রানার কমাণ্ডো ট্রেইনার দুর্ধর্ষ রিটায়ার্ড যোদ্ধা বেন হ্যানন হারিয়ে গেছেন স্কটল্যান্ডে। সাহায্য চাইল তাঁর ক্রন্দনরতা স্ত্রী, মিরাণ্ডা। রানা কি জানে, ওই দেশে গেলেই জড়িয়ে যাবে একদল বাজে লোকের জটিল প্যাঁচে?
সোনার মোহরের জন্য সেখানে চলছে তুমুল লোভের ঝড়! সেই প্রবল হাওয়ায় যখন-তখন দপ্ করে নিভে যাচ্ছে মানুষের জীবন-প্রদীপ। রানা অবশ্য শপথ নিয়েছে, যেভাবে হোক খুঁজে বের করবে ওর স্নেহশীল ওস্তাদকে। পাশে এসে দাঁড়াল সুন্দরী পুলিশ অফিসার জেসিকা।
কিন্তু প্রতিপক্ষের চোখে পড়ে গেছে ওরা। লেলিয়ে দেয়া হয়েছে একদল হিংস্র হায়েনা। যেখানে নিজেই বাঁচে কি না সন্দেহ, সেখানে রানা কী করে উদ্ধার করবে আর কাউকে? চলুন, পাঠক, কী ঘটছে দেখি গিয়ে!
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
ছোটবেলায় ভাইয়ার বুকশেলফে টেক্সট বুকের আড়ালে লুকিয়ে রাখা বই উদ্ধার করে বেশ কয়েকটা মাসুদ রানা পড়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল।এরপর ধরা খেয়ে বই গেল সরে।ব্যস ওটুকুই।খুব বেশি বই পড়ার সুযোগ হয়নি এই সিরিজের।তাও শেষ পড়েছি সেই স্কুলের সেভেন কি এইটে পড়াকালীন সময়ে।কিছুদিন আগে আপুর বাসায় গিয়ে এই বই হাতে পড়লো।নতুন বছরের প্রথম বই হিসেবে তাই একে দিয়েই শুরু।অনেক বছর পর পড়ার কারণেই হোক বা ছোটবেলার নস্টালজিয়ার কারণে পড়তে বেশ ভালো লেগেছে।ছোটবেলার নির্ভেজাল জীবনটা এত মিস করি, বিশেষ করে ঐ সময়ে পড়া যেকোনো বই, বইয়ের নাম সামনে এলে একটা মন ভালো করা অনুভূতি কাজ করে।বইয়ের কাহিনী ভালো খারাপের চেয়ে কেন যেন ঐ অনুভূতিটুকুই প্রকট হয়ে ওঠে তখন।
মাসুদ রানাকে নিয়ে এই বইটা ভালো লাগলো। মাসুদ রানা পড়তে গেলে ভাবি মাসুদ রানা সিরিজের বাইরে কোন একটা অনুবাদ বই পড়ছি।😷 যাইহোক, বন্ধুর বিপদে সাড়া দিয়ে যাওয়া নিয়ে মাসুদ রানা সিরিজের আরো একটা বই এবং এই বইটা ভালো লেগেছে।
বন্ধুকে সাহায্য করতে স্কটল্যান্ডের ছোট্ট শহরে হাজির রানা। অজানা কারণে নিহত ১, গুরুতর আহত ১ আর নিখোঁজ সেই বন্ধু। শহরে ঢুকতে ঝামেলা শুরু, পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।
কারা খুন করল? খুনের মোটিভ কী? এসবের সাথে আধুনিক ব্রিটিশ আর্মির গুপ্তসংঘ, সপ্তদশ শতকের ফরাসী ও স্কটিশ রাজার স্বর্ণমুদ্রা কিংবা অজ্ঞাতনামা বিলিয়নিয়ারের সম্পর্কটাই বা কোথায়?
ছোট শহরে স্থানীয় গুণ্ডাদের দমন পীড়ন, পরে নায়কের আগমন ও শত্রু পতন- বরাবরই আমার প্রিয় ঘরানার কাহিনী। ঠিক যেমন প্রিয় এই সিরিজের "গ্রাস" বইটা। তাই জ্যাক রিচার সিরিজটাও পছন্দের। স্বর্ণলিপ্সাতেও তেমনটা পেয়েছি। রানাকে বারের মধ্যে ড্রিঙ্ক করতে গিয়ে মারামারি করতে দেখে খুশির চোটে সব দাঁত বেরিয়ে গেছে। বেশ একটা ওয়াইল্ড ওয়েস্ট ফিল পাচ্ছিলাম।