সায়ংকাল মানে সন্ধ্যেবেলা। সারাদিনের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় সময়। কখনো এই সময়ে আমাদের মনের মাঝে না জানা এক হাহাকারের সূচনা করে, আবার কখনো সন্ধ্যেবেলার সময়টাতে মনে দোলা দিয়ে যায় অকারণ ভালো লাগা। এই আলো আঁধারির ক্ষণ পার হলে পরে কী ঘটবে এই ভাবনা আমাদের অপেক্ষা করায় প্রায়ই। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে থাকে ঘটনার ঘনঘটা। কখনো প্রচণ্ড অভিমানে নিজেদের হারিয়ে ফেলি বিষণ্নতার চাদরে, কখনো ভালোবাসার শক্তি আমাদের পুনরায় বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য বুঝতে শেখায়, জীবনে আগে বাড়তে শেখায়, কখনো কখনো এমন কোনো রহস্যের মুখোমুখি হই আমরা যার উত্তর আমাদের জানা নেই। এরকমই বিভিন্ন স্বাদের কিছু গল্প নিয়ে বই “সায়ংকালের পরে...
শুরুতেই বইয়ের বাহ্যিক রূপ নিয়ে বলি। পাতার ভাঁজে ভাঁজে যত্নের ছাপ স্পষ্ট। প্রচ্ছদ যেমন সুন্দর তেমনি মন ভালো করে দেয় প্রতিটি গল্পের শুরুতে আঁকা ইলাস্ট্রেশন। গল্পের শিরোনামও ঠিক তাই।
ছোট ছোট চৌদ্দটা গল্প নিয়ে সাজানো চমৎকার শিরোনামের এই বইটি - সায়ংকালের পরে। সন্ধ্যার এই সময়টা ভীষণ অদ্ভুত। নরম সোডিয়াম বাতির আলোয় কেমন যেন হাহাকার করে বুকের মধ্যে। এই বইয়ের কিছু কিছু গল্পও তাই। কেমন যেন হাহাকারের মতো ব্যথা জাগায়।
কিছু প্রিয় লাইন তুলে দিচ্ছি -
"কিছু কিছু সময়ে আমাদের কিছু বলতে নেই, শুধু শুনে যেতে হয়। মনের বাষ্পগুলো উড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা একটা মানুষ খুঁজি। যে-কোনো জাজমেন্টে যাবে না, কথার মাঝখানে নিজের মন্তব্য চাপিয়ে দেবে না, তুমি ভুল করেছ, তোমাকেই পস্তাতে হবে বলবে না। আমরা মাঝে মাঝে এমন মানুষ খুঁজি যে শুধু শুনবে।"
"সূর্যমুখী ফুলের দিকে তাকালে খানিক আনন্দমতো মনে হয়। ছড়ানো পাপড়ি বেয়ে ভোরের শিশিরের মতো দ্যুতি, ভালোলাগা ছড়াতে থাকে, যেন কাচা সোনা রোদ। আনন্দের রঙ সম্ভবত হলদু।"
সবচেয়ে ভালো লেগেছে থিয়া, মিঃ ইয়েলো আর বন্ধু। অন্য সব গল্পের মাঝে কোথাও একটা বিষন্ন মিল আছে। তাই সম্ভবত আলাদাভাবে অত দাগ কাটেনি।
নূহার লেখনীর সাথে চেনাজানা প্রায় দশকের কাছাকাছি সময় ধরে। প্রথমবারের মতো তার আইবিএম সম্বলিত বই বের হয়েছে! এটা যে কী দারুণ একটা ব্যাপার। আর পাঁচ হাজার মাইল দূরে থেকেও সেই বই পড়তে পেরে আমি যারপরনাই আনন্দিত।
আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি আসছে দিনগুলোতে নূহা আরও শক্তিমান লেখিকা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবে। তার পরের বইয়ের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
সায়ংকাল মানে যে সন্ধ্যাবেলা এটা জানতামই না। কি সুন্দর নাম এই বই টার! এই বই এর যে গল্পটার নাম 'সায়ংকালের পরে' সেই গল্পটাও খুব কাছের একটা গল্প! মোট চৌদ্দটা গল্প দিয়ে সাজানো এই বই। কয়েকটা গল্প আগেই পড়েছি। ছোট গল্প দিয়ে সাজানো বই এর একটা মজা হচ্ছে দিনে একটা করে গল্প পড়ে রেখে দেয়া যায়। এই লেখিকার লেখা কিন্তু আশ্চর্য রকমের জাদুময়। যেমন এই বইটা পড়ে মনে হয়েছে যে রিডার্স ব্লক কাটানোর জন্য সুন্দর একটা বই। লেখার মধ্যে ঝরঝরে ভাবটা থাকলেও ফিলোসফিক্যাল কথাবার্তার অভাব নেই। এই দুই এর মিশ্রণে লেখালেখি কিন্তু এতো সহজও না! আস্তে ধীরে শেষ করা বইটার প্রত্যেকটা গল্পের জন্যই কিছু একটা লেখার চেষ্টা করেছি যাতে পাঠকদের কিছুটা হলেও বুঝতে সুবিধা হয় যে তারা কি পড়তে যাচ্ছেন।
গানবন্ধু
গল্পটা শেষ হওয়ার পরপরই আমার বাসার ভদ্রলোক ঘরে ঢুকলেন। তাকে জিগ্যেস করলাম ,"বলেন তো আমরা কি বন্ধু?" উনি কি উত্তর দিলেন সে কথা এখানে বলা যাবে না। তবে বিবাহের পূর্বে উনি প্রায়শই আমাকে ভিন্নধর্মী কিছু গান এবং গানের কভার সেন্ড করতেন। আর সাথে টেক্সট ও পাঠাতেন "I am dedicating this song to you" আমিও যে গান সেন্ড করতাম। একই গান দুজনেরই শুনতে হতো! তাহলে ব্যাপারটা কি দাড়ায়? আমরাও sort of গানবন্ধুই ছিলাম। আমাদের গানবন্ধুত্বের চেয়ে এই গল্পের গানবন্ধুত্বটা কিছুটা ভিন্ন স্বাদের। তাই এই গল্পটা অনেক আদরের! কি সুন্দর বর্ননাভঙ্গী! গান শুনতে শুনতে দুটো মানষের এক হবার গল্প এই গানবন্ধু। টিনএজে মাইকেল লার্নস টু রক অনেক শুনেছি। 'এটারনাল লাভ' টা শোনা ছিলো না। গল্প পড়ার পর শুনে নিলাম।
"একজনকে ভুলতে আরেকজনকে আঁকড়ে ধরা একটা ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেই আরেকজন যদি একের মতোই হয়? তাহলেও কি ভুল সিদ্ধান্তই হয়? একটা জীবনে কতোগুলো ভুল মিলে একটা শুদ্ধ হয়? কে কি ভাববে? উত্তর কি হবে? এই এক গোলকধাঁধার জন্যই হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো লেখা হয়ে ওঠেনি।"
কাকতালীয়
বিচ্ছেদের গল্পগুলোই যেন কেবল কাকতালীয়ভাবে মিলে যায়। তিন যুবকের প্রেমে ব্যর্থ হবার গল্প এটা। শুরুটা এতোটাই চমকপ্রদ যে শেষাংশে একটা ছোট খাটো টুইস্ট আশা করছিলাম। যদিও এটাই গতানুগতিক জীবনের গল্প। আর জীবনের গল্পের টুইস্টগুলোও অনেক বেরসিক।
মুনা তুমি কেমন আছো?
ঠিক কি কারনে জানিনা গল্পটা খুবই ভালো লাগলো। মুনা ভালোই আছে।
"তুমি যদি ওইদিন ওভাবে চলে না যেতে, পৃথিবীর অন্যতম চমৎকার মানুষটিকে খুঁজে পেতাম না আমি।"
একটা মানুষ জীবনে না থাকলে জীবন কখনো অর্থহীন হয়না। বরং সেই মানুষটাকে সরিয়ে দিয়ে জীবন আরো কিছু মানুষের জন্য জায়গা করে দেয়, যাদের অস্তিত্ব জীবনে প্রয়োজন। একের জায়গা কখনোই অন্যরা নিতে পারে না তবে জীবনের প্রয়োজনে নিজেকেই জায়গা বদল করতে হয়। তখনই জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়, তখনই মনে হয় জীবনে ঠিক এই মানুষগুলোকেই দরকার ছিলো।
বন্ধু
খুব সম্ভবত গল্পটা আগেও পড়েছি। জীবনের বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দগুলো একটা সময় পার হয়ে যেতে হয়, কিন্তু পার হবার মুহুর্তটায় আমরা কিছুই বুঝিনা। কঠিন থেকে কঠিনতর সময়ে পদার্পনের সময়েই আমরা বুঝি কি ফেলে এসেছি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বন্ধুত্বগুলো আগের মতো থাকে না কিন্তু কখনো কখনো আবার থাকেও।
"তারও মিনিট দশেক পরে সাত মসজিদ রোডে কিছু মানুষ অবাক হয়ে দেখলো, দুই তরুনী হাত ভর্তি করে রঙিন ফুলের মতো গ্যাস বেলুন নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।"
ভাঙনের গান
জেনেশুনে আমরা ভুল মানুষের প্রেমে পড়ি। তারপর দিনের পর দিন মিথ্যা আশ্বাস দেই যে সব ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু কিছুই ঠিক হয়না। দিনশেষে সেই ভাঙা হৃদয় নিয়েই জীবন কাটিয়ে দিতে হয়।
থিয়া
Theia, goddess of sight! এ গল্পটা আগেও পড়েছি। পছন্দের গল্প। এই পাঠক রহস্য গল্পের ভক্ত, সে কারনেই হয়তো এই গল্পটা বিশেষভাবে মন কেড়েছে। সবচেয়ে সুন্দর এই গল্পের শেষটা। পাঠকদের একটা কনফিউসড অবস্থায় ফেলে দেয়। শেষমেষ কি হলো এটা লেখিকা পাঠকের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। এই বই এর সবচেয়ে পছন্দের গল্প এটা!
অমির আকাশ
অমির আকাশে কেউ নেই। যারা ছিলো তারা গত হয়েছে। আমরা নিজের অবস্থান থেকে সবসময় অন্যকে বিচার করি। আদতে এই বিচারের কোন ভিত্তি নেই।
সায়ংকালের পরে...
এই গল্পটা আমি জানি! জানি বলেই হয়তো আরো একবার, হয়তো কোন কারন ছাড়াই চোখের জলে বালিশ ভিজিয়ে ফেললাম। গল্পটা লেখার জন্য নূহাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
দরজার ওপাশে
একটু অন্যরকম গল্পটা। গল্পের বর্ননাভঙ্গি এতো সপ্নময় যে খুব ভালো লাগার একটা আবেশে নিয়ে যায়! কিন্তু শেষটাতে এসে স্বপ্নভঙ্গের মতোই একটা ব্যাপার ঘটে যায়।
যে কেউ মনে রাখে
সহজ, সাবলীল, সাধারন এবং গতানুগতিক একটা গল্পের মাধ্যমে পৃথিবীর অন্যতম সত্য ও সুন্দর একটা মেসেজ দেয়া হয়েছে। দরজার ওপাশে গল্পটা পড়ে যেমন মন খারাপ হয় ঠিক তেমনি এই গল্পটা পড়ে মন ভালো হয়ে যায়।
আমাদের গল্পটা
আচ্ছা, প্রাইড এন্ড প্রিজুডিস পড়েছেন কিন্তু মি. ডার্সির মতো একজন মানুষকে জীবনে চাননি এমন কয়জন আছেন? মি. ডার্সিদের বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই তবে দুই একজন যে কিছুটা ডার্সির মতো হয়ে যান না, সেটাও কিন্তু মিথ্যে নয়।
মিস্টার ইয়েলো
ভিনসেন্ট ভ্যান গগের আর্ট তো দেখেছিই কিন্তু তার ব্যাপারে এতো কিছু জানা ছিলো না। কান কাটা ভ্যান গগ! এই গল্পটার মধ্যে একধরনের দুর্বোধ্যতা আছে আবার হয়তো নেই। হয়তো এটাই স্বাভাবিক। ভালোবাসারও বেশ কিছু রকম সকম থাকে। গল্পটা এমনই এক রকমের উদাহরণ।
মেঘ কিংবা কৃষ্ণচূড়ার গল্প
Taken for granted এই কথাটা হচ্ছে গল্পের মোরাল। এই গল্পের উদাহরণ আশে পাশে তাকালেই পাওয়া যাবে। দুষ্প্রাপ্য কোন কিছু সহজে পেয়ে গেলে মানুষ তার মূল্য বোঝেনা। হয়তো সব ক্ষেত্রে কথাটা সত্যি না কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সত্যি। গল্পের শেষে ধারণা করে নেয়া হচ্ছে যে দুজন মানুষই নিজেদের মতো করে ভালো আছে। এছাড়া তো উপায় ও নেই। জীবনকে চালিয়ে নিতে হলে ভালো থাকতেই হবে।
দ্য বাম্বি সিনড্রম
সমাজে বসবাস করেও কিছু মানুষ সমাজের সম্পূর্ণ বাহিরে অবস্থান করে। তাদের ভালোলাগা, মন্দলাগার রকম সকম অন্যদের সাথে মেলে না। সমাজ তাদের ঠিক ফেলে দেয়না কিন্তু নির্ঝঞ্ঝাটভাবে বাঁচতেও দেয়না। আলবার্ট কামু'র 'দ্য স্ট্রেন্জার' গল্পের মতো।
বইয়ের প্রতিটা গল্পের শুরুতেই রয়েছে একটা করে ইলাস্ট্রেশান। ইলাস্ট্রেশানগুলো ও চমৎকার! প্রথমে হয়তো বোঝা যাবে না, কিন্তু গল্প পড়ার পর ইলাস্ট্রেশানগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন কি সুন্দর মিল গল্পগুলোর সাথে ইলাস্ট্রেশানগুলোর। আমার সবচেয়ে পছন্দের গল্প হলো থিয়া এবং কি আশ্চর্য যে ইলাস্ট্রেশানগুলোর মধ্যেও সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে ওই থিয়াকেই! সব মিলিয়ে খুব সুখপাঠ্য একটা বই। লেখিকা এবং ইলাস্ট্রেটর দুইজনকেই অভিনন্দন জানাচ্ছি। এরকম আরো অনেক অনেক লেখার অপেক্ষায় রইলাম।
যেতে যেতে আরেকটা কথা বলে যাই, যারা আসলেই রিডার্স ব্লকে ভুগছেন এবং ব্লকটা কাটানোর চেষ্টায় আছেন তাদের জন্য এটা একটা পারফেক্ট বই। গ্যারান্টি দিচ্ছি আপনি আবার বই এর জগতে ফিরে আসতে পারবেন। হ্যাপি রিডিং!
সায়ংকাল অর্থ সন্ধাবেলা। আমার অন্যতম পছন্দের সময় সন্ধ্যাবেলা। দিনের আলো থেকে গোধূলির লাল, এরপর ঝুপ করে অন্ধকার চলে আসে। টিভি সিরিজের কোনো একটা এপিসোড দেখতে দেখতে বা বইয়ের কিছু পাতা উল্টাতে উল্টাতে এক কাপ ব্ল্যাক কফি শেষ করি। এরপর কাজ নিয়ে বসি। গত কয়দিন সান্ধ্যকালীন কফির সঙ্গী ছিলো এই ছোট্ট বইটা। লেখিকার প্রথম প্রকাশিত বই। তবে বোধ করি লেখালেখির সাথে তার সম্পর্ক বহুদিনের। এতো সাবলীল লেখনী পড়তেও আরাম লাগে৷ মোট চোদ্দটা গল্প জায়গা পেয়েছে এই সংকলনে। কোনোটা প্রেমের, কোনোটা বিষাদের, কোনোটা জীবনযুদ্ধে পরাজয়ের, কোনোটা নিজের মধ্যকার অন্ধকারকে অতিক্রম করার, কোনোটা ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের বা ভাগ্যের সাথে লড়াইয়ের।
গল্পগুলো সহজ, সাবলীল। টুক করে পড়ে ফেলা যায়। কিছু কাহিনী মনে দাগ কেটে গেছে। কয়েকটা আবার পড়ার পরপরই ভুলেও গেছি। বিভিন্ন জায়গায় ওয়ার্ডস ইন ডিপ ব্লু, মিডনাইট আর কোল্ডপ্লের রেফারেন্স পুরানো বন্ধুর মতো মনে হলো, গল্পগুলোকে আরো আপন আপন লাগলো। সবথেকে ভালো লেগেছে 'বন্ধু', 'অমির আকাশ', 'থিয়া' আর 'আমাদের গল্পটা'। ভালো না লাগার মধ্যে বলবো লেখার কোথাও উক্তিগুলো কোটেশন মার্ক দিয়ে আলাদা না করার কারণে মাঝে মাঝেই পড়তে একটু কষ্ট হচ্ছিলো। পছন্দের কয়েকটা লাইন তুলে দিলাম নিচে।
"কিছু কিছু সময়ে আমাদের কিছু বলতে নেই, শুধু শুনে যেতে হয়। মনের বাষ্পগুলো উড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা একটা মানুষ খুঁজি। যে কোনো জাজমেন্টে যাবে না, কথার মাঝখানে নিজের মন্তব্য চাপিয়ে দেবে না, তুমি ভুল করেছ, তোমাকেই পস্তাতে হবে বলবে না। আমরা মাঝে মাঝে এমন মানুষ খুঁজি যে শুধু শুনবে। সপ্তাহ শেষের ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরলে আমাদের মনে হয় একটু সবুজের মাঝে বসে থাকি, সুনসান নীরব থাকুক, একটু তাজা নিশ্বাস নিই। একটু নিরিবিলি ঘরের মতো একটা নীরব বন্ধু আমরা খুঁজি মাঝে মাঝে। যার কাছে হয়তো কোনো সলিউশান থাকবে না; কিন্তু একটু কথা বলে আমরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচব।"
"এরকম বিচিত্র অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জীবন ও কখনো চায়নি। খুব সহজ একটা জীবন চেয়েছিল ও৷ কিন্তু জীবনের গোলকধাঁধায় কিছুটা পথ পাড়ি দেওয়ার পর ওর মনে হতে লাগল ও একটা দেজাভুর মধ্যে আটকা পড়ে আছে। যত ছুটতে চায় সময়ের পরিক্রমা বদলে গেলে নিজেকে আবিষ্কার করে ঠিক একই জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে।"
‘কিছু কিছু সময় মনের বাষ্পগুলো উড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা একটা মানুষ খুঁজি। যে কোনো জাজমেন্টে যাবে না, কথার মাঝখানে নিজের মন্তব্য চাপিয়ে দেবে না, তুমি ভুল করেছ, তোমাকে পস্তাতে হবে বলবে না। যার কাছে হয়তো কোনো সলিউশন থাকবে না, কিন্তু একটু কথা বলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচব।’
গল্প সংকলন পড়ার সবচেয়ে পছন্দের দিক হলো গল্পের নামগুলো। আমার ছোট বড় সব ধরনের গল্প পড়ে তার নামকরণের সার্থকতা খোঁজা একটা অভ্যাস! (ছোট গল্পে তা তাড়াতাড়ি বোঝা যায় তাই বেশি ভালো লাগে) “সায়ংকালের পর” গল্প সংকলনে মোট গল্প রয়েছে ১৪টি। সায়ংকাল শব্দটা এমনিতেই সুন্দর। এর ভেতরের গল্পগুলোও ভালো লেগেছে। বিশেষ করে 'বন্ধু', থিয়া', 'মিস্টার ইয়েলো', 'অমির আকাশ'। ছোট ছোট গল্পগুলো তে আছে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, সম্পর্কের জটিলতা, একাকিত্ব অর্থাৎ আমাদের প্রতিদিনকার জীবনের নানা মুহূর্ত। প্রতিটি গল্পের সাথে মিলিয়ে কিছু চিত্রকর্মও আছে যা বইটির প্রতি ভালো লাগা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
লেখিকা @sunsuhanmaeum___ অসংখ্য ধন্যবাদ বইটি পাঠানোর জন্য। আশা করছি ভবিষ্যতে আরো চমৎকার কিছু সাহিত্যকর্ম উপহার দেবেন। শুভকামনা ❤️
"সায়ংকাল মানে সন্ধ্যাবেলা। সারাদিনের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় সময়। কখনো এই সময় আমাদের মনের মাঝে না জানা এক হাহাকারের সূচনা করে…"লাইনগুলো বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে নেওয়া। সন্ধ্যা নামা এই সময়টা আসলেই একটু কেমন যেন, কেমন যেন মেলানকলিক। সবার কাছে কি না জানি না, তবে আমার কাছে তেমনটাই লাগে। দিন এবং রাতের মাঝেখানের এই সময়টা কেমন যেন একটা ওলটপালট অনুভূতি কাজ করে। ধীরে ধীরে সেই অনুভূতিটা মিলিয়ে যায় অন্ধকারের মাঝে। আর তার সাথে মেলানকলিক ভাবটাও কেটে যায়।এই বইটাকে আমি মেলানকলিক বলবো, তবে তা কিন্তু পজেটিভ অর্থে। কিছু মেলানকলির মধ্যে একধরণের ভালো লাগা জড়িয়ে থাকে। কিছু মেলানকলি আমাদের ভাবতে শেখায়, অনুভব করতে শেখায়। এই বইটাও ঠিক তেমন। কলেবরে বইটি ছোট হলেও এর ভেতরের গল্পগুলোর গভীরতা কিন্তু অনেক।ছোট ছোট বেশ কয়েকটি গল্প নিয়ে সাজানো সুন্দর একটি বই। বইয়ের নামের সাথে এর প্রচ্ছদ এবং প্রত্যেক গল্পের নামের সাথে মিলিয়ে আঁকা ছবিগুলোও চমৎকার। গল্পগুলোর ধরণ খানিকটা কাছাকাছি মনে হলেও প্রত্যেকটি গল্পের নিজস্ব স্বকীয়তা বিদ্যমান। লেখিকা যে নিজেও অনেক পড়েন তা গল্পগুলো পড়লেই বোঝা যায়। লেখিকার জন্য শুভ কামনা। আশা করি ভবিষ্যতে আমরা তাঁর কাছ থেকে আরও চমৎকার কিছু বই উপহার পাবো।