আজব নগরী
লেখক:শ্রীপান্থ
চিরাচরিত ইতিহাস যেটা পড়ে আমরা অভ্যস্ত সেটার বাইরে আরো নতুন কোন ইতিহাস নিয়ে তথ্য দেয়াই শ্রীপান্থের লেখা।
লেখক কলকাতাকেই কেন আজব নগরী বললেন,তা এই বইয়ের প্রতিটি পাতায় অনবদ্যভাবে উল্লেখ করেছেন।তখনকার কলকাতা শহরের একদম প্রাথমিক অবস্থা কেমন ছিল? তখনকার বিস্ময়কর কাহিনীগুলো, ছোট ছোট অংশে খুব সুন্দরভাবে লেখক তার নিজস্ব স্টাইলে লিখেছেন। আমরা অনেকেই ইতিহাস পড়ে জেনেছি যে ১৬৯০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এজেন্ট জব চার্নক এই কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু ইতিহাসের আরও গভীরে গেলে জানা যায়, অন্তত ৬০ বছর আগে কলকাতার মাটিতে আরমানিয়ানদের বসতি ছিল। ইংরেজদের আমলে আজকের এই আলো-ঝলমলে নগরী ছিল অস্বাস্থ্যকর, দারিদ্রের অন্ধকার ও অসভ্যতার অন্ধকারে ঘেরা একটা নগরী।
"জাল,জুয়াচুরি, মিথ্যা কথা এই তিন নিয়ে কলকাতা"-তাই তো তখনকার নিষ্ঠাবান ব্রাক্ষণেরা এই শহর এড়িয়ে চলতেন। লেখক এখানে আর্মেনিয়ানদেরকে কলকাতার পিতামহ বলেছেন,কারণ জানা যায় কলকাতার সবথেকে প্রাচীন গীর্জাটাই হচ্ছে আরমানি গীর্জা।
আজব নগরীর একেকটা রাস্তার নামও বার বার বদল হতো। নামগুলো সুন্দর হলেও তার পেছনের ইতিহাস ছিল ভয়ংকর। ফ্যান্সি লেনের রাস্তার পাশের সুন্দর বড় গাছ ছিল কত শত ফাঁসির সাক্ষী। হ্যাঁ, এই গাছগুলোতেই হতো ফাঁসি। তখনকার কলকাতায় বইচার হতো কোম্পানির কায়দায়, আর তাদের কানুনও ছিল আজব।
এই আজব নগরীর, দাস সমাজের প্রথম মুক্ত পুরুষ ছিল ইন্দে। তখন কলকাতায় আলু পটলের মত মানুষ কেনা-বেচা হতো। দাম ২০টাকা থেকে ৭০টাকা। কেউ বিক্রি হতো ক্ষেতের কাজে তো কেউ গৃহস্থালির কাজে। অমানুষিক অত্যাচারও হতো তাদের উপর। ১৭৮০ সালের কোন একদিন ডানকেন সাহেবের কুঠি থেকে ইন্দে নামের দাসটি পালিয়ে গিয়ে কলকাতা থেকে দাস কলংক মুছে দিয়ে গেছে।
হুক্কা ও এক্কার জায়গা ছিল এই কলকাতা। তখনকার কলকাতায় ইউরোপিয়ানদের ঘরে ঘরে ছিল পালকি। যার যেমন ঘর, তার তেমন পালকি,তার তেমন বেহারা। তাই বলে বেহারাদের রোজগার খুব একটা ভালো ছিল না। তারা কি এই নুন্যতম রোজগার নিয়ে দিন অতিবাহিত করতে পারতো? ইতিহাস তা বলে না।
আসলে এই ছোট বই নিয়ে লিখতে হলে অনেক অনেক কিছুই লিখতে ইচ্ছে করবে। আমি এই ধরনের বই অনেক সময় নিয়ে পড়ি। আমার নিজের কলকাতা নিয়ে বই খুব একটা পড়া হয় নাই। তবে শ্রীপান্থের এই বইতে অনেক অজানা ব্যাপার জানা যাবে।কলকাতা আসলেই আজব নগরী।