চা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এক অনিবার্য অনুসঙ্গ এখন। কিন্তু এই চা উৎপাদনের সাথে জড়িত বিশেষ জনগোষ্ঠী সম্পর্কে আমাদের জানাশোনা, আলোচনা খুবই সীমিত। বাংলাদেশের চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক জীবনের উপর গবেষণাধর্মী কাজ বিরল। বাংলাদেশের চা শ্রমিকদের ভেতর কবীরপন্থী নামে এক বিশেষ ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর জীবনের উপর পরিচালিত নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণার ফল নিয়ে লেখা এই বই। বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ এবং চা শ্রমিকদের জীবনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় রেখে একটি ক্ষুদ্র চা শ্রমিক গোষ্ঠীর সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অবস্থার পরিবর্তনশীলতাকে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে এই বইয়ে।
Shahaduz Zaman (Bangla: শাহাদুজ্জামান) is a Medical Anthropologist, currently working with Newcastle University, UK. He writes short stories, novels, and non-fiction. He has published 25 books, and his debut collection ‘Koyekti Bihbol Galpa’ won the Mowla Brothers Literary Award in 1996. He also won Bangla Academy Literary Award in 2016.
বাংলাদেশে ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য বা নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য কম থাকলেও যা আছে, তাও আসলে বিশাল। আমরা এক জেলার ক্ষুদ্র এক মহল্লার মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠি, পড়াশোনা আর আধুনিকতর কোন মাধ্যমে এইসব বৈচিত্র্য সম্পর্কে ভাসা ভাসা জ্ঞান আহরণ করি, কিন্তু মূলে ঢুকি খুব কম। সময়, সুযোগ, আগ্রহ সবকিছুরই অভাব রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের নানা চা বাগানে আমি বহুবার গেছি। চা-শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে পত্রপত্রিকায় খবর পড়ি, দু:খ পাই, তাদের অবস্থার উন্নতি কামনা করি। ব্যস, ঐ পর্যন্তই। কখনো গভীরে গিয়ে আলোচনা করার সুযোগ হয়নি তাদের জীবনযাপন, রাজনীতি, ধর্মবিশ্বাস ইত্যাদি নিয়ে। আমার ধারণা, যারা নানা প্রয়োজনে বাগানে বসবাস করেন, তারাও খুব একটা জানেন না। যাহোক, শাহাদুজ্জামান এবং ইফতেখার মাহমুদের এই গবেষণাগ্রন্থটি নতুন করে আমাকে চা-শ্রমিকদের সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলেছে। এখানে কেবল একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কবীরপন্থী পাইনকা জাতের শ্রমিকদের। নানা উত্থান পতন, ঘাত প্রতিঘাতের মাধ্যমে এই সমাজের মানুষদের বিশ্বাস, ভাবনাতে কেমন পরিবর্তন এসেছে, কেমন তাদের ধর্মীয় এবং সামাজিক প্রথা এসব সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয়। কবীরপন্থীরা হিন্দু বা মুসলিম থেকে আলাদা হলেও অনেকে হিন্দুধর্মের একটি শাখাই ভাবেন পাইনকাদের। যদিও কবীর চেয়েছিলেন দুই ধর্মের সমন্বয় সাধন এবং তাঁর ভাবনাচিন্তা অনুসরণ করলেও সেরকমই বোধ হয়। পাইনকা বাদ দিলেও চা বাগানে আরো কত যে সমাজ রয়েছে! এছাড়াও দেশে রয়েছেন অনেক নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী। প্রত্যেকের জীবনাচরণ, দর্শন, ধর্মীয় মূল্যবোধ আলাদা। খাবার আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা। সরেজমিনে তাদের সম্পর্কে জানার কতটুকু সুযোগ হবে জানি না। সংশয়ের ব্যাপার হচ্ছে যে এই ধরনের সুলিখিত গবেষণাকাজের পরিমাণও বাংলাদেশে কমে আসছে।