৩২২ খ্রিস্টপূর্বের ভারতবর্ষ। নন্দ সাম্রাজ্যের পতন হয় এবং স্থাপিত হয় মৌর্য সাম্রাজ্য। সিংহাসনে আসীন হলেন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। এই মহাযজ্ঞের মূল কাণ্ডারি ছিলেন এক ব্রাহ্মণ। আচার্য বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্য। সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের প্রধানমন্ত্রী পদে কয়েক বছর দায়িত্ব পালনের পর আচার্য চাণক্য অবসর গ্রহণ করেন। নিভৃতে বসবাস শুরু করেন এবং মনোনিবেশ করেন তার অমর সৃষ্টি ‘অর্থশাস্ত্র’ লেখায়।
কিন্তু কী হবে যদি রাজমহলের অন্দরেই ঘটে যায় হত্যাকাণ্ড? অথবা মগধের বুকেই শুরু হয় একের-পর-এক হত্যা?
যখন রহস্য হয় গভীর এবং সমাধান অসম্ভব মনে হতে শুরু করে, তখন আবারও ডাক পড়ে সেই ব্রাহ্মণের। কারণ রহস্য যতই জটিল হোক, অপরাধী যতই ধূর্ত হোক, এবার সকল রহস্যের সমাধান করবেন তিনি— আচার্য চাণক্য।
শলাক-শাস্ত্র: রাজমহলের অন্দরে হত্যা করা হয়েছে গান্ধারের রাজদূতকে। কিন্তু কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থার মাঝেও কোন কৌশলে তা সম্ভব হল? শুধুই হত্যা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো ঘৃণ্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র?
শীল-শাস্ত্র: মগধের প্রতিনিধি হিসাবে তোসালির দুর্গে অতিথি হয়েছেন চাণক্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি সম্মুখীন হলেন এক গভীর রহস্যের। রাজার মৃত্যু কি স্বাভাবিক নাকি হত্যা?
হত্যা-শাস্ত্র: রাজধানী পাটলিপুত্রর পথে, গভীর রাত্রে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হচ্ছে একের-পর-এক গণিকাকে। হত্যাকারী কি উন্মাদ, নাকি তার কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে? চাণক্য কি পারবেন এই অপরাধীর মনস্তত্ত্বের গভীরে প্রবেশ করে সমাধান সূত্র খুঁজে আনতে?
কনক-শাস্ত্র: পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়, তক্ষশিলায় ঘটছে কিছু ব্যাখ্যাতীত ঘটনা। অন্ধকারের আনাচেকানাচে দেখা দেয় প্রেতমূর্তি, রহস্যময় ভাবে নিখোঁজ হয়েছেন এক শিক্ষক এবং ঘটেছে অপমৃত্যু! প্রধানাচার্যের অনুরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন আচার্য চাণক্য। কোন গূঢ় রহস্য অপেক্ষা করে আছে সেখানে তার জন্য? আসছেন স্বয়ং আচার্য চাণক্য, সঙ্গে নিয়ে চারটি জটিল হত্যা-রহস্য।
আর আপনি? যদি বলি প্রতিটি রহস্যের সমাধান সূত্র থাকবে আপনারই চোখের সামনে? পারবেন আপনি স্বয়ং মহামতি চাণক্যের আগেই হত্যাকারীকে চিহ্নিত করতে?
Dr. Abhigyan Ganguly, born in 1990, holds a PhD degree in Nano-Electronics. He somehow still manages to take time out of his busy schedule to write a little and read a lot more. His first solo book "Hatya-shastra" was published in Jan 2022, which is a historical/detective fiction in Bengali and was an instant hit among Bengali readers.
চাণক্য, কৌটিল্য, বিষ্ণুগুপ্ত— এমন নানা নামে তাঁকে চিনি আমরা। তবু প্রশ্ন ওঠে, সত্যিই কি ততটা ভালোভাবে চিনি তাঁকে? 'অর্থশাস্ত্র'-কে ইতিহাসের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 'মুদ্রারাক্ষস' নাটকের প্রসঙ্গে নায়ক হিসেবেও একজনের নামই উঠে আসি। তবু ইতিহাসে তিনি নেই! তার বদলে আছে কিছু ধোঁয়াশা, সংশয়, রহস্য। তবে হ্যাঁ, সেই মানুষটির পর্যবেক্ষণ, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা এবং নির্মম যুক্তিনির্ভরতার কথা কালসমুদ্রের এপারে, প্রায় আড়াই হাজার বছর পরেও আমাদের কাছে কিংবদন্তির বিষয়। এই বইয়ের নায়ক তিনিই~ চণকপুত্র চাণক্য! মোট চারটি কাহিনি আছে এই বইয়ে। তারা হল~ ১) শলাক-শাস্ত্র: গান্ধারের এক প্রতিনিধি মৌর্য অতিথিশালায় নিহত হলেন। এই ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাত আশঙ্কা করে সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত অবসরপ্রাপ্ত আচার্য চাণক্য'র সাহায্য চাইলেন। কে হত্যা করেছে ওই প্রতিনিধিকে? ২) শীল-শাস্ত্র: মগধের করদ রাজ্যের শাসকের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শাসকের অভিষেক হওয়ার মুহূর্তে সেখানে সম্রাটের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হলেন চাণক্য। কিন্তু তারপর ঘটে গেল এক মর্মান্তিক হত্যা। কে রয়েছে এই মৃত্যুর পেছনে? ৩) হত্যা-শাস্ত্র: পাটলিপুত্রের একের পর এক রূপোপজীবিনী'র নৃশংস মৃত্যু ঘটছে রাতের অন্ধকারে। এই মৃত্যুমিছিলের জন্য দায়ী কে? ৪) কনক-শাস্ত্র: লুণ্ঠিত হল রাজকোষ-গামী স্বর্ণমুদ্রা। অন্যদিকে তক্ষশিলা মহাবিদ্যালয়ে ঘটছে একের পর এক অবিশ্বাস্য, ভয়াবহ ঘটনা। এদের মধ্যে কি কোনো সংযোগ আছে? চাণক্য কি পারবেন এই মরণপণ চতুরঙ্গে বিজয়ী হতে? সোজাসুজি লিখি, এ-বছরে এখনও অবধি আমার পড়া সেরা বই এটি। লেখকের ভাষা হয়তো ক্ষেত্রবিশেষে ঐতিহাসিক কাহিনির উপযোগী হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু অর্থশাস্ত্র-র ব্যবহারিক প্রয়োগে এবং ইতিহাসের নানা তথ্যকে ব্যবহার করে তিনি যে তিনটি গল্প ও একটি উপন্যাস এই বইয়ে উপহার দিয়েছেন, তেমন কিছু আমরা বাংলায় এর আগে পাইনি। সুকুমার সেন কালিদাস-কে রহস্যভেদীর ভূমিকায় রেখে যে-সব গল্প লিখেছিলেন, তাদের কথা মাথায় রেখেই বলছি, এই বই বাংলা সাহিত্যে অদ্বিতীয়। এমন টানটান, রহস্যময়, ইতিহাসের তথ্য অবিকৃত রেখেও লেখা পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিনির্ভর লেখা বাংলায় আমি এর আগে পাইনি। ভরসা রাখি যে লেখক আগামী দিনে চাণক্যের আরও কাহিনি পড়ার সুযোগ করে দেবেন। তাঁর উদ্দেশে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।
শরদিন্দু, নারায়ণ সান্যাল, শ্রীপারাবত রচিত ঐতিহাসিক পড়ার পর এই বইটি পড়লে বাক্যগঠন ও গল্পের চলন বলনকে বুনিয়াদী স্কুলের ছাত্রের ইতিহাসের উত্তরপত্র মনে হতে পারে,যদিও তাদের বাক্যগঠন ও শব্দচয়ন লেখকের থেকে অনেক ভালো হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। একটু খেয়াল করে পড়লেই বেশ কিছু অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। কোথাও প্রহর, কোথাও মুহূর্ত কোথাও দন্ড আবার কোথাও "ঘন্টা" একক হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় ইংরেজি শব্দ চোখে পড়েছে যেমন "নম্বর"। "দুজন সেনার ভীড় সরিয়ে তিনজন নারী এগিয়ে এলো" বা "পরেরদিন সকালেই চাণক্য ও জীবসিদ্ধি নদীর তটের উদ্দেশ্য হাঁটছেন" অথবা "বৃদ্ধা মহিলা" র মতো বালখিল্য বাক্য ও পড়তে হয়েছে। কোথায় একই বাক্যে তৎসম, তদ্ভব এমনকি আরবি ফার্সী শব্দও ব্যবহার হয়েছে (তাবিজ,শয়তান)।কোথাও ব্যবহার হয়েছে "ডান্ডা" র মতো চলতি আধুনিক শব্দও! এরকম বহু উদাহরণ আছে যেগুলি সামনে এনে এই "বেস্টসেলার" কে "ট্র্যাশ" প্রমান করা যায়। ফেসবুকে লিখে বাহবা পাওয়া আর লিখে বই ছাপানো যে একই ব্যাপার নয় সেটা লেখক ও প্রকাশকের বোঝা উচিত। বেসবল ভালো খেলে বলেই তাকে দিয়ে কুড়ি ওভারের খেলায় ব্যাট করানো যাবে, এটা ভাবাটা অপরাধ আর প্রকাশকের উচিত অবিলম্বে একজন সম্পাদক ও প্রুফ রিডার নিয়োগ করা নয়তো আগামী পর্বে এরকম ভুল আরো আসতে থাকবে ও "বেস্টসেলার" এর ট্যাগ দিয়ে হাজার হাজার রিভিউ আসতে থাকবে, সেটা লেখক এবং পাঠক দুজনেরই ক্ষতি।
শেষে বলি যতটা প্রচার হয়েছে সেটায় বিভোর না হয়ে ক্রেতার উচিত সযত্নে বইটিকে এড়িয়ে চলা, খুব একটা ক্ষতি হবে না তাতে বরং প্রচারের আলোয় চোখ ঝলসে গিয়ে যদি কিনে ফেলেন ও পড়ে গেলেন তাহলে নিজের জ্ঞান ও বিচারবুদ্বির প্রতি অবিচার করা হবে এবং লেখক এবং প্রকাশককে আরো এরকম জঘন্য কাজ করার জন্য প্রচ্ছন্ন উৎসাহ দেওয়া হবে।
✨📖বইয়ের নাম - হত্যা শাস্ত্র📖✨ ✍️লেখক - আভিজ্ঞান গাঙ্গুলী 🖨প্রকাশক - বুক ফার্ম 📖পৃষ্ঠা সংখ্যা - 255
✨তিনটি বড়ো গল্প একটি উপন্যাস ✨
💫📚শলাক - শাস্ত্র : রাজমহলের অন্দরে হত্যা করা হয়েছে গান্ধারের রাজদূতকে । কিন্তু কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থার মাঝেও কোন কৌশলে তা সম্ভব হল ? শুধুই হত্যা , নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো ঘৃণ্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ? 📚💫
💫📚শীল - শাস্ত্র : মগধের প্রতিনিধি হিসাবে তোসালির দুর্গে অতিথি হয়েছেন চাণক্য । কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি সম্মুখীন হলেন এক গভীর রহস্যের । রাজার মৃত্যু কি স্বাভাবিক নাকি হত্যা ? 📚💫
💫📚হত্যা - শাস্ত্র : রাজধানী পাটলিপুত্রর পথে , গভীর রাত্রে নৃশংস ভাবে হত্যা করা একের - পর - এক গণিকাকে । হত্যাকারী কি উন্মাদ , নাকি তার কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে ? চাণক্য কি পারবেন এই অপরাধীর মনস্তত্ত্বের গভীরে প্রবেশ করে সমাধান সূত্র খুঁজে আনতে ?📚💫
💫📚কনক - শাস্ত্র : পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় , তক্ষশিলায় ঘটছে কিছু ব্যাখ্যাতীত ঘটনা । অন্ধকারের আনাচেকানাচে দেখা দেয় প্রেতমূর্তি , রহস্যময় ভাবে নিখোঁজ হয়েছেন এক শিক্ষক এবং ঘটেছে অপমৃত্যু ! প্রধানাচার্যের অনুরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন আচার্য চাণক্য । কোন গূঢ় রহস্য অপেক্ষা করে আছে সেখানে তার জন্য ?📚💫
✨📚৩২২ খ্রিস্টপূর্বের ভারতবর্ষ । নন্দ সাম্রাজ্যের পতন হয় এবং স্থাপিত হয় মৌর্য সাম্রাজ্য । সিংহাসনে আসীন হলেন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য । এই মহাযজ্ঞের মূল কাণ্ডারি ছিলেন এক ব্রাহ্মণ । আচার্য বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্য । সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের প্রধানমন্ত্রী পদে কয়েক বছর দায়িত্ব পালনের পর আচার্য চাণক্য অবসর গ্রহণ করেন । নিভৃতে বসবাস শুরু করেন এবং মনোনিবেশ করেন তার অমর সৃষ্টি ' অর্থশাস্ত্র ' লেখায় । কিন্তু কী হবে যদি রাজমহলের অন্দরেই ঘটে যায় হত্যাকাণ্ড ? অথবা মগধের বুকেই শুরু হয় একের - পর - এক হত্যা ? যখন রহস্য হয় গভীর এবং সমাধান অসম্ভব মনে হতে শুরু করে , তখন আবারও ডাক পড়ে সেই ব্রাহ্মণের । কারণ রহস্য যতই জটিল হোক , অপরাধী যতই ধূর্ত হোক , এবার সকল রহস্যের সমাধান করবেন তিনি— আচার্য চাণক্য ।📚✨
✍️লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি বই উপহার দেওয়ার জন্য📖💐🙏
যেকোনো রহস্যর সম্পূর্ণ সমাধানের জন্যে তিনটে প্রশ্নের উত্তর অনুধাবন করতে হয় । ‘ কে ? ’ , ‘ কেন ? ’ এবং ‘ কীভাবে ? ’
- ধর্ম কি এতটাই ঠুনকো ? মানুষের ধর্ম তার কাজ দিয়ে নির্ধারিত হয় একজন ব্রাহ্মণ , ধর্মভ্রষ্ট তখনই হয় যখন সে সজ্ঞানে উচিত কাজ করা থেকে বিরত থাকে । মন্দিরে পুজো করলে সে পূজারি হয় , ব্রাহ্মণ নয় । যে গোটা মানুস জাতিকে ঠিক পথে চালনা করে , সে - ই প্রকৃত ব্রাহ্মণ ।
প্রতিটা কাজ শুরু করার আগে নিজেকে তিনটে প্রশ্ন করবে , এই কাজ আমি কেন করছি ? এই কাজের উদ্দেশ্য কী ? এবং এই কাজ করার পর আমার কি কোনো লাভ হবে ?
ভাষার ব্যবহারের কিছু এলেমেলো ব্যাপার নজরে চলে আসে। প্লট এবং চরিত্র বাছাই বেশ ভালো ছিলো। অযথা অনুষঙ্গ যোগ করে গল্প দীর্ঘ করার প্রবণতা না থাকাটা বেশ ভালো ছিলো বলতেই হবে। ক্লাসিক ডিকেটটিভ থ্রিলার হিসেবে বেশ ভালোই বলতে হবে। তবে আমার মনেহয় যে কিশোর বয়সীদের এটা পড়া উচিৎ কিংবা যারা ক্লাসিক ডিটেকটিভ থ্রিলার খুবই কম পড়েছে তাদের আরো বেশি ভালো লাগবে।
বাংলা সাহিত্যের দাদা-কাকা-মামা গোয়েন্দাদের বাঁধা ছক থেকে বেরিয়ে গোয়েন্দা হিসেবে একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক চরিত্র আচার্য চাণক্যকে বেছে নেওয়ার জন্য অভিজ্ঞান গাঙ্গুলীকে বাহবা দিতেই হবে। এতটুকুই।
বুকফার্ম এর খাজা গোয়েন্দা বই কিনে আগে ঠকেছেন? এবার হবেন না অনেক এক্সপেকটেশন নিয়ে শুরু করেছিলাম , ভয় ছিল আশাহত হতে হবেনা তো ? শেষ করার পর বলতে অসুবিধা নেই আমার সব প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে আমার মতো যারা ভাবেন এখন আর কমপ্লিট বুদ্ধিদীপ্ত গোয়েন্দা গল্প নতুন কেউ লিখতে পারেনা , অভিজ্ঞান এর এই বই কে সুযোগ দিন , দেরি না করে কিনে ফেলুন
এবার আসি detailed প্রতিক্রিয়াতে :
খারাপ লাগা : 1. তৃতীয় গল্প , cliched সিরিয়াল কিলার , cliched সিরিয়াল কিলার ব্যাক স্টোরি , এটার main কনসেপ্ট এর অনেক গল্প পড়া ইতিমধ্যেই , Raymond Chandler থেকে শুরু করে হালের webseries candy এই কনসেপ্ট use করেছে , নতুন কিছু পেলাম না , মেদ বিহীন ছোট গল্প বলে পড়ে নেওয়া যায়
ভালো লাগা : 1. চানক্যর reimagining 2. প্রথম ও দ্বিতীয় গল্পের how dunnit অংশগুলো, দ্বিতীয় গল্পের কিছু টুইস্ট আর how dunnit ingenious 3. দ্বিতীয় গল্পের চরিত্ররা সবাই অসাধারণ 4. বই এর নভেলার solution যখন শুরু হলো একটু disappointed লাগছিলো , তার পর একের পর এক টুইস্ট আর অপরাধের ভেতর অপরাধ , এক কথায় অসাধারণ 5. শুধু হত্যা রহস্যর বাইরে বেরিয়ে ধূর্ত পলিটিকাল চাল এর গল্প পেলাম 5. বই এর শেষ লাইন , যেন মার্ভেল মুভির পোস্ট ক্রেডিট সিন 6. বই এর প্রোডাকশন , অলংকরণ
রেটিং - 4.5/5 , এবার goodreads পয়েন্ট এ রেটিং এলাও করে না তাই 4 দিতে হলো ( 5 যে আমি ব্যোমকেশ কেও দিই না , Christie / Higashino ছাড়া অন্যদের আজ পর্যন্ত দেয় নি , তাই 5 দিতে হাত কাঁপছিলো . গোয়েন্দা গল্প নিয়ে আমি অনেক খুঁত খুঁতে, অন্য genre 5 দিতে অসুবিধা হয় না )
চাণক্য, যিনি এক হাতে লিখেছেন অর্থশাস্ত্র, অন্য হাতে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে দিয়ে গঠন করিয়েছিলেন এক মহান সাম্রাজ্য। সেই চাণক্যকেই অভিজ্ঞান গাঙ্গুলী পরিণত করেছেন রহস্য সমাধানে ব্যস্ত এক গোয়েন্দায়।
যে কাল নিয়ে লেখা, সেটা বাদ দিলে বিশেষ কিছু বলা যায় না গল্পগুলোকে। তবে একেবারে খারাপও না।
"উন্মাদ ব্যাক্তিরা তাদের নিয়মের ব্যাতিক্রম করে না।তাদের স্বরচিত নিয়ম তাদের কাছে সর্বোচ্চ।প্রলয় এসে উপস্থিত হলেও তারা সেই কাজটা করবেই।"
আধুনিক অনেক সিরিয়াল কিলিং কাহিনীই পড়ছি।কিন্ত রাজা-মহারাজাদের প্রেক্ষাপটে প্লট সেট করে এরকম কাহিনী দাঁড় করানো দারুণ। সাথে মিরচি বাংলার সেটআপ,পারফেক্ট👌 চাণক্য'র ব্যাপারে বন্ধুর কাছে শুনছিলাম।এবার কাহিনী শেষ করাও হয়ে গেলো। সিরিজটা সম্ভবত পছন্দের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে❤️
সময়কাল ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ প্রায় যখন মৌর্য সাম্রাজ্যের সিংহাসন আলোকিত করেন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য । সে সময় প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন গুরু আচার্য চাণক্য। কিছু বছর এই গুরু দায়িত্ব সামলানোর পরে একা বসবাস শুরু করেন চাণক্য এবং শুরু করেন রচনা মহামূল্যবান অর্থশাস্ত্র । কিন্তু সে সময় রাজ্যে কোন হত্যার তদন্ত করার জন্য ছিল না টেকনোলজি । তবে মৌর্য সাম্রাজ্য একজন গোয়েন্দা বা তদন্তকারী হিসেবে চাণক্যের চেয়ে ক্ষুরধার বুদ্ধির মানুষ কেউ ছিলেন না। অর্থশাস্ত্রেও এর উল্লেখ আছে যে তৎকালীন তদন্ত পদ্ধতির আভাস। লেখক সেই ভাবনা কে কাজে লাগিয়ে রচনা করেছেন চারটি বড়ো থ্রিলার। ঐতিহাসিক স্থান , পাত্র ও কালের বর্ননা থাকলেও এগুলো কাল্পনিক রচনা। শলাক শাস্ত্র , শীল শাস্ত্র , হত্যা শাস্ত্র ও কনক শাস্ত্র এই গল্পগুলোর মধ্যে গল্পকার যে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন গুরু চাণক্যের চরিত্রের মাধ্যমে তা অবশ্য প্রশংসনীয় । থ্রিলার ভিত্তিক লেখা তাই গল্পের প্লট বা বর্ননা থেকে আমি বিরত থাকলাম। তবে যেমন সত্যজিৎ রায় হলেন আসল ফেলু মিত্তির সেরকমই আসল চাণক্য এখানে অভিজ্ঞান বাবুই। প্রতিটি লেখা এতো টানটান যে শেষ না করে থাকা যাবেনা। পরবর্তী বই শর-শাস্ত্র অবশ্যই পড়তে হবে। তবে অভিজ্ঞান বাবু অনেক কম লেখেন কিন্তু যা লেখেন তাতে স্যালুট। না ওনাকে আমি আরও তাড়াতাড়ি করে অনেক লিখতে বলতে চাই না। উনি সময় নিয়েই লিখুন আর এরকম কটা মাস্টারপিস আসুক এই আশা করি ।
এইমাত্র শেষ করলাম অভিজ্ঞান গাঙ্গুলী রচিত ও ‘বুক ফার্ম’ থেকে প্রকাশিত চাণক্য সিরিজের প্রথম খণ্ড— 'হত্যাশাস্ত্র'। এটি এক কথায় অসাধারণ একটি বই। কলেজে পড়ার সময় গ্রুপ ডিসকাশনে একটি টপিক প্রায়ই আসত— 'A pen is mightier than a sword'। এই বইটি পড়ার পর কথাটির সার্থকতা নতুন করে উপলব্ধি করলাম। লেখক তাঁর সুনিপুণ লেখনীর মাধ্যমে আমাকে কয়েক হাজার বছর পেছনের সেই আর্যাবর্তে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন, যখন মগধের সিংহাসনে সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য আসীন। তাঁর গুরুদেব চাণক্য তখন রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে 'অর্থশাস্ত্র' লিখছেন। কিন্তু ঘটনাচক্রে সম্রাট যখনই কোনো জটিল সমস্যার সম্মুখীন হন, তখনই সেই মহান চাণক্য মুনিকে অবতীর্ণ হতে হয় গোয়েন্দার ভূমিকায়। আর এই অভিযানে তাঁর শিষ্য জীবসিদ্ধি অনেকটা 'ওয়াটসন'-এর মতো তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকে। বইটিতে মোট তিনটি উপন্যাসিকা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস রয়েছে। লেখক চাণক্যের জীবনদর্শন এবং 'অর্থশাস্ত্র'-এর বিভিন্ন কৌশলকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দারুণভাবে এক্সট্রাপোলেট (Extrapolate) করেছেন, যা আমার বেশ ভালো লেগেছে। যেহেতু কাহিনীগুলো অতীতকালের, তাই এখানে গোয়েন্দাগিরি মূলত মনস্তত্ত্ব এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (Circumstantial Evidence) ওপর ভিত্তি করে এগিয়েছে। গল্পগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সমাজই অনেক সময় অপরাধী বা আততায়ী তৈরি করে। বইটি পড়ে আমি মুগ্ধ, এবার এই সিরিজের দ্বিতীয় বইটি পড়া শুরু করব।
অভিজ্ঞান গাঙ্গুলির চাণক্য series এর প্রথম খন্ড হল এই বই: হত্যাশাস্ত্র। যদিও একটি খন্ড প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটি যে একটি series তা প্রচ্ছদ এবং গল্পের ending থেকে প্রকাশ পায়। চারটি রোমহর্ষক কাহিনী দিয়ে সাজানো এই বইটি।
কিছু কথায় বলতে গেলে: easy read, engaging.
সামান্য কিছু improvement র জায়গা: প্রথম দুটি গল্পে সামান্য কিছু flaws আছে মনে হয়েছে আমার, cinematic ending, কিছু জায়গা সামান্য repetitive (description of চাণক্য), ১-২ spelling mistake (নগন্য)।
Overall একটি বেশ ভালো detective book for reading and collection.
আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে বা ফোন কল ট্র্যাক করে অপরাধী ধরার যুগের বহুযুগ আগে কেমন ছিল তদন্ত প্রক্রিয়া? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে লেখকের কলমে ফুটে ওঠে সেই মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রেক্ষাপটে ঘটে যাওয়া কিছু অপরাধের ও তার তদন্তের কাহিনী। কিন্তু গোয়েন্দাটি কে? আর কেউ নন, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সভার সেই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত পুরুষ চাণক্য।
লেখক নিজেই লিখছেন, এই কাহিনীগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সেই সময়কার তুখোড় বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি, যিনি এসব গভীর রহস্য সমাধান করবেন তেমন মানুষ খুঁজতে গিয়ে চাণক্যের থেকে ভালো মানুষ তিনি আর দেখতে পাননি। তাই তাঁকে মূল চরিত্র করেই লিখেছেন চারটি রহস্য গল্প।
আমি একে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলবো না। বলবো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস রহস্য কাহিনী। বেশ অন্যরকম বই। কিছু জায়গা নৃশংস, ছোটদের জন্য নয়। রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনী অথচ কিছুটা স্বাদবদল করতে চাইলে পড়তে পারেন।
৩২২ খ্রিস্টপূর্বের ভারতবর্ষ। নন্দ সাম্রাজ্যের পতন হয় এবং স্থাপিত হয় মৌর্য সাম্রাজ্য। সিংহাসনে আসীন হলেন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। এই মহাযজ্ঞের মূল কাণ্ডারি ছিলেন এক ব্রাহ্মণ। আচার্য বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্য। সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের প্রধানমন্ত্রী পদে কয়েক বছর দায়িত্ব পালনের পর আচার্য চাণক্য অবসর গ্রহণ করেন। নিভৃতে বসবাস শুরু করেন এবং মনোনিবেশ করেন তার অমর সৃষ্টি ‘অর্থশাস্ত্র’ লেখায়।
কিন্তু কী হবে যদি রাজমহলের অন্দরেই ঘটে যায় হত্যাকাণ্ড? অথবা মগধের বুকেই শুরু হয় একের-পর-এক হত্যা?
যখন রহস্য হয় গভীর এবং সমাধান অসম্ভব মনে হতে শুরু করে, তখন আবারও ডাক পড়ে সেই ব্রাহ্মণের। কারণ রহস্য যতই জটিল হোক, অপরাধী যতই ধূর্ত হোক, এবার সকল রহস্যের সমাধান করবেন তিনি— আচার্য চাণক্য।
পাঠ প্রতিক্রিয়া ---------------------------
চাণক্যকে আমরা সাধারণত অর্থশাস্ত্রের জন্যই চিনি। তবে ক্ষুরধার বুদ্ধি ও সুনিপুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাই তাকে বাকিসকলের থেকে আলাদা করে রাখে। মোট চারটি কাহিনি দিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। লেখক যদিও ভূমিকায় বলেই দিয়েছেন এই কাহিনিগুলো ঐতিহাসিক সত্য নয়। বরং বলা চলে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা কাল্পনিক কাহিনি। তিনটি বড়োগল্প এবং একটি নভেলা রয়েছে বইটিতে।
শলাক শাস্ত্র :
রাজমহলের অন্দরে হত্যা করা হয়েছে গান্ধারের রাজদূতকে। কিন্তু কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থার মাঝেও কোন কৌশলে তা সম্ভব হল? শুধুই হত্যা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো ঘৃণ্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র?
চমৎকার একটা গল্প। শুরুতেই বাজিমাত যাকে বলে আরকি। গল্পের বিল্ডআপ খুব সুন্দর এবং ভীষণ সুন্দর একটা এন্ডিং। সত্যি বলতে এন্ডিং টা পড়ে আমার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল রীতিমত হতভম্ব। একইসাথে এই গল্পটা ছিল বইয়ের অন্যতম চুম্বক অংশ। এই গল্পটা পড়ে এই বইতে আমি এতটাই বুঁদ হয়ে গিয়েছিলাম যে পুরো বইটা শেষ না করে উঠতেই পারিনি।
শীল-শাস্ত্র :
মগধের প্রতিনিধি হিসাবে তোসালির দুর্গে অতিথি হয়েছেন চাণক্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি সম্মুখীন হলেন এক গভীর রহস্যের। রাজার মৃত্যু কি স্বাভাবিক নাকি হত্যা?
এই গল্পটাও ভীষণ ভালো লেগেছে আমার। প্রথম গল্পের মতই মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মত টুইস্ট রয়েছে এই গল্পেও।
হত্যা-শাস্ত্র :
রাজধানী পাটলিপুত্রর পথে, গভীর রাত্রে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হচ্ছে একের-পর-এক গণিকাকে। হত্যাকারী কি উন্মাদ, নাকি তার কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে? চাণক্য কি পারবেন এই অপরাধীর মনস্তত্ত্বের গভীরে প্রবেশ করে সমাধান সূত্র খুঁজে আনতে?
এবারের গল্পটা সিরিয়াল কিলিং নিয়ে। এটার ডিটেলিং বেশ ভালো। এন্ডিং ছিল মোটামুটি। আরেকটু লম্বা করা যেত কাহিনিটা। তবে ওভারল ভালোই বলা চলে।
কনক-শাস্ত্র :
পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়, তক্ষশিলায় ঘটছে কিছু ব্যাখ্যাতীত ঘটনা। অন্ধকারের আনাচেকানাচে দেখা দেয় প্রেতমূর্তি, রহস্যময় ভাবে নিখোঁজ হয়েছেন এক শিক্ষক এবং ঘটেছে অপমৃত্যু! প্রধানাচার্যের অনুরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন আচার্য চাণক্য। কোন গূঢ় রহস্য অপেক্ষা করে আছে সেখানে তার জন্য?
চমৎকার একটা নভেলা। লেখার ডিটেলিং ছিল খুব ই ভালো, প্রতিটি দৃশ্য মনে হচ্ছিল যেন চোখের সামনে ঘটছে। এই গল্পে আমি পুরোপুরি ঢুকে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন চোখের সামনে আচার্য চাণক্যকে রহস্যের সমাধান করতে দেখতে পারছি। সংলাপ, গল্পের বিল্ড আপ, এন্ডিং - সব মিলিয়ে পারফেক্ট একটা গল্প।
এক কথায় বলতে গেলে হত্যা-শাস্ত্র এখনো পর্যন্ত এই বছরে আমার পড়া বইগুলোর মধ্যে সেরা বই। হত্যা শাস্ত্রের সাফল্যের দিক হল এর লেখনশৈলী ও সাবলীল বর্ণনাকৌশল। অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় লেখক গল্পগুলো তুলে ধরেছেন। ফলে পাঠক বইটা পড়ে খুব সহজেই গল্পে এনগেইজ হয়ে যায়। গল্পগুলোর দৈর্ঘ্যও অহেতুক টেনে লম্বা করা হয়নি। মোট কথা, একজন পাঠককে গল্পে ধরে রাখতে যা যা দরকার তার সবকিছুই এই বইতে শতভাগ আছে। তার ওপরে গল্পের মধ্যে অল্প কথায় চারপাশের ডিটেইলিং বর্ণনা বেশ ভালো লেগেছে। আমি এই বিষয়টা আগেও আমার অনেক রিভিউতে বলেছি যে ডিটেইলিং এ ভারতীয় লেখকদের হাতে জাদু আছে। যেটা আমি বাংলাদেশের বেশিরভাগ (প্রায় শতভাগ) লেখকের মধ্যে পাইনি। শুধু পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা গল্প বর্ণনার ঘনঘটা ছাড়াও পাঠককে বইতে ধরে রাখা যায়। সত্যি বলতে এই বইটা পড়ার সময় বইয়ের শেষের পাতার দিকে আমার রীতিমত হাহাকার হচ্ছিল যে একটু পরেই এত ভালো বইটা শেষ হয়ে যাবে। চরিত্রায়ন মোটামুটি বলা চলে। যেহেতু গল্পের পরিসর খুব বেশি নয় তাই লেখক চেষ্টা করেছেন স্বল্প পরিসরে চরিত্রগুলো ডেভেলপ করতে। তবে জীবসিদ্ধি চরিত্রটি বেশ ভালো লেগেছে।
বইটির প্রকাশিত হয়েছে বুকফার্ম থেকে। বুকফার্মের প্রোডাকশন বরাবরের মতই ভীষণ ভালো। পৃষ্ঠার মান, বাঁধাই কোয়ালিটি বেশ ভালো। তবে বইতে একটা ���ুকমার���ক ফিতার অভাববোধ করেছি। উল্লেখ্য, বইতে অনেকগুলো ছবি যুক্ত করা হয়েছে গল্পের ফাঁকে ফাঁকে। ছবিগুলো ভীষণ সুন্দর। গল্প রিলেটেড এরকম ছবি আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগে। কেননা পাঠক গল্প পড়তে পড়তে নিজের মস্তিষ্কে একটা ইমাজিনারি ফটো তৈরি করে। তারপর যখন পৃষ্ঠা উল্টে দেখতে পায় তার কল্পিত চিত্রের সাথে বইয়ের মধ্যে আঁকা ছবির হুবুহু মিল রয়েছে তখন স্বভাবতই পাঠকের মনে হর্ষ জাগে। অনেক কথা বলে ফেললাম, আর নয়। সময় পেলে পড়ে ফেলতে পারেন বইটি। আশা করি ভালো লাগবে। ওহ হ্যাঁ, বইটির দ্বিতীয় কিস্তি আসবে সম্ভবত। এমনই ইঙ্গিত রয়েছে শেষের গল্পটিতে। খুব শীঘ্রই সম্ভবত আচার্য চাণক্য আর আচার্য শকুনির দ্বৈরথ দেখতে পাবো।
অপেক্ষায়...এবারে আমার কথাটি অবশেষে ফুরোলো।
এক নজরে,
বই : হত্যা শাস্ত্র লেখক : অভিজ্ঞান গাঙ্গুলী প্রকাশনী : বুকফার্ম পৃষ্ঠা : ২৫৬ মুদ্রিত মূল্য : ৩৪৯ ভারতীয় টাকা
খুব ভালো লেগেছে পড়ে।। না শুধু এটুকু আমার মনে হয় যথেষ্ট নয় এই বইটির রিভিউ।। পাঠক কে একপ্রকার সেই সময় এর টাইম ট্রাভেল যেন করিয়েছেন লেখক।। ইতিহাস প্রসিদ্ধ কোনো চরিত্রকে এভাবে উপস্থাপনা করা যেতে পারে তার জন্য লেখক কে কুর্নিশ।।প্রত্যেকটা গল্পের প্লট খুব সুন্দর সাজিয়েছেন লেখক। যারা এখনো পড়ে উঠতে পারেননি তাদেরকে বলবো একবার অবশ্যই পড়ে দেখার জন্য।। ফেলুদা, ব্যোমকেশ, শার্লক এর বাইরে অন্তত আমার বেশ ভালো লেগেছে র��স্য কাহিনী হিসাবে। 🙏🙏 এটি শেষ হওয়ার সাথেই আমি এর পরের অংশটি শুরু করে দিয়েছি।😊 শর শাস্ত্র 🙏
চাণক্য সিরিজের প্রথম বই হত্যাশাস্ত্র প্রকাশিত হয় ডিসেম্বর ২০২১ সালে। লেখকের মূল ভাবনাটি ছিল এমন একটি সময়কে ভিত্তি করে গোয়েন্দাকাহিনি লেখা যেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্টিং বা ফরেনসিক সায়েন্সের অস্তিত্ব নেই, এবং তদন্তকারীর একমাত্র হাতিয়ার হবে তার নিজস্ব চিন্তাশক্তি।
সেই ভাবনা থেকেই তিনি বেছে নেন ইতিহাসের অন্যতম তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী চরিত্র আচার্য বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্যকে। একজন ন্যানো-বিজ্ঞানী হয়ে ইতিহাসের প্রথম অপরাধ-বিজ্ঞানীকে নায়ক বানানোর এই ভাবনাটা বেশ স্বাভাবিক এবং চমৎকারও বটে।
পেশাগত জীবনে লেখক অভিজ্ঞান গাঙ্গুলী পশ্চিমবঙ্গের একজন বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ — NIT Silchar থেকে ন্যানো-ইলেকট্রনিক্সে পিএইচডি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার UKZN থেকে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা শেষ করে বর্তমানে তিনি কলকাতার Brainware University-তে Associate Professor হিসেবে কর্মরত। এই ব্যস্ত কর্মজীবনের ফাঁকেই তিনি লেখালেখি করেন।
চাণক্যের অর্থশাস্ত্র কেবল অর্থনীতির গ্রন্থ নয়, এটি সম্ভবত পৃথিবীর প্রথম অপরাধ-বিজ্ঞানের বই — যেখানে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে অপরাধী চেনার উপায়, বিষ প্রয়োগ ও তার শনাক্তকরণ, এবং তদন্তকারীর অনুসরণীয় পদ্ধতি সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে। এই অসামান্য ঐতিহাসিক চরিত্রটিকে সামনে রেখেই অভিজ্ঞান গাঙ্গুলী নির্মাণ করেছেন তাঁর চাণক্য সিরিজ। বইটিতে রয়েছে তিনটি ছোটগল্প এবং একটি উপন্যাসিকা।
বই শুরু শলাক শাস্ত্র গল্প দিয়ে। রাজমহলের অন্দরমহলে কড়া নিরাপত্তার মাঝেও খুন হয়েছেন গান্ধারের রাজদূত। হত্যাটা কীভাবে সম্ভব হল, সেটাই প্রথম ধাঁধা।
লকড রুম মার্ডারের ধাঁচে লেখা এই গল্পটি পাঠককে একেবারে শুরু থেকেই সিরিজের সুরে বেঁধে ফেলে।
শীল শাস্ত্র খানিকটা ভিন্ন মেজাজের। মগধের প্রতিনিধি হিসেবে তোসালির দুর্গে গিয়েছেন চাণক্য। সেখানে প্রশ্ন উঠেছে রাজার মৃত্যু নিয়ে। সেটা স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি সুপরিকল্পিত হত্যা? এই গল্পে চাণক্যের ডিডাক্টিভ পদ্ধতির সবচেয়ে ধারালো প্রকাশ দেখা যায়, যেখানে বাহ্যিক প্রমাণের চেয়ে মানুষের আচরণ ও যুক্তির বুনোট দিয়ে সত্যকে খুঁজে বের করা হয়।
তৃতীয় গল্প হত্যা শাস্ত্র এর পটভূমি মগধ সাম্রাজ্যের রাজধানী পাটলিপুত্র। রাতের অন্ধকারে একের পর এক রূপোপজীবিনী হত্যায় নগরজুড়ে আতঙ্ক। অবসরপ্রাপ্ত চাণক্য প্রাক্তন গুপ্তচর জীবসিদ্ধিকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তে নামেন। গল্পের শেষে যে চাণক্যকে দেখা যায়, তিনি কেবল সত্যান্বেষী নন সেখানে ভেসে ওঠে 'কৌটিল্য'র ঠান্ডা মুখ, যিনি একজন বিকৃত মানসিকতার খুনিকেও শত্রুনিধনের হাতিয়ারে পরিণত করার হিসাব কষতে দ্বিধা করেন না।
তবে বইয়ের সেরা অংশ নিঃসন্দেহে শেষের উপন্যাসিকা কনক শাস্ত্র। পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় তক্ষশিলায় ঘটে যাচ্ছে একের পর এক রহস্যজনক ঘটনা। অন্ধকারে প্রেতমূর্তির দেখা, এক শিক্ষকের রহস্যময় নিখোঁজ হওয়া, এবং অপমৃত্যু। প্রধানাচার্যের অনুরোধে চাণক্য এলেন তক্ষশিলায়।
কিন্তু এখানকার রহস্য আগের তিনটি গল্পের মতো সরল নয়। গল্পটা যত এগোয়, ততই একটার নিচে আরেকটা স্তর খুলতে থাকে। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার লড়াই, মনস্তাত্ত্বিক কৌশল এবং রাজনীতির জটিল সমীকরণ এক সুতোয় বাঁধা পড়ে যায়। এতে লেয়ারের পর লেয়ার রয়েছে, প্রতিটি উন্মোচন পাঠককে আরও গভীরে টেনে নামায়।
নৈতিকতার ধূসর এলাকায় দাঁড়িয়ে চাণক্যকে দেখানোর মধ্যেই লেখকের সবচেয়ে বড় সাফল্য। গোয়েন্দাকাহিনি হিসেবে পড়লে হত্যাশাস্ত্র নিঃসন্দেহে বাংলা থ্রিলার সাহিত্যে একটি তাজা ও শক্তিশালী সংযোজন।
অধিকাংশ গোয়েন্দা কাহিনির মতোই অপরাধ–অনুসন্ধান–উন্মোচন ধাঁচের একটি Classic detective narrative arc অনুসরণ করেছে "হত্যা শাস্ত্র"। কিন্তু লেখক অভিজ্ঞান গাঙ্গুলি এই পরিচিত ছকের ভেতরে এক নতুন সময়-সংস্থান যুক্ত করেছেন ৩২২ খ্রিস্টপূর্বের ভারত। যেখানে গোয়েন্দার ভূমিকায় উপস্থিত চাণক্য, তার সহকারী জীবসিদ্ধি, এবং তদন্তের নেপথ্যে সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের প্রত্যক্ষ ভূমিকা। ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের গোয়েন্দা জঁরের কেন্দ্রে এনে লেখক একটি আকর্ষণীয় historical re-imagining এর চেষ্টা করেছেন, যা গুণে গন্ধে নিঃসন্দেহে বইটির মূল USP। তবে লেখক নিজে বইটিকে নিতান্ত গোয়েন্দা কাহিনি হিসেবেই পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তাই ঐতিহাসিক সত্যতা যাচাইয়ের দাবি না রেখে পাঠ করলে গল্পগুলো একটি self contained narrative world তৈরি করতে সক্ষম। প্লটগুলো যথেষ্ট সুসংহত হলেও, লেখাতে সেই প্রয়োজনীয় narrative tension, অর্থাৎ পাঠকের মনোযোগ টেনে ধরে রাখার অবিরাম hook factor, মাঝে মাঝে কম অনুভূত হয়। যা সম্পূর্ণই ব্যক্তিগত পাঠ অনুভূতির জায়গা থেকে বলা। তবে গোয়েন্দা গল্পের জন্য যে procedural precision প্রয়োজন, তার আরও সূক্ষ্ম ব্যবহার করা যেতো বলেই মনে হয়েছে। হাতে বোনা উলের সোয়েটারের মতো উষ্ণতা ছড়াতে পারতো লেখাগুলি। যাইহোক। এবার নামকরণ নিয়ে দু চার কথা বলা যাক। "শাস্ত্র" শব্দটির সঙ্গে ভারতীয় সাহিত্যে যে normative authority এবং epistemology জড়িত, তা ভাবলেই দেখা যায় এখানে ব্যবহৃত হত্যাকৌশল, বিষ এর প্রয়োগ বা গুপ্তচরবৃত্তির বিবরণ থাকলেও, সেগুলোকে “শাস্ত্র” এর মতো তাত্ত্বিক বা নৃ-দার্শনিক কাঠামোতে উত্তীর্ণ করে না। ফলে নামকরণ কিছুটা বিভ্রান্তিকর এবং বাণিজ্যিক কৌশল বলেই মনে হয়।
তবুও বইটি একটি accessible comfort read। শীতের দুপুরে আরাম করে পড়ে ফেলার মতো। তার সাথে গৌতম কর্মকার মহাশয়ের অলঙ্করণ ও আঁকা ছবিগুলো গল্পের প্লট, সময়কে আরো গভীরভাবে তুলে ধরে। সেই অর্থে পাঠককে বিনোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে ''হত্যা শাস্ত্র'' নিঃসন্দেহে সার্থক।
ঠিক যেমন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ঐতিহাসিক কাহিনীগুলো Fictionalized history নয়, বরং historical fiction; সেই ঘরানারই কাজ এই গ্রন্থ কিন্তু উপরি পাওনা এগুলো গোয়েন্দা কাহিনী।
অভিজ্ঞান গাঙ্গুলীর 'হত্যাশাস্ত্র' যা ইতিমধ্যেই বহুল প্রশংসিত এবং চর্চিত। এই বইতে লেখক ৪ টি কাহিনীর সংকলন করেছেন (৩টি বড় গল্প এবং একটি উপন্যাসিকা) যেগুলো আদতে গোয়েন্দা কাহিনী এবং সত্যান্বেষীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন আর্যাবর্তের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব; চনক পুত্র চানক্য বা বিষ্ণুগুপ্ত কৌটিল্য। সেগুলি হলো - ১. শলাক শাস্ত্র ২. শীল শাস্ত্র ৩. হত্যা শাস্ত্র এবং ৪. কনক শাস্ত্র
বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথি (যেগুলোর রেফারেন্স গল্পের বা অধ্যায়ের শেষে দেওয়া রয়েছে) কৌটিল্য রচিত 'অর্থশাস্ত্র' বা 'চানক্য নীতি'র বিভিন্ন তথ্য ও সূত্র সহযোগে সুনিপুণতার সঙ্গে লেখক যেভাবে গেঁথেছেন নিজের কল্পনাকে যা সত্যি প্রশংসাযোগ্য।
লেখকের কল্পনাপ্রসূত এই রচনা অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং উপভোগ্য। ভাষা হয়তো ঐতিহাসিক কাহিনীর জন্য ঠিক উপযোগী নয় (কিছু ক্ষেত্রে বড্ড বেশি আধুনিক লাগতে পারে) তবে লেখা ঝরঝরে, এবং তাই পড়তে কোনরকম অসুবিধা হয়না। কাহিনী বিন্যাস এমনই টানটান যে পড়তে শুরু করলে সহজে ছাড়া যায়না। বহুদিন বাদে এধরনের যুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা কাহিনী (যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির শর্টকাট নেই) পড়ে সত্যি লেখকের থেকে প্রত্যাশা বেড়ে গেলো, আশা রাখি ভবিষ্যতে আরো লেখা পাবো 'চানক্য সিরিজ' এর।
পুনশ্চ - কাহিনীর শেষে বিভিন্ন টীকা, আর চিত্তাকর্ষক কিছু অলংকরণ এই বইটির বাড়তি প্রাপ্তি।
Author’s effort deserves applause and hence the review.
The best part of the book lies in the detailing, the modus operandi of the killers & the twists in the end. Never could I imagine that Kautilya could be portrayed as such a loveable character. I could guess his out worldly intelligence, but his honesty & subtle sense of humour made me fall in love with him . And of course, the way you have mentioned references in the end clearly proves that you are a researcher with a number of papers to your credit.
My favourite story is ‘Sheel-Shashtro’. It’s so heart wrenching. The most intriguing story is undoubtedly ‘Konok-Shashtro’. The way you have connected the fictional story with historical facts is truly brilliant. The ‘ Hatya-Shashtro’ story was a bit too mainstream for my liking, though the end turn of events was very interesting. As for ‘Shalak-Shashtro’, the fact that a Greek queen had used the same way to try kill his MIL had me surprised.
Although I could guess the killer in a couple of stories, your writing compelled me to read the whole story & be awed. I can’t imagine how much research you had to do to write this book, how many sleepless nights you must have endured. I just want to thank you for writing an intelligent, unputdownable, crisp story book that takes us back into history & also stimulates our grey cells.
I hope you write the next book soon. No hurry, take your time. Surely I’ll pre-book it as soon as you advertise. And wish you will give us more insight into the character of Chandragupta.
In our everyday mundane life what we seek for? What do we desire?
Yes, we all know the answer, 'adventure', 'mystery', 'thriller'. If you want to feel all of these together, please go for this book.
Now the question lies what is so different in this book? We have a lot of detective books in market. Why should I buy this?
Have you ever read a murder mystery with a historical backdrop? Have you ever witnessed Chankya as an analyst of crime? This is, what makes it special. The uniqueness, the novelty that we readers crave for. The stories are witty, with multiple twist and turns, shocking revelations, and beautiful minute description of every detail. Your inquistive mind will be satisfied with the explanation provided by, Kautilya, who is just a synonym of intelligence.
Each story is a treat to lovers of mystery. But Kanak Shastra tops the lot, with innumerable riddle and tricks, which puzzle the readers. The supernatural element is brilliantly woven, the minting mystery is just another gift for the readers.
৩২২ খ্রিস্টপূর্বের ভারতবর্ষ। নন্দ সাম্রাজ্যের পতন হয় এবং স্থাপিত হয় মৌর্য সাম্রাজ্য। সিংহাসনে আসীন হলেন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। এই মহাযজ্ঞের মূল কাণ্ডারি ছিলেন এক ব্রাহ্মণ। আচার্য বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্য। সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের প্রধানমন্ত্রী পদে কয়েক বছর দায়িত্ব পালনের পর আচার্য চাণক্য অবসর গ্রহণ করেন। নিভৃতে বসবাস শুরু করেন এবং মনোনিবেশ করেন তার অমর সৃষ্টি ‘অর্থশাস্ত্র’ লেখায়। প্রথমেই বলে রাখি এটি কোনো ঐতিহাসিক লেখা নয়, কেবল মাত্র কয়েকটি ঐতিহাসিক চরিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। লেখক এর কল্পনা প্রসূত কয়েকটি রহস্য গল্পকে ৩২২ খ্রিস্টপূর্বের ভারতবর্ষের পটভূমি তে দেখানো হয়েছে, আর এই রহস্য গল্পগুলোর রহস্যভেদি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে আচার্য বিষ্ণুগুপ্ত চানক্য ও তার শিষ্য জীবসিদ্ধি মহাশয়কে।
পটভূমি - এই বইটিতে মোট চারটি গল্প আছে, তিনটি বড় গল্প ও একটি উপন্যাস। প্রত্যেকটি গল্প সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো। শলাক-শাস্ত্র: রাজমহলের অন্দরে হত্যা করা হয়েছে গান্ধারের রাজদূতকে। কিন্তু কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থার মাঝেও কোন কৌশলে তা সম্ভব হল? রাজনৈতিক ভাবে প্রণোদিত একটি লকড রুম মার্ডার, আচার্য বিষ্ণুগুপ্ত চানক্য কিভাবে কোনো ফিঙ্গার প্রিন্ট অথবা পোস্ট মর্টার্ম ছাড়াই শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ, অনুধাবন ও ক্ষুরধার বুদ্ধি বিশ্লেষণ দিয়ে হত্যাকারীকে খুজে বের করেন তাই এই গল্পের আলোচ্য। শীল-শাস্ত্র: মগধের প্রতিনিধি হিসাবে তোসালির দুর্গে অতিথি হয়েছেন চাণক্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি সম্মুখীন হলেন একাধিক গভীর রহস্যের। রাজার মৃত্যু, ভৌতিক কার্যকলাপ, যুবরাজের মৃত্যু ও তার রাজ্য অভিষেক। কিন্তু রাজার মৃত্যু কি স্বাভাবিক ছিল নাকি হত্যা? আবার নিজের অসাধারন পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার পরিচয় দেন বিষ্ণুগুপ্ত চানক্য এবং উন্মোচিত হয় রহস্য। হত্যা-শাস্ত্র: রাজধানী পাটলিপুত্রর পথে, গভীর রাত্রে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হচ্ছে একের-পর-এক গণিকাকে। হত্যাকারী কি উন্মাদ, নাকি তার কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে? চাণক্য কি পারবেন এই অপরাধীর মনস্তত্ত্বের গভীরে প্রবেশ করে সমাধান সূত্র খুঁজে আনতে? কনক-শাস্ত্র: পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়, তক্ষশিলায় ঘটছে কিছু ব্যাখ্যাতীত ঘটনা। অন্ধকারের আনাচেকানাচে দেখা দেয় প্রেতমূর্তি, রহস্যময় ভাবে নিখোঁজ হয়েছেন এক শিক্ষক এবং ঘটেছে অপমৃত্যু! প্রধানাচার্যের অনুরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন আচার্য চাণক্য। কোন গূঢ় রহস্য অপেক্ষা করে আছে সেখানে তার জন্য?
পাঠ প্রতিক্রিয়া - অর্থশাস্ত্র এর লেখক ব্যাস এটুকুই আমি জানতাম বিষ্ণুগুপ্ত চানক্য সম্পর্কে। কিন্তু তার এই পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, যুক্তি নির্ভরতা আজও আমাদের অবাক করে। যে সময়ে রহস্য উন্মোচনকারীর কাছে কোনো সহায়তা ছিলনা, সেই সময় শুধু মাত্র তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার মাধ্যমে একের পর এক রহস্য ভেদ করে চলা এইরকম একটা চরিত্রের জন্য লেখককে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। এই ধরনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা রহস্যময়, টানটান যুক্তিনির্ভর লেখা আমি প্রথমবার পড়লাম। চানক্য সিরিজ এর আগামী বইগুলোর জন্য অধীর অপেক্ষায় রইলাম। লেখককে অনেক শুভেচ্ছা রইলো আগামী দিনের জন্য।
উৎকৃষ্ট মানের হোমসিয় ঘরানার ক্রাইম থ্রিলার। তিন নম্বর গল্পটি তুলনামূলক দুর্বল। সেরা অবশ্যই শেষ নভেলাটি, কনক শাস্ত্র, আর সেটাও এর রহস্যভেদের জন্য নয়, বরং তার পরের ঘটনাবলীর জন্য। এতে শুধু মরিয়ার্টি নয়, মায় ডিমনেটাইজেশান অবধি আছে। চমৎকার লাগল। এই শেষ গল্পের জন্যই বইটাকে চার বা সাড়ে চার দেওয়া যায়।
পুনশ্চ: একটাই জিনিস একটু চোখে পড়ে গেল। খুবই ছোট জিনিস। কিন্তু ঐতিহাসিক, বিশেষত প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে যেকোনো লেখায় ভাষা বড়ই গুরুত্বপূর্ণ। "Smokes and mirrors" নিতান্তই ইংলিশ এক্সপ্রেশন। ওটার ডাইরেক্ট অনুবাদ "ধোঁয়া আর আয়না" হয় বটে কিন্তু সেটা ভাবানুবাদ হয় না। উদাহরণস্বরূপ বলছি যে ধরুন কেউ "গাছেরও খাব, তলারও কুড়াব"র ইংলিশ অনুবাদ হিসেবে লিখতেই পারেন, "He not only wants to eat the fruit, that's on the tree, but also wants to collect the fruits that have fallen down from the tree", কিন্তু সেটা সঠিক ভাবানুবাদ হয় না, তাই সেটা না লিখে "He wants to have the cake and eat it too" লেখাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত। যাকগে।
প্রথমেই বলে রাখি এই বইটি কোনভাবেই ঐতিহাসিক নয়। এতে কেবলমাত্র এমন কয়েকজন চরিত্র ব্যবহৃত হয়েছে যাদের নাম আমরা ইতিহাসে পাই। ঐতিহাসিক সেই ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি এখানে সম্পূর্ণ OOC বা আউট অফ ক্যারেক্টার। এই বইতে প্রকাশিত চারটি কাহিনির প্রেক্ষাপট প্রাচীন ভারত হলেও এই বইয়ের জঁর আমার মতে রোমাঞ্চ।
আগেই বলেছি এতে চারটে কাহিনি আছে। প্রথম গল্প শলাক- শাস্ত্র। শলাক অর্থাৎ ছুঁচ বা সূক্ষ্ম কাঠি। কাহিনি শুরু হয় গান্ধারের দূত অমাত্য শুকদাসের মগধ আগমন দিয়ে। রাজঅতিথি তায় শত্রুরাজ্যের অমাত্য, এহেন ব্যক্তির অপঘাতে মৃত্যুতে অবশ্যম্ভাবী যুদ্ধের ভয় কেঁপে ওঠে মগধ। আসেন চাণক্য। নিজের ক্ষুরধার বুদ্ধি দিয়ে খুঁজে বের করেন আসল অপরাধীকে। প্রাচীন ভারত, যখন ফিঙ্গার প্রিন্ট বা পোস্টমর্টেমের স্বপ্নও কেউ দেখেনি, সেইসময়ে দাঁড়িয়ে রহস্য উন্মোচন, সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। কাহিনির সঙ্গে মানানসই অলঙ্করণ।
দ্বিতীয় কাহিনি শীল শাস্ত্র। মগধের এক করদ রাজ্যে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কিছু রাজকার্যে যান চাণক্য এবং জীবসিদ্ধি এবং জড়িয়ে পড়েন এক ভৌতিক ঘটনার সঙ্গে। আবার নিজের অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার পরিচয় দেন চাণক্য। উন্মোচিত হয় রহস্য। এই কাহিনিটি যেন অত্যধিক সরলীকৃত। সমাধানকর্তা যেন সমাধান জানেন, তাই যে করে হোক উত্তর মিলিয়ে দিলেন, তা সে বর্ণান্ধ মাতা- পুত্র হন বা মানসিকভাবে অসুস্থ রাজপুত্রের অসংলগ্ন কথাবার্তা।
তৃতীয় কাহিনি হত্যাশাস্ত্র। মগধ মিটস জ্যাক দ্য রিপার। আশা জাগিয়ে শুরু হয়েছিল কিন্তু হত্যাকারীর আত্মকথন তাল কাটল। আর কোনভাবে কি এটা লেখা যেত না? জবানবন্দী বা অন্য কিছু? তবে এই গল্পে এক নয় দুজন হত্যাকারী আছে। শেষের ট্যুইস্টটি দারুণ।
চতুর্থ এবং শেষ কাহিনি কনক- শ���স্ত্র। ফাস্টপেসড হলিউড মুভির ধাঁচে লেখা এই গল্পে হরর আছে, থ্রিল আছে, খুন তো আছেই, তার সাথে আছে পুরানী দুশমনী। অতীত থেকে ফিরে আসে এক প্রতিশোধকাঙ্খী, তার সাথে হাত মেলায় আরেক ক্ষমতালোলুপ ষড়যন্ত্রী। এদের উদ্দেশ্য চাণক্য, তক্ষশীলা এবং মগজের ধ্বংস। অন্য গল্পগুলির তুলনায় এটি ঘটনার ঘনঘটা এবং চরিত্রের ভীড়ে একটু বেশীই জটিল
যে সময়ে রহস্য উন্মোচনকারীর কাছে কিছুই নেই, সেই সময়ের দাঁড়িয়ে কেবলমাত্র নিজের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর পর্যবেক্ষণ শক্তির সাহায্যে একের পর এক রহস্যভেদ করে চলা এই চরিত্রের জন্য লেখককে ধন্যবাদ। চাণক্য আর জীবসিদ্ধির পরিচয় বারবার দেওয়া হয়েছে প্রতি গল্পে। না দিলেও চলত। বানান এবং বাক্য গঠনের প্রতি আরও একটু সচেতন হলে ভাল হত। ভূপাতিত বা মৃতদেহ শুয়ে রয়েছে ধরণের ভুল বড়ই দৃষ্টিকটু। তবে বিষয়বস্তু, লেখার ধরণ এবং অলঙ্করণ মিলিয়ে এই বইটি নিঃসন্দেহে আলাদা।
চাণক্য সিরিজের বই আগে পড়িনি। সম্প্রতি একদা আর্যাবর্ত পড়ে কিছুটা কৌতুহলবশতই এই বই কিনি। ইতিহাসভিত্তিক সিরিয়াস ঘরানার লেখা নয়, এই বইয়ের চারটি গল্পই হালকা চালে লেখা গোয়েন্দাকাহিনী- যা ঐতিহাসিক পটভূমিতে ফেলা হয়েছে। গোয়েন্দাগল্প হিসেবে বেশ ভালো, বিনোদন দেয়। কাহিনীর বুনন আর জট ছাড়ানোর প্রক্রিয়া এখানে বেশ গুছিয়ে হয়েছে - যা আমার কাছে অত্যন্ত কঠিন কাজ। প্রথম গল্পটির খুনের ভাবনাটি বেশ অভিনব, লেখক এই ভাবনার পিছনের তথ্যসূত্রটি দিয়েছেন- যার মাথা থেকে এ বুদ্ধি এসেছে তার যে পাকা মাথা সন্দেহ নেই। দ্বিতীয় ও তৃতীয় গল্পতে অপরাধ ও অপরাধীর সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা করা গেলেও প্লট সাজিয়ে লেখা এবং রহস্য জমাট বাঁধে তাই। কিন্তু শেষ গল্পটি অযথা দীর্ঘায়িত করা হয়েছে মনে হয়েছে। সরল ভাষায় লেখা গল্পগুলো, তাই সেভাবে ঐতিহাসিক গন্ধ পাওয়া যায় না- সেই নিয়ে আমার অভিযোগ নেই। কিন্তু কিছু কিছু ভাষাপ্রয়োগ একটু চোখে লেগেছে। বইটির প্রচ্ছদ দারুণ ভালো।
প্রাচীণ ভারতের মহান দার্শনিক বিষনুগুপ্ত চাণক্য যখন রহস্যের সমাধানকারী হিসেবে আবির্ভুত হয় তখন সেই বই একবার না পড়া উচিৎ হবে না। এখন আমি সত্যিই সন্তুষ্ট। বইটাতে চারটে গল্প আছে