A short Supernatural Tales. The narrator of this tale is Taranath Tantrik, a mystic figure and practitioner of occult. He is an astrologer by profession and had many encounters with the weird in his extensive travels. He shares this experience with a few friends in his Mott lane house over cups of tea and cigarettes.
Son of late legendary writer Bibhutibhusan Bandyopadhyay of 'Pather Panchali' fame, Taradas Bandyopadhyay had his schooling at the Ramakrishna Mission School, Rahara. Graduating from Maulana Azad College with Honours in English, he went on to do his post - graduation from the Calcutta University.He joined service with the West Bengal government and rose to the position of director in the Information and Cultural Affairs department, from where he took voluntary retirement. Despite his failing health, Bandyopadhyay found time to associate with cultural and social organisations and remained the honorary vice-president of the Indian Forum of Art and Culture. Taradas leaves behind a large number of short stories and two famous novels - তারানাথ তান্ত্রিক and কাজল. 'কাজল' was a sequel to 'Aparajito' written by his father. Taradas is survived by his wife and two sons.
আমি যখন প্রথম এই গল্পটা শুনতে শুরু করি, তখন মোটে ২৫% শুনেছিলাম। আজ শুনে ফেললাম পুরোটা। নেহাত ভাগ্যে না থাকলে এ গল্প পড়েই থাকত।
কিছু কিছু বই পড়ার পর নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়, দেবদর্শন তেমন একটা বই। আবহমানকালের বাঙালী, বার মাসে তার তের পার্বণ, তার ভক্তি, তার আতিথেয়তা, তার বন্ধুত্ব, তার গন্ধ..সবকিছু মিলিয়ে এমন একটা গল্প মনে হয় ধ্যানেই পাওয়া সম্ভব শুধু। এত মাদকতাময় গল্প বহুদিন শুনিনি।
গল্পটা শুনে নিজের বাঙালিয়ানাকে মনে করে ভীষণ গর্ব হল। কিভাবে নিজের সত্ত্বাকে বাচিয়ে রাখতে হবে, বুঝতে পারলাম। যে কাল চলে গেছে, তা তো আর ফেরত পাব না, আপনারাও পাবেন না। তাই গল্পটা শুনে নিন। যাতে সন্তানদের বলতে পারেন।
দেবদর্শন আবহমান বাংলার বিগতযৌবনের দলিল। আমি জানি, আপনারা এই রিভিউ পড়ার পর যারা শুনবেন, তাদের অর্ধেক মানুষ এই রিভিউয়ের উচ্ছ্বাসের কারণ বুঝতে পারবেন না। বাকি অর্ধেক এমন নষ্টালজিক হয়ে পড়বেন যে, সে থেকে আর বের হতে পারবেন না।
গল্পের এই নাম হয়তো সানডে সাসপেন্সের দেওয়া, কারণ তারাদাস বন্দোপাধ্যায়ের তারানাথ তান্ত্রিক সমগ্র-তে আলাদা আলাদা গল্পের কোনো শিরোনাম দেখতে পাইনি। যাক তাও এক ভালোই হলো। আমিও গল্পটা শুনেছি কেবল, উক্ত চ্যানেলে।
আমার কাছে তারাদাসবাবু'র তারানাথ তান্ত্রিক গল্পগুলোয় অন্যতম সৌন্দর্য হলো- বর্ণনা। কখনো প্রকৃতি, কখনো আবহ, আর এই দেবদর্শন গল্পকে মায়ায় জড়িয়ে রেখেছে বাঙালীর পূজো, আর গেরস্থালি আপ্যায়ন। পূজোর সময় তারানাথ ঘটনাক্রমে উপস্থিত হয়েছিলেন জমিদার দেবদর্শনের বাড়িতে। প্রতি বেলার খাওয়াদাওয়া, অন্তে বসে তামাক হাতে আলাপ, ঘরজুড়ে পূজোর আয়োজন, পূর্ণিমার আলোয় নদীর পথে হাঁটা- কী যে এক গ্রামীণ অবকাশের ছবি আঁকা হয়েছে পুরোটা জুড়ে!
আরেকটা ব্যাপার খেয়াল করেছি তারাদাসের লেখা তারানাথের গল্পগুলোয়, অতিপ্রাকৃত'র চাইতে আবহ বেশি গুরুত্ব পায়। পাসাং মারা-তে দেখলাম, এখানেও।
বাংলার রহস্য-ভৌতিক গল্প সব যতই পড়ি, ততই অবাক লাগে, আমাদের এখন আর এরকম নেই কেন? অন্যান্য জনরা যতটা এগিয়েছে, এই দিকটা তত নয়। এত বছর পরে এসেও গোয়েন্দা গল্পের ফেলুদা, ব্যোমকেশ এতটুকু রিডান্ডেন্ট নয়, তারানাথ তান্ত্রিকের গল্পও গাঁজাখুরি মনে হয় না, অথচ নতুন করে হিমু-মিসির আলি ছাড়া আর কিছু নেই। যতটা না রহস্যগল্প, তার চেয়েও বেশি আগ্রহ অর্জন করলো বোধহয় বাঙালি জীবনধারার বর্ণনা। ছোটো একটা বই, কিন্তু ভালো সময় কাটলো।
চিরায়ত বাঙালিয়ানা, হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি, তোমার আমার পূর্বপুরুষদের গ্রামবাংলার উদার প্রকৃতির মাঝে কাটানো গার্হস্থ্য জীবন। ভালোই লাগলো। অডিও বুক বা 'ক্লাসিক' বাংলা সাহিত্য কোনটার সাথেই তেমন একটা সময় কাটানো হয় না আজকাল কিন্তু এই ২ ঘণ্টা সময় মন্দ কাটেনি।
সকাল এগারোটা তিরিশে কক্সবাজার গামী তিশা এন্টারপ্রাইজে তিন নম্বর সারির সিটটায় জানালা আধো খোলা রেখে বসে পরলাম। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। বাস কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দিলো। আমি ব্যাগ থেকে কুন্ডলী হয়ে পেঁচিয়ে থাকা ইয়ারফোনটা হাতড়ে খুঁজে বের করলাম। সেই জানুয়ারি মাসে কিনেছি। ছ'মাস হতে চললো। ইতোমধ্যেই কালো শরীরের নিচের সরু জায়গাটায় ছিঁড়তে আরম্ভ করেছে।
প্লেলিস্ট থেকে তারানাথ তান্ত্রিকের সান্ডে সাসপেন্সের আয়োজন করা সাড়ে তিন ঘন্টার বেশি অডিও বুক টা চালিয়ে দিলাম। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি, জানালা গলে জামায় লাগা বৃষ্টির মৃদু মৃদু ছাঁট, কানে মীরের গলায় তারানাথের গল্প, সয়ে সয়ে সরে যাওয়া সবুজ গাছগাছালি আর তারানাথের গল্পের গ্রামীণ প্রকৃতির আবহ। জমে ক্ষীর।
ঢাকের শব্দ, উলু দেয়া, বিজয়ার হই হুল্লোড়ের মাঝে ৪০ মাইল থেকে কামানের শব্দ অনেকের শুনতে পাওয়া আর এটা মীরের বয়ানে যেভাবে বেরুচ্ছিলো! পুরোটা ব্যাপারটাই স্বর্গীয়।
খুব একটা ভয়ের না গল্পটা, নিছক ভাগ্য আর মৃত্যু আর বাঙালির আবহমান প্রকৃতি আর পুজোর বর্ননা। তবে বর্ণনা বহুদিন জিহ্বায় লেগে থাকার মতো। সান্ডে সাসপেন্সের অনেকগুলো অডিও বুক শুনেছি কিন্তু এটা একটা বেঞ্চমার্ক ক্রিয়েট করে ফেলেছে।