Jump to ratings and reviews
Rate this book

দুর্জয় #1

অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন

Rate this book
কবির জীবন বলতে বোঝে- খুন, রক্ত আর কবিতা। ও বিশ্বাস করে এই তিনটি জিনিসের কারণেই সে প্রতিদিন বেঁচে থাকে। খুন সে আগেও করেছে, কিন্তু ইদানীং কবিরের মনে হচ্ছে অকারণে মানুষ মারাতে আর রোমাঞ্চ অনুভব করছে না ও। এবার খুনের সাথে শিল্প জুড়ে দিতে হবে- পঁচিশ বছর আগের জীবনানন্দকে সে ফিরিয়ে আনতে চায়…

পরপর তিনটি খুন!
সরকারের উপর চাপ বাড়ায় উচ্চ আদালত তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে পিবিআইকে। অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে অদ্ভুত সব তথ্য- কবি ভুগছে বংশগত এক বিরল রোগে। এই সুযোগটাই সে বারবার নিচ্ছে। বর্তমান কবি-কাহিনীর সাথে সাথে জীবনানন্দ কেসও রি-ওপেন করা হয়েছে…তদন্ত কর্মকর্তাদের ঘুম হারাম!

256 pages, Hardcover

First published February 15, 2022

2 people are currently reading
188 people want to read

About the author

A Bengali Storyteller!

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
49 (38%)
4 stars
53 (41%)
3 stars
16 (12%)
2 stars
8 (6%)
1 star
2 (1%)
Displaying 1 - 30 of 53 reviews
Profile Image for MD Mostafijur Rahaman.
133 reviews27 followers
April 5, 2025
সিরিয়াল কিলার থ্রিলার হলেও সাইকোলজিক্যাল লেয়ারটি বইটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

"গল্পের ভেতর গল্প"—এই টেকনিক এবং শেষের দিকের টুইস্ট বিশেষ পছন্দ হয়েছে, যা অনেক থ্রিলারে দেখা যায় না।

খুনীর পরিচয় শুরুতেই জানানো সত্ত্বেও তার মানসিক জগৎ, অতীত ও কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ গল্পকে জটিল ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

লেখকের স্বতন্ত্র গদ্যশৈলী এবং সাইকোলজিক্যাল লেয়ারযুক্ত গল্পকে মুগ্ধ করেছে। যদিও শুরুতে প্লট নিয়ে সংশয় ছিল, ধীরে ধীরে গল্পের জট খুলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি আটকে রেখেছে।
Profile Image for Shaila Shaznin.
67 reviews8 followers
March 27, 2024
লেখকের এটাই আমার পড়া প্রথম বই। যখনই মনে হচ্ছিল ধরতে পারছি কি ঘটবে, তখনই ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিচ্ছে। টানটান উত্তেজনার মধ্যেই শেষ করলাম বইটি।
Profile Image for Sakib A. Jami.
337 reviews38 followers
March 1, 2022
আমি কবি-
মৃতদের সাথে আমার বসবাস
আমি কবি-
রক্তের রঙেই আমার উল্লাস।

কবির জীবনটা আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো না। কবি অদ্ভুত, কবি অন্যরকম। তার জীবনের পুরোটা জুড়েই খুন, রক্ত, হিংস্রতা। সাথে আছে অদ্ভুত নেশা। কবিতার নেশা। এই নিয়েই কবির জীবন। কবি রক্ত দেখলে রোমাঞ্চ অনুভব করে। তার সাথে মিশে যায় কবিতার পংক্তি। আর দুইয়ে মিলে তৈরি হয় এক শিল্প। ভয়ংকর শিল্প। যার সামনাসামনি হওয়ার সাহস সাধারণ মানুষের নেই।

• কাহিনি সংক্ষেপ :

ঢাকা শহরকে বলা হয় জাদুর শহর। ব্যস্ততার নগরী। সেই নগরী যেন পরিণত হয়েছে খুনে শহরে। হারিয়ে যাচ্ছে যুবতীরা, পাওয়া যাচ্ছে তাদের লাশ। কিন্তু কিছুই যেন করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। আতংকবোধ করছে সবাই। এই বুঝি আবার কেউ নিখোঁজ হলো, আবার কোনো লাশ পাওয়া গেল শহরের অন্য প্রান্তে। এবার নিজের পালা নয় তো?

আফজাল আজিম অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার। স্ত্রী আকলিমা আজিমকে নিয়ে তার সংসার। অসুস্থ স্ত্রীকে পাশে নিয়ে আফজাল আজিম মাঝেমাঝেই হারিয়ে যান অতীতের স্মৃতিতে। যেই স্মৃতি তাকে পীড়া দেয়। এক অন্ধকার জীবনের কথা মনে করি দেয়। পুলিশি জীবনে এক জাদরেল অফিসার ছিলেন তিনি। তার সেই জীবন ওলটপালট করে দিয়েছে ব্যর্থ এক কেস। যে কেসে তিনি হারিয়েছেন অনেক কিছুই। হারিয়েছেন ভালো থাকার শেষ সম্বলটুকুও। জীবনানন্দ নামের সেই কেসের নির্মম স্মৃতিগুলো কলমের কালিতে জমা করেন। হারিয়ে যেতে দেন না তার অন্ধকার জীবনের গল্প। সেই গল্পে কী হয়েছিল?

রমেশ একজন নাপিত। হাতে কাঁচি, খুর নিয়ে যার কাজকারবার। চুল-দাঁড়ি কেটে ভালোই দিন যাচ্ছে তার। তার জীবনেরও গল্প আছে। যে গল্প সে মনে করতে চায় না। আবার হারিয়েও যেতে দিতে চায় না। কচুরিপানার মতো এদিক ওদিক ভেসে বেড়ানো রমেশের জীবন একটু ঠাঁই খুঁজে। ভালো থাকার শক্তি খুঁজে। সবসময় কি ভালো থাকা যায়? অতীত যে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায়। বিভীষিকাময় জীবনের সব গল্প নিয়ে হাজির হয়ে যায়। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?

জেরিন মেয়েটা অন্যরকম। একটু চঞ্চল, ছটফটে। প্রচুর আড্ডাবাজ। অন্যদিকে তার স্বামী অতুল চুপচাপ। কাজের চাপে স্ত্রীকে সময় দিতে পারে না কিছুতেই। বিপরীতে থাকা দুটি জীবন একসাথে থাকলেও এক হয়ে উঠতে পারেনি। আর তাই তো আলাদা হয়ে গিয়েছে দুজন। পুরনো স্মৃতি ভুলে নতুন জীবনকে আকড়ে ধরতে চায় জেরিন। যার সূচনাটা ক্যাফে কাব্য নামের এক ব্যতিক্রম রেস্টুরেন্টে। জেরিন স্বপ্ন দেখছে, নতুন করে জীবন রাঙাবে। অতীতকে ভুলে গিয়ে আবার জীবন শুরু করবে। কিন্তু সব স্বপ্ন তো পূরণ হয় না। দু'চোখে নতুনের স্বপ্ন নিয়ে জেরিন একদিন হারিয়ে গেল। এই শহরে কেউ হারিয়ে গেলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। জেরিন ফিরবে তো?

পিবিআই-এর অফিসের বড়ো কর্তা আসিফ আলী শহরে ঘটে যাওয়া খুনগুলোর তদন্ত করছে। সহকারী হিসেবে আছে দুর্জয় শাকিল। পরিশ্রমী ও কর্মঠ অফিসারকে নিয়ে কাজ করছে আসিফ আলী। সাথে আছে আরও কয়েকজন। ক্লু বলতে কিছু নেই। তবুও চেষ্টা চলছে। উপরমহল থেকে চাপ আসছে। শহরবাসী আতঙ্কিত। সব মিলিয়ে বেশ গ্যাড়াকলে পড়েছে তদন্ত কর্মকর্তারা। কিছু একটা করতে হবে। খুন ঠেকাতে হবে যে করেই হোক। তদন্ত করতে গিয়ে আসিফ আলী লক্ষ্য করল, এই কেসের সাথে অতীতে ঘটে যাওয়া একটি কেসের অদ্ভুত মিল আছে। সেই কেসে তিনিও ছিলেন। তাই একটার সাথে আরেকটা মেলাতে বেগ পেতে হয়নি। নিজের ইচ্ছেতেই আবারও খুললেন বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরনো সেই কেসের ফাইল। কী হবে এরপর? ঘুমহীন একাধিক রজনী পর করে খুনিকে ধরতে পারবে আসিফ আলীর দল? না-কি অতীতের মতোই এই কেসও হারিয়ে যাবে? হেরে যাবে আসিফ আলী? আসিফ আলীকে জিততেই হবে, যে করেই হোক!

আফজাল আজিম, রমেশ, কবি কোথাও যেন এক সূত্রে বাঁধা। একই সূত্রে বাঁধা আসিফ আলীও। জেরিনও যেন সেই সূত্রের আরেকটি প্রান্ত। একটু একটু করে গল্প এগিয়েছে। একটু একটু করে জট ছুটেছে। আবার পরক্ষণেই জট পাকিয়ে সব যেন ভেস্তে যাওয়ার মতো অবস্থা। সেই সূত্রের প্রধান প্রান্ত কার হাতে? কীভাবে খুলবে এ জট? যখন সব ছাড়িয়ে এক হয়ে যাবে, তখন চমকে যেতে হবে!

• পাঠ প্রতিক্রিয়া :

এই বইটা জোস। খুব বেশি জোস। লেখকের অন্যান্য বইয়ের সাথে তুলনা করলে এই বইটা সেরা। অসাধারণ। এই বইয়ের সবচেয়ে বেশি যেটা ভালো লেগেছে, আমরা হয়ত এরপর কী হবে জেনে যাচ্ছি। কিন্তু পরক্ষণেই ক্লাইম্যাক্স। সব জানার পরও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার উপায় নেই। কেননা পরের পৃষ্ঠাতেই গল্প মোড় নিচ্ছে অন্য জায়গায়, ভিন্নভাবে। পাঠককে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে, এই কথা বলাই যায়।

শেষের আগে কখনো শেষ নয়। শেষ পৃষ্ঠার আগে খেলা এখনো বাকি, এই বইটা যেন তারই প্রতিচ্ছবি। পাঠক যখন আরাম আয়েশে বসে চিন্তা করবে, এই বুঝি ধরে ফেললাম। বুঝে ফেললাম এখন কী হবে! বুঝে ফেলার পরও যেন বোঝা হয় না। আর এখানেই লেখকের স্বার্থকতা।

• গল্পবুনন ও চরিত্রায়ন :

এই বইয়ের স্টোরিলাইন অসাধারণ। লেখকের গল্প বলার ধরন বেশ লেগেছে। আরও বেশ লেগেছে চরিত্রগুলোর ব্যাকস্টোরিগুলো। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ন চরিত্রের অতীতের ভালো কিংবা খারাপ দিকগুলো ফুটে উঠেছে বেশ ভালোভাবেই। অনেকগুলো চরিত্র একসাথে এক বইয়ের মলাটে আনলে লেখকেরা খেই হারিয়ে ফেলেন। কোনো চরিত্রকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্য চরিত্র আঁধারে থেকে যায়। রাখার জন্য কেবল রাখা হয় সেসব চরিত্র। এখানে তেমন কোনো বালাই ছিল না। বইটিতে কোনো চরিত্র ফেলনা নয়। ছোটো চরিত্র যেসব কিছুক্ষণের জন্য হলেও পৃষ্ঠায় জায়গা করে নিয়েছে, তাদের অবদানও অস্বীকার করার উপায় নেই।

বইটির আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মেদহীন লেখা। বাড়তি মসলা যোগ করা হয়নি, অপ্রাসঙ্গিক কিছু লেখা হয়নি। অতীতের যেসব কাহিনি দৃষ্টিপটে এসেছিল, প্রতিটি-ই গুরুত্বপূর্ণ। গল্পের প্রয়োজনেই সেগুলো আনা হয়েছিল বলে মনে হয়েছে। বইয়ে অবস্থিত প্রতিটি সাল প্রয়োজনীয়। কখনো অতীতের গল্পে ���ারিয়ে যাওয়া, কখনোবা বর্তমানে ফিরে এসে খুনির সাথে চোর পুলিশ খেলা বেশ উপভোগ্য ছিল। বইয়ের ভেতরে থাকা কবিতাগুলোও বইটিকে অলংকৃত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।

• বানান, প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন :

বানানের ক্ষেত্রে বলতে হয়, বইটিতে বিশেষ কোনো ভুল বানান নজরে আসেনি। দুই-এক জায়গায় মুদ্রণ প্রমাদ লক্ষ্য করেছি। এছাড়া বানানে তেমন ভুল ছিল না বললেই চলে।

প্রচ্ছদও অসাধারণ। সম্ভবত এবা��ের বইমেলার সেরা প্রচ্ছদগুলোর একটি। নালন্দার প্রোডাকশন নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। সবসময় সেরা কাজ-ই দিতে চেষ্টা করে প্রকাশনীটি। এবারও ব্যতিক্রম নয়।

পরিশেষে, অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন। বইটির এই নাম নিয়ে একটা ধোঁয়াশা ছিল। কেন এ নাম? এর রহস্য কী? সেই রহস্য এখন তোলা থাক। কিছু রহস্য সমাধান করা ঠিক নয়। পাঠক বই পড়বে, গল্পে ঢুকবে। গল্পের সাথে মিশে যাবে। আর তখনই বইটির নামের যথার্থতা খুঁজে পাবে। বইয়ের নামটি স্বার্থক, খুব বেশি রকমের স্বার্থক। এমন বই লিখে স্বার্থক লেখকও। লেখকের জন্য শুভকামনা।

[নোট : এই শহরে ক্যাফে কাব্যর মতো এক বা একাধিক রেস্টুরেন্ট থাকলে মন্দ হয় না।]

বই : অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন
লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
প্রচ্ছদ : সুরঞ্জিত তনু (রাহুল চন্দের আঁকা অবলম্বনে)
প্রকাশনী : নালন্দা
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৫২
মুদ্রিত মূল্য : ৫০০৳
ব্যক্তিগত রেটিং : ৫/৫
Profile Image for Arif M.  Islam.
3 reviews1 follower
February 25, 2022
শহরে একেরপর এক খুন হচ্ছে।
প্রতিবার ভিকটিম যুবতী মেয়ে মানুষ। প্রথমে নিরুদ্দেশ তার কিছুদিন পর গলা কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর দুই ধুরন্ধর অফিসার এই কেস এর দায়িত্ব পায়।
কিন্তু চতুর খুনি এমন কোন আলামত ছাড়েনা যেটা দ্বারা তাকে ট্রেস করা যায়।
খুনিকে চেনা খুব সোজা। কিন্তু ক্রমেই পুলিশের সামনে আসতে থাকে একেরপর এক ধাঁধা। কখনো কবিতা লেখা চিরকুট, কখনো তারিখ আবার কখনো স্বয়ং কবি নিজেই।

আচ্ছা, একবার ভাবুন তো! আপনি যেই সেলুনে সবসময় চুল-দাড়ি ছাঁটান। কখনো কী লক্ষ্য করেছেন নাপিতের হাতের দিকে? কখনো খেয়াল করে দেখেছেন? দেখবেন কিন্তু
অথবা আপনার খুব পরিচিত নাপিত দাড়ি কামানো খুরটা হটাৎই যদি আপনার গলায় ধরে বসে....
উপন্যাসে প্রতিটা সাল খুব ইম্পর্ট্যান্ট। ফ্ল্যাশব্যাক রিভিউগুলো দারুণ ছিলো।
সব থেকে সুন্দর দিক হচ্ছে, আপনি জানবেন খুন কে করছে তবুও আপনাকে দ্বিধায় ফেলে রাখবে সিকুয়েন্স সাজানোর দক্ষতা। কিছু জিনিস বিশ্বাস করতে মন চাইবে,
কিন্তু সরি সুইটহার্ট। বিশ্বাস করে ৩০ সেকেন্ড পর ধোকা খাবেন।
রক্ত, রক্তের নেশা প্রাচীনতম নেশা।
এটা এমন এক সত্য যেই সত্য মানুষের মস্তিষ্কের কোন এক কুঠুরিতে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকে। যার চাবি থাকে সময়ের অতল গহব্বরে। আপনার কী রক্ত দেখলে আনন্দ হয়? যখন মুরগী কাটা হয় তখন কেমন লাগে দেখতে?
ভালোলাগার কিছু দিকঃ
★সর্বপ্রথম উৎসর্গ পত্রটা আমার মন কেড়েছে।
★বোর হবার সুযোগ নেই। অনেক কিছু উত্তর জানতে মন চাইবে তাই পরের পৃষ্ঠা যেতেই হবে।
★বই পড়ার পর থেকে বাংলাদেশের রেস্তোরাঁগুলোতে কবিতা বলার ট্রেন্ড শুরু হয়ে যাবে ফর শিওর।
★সাইকো থ্রিলারকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
★প্রতিটা চরিত্রকে সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
★বেশ কিছু বিখ্যাত কবির কবিতা ব্যবহার করা হয়েছে যা প্লটকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।

যেকোনো গল্প বা উপন্যাস পড়ে ভিজ্যুয়ালাইজেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। লেখক পাঠককে সেই জায়গায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাতে সক্ষম হয় যেখানে তার গল্পের পটভূমি, তাহলেই লেখক স্বার্থক। লেখকের পরিশ্রম স্বার্থক। "অত:পর কবি মঞ্চে উঠিলেন" তেমনি একটা কাজ যার রেশ অনেকদিন রয়ে যাবে।
Profile Image for Imran.
136 reviews7 followers
March 21, 2022
পুরো বইটা টানটান উত্তেজনা আর উপভোগ্য ছিলো। সাইকো থ্রিলার নিয়ে লেখা এই বইটি মনেয়ারুল ইসলাম ভাইয়ার সবথেকে সেরা কাজ হয়ে থাকবে।❤️
Profile Image for Tridev Devnath.
120 reviews2 followers
August 18, 2025
শিউলি ফুলের ভাত খুব একটা ভাল লাগেনি। তাই লেখকের আগের একটা গল্প খুলে বসলাম।

এবং সত্যি বলতে কবি আমাকে বেশ সারপ্রাইজড করেছে। টিপিকাল সাইকো থ্রিলার হিসেবে শুরু হয়ে প্লট যত সামনে এগিয়েছে ততই কমপ্লিকেটেড হয়েছে। টার্ন টুইস্ট গুলো ভালই ছিল। কাহিনীর মারপ্যাঁচ বুঝতে একটু সময় দিতেই হবে পাঠক কে। শেষ টাও মন মতো হয়েছে আমার। Brainrot রোমান্স পার্ট টা বাদ দিলে রিকমেন্ড করার মত গল্প ।

একটা সিকুয়েল না আসলে হতাশ হব আসলেই।
Profile Image for DEHAN.
277 reviews81 followers
April 9, 2025
ঢাকার গুলশানে হঠাৎ সিরিয়াল কিলারের উপদ্রব। কে বা কারা শুধুমাত্র মেয়েদের ই গলায় হেক্সো ব্লেড দিয়ে একটা পোঁচ দিয়ে লাশ ফেলে দিচ্ছে। প্রতিটা লাশের সাথে কবিতা, কখনো জীবন বাবুর কখনো বুড়ার কবিতা।
জাঁদরেল পুলিশ অফিসার আসিফ আলী আর শাকিল নামে দুইজন আছে কেস ইনভেস্টিগেশনে। কিন্তু কোনভাবেই ধরা যাচ্ছে না। খুনী বা শিল্পী তার শিল্পকর্মে কোন এভিডেন্স রাখে না। পুলিশ পই পই করে খুঁজে হয়রান। মেয়েদের ই কেন? এমনকি কোন টর্চার করা হয় না জাস্ট গলায় ব্লেডের সামান্য একটু ঘষা। তারপর মৃতদেহ খুব দ্রুত কোথাও ফেলে দেওয়া হয় যেন শিল্পীর শিল্পকর্ম শেষ। এখন আর সেই শিল্পে মধ্যে শিল্পীর জন্য কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।
কে এই অপকর্ম করছে? কেন করছে? মৃত কবিদের নিরীহ কবিতা গুলোর ই বা কি দোষ?
জানতে হলে চোখ রাখুন মঞ্চে।কারন কবি একদিন মঞ্চে উঠবেন জবানবন্দী দেওয়ার জন্য।
টপিক টা খুব পুরাতন হলেও গল্প ভালোই সাজানো হয়েছে। লেখক খুব খেলিয়েছেন পাঠকদের বুঝাই যায়। লেখার মধ্যে একটু বিশৃঙ্খলা দৃশ্যমান ছিলো। এক টপিক থেকে আরেক টপিকে যাওয়ার জন্য একটা ইশারা কিংবা সতর্কতা অবলম্বন করলে ভালো হতো। তাও নতুন লেখক যেহেতু তাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখলুম নাহয়। আরেকটা বই নিয়ে খুব হইচই হচ্ছে দেখলাম। শিউলি ফুলের ভাত। শিউলি ফুল দিয়ে ভাত খাওয়া যায় আগে শুনি নাই। এই ফুল কি বেসনে চুবিয়ে তেলে ভেজে খেতে হয় নাকি হুদামুদা ভাতের সাথে কচলিয়ে খেতে হয় ?
Profile Image for Parvez Alam.
307 reviews12 followers
September 19, 2022
বর্তমানে দেশে সবাই বিদেশি অনুবাদ সিরিয়াল কিলার বই পড়তে পাগল, কিন্তু দেশেও যে অনেক ভালো ভালো কাজ হচ্ছে এইটা হইত অনেকে জানেও না। যেমন এই বইটা! আমি এই বই নিয়ে খুব একটা আলোচনা দেখি নাই কোথাও কারন আমার মাথায় আসলো না। ২০২২ সালে আমার পড়া সব থেকে ভালো থ্রিলার বই। লেখক অনেক সময় দিয়েছেন বইয়ের পিছোনে। গল্পের কি গতি এই মনে হয় ধরে ফেলেছে নাহ হইলো না এমন ভাবে চলছে। অসাধারণ একটা ভাই।
বইয়ের বাইরের কথাঃ আমি জানি না লেখক আমার লেখা দেখবেন কি না, যদি দেখে থাকেন তাহলে বইটার ২য় সংস্করণে OK (ওকে) এইভাবে যদি ঠিক করে দেন তাহলে ভালো হয়, কারন বইতে আছে "ও কে" যেটা আমার পড়ার সময় পড়ার গতিতে অনেক ঝামেলা করেছে।
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
526 reviews197 followers
October 29, 2023
এই থ্রিলারের এতো কম রিভিউ দেখে আমি অবাক!
লেখকের আরেকটা বিষয় দেখলাম- গল্পের শেষে রহস্য রেখে দেন৷ এই রহস্য কেমন ছমছমে ভয়ের অনুভূতি দিয়ে যায়।
Profile Image for Abir Yeasar.
80 reviews1 follower
January 10, 2024
ফালতু একটা বই। মন যা চাইছে, তাই লিখছে। এত লেম থ্রিলার জীবনে পড়ি নাই।
হাতের ছাপ পাওয়া যায় নাই জন্য হাতের ছাপ নাই এমন লোককে খুনী বানাইছে, সার্জিক্যাল গ্লাভস বলতে যেন কিছু নাই।
4 reviews
April 12, 2022
এই বইটিকে লেখকের অন্যতম সেরা বই বলা যাবে অনায়াসে।
স্টোরি টেলিং, প্লট, চরিত্রায়ন সবই ছিল এ ক্লাস।
Profile Image for Jannatul Maowa.
9 reviews6 followers
April 6, 2024
লেখকের পড়া প্রথম বই। ক্রাইম থ্রিলার হিসেবে বেশ ভালো। শেষটা হয়তো আন্দাজ করতে পেরেছিলাম বিরতি দিয়ে পড়ার কারণেই। তবে অতিরিক্ত ১৮+ মনে হলো। এসব বাদ দিলে বইটি ভালোই লেগেছে।
Profile Image for Maruf.
21 reviews
February 27, 2022
আমি কবি-
মৃতদের সাথে সাথে আমার বসবাস
আমি কবি-
রক্তের রঙেই আমার উল্লাস।

এই লাইনগুলো থেকে শুরু করে টানা পড়া হলো। অসাধারণ এক উপন্যাস। প্রতিটা চরিত্র জীবন্ত হয়ে ওঠেছে লেখকের লেখায়। একটার চেয়ে আরেকটা জোস। বিশেষ করে আফজাল আজিম, কবি আর আসিফ আলী এদের নিয়ে লেখক যাস্ট খেলা খেলেছে।

বইটার নামটার মধ্যেই জানি কি আছে। প্রচ্ছদটা বেশি জোস। লেখক এই বইয়ে মাথার বারোটা বাজাইয়া ছাড়ছে। শেষ পাতা পর্যন্ত পড়ে গেছি টানা উৎকণ্ঠায়।
আচ্ছা- জীবনানন্দ কী ফিরবে? ফিরলে মজা হত।
রেটিং পাঁচ তারকা।
Profile Image for নূর.
67 reviews
February 22, 2022
ভাইরে ভাই!
লেখক কি লিখছে এইটা। মাস্টারপিস। মনোয়ারুল ইসলামের কাছে আমার প্রত্যাশা সবসময়েই বেশি ছিল। এই বইটার নাম শুনে আর ব্লার্ব পড়েই আগ্রহ নিয়া বসে ছিলাম। বহুতদিন পর সেরা একটা থ্রিলার পড়লাম। কবি চরিত্রটা জোস। যদিও এমন একটা মানুষের সামনে ভুলেও পড়তে চাই না।
অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেনে পাতার পর পাতা গল্প, টুইস্ট, গল্পের ভেতর গল্প। শুরুতেই খুনিকে দেখা যায়.......তারপর অনেক কিছু এবং অতঃপর....
জীবনানন্দ আসবে কি?
1 review
March 18, 2022
নির্দ্বিধায় রিভিউ টা পড়তে পারেন।কোনো স্পয়লার নেই।আশা করি, আপনার খারাপ লাগবেনা।পুরো রিভিউ টা পড়ে মন্তব্য করলে অনেক খুশি হবো 😊

লাশকাটা ঘরে নিয়ে গেছে তারে-
কাল রাতে- ফাল্গুনের রাতের আধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হলো তার সাধ।

প্রথমেই কবিতাংশটুকু পড়ে নিশ্চয়ই অদ্ভুত লেগেছে?
অদ্ভুত লাগারই কথা।

বইঃ অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন
লেখকঃ মনোয়ারুল ইসলাম ( Monowarul Islam )
প্রকাশকঃ রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৫২ টি
মুদ্রিত মূল্যঃ ৫০০ টাকা
প্রকাশনীঃ নালন্দা প্রকাশনী।
প্রচ্ছদঃ সুরঞ্জিত তনু

বই পড়ার পর আমার যা যা মনে হয়েছে, রিভিউতে সেসবই তুলে ধরেছি মাত্র।কাজেই, রিভিউয়ে আলোচনার পাশাপাশি জানার ইচ্ছে থেকেই কিছু প্রশ্ন করেছি। আবারো বলছি আমি শুধু জানার ইচ্ছে থেকে কয়েকটা প্রশ্ন করেছি। আমি কোনো সমালোচনা করিনি।সম্পুর্ন রিভিউ টা পড়লে তা অবশ্যই বুঝতে পারবেন।
আমি কোনো নিয়মিত রিভিউদাতা না। কাজেই রিভিউতে ভুল থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।যাইহোক, এখন মুল রিভিউয়ে আসা যাক। 😊

আমি কবি-
মৃতদের নিয়ে আমার বসবাস
আমি কবি-
রক্তের রঙেই আমার উল্লাস।

বইয়ের প্রচ্ছদ কিংবা গল্পের শুরুতেই আপনি জানতে পারবেন, কবির জীবন বলতে বোঝে- খুন, রক্ত আর কবিতা। ও বিশ্বাস করে এই তিনটি জিনিসের কারণে সে প্রতিদিন বেঁচে থাকে। এর আগেও সে তিনটা খুন করেছে। কিন্তু ইদানীং কবিরের মনে হচ্ছে অকারণে মানুষকে মেরে সে আর রোমাঞ্চ অনুভব করছে না। তাই সে পরিকল্পনা করে এখন থেকে খুনের সাথে শিল্প জুড়ে দিতে হবে।
পরপর তিনটি খুন!
সরকারের উপর চাপ বাড়ায় উচ্চ আদালত তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে পিবিআইকে। পিবিআই তদন্ত করতেই বেড়িয়ে আসে প্রায় দুই যুগ আগে ঘটে যাওয়া অজ্ঞাত জীবনানন্দ কেস। একসাথে দুই কেসের মিল পেয়ে এগিয়ে যাওয়া শুরু করে পিবিআই কর্মকর্তারা। কিন্তু, একের পর এক খুন, খুনিকে ধরতে না পারার ব্যার্থতা এবং খুনি কিভাবে এতো সূক্ষ্ম খুন করতে পারে তার কারণগুলো খুজতে খুজতেই যেনো পাগল প্রায় পিবিআই অফিসারগণ।
তদন্ত করতে করতে একের পর এক অবাক করা কান্ডের সাথে সমসাময়িক এবং অতীতে ঘটে যাওয়া অনেক ভয়ংকর কিছু জানার পাশাপাশি দেখতে পাবেন বিশ্বাসঘাতকতা, নিয়তির নির্মম খেলা, ভুল কাউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা, মানুষের নিষ্পাপ চেহারার মাঝে লুকিয়ে থাকা ভয়ংকর রুপ সহ আরো অনেক কিছু।

গল্প লেখনীঃ লেখক খুব সুন্দর করেই গল্প এগিয়ে নিয়ে গেছেন। শুরু থেকে শেষ অবধি বিরক্ত লাগা কিংবা রিডার্স ব্লকে পড়ার সম্ভাবনা নেই। গল্পের স্থান, কাল, চরিত্র ও সময় ভেদে সবকিছুকে সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন বইয়ে। লেখক যে যথেষ্ট পরিশ্রম করে গল্পটা লিখেছেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে এতো সুন্দর সুন্দর টুইস্ট দিয়েছেন তার প্রশংসা করতে আমি বাধ্য।তাছাড়া লেখকের লেখনী কতটা সুন্দর তা তিনি কবিরের বংশপরিচয় এবং বংশগত রোগের বিষয়টাকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন।

চরিত্রায়ণঃ চরিত্র অনুসারে ভাষা প্রয়োগের ব্যাপারটায় লেখক খুব তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। প্রতিটি চরিত্রের মাঝে সংলাপ গুলো খুব ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে। সব চরিত্রগুলোকে ভালো লাগার মতো করেই তৈরি করেছেন তিনি।
তবে হ্যা, গল্পে অনেক চরিত্র আছে।এতগুলোচরিত্র শুরুতে পাঠককে বিভ্রান্ত করলেও শেষে গিয়ে সম্পুর্ন সোজা সমাপ্তিতে মিলিত হয়েছে। যার ফলে গল্পের সমাপ্তি বুঝতে কারোরই সমস্যা হবেনা। সব চরিত্রগুলো মনে রাখলে গল্প, টুইস্ট এবং গল্পের সমাপ্তি সবকিছুই আপনার ভালো লাগবে।
ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে কমবেশি সব চরিত্রই শান্ত প্রকৃতির। এতগুলো চরিত্রের মাঝে কিছু চরিত্রকে বদরাগী কিংবা উত্তেজিত ধরনের করে গড়ে তুললে ব্যাপারটা হয়তো আরো জমে যেতো।
বানানঃ বাংলা ব্যাকরণে এবং বাংলা বানানে আমার দক্ষতা কম হওয়ায় বানান নিয়ে কিছু না বলাই উত্তম মনে হলো।তাই এই বিষয়টা নিয়ে কিছু বলবো না।

এখন আসি কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্ন ও মতামতে।
বইয়ে প্রধান চরিত্র কবির। যাকে পাঠকরা সাইকো হিসেবে শুরুতেই জেনে যাবে। কবিরের সাইকো হওয়ার পিছনে তার মানষিক অবস্থাকে দায়ী করা হয়। ছোটোবেলায় কবির বাসার মুরগীর মাথা ছিড়ে রক্ত দেখায় আনন্দ পেয়েছিলো।

১. কিন্তু প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর কখন থেকে সে বুঝতে পারলো খুন করার সময় মানুষের আর্তনাদ এবং খুনের পর খুন হওয়া মানুষদের নিয়ে দেশের মানুষসহ আত্মীয়দের আহাজারি উপভোগ করতে তার বেশি ভালো লাগবে?

২.শুধু মানুষকে খুন করলেই যে তার মনে প্রাশান্তি আসবে এই ব্যপারটা সে বুঝলো কিভাবে?

৩. কবির কেনই বা শুধু মেয়েদেরকেই খুন করে ?

৪. যদি মানুষকে মারার সময় মানুষদের করা আর্তনাদ ও বাঁচার আকুতি তার মনে শান্তি নিয়ে আসে, তাহলে কেনো সে পুরুষদের হত্যা করেনা?

৫. মেয়েদেরকে হত্যা করলেও কেনো প্রাপ্ত বয়স্ক (২৩-২৭ এর মাঝামাঝি টাইপ) মেয়েদেরকেই হত্যা করে? সে চাইলে তো যেকোনো বয়সী মেয়ে কিংবা নারীদেরকে হত্যা করতে পারতো।

৬. নাকি ৩,৪,৫ নং প্রশ্নের উত্তর টা এমন হবে যে, কবির সমবয়সী মেয়েদেরকেই শুধু খুন করে আনন্দ পাওয়ার পাশাপাশি তার নিজস্ব একটা প্যাটার্ন তৈরি করতে চেয়েছিলো?

৭. রাতের বেলা একজন মানুষ একটা কুকুরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। কুকুরটিকে এভাবে হত্যার পিছনে কি কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা কোনো রহস্য অথবা ব্যাখ্যা আছে কি?

৮.আর কুকুরটিকে হত্যা করা লোকটিই বা কে?

আমি জানিনা প্রশ্নগুলো অন্য পাঠকদের মনে এসেছে কিনা। কিন্তু আমার মনে এসেছে জন্য প্রশ্নগুলো তুলে ধরলাম���
আমি যেহেতু ডিটেইল পড়তেই বেশি পছন্দ করি তাই প্রশ্নগুলো করলাম। বিষয়গুলো ডিটেইলে তুলে ধরলে হয়তো মন্দ হতোনা।
তাছাড়া যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বইয়ে থেকে থাকে, কিন্তু আমি উত্তরগুলো বুঝতে পারিনি, তাহলে সেদিক থেকে আমি দুঃখিত।বিষয়গুলো বইয়ে তুলে ধরা থাকলে আমাকে অবশ্যই জানাবেন। আমি আমার ভুল শোধরাবার চেষ্টা করবো।
আর যদি বইয়ে তুলে ধরা না থাকে তাহলে লেখককে অনুরোধ করবো বিষয়গুলোকে খুব স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করতে। যাতে পরবর্তী কোনো বইয়ে তিনি এমন বিষয়গুলো ভেবেচিন্তে এগোতে পারেন। 🥰

প্রচ্ছদঃ প্রচ্ছদ টা আমার কাছে দারুণ লেগেছে। আমি মুলত গল্পের মেইন থিম এবং প্রচ্ছদ দেখেই বইটা কিনেছিলাম।

অন্যান্যঃ প্রচ্ছদ বিহীন খালি কভারে বইটা হাতে নিয়ে বেশ ভালোই লেগেছে। কভারটা অনেক সফট এবং পাতাগুলোও সব উন্নতমানের। তবে এতোগুলো পাতা (২৫২ পৃষ্ঠা) পড়ার সময় কতদূর পড়লাম তা চিহ্নিত করে রাখার জন্য কোনো ফিতা দেয়া হয়নি। 😢
ফিতা দেয়া থাকলে সহজেই চিহ্নিত করে রাখা যাবে কতদূর পড়েছি, নয়তো পাতা ভাজ করে রাখা লাগে। এই ব্যাপারটা বাদে সব ভালোই ছিলো।

লেখককে নিয়ে বলতে গেলে আমি বলবো -
লেখক যথেষ্ট পরিশ্রম করে বইটা লিখেছেন। তার জন্য মন থেকে শুভকামনা রইলো। তার লেখা এই বইটাই প্রথম পড়লাম। ইনশাআল্লাহ একে একে তার বাকি বইগুলোও পড়বো। আশা করি তার পরবর্তী লেখাগুলো ডিটেইল সমেত পড়ে অনেক তৃপ্তি পাবো।বলতে পারেন একটা বই পড়েই তার ক্ষুদ্র ভক্ত হয়ে গেছি। তার পরবর্তী লেখাগুলো পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

পরিশেষে অবশ্যই বলতে চাই, যদি আপনি একজন থ্রিলার বইপ্রেমী হন এবং অসাধারণ একটা কন্সেপ্ট নিয়ে লেখা, সাথে মনোমুগ্ধকর কিছু টুইস্টের মিশ্রণ চান।তাহলে বইটা পড়তে পারেন। আশাকরি খারাপ লাগবেনা। বইটার সাথে ভালোই সময় কাটবে।
হ্যাপি রিডিং। 🥰

পার্সোনাল রেটিংঃ৭.৯/১০

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে রিভিউটা কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।
কষ্ট করে রিভিউ টা পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

লেখাঃ Farhan Labib
Profile Image for Ananna Anjum .
191 reviews11 followers
July 29, 2022
বইটি ভালো লেগেছে। কনসেপ্ট বেশ ইউনিক। বইটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দারুণ সাসপেন্স ছিল, যেটা আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
Profile Image for Rahitul.
8 reviews
March 3, 2022
আমি একদিন তুমি হতে চেয়েছিলাম-
এই কবিতাটা কার?

একটা মানুষ দাঁড়িয়ে, তার হাতে ধারালো হ্যাক'স ব্লেড। সেই ব্লেড আপনার গলায় চেপে ধরা। আর তখন আপনাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে একটি কবিতার দুটো লাইন উচ্চারণ করে যে এই কবিতাটি কার?
কি করবেন? কবির নাম মনে আসবে!
বইটা পরে থ হয়ে গেছি। বর্ণনাশৈলী, প্লট, আর গল্প সবকিছুতেই লেখক মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক বলব বর্ণনা। মনোয়ারুল ইসলামের লেখা আমার পছন্দই আসলে তার অসাধারণ বর্ণনাভঙ্গির জন্য।
প্রথমে ভেবেছিলাম বইটি মৌলিক না বা শতভাগ মৌলিক না। কিন্তু যতই ভেতরে গেছি ততই আমার মনের আশঙ্কা দূর হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফরেনসিক, তদন্ত নিয়ে লেখক ভালোই জ্ঞান রাখেন বলে মনে হচ্ছে। দেশীয় পটভূমিতে লেখা দারুণ এই থ্রিলারটির সেকেন্ড পার্ট এলে অবাক হব না।
Profile Image for Irtiza Shadab.
13 reviews1 follower
March 6, 2022
বইয়ের শুরু থেকেই বিভিন্ন দিক থেকে ঘটনা এগিয়েছে। শুরু থেকেই চলেছে কবিরের (বইয়ের মূল চরিত্র এবং অপরাধী) সিরিয়াল কিলিং। শুরু থেকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দিকের ঘটনা এগোতে থাকে কিন্তু মাঝপথে এসে আস্তে আস্তে কাহিনী জমাট বাধতে থাকে এবং এরপরে আর বইটা ফেলে রাখা সম্ভব হয়নি, একটানে পড়া না সেরে উপায় ছিল না তেমন। আমার কাছে কাহিনী জমাট বাধলেই সেই থ্রিলার পছন্দ হয়ে যায়, এটাও তার ব্যতিক্রম নয়।
বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি একদম টপ নচ ছিল।
Profile Image for Muntasir Dhip.
165 reviews3 followers
August 16, 2024
" আমি কবি-
মৃতদের নিয়ে আমার বসবাস
আমি কবি-
রক্তের রঙেই আমার উল্লাস।"

অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন নামটার মতোই গল্পের প্লটটা সুন্দর। ঢাকাকে কেন্দ্র করে একটা ক্রাইম থ্রিলার। শুরু থেকেই বেশ পেইজ টার্নার ছিলো। শহরে একের পর এক খুন হচ্ছে আর ভিক্টিম হচ্ছে মেয়েরা। গলায় চুরি চালিয়ে হত্যা খুনির প্রধান সিগনেচার। পিবিআইয়ের প্রধান কর্মকর্তা আসিফ আলি এই গুরুতর কেসের গুরুদায়িত্ব পায়। সহকারী হিসেবে আছে দুর্জয় শাকিল যে খুব কর্মঠ এবং পরিশ্রমি একজন মানুষ। খুনি একের পর এক খুন করে যাচ্ছে অথচ মামলার কোন হদিস পাচ্ছেনা পিবিএসের কর্মকর্তারা। উপর মহল থেকে প্রতিনিয়ত চাপ আসলেও কোন সুরাহা করা যাচ্ছেনা কিছুতেই। এদিকে খুনি খুন করে লাশের সাথে রেখে যাচ্ছে জীবনানন্দের কবিতার কয়টা লাইন! একসময় কেঁচো খুঁজতে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসে যা সত্যিই গল্পের প্লটটাকে নিয়ে গেছে অনন্য মাত্রায়।

বইটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুবই গতানুগতিক ছিলো। আমি বেশ কিছুদিন থেকে বই পড়তে পারছিলাম না এই বইটা পড়ার পর টের পাচ্ছি ব্লক কেটে যাচ্ছে আমার। শুরুতে সিরিয়াল কিলার এবং তার উন্মাদনা জানার পরও একটা কিন্ত আমাকে বারংবার প্রশ্নবিদ্ধ করে যাচ্ছিলো আর সেটা হলো শেষটায় কি হতে পারে! গল্পকার ঠিক কি বোঝাতে চাইছে! সবকিছু বুঝে ফেলার পরও শেষ পৃষ্ঠার সেই অনাকাঙ্ক্ষিত চমক সত্যিই বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিলো। মনোয়ারুল ইসলামের পরিপক্ব শব্দচয়নে পাঠকদের বুঁদ রাখবেই এটা হলফ করে বলাই যায়।

মেধহীন ঝরঝরে লেখনী এবং কয়েকপেইজ পরপর কবিতার পঙক্তিগুলো বইটাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছিলো। গল্পের প্রয়োজনে অতীতের ব্যাকস্টোরি বাড়াবাড়ি রকমের মনে হয়নি। যা যা মশলা দরকার ঠিক তাই-ই প্রয়োগ করা হয়েছে এখানে। লেখকের এই-ই প্রথম বই পড়া আমার। বাকী বইগুলো পড়ার আশা রাখছি।

বইয়ের নামটা বেশ আকর্ষনীয় নামটার সাথে প্লটের কি কোন মিল আছে? আচ্ছা এই প্রশ্ন না হয় তোলাই থাক। কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে হয়না।

একটা পছন্দের লেখা দিয়ে শেষ করি:

দিতে পারো একশো ফানুস এনে
আজন্ম সলজ্জ সাধ,
একদিন আকাশে কিছু ফানুস উড়াই।

বই: অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন
জনরা: ক্রাইম থ্রিলার
লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম
পৃষ্ঠা: ২৫২
প্রকাশন: নালন্দা
Profile Image for Kabir.
4 reviews
March 10, 2022
অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন
এই নামে থ্রিলার হতে পারে বুঝি এই লেখকের মাথাতেই আসতে পারে। লেখকের বই নামগুলো অদ্ভুত সুন্দর। প্রচ্ছদ আর নাম পুরোটাই গল্পের সাথে মিল রেখে।
বইটা শেষ করে শুধু এটাই মনে হয়েছে what a thriller!
Profile Image for Jasmin.
4 reviews
February 23, 2022
Nice psycho story.
After reading the book, it seems that such a wonderful and wonderful plot played out in the mind of the writer. Unique plot.
Profile Image for Tisha.
205 reviews1,120 followers
April 14, 2025
গুডরিডসে রিভিউ দেখে অনেক বই কেনা হয়, আগেও দু-একবার লিখেছি। এটাও সেই লিস্টের। সাইকো থ্রিলার পড়তে ভালোই লাগে, তাই কিনে ফেলি রিভিউ ভালো হলে। কিন্তু এই বইটা পড়ে রিভিউর সাথে মিলাতে পারছি না! প্রায় ১০০ পাতা পর্যন্ত পড়তে পড়তে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। দুই পাতা অন্তর অন্তর নতুন চরিত্রের আগমন! কাহিনী স্টেবল-ই হচ্ছে না! কি আজব! কিছু চরিত্র তো মনে হল জোর-জবরদস্তি করে ঢুকানো হয়েছে গল্পে। তারা না থাকলেও কোন কিছু যেত আসতো না গল্পের। আর শব্দ চয়ন, বাক্য গঠন সবই কেমন যেন এলোমেলো লেগেছে।গল্পটা খুব বেশি ফিল্মি, তামিল-মালায়লাম সাইকো থ্রিলার গুলোর মতো। হুটহাট দৃশ্য বদলাচ্ছে, চিন্তা করার অবকাশ নেই! খুনের সাথে কবিতা, টু বি মোর স্পেসিফিক, জীবনানন্দের কবিতা-আসলে যায় না ব্যাপারটা। কিছু কিছু পাতায় জিনিসটা মোটামুটি হাস্যকর লেগেছে! আমরা আর কতদিন যে এই বেচারা জীবনবাবুকে বেচবো! আর যাই হোক, সাইকো থ্রিলার পড়লে যে গা ছমছম ব্যাপারটা কাজ করে, সেটা ছিল না একদম।দুই তারার একটা তারা যোগ করেছি লাস্টের কয়েক পাতার হালকা টুইস্টের জন্য। যাক গে, ভালো ভালো রিভিউ দেখে সবসময় হাই এক্সপেকটেশন রাখা উচিৎ না!
Profile Image for Rehnuma.
449 reviews21 followers
April 30, 2022
একের পর এক যুবতি ধরে এনে যৌন নিপীড়নের পর হত্যা করে ফেলে দেয়া 𝒾𝓈 𝓉𝑜𝑜 𝑜𝓁𝒹 𝒻𝑜𝓇 𝒶 𝓈𝑒𝓇𝒾𝒶𝓁 𝓀𝒾𝓁𝓁𝑒𝓇!
বাঙালি ক্রমিক খুনি রসু খাঁ'র খুনের প্যাটার্ন ছিলো এরকম। আমাদের কবি তা জানে। তবে যৌন নিপীড়ন করে হত্যার সুখ সে পায় না। আগে তিনটা খুন করেছে হেক্সো ব্লেড দিয়ে গলা চিরে। কিন্তু তাতে তৃপ্তি হচ্ছে না। তার দরকার আরো ইউনিক কিছু। কবির পছন্দ কবিতা। তাই খুন করে লাশের সাথে প্রিয় কবি জীবনানন্দের কবিতা লেখা চিরকুট জুড়ে দেয়াকেই বেছে নিলো তার সিরিয়াল কিলিংয়ের নতুন প্যাটার্ন হিসেবে।
কবির আনন্দ রক্তে, মৃত্যুর সময় তরুণীদের আহাজারি আর শেষ সময়ের অবিশ্বাসের চাহনিতে খুঁজে পায় তৃপ্তি। সে আসক্ত কবিতায়। বংশগত এক বিরল রোগে আক্রান্ত কবি খুন করে যাচ্ছে একের পর এক। রেখে যাচ্ছে না কোনো সূত্র। একদম ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে পুলিশ বাহিনীকে করে যাচ্ছে চ্যালেঞ্জ, "পারলে ধরো আমাকে!"
পিবিআই প্রধান আসিফ আলীর ঘুম হারাম। শহর থেকে তরুণীরা হারিয়ে যাচ্ছে আর দু'দিন বাদে ফিরে আসছে গলাকাটা লাশ হয়ে। খুনের প্যাটার্ন বলছে খুনি একই ব্যাক্তি। একজন ক্রমিক খুনি। লাশ মিলছে, নতুন করে তরুণী উধাও হচ্ছে। খুনি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। এতো সাবধানী কী করে? তিন তিনটা খুন হয়ে যাবার পর খুনি স্টাইল বদলেছে। লাশের সঙ্গে দিচ্ছে জীবনানন্দের কবিতা লেখা চিরকুট। এই কবিতার স্টাইলটা মিলে যায় প্রায় দুই যুগ আগের অমীমাংসিত "জীবনানন্দ" কেসের সাথে। তবে কি জীবনানন্দ ফিরে এসেছে?
একদিন মনে হতো জলের মতন তুমি।
সকাল্বেলার রোদে তোমার মুখের থেকে বিভা-
অথবা দুপুরবেলা- বিকেলের আসন্ন আলোয়-
চেয়ে আছে- চলে যায়- জলের প্রতিভা।
বস্তাবন্দি লাশের সাথে কবিতার চিরকুট। বিষয়টাকে করেছে রহস্যময়। দুর্জয় শাকিল, সুকুমার, সুরুজ, ফরহাত সবাই মিলে আসিফ আলীর সাথে কাজ করে যাচ্ছে "কবি" নামক উন্মাদ খুনিকে পাকড়াও করতে। কিন্তু অতি সাবধানী খুনির সাথে পেরে উঠছে না পিবিআই এর তুখোড় অফিসাররা। আসিফ আলীর চিন্তা তবে কি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সেই "জীবনাননদ" কেসের মতো "কবি" কেসও অমীমাংসিত রয়ে যাবে?
আফজাল আজিম প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা। স্ত্রী আকলিমা আজিমকে নিয়ে দুইজনের সংসার। অবসরের দিনগুলো কাটিয়ে দিচ্ছেন প্রিয়তমা স্ত্রীকে ক্যান্সারের কাছে গ্রাস হতে দেখে আর লিখে যাচ্ছেন নিজের অতীতের স্মৃতি। কী সে অতীত, যা তাকে কুড়িয়ে খাচ্ছে?
ডিভোর্সি জেরিন। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর এক তরুণী। স্বামী অতুল তাকে এখনো ভালোবাসে। অযাচিত এক ভুলে তাদের সংসার টিকেনি। কিন্তু মেনে নিতে পারে না সে। জেরিনকে ফিরিয়ে আনতে হাজারো চেষ্টা করেছে। জেরিন অটল। নতুন করে জেরিন মজেছে এক যুবকে। আজীবনেও গল্প কিংবা কবিতার বই হাতে না নেয়া জেরিন পাগল হয়েছে এক আবৃত্তিকের জন্য। কিন্তু জেরিন কি জানে মায়াময় চেহারা আর অসাধারণ আবৃত্তিকারের আসল রূপ? জানে কি ক্যাফে কাব্যর সেই অসাধারণ আবৃত্তিকার আর কেউ নয়, স্বয়ং সেই উন্মাদ কবি! যার ত্রাসে জাদুর শহর ঢাকা পরিণত হয়েছে ভয়ের শহরে। নাবিলা, মাইশা কিংবা শর্মিলার মতো কি সেও পরিণত হবে গলাকাটা লাশে?
নাপিত রমেশ। সাদামাটা জীবন কাটায়। কিন্তু সাদামাটা জীবনের পিছে তারও আছে এক জ্বালাময় অতীত। কী সেই অতীত? অতীত কি কখনো পিছু ছাড়ে?
বর্তমানের কবির খু*ন, দুই যুগ আগের জীবনানন্দ কেস, আফজাল আজিম, রমেশ এরা সবাই কেন একসূত্রে গাঁথা? অন্যায় বা পাপ কি কখনো চাপা থাকে? ধরা পড়বে কি কবি? খুলবে কি সব রহস্যের জট?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
বইমেলা, ২০২২-এর বইগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ ছিল "অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন" বইটি। অতঃপর বইটি পড়ে ফেললাম আমিও। এক শব্দে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আমি বলব "চমৎকার"।
বইটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল একের পর এক জট। একটা জটের শেষেই আরেক জটের শুরু। জট পাকাতে আর খুলতে খুলতে বইটির সমাপ্তি। চোখের সামনে খুনি, খুনের মোটিভ কিন্তু তাও সব ধোঁয়াশা। বর্তমানের ধোঁয়াশা না কাটতেই লেখক নিয়ে গেছেন সুদূর অতীতে। সেখানে ঘটছে চমকপ্রদ সব ঘটনা। হচ্ছে খুন, এখানেও ধরাছোঁয়ার বাইরে খুনি। বর্তমান আর অতীত যেনো একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। বর্তমানের শুরুই হয়েছে অতীতের শেষ না হওয়া কোনো অধ্যায় থেকে। অতীত আর বর্তমানের সাথে তাল মিলিয়ে গল্প এগিয়ে গেছে শেষের দিকে। ২৫২ পৃষ্ঠার বইটাকে আমার কাছে মেদহীন বলেই মনে হয়েছে। গল্পের নিজস্ব গতি ছিল। পড়তে একঘেয়ে লাগেনি। পুরোটা সময় লেখকের লেখার গতিতেই মজে ছিলাম।
সিরিয়াল কিলিং নিয়ে বেশ কয়েকটা বই পড়েছি। সিরিয়াল কি*লিংয়ের উপজীব্য বিষয় একটাই। একই প্যাটার্ন ধরে খুন, নির্দিষ্ট টার্গেট, কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিরতিতে খুন। এই বইটিও ভিন্ন নয়। তবুও কিছুক্ষেত্রে বইটি অনন্য। বইটিতে মূল খুনির কবিতা প্রীতি, খুনের সাথে কবিতা জুড়ে দেয়া আর বিশেষ করে খুনি নিজের কোনো চিহ্ন না রাখার কারণটা আমার খুব ভালো লেগেছে। কথার মাঝে এবং খুনের পর যেসব কবিতার সাহায্য নিয়েছেন সেটা ভালো লেগেছে খুব। কবিতা নির্বাচন প্রশংসনীয়।
চরিত্রায়ন:
মূল চরিত্র উন্মাদ কবি। লেখক তার চরিত্র গঠনে বেশ যত্ন নিয়েছেন। কবিতা প্রিয় একজন মানুষ যে কিনা জীবনানন্দের মতো এখন নিরীহ কবির ভক্ত। সেই কি-না একজন নিষ্ঠুর খুনি! ব্যাপারটা খুবই ইন্টারেস্টিং। তবে খুনি হয়ে ওঠার পিছনে শক্ত কোনো যুক্তি বইতে দেখা যায় না। ছোটকালে মুরগির মারামারি আর র*ক্ত দেখে আর এক সময়ে সেই মুরগিকে হ*ত্যা করে আনন্দ পেয়ে পরবর্তীতে নিষ্ঠুর খুনি বনে যাওয়ার কারণটা আমার কাছে খুব পোক্ত মনে হয়নি।
আসিফ আলীর চরিত্রটা আমার কাছে বইয়ের অন্যসব চরিত্র থেকে বেশি ভালো লেগেছে। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এবং একজন হেড হিসেবে তার সরব উপস্থিতি ছিল। তবে দুই যুগ পরে এসে "জীবনানন্দ" কেসের সন্দেহভাজন চিহ্নিত করাটা একটু কাকতালীয় টাইপ লেগেছে।
বইতে আমার অন্যতম ভালো লাগার দুইটা চরিত্র বা দুইয়ে মিলে এক চরিত্র ছিল আফজাল এবং আকলিমা দম্পতি। দম্পতি মানেই লুতুপুতু প্রেম কাহিনি না দেখিয়ে তাদের দম্পতি জীবনে একে অপরের প্রতি টান, বোঝাপড়া, একে অন্যের জন্য চিন্তা এই ব্যাপারগুলো আমার কাছে দারুণ লেগেছে। বিশেষ করে, ক্যান্সারে আক্রান্ত আকলিমার চুল ফেলার সময় আফজাল আজিমের দুঃখভারাক্রান্ত অবস্থার বর্ণনা আমার কাছে অত্যধিক ভালো লেগেছে।
গল্পে অনেক অনেক চরিত্রের দেখা মিলেছিল। আর প্রতিটি চরিত্রই গল্পের প্রয়োজনে এসেছে। কোনো অপ্রয়োজনীয় চরিত্রের উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়েনি। তবে শেষটায় একটু তাড়াহুড়ো করে শেষ করেছেন এমন একটা ভাব লেগেছে।
বইতে ভালো লাগার পাশাপাশি কিছু অসামঞ্জস্য ও চোখে পড়েছে। সেগুলো বলছি।
অসামঞ্জস্য ১: আফজাল আজিম বাড়ির ছাদ থেকে মাঠে যাকে কুকুর পিটিয়ে মারতে দেখেছে সে কে তা��ে নিয়ে পরবর্তীতে আর কিছু বলেন নি লেখক। এটা কি পাঠক নিজে কিছু ভেবে নেবে?
অসামঞ্জস্য ২: দুই যুগ আগের ঘটনায় মঈনুল মারা যাবার এক বছর পর যে নারী এসেছিল তার বিষয়ে আর কিছু বলেননি।
লেখক সম্পর্কে মন্তব্য:
লেখক মনোয়ারুল ইসলামকে চিনেছি অতিপ্রাকৃত বইয়ের লেখক হিসেবে। লেখকের বকুল ফুল ট্রিলজির "বাঁশি" বইটি আমার অন্যতম প্রিয়। এই বইটি লেখক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরনায় লিখেছেন। লেখক এবং তার পাঠকদের জন্য অবশ্যই ভিন্ন স্বাদ। আমি বলব ভিন্ন স্বাদ আসলেই ভিন্ন ছিল এবং লেখক নতুন ঘরনার লেখায় সার্থক। আমার মতে এখন পর্যন্ত উনার সেরা লেখা এটি। লেখার এবং বর্ণনার ধরন বেশ পরিণত লেগেছে এই বইতে। আগের বইগুলো গড়ে ১৫০-১৬০ পেইজের এবং ঝটপট পড়ে ফেলা যেত। সে অনুযায়ী "অকমউ" একটু দীর্ঘ কলেবরের বই হিসেবে পড়তে খারাপ লাগেনি। গল্পে গতি ছিল সবসময়ই। ভালো লেগেছে।
আগের বইগুলোতে "তুর্জয় শাকিল" নামে এক তদন্ত অফিসারের উল্লেখ ছিল। আমার ধারনা ছিলো লেখক এই চরিত্রকে অন্যান্য তদন্তের সাথে রাখবেন। "অকমউ" তে আছেন "দুর্জয় শাকিল"। এটা কি নামের বিভ্রাট না "দুর্জয়" এই বইয়ের আলাদা চরিত্র? যেহেতু পুরো বইতে "দুর্জয়" নামটাই ব্যবহার হয়েছে।
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
২০২২ বইমেলায় প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে সবথেকে সুন্দর প্রচ্ছদ লেগেছে "অকমউ" এর। সুরঞ্জিত তনুর করা প্রচ্ছদটা নজর কেড়েছে।
বইয়ের প্রোডাকশন ভালো হয়েছে। নালন্দার কাজ বরাবরই ভালো। তবে ২৫০+ পৃষ্ঠার একটা বইতে কোনো ফিতা ছিল না। পৃষ্ঠা মার্ক রাখতে অসুবিধা হয়েছে।
মুদ্রণ প্রমাদ ছিল কিছু। এক জায়গায় "কবির" এর বলা উক্তিকে "শাকিল" নামে দিয়ে দেয়া হয়েছে।
Profile Image for Sajol Ahmed.
56 reviews2 followers
February 15, 2023
অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন
মনোয়ারুল ইসলাম

মূল রেটিং- ৪.৫/৫


এই বইটা দারুণ! লেখকের অন্যতম সেরা কাজ। আগের থেকে অনেক পরিণত লেখা। সত্যিই দারুণ!!

সিরি য়াল কি লিং নিয়ে লেখকের প্রথম বই অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন। বইয়ের নামের মতোই গল্পে দেখা যায় এক পাগলা কবির উন্মাদনা; একের পর এক খু ন। কিন্তু সেটা গল্পের অর্ধেক মাত্র। কবির পাগলামির পাশাপাশি রয়েছে আরও কয়েকজনের অজানা অতীত। সেইসাথে ভরপুর সাসপেন্স ও টুইস্ট।
গল্পে বেশ কিছু মেডিকেল টার্ম দেখানো হয়েছে। বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল। আগে জানতাম না সেসম্পর্কে। এছাড়াও কিছু পুলিশ তদন্ত কৌশল ছিল বইতে। তবে সেটা অনেকটাই কম ও সাধারণ লেভেলের ছিল। এই বিষয়টায় আরেকটু নজর দিলে বইটা সিরি য়াল কি লিং-এর পাশাপাশি দারুণ একটা পুলিশ প্রসিডিওরাল ফিকশন হতে পারতো।

যাইহোক, বইটা ভালো ছিল সবমিলিয়ে। পুরোটা সময় উপভোগ করেছি।
Profile Image for Aditee.
90 reviews21 followers
March 20, 2022
লেখকের থ্রিলার লেখার হাত ভালো।
তবে নারী চরিত্র সম্পর্কে তাঁর ইন জেনের‍্যাল দৃষ্টিভঙ্গি (বেশ) খানিকটা সংকীর্ণ মনে হয়েছে।

সিরিয়াল কিলার/মার্ডারার'দের নিয়ে এই যুগের বাংলাদেশি থ্রিলার লেখকদের রোম্যান্টাসাইজ, ফ্যান্টাসাইজ করার একটা প্রবণতাও খেয়াল করছি আজকাল, প্রায়শই।
4 reviews
February 29, 2024
বই : অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন
লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশনী : নালন্দা

প্রথমত, বই এর নাম এবং প্রচ্ছদ ভীষণ রকম সুন্দর।
দ্বিতীয়ত, কনসেপ্টটাও সুন্দর, লাশের সাথে কবিতা যাওয়ার ব্যাপারটা ভাল। কিন্তু এরপরে কিছু ব্যাপারে অসঙ্গতি এসেছে মনে হলো। চরিত্র অনেক বেশি, কিছু চরিত্রকে বাহুল্য মনে হয়েছে। রহস্য ছিল অনেক, তবে প্রেডিক্ট করা যাচ্ছিলো। আর পরপরই মনে হয়েছে লেখক ইচ্ছে করেই পাঠককে প্রেডিক্ট করতে দিয়েছে।
কবির কেন এমন কাজ করে, সেটা বুঝেছি কিন্তু আরো ডিটেইলে লেখা উচিৎ ছিল। কবিরের ছোটবেলা, প্রথম খুন এসব আরো গোছানো দরকার ছিল মনে হয়েছে। খুনের বর্ণনা খুব সুন্দর করে দেয়া হয়েছে, গায়ে কাটা দিচ্ছিলো৷ এটা প্রসংশনীয়, কিন্তু লাশ ফেলে আসার আবার তেমন কোনো বর্ণনা নাই।
কবিরের চরিত্রটা সুন্দর, আমার প্রথমে ভাল লাগতেছিলো। অনেক জায়গায়ই ভাল লেগেছে। ওকে শৌখিন মনে হচ্ছিলো, আবার কিছু জায়গায় গালিগালাজ করতেছে, নোংরামো করতেছে। এজন্য মানানসই লাগতেছিলো না।
সব অংশের ঘটনাপ্রবাহই ভাল লেগেছে, তবে যখনই আসিফ আলী আর শাকিলের প্রসঙ্গ উঠে, তখনই হতাশ হই। আরও শক্ত চরিত্র আশা করেছিলাম। তবে শাকিলের ক্ষেত্রে ভাল একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম। ও যখন বসের সাথে কথা বলে তখন খুব নার্ভাস আবার জুনিয়রের সাথে কথা বলে সময় আদেশের সুরেই কথা বলে। প্রেমিকার সাথে তেমন কোনো কেমিস্ট্রি দেখানো হয় নাই। অন্যদিকে অতুলের প্রসঙ্গ বারবার আসলেও, ওর তেমন কোনো ভূমিকা নাই গল্পে।
গল্পের মুগ্ধতার জায়গা হচ্ছে কবিতা আর খুন পাশাপাশি চলে,
পড়তে পড়তে বারবার আমারও কবিতা আবৃত্তির একটা তৃষ্ণা অনুভূত হচ্ছিলো। বই ছেড়ে উঠতে পারছিলাম না, গল্পের মধ্যে পাঠককে ধরে রাখতে পেরেছেন লেখক। কবিরের "এইটা কার কবিতা, বলতে পারলে ছেড়ে দেব" আর "আমি কবি, একটা কবিতা শুনবেন?" এই দুইটা লাইন অনেক ভাল লেগেছে।
গল্পের ফিনিশিং এ কবিরকে ভালমত প্রায়োরিটি দেয়া হয়েছে, ওই অংশটুকু পড়ে তৃপ্তি পেয়েছি। তবে অন্যান্য চরিত্র গুলাকে নিয়ে শেষে আর লেখা হয়নি, এটা তেমন কোনো সমস্যা না। তবে লিখলে ফিনিশিং টা আরও ভাল লাগতো।

বই এর বাইন্ডিং ভাল, পেইজ ভাল, ফন্ট সুন্দর। কিন্তু প্রচ্ছদ খোলার পর যে মূল বই এর কভারে প্রচ্ছদটা আঁকা থাকে, সেটা মিসিং। পুরা সাদা, ভাল লাগে নাই দেখতে।
কিছু টাইপিং মিসটেকও আছে।

সর্বপরি, "অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন" নামের স্বার্থকতা সুন্দর ভাবেই হয়েছে। লেখকের জন্য শুভকামনা।
Profile Image for Chaity  Somadder.
62 reviews
April 9, 2023
সেরা একটা বই পড়লাম। অনেক ফাস্ট পেসিং বই ছিলো!! পেজ উল্টিয়েই গেছি শুধু কোথাও থামতে ইচ্ছা হয়নি!!

এতগুলো চরিত্র এত সুন্দর করে সাজানো হয়েছে একেকটা একেকটার সাথে। অদ্ভুত সুন্দর!

কবিকে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। তবে তার সম্পর্কে আরো কিছু জানতে ইচ্ছা করছিলো, তাকে কিভাবে কেনা হলো, রক্তের প্রতি তার প্রবল আকর্ষণের শুরু কিভাবে, মেয়েদেরই কেন মারতো, কবিতার প্রতি টান কেন এইসব কিছু প্রশ্ন আসছে মনে। এছাড়া আফজাল আজিম কিভাবে জানতে পারলো বাচ্চা চুরির ঘটনা, কিভাবে দুইজনকে খুন করার চিন্তা করলো, আকলিমা আজিম কেন ওই কাজ করেছিলো, যে বাচ্চাটাকে পেয়ে তার অপ্রকৃতস্থ অবস্থা আস্তে আস্তে সেরে উঠলো তার প্রতি এই অবহেলা কেন আর কিভাবে! ভাবতে ভাবতে এগুলো মনে চলে আসতেছে।

বা���লাদেশের প্রেক্ষাপটে বইটা আসলে খুবই সুন্দর। পুলিশের চরিত্রগুলো শক্তিশালী ছিলো খুব। ওভারঅল বইটা খুব সুন্দর করে সাজানো, গুছিয়ে লেখা, এক চরিত্র থেকে আরেক চরিত্রে ঢুকে যাওয়াটা স্মুথ একদম, এই লেখকের পড়া এটা আমার প্রথম বই, লেখনী খুবই সুন্দর লেগেছে আমার। ছুটির এই সময়টা উপভোগ্য করে তুলেছে বইটা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
March 24, 2022
পাতায় পাতায় যারা সাসপেন্স চায় তাদের জন্য এই বইটা হাইলি রেকমেন্ড করলাম।
কবি চরিত্রটা অদ্ভুত, খামখেয়ালী, অসুস্থ। লেখক ঠিকঠাক তাকে তুলে ধরেছেন। তবে কবিকে ছাপিয়ে জীবনানন্দে আরও ভয়ঙ্কর লেগেছে।
বইটি শেষ করে মনে হয়েছে এই বইটা কেন ৫০০ পাতা হলোনা। হলে কোনো ক্ষতি ছিলোনা। বইটির কি সিকুয়েল আসতে পারে মনে হলো। আসলে খুশি হবো।
Displaying 1 - 30 of 53 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.