় করে যাচ্ছে। স্বামী আজিজ সাহেবও তার নিজস্ব চিন্তা চেতনার মধ্যে নিজেকে বন্দী করে রেখেছে। পরিবারের প্রতি কেমন যেনো তার নিদারুণ অবহেলা। কোনো কিছুতেই যেনো বিকার নেই লোকটার। তিতির মেয়েটার সাথে এষা আর হাসনার এক ধরনের হৃদ্যতার সৃষ্টি হয়, যা দেখে পরিবারের কিছু সদস্য তাঁদের এই খুনসুটি সম্পর্কটাকে স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারছিলো না। একসময় ছোট্ট তিতিরকে নিয়েও তাঁদের মাঝে খারাপভাবে কানাঘুষোর শুরু হয়; যা এষা আর হাসনাকে ভীষণ ভাবে পীড়া দেয়।
ভালোবাসা, মানঅভিমান, হিংসে, অহংকার, কাদা ছোড়াছুড়ি নিয়েই সাজানো হয়েছে ইটের পর ইট মধ্যে মানুষ কীট বইটা।
~ পাঠ অভিজ্ঞতা:
একটা বইয়ের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বইটার লেখনশৈলী। সাধারণ কিছুকে অসাধারণ করা যায় একমাত্র পরিপাটি, গোছানো সাবলীল শব্দশৈলী দিয়ে। লেখিকা সুফাই রুহিন তাজিন পরিপূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন এক্ষেত্রে। একধরনের মুগ্ধতা কাজ করছিলো বইটা পড়ার সময়। চরিত্রগুলো যখন আস্তে আস্তে পরিচিত হতে শুরু করেছিলো তখন কিছু চরিত্রের প্রতি গভীর মমতাবোধ এবং কিছু চরিত্রের প্রতি বিরক্তবোধ প্রকাশ পেয়েছিলো। লেখিকা কোনো চরিত্রকেই জোর করে ভালো কিংবা খারাপের তকমা হিসেবে চাপিয়ে দেয় নি। চরিত্র বিবেচনা করার দায়িত্ব যেনো নিত্তান্তই পাঠকের। ভালো মন্দ দিক সেটা পাঠকরাই বিবেচনা করবে। একটা পরিবার আর তিতিরকে কেন্দ্র করেই বইটার প্লট। এখানে নেই কোনো আহামরি কিংবা নেই কোনো মারপ্যাচের বিষয়বস্তুই। পরিপাটি আর সুন্দর শব্দচয়নে কত সুন্দর অবলীলায় লেখিকা চরিত্রগুলোর সাথে পাঠকের হৃদ্যতা গড়ে দিয়েছিলেন, তা বইটা শেষ করে টের পেয়েছিলাম। একসময় মনে হচ্ছিলো বইটা শেষ না হোক অনন্তকাল থেকে যেনো পড়েই যেতে থাকি! লেখনশৈলীতে লেখিকা দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন সেটা হলফ করে বলতেই হবে। তবে গল্পের বাঁধ সাধে শেষটার দিকের টুইস্টটি! অনেকের কাছে এই টুইস্ট ভালো লাগবে আবার অনেকের কাছেই না। তবে আমার কাছে ব্যাক্তিগতভাবে এমনটি না আনলেও সমস্যা হতো না। শেষের দিকটা একটু অতিরঞ্জিত লেগেছিলো। সাদামাটা ভাবেই গল্পের পরিসমাপ্তি ঘটালে অনেক বেশিই ভালো লাগতো।
তবে বইটার সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিকটা হচ্ছে গল্পের বুনন আর চরিত্র গাঁথুনি সাথে এতো সুন্দর প্রাণবন্ত লেখনী আর আশেপাশের সবকিছুর বর্ণনাগুলো অন্তস্তল ছুঁয়ে যাবার মতোন ছিলো। তিতলি, হাসনা, এষা এই তিনটে চরিত্র অনেকদিন আমার মানসপটে গেঁথে থাকবে। সমকালীন জনরা যাদের পছন্দের তারা এই বইটা পড়তে পারেন। ভালো একটা সময় কাটবে বলে মনে করি।
~ বাদবাকি:
সাদামাটা ছিমছাম প্রচ্ছদটা বইটাকে যেনো আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছিল। পরাগ ওয়াহিদ ভাইয়ের কাজ ছিল এটি। প্রোডাকশন কোয়ালিটি এবং সম্পাদনাও খুব ভালো ছিলো। মজার ঘটনা হচ্ছে এ বইতে টাইপিং মিসটেক একদমই চোখে পড়ে নি। অবসর প্রকাশনীর বই এর আগে আমার পড়া হয় নি। তাঁদের এ বইয়ের কাজ সত্যিই ভালো ছিলো।
লেখিকার প্রকাশিত বই এ পর্যন্ত মোট চারটি। পরিপাটি এবং খুব সাজানো গোছানো লেখনীর কারণে আমার বাকী তিনটা বই পড়ার ব্যাপক আগ্রহ জন্মেছে।
বই: ইটের পর ইট মধ্যে মানুষ কীট লেখিকা: সুফাই রুমিন তাজিন জনরা: সমকালীন পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৯ প্রকাশন: অবসর প্রকাশনী সংস্থা
বইঃ ইটের পর ইট মধ্যে মানুষ কীট লেখকঃ সুফাই রুমিন তাজিন রেটিংসঃ ৪.৫/৫ জনরাঃ সমকালীন উপন্যাস।
আমার কাছে এটা একটা পারিবারিক উপন্যাস।হাসনা হলো এই উপন্যাসের মূল ক্যারেক্টার(এটা আমার মত)। হাসনা,আজিজ সাহেব,মারুফ, তৃণা, এষা,তিতির,মোমেনা,আনিকা এইসব চরিত্রের মাঝে আমার এষা আর তিতিরকে বাদে সবাইকে একেকটা কীট মনে হয়েছে। গল্পে মারুফ আর তৃণা হলো অত্যধিক লোভী প্রকৃতির মানুষ।তাদের সুপ্ত লোভ তাদেরকে নিকৃষ্ট কীটে পরিণত করে দিয়েছে।আজিজ সাহেবের অতীতের খেয়ালিপনা তাকে মানুষ হয়েও কীট করে রেখেছে।হাসনা সবচেয়ে মুখোশধারী কীট এই পরিবারের।
এই বইয়ের রিভিউ হিসেবে যাই লিখবো তাই স্পয়লার হয়ে যাবে। ১৬০ পৃষ্ঠার বই।কাহিনি টা একদমি আমাদের পরিচিত তবুও ভালো সময় কেটেছে।মনে হয়নি সময় নষ্ট করছি বা অন্য কিছু। আনিকার মতো হবু বউ পেলে মন্দ হয় না জীবনে তবে এদের রেষের স্থায়িত্ব কম করে হলেও এক মাস থাকবে।এরকম কারও জীবনে না হওয়াই ভালো।আজিজ সাহেবের মতো খেয়ালিপনা জীবনকে একটা সময় কঠিনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে তবে তখন সময় থাকবে না।এরকম আফসোস জীবনে না আসুক।ছেলেমেয়েদের বেলায় দুচোখা পানাম করা উচিত না।কেউ না কেউ তো খুবি বঞ্চিত হয় আর সেটার রেষ থেকে যায় সারাটি জীবন।তৃণার জীবন থেকে একটা লেসন নেয়া যায় আর তা হলো বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রেমে পড়া বারণ।
বইয়ের শেষে খুব ভালো একটা টুইস্ট আছে সেটার বিষয়ে না লেখাই ভালো। আর যেই মহিলাকে দেখছেন বইয়ের কভারে সে হলো আজিজ সাহবের স্ত্রী হাসনা যার শখ হিসেবে আজিজ সাহেব এই বাড়িটি ইটের পর ইট দিয়ে তৈরি করেছেন।
অনেকের ভালো রিভিউ দেখে বইটা কিনেছিলাম। এখানে একটা সংসারের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। গল্পটা অনেক সুন্দর ভাবে আগাচ্ছিল। কিন্তু শেষের টুইস্ট একদমই ভালো লাগেনি। পুরো গল্পটা তাই শেষে এসে জমে নাই আমার কাছে। আর গল্পের প্লটও খুব যে অসাধারণ এমন কিছু না। নট রিকমেন্ডেড!