এক মাসীহ্, ত্রাণকর্তা বা নেতাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে পৃথিবী। বে-ইনসাফ আর জুলুমেপূর্ণ পৃথিবীর শেষ সময়ে, তাঁর নেতৃত্বে ঘটাবে শেষ মহাযুদ্ধ। প্রধান সব ধর্মগ্রন্থগুলোর ভবিষ্যৎবাণীতে সেই মহাযুদ্ধকে বলা হয়েছে --- মালহামা, মহাপ্রলয়, আরমাগেডন।
সত্য মিথ্যার মাঝে শেষ মিমাংসা হয়ে যাবে এই যুদ্ধে।
মাসীহ্ আসবেন --
তাই আগামী পৃথিবীর শাসন কর্তৃক নিজেদের হাতে রাখার জন্য আবার্তিত হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
শুভ এবং অশুভ শক্তির মাঝে প্রাধান্য বিস্তারের গোপন লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে পৃথিবীর প্রতিটি দেশ।
প্রকাশ্য যুদ্ধের আগে এখন এই গোপন যুদ্ধটাই -- The beginning of the End.
সেই গোপন যুদ্ধের খবরটা জেনে যায় এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকার এক অনুসন্ধানী সাংবাদিক। তার পত্রিকা রিপোর্টটা ছাপেনি। উপরন্তু এক রহস্যময় সড়ক দূর্ঘটানয় মৃত্যু হয় তার।
তদন্তে নেমে এক পুলিশ অফিসার জানতে পারে এক ভয়ঙ্কর -- সত্য।
সেটা এমন এক সত্য, যে জানে, সে ডেকে আনে তার নিজের মৃত্যু।
পয়লা বৈশাখের এক কাকডাকা ভোরে জন্ম নিয়েই দেখে, বাংলাদেশে চলছে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। ফুলছড়ি, বাহাদুরাবাদ ঘাটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনির অবস্থানের ওপর যখন ইন্ডিয়ান মিগ থেকে বোমা ফেলা হচ্ছিল, তখন মুক্তিযোদ্ধা বাবার সঙ্গে বাঙ্কারে বসে শিশুটি বলছিল, 'আল্লাহ্, রক্ষা কর'—গল্পটি শিবলীর মায়ের কাছে শোনা। তখন যুদ্ধ না বুঝলেও নব্বইয়ের দশকের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের ভেতর দিয়েই তাঁর বেড়ে ওঠা। ইন্টারমিডিয়েটে পড়াকালেই স্বৈরশাসকের জেল জুলুম আর হুলিয়া মাথায় নিয়ে চলে আসেন নাটোর থেকে ঢাকায় । অভিনয়ের উপর এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স শেষে গ্রুপথিয়েটার নাট্যচক্রের সঙ্গে মঞ্চনাটকে কাজ করতে করতেই ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকেন শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমে।অভিভাবকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একদল গানপাগল তরুণ ব্যান্ড সংগীতের মাধ্যমে বাংলা গানের ধারায় যে-পরিবর্তন এনেছে, শিবলী তাদেরই অন্যতম। যুগযন্ত্রণার ক্ষ্যাপামো মজ্জাগত বলেই প্রথা ভাঙার যুদ্ধে শিবলী হয়ে ওঠেন আপাদমস্তক 'রক'। আধুনিক জীবনযন্ত্রণাগ্রস্ত তারুণ্যের ভাষাকে শিবলী উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত সহজসরল 'রক' এর ভাষায়। তাঁর সাফল্য এখানেই । তাই অল্প সময়ের মধ্যেই শিবলী পরিণত হয়েছেন এদেশের ব্যান্ড সংগীতজগতের কিংবদন্তি গীতিকবিতে । শিবলীর লেখা (প্রায় ৩০০) জনপ্রিয় গানের মধ্যে কয়েকটি: জেল থেকে বলছি | কথা-সুর: শিবলী, ফিলিংস /নগরবাউল তুমি আমার প্রথম সকাল | তপন চৌধুরী-শাকিলা জাফর কষ্ট পেতে ভালবাসি | আইয়ুব বাচ্চু (এলআরবি) হাসতে দেখো, গাইতে দেখো | আইয়ুব বাচ্চু কত কষ্টে আছি | জেমস পালাবে কোথায় | জেমস একজন বিবাগি | জেমস রাজকুমারী | আইয়ুব বাচ্চু হাজার বর্ষা রাত । সোলস পলাশী প্রান্তর। মাইলস কী ভাবে কাঁদাবে তুমি (যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে) | খালিদ (চাইম) আরও অনেক অনেক গান......... 'কমপ্লিট ম্যান' খ্যাত ঝুঁটিবাঁধা সেঞ্চুরি ফেব্রিকসের দুর্দান্ত সেই মডেল শিবলী ছিলেন তাঁর সময়ের ফ্যাশন-আইকন।তিনি একজন সফল নাট্যকার। বিটিভির যুগে তাঁর লেখা প্রথম সাড়া জাগানো নাটক 'তোমার চোখে দেখি'(১৯৯৫)। আরও লিখেছেন- রাজকুমারী, হাইওয়ে টু হেভেন, গুড সিটিজেন, নুরু মিয়া দ্যা পেইন্টার, যত দূরে থাকো, বৃষ্টি আমার মা,রান বেইবি রান,আন্ডারগ্রাউণ্ড,শহরের ভিতরে শহরসেকেন্ড চান্স,স্পন্দন,মিলিয়ন ডলার বেইবি,দ্যা ব্রিফকেস।নিজের লেখা নাটক 'রাজকুমারী'তে(১৯৯৭) মির্জা গালিব চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় এখনও অনেকের মনে থাকার কথা।শিবলীর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো 'ইচ্ছে হলে ছুঁতে পারি তোমার অভিমান' (১৯৯৫), 'তুমি আমার কষ্টগুলো সবুজ করে দাও না'(২০১০), মাথার উপরে যে শূন্যতা তার নাম আকাশ, বুকের ভেতরে যে শূন্যতা তার নাম দীর্ঘশ্বাস'(২০১৪)।বাংলা একাডেমী প্রকাশ করেছে তাঁর 'বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীত আন্দোলন'(১৯৯৭) নামে ব্যান্ড সংগীতের ওপর লিখিত প্রথম এবং একমাত্র গবেষণাধর্মী প্রবন্ধগ্রন্থ।শিবলী'র কাহিনী সংলাপ এবং চিত্রনাট্যে ও গীতিকবিতায় প্রথম পূর্ণদৈঘ্য চলচ্চিত্র 'পদ্ম পাতার জল'(২০১৫)।শিবলী'র প্রথম এবং বেস্টসেলার উপন্যাস- দারবিশ (২০১৭)।স্বভাবজাত বোহেমিয়ান, ঘুরেছেন ইউরোপে সহ পৃথিবীর পথে পথে।।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর কোনো বইয়ের পাঠপ্রতিক্রিয়া শেয়ার করার চেষ্টা করছি। কাকতালীয় ব্যাপার হলো পাঁচ বছর পূর্বে যে লেখকের পাঠপ্রতিক্রিয়া দিয়েছিলাম ঠিক পাঁচ বছর পর একই লেখকের পাঠপ্রতিক্রিয়া দেয়ার চেষ্টা করছি।
কথা বলছি লতিফুল ইসলাম শিবলীর অন্তিম বইটি নিয়ে। একজন পাঠক তখনই পাঠপ্রতিক্রিয়া শেয়ার করে যখন বইটি তার কাছে যথার্থই ভালো লাগে। অর্থাৎ আমার কাছেও বইটি বেশ ভালো লেগেছে বিধায় বইটি নিয়ে একান্ত নিজস্ব মন্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করছি।
সারসংক্ষেপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করছি না। কেননা বইটির ব্যাপারে যারা আগ্রহী তারা কিনলেই ফ্ল্যাপে প্রিভিউ পেয়ে যাবেন। বরং মূল বক্তব্যে যাই। সত্যি বলতে প্রথম কয়েক পৃষ্ঠা পড়তে আমার খুবই একঘেয়ে লেগেছে। মনে হচ্ছিল একটি ন্যাকা মেয়ে তার প্রেমিকের সাথে রঙঢং করে কথা বলছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আরও কয়েকটি পৃষ্ঠা অতিক্রম করার পর মনে হলো ১৭১ পেজের এই বইটি আমার সময় কিনে নিয়েছে। আক্ষরিক অর্থে এক বসাতেই বইটি শেষ করেছি।
আমাদের দেশ তথা এই বিশ্বে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে লেখক বইটিতে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন। হয়তো অনেকে বলবেন বইটি পলিটিকাল থ্রিলার জনরার অথবা মার্ডার মিষ্ট্রি। কিন্তু আমার কাছে এ যেন সত্য উপস্থাপনের জন্য এক বান্ডিল কাগজের যথার্থ ব্যবহার। আস্তিক, নাস্তিক নির্বিশেষে সবাই একটি কথা স্বীকার করবেন যে এই পৃথিবী এখন চরম অস্থিরতার অবস্থায় আছে। এই অস্থিরতার মূল বিষয় 'ক্ষমতা'। প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী ক্ষমতাবানরা টিকে থাকবে আর ক্ষমতাসীনরা খেলার মাঠ থেকে হারিয়ে যাবে। কিন্তু ক্ষমতার এই লড়াইয়ে কে কখন কোন আসন গ্রহণ করে সেটা সত্যই বলা মুশকিল।
যদি বইটা একজন মুসলিম হিসাবে দেখি তবে এখানে আছে খুবই শক্তিশালী একটা ম্যাসেজ, যা মুসলিমরা ভুলে গিয়েছে বা ভুলে থাকার ভান করছে। তবে এর মধ্যেও ইসলামের আলোকে আলোকিত এমন কিছু মুসলিম আছেন যারা এই সত্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং এই সত্য প্রকাশ বা প্রচারে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একজন মুসলিমের ধর্ম মানে নামাজ, রোজা, ঈদ পালন শুধুমাত্র এইগুলোই না বরং তাদের ধর্ম হলো তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন। ইসলাম ধর্ম মানেই ২৪ ঘন্টার আমল। নিজের চরিত্রের সর্বোচ্চ বিকাশ যার দিক নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন এই ধর্মের পথপ্রদর্শক মোহাম্মদ (সাঃ)। যেখানে ঘুষ, সুদ, অত্যাচার ইত্যাদি এসবকিছু হারাম করা হয়েছে। আর এখানেই পুঁজিবাদিদের সাথে ইসলামের সংঘাত।
যদি বইটি একজন নাস্তিক হিসাবে দেখি তবে তারাও এই অস্থিরতা বা ক্ষমতার লড়াইয়ের ব্যাপারটা উপেক্ষা করতে পারবে না। উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশগুলোতে কতটুকু গণতন্ত্র আছে? কতটুকু সার্বভৌমত্ব আছে? কতটুকু বাকস্বাধীনতা আছে? ধর্মীয় দিকগুলো যদি বাদ দেওয়া হয় তারপরও নিজের মত প্রকাশের অধিকার কি সত্যি আছে?
বইটা যদি দেখি একজন ধর্ম ব্যবসায়ি অর্থাৎ যারা কিনা যে ধর্মেরই হোক না কেন কিন্তু নিজেদের ধর্মের খোলসে স্বার্থের চরম সীমানায় পৌঁছে গিয়েছে।তাদেরকে যে থমকে যেতে হবে!! কারণ ক্ষমতার এই লড়াই তো তাদেরই। এরা যেন কোনো রক্ত মাংসের মানুষ নয়। এরা হলো শক্তিশালী এক ছায়া। যারা ধরাছোঁয়ার বাইরে।
বইটিকে আমি কখনই ফিকশন বলবো না। এই বই বর্তমান পৃথিবীর এক চিত্র যেন। লেখকের সাহসের তারিফ করতেই হয়। উনি যেন বইয়ের কল্পিত চরিত্র আফজাল বা জামানের মতো সাহসী এবং নির্ভীক। যে ট্রেন্ডের বাইরে যেয়ে সম্পূর্ণ নতুন এবং আনএক্সেপ্টেবল একটি বিষয় তুলে ধরেছেন।
বই নিয়ে তো অনেক কথা হলো এখন লেখক লতিফুল ইসলাম শিবলী ভাইয়ের ব্যাপারে দুকলম লিখতে ইচ্ছা করছে। ব্যক্তিগতভাবে ওনাকে আমি চিনি না। যতটুকু জানি উনার মিডিয়া উপস্থিতি অর্থাৎ ওনার গীতিকাব্য, কবিতা, বই, নাটক বা ইলেট্রনিক্স মিডিয়ায় সরব উপস্থিতির মাধ্যমে। এছাড়া ফেসবুক আমাদেরকে খুব দূরের মানুষের সামান্য ছায়া দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। সুতরাং বলা যায় ফেসবুকে আমি ওনার একজন ফলোয়ার। হয়তো কমেন্ট বা রিয়েকশন খুব কম দেওয়া হয় কিন্তু ওনার সব লেখালেখি আমি মনযোগ দিয়েই পড়ি। সত্যি বলতে ফেসবুকের সত্যমিথ্যার জগতে ওনাকে আমার ফেক মনে হয় না। সাহসী এবং দায়িত্বশীল একজন মানুষ মনে হয়। শিবলী ভাই আপনার জন্য শুভকামনা, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা নিরন্তর।
১) প্রথম ১০-২০ পৃষ্ঠা পড়বার পর একেবারেই পেজ টার্নার একটা বই। একদম গোগ্রাসে গিলেছি। ২) বাংলাদেশের বুকে এমন অনেক কিছু ঘটে এবং ঘটছে, যা একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে জানা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। লেখক এখানে সে বিষয়টাই জানাবার চেষ্টা করেছেন পাঠকদের। বলা যায় বেশ সাহসী একটা পদক্ষেপ। ৩) লতিফুল ইসলাম শিবলীর বই পড়া মানেই ধর্মকে আরও একবার নতুন করে জানতে চেষ্টা করা। লতিফুল ইসলাম কাউকে ধার্মিক বানাবার মিশন নিয়ে নামেননি হয়ত, কিন্তু তার বই পড়লে অন্তত একজনও নতুন করে ধর্মের প্রতি অনুরক্ত হবেই। ৪) কিছু কিছু বানান ভুল ছিল, যেটা ইগ্নোর করাই যায়। ৫) দ্বিতীয় খণ্ড আসবে কিনা, তা জানা নেই। বইয়ের শেষে অন্তত সে ইঙ্গিতই পেয়েছি। ৬) আমার কাছে বইয়ের সেরা চরিত্র ইমাম সাহেব...
লেখকের দূর্দান্ত লিখনশৈলীতে এ বইটিও একদম শ্বাসরুদ্ধকর পেজ টার্নার একটি বই। দেশীয় প্রেক্ষাপটে কন্সপিরেসী থিওরি নিয়ে লেখা বই, যেটাকে লেখক বলছেন 'Fiction based on fact'. ফ্যাক্ট কতটুকু আছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ইসলামকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখাটা এ বইতেও ছিলো। দ্বিতীয় খন্ড আসার সুস্পষ্ট আভাস পেয়েছি কারণ এ বইতে বলতে গেলে মূল ক্রাইসিসেরই কোন সুরাহা হয়নি। যারা ইতোমধ্যে আসমান, দারবিশ পড়েছেন তারা নিঃসন্দেহে এ বইটি হাতে নিতে পারেন। আসমানকে ছাডিয়ে না গেলেও বর্তমান সময়ের অন্যান্য থ্রিলারের চাইতে কোন অংশে কম না লতিফুল ইসলাম শিবলীর 'অন্তিম'।
কতদিন পর একবারে বসে একটা বই শেষ করলাম জানি না। লেখকের প্রথম পড়েছিলাম আসমান। সবার এত এত রিভিউ দেখে পড়ার পর আহামরি কিছু ভালো লাগেনি। অন্তিম নিয়ে এত হৈচৈ দেখেও এতদিন পড়ার আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। এখন শেষ করে যে অনুভূতি হচ্ছে তা বলে বোঝানোর ভাষা আমার জানা নেই! লতিফুল ইসলাম শিবলী ধর্মীয় বই লেখেন তা বলব না। তবে ওনার লেখা পড়ে ধর্ম নয়, দ্বীন নিয়ে যে পাঠক একটু হলেও চিন্তা করবে সেটা আমি বিশ্বাস করি।
রিভিউ দেওয়ার দক্ষতা আমার নেই। পড়ে নিজের অভিব্যক্তি কেমন ছিল তা পরবর্তীতে মনে করার জন্য লিখে রাখলাম।
কিছু একটা লেখা উচিৎ! কিন্তু ভেবে পাচ্ছি না কী লিখব! রাগ, ভয়, আনন্দ, কষ্ট সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেলো! প্লিজ এটা পড়ুন — নিছক কোনো ফিকশন মনে হচ্ছে না এটা!
দ্বিতীয় খন্ড খুউব দরকার বইটার। 🖤 বইটা আরও বড় হলে ভালো হতো বোধহয়। ইসলাম, শেষ- জামানা, ধর্মনিরপেক্ষতা, সত্যিকারের ধর্ম, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব - এইসব নিয়ে সরল সোজা কিছু আলোচনা বেশ ভালো লাগলো।
" এটা তো মানুষকে বিশ্বাস করানো কঠিন যে, পৃথিবী ধ্বংসের শেষ প্রান্তে। ' কেয়ামত আর বেশি দূরে নয় ', এ জাতীয় কথা মানুষের কাছে রূপকথার মতো মনে হবে। আমি যদি আমার রিপোর্টে লিখি যে, কেয়ামতের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে একদল লোক এদেশের ক্ষমতা দখল করতে চায়, তাহলে সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। "
" আমাদের জানা আর বিশ্বাসের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। আমরা জানি কিন্তু বিশ্বাস করি না, আমাদের জীবনযাত্রা বিশ্বাসের অনুগামী নয়। কিন্তু অন্যরা যা বিশ্বাস করে সেই৷ অনুযায়ী জীবনযাপন করে বলেই লিডারশীপ তাদের হাতে।
অসম্ভব সুন্দর একটা বই।ফিকশনের ভেতরে ননফিকশন। উপন্যাসের আড়ালে বাস্তবতা।মনের গহীনে থাকা অনেক প্রশ্নের উত্তর।এইসব মিলিয়েই এই বই।খামতির জায়গাটুকু বললে বইটা আরো অনেক বড় পরিসরে লেখা যেতো। প্লট,কাহিনীর বিন্যাস সব একদম ফ্লোলেস ভাবে এগিয়ে ধুম করে শেষ হয়ে গেলো এমন একটা ফিলিংস হয়েছে।রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সেই উপমার মতো-"শেষ হইয়াও হইলো না শেষ"। ঠিক বোঝাতে পারছি কিনা জানিনা, ব্যাপারটা হলো একটা গল্পের অর্ধেক লিখা হয়েছে বাকী অর্ধেক নেই,কিন্তু ওই অর্ধেকে কোনো প্রশ্নও বাকি রাখা হয় নাই।অর্থ্যাৎ এটা যে সমাপ্তি নয় সে দাবী ও আপনি করতে পারছেন না।এই ব্যাপারটুকু ছাড়া গল্প এগিয়েছে তার নিজের গতিতে।শিবলী সাহেবের বাকী বইগুলোর মতো এটাই পেজ টার্নার। শুরুর ১০-২০ পেইজ পর আর রেখে উঠা যায় না।কোন এক অদমনীয় কৌতুহল আটকে রাখে বইয়ের সাথে পাঠককে।লেখকের আরো বই পাঠের আশায় থাকলাম।
বইটা হুট করে শেষ হওয়াতে খুব বিরক্ত লাগছে । মনে হচ্ছে বই এর পেছনের কিছু পিষ্ঠা নেই । এমন মনে হচ্ছে আফজাল প্রতিশোধ নিলে বা মারা গেলে ভালো হতো । যাগ গে the end of the beginning. It just a fact based fictional BOOK.📚
অন্তিম: বিস্ময়কর সত্যের উপাখ্যান ▫ “আমাদের জানা আর বিশ্বাসের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। আমরা জানি কিন্তু বিশ্বাস করি না, আমাদের জীবনযাত্রা বিশ্বাসের অনুগামী নয়। কিন্তু অন্যরা যা বিশ্বাস করে সে অনুযায়ী জীবনযাপন করে বলেই লিডারশীপ তাদের হাতে।”
পৃথিবীজুড়ে এখন ক্ষমতার লড়াই চলছে; আমরা যে লড়াই দেখছি তার অন্তরালে চলছে আরেক লড়াই। সে লড়াইয়ে প্রত্যেকে নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে চাই, এ লড়াই একজন নেতাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি। “একজন মসীহ, ত্রাণকর্তা বা নেতাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে পৃথিবী। বে-ইনসাফ আর জুলুমেপূর্ণ পৃথিবীর শেষ সময়ে, তাঁর নেতৃত্বে ঘটবে শেষ মহাযুদ্ধ। প্রধান সব ধর্মগ্রন্থগুলোর ভবিষ্যৎবাণীতে সেই মহাযুদ্ধকে বলা হয়েছে— মালহামা, মহাপ্রলয়, আরমাগেডন।” অন্তরালে যে গোপন লড়াই চলছে তাকে বলছেন লেখক, ‘The beginning of the end’.
ইতিহাসে দেখা যায়, কোন অঞ্চল দখলের পর সমকালীন সবল জাতিরা দুর্বল জাতিদের নিজেদের গোলামে পরিণত করে। কিন্তু গোলামির পোষাকে একটি জাতি চিরকাল থাকে নি। যখনই সবল শক্তির ক্ষমতার সূর্য অস্তমিত হয় তখনই গোলামির জিঞ্জির ভেঙে বের হয়ে আসে তারা। তবে এই আধুনিককালে সবল কিছু গোষ্ঠী পৃথিবীর অন্যান্যদের এমন এক গোলামির জিঞ্জিরে আটকে রেখেছে যেখানে তারা নিজেদের গোলামীটা নিজেরাই বুঝতে পারে না। কোন মাটির উপর উপনিবেশ তৈরি না করে তারা চিন্তার জগতে বিশাল উপনিবেশ গড়েছে। এই গোলামি এতটা জঘন্য যে বছরের পর বছর গোপন আস্তানায় বাদশার পরিবর্তন ঘটলেও এদের গোলামি শেষ হয় না। কেউ যদি মানসিক গোলামির জিঞ্জিরে আটকে পড়ে তবে তার নিজের মতো চিন্তা করার যোগ্যতা সে হারিয়ে ফেলে। ধর্মের পোষাকে তারা ধর্মহীনতার চর্চা করে। তবুও সেটুকু চিন্তার ক্ষমতা বাকিরা গোলামির ঘোরে হারিয়ে ফেলে। গোলামির বিষক্রিয়া মহাসত্য পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয় না; তাদেরই করা চিন্তাকে সবাই সাদরে গ্রহণ করে যদিও সেটা নিজেদের স্ববিরোধী হয়। কোন সে দল, কোন সে মহাসত্য সবকিছুর অন্তরালে কাজ করছে? তা নিয়ে এই উপন্যাস The fiction based on fact.
লেখক আসেম ওমর তার ‘মাহদী ও দাজ্জাল’ গ্রন্থে আলোচনা করেন, পৃথিবীতে এমনকিছু গোপন সংগঠন আছে যেগুলো কাজ করে ইহুদিদের ফায়দার জন্য কিন্তু সেখানের সদস্য হয়ে কাজ করে মুসলিমরা। যদি কেউ সে সত্য বুঝে তার বিরোধীতা করে বা উন্মোচন করতে চাই সেই সত্য তখন তাকে বানিয়ে দেয়া হয় ‘আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষ’। অন্তিম উপন্যাসে জামান ও আফজালের বিরুদ্ধে সেটা দেখা যায়। যখনই তারা সত্য জানতে পারে পুরো সিস্টেমকে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয় তাদের বিরুদ্ধে।
২. “অদৃশ্য স্রষ্টার যেমন একটা ধর্ম আছে, অদৃশ্য শয়তানেরও একটা ধর্ম আছে। দুজনই মানুষের আনুগত্য চায়। এই আনুগত্যটাই ধর্ম।”
‘অন্তিম’ উপন্যাসে গল্পে গল্পে লেখক দেখিয়েছেন বর্তমান বিশ্বের পারিপার্শ্বিক অবস্থা। একের পর একের ঘটে যাওয়া হত্যা এনে দেয় থ্রিলারের স্বাদ। এখানে দুটি গল্প একটির শেষে আরেকটি শুরু হয় যার যোগসূত্রের প্রধান দুটি চরিত্র আশু ও পিয়েতা। দ্বিতীয় গল্প যে চরিত্রকে ঘিরে আবর্তিত হয় তার অবস্থান থাকে সেখানে। প্রধান চরিত্রের হঠাৎ পরিবর্তন চমৎকার এক টুইস্ট। অনুসন্ধানী সাংবাদিকের রিপোর্ট এক পুলিশ অফিসারে তদন্ত। যেই আসে সত্য জানতে তার মৃত্যু নিয়ে খেলা শুরু।
শেষ জমানায় একজন মসীহ, ত্রাণকর্তা বা নেতা আসছেন তার প্রস্তুতি চলছে। সব ধর্মের সব মানুষ তার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেউ জান্তে কেউ অজান্তে। সেই প্রস্তুতির জন্য চলছে গোপনে এক মহা লড়াই যেখানে সবাই অংশগ্রহণ করছে কেউ নিরপেক্ষ নেই সবাই একেক পক্ষে লড়ছে। শুরু হয়ে গেছে ‘শেষের শুরু’। ‘শেষের শুরু’র বিস্ময়কর সত্য জানে না অনেকে। গোপন সে লড়াইয়ের খবর জানতে পারে বাংলাদেশের জনপ্রিয় পত্রিকার অনুসন্ধানী এক সাংবাদিক। সেই মহাযুদ্ধের জন্য গোপন যুদ্ধের রিপোর্ট পৌঁছে তার একান্ত বিশ্বাসযোগ্য সম্পাদক ‘রাইজিং বাংলাদেশ’ এর সম্পাদকের হাতে। অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে আসে বাংলাদেশের মান্যগণ্য অনেকের নাম। হঠাৎ করেই একদিন রোড এক্সিডেন্টে রহস্যময় মৃত্যু ��টে তার। বাইকের গতির মতো গতিময় জীবন হঠাৎ থেমে যায়।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এর অফিসার যখন তদন্তে নামে তার সামনে স্পষ্ট হয় এক ভয়ঙ্কর সত্য। সত্য, যে সত্য মৃত্যু ডাকে। সেই সত্য তাকে নিয়ে যায় দীর্ঘ এক সফরে।
উপন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ এক চরিত্রের হত্যা এবং গল্পের প্রধান যোগসূত্র এক রহস্যের সঙ্গে আটকে থাকে। যে রহস্যের ভারে অফিসারের উপর আসে এক ঝড়, দেখা যাক সে ঝড়ে সে টিকে থাকে না ছিটকে পড়ে!
‘অন্তিম’ এর গল্পে প্রেম, বিচ্ছেদ, গুপ্তহত্যা, নাটকীয়তা, অনুসন্ধান, গোয়েন্দাগিরি ও প্রতিশোধের উপর ভর করে এসেছে বিশ্বের অদ্ভুত সত্য, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বেড়াজাল। গল্পের একদিকে তরুণরা ডুবে থাকে মাদকে অন্যদিকে উন্মোচিত হয় ধর্মীয় বাস্তবতা। ধর্মের ইতিবাচক আলাপে সিক্ত হয় কঠিন হৃদয়।
লেখকের ‘আসমান’ উপন্যাসের মতো ‘অন্তিম’এর ইমাম চরিত্রটি বেশ ইন্টারেস্টিং। জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ভালোবাসায় পূর্ণ যার হৃদয়। আসমান ও অন্তিমের ইমাম চরিত্রে বেশকিছু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ইমাম বলেন, “জ্ঞানই আলো। শেষ জামানার ফেতনা থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে, জ্ঞানী হতে হবে, সেই জ্ঞানই পারবে আপনাকে এই ফেতনার অন্ধকার থেকে মুক্তি দিতে।” ইসলাম যে কতটুকু উন্নত চিন্তা করতে শিক্ষা দেয় তা ইমামকে দেখলে বুঝা যায়। উনার সাথে ঘটে বেশ কাকতালীয় কিছু ব্যাপার। উনার কথায় ঝড়ে মধু, কথাগুলো যেন হৃদয় কেড়ে নেয় মূহুর্তে, ভিন্ন এক চিন্তারজগতে পথ চলতে শেখায় “রাতজাগা মানুষ গভীর অন্ধকার রাতে আকাশের দিকে তাকালে যেভাবে তারাদের জ্বলতে দেখে, ঠিক একইভাবে আসমানবাসীরা আসমান থেকে প্রার্থনারত পৃথিবীর মানুষদের এভাবে জ্বলতে দেখে।”
গল্পের শেষে মনে হয় আরও গল্প বাকি আছে। গল্পে গুরুত্বপূর্ণ এক চরিত্রকে দেশ ছেড়ে যেতে দেখা যায়; যেখানে সেই দেশ ছাড়াকে দেখানো হয় পুনঃ শক্তিলাভের হিজরত হিসাবে। যেটা নৈরাশ্যের নয় বরং ফিরে এসে নতুন শুরুর। গল্পের ছলে এখানে রয়েছে বাস্তবতা। মানুষের মুসাফিরি জিন্দেগীর সফরের বিভিন্ন পথের গল্প। কোন পথ আলোকিত, কোন পথ অন্ধকারাচ্ছন্ন, মানুষের অন্তরালে কোন পথ ভয়ঙ্কর ও বিস্ময়কর।
৩. ভবিষৎ পৃথিবীর শাসন কর্তৃত্ব নিজেদের আয়ত্বে ধরে রেখে বাকি পৃথিবীকে নিজেদের ইচ্ছেমতো কন্ট্রোল করতে বিশ্ব রাজনীতি, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সব কর্মকাণ্ড আবর্তিত হচ্ছে। হক ও বাতিলের মহাযুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক যুদ্ধ চলছে অন্তরালে। গল্পের ছলে কৌশলে সেই যুদ্ধের সত্যতা ও বাস্তবতা দেখানো হয়েছে এই উপন্যাসে। লতিফুল ইসলাম শিবলীর লেখার মধ্যে এটা আমার পড়া দ্বিতীয় বই। প্রথমে পড়েছিলাম ‘আসমান’। দুই বইয়ের মধ্যে বিশ্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনেক সমন্বয় আছে। ‘অন্তিম’ চিন্তাজগতে এক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সত্য পাঠের এখানে শুরু, জানার এক আন্দোলন সৃষ্টি হয় মনে। মন ও মস্তিষ্ক হয়ে উঠে অনুসন্ধানী।
‘অন্তিম’ ফিকশনের সাথে অনেক বড় এক ফ্যাক্ট। যে সত্যে নিদ্রা ছেড়ে জাগিয়ে তোলার, উজ্জীবিত হয় হৃদয়। মানসিক গোলামির জিঞ্জির ভেঙে যে চিন্তায় স্বাধীন হতে বলবে। ‘অন্তিম’ এমন এক বৃক্ষ যেখানে ডালগুলো গল্প এবং প্রতিটি ডালে পাতা রূপে ঝুলছে বাস্তবতা। ▫ ▪বই: অন্তিম ▪লেখক: Latiful Islam Shibli ▪ধরন: উপন্যাস ▪প্রচ্ছদ: মাজহারুল ইসলাম শুভ ▪প্রকাশক: নালন্দা ▪মুদ্রিত মূল্য: ৳৪০০ __________________ খোবাইব হামদান | #পাঠপর্যালোচনা ১৪ বৈশাখ ১৪২৯ | চাঁনখালী, চট্টগ্রাম
শিবলী ভাইয়ের লেখার ব্যাপারে আমার বেশ ভালো ধারণা আছে। বিভিন্ন বিষয় দারুণভাবে মিক্সড করে লিখেন। চরিত্রগুলোও মুন্সিয়ানার সাথেই ফুটিয়ে তুলেন। এখানেও এর হেরফের হয়নি। এই প্লটটা ছিল রাজনীতি, ক্রাইম, মিস্ট্রি আর সাসপেন্সে ভরপুর। যেখানে দারুণ কিছু ক্যারেক্টারেরও মেলাবন্ধন ঘটেছে। স্মুথ লেখা। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাওয়ার মতো। এন্ডিং এ বেশ কিছু মিস্ট্রি সলভ হলেও আরও কিছু রয়ে গেছে। ২য় পার্ট আশার স্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ২য় পার্টের অপেক্ষায় রইলাম
মসীয়াহ আসছেন। আগমন ঘটছে ত্রাণকর্তার। পৃথিবীর প্রায় সকল প্রধান ধর্মগ্রন্থেই আছে এই বাণী। ভাষায় ভিন্নতা আছে কিন্তু কেয়ামত, মহাপ্রলয় বা আরমাগেডনের ভবিষ্যৎবানী আছে।
যে ধর্মে যে নামেই ডাকা হোক না কেন সেই উদ্ধারকর্তার বিপরীতে আছে এন্টি-উদ্ধারকর্তা এবং তার ষড়যন্ত্র। পৃথিবীর মহাশক্তি এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রগুলো ভবিষ্যতের এই ঝড় সামলাতে প্রস্তুত হচ্ছেন। মিডিয়া, এন্টারটেইমেন্ট, অর্থনীতি, রাজনীতি, জিওপলিটিক্স, এবং আরো অনেক ফ্যাক্টরকে সাজানো হচ্ছে কোন এক একক শক্তির অধীন করতে।
"We ride to storm"
এই শ্লোগানে মুখরিত বাংলাদেশের বিখ্যাত এবং সমাজসেবামূলক একটি বাইকার গ্রুপ। সংক্ষেপে যাদের বিটিএস বলে ডাকা হয়। কিন্তু এই স্টর্ম কিসের উদ্দেশ্যে? বিশ্বজুড়ে ক্যাওস সৃষ্টি করার জন্যে নয় তো?
বিখ্যাত সমরবিদ এবং দার্শনিক সান জু বলেছিলেন নৈরাজ্যের মধ্যে সুযোগ নিহিত। বর্তমান বিশ্বপ্রেক্ষাপটে কোন শক্তি নিতে পারবে এই গোল্ডেন অপরচুনিটি?
ঘটনাচক্রে জামান জড়িয়ে যান ঐ বাইকার গ্রুপের সাথে। আদতেই কি এটি একটি বাইকার গ্রুপ নাকি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত ক্ষমতাধর একটি কাল্ট?
ঘটে যায় এক দূর্ভাগ্যজনক ঘটনা। তদন্তে নেমে যান স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আহমদ আফজাল। বিশ্বে অনেক গুপ্তসঙ্ঘের নাম শুনা যায়। এসব সঙ্ঘগুলো নিয়ে আছে নানা মুখরোচক কাহিনী। তবে গুপ্তসঙ্ঘই যদি হয় তাহলে তাদের পরিচয় গুপ্ত নয় কেন? নাকি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার এটি একটি প্রচেষ্টা মাত্র?
গল্প প্রথম ২০ পৃষ্ঠা পড়ার পর অত্যন্ত ফাস্ট রিড স্টোরিতে পরিণত হয়। আমি লিট্যারালি এক বসায় পড়েছি। প্লটে প্রথমেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যায়? নাকি যায় না? লেখক ক্লিফহ্যাঙ্গারের পর ক্লিফহ্যাঙ্গার এবং কথায় কথায় চমকের ধার ধারেননি। তিনি যেন পাঠকের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যে, "দেখেন, টুইস্ট, ক্লিফহ্যাঙ্গার বা মারাত্মক একশন সিক্যুয়্যান্স ছাড়া আপনাকে আমি কিভাবে এই বইয়ে আটকে রাখি?"
বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারি লতিফুল ইসলাম শিবলী কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস, গবেষণা গ্রন্থ, ইংলিশ নভেল, অভিনয়, চলচ্চিত্র সংলাপ এবং কাহিনী কোথায় পদচারণা করেননি! নিজের দেশ-বিদেশ ভ্রমণ এবং সমৃদ্ধ লেখনীর কারণে অসাধারণ কোন প্লট ছাড়াই দুর্দান্ত স্টোরিটেলিং করে গেছেন এই আখ্যানে। এই থ্রিলারে অবশ্য ধর্ম এবং তৎসংক্রান্ত থিওলজি নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আছে। কিছু বিষয় বেশ স্পর্শকাতর।
ফিকশন হলেও ভূবাস্তবতার বিভিন্ন দ্বন্দ্ব এবং নৈরাজ্য এই স্টোরিতে চলে এসেছে। জায়োনিজম, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি, স্যাকুলারিজমের মুখোশের অন্তরালে ভিন্ন ঘটনা, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের বিষয় ফুটে উঠেছে শক্তিশালী এই গদ্যকারের লেখালেখিতে। আরো চলে এসেছে অনেক নির্মম বাস্তবতার কথা। সবচেয়ে বড় ক্রেডিট দিতে চাই তার ঝরঝরে ভাষার প্রতি। লেখকের সকল অধিকার আছে তার নিজস্ব ধ্যানধারণা এবং বিশ্বাস অনুসারে লিখার। তবে এই থ্রিলার আখ্যানে তার লেখার মধ্যে একটি পরিচয়বাদি মানসিকতার স্পষ্ট দেখা পেয়েছি। অবশ্য লেখক সুকৌশলে কিছু ব্যাপার পাঠকের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। এন্ডিংটা একটু রাশড মনে হয়েছে।
তবে এই বই পড়ে আবারো মনে হয়েছে বাস্তবতা, ফিকশন এবং মিথে আসলে তেমন একটা পার্থক্য নেই।
বই - অন্তিম (The Beginning of the End) লেখক - লতিফুল ইসলাম শিবলী প্রকাশনী - নালন্দা পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৭১
গল্প সংক্ষেপ :
ধনী দুলালদের বাইকার গ্রুপ বিটিএস এর আড়ালে চলে ড্রাগস ব্যবসা। সাথে পরিবেশ বাদী আন্দোলনের নামে চলে শয়তানের পূজা। এসবের পিছনে আছে বিশ্বের বড় বড় নেতাদের গোপন সংঘ। সেই সংঘের শাখা বাংলাদেশেও রয়েছে । যার সদস্য দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতা, নামকরা তারকারা, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, আরও অনেকেই।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামান ঘটনাক্রমে খোঁজ পেয়ে যায় বাংলাদেশী সদস্যেদের। এরপর আর কি, যথারীতি বাংলাদেশে যা হয় তাই। এক্সিডেন্ট এর নাম করে মেরে ফেলা হয় তাকে।
এরপর আসে পিবিআই অফিসার আফজাল। জোরেশোরে চলে তদন্ত। খুঁজে পায় কামরাঙ্গীর চরের এক ঈমাম কে। যে ইমামের সাথে জামানের ও যোগাযোগ ছিল। ইমামের কাছেই জানতে পারে এসব গুপ্ত সংঘের মূল লক্ষ্য কি। তারা আসলে কি করতে চাইছে। এরপর একে একে খুঁজে বের করে অনেক রহস্য। জামানের খুনিকেও শনাক্ত করে ফেলে । তারপর, তারপর আবার আফজাল কে হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু আফজাল দমে যায় না। তাহলে কি গুপ্ত সংঘের সদস্যরা হার মানবে?
আরে নাহ! তা আবার হয় নাকি। জামানের খুনিকে কৌশলে মেরে ফেলে দোষ দেওয়া হয় আফজালের কাধেঁ। পালিয়ে যায় আফজাল। না ঠিক পালানো বলে না এটাকে। ইমাম সাহেবের ভাষায়
"এই লড়াইয়ে আমরা পালাচ্ছি না। নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করার জন্য সাময়িক পিছু হটছি। এটা পলায়ন না, এটার নাম হিজরত।"
বস্তুত বইটিতে ইহুদি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শেষ যামানার প্রস্তুতিকে সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে। মুসলিম বাদে সব ধর্মের অনুসারীরা তাদের প্রস্তুতি জোরেশোরে নিচ্ছে। তারা বিভিন্ন কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছে। ধর্ম বিদ্ধেষী না হয়ে ধর্মকে সহানুভূতির চোখে রেখে ধর্ম নিরপেক্ষতা কে উস্কে দিচ্ছে। তারা শব্দের খেলায় মুসলিমদের পরাজিত করছে। যেমনটা নবী করীম সাঃ ভবিষ্ৎবাণী করেছিলেন।
এর উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়, গত দুই দশকের চলমান তথাকথিত জঙ্গি নামে মুসলিম নিধন। ইরান, সিরিয়া, আফানিস্তান, আর সবশেষ ফিলিস্তিন যেখানে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে ইহুদীদের একত্রিত করে দাজ্জালের আগমনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। এদিকে মুসলিমরা তাদের অত্যাচার সহ্য করেও নিজেদের একত্রিত করতে পারছে না। আজ আমরা একত্রিত হতে না পারার দারুন তারা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। জানি না আমরা মুসলিমরা কবে এই অন্তিম সময়ের প্রস্তুতি নিবো?
বইয়ের প্রচ্ছদের ঠিক নীচের দিকের লেখাটায় পুরো বই। পুরো বইয়ের বিষয়বস্তু বইয়ের ওই লাইনের ওপর শুরু এবং শেষ। ওই ছোট লেখাটা একজন পাঠককে বইটা পড়তে আগ্রহী করে তুলবে। পাঠক যখন প্রচ্ছদ দেখে বইটা পড়তে শুরু করবে তখন হাত থেকে বইটা নামবে না। এটাই প্রচ্ছদের আর্কষন ও অন্যান্য।
▪️বই নিয়ে আলোচনা।
বেশ চমৎকার একটা বই। আলোচনা ও বিষয়বস্তু প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সময় মানুষ যে বিষয়সমূহ থেকে গাফেল। সে বিষয়কে লেখক পাঠকদের হাতে তুলে দিয়েছেন। সুন্দর ঘটনার ভিতর দিয়ে।
গল্পের মোড়ে রেখেছেন রহস্যময় টুইস্ট। একজন পাঠক কখনোই এই রহস্যময় ঘটনার উত্থান পতন এবং গল্পের এই ধারাবাহিকতার স্বাদ নষ্ট করতে দিবে না। একনাগাড়ে পড়ে সে পড়বে। শেষ করে এমনটাও বলতে পারে অহ হো আরো একটু হতো অথবা আরো একটু ধীরে ধীরে যদি শেষ করতাম।
▪️আমার ভালোলাগা।
আমার নিজের কথা বলতে গেলে সকাল থেকে বিকেল পাঁচটার দিকে শেষ করেছি। সকালে কিছু সময় ব্রেক নিয়ে দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা এই সময়ে একনাগাড়ে পড়ে শেষ করেছি। এতো কম সময়ে ও খুব দ্রুত আমি কখনো বই শেষ করি না। ধীরে ধীরে পড়া আমার অভ্যাস। কিন্তু, বইটা হাতে নেয়ার পর থেকে আসলে অনুভূতিটা বলার মতো না।
▪️একজন পাঠক কেনো পড়বে?
যাদের কিয়ামত, তৃতীয় বিশ্ব*যু*দ্ধ, ই*লুমি না তি, ইহুদি জায়ানিস্ট নিয়ে জানা আছে। তারা বইটি পড়ে আনন্দ পাবে। পাশাপাশি যারা এসব সম্পর্কে মোটেও জানে না। তারাও স্বাচ্ছন্দ্যে বইটি পড়তে পারবে। এবং জানতে পারবে বর্তমান বিশ্ব কোনদিকে এগোচ্ছে।
পৃথিবীতে অনেক ধর্মের অবস্থান রয়েছে। তন্মধ্যে মুসলিম, খৃষ্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ। এই চারটি ধর্ম মানুষ মনে করে প্রধান বা এই চার ধর্মের অনুসারী অনেক। তো, ধর্মীয় দিক থেকে সবার ধারণা, বিশ্বাস তাদের সকলের ধর্মে কিয়ামতের পূর্বে সকল ধর্মের মসীহরা আসবে। মিথ্যা মুছে দিবে, সত্যকে উন্মোচিত করবে।
হুজুর সা: বলেছেন আমি ও কিয়ামত একসাথে এসেছি। হুজুর সা: আপনা শাহাদাত আঙুল ও মধ্যমা আঙুলকে একসাথে করে দেখিয়েছেন। (মুসলিম)
তো এখনই সে সময়! অর্থাৎ শেষ যুগ।
সর্বশেষ কথা, বাংলাদেশে কারা গডস ম্যানের অনুসারী?
The Beginning of the End
•বই– অন্তিম। •লেখক– লতিফুল ইসলাম শিবলী। •জনরা – উপন্যাস / ডকুমেন্টারি উপন্যাস। •প্রকাশনা – নালন্দা।
প্রথমেই বলে রাখি এই বইটা খুবই গভীর আর সেনসেটিভ অনেক বিষয় নিয়ে লিখা।বই থেকে অনেক অজানা বিষয় নিয়ে আমরা জানতে পারি। ইসলাম কে নিয়ে দুনিয়ার প্রভাবশালীদের চক্রান্ত কে প্রসঙ্গ করেই মূলত বইটি লিখা। বইয়ে একজন সাংবাদিক এক গুপ্তসংঘ নিয়ে অনেক কিছু জেনে যায়। তাই তাকে পাশবিক ভাবে চক্রান্ত করে হত্যা করা হয়।তার ইনভেস্টিগেশন করতে গিয়েই আরেক অফিসার জানতে পারে অনেক গোপন ব্যাপার যা থেকে সে প্রতিবাদ মুখর হয়ে যায়। সে কি শেষ অব্দি টিকে থাকতে পারবে কিনা এটাই হলো প্রশ্ন!আর যে গোপন কথার ব্যাপারে বলা হয়েছে তা মূলত আমরা সবাই জানি কিন্তু হয়তো এটা জানিনা বাহিরের দেশের মতো বাংলাদেশেও অনেক গুপ্তশংঘ রয়েছে যারা মূলত ইসলাম কে নিয়ে ���স্তে ধীরে ষড়যন্ত্র করছে।গল্পের শেষ এ আমরা যেমন চাই হিরোর হাতেই সব ক্ষমতা আসুক ব্যাপার টা তেমন নয় আবার একদম হেরে গিয়েছে তাও নয়।ব্যাপার টা মূলত রাইটার বাস্তব ধর্মী করতে চেয়েছে তাই সম্ভবত অন্যরকম রেখেছে।সিকুয়েল আসলে অনেক কিছুই ক্লিয়ার হতো আরো।আমার কাছে খুবই ডিপ লেগেছে কিন্তু কিছু ব্যাপার মিসিং লেগেছে। বইয়ের গল্প আমাকে শুনানো হলে আমিও হয়তো লিস্টে রাখবো অনেক কিছু জানার জন্য।এখন ইহা লিস্টে রাখবেন কিনা তা সম্পূর্ণ আপনাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার।
শিবলী ভাইয়ার পড়া এটাই আমার প্রথম বই।উনার বচনশৈলী সহজ লেগেছে! উনার লিখা আমার কাছে ভালোই ডিপ লেগেছে।বাস্তবধর্মী কথাই ছিলো সব।
বিঃদ্রঃকোনো বইয়ের রেটিং করার যোগ্যতা আমার নেই কারণ রাইটার রা আমার চেয়েও অনেক গুনী মানুষ। উনারা অবশ্যই নিজেদের বই এ বেস্ট দেওয়ার ট্রাই করেন।আর ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন। নিজ দায়িত্বে রিভিউ দেখে টপিক বুঝে বই কিনবেন!
শিবলীর যে জিনিষটি সবচেয়ে ভালো লাগে তার উপন্যাসের টপিকগুলো সচরাচর দেখা যায় না। খুব ইউনিক। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। অন্তিম একটি স্পর্শকাতর, সাহসী সৃষ্টি। একটি ক্রাইম থ্রিলার গল্পের মাধ্যমে লেখক কমপ্লিকেটেড একটা জিনিষ খুবই সহজ ভাষায় বলে গেছে। অন্তিম সুধু একটি থ্রিলার উপন্যাস নয়। অন্তিমে রয়েছে শক্তিশালী মেসেজ। অন্তিম মানুষের ইনসাফের কথা বলে। কথা বলে বর্তমান পৃথিবীর রাজনীতি, পৃথিবীর ভবিষ্যত, ঘটনার পিছনের ঘটনা নিয়ে। কমবেশি সবাই বুঝতে পেরেছি জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে পৃথিবীতে ধেয়ে আসছে কিছু একটা। যেকিছু একটার কথা প্রধান তিনটি ধর্মই বলেছে। সেই কিছু একটার সহজ আলোচনা হয়েছে অন্তিমে। অন্তিমের শক্তিশালী গল্প আর শিবলীর শক্তিশালী লেখনী দুই মিলে অন্তিম একটি অপ্রতিরোধ্য অল ইন ওয়ান বই। সমাজের কিছু কিছু জিনিষ রয়েছে যেটা দেখার জন্য আরেকটি চোখের প্রয়োজন। যে চোখটি শিবলীর রয়েছে। শীবলী তার দখল উপন্যাসে দেশের আন্ডারগ্রাউন্ড ক্রাইম সম্পর্কে লিখেছেন যেটা পরবর্তীতে আমরা দেখেছিও। ক্যাসিনো ঘটনা আমাদের ভূলে যাওয়ার কথা নয়। আমি বিশ্বাস করি অন্তিমও দখলের বিপরীত নয়। পৃথিবীর বুকে একদিন একটি শীতল বৃষ্টি নামবে সে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি সকল অন্যায় অবিচার ধুয়ে মুছে দিয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। একটি শেষের শুরুর গল্পে আপনাকে স্বাগতম। বলতে লজ্জা নেই, আমি একজন মুসলিম এভারেজ মুসলিম। জুম্মা নামাজ আর মাঝেসাঝে ওয়াক্তের নামাজ পড়ি। ১০ তারিখ রাত ৩ টার দিকে অন্তিম শেষ করেছি। অন্তিম আমাকে এতো তীব্র ধাক্কা দিয়েছে আমি জাস্ট বইটা হাত থেকে রেখে রাত ৩ টায় ঠান্ডা পানি দিয়ে ওযু করে নামাজে দাঁড়িয়েছি। অন্তিম একটি জীবন বদলে দেওয়ার মতো বই।
➡️প্রথমেই বলে রাখি এই বইটা খুবই গভীর আর সেনসেটিভ অনেক বিষয় নিয়ে লিখা।বই থেকে অনেক অজানা বিষয় নিয়ে আমরা জানতে পারি। ইসলাম কে নিয়ে দুনিয়ার প্রভাবশালীদের চক্রান্ত কে প্রসঙ্গ করেই মূলত বইটি লিখা। বইয়ে একজন সাংবাদিক এক গুপ্তসংঘ নিয়ে অনেক কিছু জেনে যায়। তাই তাকে পাশবিক ভাবে চক্রান্ত করে হত্যা করা হয়।তার ইনভেস্টিগেশন করতে গিয়েই আরেক অফিসার জানতে পারে অনেক গোপন ব্যাপার যা থেকে সে প্রতিবাদ মুখর হয়ে যায়। সে কি শেষ অব্দি টিকে থাকতে পারবে কিনা এটাই হলো প্রশ্ন!আর যে গোপন কথার ব্যাপারে বলা হয়েছে তা মূলত আমরা সবাই জানি কিন্তু হয়তো এটা জানিনা বাহিরের দেশের মতো বাংলাদেশেও অনেক গুপ্তশংঘ রয়েছে যারা মূলত ইসলাম কে নিয়ে আস্তে ধীরে ষড়যন্ত্র করছে।গল্পের শেষ এ আমরা যেমন চাই হিরোর হাতেই সব ক্ষমতা আসুক ব্যাপার টা তেমন নয় আবার একদম হেরে গিয়েছে তাও নয়।ব্যাপার টা মূলত রাইটার বাস্তব ধর্মী করতে চেয়েছে তাই সম্ভবত অন্যরকম রেখেছে।সিকুয়েল আসলে অনেক কিছুই ক্লিয়ার হতো আরো।আমার কাছে খুবই ডিপ লেগেছে কিন্তু কিছু ব্যাপার মিসিং লেগেছে। বইয়ের গল্প আমাকে শুনানো হলে আমিও হয়তো লিস্টে রাখবো অনেক কিছু জানার জন্য।এখন ইহা লিস্টে রাখবেন কিনা তা সম্পূর্ণ আপনাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার।
➡️শিবলী ভাইয়ার পড়া এটাই আমার প্রথম বই।উনার বচনশৈলী সহজ লেগেছে! উনার লিখা আমার কাছে ভালোই ডিপ লেগেছে।বাস্তবধর্মী কথাই ছিলো সব।
➡️বিঃদ্রঃকোনো বইয়ের রেটিং করার যোগ্যতা আমার নেই কারণ রাইটার রা আমার চেয়েও অনেক গুনী মানুষ। উনারা অবশ্যই নিজেদের বই এ বেস্ট দেওয়ার ট্রাই করেন।আর ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন। নিজ দায়িত্বে রিভিউ দেখে টপিক বুঝে বই কিনবেন!
This entire review has been hidden because of spoilers.
লতিফুল ইসলাম শিবলীর বইগুলোর লেখনী আর কাহিনীর দরূণ, এতদিন পর্যন্ত তার বইগুলো অটো চয়েস ছিল, যে বইমেলায় তার বই বের হলে কিনবোই। কিন্তু এবারের বইটাতে তার প্রতি এক্সপেক্টেশনটা মিপ আপ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বইয়ের প্লট যা-ই ছিলো না কেন, লেখনী ছিল অত্যন্ত দুর্বল। আমার কাছে খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে বেশ কিছু অংশ। বইয়ে বেশ কিছু কুরআনের আয়াত ব্যবহার করা হয়েছে। আয়াতগুলোর চয়েস যথেষ্ট ভালো ছিল, কিন্তু সেগুলোর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে খুবই আনপ্রফেশনালভাবে। যে জিনিসটা কমনসেন্স দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, সেটাকে উনি অন্য আরেক ক্যারেক্টারকে দিয়ে বলাচ্ছেন, “এটা এমন কেন?” তারপর সেটার ব্যাখ্যা করছেন। খুবই হাস্যকর লেগেছে। যেন, এই বইয়ে উনি লেখকের ভূমিকা পালন করেননি, কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা তার লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য এই বাণীগুলো প্রচার করা। আর আরেকটা ব্যপার হচ্ছে, সেকুলার মানুষদের নিয়ে সমাজে বেশ কিছু স্টেরিওটাইপ আছে। লেখকের উচিত ছিল এসব স্টেরিওটেইপের উর্ধ্বে ওঠা, এভারেজ মানুষদের চিন্তাধারা থেকে বের হয়ে আসার কথা ছিল, কিন্তু তিনি উল্টো এই ধারণাগুলোই আরও বেশী করে পুশ করেছেন বইতে। বিষয়টা খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে আমার। বইটার প্লট বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু লেখকের আসলে বইয়ের কাহিনীতে কোনো মনযোগই ছিল না মনে হয়। কাহিনী বলতে গেলে কিছুেই আগায়নি। আর শেষ পর্যন্ত বইটা পড়ে মনে হয়েছে, কেন-ই বা পড়লাম? কি হলো আসলে? বইটার সমাপ্তি দেখে মনে হয়েছে সিকুয়েল আসবে, তবে গুডরিডসে বা কোথাও কারও রিভিউ পড়ে মনে হলো না সেরকম কোনো সম্ভাবনা আছে। যদি কোনো সিকুয়েল না আসে, তবে আমি আরও বেশী হতাশ হবো। এবং বলবো, আমার জন্য বইটা পড়া না পড়া একই কথা ছিল।
'অন্তিম' এর আগে উনার সবগুলা উপন্যাস আমার পড়া। উনার লেখার ধরন আমার ভালো লাগে। সে রকম আশা নিয়ে পড়া। প্রথম ৩০ পৃষ্ঠার দিকে বেশি একটা টানেনি আমাকে। যখন ইমাম সাহেব প্রবেশ করলেন তখন আর থেমে যেতে ইচ্ছে করেনি। সেই আগের বইগুলার স্বাদ পেয়ে বসলো।
মোটামুটি ভালো লেগেছে। যে বিষয় নিয়ে লেখা হয়েছে সে বিষয়টাও ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। তবে অনেক কিছু ফাঁকা রয়ে গেছে। অনেক ডকুমেন্ট দেখা হয়েছে এইসব বিষয়ে। যেগুলা সহজে পাওয়া যায় না। তবে সার্থক বইটা।
প্রথম কোন বই সম্পর্কে লিখছি। আসলে অনেক কিছুই বলা যায়। চরিত্র নিয়ে যদি বলি তাহলে,আমাদের সমাজে জামিল,আশু,পিয়েতা,আফজালের মতো অনেক লোক রয়েছেন।এরকম আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতেও দেখতে পাই। তবে যেই চরিত্রটা আমাকে আকর্ষণ করেছে তা হচ্ছে ইমাম ইউসুফ মাহমুদ।এইরকম চরিত্র আমাদের সমাজে পাওয়াটা খুবই কষ্টকর। সোশ্যাল মিডিয়াতেও আমরা এইরকম চরিত্রবান মানুষ দেখতে পাই নাহ।
শিবলী ভাইয়ের "আসমান" পড়েই তার লেখার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম। এবার পড়লাম "অন্তিম"! আমার কাছে ভালোই লাগল, তবে আফজাল সাহেবের কাজের শেষ দেখতে পারলে ভালো হইতো!
আজ বইটা পড়ে শেষ করলাম; শিবলী ভাই বর্তমান কালের প্রিয় একজন লেখক যিনি লিখনীর মাধ্যমে যুবসমাজকে হকের পথে দ্বীন এবং দাওয়াহ’র পথে নিয়ে আসেন। অন্তিম বইটাতেও তেমনি The Beginning of The End নিয়ে আলোচনা করেছেন। শেষের শুরু নিয়ে অন্যান্য ধর্মের মানুষ সচেতন হলেও আমরা মুসলিম উম্মাহ আশ্চর্যজনক'ভাবে অজ্ঞাত কিংবা আমরা তা আসলেই সেইরকম ভাবে পাত্তা দেয় না। এখন সময় এসেছে সচেতন হওয়ার।