সাধারণত মানুষ ভুলবশত খাল কেটে কুমির আনে। কিন্তু কুমিরভরা খালে গিয়ে স্বেচ্ছায় ঝাঁপ দেয় ক’জন? সাজিদ দিয়েছে!
কিছুদিন আগেও সাজিদের নিজের বলতে তেমন কিছুই ছিল না। থাকার মধ্যে ছিল কেবল গ্রামের ভিটে-মাটি, খানিক সহায়-সম্পত্তি, কতক হাঁস-মুরগি আর বিশালায়তনের ফুলি। এরপর প্রথমবারের মতো ঢাকায় ভ্রমণ রাতারাতি তার জীবনটাই পাল্টে দিল।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাজিদের ভাগ্যে এসে জুটল ফুটফুটে একটি বউ। তার পরিবারে গিয়ে মিলল একটি করে শ্বশুর, শাশুড়ি আর শ্যালক। পরিবারহীন সাজিদের কাছে এ যেন লটারি জয়।
কিন্তু এত সুখ তার কপালে সইবে কেন?
নতুন পরিবার, ঢাকার পরিবেশ, আশপাশের নানান কাহিনি-কেচ্ছা তার জীবনে একাধিক জট সৃষ্টি করে। এই জট খুলতে গিয়ে আবিষ্কার করবেন, জীবন কতটা অদ্ভুত। আরও অদ্ভুত এ উপন্যাসের সকল চরিত্র, ঘটনা ও কাহিনি। যা আপনাকে প্রাণখুলে হাসাবে, কোথাও আবেগী করে তুলবে, কোথাও-বা ভাবিয়ে তুলবে। এমনকি উঠতে পারে রাগও!
তবে পিংকি প্রমিজ, উপন্যাসের শেষপ্রান্তে গিয়ে সেই রাগ গলে হয়ে যাবে টলমলে জল।
জামসেদুর রহমান সজীব এর জন্ম রাজবাড়ী জেলাশহরে। ছোটবেলা থেকেই জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি করেন। রাজবাড়ীতে ‘আড়ম্বর’ শিশু সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘মুদ্রণশিল্প’ সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও সফল এ তরুণ সংগঠক। বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০১৭’তে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে তার নির্মিত ‘বাড়ি ফেরা’ চলচ্চিত্রটি।
খুব ছোট্ট একটি সূত্র অনুসরণ করেন জীবনে। নিজে হাসিখুশি থাকতে হবে, আশপাশের সকলকেও হাসিখুশি রাখতে হবে। একারণেই বেছে নিয়েছেন লেখালেখি। নিয়মিত রম্য লিখছেন। পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন হাসি-আনন্দ।
সত্যি বলতে লেখকের রস বোধ উচ্চমর্গীয় লেভেলের! খান ফ্যামিলির পর আরেকটি দারুন উপহার দিলেন আমাদের। তবে বলতেই হয় শুধু রম্য নয়, স্যাটায়ার এর রূপান্তর করতে পেরেছেন তিনি। গল্প বেশ গোছানো, সূক্ষ্ম ভাবে মানবিক ম্যাসেজ দেওয়া হাস্যরসের ভেতরে। তারথেকে বড় কথা ২২৪ পেজের পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস এই জনরার ভেতর লিখতে গিয়ে লেখক মোটেই খেয় হারায় ফেলেন নি উলটো দারুন লিখনশৈলী দেখিয়েছেন যার কারনে পুরা উপন্যাস ছিল সাবলিল আর রোলারকোস্টার, এতটা এক্সপেক্ট করতে পারিনি!
I dared to judge a book by its cover, and well, let's just say I paid the price. Zamsedur Rahman Sajib’s (জামসেদুর রহমান সজীব) “First Time Second Marriage (ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ)” is a romantic satire that caught my attention on Goodreads in 2023. I picked it up at this year’s (2024) Omar Ekushey Boimela solely for its hilarious title and a charmingly eye-catching cover.
Sajid, the main character of this story, a hilariously simple soul—so simple that you might mistake it for sheer stupidity. Just as Sajid is simple, Sajib’s to-be love interest Meena is straightforward, determined, and exceptionally smart. The moment Sajid leaves his village for Dhaka, everything quirky and bizarre starts happening in his life.
The short yet somewhat beautiful story attempts to humorously dissect society, delving into the then-current affairs like the chaos of the corona lockdown, social and political upheavals, law crimes, and yellow journalism etc. Apart from the main characters, numerous guest characters have portrayed the anomalies of the society in a very humorous way, making the reader both think and laugh. The feel of family bonding is remarkably heartwarming.
Now, onto the criticism. While the book's content and ideas deserve applause due to their uniqueness, execution falls short. Despite attempts at satire and sporadic genuine humor, most jokes fall uneven, feeling forced. To me, this is the biggest letdown of the book. The plot, though fine, suffers from weak execution, with some areas feeling redundant. Sentence structure is decent, but occasional word repetition hampers the flow. Moreover, spelling should be checked during the next publication.
That being said, I wouldn't personally recommend this to everyone, but I applaud Sajib's attempt at satire in a thriller-dominated Bengali literary scene. As a new writer, Mr. Sajib has immense potential, and I believe he has a promising journey ahead. I wish him the best for future literary endeavors. Hopefully, with time, these hiccups will evolve into genuinely compelling narratives. Here's to Sajib's future success📚✨!
২.৫* আমার পড়া লেখকের দ্বিতীয় উপন্যাস। লেখকের গল্প বলার সহজাত গুণ আছে যেটাকে বইয়ের গুণবিচারে সাবলীল লিখনশৈলী বলা যায়। শুধু এই একটা কারণেই লেখকের সামনে এগিয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখি আমি। প্লটটা ঠিকঠাক হলেও এক্সিকিউশনে দূর্বলতা আছে যে কারণে গল্পটা মনের ভেতর শক্তিশালী কোন ছাপ ফেলতে পারেনি। কিছু জায়গায় বাহুল্য রয়ে গেছে, যে কারণে গল্প কয়েক জায়গায় ঝুলে গেছে। এ কথাটা লেখকের খারাপ লাগলেও আশা করি তিনি পজিটিভভাবে নিয়ে নিজের এই দিকটা উন্নতির চেষ্টা করবেন। আর শেষমেষ তাকে একটা ধন্যবাদ দেয়া উচিত, থ্রিলার জয়জয়কারের বাজারে তিনি রম্য লেখার সাহস করেছেন বলে। লিখতে থাকুন তবে ফাও একটা পরামর্শ দেই।
ক্লাসিক রম্য আর ভাঁড়ামিকে একটা বাঁশের দুই প্রান্ত ধরলে আপনি এই মূহূর্তে মাঝামাঝি অবস্থানে আছে। লেখাকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্যটা আরো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারলেই আপনি জিতবেন। এ লক্ষ্যে আরো বেশি রম্য পড়ার অনুরোধ রইলো।
বহু নেগেটিভ কথার মাঝেও একটা পজিটিভ কথা বলে যাই। আপনার লেখায় পরিবারের বন্ধনের উষ্ণতাটা আমি টের পাই। এটাকে ধরে রাখবেন প্লিজ।
ফেসবুকের ক্যানভাস গ্রুপে প্রথম পরিচয়। লেখক তখন নিয়মিত রম্যগল্প লেখে। তার সেন্স অফ হিউমার ভালো লাগতো। জানলাম তার বইও আছে কিছু। তখন সংগ্রহ করেছিলাম রম্য উপন্যাসগুলো। ‘খান ফেমিলি’ পড়ে নিশ্চিত হলাম এই লেখক রম্যতে দারুণ কিছু করবে। প্রত্যাশার চাইতে ভালো লিখেছে। বাকি রইলো আরেকটা বই।
‘ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ’ শুধু রম্যতে আটকে থাকে নি। এটা একইসাথে স্যাটায়ার, সিটকম। নতুন লেখকেরা লেখার ধরন ও বিষয়বস্তুতে মাঝেমধ্যে হতাশ করে। আমি যেহেতু তার একটি রম্য উপন্যাস পড়েছি, দ্বিধায় ছিলাম এবার সে কি লিখবে? নতুন বা ব্যাতিক্রম কিছু লিখতে পারবে কিনা। কিন্তু এখানে সে পাশমার্ক পেয়ে উৎরে গেছে। পূর্বের বই থেকে একেবারে ভিন্ন আইডিয়া থেকে উপন্যাসটি লেখা।
কাহিনি ছোট, তবে সুন্দর। কিন্তু উপন্যাসের বিশেষত্ব হলো আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত হাস্যরসাত্মকভাবে তুলে আনা হয়েছে। মূল চরিত্রের পাশাপাশি অসংখ্য অতিথি চরিত্র দ্বারা সমাজের অসঙ্গতি, করোনা, সামাজিক ও রাজনৈতিক দোলাচল, আইন অপরাধ ও সাংবাদিকতার নামে অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা রম্য-স্যাটায়ার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। যা প্রতিবাদ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। সেসব বিষয় পাঠককে যেমন হাসাবে তেমনি ভাবতে বাধ্য করবে। শুধুমাত্র কনটেন্ট-আইডিয়া বিচারেই বইটি ভূয়সী প্রশংসার দাবি রাখে। আমি ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলতে পারি এ ধরনের লেখা আগে কখনো পড়া হয় নি। কেউ যদি রম্য ছাড়াও ভিন্নধরনের কোন উপন্যাস পড়তে চায় তাহলে বইটি তার জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা হবে।
উপন্যাসটি পড়ার সময় আমার মনে হয়েছে ভিন্ন এক জগৎ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের দুশ্চিন্তা-সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এই জগতে যে কেউ যেতে চাইবে। অথবা পাঠক নিজে থেকেই বইটি পড়তে গিয়ে বর্তমান সময়ের দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে আপনাআপনি পরিত্রাণ খুঁজে পাবে। জেনে অবাক হবেন, রম্য এই জগতে লেখক তার দুটো উপন্যাসের সেতুবন্ধনও করেছে। এক উপন্যাসের চরিত্র আরেক উপন্যাসে অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছে। আগের বইটি পড়া থাকলে মজা পাবেন বেশি। খান ফেমিলির মতো নির্দিষ্ট মেসেজের উপর ভিত্তি করে না লেখা হলেও এ বইটিতে বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানান অসঙ্গতি নিয়ে হাস্যরসাত্মক উপহাস করা হয়েছে। যার মাধ্যমে একাধিক ম্যাসেজ পাওয়া যায়। চমৎকার এক অভিজ্ঞতা পেতে বইটি পড়তে পারেন।
ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ: সাজিদ ও মিনার প্রেমের গল্প হ্যালো! হ্যালো! হ্যালো! এলাকাবাসী মনে আছে তো?"
অলিগলিতে ঘুরে ঘুরে মনের সুখে মাইক বাজাই আর শোনাই নানান গল্প। হ্যালো! হ্যালো! মাইক্রোফোন টেস্টিং! আগের দুইবার মাইক ভা*ঙচুর করেছেন আপনারা, এইবার মাইকের পাশে দুইজন বডিগার্ড নিয়ে এসেছি বুঝলেন। এলাকাবাসী এইবার আপনাদের আবার নতুন একটা গল্প শোনাব আমি মাইকওয়ালা। এবার গল্পটা কিন্তু বিয়েশাদী নিয়ে। বিয়ে নাকি দিল্লি কা লাড্ডু, খেয়ে পস্তায় কেউ আবার না খেলেও পস্তাতে হয়। কিন্তু আজকের গল্পে বিয়েটা ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ। প্রথমবার দ্বিতীয় বিয়ে কীভাবে করা যায় চলুন দিনভর আপনাদের সেই কাহিনী শোনাই।
"বাবা আমার কি বিয়ে হবে না! বাবা আমার কি বিয়ে হবে না!"
এলাকাবাসী এই গান কিন্তু আমাদের গল্পের নায়ক সাজিদকে একবারও গাইতে হয়নি। সে মেঘ না চাইতে জলের মতো আস্ত একখানা মেয়ে পেয়ে গেছে বউ হিসেবে। রীতিমতো কোর্ট ম্যারেজ করে সাজিদকে বিয়ে করেছে মেয়েটা। গ্ৰামের সহজ সরল ছেলে সাজিদের ছোটবেলা থেকে ঠিক করে পড়াশোনা হয়নি তবে ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি করে টাকা-পয়সা আছে ভালোই। সেই সাজিদের একদিন শখ হলো ঢাকা শহর যেটা কী না বাংলাদেশের রাজধানী সেখানে ঘুরতে যাবে। ঢাকায় বন্ধু রাব্বির কাছে ফোন করে ইচ্ছার কথা জানালো। রাব্বি তো বললো ঢাকায় বেড়াতে আসার খরচ নাকি কয়েক লাখ টাকা!
শখের তোলা আশি টাকা বলেই বোধহয় সাজিদ বিশ্বাস করে রাব্বির কাছে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে ঘুরতে এলো ঢাকা শহর। কিন্তু এখানে এসেই যত বিপত্তি। গ্ৰামের সহজ সরল ছেলে সাজিদ হয়ে গেল মিনা নামের এক পরীর বিবাহিত স্বামী!
"আমি বাবা মায়ের শত আদরের মেয়ে আমি বড় হই সকলের ভালোবাসা নিয়ে আমার দুচোখে অনেক স্বপ্ন থাকে"
আরে! মুরুব্বি! মুরুব্বি! উঁহু উঁহু উঁহু! মাইকের সামনে নাচানাচি একদম বন্ধ। এলাকাবাসী এই গানটি সেই ছোটবেলায় দেখা মিনা কার্টুনের তাই তো ভাবছেন। আমাদের নায়ক সাজিদের বউ মিনা কিন্তু সেই কার্টুনের মিনার মতোই বাবা মায়ের শত আদরের। একদম বুদ্ধিমতী আর সাজিদের ভাষায় পরী। মিনা একটা বুটিক চালায়। সাজিদকে সে বলা যায় এক প্রকার জোর করে বিয়ে করে। কিন্তু কেন? মিনার মতো উচ্চ শিক্ষিতা এবং এত হাই ক্লাস পরিবারের সন্তান হয়ে মিনার সাজিদকে দেখে কেন পছন্দ হলো?
"হ্যালো! হ্যালো! মাইক্রোফোন টেস্টিং"
আআআআ! আমার মাথাটা ফা*টিয়ে দিলো যে! ওই খাম্বা দুইটা! তোদের বডিগার্ড কেন রেখেছি বলতো! যাই হোক আমি আজকে মাইক বন্ধ করবোই না। তো এলাকাবাসী সাজিদ আর মিনা তো বিয়ে করে নিলো। এবার চলুন মিনার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করি। যেখানে বলা যায় রীতিমতো হুলস্থুল কান্ড সাজিদকে জামাই হিসেবে দেখে।
মিনার মা মৌসুমী খন্দকার। খুবই সন্দেহবাতিক মহিলা। টিভিতে অপরাধবিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে দেখে ভদ্রমহিলা পৃথিবীর সবাইকেই ক্রি*মিনাল ভাবেন। স্বামীকে আর ছেলেকে সর্বদা শাসনের উপর রাখেন।মেয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফিরেছে একটা ছাগল গোত্রীয় ছেলেকে মৌসুমী সেটা মানতে গিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন যেন। তবুও সাজিদকে বাসায় ঢুকতে দিলেন।
বাবা মিঠু খন্দকার অবশ্য পু*লিশের চাকরি করে পু*লিশি মেজাজ পেয়েছেন ভালোই। তবে সেটা স্ত্রী মৌসুমীর সামনে খাটে না। আর তার থা*নায় আজব আজব পাবলিক তো আসেই। সাথে আছে অনলাইন নিউজ পোর্টালের ভুলভাল খবর তার নামে। কিন্তু তার পুলিশি জীবনের লক্ষ্য বাবু ডনকে গ্ৰে*ফতার করা। যেটা প্রতিবার ভেস্তে যায় অবশ্য! মিনার বর সাজিদকে দেখে তিনিও বেশ হতাশ।
মিনা যেহেতু নায়িকার নাম তার ভাই তো অবশ্যই রাজু হবে হিহিহিহি! রাজু হচ্ছে প্রেমিক পুরুষ। তবে ব্যর্থ প্রেমিক। বেচারা কোনো প্রেমেই সফল হতে পারেনি। তাই মনে বড় দুঃখ তার। সাজিদকে অবশ্য তার বেশ পছন্দ হয়েছে। লোকটা বোকা হলেও মন্দ নয় ভাবলো রাজু।
"আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল, শুধাইল না কেহ। সে তো এলো না, যারে সঁপিলাম এই প্রাণ মন দেহ॥"
ছিঃ! ছিঃ! তওবা তওবা মাইকের সামনে প্রেমিক প্রেমিকা জুটে গেছে! ওই বডিগার্ড সরা এগুলোকে! হ্যালো! হ্যালো! মাইক টেস্টিং! এলাকাবাসী জানেন যে সাজিদের সাথে মিনার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু কীভাবে কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে ঘটলো এটা সেটা জানার আগেও জেনে রাখুন সাজিদের মনের কথা। তার এই পরীকে মনে মনে কেন জানি খুব ভালো লাগে। মিনার চোখে পানি তার সহ্য হয় না, মিনার চোখে পানি এলে সাজিদ অসহায় বোধ করে। তাদের বিয়ে হয়েছে ঠিকই কিন্তু স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক বলতে কেন জানি কিছুই নেই।
সাজিদের জীবন গ্ৰামের সবুজ মেঠো পথের ধারে পরিবেশ থেকে এখন ঢাকা শহরের ইট কাঠ পাথরের অট্টালিকায় চলে এসেছে। সাজিদের সাথে আবার ঘটনাচক্রে পরিচয় হয় বাবু ডনের সাথে। যাকে তার শ্বশুর মিঠু খন্দকার খুঁজে বেড়াচ্ছেন। বড্ড সহজ সরল ছেলেটি এই শহরে আবার কোনো বিপদে পড়ে যাবে না তো! মিনার স্বামী হয়ে সে পেয়েছে নতুন পরিবার। কিন্তু তার কাছে তো সবার আগে মিনা। মিনাকে বোধহয় মনে মনে বেশিই ভালোবেসে ফেলেছে ছেলেটা। মিনার মনে কী আছে? ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ কার সাথে তবে কার? আবার কী দুজনের নতুন করে বিয়ে হবে? কে দেবে আবার ওদের বিয়ে?
"হ্যালো! হ্যালো! মাইক টেস্টিং এলাকাবাসী মাইকের তার কাটলেও রক্ষা নেই।"
আজকে আপনাদের যে গল্পটি শোনালাম সেটি লেখক জামসেদুর রহমান সজীবের লেখা "ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ" বইয়ের। রম্য জনরায় লেখা আমি মনে করি সবচেয়ে বেশি কঠিন। কারণ পাবলিকের সামনে কমেডি করে হাসানো কিংবা বইয়ে লেখা রম্য রচনা দুটোই ভিন্ন ভিন্ন। বইয়ের লেখায় আপনি চাইলেই অতিরিক্ত ভাঁড়ামো করতে পারবেন না। তাতে কী হবে পাঠক হবে বিরক্ত হয়ে বইটির প্রশংসার বদলে নিন্দা করবে বেশি।
বইটি সিটকম কমেডি ধাঁচের। এবং সিটকম কমেডিতে আপনার দৈনন্দিন জীবনে ঘটা ঘটনার মাঝেই বিনোদন খুঁজে দেখাতে হবে। লেখকের লেখার ধাঁচ কিন্তু বেশ ভালো। আগেও কয়েকটি বই পড়েছি। এবং সেখানেও আমি বলেছি যে আসলে যখন সিটকম কমেডি হয় তখন অতিরিক্ত কিছু করার খুব বেশি দরকার পড়ে না। আপনার কাজের মধ্যেই হাসিয়ে দিতে পারেন পাঠককে। এই বইয়ে কিন্তু লেখক তেমন কিছু চরিত্র দিয়েছেন যাদের নিয়ে অতিরিক্ত এক্সপেরিমেন্ট করার দরকার নেই। সবার আগে বলবো সাজিদের কথা। এই বইয়ের প্রধান চরিত্র হিসেবে লেখক সাজিদকে নিয়ে বেশ ভালো এগিয়ে গেছেন। কিন্তু দুই এক জায়গায় আবার অতিরিক্ত মনে হয়েছে। যেটা না আসলে স্বাভাবিক লাগেনি। কিছু কিছু ডায়লগ আর কী চোখে লেগেছে।
দ্বিতীয় চরিত্র হিসেবে মিঠু খন্দকারের কথা বলি। আমার ওনাকে সাজিদের পর সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে কিন্তু লেখক থানায় যে কয়টি দৃশ্য দিয়েছেন আমার কাছে কিছু কিছু জায়গায় আবারো সেই জোর করে হাসি ধরানোর চেষ্টা মনে হয়েছে। আসলে সেটা দরকার ছিলো না। ওনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এমনি আমার কিন্তু ওনার সাথে সাজিদের দৃশ্যগুলোতে এমনিতেই হাসি পেয়ে যাচ্ছিল। তাই ওই উদ্ভট চরিত্রগুলো থানায় দিয়ে কয়েক জায়গায় একটু বিরক্তি লেগেছে।
শুরুর দিকে কিছুটা হযবরল হয়ে গিয়েছিল বর্ণনায়। ঘটনার আকস্মিকতা বলা যায় কিছুটা কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম। আবার এক দৃশ্য থেকে হুট করেই কিছু জায়গায় আরেক দৃশ্যের আগমনে কাহিনী ধরতে সমস্যা হয়েছে।
এই ভুলগুলো শুধরে নিয়ে লেখক আমি জানি আরো ভালো লিখবেন। বইটি লেখকের শুরুর দিকের বই। তবে এই বইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তিশালী দিক আমার কাছে মনে হয়েছে এর গল্প। খান ফ্যামিলি নিয়ে যাদের আপত্তি তারা এই বইটি পড়লে আমার মনে হয় একটা সুন্দর গল্পভিত্তিক বই পড়তে পারবেন। এখানে হাসি, পাগলামি সবকিছুর আড়ালে একটা সুন্দর গল্প বলে গেছেন লেখক। গল্পটা অনেকের কাছে কমন মনে হতে পারে কিন্তু লেখকের বর্ণনা গল্পটাকে শেষমেশ খুব কিউট বানিয়ে দিয়েছে। মিনা আর সাজিদের কেমিস্ট্রি দারুন। শেষে এন্ডিংটা এত কিউট লাগলো। মনে হলো হাসির থেকে ভালোবাসার কোনো অব্যক্ত পংক্তিমালা উঠে এসেছে দুই চরিত্রে।
এছাড়াও পারিবারিক বন্ধন, পারস্পরিক ভালোবাসা, বোঝাপড়া খুব চমৎকার ভাবে উঠে এসেছে। এই বইয়ে সামাজিক কিছু অসঙ্গতির ব্যাপার আছে। যা বেশ স্যাটায়ারের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন লেখক। চরিত্রদের মধ্যে মিনার উপস্থিতি অনেকের কাছে কম মনে হতে পারে তবে গল্পের যা প্রেক্ষাপট সেখানে আমার মতে মিনার থেকে মিনার পরিবার সাজিদের সাথে টাইমিং বেশি ডিজার্ব করে।
লেখক বরাবরই ভালো লেখেন। ভবিষ্যতে শুধু ছোট্ট একটা পরামর্শ যে আপনি সাবলীলভাবে চরিত্রদের ছেড়ে দিন। হাসির উপাদান দেখবেন তারাই আপনাকে জুগিয়েছে। আলাদা করে হাসির দৃশ্য সবখানে দরকার হবে না। এমনিতে আপনি ভালো লেখেন। আপনার বই কাউকে হাসাচ্ছে আমি জানি আপনার কাছে এটাই বড় পাওয়া। আরো এগিয়ে চলুন এভাবেই ভালো ভালো রম্য রচনা নিয়ে।
বেনজিনের প্রোডাকশন কোয়ালিটি নিয়ে মজার একটা ব্যাপার বলি। বইটা পড়ার সময় একবার অনেকটাই ভিজে গিয়েছিল। কিন্তু তবুও বইয়ের তেমন ক্ষতি হয়নি। আমি ওদের বাঁধাই, প্রিন্টিং নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। বইয়ের প্রচ্ছদটা অবশ্য সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে। ফাটাফাটি বলা যায় এক কথায়।
"হ্যালো! মাইক টেস্টিং ওয়ান টু থ্রি"
এলাকাবাসী এবার গল্পটার শেষে কিছু বলে ফেলি। এমনিতেই আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন তাই বক্তব্য দীর্ঘ করবো না। ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ করে সাজিদ আর মিনা কীভাবে ভালোবাসায় বাঁধবে দুজন দুজনকে সেটা বই পড়লেই বুঝবেন। তবে ভালোবাসা, ভালো লাগার অনুভূতি কখন কীভাবে যে কার জন্য আসে আসলেই সেটা বোঝা মুশকিল। বিয়ের বাঁধনের থেকে আগে বোধহয় মনের বাঁধনে বাঁধা পড়তে হবে।
হ্যালো! হ্যালো! এলাকাবাসী আজকের মতো আমি মাইক নিয়ে বাসায় চললাম আপনারা ইট ছোঁড়া বন্ধ করুন ওরে বাবারে! ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ না আমার উউউউউ! আমার বাসায় একটাই বউ। হয়তো ঝাড়ু নিয়ে অপেক্ষা করছে আআআআ! পালাও সবাই!
বইটা প্রথম দেখায় ভেবেছিলাম এতো বড় বই পড়তে কত মাস যে লাগবে।কিন্তু যখন শুরু করি, এক বসায় পুরো বই শেষ করে ফেলি।বইটা আসলেই অনেক মজার।এখানের লেখকে ক্রেডিট দিতেই হয়।এতো সুন্দর করে লেখেছে যে,একটু পড়লে আরোটু পড়তে মন চাই। বইতে গ্রাম থেকে আসা সহজসরল ছেলে যে শহরে বন্ধু বাড়িতে ঘুরতে গিয়ে তার সাথে একের এর এক ঘটনা ঘটতে থাকে।যেটা গল্পকে আরো সুন্দর করে তুলেছে।
খান ফ্যামিলির পর আজ এই বইটিও শেষ করলাম। খান ফ্যামেলি থেকে দ্বিগুন হাসির ভাণ্ডার এই বইটি। চমৎকার ভাবে প্রতিটি চরিত্র তুলে ধরেছেন লেখক।
গ্রাম থেকে শহরে ঘুরতে আসা সাজিদের জীবনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি কান্ডকারখানা আপনাকে হাসাতে বাধ্য করবেই। বর্তমান সমাজের অবস্থা, করোনাকালীন লকডাউন, হলুদ মিডিয়া নিয়ে অনেক হাস্যরসাত্বক ভাবে উপস্থাপন ও মূল্যয়ন সত্যিই লেখক প্রশংসার দাবীদার। স্বার্থপর মানুষে সমাজ তা মজিদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা পড়ে বুঝতে পারবেন। অনেক হাসিয়েছে এই বইটি।১০২ পৃষ্ঠায় যা লেখা দিয়েছেন লেখক তা অনেক মানুষের মনের কথা।খান ফ্যামিলির ও আগমন পড়ে ভালো লেগেছে। ব্যাক্তিগত সংগহ হিসেবে বইটি আপনাকে হতাশ করবে না । শুভকামনা রইলো লেখকের জন্য।
কথায় আছে, 'Don't judge a book by it's cover'. কিন্তু এই বইটার প্রচ্ছদ দেখেই কিনেছি ।'খান ফ্যামিলি' আমার wishlist এ ছিল। কিন্তু এই বইটা আগে কিনে ফেলেছিলাম। রুমমেট এর মন খারাপ ছিল। আমি পড়ার আগে ওকে পড়তে দিয়েছিলাম।বেচারী দুই পৃষ্ঠা পড়ে হাসতে হাসতে বিষম খাওয়ার মত অবস্থা।তখন বুঝলাম বইটা কিনে ভালো করেছি।ও হ্যাঁ। 'খান ফ্যামিলী ' পরে কিনলেও সেটা আগে পড়ে ফেলেছি।
জামসেদুর রহমান সজীব ভাইয়ার পাঁচটি বইয়ের মধ্যে তিনটি বই পরপর পড়া শেষ। অর্থাৎ হ্যাটট্রিক!!!
সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সার্কাজম, পরিবার নিয়ে মিষ্টি গল্প, সহজ সরল ভাষায় রচনা বইটাকে সুখপাঠ্য করেছে। তবে আগের রম্য উপন্যাস খান ফ্যামিলীকে ছাপিয়ে যেতে পারল না।
চমৎকার লেগেছে। সুন্দর একটা রম্য উপন্যাস। তবে, এটা এমন নয় যে, আপনাকে এর প্রতিটি পৃষ্ঠা হাসাবে। তবে, কিছু কিছু সিচ্যুয়েশন এমন ছিল যে, আপনি হাসতে বাধ্য। সবচেয়ে মজার চরিত্র ছিল বাবু ভাই। খুব সুন্দর একটা সময় কেটেছে।
যেহেতু, 'ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ' একটা রম্য উপন্যাস, তাই আমি খুবই সাবলীল ভাষায় এই বইয়ের রিভিউটা দিতে যাচ্ছি। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে স্বাভাবিকভাবেই অনেক কিছু ঘটে থাকে। কিন্তু এই বইটির বিশেষত্ব হচ্ছে, খুব স্বাভাবিকভাবে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো লেখক অত্যন্ত হাস্যরসাত্মক ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। 'খান ফ্যামিলি' বইটি আমাকে খুব হাসিয়েছিল। এর চেয়ে ঢের বেশি হাসিয়েছে এই বইটি। রম্য বই মূলত পড়া হয় আনন্দের জন্য। কিন্তু একটা রম্য বই স্বার্থক তখনই হয়, যখন সেই রম্যটা কোথাও না কোথাও গিয়ে স্যাটায়ার হয়। বর্তমান সামাজিক অবস্থা, করোনাকালীন অবস্থা, লকডাউন, রাজনৈতিক অবস্থার হেরফের, হলুদ সাংবাদিকতা এসকল বিষয়ে বিদ্রুপমূলক নিন্দা একদিকে যেমন হাসিয়েছে তেমনি অন্য দিকে নতুন ভাবনার দোয়ার উন্মুক্ত করেছে৷ আর এইসব রঙ্গ তামাশার মধ্য দিয়ে 'সাজিদ' ও 'মীনা'-এর এক ছোট্ট ভালোবাসা পূর্ণতা পেয়েছে।
সাজিদ এ গল্পের প্রধান চরিত্র। খুব জটিল বিষয়কে সহজভাবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আছে তার। সাজিদের সহজ সরল মনোভাব প্রতিবার আমাকে একটা বাক্য মনে করিয়ে দেয়। 'জীবন খুব সহজ। একে জটিল করি আমরাই।' সাজিদ চরিত্রের সহজ ভঙ্গিমা আমাকে বারবার এ চরিত্রের প্রতি আকৃষ্ট করেছে।ইশ! আমরা সবাই যদি জীবনকে খুব সহজভাবে উপভোগ করতে পারতাম!
সাজিদ যেমন একদিকে সহজ সরল মীনা ঠিক তেমনি স্ট্রেট ফরোয়ার্ড। মীনা চরিত্রের একটা বিষয় আমার খুব ভাল্লেগেছে। আর সেটা হলো, "যেকোনো বিষয়ে মীনার পয়েন্ট অব ভিউ খুব স্ট্রং। আর সে তার মতামত যেকোনো জায়গায় যেকোনো পরিস্থিতিতে নিঃসঙ্কোচে রাখতে পারে।" এরকম স্ট্রেট ফরোয়ার্ড একটা মেয়ের মনের কথা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভ���লোবাসা লেখক চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
এই বইয়ে আমি কিছু ইউনিক কনসেপ্ট লক্ষ্য করেছি। বইয়ের প্রথম ইউনিক কনসেপ্ট, যেটা আমাকে আকৃষ্ট করেছে এবং এ বইকে অন্য বই থেকে আলাদা করেছে, সেটি হলো "কাঠগড়ায় লেখক" নামক শব্দটি। সাধারণত সকল বইয়ের শুরুতে "ভূমিকা" নামক অংশে বইয়ের উপজীব্য বিষয় ও দৃষ্টিকোণ আলোকপাত করা হয়। কিন্তু এ বইয়ে লেখক ভূমিকার বৌদলতে থাম্বলটির নাম দিয়েছেন "কাঠগড়ায় লেখক"। এখানে লেখক নিজেকে পাঠকের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছন তো বটেই, সেই সাথে সকলকে আলোচনা,সমালোচনা,প্রসংশা করারও অধিকার দিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ, বইটি পড়ে লেখকের উপর সম্পূর্ণ দাবি খাটিয়ে আপনি মনের কথা প্রকাশ করতে পারবেন। আরেকটি বিষয় যেটি আমার নজর কেড়েছে সেটি হলো লেখকের একদম সহজ-সরল স্বীকারোক্তি। লেখক তার গল্পের শুরুতে লিখেছেন, " আমি মূলত লিখি নিজের আনন্দের জন্য। যা আমার লিখতে ইচ্ছা করে,যেটা লিখে আমি শান্তি পাই, সেটাই লিখি। কোনোরকম নিয়ম-রীতির তোয়াক্কা করি না।" বইটা পড়ার পর, আমি বলব যে লেখক আসলেও কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেননি। যেখানে, যে বিষয়বস্তু গুলোকে বিদ্রুপমূলক নিন্দা করার প্রয়োজন বোধ করেছেন; নিঃসঙ্কোচে করেছেন। লেখকের লিখনীতেও আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করলাম। আমরা যেরকম স্বাভাবিক কনভারসেশান করি; লেখকের লিখনীও ঠিক সেরকম। বইটি পড়লে আপনার মনে হবে আপনি কোন রম্য ধারাবাহিক নাটক/সিরিজ দেখছেন।
এই বইয়ে অনেকগুলো চরিত্র। মজার বিষয় হচ্ছে সবগুলো চরিত্রই বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া। বিষয়টি আমার কাছে নতুন লেগেছে! এর আগে কোন বইয়ে এমনটা আমি দেখি নি। আমার মতে এটা খুবই ইউনিক ভাবনা/কল্পনা/স্ট্র্যাটেজি! যেকোনটাই বলতে পারেন। যদি এ বইটা সফলতা পায়, আমার ধারণা, এতো এতো বাস্তব চরিত্রকে একটি বইয়ে সাজানোর কথা অন্যান্য লেখকরাও ভাবতে পারেন। বাস্তব চরিত্রের অনেক আপন মানুষরা একটা বইয়ের অংশ। মজার না বিষয়টা? তাছাড়া এই বইয়ের একটা অংশে 'খান ফ্যামিলি' রিটার্ন করেছে। অর্থাৎ যারা খান ফ্যামিলিকে ভালোবাসেন, তারা এই বইয়ে সেই দুষ্টু-মিষ্টি চরিত্রের খুনসুটি আবারও খুঁজে পাবেন। এ বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় লেখকের পূর্ববর্তী লিখা বইগুলোর কথাও বোল্ড হরফে উঠে এসেছে। বইগুলোর নাম তিনি এমনভাবে ইনক্লুড করেছেন প্লটের সাথে যে ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়। এমনকি প্রচ্ছদেও পূর্ববর্তী লিখা বইয়ের ছোঁয়া আছে৷ এক কথায় খুব যৎসামান্যভাবে লেখক এই বইয়ে তার লেখক জীবনটাকেই তুলে ধরেছেন। এইরকম এতো ইউনিক বিষয়বস্তু এর আগে কোন বইয়ে আমার চোখে পরে নি। আমি বইটা পড়ার পর হতবাক হয়ে ছিলাম এটার নতুনত্ব দেখে। এতো এতো ইউনিক কনসেপ্ট এভাবে এক্সিকিউট করা পসিবল! আসলেই? এবার আসি প্রচ্ছদের কথায়। এই বইয়ের প্রচ্ছদ খুবই কালারফুল এবং বইটির নামের মতোই নজরকাড়া। সেটা মূল বিষয় না। মূল বিষয় হচ্ছে, বইটি পড়ার পর প্রচ্ছদে তাকালে চরিত্রগুলোকে জীবন্ত কল্পনা করা সম্ভব!
বইটাকে রেটিং করলে আমি ৮/১০ দেব। আমি আমার ব্যক্তিগত সমালোচনা প্রকাশ করে দিচ্ছি সাবলীল ভাষায়। বইটির বানানের প্রতি আরেকটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল। চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহার এবং ন/ণ, ি/ী এর ব্যবহারে ভুল কিছু জায়গাতেই আমার চোখে পরেছে। আরেকটি বিষয়, লেখকের বাক্য গঠণ ঠিকঠাকই ছিলো, কিন্তু আমার কাছে কিছু জায়গায় শব্দের পূণরাবৃত্তি হয়েছে বলে মনে হয়েছে। তবে বাক্য গঠন, কথার ভঙ্গিমা সবকিছু রম্যপোযোগী ছিল। পরিশেষে 'খান ফ্যামিলি' আমার কাছে অসাধারণ একটা রম্য ছিল। খান ফ্যামিলি বইটি মূলত একটা ম্যাসেজের উপর ভিত্তি করে লিখা হয়েছিল। কিন্তু এই বইটি কোন নির্দিষ্ট ম্যাসেজকে ভিত্তি করে লিখা না। এ বইটিতে যেভাবে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় সমাজের বিভিন্ন হেরফেরের বিদ্রুপমূলক উপহাস করা হয়েছে তা একই সাথে আপনাকে ঢের ম্যাসেজ তো দিবেই তার সাথে বাধ্য করবে প্রাণ খুলে হাসতে।
বই: ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ ️লেখক: Zamsedur Rahman Sajib ️ধরণ: রম্য উপন্যাস প্রকাশক: অক্ষরবৃত্ত ️মুদ্রিত মূল্য: ৳৩৫০ রেটিং: ৪.৫/৫ হুমায়ুন আজাদের একটি কথা আছে— দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম প্রেম বলে কিছু নেই। মানুষ যখন প্রেমে পড়ে, তখন প্রতিটি প্রেমই প্রথম প্রেম হয়। "ফার্স্ট টাইম স্যাকেন্ড ম্যারেজ" উপন্যাসের নাম দেখে প্রথমে ধারণা করেছিলাম হুমায়ূন আজাদের প্রথম প্রেমের সংজ্ঞা বোধহয় লেখক উপন্যাসে টেনে এনেছেন। অর্থাৎ, কোনো এক ব্যাক্তি বার বার বিয়ে করবে, আর সকলের কাছে বলে বেড়াবে প্রথম বিয়ে। কিন্তু পাঠকের ধারণার সাথে একজন লেখকের ধারণা কখনোই মিলে না। পাঠক যেখানে ভাবনা থামিয়ে ইতি টানেন, লেখক ঠিক সে স্থান থেকেই পুনরায় নতুন গল্প শুরু করেন। ঠিক এভাবেই "ফার্স্ট টাইম স্যাকেন্ড ম্যারেজ" বইটি লেখক জামসেদুর রহমান সজীবের এমন একটি রম্য উপন্যাস, যেখানে নামের সাথে উপন্যাসের মিল তো অবশ্যই আছে, কিন্তু আমার মতো পাঠকের প্রেডিক্ট করা ধারণার সাথে একদমই মিল নেই।
কাহিনি সংক্ষেপ— গ্রামের সহজ সরল ছেলে সাজিদের অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো ঢাকা শহর ঘুরবে। বন্ধু পিয়ালের পরামর্শে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে ঢাকায় চলে আসে সাজিদ। এদিকে প্রথমবারের মতো ঢাকায় ঘুরতে এসেই পরের দিন সাজিদ বিয়ে করে নিলো বন্ধু পিয়ালেরই স্ত্রীকে। নিজের বলতে তেমন কেউ না থাকা সাজিদের বউ, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি আর শ্যালকসহ একটি পরিবার মিলল। নতুন পরিবার ও ঢাকায় থাকতে গিয়ে তাকে সম্মুখীন হতে হয় বিভিন্ন ঝামেলায়। এসব জট খুলতে খুলতে ছ' মাস পেরিয়ে গেলে সাজিদ ও তার স্ত্রী মিনার ডিভোর্স লেটার আসে। এবং মীনা চলে যায় কানাডায় অন্যদিকে সাজিদ গ্রামের বাড়ি ফিরে আসে।
কাহিনি সংক্ষেপ দেখে হয়তো মনে মনে ভাবছেন, ধুর! আপনি দেখি স্পয়লার দিয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু আদৌ স্পয়লার দিয়েছি? ফ্ল্যাপের লিখা পড়ে আমিও ভেবেছিলাম একই কথা। কিন্তু উপন্যাস যত এগোতে থাকলো তত বেশি আমার ভাবনার পরিবর্তন হতে লাগলো।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া — উপন্যাসের সকল চরিত্রকে যদি আমি যদি এক শব্দে ব্যখ্যা করতে যাই, তাহলে আমার মাথায় যে শব্দটি খেলতে শুরু করে তা হলো 'অদ্ভুত'। অদ্ভুত এই চরিত্রসমূহের একেকটি ঘটনা আপনাকে প্রাণ খুলে যেমন হাসাবে, ঠিক তেমনই নিয়ন্ত্রণ করবে আপনার রাগ, বিরক্ত ও ভাবনা। মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো এবং কল্পনাগুলো একত্রে হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করার পর অসাধারণ একটা উপন্যাস হচ্ছে “ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ।”
সমালোচনা— উপন্যাসের ৭১% চরিত্র পরিচিত হওয়ায় গল্পে ঢুকতেই আমি কল্পনাশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। অর্থাৎ প্রত্যেকটি কাহিনীর সাথে বাস্তবিক চরিত্র নিজের অনিচ্ছা স্বত্তেও মেলাচ্ছিলাম। সাধারণত একটা উপন্যাস পড়া শুরু করলে আমি গল্পে নিজেকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি (ব্যাক্তিগত অভ্যেস)। অথচ এই উপন্যাসের চরিত্রের নামগুলো অধিকাংশ আমার চেনা মুখ, যার ফলে দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে পারছিলাম না বলে মজা হারিয়ে ফেলছিলাম। অবশ্য প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাহিনিতে যথেষ্ট পরিমাণের রসিকতায় পূর্ণ ছিলো বলে এটা তেমন একটা নজরেই আসে নি।
বইটি কেন পড়েছি?— পরীক্ষা নামক বড় বড় যু দ্ধে অসফল হয়েছি গত কয়েকমাস। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা আমার ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েক গুণ। সব কিছুর ভীড়ে রিডার্স ব্লকেও ভুগছিলাম অনেক মাস। তবে সমস্ত ক্লান্তিকর মুহূর্ত ভুলে গিয়ে আমার মতে মুখের হাসি ধরে রাখা অধিক জরুরি। তাই শত ঝামেলার মাঝেও মানুষ হাসতে চায়। উপন্যাসটি সহজ, সাবলীল অথচ হাস্যরসে ভরপুর। যার ফলে খুব সহজেই মানুষ কিছুটা সময়ের জন্য তার হতাশাময় সমস্ত ঘটনা ভুলে থাকবে এছাড়াও রিডার্স ব্লক কাটিয়ে উঠবে বলে আশা করছি।
লেখকের প্রতি ক্ষুদ্র বার্তা— কী ব্যাপার? আপনার 'খান ফ্যামেলি', 'খোকা ডেঞ্জারাস', 'লাভলী অ্যান্ড্রয়েড' তিন তিনটে উপন্যাস শেষ করেছি। উল্লেখিত উপন্���াসগুলো যেমন স্বাদের ছিলো সে তুলনায় এই উপন্যাসের লবণ একটু কম হয়েছে কেন? নাকি এই উপন্যাস লিখার সময় আন্টি আপনাকে ভাত দেয় নাই।
সর্বোপরি এই বইয়ের মাধ্যমে আমার রিডার্স ব্লক যেহেতু খুলেছে আগামী কয়েকমাস আবার প্রচুর বই পড়তে পারব। যার জন্য উপন্যাসের লেখককে হালকা করে ধন্যবাদ🤏 [উপরের সমস্ত মন্তব্য আমার ব্যাক্তিগত মতামত। ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে]
২০২৬ রিভিউ বিষয়ঃ বই রিভিউঃ ১৭ বই : ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ লেখকঃ জামশেদূর রহমান সজীব প্রচ্ছদঃ রাকিব রাজ্জক জঁরাঃ সিটকম
হুট করেই মিনা-রাজুর পরিবারের অংশ হয়ে পড়ে সাজিদ হাসান। এতিম এই ছেলেটার টাকা পয়সার অভাব নাই। নিজে পড়াশোনা না করতে পারলেও এক পাল বন্ধু বান্ধবকে পড়াশোনা করায় সে। ঢাকায় এক বন্ধুর কাছে ঘুরতে আসে সে আর সেই ঘুরতে আসায় মোড় ঘুরিয়ে দেয় তার জীবনের। হুট করেই একটা নতুন পরিবারে গিয়ে উঠতে হয় তাকে।
সাজিদের সাথে একে একে পরিচয় হয় ডন বাবু থেকে শুরু করে খান ফ্যামিলির মানুষের। হ্যা লেখকের রম্যভার্সের বদৌলতে মিনা রাজুর পরিবারের সাথে দেখা দেবে খান ফ্যামিলিও।
সাজিদ, তার সাথে পরিচিত হওয়া আরো কিছু মানুষ, নতুন পরিবারের সাথে ঘটা নিত্য ঘটনা নিয়েই চলে সাজিদের ৬ মাসের ঢাকাজীবন। ঢাকার এই ৬ মাসের জীবনে সাজিদ জীবনে অনেক কিছু ঘটে, অনেক কিছু বদলে যায়। আপাত দৃষ্টিতে মজার মনে হলেও বেচারা সাজিদকে একেবারে নাস্তানাবুদ হতে হয়।সাথে তার আশেপাশের মানুষের সাথেও ঘটে, অঘটন-ঘটন। সব মিলিয়ে সাজিদ কবে হাফ ছেড়ে বাঁচতে পারে সেটাই প্রশ্ন!
আসলে বই-গল্প নিয়ে বেশি কিছু বলতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে। তাই বললাম কম।
বইয়ের উৎসর্গ পাতায় নিজের পেইজের নাম দেখে ছোট্ট করে ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দিলাম।
বইটাকে খুব বেশি হো হা করে হাসির বা রম্য আমি বলব না। মোটামুটি হালকা ধাচের রমকম বই। প্রচলিত অনেক ভিডিও কিংবা কথাকে হাস্যচ্ছলে গল্পের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে এইটাও সুন্দর। গল্পের কাহিনী আহামরি যেমন না আবার একেবারে ফেলে দেওয়ার মত তাও না। তবে হয়তো বইটাকে আরো কাট ছাট করা যেত। মিনা চরিত্রের উপস্থিতি আরো বেশি দরকার ছিল। রাজু, মিঠু-ডন, মৌসুমি চরিত্রগুলো যতটা জায়গা পেয়েছে, আমার চোখে মূল চরিত্রদের একজন মিনা হওয়া সত্ত্বেও তার উপস্থিতি ততটা পায়নি। কিন্তু এটার দরকার ছিল। বইটা যেহেতু আগের এক ভার্শন ছিল, আমার মনে হয় হয়তো কিছু অংশ রি রাইট করতে পারতেন লেখক। কিছু অংশে কাঁচা হাতে লেখা বলে মনে হয়। বইটা যে থিমে, স্পয়লার হবে বলে বলছি না, এই অংশটাতেও আরো কিছু পরিপক্কতার দরকার ছিল। এইটুকুই অভিযোগ বা যা ছিল বলার।
সমাজের অনেক বিষয় চোখে আংগুল দিয়ে হাস্যরসের মাধ্যমে লেখক দেখিয়ে দিয়েছেন। যেটাকে আপনি নিছক মজা মনে করলে মজা, কিন্তু বোঝার চেষ্টা করতে গেলে বুঝবেন বাস্তবতা ঠিক কী। সিটকম বা রমকম জাতীয় বইগুলো আসলে আমাদের আনন্দ বা মজা যতটা দেয়, যত আনন্দ পাই, একটু ভেবে দেখলেই বুঝব, সমাজের এই অংশগুলো যেন ইচ্ছা করেই আমরা এড়িয়ে যাই।
লেখকের লেখার একটা সুন্দর বিষয় কী জানেন? ফ্যামিলি! পরিবার! পরিবারের সম্পর্ক এত সুন্দর করে হাসি মজা আর উচ্ছলতা দিয়ে ঠিক কতজন প্রকাশ করতে পারে তা জানা নেই। সাংবাদিক বা পুলিশ কিংবা মাফিয়া ডন! এরা আমাদের আশেপাশেই আছে। আমরা এই রকম এদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা অহরহই দেখি শুনি। কিন্তু না তলিয়ে দেখি, না খতিয়ে। ক্যামেরা হাতে মানেই দুনিয়া হাতে মনে করার যে প্রবণতা আর পরিনতি তা আর কে কবে ভেবেছে?
সাজিদ একায় গল্পের ৭০% টেনেছে। বাকি চরিত্রগুলোয়ও জমাটি ছিল। বইপাড়ার অনেক চেনা মুখের নাম পাবেন, কিন্তু স্বয়ং লেখকের উপস্থিতি কেন নেই? সাজিদ কি কিডন্যাপ করেছিল লেখককে?
রমকম বইগুলোর শেষ অংশে এসে কেন যেন মন কেমন হয়ে যায়। এমনকি এটা যদি মুভি বা ড্রামা হত তাও শেষ দৃশ্য চোখে ঝাপসা জল এনে দেয়। না জল হয়তো আসেনি, কিন্তু মন হুট করেই যেন ভালো হয়ে যায়।
এই রম্যভার্সে আরো সুন্দর রম্য গপ্পো পড়বার আশা করি।
'ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ' মূলত একটি নিখাদ বিনোদনমূলক ও আবেগঘন রম্য উপন্যাস। গল্পের মূল কেন্দ্রে আছে গ্রামের সহজ-সরল ছেলে সাজিদ। ভাগ্যের অন্বেষণে বা পরিস্থিতির চাপে সে যখন শহরে পা রাখে, তখন সে নিজেও জানত না তার জন্য কী অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে। রাতারাতি জীবন বদলে যাওয়ার যে চিরচেনা স্বপ্ন আমরা দেখি, সাজিদের জীবনে তা ধরা দেয় এক অদ্ভুত মোড় হয়ে। বন্ধুর খামখেয়ালি বা কোনো এক কান্ডকারখানার চক্করে পড়ে হুট করেই সাজিদের কপালে জুটে যায় বিয়ে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়েই গল্পের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয়।
বইজুড়ে যেমন হাসির খোরাক আছে, তেমনি আছে ভালোবাসার গভীরতা। হাস্যরসের আড়ালে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে ভালোবাসা আর মায়া একটি মানুষের শূন্য জীবনকে পূর্ণতা দিতে পারে। সাজিদ চরিত্রটির সরলতা আর তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির বৈপরীত্য পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পের ভেতরে আটকে রাখে। সব মিলিয়ে এটি এমন এক গল্প যা পড়তে পড়তে যেমন হাসি পায়, তেমনি গল্পের শেষের দিকে এক ধরণের প্রশান্তি আর ভালো লাগা কাজ করে।