Jump to ratings and reviews
Rate this book

Achilles Er Tendon

Rate this book
CID investigators recover two dead bodies from Patenga Sea Beach. Forensic Expert Abrar Fahad finds the involvement of a high profile industrialist cum M.P in this case. Human cannibalism is also suspected in this regard. All on a sudden,a estranged group of masked people abduct Abrar to a mysterious set of Greek Mytholgy's wonderland. He is compelled to play a game namely "HellMyth''.


In each level of this game,Abrar has to rescue different lives of middle class and lower middle class people who are on the verge of death due to close-fisted as well as nailbiting undefined war against capitalists.

Will Abrar be able to save those lives with the help of advanced technologies of medical science?

192 pages, Hardcover

First published February 1, 2022

Loading...
Loading...

About the author

Maliha Tabassum

11 books53 followers
Maliha Tabassum is a Bangladeshi novelist,singer and artist. She is also keen to set her footprint in direction based on her own plot. Apart from her creative career,she completed M.B.B.S from Shaheed Suhrawardy Medical College. She is looking forward to pursue PhD Degree in Forensic Psychiatry in abroad soon.

She has developed inclination towards Bengali and English literature and music since her early days. Her first published piece of writing was from Jugantar and Prothom Alo newspaper back in 2012-14. She gained recognition as best classical singer and reciter in 2015 from Nazrul Academy sponsored by Tamuddin Majlish. She also achieved prize as radio personality from Radio Bhumi.

She published her first novel, "Brittobondi" which was a Romantic Spy Thriller from Annesha Prokashan in 2019. Her debut novel turned a boon for her and she started to gain popularity among readers' community. She published second novel, "Gigolo" in 2020 which was also a massive hit. It was based on male prostitution,first ever a complete fiction about male escort in Bangla.This book secured its place in top 30 novels published in 2020 by Banglamati Website's "Ekushey Shongkolon".

Her biggest break was her third novel, "Inferiority Complex". This novel introduced first ever fictional "Medical Examiner" character in Bangla. It garnered overnight stardom for her.

She achieved Rokomari Bestseller Award consecutively for "Inferiority Complex" & her fourth novel "Achilles Er Tendon",another medical thriller.
She has received Best Writer Award in Research category for her non fiction in 2025 due to insightful notion on Dictators' Psychoanalysis and July Uprising,2024. This prestigious Award was provided on behalf of Bangladesh Nationalist Party.


She has always longed for making a revolutionary change in Bangladeshi Book industry and media by taking initiatives to internationalise novel based movie adaption.
In 2025, her first directional debut work is
"Obsession is injurious to health"— a thriller screening Impress Telefilm.

Despite being a part of youth,She opts for playing a pivotal role to convert her own medical thriller fiction into celluloid. She believes- Pursuing her academic research and passion for Forensic Psychiatry can contribute to convert her plots into celluloids. The bridge between literature and media of Bangladesh can help us secure a firm position of Bangladeshi content into global platform- This is my firm belief.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
60 (47%)
4 stars
17 (13%)
3 stars
22 (17%)
2 stars
11 (8%)
1 star
16 (12%)
Displaying 1 - 30 of 41 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,146 reviews1,162 followers
June 20, 2022
চরম বিরক্তিকর রে ভাই। চরম বিরক্তিকর। নামখানা আর মুদ্রণ সংখ্যা দেখে কি একটা ফাঁকিতেই না পড়লাম। বইটা পড়ার পর প্রান্ত ভাইয়ের সেই বিখ্যাত ডায়ালগটা মনে পড়ে গেল,
এসকল নয়া কুতুবদের বই আরও সাবধানে খরিদ করিতে হইবে। নতুবা ট্যাঁকের পয়সা আবারও জলে যাবে।
আচ্ছা, আমার কৌতুহলী মন একটা বিষয়ে জানতে বড়ই উদগ্রীব । একটা মুদ্রণে কটা করে বই ছাপানো হয়েছিল? এক ফেব্রুয়ারিতেই ৭ টা মুদ্রণ!! নাকি পাবলিশার্সদের এ এক নতুন ফন্দি?
Profile Image for Ësrât .
519 reviews89 followers
Read
July 13, 2022
এককালে আমার ফরেনসিক নিয়ে ক‍্যারিয়ার করার আকাশ কুসুম (বইটা পড়ার পর গরীবের ঘোড়া রোগ মনে হয়েছে😔)ইচ্ছে ছিল।

এরপর আসলো এই যুগান্তকারী বই!
তাসের ঘরের মতো ভেঙেচুরে ভাসিয়ে দিলো সব আশা আকাঙ্খা।😫

না রাসেল ভাই বিশ্বাস করেন এক ফরেনসিক এক্সপার্ট হতে গিয়ে দন্ত চক্ষু মস্তিষ্ক থেকে মিথলজি সহ বিবিধ বিষয়ে পড়াশোনা করার মতো ত‍্যাল আমার এই জীবনে আর অবশিষ্ট নাই।

সুতরাং একবার যেতে দে মা এ ধরনের বই পড়ে আসি এ ধরনের বিলাসী চিন্তা ভাবনা জীবনের তরে খাতাম টাটা টাটা বাই বাই দিয়ে দিলাম।🐸

শেষ:দা এন্ড অফ রিভিউ😤


রেটিং:নাই
এই অবিস্মরণীয় বইকে দেওয়ার মতো কোনো তারা ফারা আমার কাছে নাই।😪

(বাঁইচা গেছো আমেনার বাপ তোমার হবু বউ এসব পড়ে আর বুকের ভুলভাল পাশে হাত দিয়ে হার্ট এ্যাটাক করবে না। )

১৩/০৭/২২
Profile Image for RHR.
35 reviews11 followers
April 12, 2022
#বই_পর্যালোচনা

আজ সাতাশতম বছরে পদার্পন করেছেন সিআইডি অফিসার অবন্তি। জন্মদিন উপলক্ষে বাসায় বিরাট বড় আয়োজন। কিন্তু সে আয়োজনটা তার মনে খুব বেশি আনন্দের সঞ্চার ঘটাতে পারল না। কারণ ডিআইজি তামিম এসে জানালেন, একটি দুঃখজনক ও অপ্রীতিকর ঘটনার কথা। ঠিক দু'দিন আগে ঢাকা ১৬ আসনের এমপির স্ত্রী ও তার ভাইয়ের পাঁচ বছর বয়সী ছেলের মিসিং কেস ফাইল করেছিল তার আপনজনেরা। আর আজ তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে পতেঙ্গা সমুদ্রবন্দর থেকে। এখানেই সমাপ্ত নয়৷ বাচ্চা ছেলের বুকের অংশ স্লাইসিং মেশিন দিয়ে কাটার মতো নমুনাও পাওয়া গেছে। শুরু হলো, এক নতুন কেসের সূচনা।

আচমকাই ফরেনসিক এক্সমাইনার আবরার ফাহাদ এ কেসে খুঁজে পায় গ্রিক মিথলজির একটি ঘটনার সাদৃশ্য। এই মিল খুঁজে পাওয়াটাই যে তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে সে কি আদৌ জানতো?

দিনে-দুপুরে অপহরণ করা হয় আবরারকে। সে নিজেকে পায় গ্রিক মিথলজির এক কৃত্রিম দুনিয়াতে। জীবনরক্ষকারী এক অদ্ভুত খেলা খেলতে বাধ্য করা হয় তাকে৷ এখানে আছে, ১০টি ধাপ। ১০টি ধাপে কোনো না কোনোভাবে থাকবে গ্রিক মিথলজির কোনো ঘটনার অনুকরণ।

গ্রিক মিথলজির ইতিহাস, পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদীদের প্রবল পরাক্রম ও ষড়যন্ত্র থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সহায়তা আবরার কি পারবে ১০টি ধাপ সহজে পার করে শিকারকে বাঁচাতে?

পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
আমি কখনোই কোনো বইয়ের প্রডাকশন নিয়ে প্রথমেই নিজের পাঠ-প্রতিক্রিয়া অংশ শুরু করিনি তবে এবার শুরু করছি। বইটি খোলার পর বইয়ের যাবতীয় তথ্য যে পৃষ্ঠায় লেখা থাকে ঠিক সে পৃষ্ঠায় প্রচ্ছদশিল্পীর নাম ভুল লেখা দেখে বিস্ময় ও দুঃখ দুটোই বোধ করেছি। এমনকি বইয়ের ব্যাক কভারেও সে একই হাল। বিষয়টা হতাশাজনক। সাদিত উজ জামানের মতো একজন প্রচ্ছদশিল্পীর নাম সাদাত উজ জামান লিখে রাখাটা মোটেই ভালো লাগল না। একটা বেস্টসেলার বই যার ষষ্ঠ মুদ্রণ কপি আমার কাছে সে বইয়ের প্রচ্ছদশিল্পীর নামটা এখনো ভুল থেকে যাওয়াটা অদ্ভুত। বিষয়টা আমার খুব বেশি খারাপ লেগেছে। আর এই খারাপ লাগার কারণটা প্রায় অনেকেরই জানা (অজানাও থাকতে পারে কারণ আমি খুব বেশি বিখ্যাত কেউ না)।

তবে প্রডাকশনে পজিটিভ দিক হচ্ছে, পৃষ্ঠা, বাঁধাই ও ছাপার মান দুর্দান্ত। খুব বেশি হার্ড বাইন্ডিং না হওয়া বই সহজে খুলে পড়া যাবে। আর এতো দূর্বল বাইন্ডিংও না যে, খুলে পড়ে যাবে।

প্রচ্ছদশিল্পীর নাম ভুল নিয়ে এতোকিছু বলা হলো কিন্তু প্রচ্ছদ কেমন হলো তা বলা হলো না। প্রচ্ছদ চমৎকার হয়েছে। প্রিন্টেও ভালো এসেছে, বিশেষ করে নামলিপি ও লেখিকার নামটা প্রিন্টে বেশি সুন্দর এসেছে। অ্যাম্বুশ স্টাইলে করা হলেও উপরে সিলভার রঙ (অনেকটা চুনার মতো) বসানো হয়নি। সিলভার ফেসগুলো বসালে খসে পড়ে প্রচ্ছদ নষ্ট হয়ে যেতো (এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ গতবছর প্রকাশিত জিমি তানহাবের 'মহাপ্রলয়ের প্রান্তর')। লেখিকার নাম যে সাইজে লেখা তাতে ওরকম কিছু ঘটলে উনার নাম হয়ে যেতো, 'সালিহা তাবাষষুম' অথবা 'সানিহা তাবাষষুম' । এটা না করার জন্য প্রকাশনীকে বিশেষ ধন্যবাদ।

এবার আসি স্টোরিলাইন নিয়ে। স্টোরিলাইন নিঃসন্দেহে ইউনিক ছিল। আমার অনুমান, বাংলাদেশের বেশকিছু পাঠক/পাঠিকা বইটা সংগ্রহ করার পূর্বেই 'গ্রিক মিথলজি অবলম্বনে মেডিকেল থ্রিলার? গার্বেজ বৈ কিছুই হবে না' ভেবে চোখমুখ উল্টেছেন। আবার অনেকেই 'গ্রিক মিথলজি অবলম্বনে মেডিকাল থ্রিলার ফিকশন হতে পারে?' এমন একটি কৌতূহলের ফলে বইটি সংগ্রহ করেছেন। বইটি পড়ার পর আমার মন্তব্য হবে, 'জি, গ্রিক মিথলজি অবলম্বনে অবশ্যই একটা ভালো মানের মেডিকাল থ্রিলার হতে পারে। লেখিকা যথাসাধ্য চেষ্টা ও পড়াশোনা করেছেন পাঠকদের ভালো মানের একটি মেডিকেল থ্রিলার উপহার দেবার। তবে আমার মতে, তিনি কতোটা সফল হয়েছেন? চলুন ধাপে ধাপে জানা যাক।

প্রথমেই যেমনটা বললাম, স্টোরিলাইন ইউনিক ছিল। গতবছর 'ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স'র অনেক সমালোচনা করেছিলাম, বিশেষ করে চরিত্র গঠন ও তথ্যগত গোলযোগ নিয়ে৷ যাহোক, সেবারের ভুল এই বইয়ে পুনরাবৃত্তি না করার যথাসাধ্য চেষ্টা লক্ষ্যনীয়। আমি প্রায়শই বলি, 'আমি একটা শকুন। তাই আমার চোখে সবসময় এমন কিছু পড়ে যা অন্য কেউ সাদাচোখে দেখতে পায় না' (এটা অবশ্য মজার ছলেই বলা)।

স্টোরিলাইন ভিন্নধর্মী হলেও তথ্যগত কোনো গোলযোগ যেন না থাকে তাতে লেখিকা এতোটাই কন্সেন্ট্রেট করেছেন যে, চরিত্র গঠন এবারও আমায় যারপনাই হতাশ করেছে। গোটা বই জুড়ে ছিল আবরার। মিল খুঁজে পেল কে? আবরার। কিডন্যাপ হলো কে? আবরার। গেম খেলল কে? আবরার। সমস্ত(একটি বাদে) কোডকে ডিকোড করল কে? আবরার। লাস্ট লেভেলের বিশেষ চমকটা কাকে বেশি প্রভাবিত করল? আবরারকে। অন্তিম কিস্তিমাত করল কে? আবরার। বাকি চরিত্রদের কন্ট্রিবিউশান এবারও খুব একটা চোখে পড়ল না। এমনকি গেমের নিয়মানুযায়ী, কোড ডিকোড করতে যেকোনো সাহায্য আবরার অন্য মানুষদের কাছ থেকে নিতে পারবে বলে জানিয়েছে গেম অথারিটি। অথচ আবরার সিআইডি ডিপার্টমেন্ট টিমকে গেম সম্পর্কে জানানোর পর 'Rainbow Resort'র ঘটনা বাদে আর কোথাও আমি অন্য কোনো চরিত্রকে নিজের মস্তিষ্ক খাটাতে দেখলাম না। সিআইডি অফিসার হয়ে তাদের নির্বুদ্ধিতা বরং বিরক্তিকর লাগছিল।

গেমের নিয়মে পরিষ্কার করে বলা ছিল, কোড ডিকোডের জন্য সে সাহায্য নিতে পারবে। কিন্তু কোনো কোড ডিকোডের জন্য সে নিজ থেকে সাহায্য চায়নি এমনকি 'Rainbow Resort'র ব্যাপারেও না। সে শুধুমাত্র গেমের ব্যাপারটা সবার সঙ্গে শেয়ার করে এবং প্রত্যেকটা লেভেলের ঘটনা পর্যায়ক্রমে সবাইকে বলে। উল্লেখ্য, সাহায্য চাইবার জন্য বলা যেতে পারে এমনটা হলেই হয় কিন্তু প্রত্যেকটা লেভেলের বিস্তর বর্ণনা তাকে করতে বলা হয়নি। এটা এক ���রনের রুল ব্রেক হয়েছে এমনও হতে পারে, তাদের কার্যক্রমের গোপনীয়তা হরণ হচ্ছে। কেননা এটি একটি সিআইডি টিম, নিজ বুদ্ধিমত্তায় তারা গোপনে এমন কোনো ফন্দি আঁটতেই পারে যা গেম অথারিটি ঘুণাক্ষরেও টের পাবে না। এর পাল্টা যুক্তি হিসেবে বলা হবে, গেম অথারিটি যতোটা ঝানু, তার সঙ্গে সিআইডি টিম কিছুই করতে পারবে না। সে হিসেব থেকে ভাবলে, মিডিয়ায় জানাজানি হলেও তাদের চুল কেউ বাঁকা করতে পারবে না কিন্তু এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কেন ছিল? বইটা যারা পড়েছেন আমি মনে করি এ প্রশ্নের উত্তর আমার দেবার প্রয়োজন নেই। যতোই ঝানু হোক না কেন, নিজেদের গোপনীয়তা রক্ষা করাটাও এখানে মূখ্য বিষয়। সিআইডি টিমের আবরার বাদে অন্য কাউকে গেম অথারিটি পর্যবেক্ষণ করছে না। সুতরাং, ঘটনা এও হতে পারত, সিআইডি টিমের কেউ একজন এই গেমের ব্যাপারে অন্য কারো সঙ্গে শেয়ার করে এমন একটি পৈশাচিক গেমের হাত থেকে আবরারকে বের করার প্ল্যান করছে? ফিকশনে এমনটা হওয়া কি খুব অস্বাভাবিক?

যারা 'আবরার ফাহাদ' সিরিজ পড়েছেন তারা অবশ্যই জানেন আবরার এবং অবন্তির একটি ভিন্নধর্মী রসায়বের কথা৷ সুতরাং, এ সিরিজের নায়িকা হচ্ছেন, আমাদের সম্মানিত সিআইডি অফিসার ২৭ বছরে পদার্পন করা মিস অবন্তি। সিরিজের নায়ক কমপ্লেক্স একটা চরিত্র অথচ নায়িকা এখনো সিরিজের প্রথম বইয়ের মতোই এই বইতেও যেন কোথায় আটকে আছে। দুজনের না বলা প্রণয় ও শেষাংশের চমক (এটাও অবশ্য সেই প্রণয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত) বাদে এই মেয়েটার বইয়ে কোনো প্রয়োজনীয়তাই চোখে পড়েনি। যদিও কথায় কথায় বলিউড টেনে আনাটা এবার ছিল না তবে এ মেয়ের কন্ট্রিবিউশান আরও বাড়ানো উচিত। এই নারী চরিত্রের সঙ্গে আমি ঠিকঠাক কখনোই রিলেট করতে পারি না ফলে মাঝে মাঝে বিরক্ত হই (বলা ভালো এই চরিত্রটাই আমার কাছে বিরক্ত লাগে কেন যেন)। যেহুতু তাকে নায়িকার আসনে বসিয়েছেন লেখিকা তাই নায়িকারও একটা আলাদা এট্রাকশন পাওয়া অবশ্যই উচিত। এই চরিত্র সেটা ডিজার্ভ করে।

একই কথা, পুরো সিআইডি টিমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এটি একটি সিআইডি টিম তাই তাদেরকে এক্সট্রিম লেভেলের বোদ্ধা দেখাতে হবে। তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তার ফলেই তারা সিআইডির সদস্য। এতো বোকা দেখালে তো তাদের সিআইডি টিম মনে হবে না বা চরিত্রগুলোর সঙ্গে পাঠক সেভাবে রিলেট করতেই পারবে না। স্টোরিলাইন সাধারণ হলেও সমস্যা না কিন্তু একটি উপন্যাসে চরিত্রায়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চরিত্রগুলো যে পরিচয়ে একজন লেখক/লেখিকা পাঠকদের সঙ্গে তাকে পরিচিত করবেন তার সে প্রতিচ্ছবিটা পদে পদে ফঁটিয়ে তোলার দায়িত্বও লেখক/লেখিকার। তা নাহলে, চরিত্রগুলো জীবন্ত হবে কী করে অথবা পাঠকদের মনে আলাদা জায়গা নেবে কী করে?

এবার কথা বলব, বর্ণনাভঙ্গি, ঐতিহাসিক ঘটনা অথবা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় থাকা অসঙ্গতি নিয়ে।

বর্ণনাভঙ্গি:
১. পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৮'তে মুসাকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিপোর্ট রেখে যেতে বলার পরপর আচমকাই আবরার সিআইডি প্রধানের কেবিনে হাজির। মানে কথা কখন শেষ হলো আর কখন গেল তার ঠিকঠাক কোনো উল্লেখই নেই। হুট করে কথা বলার পর, দরজায় নক পড়ল বিষয়টা অদ্ভুত ঠেকেছে।

২. পৃষ্ঠা সংখ্যা ২২'এ প্রথম অনুচ্ছেদ থেকে তৃতীয় অনুচ্ছেদ পর্যন্ত সিআইডি প্রধান একটানা কথা বলছেন কিন্তু বিষয়টা এমন করে লেখা যেন কোনো বিষয়ের উপর লেখিকার নিজস্ব বর্ণনা চলছে। ইনভার্টেড কমা ছিল না।

৩. পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৪'এ 'এইরোপ স্বামীর রাজ্য' এখানে 'তার' শব্দ স্কিপ করে গেছেন। 'এইরোপ তার স্বামীর রাজ্য' হবার কথা। এছাড়া 'ধাতস্থ হতে সময় নিলো কয়েক মুহূর্তে' এখানে 'মুহূর্ত' লেখাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

৪. পৃষ্ঠা ২৮'এ গ্রিক মিথলজি বেজড কোনো গেমের বিষয় হতে যাচ্ছে এমন ভাবনাই বা আবরারের মাথায় কেন এলো? এটা আরও পরিষ্কার করে বলা আবশ্যক। শুধুমাত্র গ্রিক দেবতা-দেবী ও হলোগ্রাফিক স্ক্রিন দেখেই এ ধারণা করার কারণটা মোটেই পরিষ্কার ছিল না৷ কারণ গেম হয়ে তো তখন অন্য কিছুও ঘটতে পারত। প্রধান চরিত্র তো আর লেখিকার মস্তিষ্ক ঘুরে আসেননি যে, এসব দেখেই তৎক্ষণাৎ গেমের কথাই তার মাথায় চলে এলো।

৫. প্রায়ই অবন্তি কথা বলে উঠে অথচ এই চরিত্রটাই যে কথা বলছে সেটাই বোঝা যায় না। এই মেয়েটার সাথে আমার রিলেট করতে না পারার অন্যতম কারণ এটিও। এছাড়া একই অনুচ্ছেদে দুজন চরিত্র একত্রে কথোপকথন করতে থাকেন ফলে কখন কে কথা বলছে সেটাও বোঝা যায় না। এই বিষয়টা একদমই ভালো লাগেনি। প্রত্যেকটা চরিত্রের কথা বলার সময় আলাদা আলাদাভাবে প্যারা রাখা উচিত। ইনভার্টেড কমাজনিত সমস্যা পেয়েছি কিছু কিছু জায়গায়।

৬. পৃষ্ঠা ৭৪'এ একজন সিআইডি প্রধান হওয়া স্বত্তেও তাকে যতোটা বিজ্ঞ হওয়া উচিত তিনি যে তা নন এই পৃষ্ঠায় তার জলজ্যান্ত প্রমাণ পেলাম। সিআইডি প্রধান 'Hyacinth' বলতে শুধু নীল রঙের লিলি ফুল জানতেন অথচ 'Hyacinth'র (Water Hyacinth'ও বলা যায়) আরেকটি মানে কন্দজাতীয় উদ্ভিদ বিশেষ অথবা কচুরিপানাও বোঝায় এতোটুকু তিনি জানেন না। তার জ্ঞানের পরিধি দেখে আমি হতাশ।

৭. পৃষ্ঠা ৭৮'এ বলা হলো, অ্যাডিশনাল ডিআইজি অর্থাৎ ফজলে রাব্বি ছাড়া নাকি গেমের প্রত্যেকটা লেভেলের গল্প কখনোই নাকি আবরার শুরু করে না অথচ রাব্বি সাহেব বসতে না বসতেই অবন্তি বলল, 'আপনার গেমের ব্যাপারে জানার পর আমি গ্রিক মিথলজি পুরোটা কয়েকবার করে পড়তে পড়তে মুখস্থ করে ফেলেছি। তারপরও প্রথম কো-অর্ডিনেটের আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছি না, রিলেট করা তো দূরের কথা।' তার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ফজলে রাব্বি আসার আগেই কিছুটা হলেও অন্তত আবরার সবাইকে বলেছে অথচ ফজলে রাব্বি সাহেব এর জন্য উচ্চবাক্য পর্যন্ত করলেন না। ক্যারেক্টর ডেভোলপমেন্টে আরও ফোকাস করার আহ্বান জানাচ্ছি। এসব ছোটো ছোটো বিষয়গুলোও মাথায় রাখতে হবে।

৮. পৃষ্ঠা ৮৩'তে একটি বিশেষ ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে সিআইডি প্রধান কিছু একটা সন্দেহ করেন অথচ আবরার সে ব্যাপারে দ্বিতীয়বার না ভেবে বা কোনো লজিক্যাল উত্তর না দিয়েই মূল গল্পে চলে গেল। অদ্ভুত। আবরার থেকে চমৎকার ব্যাখ্যা অভিলাষ করেছিলাম। আবরারের বোকামি আরেকটি জায়গায় পেয়েছি আমি, সেটা পৃষ্ঠা ১২৯'এ। গেমের নিয়মানুযায়ী, লেভেল বাড়ার সাথে সাথে তা হবে কঠিন থেকে কঠিনতম। আর লেভেল সেভেনে এসে আবরারের মতো কমপ্লেক্স একটি চরিত্র যখন বলে, 'কয়েকটি ক্ষেত্র বাদের আগের লেভেলগুলির কোড মোটেই কঠিন ছিল না' তখন তা হাস্যকর লাগে। লেভেল অনুযায়ী কঠিন হওয়া তো অস্বাভাবিক না। সেখানে আগের লেভেলে কী হয়েছে তার সঙ্গে বর্তমান লেভেলের তুলনা করলে হবে?

৯. 'প্রসবযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে লেভেল ফাইভের ভিক্টিম'। অথচ এটা ছিল লেভেল সিক্স। সংখ্যায় অসঙ্গতি।

১০. কোনো এক চরিত্রের (আসলে আমি পড়েও নিশ্চিত নই কথাটা কে বলল, এরকম ভুল পেয়েছি আরও কিছু জায়গায়) ভাষ্যমতে, লেভেল সেভেন বাদে নাকি আর কোনো লেভেলে কোনো বিত্তবান ভিক্টিম ছিল না, এটাই প্রথম। অথচ লেভেল ফাইভেই আমরা প্রথম কোনো বিত্তবান ভিক্টিম পেয়েছিলাম। তাহলে লেভেল সেভেন কীভাবে প্রথম হয়? কোনো চরিত্রকেও দেখিনি এ ভুল ধরিয়ে দিতে।

১১. পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৩২'এ 'খবরদার একদম কাছে এগোবেন' এই লাইনে 'না' শব্দটা স্কিপ হয়েছে।

১২. তিনি সিআইডি ডিপার্টমেন্টের সদস্য হয়েও এটুকু জানতেন না, এখন বাজারে খুব সহজেই শীতকালীন সবজি পাওয়া যায়। তামিম সাহেব এবার আমায় অবাক ও হতাশ দুটোই করলেন। (পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৩৭)

১৩. সিআইডিতে কর্মরত ডিআইজি সাহেব লেভেল নাইনে এসে যখন জিজ্ঞেস করেন 'আগামেমনন কে?' আরও একবার বিস্ময় আর হতাশা দুটোই কাজ করে। সিআইডি সাহেবের স্মৃতিশক্তি এতোটা দূর্বল কী করে হতে পারে? লেভেল ওয়ানে আগামেমননকে কথা হয়েছিল বেমালুম ভুলে বসে আছেন। একজন সিআইডি টিমের সদস্যের কি এতো দূর্বল স্মৃতিশক্তি থাকাটা বেমানান নয়?

১৪. লেভেল নাইনে সংখ্যার অসঙ্গতি। তৃতীয় কো-অর্ডিনেট হিসেবে পাঠানো হয় DDLJ'র মুভি পোস্টার আবার আরেকটি বর্ণনায় তৃতীয় কো-অর্ডিনেট 'মেইড ইন বাংলাদেশ'। অথচ 'মেইড ইন বাংলাদেশ' সম্পর্কিত কো-অর্ডিনেট ছিল চতুর্থ কো-অর্ডিনেট।

১৫. অধ্যায়ের নাম 'Hellmyth Game-Level 9' অথচ এই অধ্যায় লেভেলে নাইন ও টেন দুটোই ছিল। অধ���যায়ের নাম হতে পারত 'Hellmyth Game-Level 9 & 10', হতে পারত 'Hellmyth Game-Level 9 ও একটি সর্বনাশের গল্প', হতে পারত, 'Hellmyth Game-Level 9 ও অন্তিম চাল'। তার চেয়েও বড় কথা, লেভেল টেনই যেহুতু ছিল এই গেমের মূল আকর্ষণের বিষয়, তাই এটা আলাদা একটা অধ্যায় হলেই বেটার ছিল। লেভেল টেনকে লেখিকা চমকপ্রদ করতে চেয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু তা হয়নি। এখানে লেখিকার তাড়াহুড়ো লক্ষ্য করেছি। এই লেভেলের সেকেন্ড কো-অর্ডিনেট সম্পর্কে খুব বেশি আলোচনা হয়নি। ইভেন এই লেভেলের যিনি ভিক্টিম ছিলেন(নাম উল্লেখ করে স্পোয়েলার দেব না) তাকে খুব সহজেই উদ্ধার করতে পেরেছে আবরার। আরেকটু রোমাঞ্চকর কিছু অভিলাষ করেছিলাম আমি।

ঐতিহাসিক অথবা মিথলজিক্যাল ঘটনা:
১. পৃষ্ঠা ১১'তে আইসক্রিমের উৎপত্তি নিয়ে আমি লেখিকার সঙ্গে একমত নই। এখান থেকে জানতে পারি, আবরার প্রথাগত ধারণায় বিশ্বাসী না। কিন্তু গবেষকদের ধারণায় ঠিকই বিশ্বাসী। গবেষকরা ধারণা করেন, আইস্ক্রিমের জন্মস্থান সম্ভবত গ্রিস। এই 'সম্ভবত'র মধ্যেও কিছুটা সংশয় আছে। গ্রিসে যে খাবারটা তারা খেতো সেটা আদৌ আইস্ক্রিমই ছিল কিনা এর কোনো নিশ্চয়তা এখন অবধি কোথাও পাওয়া যায়নি। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে চীনকেই আইস্ক্রিমের জন্মস্থান বলা হয় কারণ চীন যে খাবারটি বানাতো সেটা যে আইসক্রিম তার নিশ্চয়তা আছে। আর চীন আইসক্রিমের জন্য কিন্তু বেশ গর্বিত মনোভাব পর্যন্ত পোষণ করে। যখন ডাকপিয়ন ছিল না তখন আমাদের পূর্বসূরিরা কবুতরকে দিয়ে চিঠি পাঠাতো। তাহলে কি কবুতর ডাকপিয়নের টাইটেল পাবে? না। ঠিক সেভাবেই এখানেও এই বিষয়টা প্রযোজ্য। এই ভুলটা কোনো এক কনভারসেশনে এ বই প্রসঙ্গে কথা বলার সময় ধরেছিলাম। সে কনভারসেশনের চ্যাট থেকে স্ক্রিন ক্যাপচার নিয়ে এক বিশেষ বই রিলেটেড পাবলিক গ্রুপ আমাকেই পচিয়ে মিম করেছিল (বাচ্চা ছেলেমেয়েরা এগুলো মজার ছলেই করেছে অবশ্য, আমি কিছু মনে করিনি। তাই যারা মিম করে মজা নিয়েছিলেন তারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন)।

২. লেভেল ওয়ানে গ্রিক মিথলজি যে গল্পটি পাওয়া যায় তা হলো আগামেমনন ও ক্লাইমেনেস্ট্রার। এখানে লেখিকা উল্লেখ করেছে, কীভাবে ক্লাইমেনেস্ট্রা তার পরকিয়া প্রেমিকের সহোযোগিতায় তার স্বামী আগামেমননকে হত্যা করেন। লেখিকার বর্ণনাটা ছিল এমন যে এখানে আগামেমনকে যে কারো বলির পাঠা বলে মনে হতে পারে বিশেষ করে, যাদের গ্রিক মিথলজি নিয়ে ধারণা শূন্যের কোঠায়। ক্লাইমেনেস্ট্রা তার পরকিয়া প্রেমিকের জন্য তার স্বামীকে হত্যা করেননি করেছিলেন ইফিজিনিয়ার জন্যে। জি, ক্লাইমেনেস্ট্রা তার স্বামীকে খুন করার মোটিভ ভিন্ন। আগামেমনন যখন ট্র‍য় বা ট্রোজান যুদ্ধ থেকে ফিরে আসে তখন ক্লাইমেনেস্ট্রা ও আয়গিস্থোস (যাকে এজিস্থাস হিসেবে উল্লেখ করা বইতে) তাকে হত্যা করে আর হত্যার পেছনকার কারণটা ছিল জ্যেষ্ঠ কন্যা ইফিজিনিয়া। ইফিজিনিয়াকে দেবী আর্টেমিসের কাছে আগামেমনন উৎসর্গ করেন। আর এর প্রতিশোধ নিতেই তিনি তার স্বামীকে খুন করেন আয়গিস্থোসের সাথে মিলিত হয়ে। ধারণা করা হয়, ইফিজিনিয়া আগামেমননের আপন সন্তান ছিলেন না। তাহলে ট্র‍য়ের একটা জাহাজকে কেন্দ্র করে আর্টেমিসের কাছে তাকে উৎসর্গ করাটা নিষ্ঠুরতার মধ্যে পড়ে। কিন্তু লেখিকার এই বর্ণনা পড়লে আগামেমমননকে আপনার মহামানব বলে মনে হবে যিনি তার স্ত্রীর দ্বারা প্রতারিত হয়ে নিজের প্রাণ হারিয়েছেন। যেই লেখিকা একটি বিশেষ চরিত্রের মাধ্যমে 'ট্রয়' মুভিতে থাকা বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে লেভেল নাইনে আলোচনা করেছেন সেই লেখিকার থেকে এমন ভুল অভিলাষ করি কী করে?

৩. পসাইডন মেডুসাকে ধর্ষণ করেছিলেন কিনা তা নিয়েও দ্বিমত রয়েছে। কিন্তু এটাও ক্লিয়ার করা হয়নি। বলছি না, মোটিভ মেলা আবশ্যক কিন্তু যে সম্ভাব্য ধারণা আছে সেগুলো অন্তত সংক্ষেপে ও ক্লিয়ারলি বলা জরুরী।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
বলে রাখা ভালো, আমি সাইন্সের স্টুডেন্ট ছিলাম না। তবে সাইন্স সম্পর্কে আমার যতোটুক জ্ঞান আছে ততোটুক প্রয়োগ করেই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্ঠা করি। পৃষ্ঠা ৮৭'তে লেন্স সম্পর্কিত একটি ঘটনায় কনকেইভ বা অবতল লেন্সের সূত্র বলা হয়, 'খুব কাছের কোনো বস্তুকে খুব দূরের মনে হবে'। এই সূত্র পড়ে আমার অবস্থা তখন হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ভাইরাল হওয়া সেই সৌদি আরবের মওলানা সাহেবের মতন। আমার সল্পজ্ঞান তখন আমাকে বলল, অবতল লেন্স তো খুব দূরের জিনিস যেন বড় ও পরিষ্কারভাবে দেখা যায় সেজন্য ব্যবহার হয় এছাড়া সমতল কোনো প্রতিবিম্ব তৈরিতে অবতল লেন্স কার্যকরী। উদাহরণ: টেলিস্কোপ ও আয়না। কিন্তু এটা কী লেখা? শুরু হলো রিসার্চ। টানা চারদিনের অনলাইন-অফলাইন ঘাটাঘাটি, দুজন সাইন্সের স্টুডেন্ট থেকে তথ্য সংগ্রহ করার পর জানতে পারলাম, বিষয়টা ফোকাস বিন্দুর উপর নির্ভর করছে। উল্লেখ্য, যে দুজনের কথা বলছি তাদেরকে লেখিকার পুরো বর্ণনাটা দেখিয়েছি কিন্তু তারাও কিছুতেই বিষয়টা রিলেট করতে পারছিল না। এখানের বিষয়টা হচ্ছে, উত্তল আয়নায় বস্তুটি যত দূরে থাকবে প্রতিবিম্বটি ফোকাস বিন্দুর ততো কাছে তৈরী হবে। আর অবতল আয়নায় বস্তুটি যতই ফোকাসের কাছে রাখা হবে প্রতিবিম্ব হবে ততো দূরে। কিন্তু বিষয়টা পুরোপুরি পরিষ্কার করে বোঝাননি লেখিকা ফলে কিছুই বোধগম্য হয়নি। তাই আমাকে টানা চারদিন এ বিষয় নিয়ে গবেষণা করা লাগে। 'ফোকাল বিন্দু' কথাটা তিনি এক বাক্যে লিখলেও পুরো বিষয়টা বুঝিয়ে বলা দরকার ছিল কারণ উনার এই বই যে শুধুই সাইন্সের স্টুডেন্টরা পড়বে তা কিন্তু না বরং আমার মতো সাধারণরাও পড়বে।

লেখনশৈলী কেমন? বরাবরের মতো এবারও মোটামুটি ভালোই লেগেছে তবে উপরিউক্ত অসঙ্গতির জন্য খুব বেশি প্রশংসা করতে পারছি না।

আবারও ফিরে এলাম, বইয়ের প্রডাকশনের কিছু অংশ নিয়ে৷ সম্পাদনা ও বানান ভুলের পরিমাণ কেমন? বানান ভুলের পরিমাণ কম হলেও সম্পাদনায় আরেকটু নজরদারি বাড়ানো উচিত। ইনভার্টেড কমার ব্যবহার, দুই চরিত্রের কথা এক প্যারায় টুকে দেওয়া, শব্দ স্কিপ হয়ে যাওয়াটা এডিটিং মিসটেক বলা চলে। আরেকটু ফোকাস করলে এ ভুলগুলো এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল।

পরিশেষে, ভিন্ন কিছু টেস্ট করতে আগ্রহী? তাহলে 'অ্যাকিলিসের টেন্ডন' পড়তে পারেন। অভিলাষ করি, হতাশ হবেন না।

বই: অ্যাকিলিসের টেন্ডন
লেখিকা: মালিহা তাবাসসুম
প্রকাশনী: অধ্যয়ন
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২২
জনরা: মেডিকেল থ্রিলার
প্রচ্ছদ: সাদিত উজ জামান (সাদাত উজ জামান নয়)
মুদ্রিত মূল্য: ৪০০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯২

©RHR
Profile Image for Akash Rahman.
47 reviews8 followers
April 9, 2025
শুধু মার্কেটিংয়ের জোরে কিভাবে মিডিওকার বই বেস্টসেলারের তকমা পায় তার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত এটি। সুবিখ্যাত নেটফ্লিক্স সিরিজ 'স্কুইড গেম' এবং বিখ্যাত ইন্ডিয়ান সিরিজ 'অসুর' থেকে আস্তে করে কাহিনীর মেইন কনসেপ্ট ধার করে নিয়েছে লেখিকা। কিন্তু সাহিত্যজ্ঞান কম থাকলে যা হয় আরকি, চরিত্র চিত্রায়ন হয়েছে যাচ্ছেতাই। একজন চরিত্র আবরারকে ঘিরেই কাহিনী শুরু এবং শেষ। প্লট অতিরিক্ত কনভোলিউট করতে যেয়ে ফস্কাগেরো হয়ে গেছে বেশ কয়েক জায়গায়। সবচেয়ে বেশি যেটা হয়েছে, অনেক জায়গায় কাহিনীর কন্টিনিউইটি ব্রেক করে লেখিকা তার পার্সোনাল মনোলগ শেয়ার করেছে। সেই মনোলগ পড়ে যারপরনাই স্কুলের বাংলা রচনার মত ফিল হয়েছে।
১/৫ এটাও বেশি দিয়ে ফেললাম।
Profile Image for S.M. Mowla.
Author 12 books117 followers
March 6, 2025
মালিহা তাবাসসুমের ‘অ্যাকিলিসের টেন্ডন’: একজন চিকিৎসক এবং মিথলজি লেখকের দৃষ্টিতে

লেখার শুরুতেই একটা স্বীকারোক্তি দিচ্ছি – গত তিন বছর মিশরীয় মিথলজি কিংবা মায়া মিথলজির সাথে সম্পর্কযুক্ত কোনো বই ছাড়া, অন্য কোনো বই আমার পড়া হয়নি। আদপে পড়ার সুযোগ পাইনি। এবারও হয়তো সুযোগ পেতাম না, কিন্তু শুধু একটিমাত্র বই পড়ার জন্য সময় বের করে নিতে হয়েছে। আর এই বইটি হচ্ছে হালের খুবই জনপ্রিয় লেখিকা মালিহা তাবাসসুমের লেখা ‘অ্যাকিলিসের টেন্ডন’। বইটি নিয়ে রিভিউ লেখার আগে তাই আমি ব্যাখ্যা করতে চাচ্ছি – কেন বইটি পড়েছি? ব্যাখ্যা শুনে পাঠক সম্ভবত বুঝতে পারবেন আমার রিভিউটি গতানুগতিক রিভিউ হবে না।

মালিহা তাবাসসুম সম্পর্কে আমি প্রথম জানতে পারি ২০২১ এর বইমেলার সময়। সে সময় তাঁর লিখিত একটি বই ‘ইনফিরিওটি কমপ্লেক্স’ বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং বইটির অসংখ্য কপি অনলাইনে রকমারি থেকে বিক্রয় হবার সুবাদে তিনি রকমারির বেস্ট সেলার লেখকের তকমাও পেয়েছিলেন। তবে তিনি আমার দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলেন সম্পূর্ণ অন্য কারণে। ঐ বইটির ট্যাগে লেখা ছিল ‘মেডিকেল থ্রিলার’। উনি দাবি করলেন, ‘ফরেনসিক মেডিসিন সম্পর্কিত প্রথম মেডিকেল থ্রিলার’। আমার আপত্তি ছিল এখানে। ২০১২ সালে আমি যখন ব্লগিং করতাম, আমারই সহ-ব্লগার তরুন চিকিৎসক এবং সু-লেখক ফয়সাল কাদের চৌধুরী একটি উপন্যাস লিখেছিলেন, 'পারভার্ট’। আমার জানামতে সেটিই ছিল বাংলাদেশে ফরেনসিক মেডিসিন সম্পর্কিত প্রথম উপন্যাস। সম্ভবত কয়েকটি জায়গায় আমি এটি উল্লেখও করেছিলাম। তবে নিজের ব্যস্ততাহেতু কিংবা থ্রিলারের প্রতি আমার কম আগ্রহের কারণে বইটি আমার তখন কেনাও হয়নি, পড়াও হয়নি। তারপর সময়ের কারণে মালিহা তাবাসসুমের কথা আমি ভুলেও গিয়েছিলাম।

হঠাৎ একদিন আবিষ্কার করলাম তিনি ফেসবুকে আমার বন্ধু হিসাবে আছেন। ব্যাপারটি আবিষ্কার করেছিলাম ফেসবুকে দেওয়া উনার এক পোষ্টের কল্যাণে, যেখানে তিনি তার পরবর্তী বইয়ের গ্রন্থ সহায়িকা হিসাবে আমার লেখা ‘গ্রিক মিথলজি – আদি থেকে অন্ত’র উল্লেখ করেছিলেন। ফেসবুকে আমরা কীভাবে বন্ধু হয়েছিলাম, আজ মনে নেই। হয় তিনি আমাকে অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন, কিংবা আমি। অবশ্য এখন সেটা বড় কোনো ব্যাপারও নয়। কারণ, এই রেফারেন্সের উল্লেখ থেকেই তার সাথে আমার সম্পর্কটা এখন অনেকটাই বন্ধুভাবাপন্ন। এই বন্ধুত্বের শুরুতেই আমি একদিন ‘ইনফিরিওটি কমপ্লেক্স’র ট্যাগলাইন নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে পরিস্কার করেছিলেন, এটি ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন সম্পর্কিত প্রথম থ্রিলার। এবার আমি তার এই দাবিটি মেনে নিয়েছিলাম, শব্দ চয়ন যথাযথ হওয়াতে (ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন সম্পর্কিত আমি আসলেই কোনো বাংলা থ্রিলার দেখিনি, যদি কেউ শক্ত উদাহরণ দেখাতে পারেন, আমাকে জানাবেন; ততক্ষণ পর্যন্ত আমি মালিহার এই দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করছি)।

যাহোক, যা বলছিলাম, কেন আমি ‘অ্যাকিলিসের টেন্ডন’ পড়েছি? প্রথমত, এর ট্যাগ লাইন – ‘গ্রিক মিথোলজি অবলম্বনে মেডিকেল থ্রিলার’। পাঠক, আপনাদের অনেকেই জানেন, মিথলজি নিয়ে আমি কাজ করছি বেশ কয়েক বছর ধরে। এই সংক্রান্ত আমার প্রথম বইটিই ছিল গ্রিক মিথলজি নিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই এই ট্যাগ লাইন আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। দ্বিতীয়ত, লেখিকা নিজেও মেডিকেলের একজন ছাত্রী। আমি নিজে চিকিৎসক হওয়াতে, লেখিকার এই পরিচয় জানার পর আমারও আগ্রহ হয়েছিল এটা জানার, কীভাবে মেডিকেল বিষয়টিকে তিনি থ্রিলারে সন্নিবেশ করেছেন। এবং তৃতীয়ত (সম্ভবত প্রধান কারণ), উনি উনার ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করা লেখায় বইটির অন্যতম একটি সহায়িকা গ্রন্থ হিসাবে আমার গ্রিক মিথলজির বইটির নাম উল্লেখ করেছিলেন।

এই তিনটি কারণে না হয় আমি বইটি পড়লাম, কিন্তু রিভিউ লেখা কেন? কারণ, এবারের বইমেলায় আমি যখন লেখিকার কাছ থেকে অটোগ্রাফ নিয়ে বইটি বগলদাবা করেছিলাম, মনের বেখেয়ালে লেখিকাকে কথা দিয়ে ফেলেছিলাম, একটি রিভিউ লিখব! তাই এই লেখার অবতারণা!

সুবিশাল ভূমিকা পর্ব পড়ে আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, গতানুগতিক রিভিউয়ের ধারে কাছে আমি যাব না। বরঞ্চ ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশনের সাথে কীভাবে গ্রিক মিথলজিকে তিনি মিশাতে পেরেছেন, একজন চিকিৎসক এবং মিথলজি লেখক হিসাবে সেটাই বিবেচনা করার চেষ্টা করব।

(১)

বইটির প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম ছিল, ‘থেয়েস্টাস বনাম এট্রিউস এবং নরমাংসখেকোর গপ্পো’। গ্রিক মিথলজির একজন একনিষ্ঠ পাঠক হিসাবে শিরোনাম দেখেই আমি প্রথম অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তুটি অনুমান করতে পেরেছিলাম। সত্যি কথা বলতে কী, আমি প্রথমে একটু হতাশই হয়ে পড়েছিলাম এই কারনে যে, আমি তো বইয়ের পুরো কাহিনি এক নিমিষেই বুঝে গিয়েছি – এটা ভেবে! কিন্তু না! এটা ছিল মূল কাহিনিতে যাবার আগে ভূমিকা পর্ব।

মূল কাহিনি হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে দশটি কাহিনি বা লেভেল বা থ্রিলারের সমন্বয়, যার পরিসমাপ্তি ঘটেছে আরেকটি কাহিনির মাধ্যমে। এবং এগারোটি কাহিনিরই এগারোটি নাম আছে – গ্রিক মিথলজি অনুযায়ী। যদিও লেখিকা সবগুলো পর্ব বা লেভেলের শিরোনামে গ্রিক শিরোনামগুলো ব্যবহার করেননি, কিন্তু আমি আলোচনার সুবিধার্থে নিচে সেটা করে দেখাচ্ছি –

প্রথম পর্ব – ইলেক্ট্রা এবং ক্লাইটেমেনস্ট্রা
দ্বিতীয় পর্ব – হেরা এবং আইও
তৃতীয় পর্ব – এপোলো এবং হায়াসিন্থ
চতুর্থ পর্ব – মিডিয়া এবং জেসন
পঞ্চম পর্ব – সেফালাস এবং প্রক্রিস
ষষ্ঠ পর্ব – হেরা এবং আল্কমিনা
সপ্তম পর্ব – আফ্রোদিতি এবং হেফাস্টাস
অষ্টম পর্ব – পসাইডন এবং মেডুসা
নবম পর্ব – প্যারিস এবং হেলেন
দশম পর্ব – অর্ফিয়াস এবং ইউরিডাইস
সমাপ্তি পর্ব – অ্যাকিলিসের টেন্ডন

ভাবা যায়, একটা থ্রিলার বইতে এগারোটি গ্রিক মিথলজির কাহিনির সংক্ষিপ্ত উল্লেখ, সাথে গ্রিক মিথলজি অনুযায়ী চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক অ্যাসক্লেপিয়াসের বৃত্তান্ত এবং ভূমিকা পর্বের থেয়েস্টাস ও এট্রিয়ুসের কাহিনি! মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমি যখন পর্বগুলো গ্রিক মিথলজি অনুযায়ী সাজিয়েছিলাম, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আমার চোখে ধরা পড়ল!

প্রথম নয়টি পর্বে গ্রিক মিথলজির যেসব কাহিনির উল্লেখ ছিল, সেগুলোর পরিণতিতেই ছিল প্রতিহিংসা এবং প্রতিশোধ নেবার এক অদম্য ইচ্ছার কারণে খুন করার প্রচেষ্টা। কিন্তু আপনারা কি প্রথম নয়টি কাহিনির গভীরে প্রবেশ করেছেন? (১) পরকীয়ায় লিপ্ত ক্লাইটেমেনস্ট্রা কর্তৃক তার স্বামী আগামেমননকে হত্যার (তবে অধিকাংশ পুরাণ বিশেষজ্ঞ একমত যে, আগামেমননকে হত্যা করার মূল কারণ ছিল ট্রয় যাত্রার শুরুতে অনুকূল আবহাওয়া পাওয়ার জন্য আগামেমনন কর্তৃক তার মেয়ে ইফিজিনিয়াকে বলি দেওয়া) কারণে পুত্র ওরেস্টেস এবং কন্যা ইলেক্ট্রা কর্তৃক ক্লাইটেমনেসট্রাকে হত্যা, (২) জিউসের সাথে অবৈধ সম্পর্কের কারণে আইও যে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, জিউসের স্ত্রী হেরা কর্তৃক সেই সন্তানকে হত্যা করার প্রচেষ্টা। (৩) এপোলো এবং হায়াসিন্থের প্রেমের কারণে হায়াসিন্থের সাবেক প্রেমিক বায়ু দেবতা কর্তৃক হায়াসিন্থকে হত্যা, (৪) মিডিয়াকে ছেড়ে দিয়ে পরনারীতে আসক্ত জেসনের প্রতি প্রতিশোধ নেবার জন্য মিডিয়া কর্তৃক হত্যা, (৫) প্রক্রিসের পর পুরুষে আসক্তির কারণে স্বামী সেফালাস কর্তৃক প্রক্রিসকে হত্যা, (৬) জিউসের সাথে অবৈধ সম্পর্কের কারণে আল্কমিনা যে সন্তানের (হেরাক্লেস) জন্ম দিয়েছিলেন, জিউসের স্ত্রী হেরা কর্তৃক সেই সন্তা্নের জন্মপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার প্রচেষ্টা, (৭) স্বামী হেফাস্টাসকে ঠকিয়ে আফ্রোদিতির বহুগামীতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠা, (৮) পসাইডন কর্তৃক মেডূসাকে ধর্ষণ করা, এবং (৯) প্যারিসের সাথে স্ত্রী হেলেনের পালিয়ে যাওয়াতে প্রতিশোধের নেশায় মেনেউলাসের ট্রয় আক্রমণ করা – এই নয়টি কাহিনি কি একটা জিনিস সুস্পষ্ট করে তুলে না, গ্রন্থে বর্ণিত প্রতিটি পর্বের হত্যা প্রচেষ্টার পিছনের মূল কারণ পরকীয়া, বা অসম প্রেম? শুধু তাই নয়, এটি কী আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নির্দেশ করে না, হত্যাকান্ড ঘটানোর চেষ্টা করছেন খুব কাছের মানুষেরা, যারা হয় Intimate partner কিংবা খুবই কথিত নিকটাত্বীয়?

এবার কিছু পরিসংখ্যান দেওয়া যেতে পারে। ১৯৯৩ (Violence against women survey) এবং ১৯৯৯ (General social survey) সালে কানাডাতে পরিচালিত দুইটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এসব Intimate partners দ্বারা হত্যার হার হচ্ছে যথাক্রমে ২৯% ও ৩৭%। এমনকি আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৯৮০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত হত্যাকান্ডে প্রতি ৫ জনে ১ জনকে হত্যা করেছেন তার Intimate partner (কুপার এবং স্মিথ, ২০১১) এবং এসব হত্যাকান্ডের প্রধান কারণ হচ্ছে পরকীয়া। কৌতুহলজনক ব্যাপার হচ্ছে, ২০১৯ সালে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গিয়েছে, ভারতের একটি শহর কৃষ্ণাতে সংঘটিত মোট হত্যাকান্ডের ৪২%-ই ছিল বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে (The Hindu, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯)!

তাহলে কি লেখিকা মালিহা তাবাসসুম গ্রিক মিথলজি অবলম্বনে মেডিকেল থ্রিলার লেখার ছদ্মাবরণে সমাজের খুব বড় একটা Burning issue – কে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, যার মধ্যে নারী পুরুষের বহুগামীতা, সমকামীতা, পরকীয়া অন্তর্ভুক্ত? এই ধারণার পক্ষে জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর লেখাতেই। তাই লেখিকা বইয়ের বিভিন্ন জায়গাতে লিখেছেন সমকামীতা নিয়ে, Cuckolding নিয়ে এবং নারী ও পুরুষের বহুগামীতা নিয়ে। খুব বিস্ময়ের সাথেই লক্ষ্য করলাম, লেখিকা দক্ষভাবেই পৌরাণিক কাহিনির সাথে বর্তমান বাস্তবতাকে মেলাতে পেরেছেন এবং ক্রমশ পুরো বইটি জুড়ে একটি নির্দিষ্ট মূলভাবকে ছড়িয়ে দিতে যথেষ্ট মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।

সিদ্ধান্ত: ট্যাগলাইনের গ্রিক মিথলজি অবলম্বনে থ্রিলার – এই অংশটি সার্থকভাবে প্রতীয়মান।

(২)

গ্রিক মিথলজি অবলম্বনে না হয় বুঝলাম, কিন্তু লেখিকা এটিকে মেডিকেল থ্রিলার বলছেন কেন?

বইটির প্রতিটি পর্বেই লেখিকা হয় সূত্র উন্মোচনে কিংবা হত্যা পদ্ধতিতে বিভিন্ন মেডিকেল বিষয়ের অবতারনা করেছেন। যেমন ক্যাটারেক্ট, এবডুমিনাল এওরটিক এনিউরিজম, এইচআইভি, মায়োপিয়া, হাইড্রোসেফালাস, ব্রুসেলোসিস বা জুনোটিক ডিজিজ, টার্বুটালাইন ড্রাগ, ডিগোক্সিন ওভারডোজ,ভেহিটেটিভ স্টেজ প্রভৃতি। তাছাড়া সমকামীতা কিংবা বহুগামীতা নিয়ে ক্রোমোজোমাল ব্যাখ্যা।

লেখিকা যেহেতু দাবিই করেছেন, এটি মেডিকেল থ্রিলার, তাই অতি অবশ্যই মেডিকেল বিষয়বস্তু থাকবেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই মেডিকেল বিষয়বস্তুগুলো তিনি কীভাবে গল্পে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন? তিনি কি এগুলোকে জোর করে আরোপিত করেছেন? না কি বিষয়বস্তু অনুসারে স্বাভাবিকভাবেই এসেছে? আমার কাছে এগুলো আরোপিত মনে হয়নি। কেন মনে হয়নি, সেটার একটা ব্যাখ্যা আছে।

লেখিকা মেডিকেল থ্রিলার লিখতে চেয়েছেন। তিনি প্রথম থেকেই ঠিক করেছেন, এই বিষয়গুলো এখানে অন্তর্ভুক্ত করবেন। তাই তার লেখার কলমটিকে সেভাবেই এগোতে দিয়েছেন। গভীর পরিকল্পনা এবং যথেষ্ট রিসার্চ করেই তিনি এসব মেডিকেল ব্যাপারগুলোকে গল্পে প্রবেশ করিয়েছেন। তাই বাহ্যিক দৃষ্টিতে অনেকটা আরোপিত হলেও, তা স্বাভাবিক মনে হয়েছে লেখিকার লিখনের মুন্সিয়ানার জন্য। তাই ‘অ্যাকিলিসের টেন্ডন’ হয়ে উঠেছে শুধুমাত্র গ্রিক মিথলজি অবলম্বনে রচিত কোনো থ্রিলার নয়, বরঞ্চ একটি মেডিকেল থ্রিলার হিসাবে। তাছাড়া, গল্পের নায়ক আবরার নিজেও একজন চিকিৎসক। মেডিকেল গন্ধটা এখানেও পাওয়া যায়!

আরেকটা ব্যাপার আছে! যেসব মেডিকেল টার্ম এসেছে, সেগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন। দেখবেন, অপথালমোলজি, নিউরোসার্জারী, এবডুমিনাল সার্জারি, ইনফেকশাস ডিজিজ, কার্ডিয়াক ড্রাগ, গাইনী পরিস্থিতি – প্রায় সব চলে এসেছে!

সিদ্ধান্ত: ট্যাগলাইনের মেডিকেল থ্রিলার – এই অংশটি সার্থকভাবে প্রতীয়মান। তবে এটিকে ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন জনরাতে মনে হয় সার্থকভাবে ফেলা যাবে না।

(৩)

বইটির টুইস্ট অংশ হচ্ছে এর দশম পর্ব এবং সমাপ্তি অংশ। বিশেষ করে দশম পর্বের টুইস্টটির জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না; কিন্তু পড়ার পর মনে হয়েছে- এটাই সম্ভবত হবার কথা ছিল!

বইটির আরেকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আমার কাছে মনে হয়েছে ‘অ্যাকিলিসের টেন্ডন’র ব্যাখ্যা। এই ব্যাপারটিই আমাকে সবচেয়ে অভিভূত করেছে। যে অ্যাকিলিসের টেন্ডন বলতে আমরা সবসময় দূর্বল স্থানকেই চিহ্নিত করে এসেছি, সেখানে লেখিকা সম্পূর্ণভাবে ইউটার্ণ নিয়ে এটিকে শক্তিমত্তা হিসাবে দেখিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বইটির পরিসমাপ্তিতে যেভাবে তিনি একটি মানবিক এবং আবেগীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, তা অপূর্ব। তাই বইয়ের নামকরণ হিসাবে ‘অ্যাকিলিসের টেন্ডন’ – আমার কাছে ফুল মার্কসই পাবে।

(৪)

থ্রিলারটির আরেকটি মূল বিষয় ছিল পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এবং তৎসংক্রান্ত নারী পুরুষের মিউটেশনগত ব্যাখ্যা। এ সম্পর্কে লেখিকা যা বলেছেন, আমি সেটার গভীরে প্রবেশ করব না। এই সংক্রান্ত জ্ঞানে আমার সীমাবদ্ধতা এর জন্য দায়ী। তবে একটা কথা বলা যেতেই পারে, বইটিতে এই পুঁজিবাদ কিংবা সাম্রাজ্যবাদের অন্তর্ভুক্তের প্রচেষ্টা একেবারে মসৃণ হয়নি। লেখিকার জ্ঞানের পরিধি এখানে পাওয়া গিয়েছে, কিন্তু এখানে এগুলোর ব্লেন্ডিংটা খুব ভালোভাবে ঘটেনি। আমার কাছে মনে হয়েছে লেখিকা এ বিষয়ে পাঠককে মেসেজ দিতে চেয়েছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশৎ সেটা গল্পের আকারে না হয়ে, হয়ে উঠেছে অনেকটা লেকচার দেওয়ার মত করে। লেখিকা এখানে পিছিয়ে গিয়েছেন!

আমি কি লেখিকার সমালোচনা করছি? না। বরঞ্চ আমি ভবিষ্যতে এই অসাধারণ লেখিকার কাছ থেকে আরো বেশি কিছু আশা করছি, আর তাই মনে হয়েছে কিছু জিনিস বলা প্রয়োজন।

বইটিতে বর্ণিত লেখিকার প্রতিটি কাহিনিই এককভাবে অসাধারণ। সত্যিকার অর্থেই আমি ভীষনভাবে বিস্মিত হয়েছি, কীভাবে তিনি এই প্লটগুলো নিয়ে এসেছেন! এবং আমার কাছে মনে হয়েছে, এই একেকটি প্লট দিয়েই এক একটি সম্পূর্ণ থ্রিলার উপন্যাস লিখে ফেলা যায়; অথচ এখানে তিনি অনেকগুলো প্লট নিয়ে এসেছেন। পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি বিরাট দুর্বল দিক। যেহেতু একেকটি পর্বের সাথে, আরেকটির কোনো সরাসরি যোগসূত্র নেই, অধৈর্য্য পাঠক খুব সহজেই শেষে চলে যেতে চাইবে।

আরেকটি ব্যাপার বলা প্রয়োজন। বইটিতে পারস্পরিক কথোপকথনের অংশ প্রচুর। একজন থ্রিলার পাঠক হিসাবে আমি সরাসরি গল্প শুনতে চাই। কথোপকথনে থ্রিলারের রহস্যোমাঞ্চতা খুব একটা বজায় থাকে না, এটা থ্রিলার গল্পকে স্লো (slow) করে দেয়। তাছাড়া, বইটিতে এমন কিছু বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে, টান টান উত্তেজনা ধরে রাখার জন্য যেগুলোর খুব একটা প্রয়োজন ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, আইসক্রীমের জন্মবৃত্তান্তের কথা বলা যেতে পারে। কিংবা পরিমনি অথবা তামিমার উল্লেখ। এগুলো পড়ার গতিকে ব্যহত করে দেয়। তাছাড়া, সামাজিকভভাবে খুব পরিচিত ব্যক্তিদের নাম এভাবে উল্লেখ করার একটি বিপজ্জনক সম্ভাবনা থাকে। আমি একবার আমার মেডিকেল কলেজ জীবন নিয়ে একটি সিরিজ লেখা শুরু করেছিলাম। মাঝপথে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলাম, কারণ, সিরিজটাতে উল্লিখিত কেউ কেউ আমাকে মানহানি মামলা করার হুমকী দিয়েছিল! আশা করি, লেখিকা ভবিষ্যতে এদিকটাতে আরেকটু নজর দিবেন।

সবশেষে, হেলমিথ গেমের ৫ নাম্বার নিয়মটি নিয়ে আমার একটা পর্যবেক্ষণ আছে। নিয়মটিতে গেমের শেষ সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে ২০২২ এর ৩১ আগষ্ট। থ্রিলারটি যেহেতু সমসাময়িক কাহিনী নিয়ে এবং এটি কোনো ‘টাইম ট্রাভেল ফিকশন’ নয়, তাই এসব ক্ষেত্রে বই প্রকাশের পূর্বের তারিখ দেওয়াই সমীচীন মনে হয়।

(৫)

এই অংশে আমি দু’টি বিষয় উল্লেখ করতে চাই – যা নিতান্তই আমার সাথে সম্পর্কিত।

তৃতীয় পর্বে এখানে এভারকেয়ার হাসপাতালের কথা বলা হয়েছে, যা পূর্বে এপোলো হাসপাতাল নামে পরিচিত ছিল। এপোলো হাসপাতাল আমার জন্য এক আবেগের নাম। আমার ডাক্তার জীবন শুরুই হয়েছিল এপোলো হাসপাতালে কাজ শুরু করার মাধ্যমে। দীর্ঘ তিনটি বছর আমি এই হাসপাতালের নিউরোসার্জারী বিভাগে কাজ করেছিলাম। আর এ কারণেই বইটির পঞ্চম পর্বে যখন হাইড্রোসেফালাস এবং অষ্টম পর্বে ভেজিটেটিভ স্টেজের কথা চলে এসেছিল, আমি স্মৃতি রোমন্থনে কাতর হয়ে পড়েছিলাম।

আমাকে আবেগী এবং স্মৃত�� রোমন্থনে কাতর করে ফেলার জন্য লেখিকার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা।

(৬)

বইটির প্রচ্ছদ আমার কাছে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। এর বাঁধাই, মুদ্রণ এবং বানান – এক কথায় অত্যন্ত সন্তোষজনক।

বইটি নিয়ে অনেক রিভিউ প্রকাশিত হয়েছে। অনেকেই এর খুব প্রশংসা করেছেন, আবার অনেকেই এটিকে একটি ব্যর্থ থ্রিলার উপন্যাস হিসাবে চিহ্নিত করার প্রয়াস পেয়েছেন। কিন্তু আমি ব্যাপারটিকে দেখছি ভিন্নভাবে। একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট হয়ে যে পরিমাণ জ্ঞান আহরণ করে তিনি এই বইটি লিখেছেন, তা এক কথায় বলতে গেলে বলতে হবে তিনি চরম সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। লেখায় কিছু বাহুল্য থাকতে পারে, হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরিপক্কতার ছাপও রয়েছে, এবং হয়তো (হয়তো না, আমি বিশ্বাস করি এটা ঘটবেই) ভবিষ্যতে তিনি এই বই থেকেও আরো অসাধারণ সব বই লিখবেন, তবুও এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এটি মাইলফলক হয়ে থাকবে, কারণ এটিতে শুধু মিথলজি, বা মেডিকেল বা থ্রিলার আছে বলে নয়, বরঞ্চ মাইলফলক হয়ে থাকবে গল্পের ইউনিক প্লটের জন্য। মালিহা এই বয়সে এমন একটি প্লট নিয়ে এই বিশাল থ্রিলার উপন্যাস লিখেছেন, এটি শুধু তাকেই নয়, আরও অনেক তরুন লেখককেও অনুপ্রাণিত করবে; আমার নিজেকে তো অবশ্যই। আর এ কারণেই মালিহা তাবাসসুমের একটা বিশাল ধন্যবাদ প্রাপ্য, প্রাপ্য তার যৌক্তিক স্বীকৃতি।

বইয়ের নাম : অ্যাকিলিসের টেন্ডন
লেখক : মালিহা তাবাসসু্ম
প্রচ্ছদ : সাদিত উজ জামান
জনরা : মেডিকেল থ্রিলার
প্রকাশনী : অধ্যয়ন
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২২
মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা
পৃষ্ঠা : ১৯২
রেটিং: দিব না, সবসময় সবকিছুর রেটিং দিয়ে বিচার করা যায় না।
Read
May 6, 2026
সম্ভবত এতটা বিরক্তি নিয়ে এর আগে কোনো বইয়ের রিভিউ লিখতে বসিনি আমি। ‌এই বইটা কিনেছিলাম ২০২২ সালের বইমেলার সময়। কার কাছে যেন শুনেছিলাম বইটা নাকি দারুন বিক্রি হচ্ছিল বইমেলায়। ‌ আমি কখনোই হাইপে তোলা বই কিনি না। জীবনে একবারই ভুল করেছিলাম এটা কিনে।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে বইমেলার পরপরই এই বইটা পড়ার একবার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কয়েক পাতা পড়ার পর আর ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারিনি। আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরীর ভেতরে তখন ঢুকিয়ে রেখেছিলাম। সম্প্রতি বইটা আবার হাতে পেয়ে আবার পড়ার চেষ্টা করলাম।
এই বইটার সমস্যাগুলো সেটা যদি লিখতে শুরু করি তাহলে সেটা মহাকাব্য হয়ে যাবে। এই বইটার মূল সমস্যা হচ্ছে এর ভাষা। ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলা ভাষার সবচেয়ে কঠিন কঠিন শব্দগুলো উনি ব্যবহার করেছেন যা আদৌ কোনো দরকার ছিল না।
সবচেয়ে হাস্যকর লেগেছে মিথলজিকে টেনেহিঁচড়ে এই বইয়ের ভিতরে নিয়ে আসার জন্য‌। আগের আমলে শুনতাম মানুষের ম্যালেরিয়া জ্বর হলে তাকে জোর করে কুইনাইন খাইয়ে দিত। এই বইটা পড়ার পরে ঠিক সেরকমই একটা কুইনাইন গেলার অনুভূতি হয়েছে আমার। ‌
উনি বাই প্রফেশন একজন ডাক্তার। সুতরাং ডাক্তারি বিদ্যা যে লেখার মধ্যে আসবে এটি স্বাভাবিক। তবে লেখক লেখিকাদের লেখার সময় অন্তত এটুকু মনে রাখা উচিত যে সব পাঠকরা টেকনিক্যাল পার্সোনাল নয়। যাদের কাছে এই সমস্ত টেকনিক্যাল ওয়ার্ড বা মিনিং খুব কঠিন হয়ে যাবে বুঝতে, তখন তারা স্কিপ করা শুরু করবে এবং আমার ধারণা বেশিরভাগ পাঠকরাই এই বইটার বেশিরভাগ পৃষ্ঠায় স্কিপ করে পড়ে গিয়েছে।
এই বইয়ের নায়ক আবরার একজন সিক্স মিলিয়ন ডলার সুপারম্যান। যার মাথায় সম্ভবত কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার বসানো আছে। সে পারে না এমন কোন কিছু নেই পৃথিবীতে। একজন ডাক্তার হয়েও এমন কোনো বিষয় নাই যার সম্বন্ধে তার জ্ঞান নেই। একজন এমবিবিএস ডাক্তার যে পৃথিবীর সব ধরনের চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞান জানে না সেটা এই লেখিকারই বেশি জানা উচিত। প্রায় প্রতিটা পর্বেই কাকতালীয়ভাবে পাজল মিলানো চরম বিরক্তকর হয়ে উঠেছিল।
সবচেয়ে বিরক্তকর হয়ে উঠেছিল বাকি চরিত্ররা। সিআইডির সর্বোচ্চ পর্যায়ের লোকজন একজন সামান্য ডিটেকটিভকে যেভাবে প্লিজ প্লিজ কথা বলে, সেটা খুবই আজগুবি লেগেছে পড়তে। বুঝাই যাচ্ছে বাস্তবের জগত সংসার সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই লেখিকা। আইজি কিংবা ডিআইজি লেভেলের একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার সামনে সাধারণ পুলিশ অফিসাররা চেয়ারও বসার সুযোগ পায় না।
নায়ক এমন একজন ডাক্তার যার চিকিৎসা শাস্ত্রের সবগুলো জ্ঞান তার মাথার ভিতরে কিন্তু সামান্য ইনজেকশনের এম্পুল কাটার চিনতে বেশ কিছুক্ষণ ভাবতে হয়। যে আবার কাচের শিশির মধ্যে লিকুইড এসিড দেখলেই বলে দিতে পারে সেটা সালফিউরিক অ্যাসিড নাকি নাইট্রিক অ্যাসিড।
আমার এই জীবনে এত বিরক্তকর বই এর আগে কখনো আমি পড়িনি কিংবা কিনিনি। টাকাটা গচ্ছা গেছে সেটা সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে এই বইটা কাউকে যে উপহার হিসেবে দিয়ে দিব পড়ার জন্য, সেটাও সাহস পাচ্ছি না।
ফিকশন ও নন ফিকশন দুইটি ভিন্ন জনরা আছে। বইয়ের ভিতরে সমাজ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা নিয়ে লেখিকার উপলব্ধির চরম বিরক্তকর বকবকানিগুলো ইচ্ছা করলেই তিনি একটা নন ফিকশন বই বের করে সেখানে দিয়ে দিতে পারতেন। ফিকশন জনরার পাঠকদের এভাবে মানসিক অত্যাচার করার কোনো মানে হয় না।
এই বইয়ের কোনো রেটিং আমি দিবো না। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, বেশিরভাগ পাঠকরা এখানে কোনো নেগেটিভ মার্কস দেয়ার সুযোগ থাকলে.....
Profile Image for Reasatul Sunny.
1 review15 followers
February 3, 2022
Looking forward to reading the book. After the acceptance of previous books, it seems that this book will also have a very good vibe in the reader's mind. ✌️ Hope this book gonna be a blast. 💥
Best wishes to the author "Maliha Tabassum". 🍂
Profile Image for Naimul Arif.
110 reviews5 followers
December 7, 2024
লেখিকার জানা উচিত, থ্রিলার জিনিসটা নেকলেস না যে কিছু সুন্দর মুক্তা একত্র করলেই হয়ে যাবে। এটা হলো জিগস পাজলের মতো, টুকরোগুলো একত্র করলে পাজলের টুকরোগুলো যা ছিলো তার তুলনায় ভিন্নমাত্রার দারুণ কিছু হবে।
Profile Image for Umar Faruk Akash.
38 reviews4 followers
December 25, 2022
বইঃ অ্যাকিলিসের টেন্ডন
লেখকঃ মালিহা তাবাসসুম
জনরাঃ গ্রিক মিথলজি অবলম্বনে মেডিকেল থ্রিলার
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৯২
মূল্যঃ ৪০০ টাকা
প্রকাশনীঃ অধ্যয়ন পাবলিকেশন
প্রকাশকঃ তাসনোভা আদিবা সেঁজুতি
প্রচ্ছদশিল্পীঃ সাদিত উজ জামান
রেটিংঃ ১/৫

ফ্ল্যাপ থেকেঃ
পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে দুটি পরিত্যক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে সিআইডি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা। ফরেনসিক এক্সমাইনার আবরার ফাহাদ এই কেসে অগাধ ক্ষমতাশালী এক এমপি ও শিল্পপতির সম্পৃক্ততা এবং হিউম্যান ক্যানিবালিজমের উপস্থিতি খুঁজে পায়। হঠাৎ মুখোশের আড়ালে এক দল অপহরণকারী আবরারকে গ্রিক মিথোলজির এক কৃত্রিম জগতে নিয়ে গিয়ে ‘HellMyth’ নামের এক অদ্ভুত ‘জীবন রক্ষাকারী’ গেম খেলতে বাধ্য করে। এই গেমের প্রতি লেভেলে পুঁজিবাদের পরাকাষ্ঠায় বলি হওয়া অসহায় কিছ�� মানুষ অসম্ভব ক্ষমতাশালী অপর কিছু মানুষের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে দশটি লেভেলে জিউস, হেরা, আফ্রোদিতি, পসাইডন রূপী পুঁজিবাদীর প্রবল পরাক্রম আর মৃত্যুফাঁদ থেকে অসহায় মানুষগুলোকে কি বাঁচাতে পারবে আবরার?

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
বইটা নিয়ে আমি খুবই এক্সাইটেড ছিলাম কারণ মিথলজি আমার প্রিয় একটি বিষয় আর সেটাকে যদি মেডিকেল থ্রিলার অবলম্বনে লেখা হয় তাহলে তো আর কথাই নেই।
এখন বিষয় হলো বইটা আমার এক্সপেক্টেশনের কতটুকু দিতে পেরেছে?

এই পাঠপ্রতিক্রিয়াটি পজিটিভ ও নেগেটিভ দিকে তুলে ধরবো।

শুরুতে বইয়ের কিছু পজিটিভ দিকগুলো দেখা যাক।
বলাবাহুল্য বইয়ের স্টোরিলাইন নিঃসন্দেহে দারুণ ও ইউনিক ছিল। আমার মনেহয় দেশের বেশকিছু পাঠকই বইটা সংগ্রহ করেছেন 'গ্রিক মিথলজি অবলম্বনে মেডিকেল থ্রিলার' নামটি শুনে।
প্রডাকশন, পৃষ্ঠা, বাঁধাই ও ছাপার
মান দুর্দান্ত। খুব বেশি হার্ড বাইন্ডিং ছিলো।

এবার আসি নেগেটিভ দিক দিয়ে।
লেখিকা বইটিতে অনেক কঠিনসব শব্দ ব্যবহার করছেন তবে আমার মতে বইটা আরে সহজ ও সাবলীল ভাষায় লিখলে ভালো হতো। গল্প বলার মতো সহজ ও সাবলীল না হলে গল্প বলার স্টাইলও ভালো হয় না। বুঝাতেও হয়, বইয়ের প্রতি পাঠকদের ধরেও রাখতে হয় এবং লেখিকা তাতেই ব্যার্থ হয়েছেন। বই ধরেই প্রথম বিরক্তিকর যে বিষয়টা লেগেছে তা হলো লেখিকার অত্যন্ত কঠিন শব্দ প্রয়োগ, বেশ কিছু শব্দ গুগল থেকে পড়ে তারপর পড়তে হয়েছে। অথচ বইটা সাবলীল ভাষায় লিখলেও কিন্তু দারুণ হতো।
বইয়ের প্লট ভালো, আগ্রহ জাগানিয়া। কিন্তু সে অনুযায়ী এক্সিকিউশন এত নিম্ন লেভেলের যে বলার মতো না।
শুরু করলে আর থামার নাম নেই। এছাড়া কাহিনীর টুইস্টে তেমন জোর দেয়া হয়নি। ৩ গেম শেষ করেছেন, সেম ভাবে বাকি ৭ টা গেমও শেষ হবে। এবং সবশেষ বাংলা সিনেমার মত নায়ক সফল ভাবে গেম শেষ করে উইনার।
পুজিবাদী নিয়ে বকবক শুরু করলে থামার নাম নেই। এই এক কাহিনী নিয়ে কত কথা বলেছে তার হিসাব নেই। থ্রিলার বই পড়ছিলাম না যেন নিউজ চ্যানেল দেখতেছিলাম। গেইমের যেখানে জোর দেয়া দরকার সেখানে না দিয়ে জোর দেয়া হচ্ছিলো অন্য যায়গায়। আমার বিরক্তিকর লেগেছে।

অপ্রয়োজনীয় কথা বার্তা অনেক বেশি।
Hell Myth গেইমের কিছু বিষয় খাপছাড়া লেগেছে। যেমন কোন ক্লু ছাড়াই আবরার ফাহাদ সবকিছু সলভ করে ফেলছেন।
চরিত্রায়ন ভালোমতো হয়নি।
খানিকটা কাঁচা হাতের লেখা স্পষ্ট ছিলো।
প্লট ভালো হলেও লেখিকা তুলে ধরতে পারেননি বইটা। খুবই উইক স্টোরি টেলিং।
তারপরও শর্টকাটে গ্রিক মিথলজি সম্পর্কে হাল্কা ধারণা রাখার জন্য পড়তে পারেন। অবশ্যই এক্সপেকটেশন কম রেখে।

তবে হ্যাঁ সর্বসাকুল্যে বললে লেখিকা বইটার জন্য অনেক পড়ালেখা করেছেন বলে মনেহয়। চেষ্টা করেছেন যথাসাধ্য নিজের সেরাটা দেওয়ার। আশা করি ভবিষ্যতে ভালোকিছু পাঠকদের দিবেন।
Profile Image for Ummay Sabah Tabassoom Shuddhota.
26 reviews
May 7, 2024
মালিহা তাবাসসুমের বই আগে কখনও পড়া হয় নি আমার তাই লেখিকার আগের বাজার মাতানো বই কিংবা আবরার ফাহাদ চরিত্রের সাথে আমি পরিচিত নই। "গ্রিক মিথোলজি অবলম্বনে মেডিকেল থ্রিলার" এবং বইয়ের নাম দেখে আলদা ঘরণার এক গল্প পড়বো ভেবে ভালোই আকৃষ্ট হই আমি। বইয়ের মূল কাহিনী ভীষণ ইউনিক এবং চমৎকার - যা না বললেই নয়। গ্রিক মিথ কে অবলম্বন করে বিখ্যাত সিরিজ স্কুইড গেইমের আদলে যে থ্রিলার লিখা সম্ভব তা অনেকেরই মাথায় আসার কথা না আর এতো সুন্দর প্লটের জন্যে লেখিকার জন্যে শুভকামনা। কিন্তু এতো সুনাম করার পরেও আমি এই বইকে দুই তারকার বেশি দিতে পারি নি। কারণ গুলো বলি-

১. আমার হাতে এটি বইয়ের পঞ্চম মুদ্রণ কিন্তু প্রচ্ছদশিল্পী "সাদিত উজ জামান" এর নাম ভুলই রয়ে গেছে এখনও। যা ষষ্ঠ মুদ্রণেও সংশোধন করা হয় নি।

২. চরিত্র সুন্দর গুছিয়ে গড়ে তোলা এক প্রকার কলা যে বিষয়ে লেখিকার ভীষণ গাফিলতি আছে বলে মনে হয়েছে। গল্পের মূল চরিত্র অর্থাৎ নায়ক হলেন ফরেন্সিক অফিসার আবরার ফাহাদ আর নায়িকা হলেন অবন্তি কিন্তু এই নায়িকাকে আসলে নায়িকার আসনে লেখিকা ঠিক করে বসাতে পারেন নি। গল্প শুরু কিন্তু অবন্তিকে দিয়েই। তার সাতাশতম জন্মদিন উৎযাপন দিয়ে কিন্তু পুরো গল্পে আবরার ফাহাদকেই যেন মুখ্য করে রেখেছেন লেখিকা। গেইমের নিয়ম অনুযায়ী সে কোড ডিকোড করতে যে কারো সাহায্য নিতে পারে কিন্তু শুধু একটা লেভেলের একটা কোড ব্যতীত কারো সাহায্য তার প্রয়োজন হয় নি। সুপারহিউম্যান ইবা।

৩. আগামেমনন আর ক্লাইটেমনেস্ট্রা ( যদিও বইয়ে লিখা ক্লাইমেনস্ট্রা যা সঠিক নয়) র কাহিনীতে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ লেখিকা উল্লেখ করেন নি। তিনি এমন ভাবে লিখেছেন যেনো মনে হয়েছে ক্লাইটেমনেস্ট্রা তার পরকীয়ার প্রেমিক এজিস্থাসের সাথে থাকতে চাওয়ার কারণেই আগামেমননকে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু আগামেমননকে হত্যার পেছনে ক্লাইটেমনেস্ট্রার মূল কারণ ছিল তাদের কন্যা ইফিজিনিয়াকে দেবী আর্টেমিসের কাছে উৎসর্গ করা । আগামেমনন ইফিজিনিয়াকে অ্যাকিলিসের সাথে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে ইফিজিনিয়াকে উৎসর্গ করেছিলেন যুদ্ধে তাদের জয় নিশ্চিত করার জন্যে। এরই প্রতিশোধ নিতে ক্লাইটেমনেস্ট্রা আগামেমননকে হত্যা করেছিলেন। এই পুরো বিষয়টা লেখিকা উল্লেখ করেন নি।

৪. মেডুসাকে যে আসলেই ধর্ষণ করা হয়েছিল এর কোনো প্রমাণ নেই কোথাও কেননা এ বিষয়ে দ্বিমত আছে। কিন্তু লেখিকা এখানে অকপটে বলে গেলেন পসাইডন মেডুসাকে ধর্ষণ করেছিলেন।

৫. বিভিন্ন সময় বুঝা যায় নি কে আসলে কি কথা বলছে। কোনো চরিত্রের সংলাপে মনে হয়েছে লেখিকা নিজেই কথা বলছেন। এইটা ঘটার কারণ বিরাম চিহ্নের যথাযথ ব্যবহার না হওয়া।

৬. নবম লেভেলের মাঝেই দশম লেভেল ঢুকিয়ে দিয়েছেন লেখিকা কিন্তু তা লেভেল শুরুর প্রথমে উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছেন। ষষ্ঠ ভিকটিমকে পঞ্চম ভিকটিম বানিয়ে ফেলেছেন। প্রথম লেভেল তিনি যেভাবে বর্ণনা করেছেন পরের সব লেভেলে আস্তে আস্তে তিনি বর্ণনা করার মান এবং পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। গেইমের নিয়ম অনুযায়ী যে কারো থেকে কোড ডিকোড করতে সাহায্য নিতে পারবে আবরার কিন্তু গেইম পরিচালনাকারীদের সমস্যায় পরতে হতে পারে এইরকম কোনো তথ্য ফাঁস করা যাবে না। কিন্তু আবরার প্রত্যেক গেইমের ভেন্যু সহ সব বলতো তার সহকর্মীদের তাহলে যে কেউ তো ঐদিন তার পিছু নিতে পারতো যেহেতু তারা সিআইডির সদস্য। তাদের নাকের নিচ দিয়ে এতো বড় কাণ্ড হয়ে যাচ্ছে তা জেনেও সে বিষয়ে কিছু না করে বসে থাকা এবং সেইটা মজা নিয়ে শোনা, বড়ই বেমানান। তৃতীয় লেভেলে হইলো আগামেমনন এর কাহিনী। কিন্তু শেষের দিকে সিআইডি প্রধান ভুলে বসে আছেন তিনি কে। গল্প বুঝবার জন্যে কিন্তু তিনি কয়েকবার গ্রিকমিথ শেষ করেছেন। তা এতো ভোঁতা মাথা নিয়ে কিভাবে যে সিআইডি প্রধান হলেন তার রহস্য আমার জানার প্রয়োজন খুব।

তবে হ্যাঁ এতো এতো অসংগতির মাঝেও মনে হয় নি যে ধ্যাৎ কি একটা বই পড়ছি কারণ গল্পের প্লট ভীষণ সুন্দর।

বই: অ্যাকিলিসের টেন্ডন
লেখিকা: মালিহা তাবাসসুম
প্রকাশনী: অধ্যয়ন
জনরা: মেডিকেল থ্রিলার
রেটিং: ২/৫
14 reviews1 follower
October 23, 2022
গ্রিক মিথলজির আশ্রয়ে বইটির ব্যতিক্রমী ন্যারেটিভের চেষ্টাটাকে সাধুবাদ কিন্তু বইটিতে এক��� সাথে প্মেডিকে��, সাইকোলজি, পুঁজিবাদ, নারীবাদ ইত্যাদি বিষয়ে বেশকিছু ইনফরমেশন দেওয়া,থিওরিটিক্যাল আলোচনা ও উদাহরণ টানার চেষ্টা করে সব মিলিয়ে 'ফিকশন'(থ্রিলার) বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সত্যি বলতে ইনফরমেশন গুলো ভালো লেগেছে,জেনেছি নতুন কিছু। থিওরিগুলোর উপস্থাপন প্রয়োজনীয় ও যথার্থ হলেও অনেকাংশে আরোপিত মনে হয়েছে (যেমন: পুঁজিবাদ, নারীবাদের উদাহরণ, ঘটনাগুলো স্বতঃস্ফূর্ত নয় বরং বারেবারে জোর করে উচ্চারণ করা বা টেনে আনা হচ্ছে এমন 'টোন' ছিল)। লেখকের উচিত ছিল উনি মূলত এটিকে কি হিসেবে প্রাধান্য দেবেন তা ঠিক করা।থ্রিলার বা ফিকশন হিসেবে গল্পের উপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত ছিল।গল্প খুব আকর্ষণীয় নয় বলা যাবে না কিন্তু ঐযে 'ইনফরমেশন আর থিওরি' পড়তে/জানতে গিয়ে গল্পের মজাটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে,সবমিলে খেই হারিয়ে গেছে কোনো কোনো অধ্যায়ে।লেখার ভাষাটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাবলীল হলেও হঠাৎ কোথাও কোথাও 'অপ্রয়োজনীয়' জটিল করা হয়েছে মনে হলো।

সবমিলিয়ে, মেডিকেল সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক ইনফরমেশনগুলো আর গ্রিক মিথোলজির রেফারেন্সগুলো উপভোগ করেছি বেশি,শুধু থ্রিলার হিসেবে অতোটা নয়।
Profile Image for Ahmed Shahriar.
1 review
June 2, 2022
💖🍀
গ্রীক মিথোলজির সাথে বর্তমান পুঁজিবাদীসমাজ ব্যবস্থার যে অভূতপুর্ব সমন্বয় লেখক দেখিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
লেখকের পরিপক্ক মানসিকতা আর সূক্ষ্ম জিনিস দেখার মর্মভেদী দৃষ্টিভঙ্গি তার লেখনীকে করেছে আরো প্রাণবন্ত।
বইটির মধ্যে লেখক দারুন কিছু বিষয় তুলে এনেছেন যা বেশ শিক্ষনীয় ও আনন্দের।
যেমন,,
১) Capitalismবা পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা।
২) আবরারকে হাসান সাহেবের যে অন্যয়ের সাথে আপোষ করে নেবার পরামর্শ,,,,
এ যেনো অনেকটাই সক্রেটিসকে সমাজের অসঙ্গতিগুলো মেনে নেবার মতো।
৩) শত্রুর নারীর মধ্যে নিজের সন্তান বা ভবিষ্যত প্রজন্মে নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রেখে যাওয়ার একটা আদিম জিঘাংসা।
৪) অর্থ, বিত্ত, বৈভব যখন নির্দিষ্ট Threshold পার করে ফেলে, তখন মানুষ নিজের principleগুলো ভুলে যায়, এবং নিজেকে ঈশ্বরের সমতূল্য বাবতে শুরু করে!
৫) নিজের ভিতরে অহম নামে একটা চোখের পর্দা চলে আসলে, সে তার আসল পরিবেশ দেখতে পারে না।
... এমনি আরো অনেক চমকপ্রদ অজানা বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে বইটিতে।
1 review
July 11, 2024
পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার অন্ধকার প্রকোষ্ঠে উচ্চ শ্রেণীর মানুষ যুগে যুগে ক্ষমতার নির্লজ্জ প্রদর্শনে নিচু বর্গের মানুষকে অত্যাচার ও নিপীড়নের চিরন্তন চিত্র এই বইয়ে অত্যন্ত নান্দনিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।এক গভীরতা ও সূক্ষ্মতা মিশে আছে যা মনোমুগ্ধকর।

তবে, শব্দের জটিলতাকে যদি একটু সরল করা যেত, তাহলে বোধগম্যতা সহজ হতো এবং পাঠের গতি বাড়তো। বইটি আপনার মস্তিষ্কের গভীরতম কোষে চিন্তার তীক্ষ্ণ তীর ছুড়ে দেয়। গ্রীক মিথোলজি অবলম্বনে রচিত এই মেডিকেল থ্রিলারটি এক অপূর্ব সংমিশ্রণ, যেখানে মিথোলজির স্বাদ, মেডিকেল টার্ম এবং বর্তমান সমাজব্যবস্থার গভীর বিশ্লেষণ সবই সুনিপুণভাবে মিশে গেছে। সবমিলিয়ে, বইটি একটি গভীর ও চিন্তাপ্রসূত অভিজ্ঞতা।

ফাটাফাটি ইউনিক কন্সেপ্ট এর বই ছিলো, তবে শব্দচয়ন আরেক্টু সহজ করা উচিত বলে মনে করি।


বইঃ অ্যাকিলিসের টেন্ডন
লেখকঃ মালিহা তাবাসসুম
জনরাঃ গ্রিক মিথলজি অবলম্বনে মেডিকেল থ্রিলার।
রেটিং : ৮.৫/১০ ❄️
Profile Image for Nizam Ahmed.
1 review
June 4, 2022
🍀
বেশ হাইপ তোলা বই এটি, তবে পড়তে গিয়ে একদম ই আশাহত হইনি...
কিছু জায়গায় শব্দচয়ন কঠিন লেগেছে, কিন্তু সেটা কাহিনীর প্রয়োজনেই!
Overall its a good one!
আগের বইগুলোর চেয়েও এটা অনেক দিক দিয়েই best ছিলো.
লেখক এর লেখনী দক্ষতার উত্তরোত্তর উন্নতি হোক , এটাই চাই,,,
Best wishes always.
personal opinion:- 8.5/10
Profile Image for Abanti Araf.
1 review
June 2, 2022
Great! আহবান রইলো বইটি পড়ার।
🎀❤️
একজন তরুন লেখক হিসেবে যতটুকু প্রত্যাশা ছিলো তার চেয়ে ভালো হয়েছে। লেখক মালিহা বইয়ের প্রতিটি পাতায় পাতায় চমৎকার মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন তা বলাই বাহুল্য।
বেশ উপভোগ্য ছিলো বইটি।
Amazing writing skill, want more like this ..good luck to Maliha Tabassum.
Profile Image for Afia Ritu.
1 review
June 2, 2022
'Achilles's Tendon' is a medical thriller novel surrounded by suspense, which will provide you with some thrills, adventures and craving some deep mystery.
Everyone can try this. Recommended for all to read.
Congrats and best wishes to Maliha Tabassum.
Profile Image for Ahmed Zubayer.
1 review
June 2, 2022
Good one!
As the book is a medical thriller , many unfamiliar medical terms are used in the book. So the language of the book may seem difficult to many.
But all in all , I liked the book very much.
Rating :- 8/10
Profile Image for Sun Mohammad.
1 review
June 2, 2022
মেডিক্যাল থ্রিলারের সাথে গ্রিক মিথোলজির মিশেলটা বেশ ভালো ছিলো। আর আগের বইগুলো পড়ার পর লেখকের প্রতি আস্থা অনেকাংশেই বেশি।
বিশেষ করে 'ইনফিরিওরিটি কম্প্লেক্স' এর আশাতীত সাফল্যের পর আরো একটি জমাট গল্পের প্রত্যাশাই ছিলো সবার...
All the best Maliha Tabassum. <3
Profile Image for Aparajita.
1 review
June 2, 2022
সিআইডি ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তার আবরার ফাহাদের এই অভূতপুর্ব, সাহসী অভিযানটি লেখক গ্রীক মিথের বিভিন্ন উপাখ্যান ব্যবহার করে সুন্দর ভাবে সাজিয়েছেন।
সবাইকে বইটি পড়ার আহবান রইলো।
🎀❤️
Rating: 8.5/10
Profile Image for Abir Mahmud.
1 review
June 2, 2022
Awesome! ভালো লেগেছে বইটা,,
As a fan, well wisher, wishing a prosper and healthy life.
আপনার জাদুকরী হাত এর স্পর্শে যেন বাংলা সাহিত্য কে আরো অনেক দূর নিয়ে যেতে পারেন, এই প্রত্যাশা করি...
Profile Image for Aboni Islam.
1 review
June 2, 2022
দুর্দান্ত ও ইউনিক কনসেপ্টের বই ছিলো এটি। এদেশের কোনো লেখকের কাছ থেকে এরকম টা পাবো, তা সত্যিই ভাবা যায় না...
অনেক অভিনন্দন, আপনার নির্মান দেখার অপেক্ষায়... :)
Profile Image for Afrin Sultana.
1 review
June 2, 2022
গেমের ১০ টা লেভেলই অনেক স্বাসরুদ্ধকর। লেখক নিজেও ডাক্তার বিধায় পুরো বিষয়টিই ফুটিয়ে তুলেছেন সুনিপুণভাবে।
শেষের টুইস্ট টাও অনেক চমৎকার ছিলো।
পার্সোনাল রেটিংঃ- ৮.৫/১০
Profile Image for Tasnuva Tarannum.
1 review
June 4, 2022
গতানুগতিক থ্রিলারে একটি ঘটনা, এবং তার পিছনে ছুটে চলার যে চিরায়ত ধারা আমরা দেখে থাকি, লেখিকা সূক্ষ্মভাবে সেই ধারার বাইরে বেরিয়ে এসেছেন।
Want this type of writing more and more ,,,
🌺🍀
Profile Image for বশির আহমেদ.
19 reviews
June 20, 2022
ভারী শব্দ ব্যবহার করলেই গল্প বলার স্টাইল ভালো হয় না। পাঠককে বুঝতেও হয়। প্লট ভালো, আগ্রহ জাগানিয়া। কিন্তু সে অনুযায়ী এক্সিকিউশন এত নিম্ন লেভেলের , বলার মতো না। প্লটের জোরে ৩ তারা দিলাম।
Profile Image for Al-Takvir Jisan.
15 reviews
July 14, 2022
অপ্রয়োজনীয় কথা বার্তা অনেক বেশি,উইক স্টোরি,এক বসাতে পড়ে ফেলার মত না। তারপরও শর্টকাটে গ্রিক মিথ সম্পর্কে হাল্কা ধারণা, হাল্কা কিছু জিকের জন্য পড়া যায়, উপন্যাসের রসের এক্সপেক্টেশন কম রেখে অবশ্যই।
Profile Image for Dr. Tosin Tahir.
40 reviews3 followers
August 8, 2022
গল্পের গরু আকাশে উড়ে,এখানে গল্পের ফরেনসিক স্পেশালিষ্ট ডাক্তার ফলস লেন্স এক্সট্র‍্যাকশান করে ফেলেন নিমিষের মধ্যেই।হতাশ
26 reviews
August 23, 2022
অনেক ভাল লেগেছে অনেক রহস্যময় ব্যাপার আছে বইটি তে
Displaying 1 - 30 of 41 reviews