Jump to ratings and reviews
Rate this book

সূর্যবাদ

Rate this book

103 pages, Hardcover

First published February 1, 1992

1 person want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (50%)
4 stars
0 (0%)
3 stars
1 (50%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Ahmed Atif Abrar.
721 reviews12 followers
February 12, 2022
আতোয়ার রহমানের ক্ষীণতনু—১০২ পৃষ্ঠা মোটে—তবে তথ্যবহুল সূর্যবাদ বইটি প্রথম বেরোয় বাংলা একাডেমি থেকে ১৯৯২ সালে। একাডেমির বহু তাৎপর্যপূর্ণ বইয়ের মতন এ বইটাও ছাপায়-নাই হয়ে যায়। এগারো বছর বাদে দিব্যপ্রকাশ পরিবারের অনুমতি নিয়েই—লেখকপুত্র অরুণাভ রহমান তা-ই জানালেন—পুনঃপ্রকাশ করে। এ সংস্করণটিও মৃতপ্রায়। আমি পেয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারে, আর বাংলাবাজারে প্রকাশনালয়ের দোকানে তা আছে এক কপিই: আক্ষরিক অর্থেই কোণঠাসা হয়ে। বাংলা ভাষায় সূর্যবাদ নিয়ে আর কোনো বই আছে কি না আমার চোখে পড়ে নি। অথচ পৃথিবীতে ধর্মের উদ্ভব জানতে হলে অন্যতম প্রাচীন এই ধর্মকে জানা দরকার।

ঘুরে বেড়ালাম সাম্রাজ্য থেকে সাম্রাজ্যে, সভ্যতা থেকে সভ্যতায়, সমাজ থেকে সমাজে সূর্যবাদের সন্ধানে। যা টের পেলাম—বঙ্গীয় ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান যা আছে, প্রাচীন সভ্যতাগুলো নিয়ে তেমন নাই। লেখক প্রত্নতত্ত্ববিদ-নৃতত্ত্ববিদ-লোককৃতিবিদদের উল্লেখ করার পাশাপাশি নিজেও কিছু অভিমত তুলে ধরেছেন নানান স্থলে। এগিয়েছেন দেবতাদের বয়ঃপ্রবীণতা নয়, তাদের জনপ্রিয়তা অনুসারে। শুরুতে তাই এসেছে য়ুরোপের দেবতাদের মধ্যে আপোলোন-এর (Apollo) কথা, তারপর স্ক্যান্ডিভেনিয়া অঞ্চল হয়ে যুক্তরাজ্যের স্টোনহেঞ্জ। ডেনমার্কের সূর্যদেবের অদ্ভুতুড়ে অশ্বরথের কথা পড়ে অবাক হয়েছি, টানা-ঘোড়া দেখি নিজেও চাকার ওপর উঠে বসে রয়েছে! বিশ্বাস না গেলে ডেনমার্কের জাতীয় জাদুঘরের ওয়েবসাইটে দেখে আসতে পারেন [https://en.natmus.dk/historical-knowl...]। আহা, কবে যে আমাদের জাদুঘরেরও এমন ওয়েবসাইট হবে! এই একটা কমতি ছিল এই বইয়ের: ছবির অভাব। প্রায়ই তাই অন্তর্জাল ঢুঁড়ে নয়নতৃষা মেটাতে হয়েছে। খুঁজতে গিয়ে অনেক ভুলভালও বের হয়েছে। যেমন: করাচির চৌখণ্ডী সমাধিক্ষেত্রকে লেখা হয়েছে 'চাকুন্ডি' সমাধিপুঞ্জ। পুনঃপ্রকাশের সময় অন্তত এইসব ঊনতা আর দোষ স্খালন করা যেত; কিন্তু চার অক্ষরের অভাব আর কী—সম্পাদনা।

 
য়ুরোপের পরে আসে আমেরিকা অঞ্চল। উত্তর আমেরিকা ও মেসো বা মধ্য আমেরিকা। খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতকে এসপানঞলদের আক্রমণের আগ পর্যন্ত তাদের সংস্কৃতির অন্যান্য অনুষঙ্গের মতন সূর্যবাদও বহাল তবিয়তে ছিল। এই অঞ্চলের সভ্যতার তেয়োতিহুয়াকান (Teotihuacán, উল্লেখ্য: এ নামগুলোর বানানও সবসময় ঠিকঠাক প্রবিষ্ট হয় নি বইয়ে) সংস্কৃতি স্থাপত্যকলাকে উপহার দিয়েছে যথার্থই সুরম্য সূর্যদেবের মন্দির তথা পিরামিড। এ অঞ্চলেরই আরেক জগদবিখ্যাত সভ্যতা আজতেকদের দেবদেবীর নাম বেশ খটোমটো, যেমন তাদের সূর্যদেবের নাম তেজকাতলিপোকা (Tezcatlipoca)। তলতেকদের দেবতা কেতজালকোয়া'তেলকে (Quetzacóatl) নির্জিত করে তিনি ক্ষমতায় আসেন। রাজনীতির খেলা অবশ্যই ছিল, বস্তুত প্রায় সব সংস্কৃতির সূর্যবাদে রাজনীতিই ছিল মুখ্য। এই খেয়ালখুশির আক্ষরিক অর্থেই বলি হতে হয়েছে কমজোর মানুষদেরকে।
মধ্য আমেরিকার ইনকাদের সূর্যদেব ইন্তির ছিল বউ, পূজক সম্প্রদায়ের মধ্যে ধনিকশ্রেণির সদস্যারা হতেন সূর্যদেবের বউ। সূর্যদেবতা বলে তো কিছু হয় না; মন্দিরে যেহেতু পুরোহিত ছাড়া আর কেউ নেই প্রধানত–সংগম যে তাঁরাই করতেন, তা বুঝতে শ্রমব্যয় করতে হয় না। প্রথম সূর্যবাদের দেশ (খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে) মিসরের সূর্যবাদে এমনি ঘটনা ঘটেছে, ঘটেছে আমাদের এই উপমহাদেশে সনাতন ধর্মেও–যেহেতু এককালে সূর্যবাদ এ ধর্মেও প্রবেশ করে মধ্য এশিয়ার হুন ও গুজরদের মাধ্যমে।

পৃথিবীর প্রথম প্রায়-একেশ্বরবাদ প্রচার করেন—নিঃসন্দেহে রাজনীতির স্বার্থেই—মিসরের চতুর্থ আমেনহোতেপ।‌ সূ্র্যদেবতা আতেনের নামানুসারে নিজের নাম সন্ধি করে ফেলেন—আখেনাতেন। আতেন (না আখেনাতেন?) ছিলেন শান্তিবাদী; খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্দশ শতাব্দীর দুনিয়ায় এ বড়ো অদ্ভুত ব্যাপার, তা নিঃসংকোচে রায় দেওয়া চলে। তার খেসারতও তাঁকে দিতে হয়েছিল।
এগুতে এগুতে জানা হলো টোটেম সম্পর্কে। কওমে কওমে আধিপত্য বিস্তারের পর আপসরফায় কীভাবে বাজমুণ্ডধারী সূর্যদেবের আবির্ভাব হলো, তা ধৃত রয়েছে।‌ কৌতূহলজাগানিয়া ব্যাপার: মিসরীয়দের দেবতা বাইরেও পূজিত হয়েছেন, কিন্তু বহিরাগত দেবতা মিসরে পাত্তা পান নাই। এইটা কি মিসরের আদিসমাজের একটা বিশিষ্ট চরিত্র না? আজও কি এই চরিত্র অক্ষুণ্ণ আছে এ সমাজে? সূর্যবাদের ফলে আর যা-ই হোক, মিসরীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানে প্রায় নির্ভুলভাবে বর্ষগণনা (৩৬৫ দিন) হয়েছিল; কুসংস্কারের হাত ধরে সুসংস্কার। হিসাবে এখন চলছে ৬২৬৩ মিসরীয় সাল [https://www.egypttoday.com/Article/4/...]।
ব্যাবিলন-আসিরিয়া হয়ে ঘরের কাছে সূর্যবাদের অন্বেষণে পৌঁছেছেন লেখক। ব্যাবিলনের সূর্যদেব শামোসের চেয়ে মারদুকের কথাই বোধ হয় আমাদের কানে কিঞ্চিৎ হলেও এসেছে। তাঁকে প্রতিষ্ঠা করেন তার-চেয়েও-বেশি-কানে-আসা শাসক হাম্মুরাবি। মারদুক পূজার বদৌলতে বাবেল মিনার (টাওয়ার অফ বাবেল) স্থাপত্যকলার প্রতি সূর্যবাদের আরেক উপায়ন। সূর্যরশ্মি মিনারের চূড়ায় পড়লে নাকি সারা শহর জ্বলে উঠত প্রতিফলিত আলোকসুধায়।

ইরানে প্রত্যক্ষ সূর্যবাদ যেমন ছিল, সেই সাথে মিথ্রাবাদ বা মিত্রবাদ (میترا)  নামে অস্পষ্ট সূর্য উপাসনাও ছিল। মিত্রবাদ সরাসরি বলা যাচ্ছে না কারণ দেশটা ভারতবর্ষে ছিল না। এমনই প্রভাববিস্তারী সূর্য ছিল পারসীক সমাজে যে, আধুনিক আমলে ১৭৭৯ সালে কাজার রাজবংশ থেকে ১৯৭৯ তে পাহলভি রাজবংশ পর্যন্ত, ঠিক ঠিক দুইশ বছর প্রায় একই রকম পতাকা দেখা যায়, যাতে এক সিংহের পেছনে উঁকি দিত এক উদীয়মান সুরুজ [http://www.payvand.com/news/10/mar/12...]। ইরানে আরেক সূর্য-উপাস্য দেবীরূপে আবির্ভূত হয়েছেন:

হে সূর্যদেবী, তোমার আলোকধারা বর্ষণ করো,

ছড়িয়ে দাও এক মুষ্টি ধান।

আমরা নেকড়ের সন্তান,

এখন শীতে মৃতপ্রায়।

ইরানের এক লোকসংগীত; সুস্পষ্ট কৃষিসংশ্লিষ্টতার প্রমাণ। মিত্রবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল রোমান সেনাবাহিনী মাঝেও। সূর্যবাদ দেখা গেছে জরথুস্ত্রবাদেও। এ প্রসঙ্গে জরথুস্ত্রবাদের দেবতা স্রায়োশার (سراوشا)—কথা শুনলে পরিচিত-পরিচিত লাগতে পারে মুসলমানদের কাছে। স্রায়োশা আজরাইলের ভূমিকা পালনের পর মিত্র ও রশন (راشن) নামে দুই দেবতা পাপপুণ্যের হিসাব নেন, তারপর মানুষকে অতিক্রম করতে হয় এক সেতু। পুণ্যভেদে তা সরু ও চওড়া হতে পারে। জরথুস্ত্রবাদ থেকে কি ইসলাম কোনোভাবে প্রেরণা নিয়েছিল পুলসিরাতের ব্যাপারে? মিথ্রাস বা মিথ্রা বা মিত্র দেবতা নিয়ে একটা ভিডিয়ো দেখে আসতে পারেন যুক্তরাজ্যের টাইন অ্যান্ড ওয়্যার আরকাইভস অ্যান্ড মিউজিয়ামসের য়ুটিয়ুব চ্যানেল থেকে [https://www.youtube.com/watch?v=XIVyj...]। আবারো আহা-উহু! যদি এমন এক চ্যানেল থাকত আমাদের জাদুঘরগুলির!

ভারতবর্ষে সূর্যবাদের কথা কমবেশি আমাদের সবারই জানা। ‘সূর্যদেব’ কথাটা অনেক আধুনিক কথাসাহিত্যিকদের মধ্যেও পড়েছি আমরা, পড়েছি নীরেন চক্রবর্তী অনূদিত তাঁতা বা টিনটিন ধারাবাহিকের সূর্যদেবের বন্দি। অতীতে ফিরি: হিন্দু পুরাণগুলির রচয়িতাগণ সংস্কারাচ্ছন্ন ��াকার পাশাপাশি যুগ অনুপাতে চোখ-কান খোলা রাখার নিদর্শনও দেখিয়েছেন:

এই ত্রিলোকের মূল যে আদিত্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই।…এই জগৎ সূর্য থেকে জাত হচ্ছে এবং তাতেই লয় পাচ্ছে।

(ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ, অনুসঙ্গপাদ: ৫৭/৩৪-৭)

ভারতের মহারাষ্ট্রে ভজ গুহা ���ঠে আমরা দেখি বৌদ্ধধর্মে অবলীলায় সূর্যদেবের অনুপ্রবেশ,  সূর্যপূজার অনুষঙ্গ ইউল গুঁড়ি জ্বালানোর প্রথা ধার করেছে আরেক প্রধান ধর্ম ক্রিস্টিয়ানিটি।

বাংলাদেশে সূর্যপূজা হতো হিন্দুধর্মের কল্যাণে। আগুনের হাত থেকে বাঁচা কিংবা ঘরসংসার আর বরের জন্য পালিত হতো ব্রতরাজি। একটা ব্রতের ছড়া বেশ মজার:

লাল ঠাকুর অরণে

বর দেয় বরণে।

যত ফুল তত বর,

ধনজনে ভরে বাপ-ভাইয়ের ঘর।

নিজেকে-মাকে বাপ-ভাইয়ের সাথে হাইফেনযুক্ত না করতে পারা বা চাওয়া সেইসব নারীরা চলে গেছেন অনেকে পশ্চিমবঙ্গে, দেশভাগের সময়। তবে কম হলেও, আজও এদেশের হিন্দু ঝ  দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে সূর্যপূজার খবর পাওয়া যায় [https://www.risingbd.com/amp/banglade...]। আদিবাসী গারো ও সাঁওতালদের সৌর উপাসনা বিবৃত হয়েছে সংক্ষিপ্তসারে; তবে খেয়াল করার ব্যাপার আতোয়ার লিখেছেন ‘উপজাতি’, আদিবাসী নয়। কুমিল্লার ঈমানউদ্দিন ক্বারীর সূর্যবাদ বাংলার এক লৌকিক ধর্ম। আমার কাছে যদিও খুব একটা তাৎপর্যবহ লাগে নাই, গত শতকের গোড়ার দিকে এর উদ্ভূত এই ধর্মে কোনো জ্ঞানী কথাবার্তা না খুঁজে পাওয়া একটা কারণ হতে পারে।

শ্যামদেশ তথা তাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া আর চীনে ভারতীয় সূর্যবাদ প্রভাব ফেলে। আমেরিকার মেট্রোপলিটান শিল্প জাদুঘরের ওয়েবসাইটে দেখে আসতে পারেন তাইল্যান্ড আর ইন্দোনেশিয়ার দুই মূর্তি [https://www.metmuseum.org/art/collect...] [https://www.metmuseum.org/art/collect...]।
সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের কথা না বললে কেমনে কী! সেখানে চাঁদ-সুরুজের দেবলোকে দেবী-সূর্য আমাতেরাসু-ই হলেন প্রবলা, কিন্তু লেখা হয়েছে ‘আমাতেরাসা’।‌ যা-ই হোক, নিহনে শিন্তো ধর্ম আমাতেরাসুর পুরাণ বহন করে চলছে।  
সবার শেষে লেখক বর্ণনা করেছেন সূর্যবাদের সুফল-কুফল আর বর্তমান সাহিত্যে সূর্যের বিপ্লবী আর প্রতীকী রূপ।‌ বিজ্ঞানে সূর্যের প্রভাব কেন তুলে ধরলেন না, তা এক বিস্ময়; খুব গভীরে যেতে বলছি না, তবে এ তো এক অপরিহার্য দিক বটে আধুনিক মানবসভ্যতার। বইটির কেবল পুনরুজ্জীবন নয়, যথোপযুক্ত ছবি-সমেত সটীক নবজীবন কামনা করছি।
This entire review has been hidden because of spoilers.
5 reviews2 followers
February 8, 2024
যেসময়ের কথা বলছি, তখন আমি সিম্বল্‌স বা প্রতীক নিয়ে প্রচণ্ড ফ্যানাটিক ছিলাম। বাংলা একাডেমী বইমেলায় গিয়ে তাই ইতিউতি এই বিষয়ে যা পাই সবই বগলদাবা করে নিয়ে আসি। তখন বাংলা একাডেমী’র পুরোন বইয়ের গোডাউনে ডিসকাউন্ট অফারের হিড়িকে এই বইটা পেয়ে যেন হাতে আকাশের চাঁদ পেয়ে গেছিলাম।

ঠিক আমারই মতো হঠাৎই কৌতুহলী হয়ে লেখক আতোয়ার রহমানও সূর্য পূজারীদের সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী হয়েছিলেন বলেই বইটির সূত্রপাত হয়েছিলো। তিনি আরো আগ্রহী হয়ে উঠেন যখন জানতে পারেন সূর্যবাদ ৩টি দেশের রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা পেয়েছে।

সূচীটা একটু উল্লেখ করতে চাই:

প্রণতোহস্মি দিবাকরম্‌;
ইউরোপে সূর্যপূজো;
উত্তর আমেরিকা: নরভুক সূর্যদেব;
মধ্য আমেরিকার ইন্টিপূজো;
রাজধর্ম সূর্যবাদ: মিশর;
এশিয়ার নানা সূর্য;
ছদ্মবেশী সূর্যবাদ;
অভিজাত ধর্মে অনুপ্রবেশ;
সূর্যবাদের দান-অপদান;
একালের সূর্যবাদ।

সেই যুগে বাংলা একাডেমীর বইয়ের মধ্যে অনেক নির্যাস ছিলো। সেকারণেই বইটির পরতে পরতে তথ্যের বুনট বইটিকে করেছে সমৃদ্ধ। সূর্যদেবতা যে প্রকারান্তরে কৃষির দেবতা – সেটা উঠে এসেছে বইটিতে। সূর্য যে কেবল সূর্যই ছিলেন না, হয়ে গেছিলেন প্রতীক, পাথরের স্তম্ভ (স্টোনহেঞ্জ), মানবাকৃতির দেবতা – সবই উঠে এসেছে বইটিতে।

কী নেই বইটিতে: মেক্সিকো, মিশর, ভারত, ব্যাবিলন, ইরান, জাপান, সিরিয়া, নেপাল, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, দ্বীপদেশ সামোয়া, মহাচীন, … এমনকি বাংলাদেশও। এই বইয়ের মাধ্যমে আমি আশ্চর্য হয়ে জানতে পারি, বাংলাদেশের কুমিল্লায় “ঈমানউদ্দিন ক্বারী” নামক একজন গুরুর দেখানো পথে একদল মুসলমান সূর্যপূজারি রয়েছেন – তারা সংখ্যায় খুব কম হলেও তারা আছেন বা ছিলেন। মুসলমান নিরাকার, এক, অদ্বিতীয় ঈশ্বর আল্লাহ’র উপাসনা করবে, কিন্তু সেখানে সূর্য কিভাবে চলে এলো – সেই তথ্য জানলে চমৎকৃত হবেন। তিনি অবশ্য টিকতে পারেননি সেখানে, তাই আশ্রয় নিয়েছেন চাঁদপুরে। এই সূর্যবাদে ইহুদিদের যাত্রাপুস্তক (Exodus), হিন্দুদের পূণর্জন্ম ইত্যাদির মিশেলও আছে। জানার কোনো শেষ নেই। বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরেও সূর্যদেবের ৪টি মূর্তি সংরক্ষিত আছে বলে জানা যায় বইটি থেকে।

আদি মানবধর্মের সেই সূর্যপ্রেম তো আর হুট করে বিদায় নিবে না, সেই ধর্ম যে বড় ধর্মগুলোতে কিভাবে চুপিসারে ঢুকে গেছে – তারও উল্লেখ করতে ছাড়েননি লেখক। সেটা দেখানোর জন্য তিনি বৌদ্ধধর্ম, ইহুদিধর্ম, খ্রিষ্টধর্মের উদাহরণ টেনেছেন।

সূর্য ছাড়েনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেও — লেখক লিখেছেন:

সূর্য প্রতীক হয়েছে এ-যুগে স্বাধীনতারও। তার এক উদাহরণ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। যার বুকে স্থান পেয়েছে উদীয়মান সূর্যের মণ্ডল (disk)। এটি আমাদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার প্রতীক।

আতোয়ার রহমান (বই: সূর্যবাদ)
বাংলা একাডেমীর মূল সংস্করণটি এখন পুরোন বইয়ের দোকান ছাড়া পাবেন না। তবে বইটি “দিব্য প্রকাশ” থেকে পূণর্মুদ্রিত হয়েছে। অনলাইনে কিনতেও পাওয়া যায়। সংগ্রহ করে পড়বার মতোই একটা বই।

দুটো তথ্য দিয়ে বিমোহিত করে রাখি:

গোলাকার যে-কোনো কিছুই যে সূর্য-পূজারীদের প্রতীক – তা জানার পরে আশপাশের সবকিছু সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে
রাজবাড়িগুলোর প্রধান ফটকে দুটো সিংহ দেখলে জানবেন, এটাও সূর্যপূজার ছায়াবিশেষ

📕 সূর্যবাদ
আতোয়ার রহমান
বাংলা একাডেমী, ঢাকা
ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ | ৳৫০
ISBN: 984-07-2587-4

জ্ঞানসুধা গ্রন্থাগার কল নম্বর: #35000238
Displaying 1 - 2 of 2 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.