কালিম্পং-এর এক প্রাচীন গুম্ফায় পাওয়া যায় একটি বাংলা উপন্যাস-কামসূত্র। সেই উপন্যাস এসে পৌঁছায় কবীর খান-এর কাছে। কবীর বর্তমানে মগ্ন বাৎস্যায়নের কামসূত্র থেকে নতুন অর্থ নিষ্কাশনের কাজে। উপন্যাস পাঠ করে বিস্মিত হন তিনি। তাঁর বর্তমান কাজের সঙ্গে উপন্যাসের অদ্ভুত মিল। অতীশ দীপংকর কি তিব্বতে গিয়ে পুনরুদ্ধার করেছিলেন ভারতবর্ষ থেকে হারিয়ে-যাওয়া প্রাচীন গ্রন্থ-বাৎস্যায়নের প্রকৃত কামসূত্র? নতুন শব্দার্থের খোঁজে কালিম্পং-এর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন কবীর। অজান্তে জড়িয়ে যান এক তিব্বতি লামার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। লামা কি বিপ্লবী? স্বাধীন তিব্বতের স্বপ্নে তিনি কি বানাতে চান গুপ্তসেনা? একই সময়ে, কলকাতার আন্তর্জাতিক থিয়োলজিক্যাল মিউজিয়ামের তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্ম গ্যালারি থেকে রহস্যজনকভাবে চুরি যায় এক মহার্ঘ মূর্তি। কালিম্পং-এ বেড়াতে গিয়ে অপহৃত হয় এক বাঙালি বৌদ্ধ পরিবারের শিশু। মূর্তিচুরি, শিশু অপহরণ ও কবীর খানের অন্তর্ধান- সবই কি এক সুতোয় গাঁথা? কবীর খানের পিছু পিছু রহস্যের জালে জড়িয়ে পড়ে ডিকে। রজত রায়। নিবেদিতাও। বিন্দুবিসর্গ-এর ধারাবাহিকতায় এই নতুন আখ্যান ঢুকে পড়ে, শব্দ ও শব্দার্থের গোলকধাঁধায়। তারপর ক্রমশ এক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অগ্নিবলাকায়। লাসা, শিংজিয়াংসহ ট্রান্স হিমালয়ের সাব-জিরো তাপমাত্রার বরফ কি গলতে শুরু করে সেই উত্তাপে? ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাস ও পুরাণ তোলপাড়- করা আখ্যান, বিন্দুবিসর্গ-এর পর, আরও এক মহা-উপন্যাস, কামসূত্র।
দেবতোষ দাশ-এর জন্ম ১১ জানুয়ারি ১৯৭২। মা-বাবা-স্ত্রী-কন্যাসহ থাকেন দক্ষিণ শহরতলি সুভাষগ্রামে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। রাজ্য সরকারের ভূমি ও ভূমি-সংস্কার দফতরে কর্মরত। প্রথম গল্প প্রকাশ ১৯৯৫ সালে ‘অপর’ পত্রিকায়। গল্প প্রকাশিত হয়েছে দেশ, রবিবাসরীয় আনন্দবাজার পত্রিকা, শারদীয়া প্রতিদিন, শিলাদিত্য, কিশোরভারতী পত্রিকায়। লেখেন নাটকও। নান্দীকার তাঁর নাটক ‘বিপন্নতা’ মঞ্চস্থ করে ২০১৪ সালে। নাটক ‘ওচাঁদ’ লিখে পেয়েছেন সুন্দরম পুরস্কার। প্রকাশিত উপন্যাস: ‘বিষকন্যা’, ‘বিন্দুবিসর্গ’ এবং ‘সন্ধ্যাকর নন্দী ও সমকালীন বঙ্গসমাজ’। সিনেমা, সংগীত আর খেলাধুলোয় আগ্রহী।
কলকাতার ইদানিংকার লেখকদের সাধারণ সমস্যা --ঐতিহাসিক হোক আর রাজনৈতিক হোক কিংবা ফ্যান্টাসি অথবা অলৌকিক, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লেখক কত বেশি পড়াশোনা করেছেন সেই প্রমাণ দিতেই বইয়ের ৮০ ভাগ শেষ। গল্প--তা সেটা গৌণ বিষয়; মাঝেমধ্যে এক আধটু আসে। এর উপরে কাহিনী এলোমেলো (এত লেকচার দিলে আর গোছানো হবে কি করে?), কোন চরিত্রকেই তেমনভাবে আবিষ্কার করা হয়নি, তারা কী করছে কেন করছে তারো কোন আগামাথা নেই। নন-ফিকশন হিসেবে পড়তে চাইলেও জমতো না; অনেক কিছু আনতে গিয়ে গুলিয়ে গেছে। সময়টা নষ্ট হলো। নিজের কাছে নোট : বয়স হচ্ছে, দুনিয়ায় লাখ লাখ ভাল বই পড়ার অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে, কাজেই কোন বই শ'খানেক পৃষ্ঠা পড়ার পরেও যদি মনে হয় লেখক এলোপাতাড়ি বকবক করছেন, স্রেফ জেদের বশে কিছুতেই সেই বই পড়ে নিজের মূল্যবান আয়ু ক্ষয় করা যাবে না।
"ব্যভিচারী তুমি, তুমি যেখানেই যাও আমি যাবো, আমারই পাঁজর ভেঙে যদি শুধু মশাল জ্বালাও, আমার করোটি নিয়ে ধুনুচি নাচাতে চাও যদি, তবুও আমি কোনোদিন ছেড়ে যেতে দেবো না তোমাকে। এক শতাব্দীর পরে আরেক শতাব্দী আরো এক, আমি যদি নাও থাকি তবুও আমিই পড়ে থাকে।"
তিব্বত, পূর্ব এশিয়াতে সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে গড়ে ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এক রহস্যময় অঞ্চল, নিষিদ্ধ দেশ নামে পরিচিত। কেন? মূলত তার দুর্গম রাজধানী লাসার কারণে। এরসাথে ধর্মীয়-পলিটিক্যাল কারণও জড়িয়ে আছে একাধারে।একদিকে ভারতের লাদাখ, ধর্মশালা, কালিম্পং, সিকিম, নেপাল, ভূটান অন্যদিকে শিংজিয়াং, চীন দ্বারা পরিবেষ্টিত দেশটি একাধারে যেমন ধর্মীয় দিক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান, তেমনি তার ভৌগোলিক কারণে জিওপলিটিকাল গুরুত্বও বহন করে সমানভাবে ১২ লক্ষ ২৮ হাজার বর্গ কি.মি. এর দেশটি। দেশটির প্রধান ধর্ম বৌদ্ধ, ষষ্ঠ থেকে নবম শতাব্দীর সময়কালে বুদ্ধিজম বিস্তার লাভ করে প্রধান ধর্ম হিসেবে পরিচিত লাভ করে, একাধারে দেশটির সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার ঘটে এ ধর্মের। তবে তার ভৌগোলিক গুরুত্বর কারণে অনেক আগে থেকেই চীনের দৃষ্টি থাকে এ অঞ্চলটির প্রতি। অবশেষে ১৯৪৯ এর চাইনিজ কমিউনিস্ট রিভোলিউশনের পর চীনের ক্ষমতায় আছে চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টি, যার চেয়ারম্যান হয় মাও সে তুং। ১৯৫১ সালে মাও এর নেতৃত্বেই তিব্বত দখল করে চীন, যারফলে চাইনিজরা পায় একইসাথে ভারত, নেপাল, ভূটানের বর্ডার, এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ চারটে নদীর গতিপথ চলে আসে তাদের কন্ট্রোলে। নেক্সট সুপারপাওয়ারের লড়াইয়ে এগিয়ে যায় অনেকদূর চীন। তবে তিব্বতবাসীর জন্য চীনের এই দখল মোটেও সুখকর হয়নি। এই ইনভ্যাশনের কালো অধ্যায় আসলে হাজার হাজার তিব্বতীয় জনগোষ্ঠী, লামাদের রক্তে রঞ্জিত। ধীরে ধীরে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয় তিব্বতকে। আর সেটা ঘটে তাদের ধর্মে আঘাত করে, যেহেতু রিলিজিয়াস সেন্টিমেন্ট দ্বারা দেশটি উদ্ভুদ্ধ ছিলো। দলাই লামা সহ লক্ষাধিক তিব্বতীয়রা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়, অবশেষে আশ্রয় মেলে ভারতে।নিজ ভূমিতেই যারা পরবাসী হয়ে পড়ে, পরাধীনতার আগুন তাদের কতটুকু গ্রাস করতে পেরেছিলো? অহিংস পরম ধর্ম নীতিতে বিশ্বাসীরা কি নীতিবিরুদ্ধ হয়নি নিজেদের স্বাধীনতার জন্য? হ্যা, এর প্রচেষ্টা কম হয়না। বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট বিদ্রোহী দল জেগে উঠেছে ঠিকই, চায়নার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের পরাধীনতার বার্তা দিতে কয়েকবার তিব্বতীয়রা একত্র হয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বের নজর কাড়তে চেষ্টা করেছে ঠিকই। কিন্তু শেষ পরিণতি সুখকর হয়নি তাদের। তবে কি নতুনকরে স্বাধীনতার জন্য বিদ্রোহ আর জেগে উঠবেনা?
অতীশ দীপঙ্কর, বাংলা তথা পুরো উপমহাদেশের এক অমূল্য সম্পদ। বুদ্ধিজমের বিকাশে যার অবদান অনস্বীকার্য। নবম থেকে দশম শতকের সময়কালে তিব্বতের "টিবেটান বুদ্ধিজম" যখন হুমকির মুখে, তখন তিব্বতের রাজা আমন্ত্রণ জানান শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্করকে, তিব্বতে এসে বুদ্ধিজমের পুণঃপ্রতিষ্টার জন্য, কারণ তিব্বতের বৌদ্ধিস্টরা মনে করেন এই সংকটময় মুহূর্তে শীজ্ঞান অতীশ ছাড়া বিকল্প অন্য কেউ এসে হাল ধরতে পারবেনা। আমন্ত্রণ পেয়ে ৫৮ বছর বয়সে ১০৪০ খ্রিস্টাব্দে চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন দীপঙ্কর। টানা ২ বছরের দীর্ঘ যাত্রার পর অবশেষে নেপাল হয়ে তিব্বতে পা দেন তিনি। আর তার কর্তব্য পালন শুরু করেন। অচীরেই তিব্বতে বৌদ্ধধর্মের জৌলুশ ফিরিয়ে নিয়ে আসেন, সুত্র ও তন্ত্রকে একীভূত করে "তান্ত্রিক বুদ্ধিজম" এর সূচনা শুরু হয় তিব্বতের ভূখণ্ডে। বাংলা ছাড়ার মুহূর্তে অতীশ প্রতিজ্ঞা করে যান যদিও, তিনি আবার ফিরে আসবেন, কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি। তিব্বতেই এই দার্শনিক তথা মহাগুরু তার জীবনের অন্তিম কাল পাড় করেন।
কামসূত্র, প্রাচীন ভারতীয় পন্ডিত মল্লনাগ বাৎস্যায়ন রচিত সংস্কৃতি সাহিত্যের আদী নিদর্শন। এটি সাধারণত মানব যৌনাচারের সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা মূলক গ্রন্থ। এ গ্রন্থে নারীদের জন্য চৌষট্টি কলায় পারদর্শীতা সম্পর্কে বলা হয়েছে কামশাস্ত্রে দক্ষতা অর্জনের জন্য। হিন্দুদের বিশ্বাস, মহাদেব শিবের দ্বাররক্ষক নন্দী কামশাস্ত্রের আদি রচয়িতা। শিব ও পার্বতীর রমণকালে তাদের হতে উচ্চারিত বাণী শুনতে পান নন্দী, পরবর্তীতে উনি মানবকূলের জন্য এই বাণীসমূহকে লিপিবদ্ধ করেন। তবে ঐতিহাসিক জন কেই মনে করেন, দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দে কামশাস্ত্রের বিভিন্ন রচনাসমূহ হতে সংকলিত হয়ে কামসূত্র বর্তমান রূপ লাভ করেছে। এগুলো তো সব প্রচলিত তথ্য কামসূত্র সম্পর্কে। কামসূত্র কি কেবল সাধারণ সেক্সোলজির বই ছাড়া কিছুই না? যদি বলা হয় এর মাঝেও অনেক গভীর কিছু লুকিয়ে আছে? চৌষট্টি কলায় পারদর্শীতাই বা কিসের ইঙ্গিত? কামশাস্ত্রমতে আপনাকে দেখতে হবে কন্যা যন্ত্রমাতৃকা, দেশভাষাবিজ্ঞান, বৃক্ষায়ুর্ব্বেদযোগ জানে কি না, ধাতুবাদ জানে কি না, বাস্তুবিদ্যা, তক্ষকর্ম্ম, তক্ষণকর্ম্ম ইত্যাদি জানে কি না। এখন বিষয়গুলো এভাবে দেখলে কেমন হয়? যন্ত্রমাতৃকা জানা মানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং জানা! বৃক্ষায়ুর্বেদযোগ জানা বলতে বৃক্ষের রোপণ, পুষ্টি আর চিকিৎসা করতে জানা অর্থাৎ এগ্রিকালচারাল সায়েন্স জানা! আর ধাতুবাদ মানে মৃত্তিকা, প্রস্তর, রত্ন ও ধাতু প্রভৃতির পাতন, ঢালাই, শোধন, মিশ্রণ ইত্যাদি জানা অর্থাৎ মেটালার্জি ও মাইনিং জানা! বাস্তুবিদ্যা হল গৃহনির্মাণবিদ্যা বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং! তক্ষকর্ম হল বয়নকৌশল, কার্পাস থেকে সুতো কাটা ইত্যাদি আর তক্ষণ হল কার্পেণ্টার বা ছুতোর মিস্ত্রির কাজ।
এগুলোর সঙ্গে ‘কাম’ বা সেক্স-এর সম্পর্ক কী? কলিম খান-এর ব্যাখ্যা কেবল চমকপ্রদ নয়, রোমাঞ্চকর। তিনি কাম শব্দটাকেই দেখলেন অন্য চোখে। কাম মানে সেক্স নয়, কাম মানে কাজ। কামসূত্র হল কামকাজের সূত্র। পাঠক, কলিম খানের গবেষণার উপর অনুপ্রাণিত হয়েই লেখক দেবতোষ দাশ বিন্দুবিসর্গ উপন্যাসে ধর্ম, পুরাণ, মহাকাব্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন মানবসভ্যতায় ঈশ্বরের আবির্ভাব কীভাবে হলো, পুঁজিবাদের সৃষ��টি কিভাবে। এসব কিছু পৌরাণিক কাহিনীর ভেতরেই লুকিয়ে আছে। বাৎস্যায়নের কামসূত্রও এদিকেই ইঙ্গিত দেয়। এরই প্রেক্ষাপটে এবার হাজির বিন্দুবিসর্গের দ্বিতীয় উপাখ্যান "কামসূত্র"।
কালিম্পং এর এক প্রাচীন গুম্ফায় পাওয়া যায় একটি বাংলা ঐতিহাসিক উপন্যাস, নাম তার কামসূত্র। অতঃপর সেটি চলে আসে কবীর খানের নিকট, ৪৯ বায়ু গ্রন্থে "মানব সভ্যতায় ঈশ্বরের আবির্ভাব" তত্ত্ব উপস্থাপন করে যিনি ইতোমধ্যে সুপরিচিতি লাভ করেছেন। উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে কবীর খান তার বর্তমানে গবেষণার বিষয়ের সাথে অদ্ভুত মিল পান। বাৎস্যায়নের কামসূত্র বিশ্লেষণ করে নতুন অর্থ নিষ্কাশন তার গবেষণার নতুন বিষয়। এরসাথে সুপ্রাচীন উপন্যাসটির সম্পর্ক কি?
উপন্যাসটি একাদশ শতকের সময়কালের উপর ভিত্তি করে লেখা। মূল চরিত্র বাঙ্গালী বণিক দীপন, উজ্জয়নী নামক এক নগরের রহস্যময় অতিথিনিবাস হতে এই উপন্যাসের অধ্যায় শুরু, সাধু ভাষায় রচিত। কিন্তু ক্রমান্বয়েই উপন্যাসটির ভাষাগত বিশ্লেষণ করে একাধারে কিছু অসংগতি ও রহস্য আঁচ করতে পারেন কবীর খান। উপন্যাসটির লেখকই বা কে? কবীরকে কেনই বা এটি পাঠানো হলো? রোমাঞ্চিত ও রহস্যের গন্ধ পেয়ে কবীর খান চলে যান শিলিগুড়ি হয়ে সোজা কালিম্পং, কিন্তু ওখানে পৌঁছেই নিরুদ্দেশ! অজান্তেই জড়িয়ে পড়েন এক তিব্বতীয় লামার বিল্পবী কর্মকাণ্ডের মধ্যে।
এদিকে, কোলকাতায় ইন্টারন্যাশনাল থিওলজিক্যাল মিউজিয়ামের তান্ত্রিক বুদ্ধিজম গ্যালারি থেকে রহস্যজনকভাবে চুরি যায় এক মহার্ঘ মূর্তি। কালিম্পং বেড়াতে গিয়ে অপহৃত হয় বাঙালি বৌদ্ধ পরিবারের অন্তর্গত সাত বছরের এক শিশু। এরইমধ্যে কবীর খানের অন্তর্ধান- এই তিন ঘটনার মাঝে কি কোনো যোগসূত্র আছে? মাঠে নামে পুলিশের এন্টিক থেফট সেকশনের তরুণ অফিসার ইন চার্জ রিয়াজুল আলম জয়েন্ট কমিশনার রজত রায়ের নির্দেশে। তদন্ত প্রক্রিয়া যখন কানাগলিতে প্রবেশের সম্মুখে দাঁড়িয়ে, রজত শরণাপন্ন হয় ধরনী কয়াল, সংক্ষেপে ডিকের নিকট। কবীর খানের অন্তর্ধানের সূত্র ধরে কালিম্পং পৌঁছে সাংবাদিক নিবেদিতা, পৌঁছায় ডিকেও। তারপর?
বিন্দুবিসর্গের সূত্র ধরেই শব্দ ও শব্দার্থের নতুন গোলকধাঁধায় প্রবেশ করে এই নতুন উপাখ্যানও। অতঃপর তা গিয়ে মেশে এক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অগ্নিবলাকায়। লাসা, শিংজিয়াংসহ ট্রান্স হিমালয়ের সাব-জিরো তাপমাত্রার বরফ কি তবে গলতে শুরু করবে সেই উত্তাপে?
★পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ শুরুতেই বলে নিতে চাই, বিন্দুবিসর্গের মতো এই উপন্যাসটিও মূলত কলিম খান নামক এক ভাষাতাত্ত্বিক গবেষকের গবেষণালব্ধ হাইপোথিসিস দ্বারা অনুপ্রাণিত। ক্রিয়াভিত্তিক শব্দ বিশ্লেষণের দ্বারা বেরিয়ে আসে সম্পুর্ণ নতুন অর্থ, যা দ্বারা বিন্দুবিসর্গে দেখানো হয় রামায়ণ, মহাভারত, হিন্দু পুরাণের মাঝে লুকিয়ে আছে প্রাচীন ভারতবর্ষের ইতিহাস। এরই ফলপ্রসূতে বাৎস্যায়নের কামসূত্রেরও নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা প্রদর্শন করে, কামসূত্র কোনো সাধারণ সেক্সোলজির বই নয়। এটিও ভারতবর্ষে মানব সভ্যতার ইতিহাস বহন করছে। বইটি যেহেতু বিন্দুবিসর্গের দ্বিতীয় উপাখ্যান, কাহিনী স্ট্যান্ড এলোন হলেও বিন্দুবিসর্গের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই প্রথম উপাখ্যান শেষ করেই এ বইটি হাতে নেওয়া বেশি যুক্তিগত।
এবার আসি বইয়ের প্রসঙ্গে। বইয়ের ভেতর বই, কনসেপ্টর আদলে রচিত বইটি। একদিকে এগিয়েছে বর্তমান সময়ের কাহিনী, একাধারে কবীর খানের হাতে আসা প্রাচীন উপন্যাসটির কাহিনীও একটু একটু করে এগিয়ে গেছে। সম্পুর্ণ বইটি ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ এই চারটি খন্ডে বিভক্ত। প্রথম খন্ড ধর্মে মূল কাহিনীতে প্রবেশের আগে কবীর খানের জড়িয়ে পড়ার কারণের পেছনে মোটিভ নির্মাণে লেখক বেশ সময় নিয়েছেন, বেশিরভাগ অংশ জুড়ে হাতে পাওয়া ঐতিহাসিক উপন্যাসের কাহিনীই বর্ণিত হয়েছে। দ্বিতীয় খন্ড অর্থে আলাদাভাবে মূল ঘটনাগুলোর সূত্রপাত এবং গল্পের প্রধান প্রধান চরিত্রদের প্রবেশ। এরই প্রেক্ষাপটে তৃতীয় খন্ড কাম-এ ঘটনাগুলোর রেশ ধরে কাহিনীর এক গতিময়তা লাভ করা, ঘটনাসমূহের তৈরী হওয়ার পেছনের কারণ, চরিত্র নির্মাণ, অন্তিম পর্যায়ের আগ পর্যন্ত ঘটনার এগিয়ে যাওয়া, সাসপেন্স মেকিং এসবকিছুর উপস্থাপন। সবশেষে অন্তিমখন্ড মোক্ষ-এ গল্পের ক্লাইমেক্স, চূড়ান্ত পরিণতি।
শুরু থেকেই একজন পাঠককে একদম রোলার কোস্টারের রাইডে উঠিয়ে দেবে, এমন গল্প এটি মোটেও নয়। লেখক যথেষ্ট সময় নিয়ে ধীরে ধীরে প্লট বুনেছেন। লেখকের সবচেয়ে স্ট্রং জোন হলো ইতিহাসের বর্ণনা, গল্পের ডিটেইলিং, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট। সাসপেন্স ক্রিয়েশনেও লেখকের দক্ষতা প্রশংসনীয়। পুরোটা সময় জুড়ে লেখকের প্রচেষ্টা ছিলো গল্পের সাসপেন্স ধরে রাখার। তবে একাধারে অনেক সময় ব্যয় হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন বিষয়াবলী, তিব্বতের ইতিহাস, চীন কর্তৃক তিব্বত ইনিভ্যাশন বর্ণনায়। এসবকিছু মূলত গল্পের মোটিভ ঠিকঠাকভাবে বুঝে ওঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।
গল্পের ভেতর বর্ণিত হওয়া দ্বিতীয় গল্প ঐতিহাসিক পার্টটুকুতে লেখকের সবচেয়ে বেশি দক্ষতা প্রকাশ পেয়েছে। পুরোনো কোনো ঐতিহাসিক উপন্যাসের প্রেক্ষাপট, কাহিনী, শব্দচয়ন যতটা আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা ও একইসাথে গাম্ভীর্য ধরে রাখার জন্য উচিত, লেখক খুব ভালোভাবেই এদিকটা সামলাতে পেরেছেন। একাদশ শতকের বাংলা ও ভারতবর্ষের সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক অবস্থা, সংস্কৃতি খুব ভালোভাবেই ফুটে ওঠেছে লেখনীতে। শব্দচয়নের ক্ষেত্রেও লেখকের পাণ্ডিত্য বিশেষভাবে পরিলক্ষিত। বেশ আকর্ষণীয়তার সাথেই এই পার্টটুকুর বিভিন্ন অধ্যায় অগ্রসর হয়েছে। ঐতিহাসিক অংশটুকু পাঠ করার সময় সহসাই মনে হচ্ছিলো, এক লাফে টাইমট্রাভেল করে যেন চলে গেছি একাদশ শতকের সময়কালে।
লেখকের মূল হাতিয়ার হচ্ছে ক্রিয়াভিত্তিক শব্দ বিশ্লেষণ। এই শব্দের এই নতুন ইন্টারপ্রিটেশন বেশ আকর্ষণীয়, তবে এর আদলে ব্যাখ্যা করা পুরাণ, মহাকাব্য, সাহিত্য কতটুকু ভ্যালিড, সে প্রশ্ন থেকেই যায় যদিও বা। তবে লেখকের এমন এটেম্পট প্রশংসার যোগ্য। এ ধরনের কনসেপ্ট নিয়ে আরও অনেক লেখা চাই। লেখকের লেখা একিসাথে কার্ল মার্ক্স দ্বারাও যে বেশ প্রভাবিত, সেটাও বোঝা যায়। কম্পারেটিভ রিলিজিয়ন, বুদ্ধিজমে আগ্রহীরা বেশ তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলবে বইটি পাঠকালে। পুরো কাহিনী জুড়ে অজস্র পলিটিক্যাল টার্ম ইউজ করা হয়েছে, কারণ, গল্পটিই মোটাদাগে একটি পলিটিক্যাল থ্রিলার। তবে একটি ব্যাপারে না বললেই নয়, বিন্দুবিসর্গের মতো এই কামসূত্রের এন্ডিং নিয়েও আমার আক্ষেপ আছে। শুরুটা যেমন আকর্ষণীয়ভাবে হয়, শেষটা যেন ততটাই সাদামাটা। অবশ্য এইবার লেখক যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন সুন্দর একটা ইতি টানার। তবুও কিছু ব্যাপার রয়েই যায়।
★স্পয়লার ডিস্কাশনঃ
গল্পের বিল্পবী সংগঠন চুসি গাংদ্রুককে যতটা ডেঞ্জারাস ও ডার্ক হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছিলো, অন্তিমে এসে যেন ততটাই নিষ্প্রাণ। অতি সহজে রিনচেনপং এর ঞিংমাপা গুম্ফায় প্রবেশ করে তিনজনকে উদ্ধার করে ফেললো ডিকের দল, অথচ চুসি গাংদ্রুক কোনো একশনেই গেলো না। শুধুমাত্র দলাই লামার নিষেধাজ্ঞার কারণে? পুরো কালিম্পং জুড়ে প্রভাবশালী এত ডেঞ্জারাস একটি দলের সিকিউরিটি কি লাস্টে এসে এতটাই দুর্বল হয়ে গেলো কোনোরকমের বাঁধা ছাড়াই প্রবেশ করে ফেললো ডিকে সহ কমান্ডো বাহিনী? কবীর খানকে জড়ানোর পেছনের মোটিভ হিসেবে কামসূত্রের নতুন ব্যাখ্যা কারণ হিসেবে দেখানো যেতে পারে। কিন্তু এতে টাইগার লামার মাস্টারপ্ল্যানের সাথে সম্পর্কটা কিসের? লামা একটি পরিপূর্ণ ��ক্তি নিয়ে মাঠে নামতে চান এই কারণ? লামাদের নিকট তের-জ্ঞান লাভ বহন করার বিষয়টার গুরুত্ব অবশ্য মানা গেলো। কেতুকে কি বালক সন্ন্যাসী তেনজিং ও পোষ মানিয়েছিলো? গুম্ফার সবাই শুনেছি কেতুকে ভয় পেয়ে চলে। লাস্টের দিকে নিবেদিতা ও অর্হৎ এর নিকট তেনজিং এর কেতুকে পাহারাদার হিসেবে রেখে যাওয়ার ব্যাপারটা এদিকেই ইঙ্গিত করে। ডিকে আসলে কে, এভাবে পুলিশি কাজে তার জড়িয়ে পড়ার পেছনে মূল কারণ যে কেবলমাত্র রজতের বন্ধু বলেই নয়, তা স্পষ্ট পরিলক্ষিত। আশা করি, সিরিজের পরবর্তী বইগুলোতে তার কারণ রিভিলড হবে। চুসি গাংদ্রুককে শিংজিয়াং ও কাশ্মীরের বিল্পবী সংগঠনও সাহায্য করছে সত্যসেনার মতো। কিন্তু তাদের কোনো রোলই গল্পে দেখানো হয়নি। দুই একটা অধ্যায় তাদের পেছনে ব্যয় করার আশাবাদী ছিলাম কিছুটা।
সবশেষে, লেখকের এই সিরিজের উপন্যাসগুলোর একটা বিশেষ দিক আছে। প্রতিবার লেখক একটা বিশেষ মেসেজ দিতে চান, সমাজকে গ্রাস করে নেওয়া অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কলম তোলেন। বিন্দুবিসর্গ যেমন রচিত হয়েছে জাতপাতের মতো বর্ণবাদী প্রথার বিরুদ্ধে, তেমনি কামসূত্রের অন্যতম লক্ষ্য ছিলো, অন্যায়ভাবে কোনো দেশবাসীর বিরুদ্ধে অন্য দেশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। তিব্বতের এই ইনভ্যাশনের অনেক সেন্সিটিভ বিষয় বেশ খোলামেলাভাবেই উপস্থাপন করেছেন লেখক, যা পাঠ করার পর আপনার মন একবার হলেও বলতে বাধ্য, তিব্বতবাসীদের স্বাধীনতা পাওয়া উচিত। চীনদের বৈশ্বিক রাজনীতি সম্পর্কে অনেক কিছুই তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসটি যতটা না ঐতিহাসিক, তারচেয়ে বেশি রাজনৈতিক। এসব দিক মাথায় রেখেই বইটি পড়তে বসবেন, আশা করছি বেশ ভালো একটি সময় কাটবে।
যারা নিজভূমে পরবাসী হয়ে আছে, তাদের জন্য এই বইটি বিশেষভাবে যে দাগ কাটবে তা আর বলার বাকি থাকেনা। কারণ, বইটি যে তাদের প্রতি উৎসর্গেই রচিত।
বিন্দুবিসর্গ লেখার পর এবার দেবতোষ দাশ আরও প্রাজ্ঞ, আরও শাণিত। এর প্রমাণ কামসূত্রের পাতায় পাতায়। খুব ধীরে ধীরে বিল্ডাপ করে এরপর রেলগাড়ি শুধু দৌঁড়েছে। কবীর খানের সাথে অন্য এক দুনিয়ায় ডুবে যেতে আপনি বাধ্য। বইটা চার অধিকরণে বিভক্ত- ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ। এই নামগুলো এসেছে চার পুরুষার্থ থেকে, হিন্দুধর্মানুসারে যা মানব জীবনের চার মূখ্য লক্ষ্য। প্রতি অধিকরণে চেষ্টা করা হয়েছে সেই পুরুষার্থের দিকে ঝুঁকে থাকার। কামসূত্রের গল্প বাৎস্যায়নের শাস্ত্র দিয়ে শুরু হলেও ঘুরে গেছে তিব্বতিদের উপর চীনাদের করা বৈষম্য আর অত্যাচারের আখ্যানে। আমরা ধীরে ধীরে এক দৃঢ়চেতা লামার দৃষ্টিতে গল্পটায় ঢুকে পড়ি। বইটাতে বিভিন্ন আঙ্গিকে বৌদ্ধদের দর্শন, তিব্বতী বৌদ্ধদের সংগ্রাম, তিব্বতের সাথে সুপ্রাচীন বাংলার সংযোগকে তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসের ভেতরে আবার রহস্যময় যে "কামসূত্র" উপন্যাসে তিব্বত-বাংলা সম্পর্ক এসেছে, তার ভাষারীতি নিখাদভাবে অনুসরণ করেছে সেই সময়ের মানুষের জীবনাচরণকে। তবে এটা পড়তে দাঁত খটোমটো লেগেছে। গল্পের শুরু থেকে লেখক আগের বইয়ের মতই ক্রিয়াভিত্তিক শব্দার্থতত্ত্ব দিয়ে কামসূত্রের পুরাণকে ভাঙতে চেয়েছেন অর্থনীতির ভাষা দিয়ে। তবে এবার আগের বইয়ের মত এই দিকটাতে ফোকাস ছিলো না। খুব হালকার উপর ঝাপসাভাবে নেহাত আগের বইয়ের সূত্র টানার জন্যেই নতুন কিছু উদাহরণ দিয়েছেন লেখক। নয়ত পুরো বইয়ে পুরাণ ভাঙার ভাবটা অনুপস্থিত ছিলো। মোটের উপর এটা এক লড়াইয়ের গল্প, শাসকের বিরুদ্ধে শাসিতের। দাওয়া লামা চরিত্রকে খুব ভালোভাবে গড়া হয়েছে। পুরো বই জুড়ে এই এন্টিহিরোর প্রাধান্য। আরেকটা চরিত্র শেষে এসে নজর কাড়ে, সে হলো তেনজিং, যে একমাত্র লামার প্রভাব থেকে মুক্ত ছিলো। এছাড়া বাকি চরিত্রগুলো অনেকটাই নিষ্প্রভ, কারণ সবাইই দাওয়া লামার কাছে হার মেনেছে। গল্পে চিকেন্স নেক করিডর পুরোটাই চষে বেড়ানো হয়ে গেছে, সেই সাথে তাদের ইতিহাস। থ্রিলারের ছলে বৌদ্ধদের উত্থান, বিকাশ, দর্শন, শোষণ জানার জন্যে এই বইটা দারুণ। ("কামসূত্র" উপন্যাস আর জাদুঘরের মূর্তি চুরি দিয়ে গল্প শুরু হলেও গল্পে এদের খুব একটা স্বতন্ত্র প্রভাব ছিলো না। এ ধরনের এলিমেন্টকে বলা হয় MacGuffin। আমার মনে হয় বাংলা থ্রিলারে প্রথম এ রকম এলিমেন্ট দেখলাম।)
কামসূত্র শেষ হল। স্পেলবাইন্ডিং লেখা। আলাদা করে কিছু বলার নেই। কলিম খানের রিসার্চ নির্ভর তথ্য নিয়ে আগের বইটাও ছিল, কিন্তু এখানে কাহিনি ডানা মেলেছে উন্মুক্ত আকাশে। লেখকের কলম অনেক সাবধানী, অনেক অর্গ্যানাইজড এই বইয়ে। নন লিনিয়ার ন্যারেটিভে, উপযুক্ত ভাষা সহকারে এরকম জটিল কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য কাহিনি উপস্থাপনা করা সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। সব কিছুই যথাযথ। কতটা সময়, নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের পর এরকম এক একটা প্রজেক্ট হয়, সেটা ভেবেই আমি নতমস্তক। ব্যক্তিগত ভাবে ভালো লেগেছে অতীত ও বর্তমান, দুই সময়ের জিওপলিটিক্সটা নিঁখুত ভাবে ধরা হয়েছে। মূল কাহিনির সঙ্গে খাপেখাপ মিশে গেছে বলে কোথাও খাপছাড়া মনে হয়নি। বইয়ে রাজনীতি বিষয়ক যে প্রসঙ্গগুলো এসেছে, স্বচ্ছন্দ ভাবে এসেছে। সত্যি বলতে এ ধরনের লেখার চেয়ে আমি বিয়োগপর্ব বা ধর্ষনের আঠেরো দিন পরে বইগুলোকে এগিয়ে রাখব, কিন্তু সেটা ব্যক্তিগত পছন্দের নিরিখে। লেখার দিক থেকে এই বইটা আগ্রহী পাঠকদের মন জয় করবে সন্দেহ নেই। যাই হোক, এই স্কেলে লেখাটা ভাবার জন্যই আলাদা করে লেখকের কাছে কৃতজ্ঞ রইলাম। পাঠক হিসেবে আশা করব, দুটো বইই ইংরেজিতে অনুবাদ হোক।
এই বইটি কাদের জন্য নয়: যদি আপনি একটি সেক্স ম্যানুয়াল খুঁজছেন এমন হয়, তাহলে এই বইটি পড়বেন না কারণ এটি সেক্স ম্যানুয়াল নয়।
এই বইটি কাদের জন্য: যদি আপনার বিন্দুবিসর্গ পড়া থাকে। যদি একটি বিশেষ অ্যালকোহলের সাথে জয়শ্রীকে মেশানোর ভক্ত আপনি না হন (মানে বিন্দুবিসর্গ পড়ে আপনার খুবই ভালো লেগে থাকে)। যদি তিব্বতী বৌদ্ধ ধর্ম আর বজ্রযান বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে আপনার আগ্রহ থাকে। যদি পদ্মসম্ভব অতীশ দীপঙ্কর প্রভৃতি নামগুলো শুনলে আপনার আনন্দ হয় এবং একটু হলেও গর্ববোধ হয় (আমরা আফটারঅল আত্মবিমুখ জাতি)। যদি (সোশ্যাল মিডিয়াতে কুম্ভীরাশ্রু ফেলা হোক বা সত্যি সত্যি ভেতর থেকে) একটা খারাপ লাগা এসে থাকে তিব্বতের কথা ভেবে আর লাদাখ নেপাল সিকিম ভুটান অরুণাচল প্রদেশের কথা ভেবে।