What do you think?


মুসলমানের ছেলে
কবি হাসান রোবায়েতের নতুন কবিতার বই মুসলমানের ছেলে।
96 pages, Hardcover
Published February 1, 2022
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 28 of 28 reviews
April 13, 2022
৩.৫/৫
"মুসলমানের ছেলে" পড়তে যেয়ে যে কোনো মুসলিম পাঠক প্রথম যে বিস্ময়বোধে আক্রান্ত হবে তা হচ্ছে ধর্মীয় উপমার সাবলীল ব্যবহার।এসব "উপমা" আমাদের প্রাত্যহিক ও ধর্মীয় জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কিন্তু কবিতার জগতে অনাস্বাদিত ও অভূতপূর্ব।
'তুমি চলে গেলে
নিজেকে সেই বাচ্চার মতো মনে হয়,
যার মা
হেফজোখানায় এসে
দেখা করে ফিরে গেল বাড়ি'
'যদি ভুলে যাই, যেন ফিরে আসি তোমার হাতের চাল ধোয়া পানি হয়ে–সুরা ইখলাস যেইভাবে বারবার ফিরে আসে মুসল্লির ওয়াক্ত নামাজে'
'তোমার খেয়াল রাখি,যদি তুমি হারাও আবার
যেভাবে খেয়াল রাখে মুসল্লিরা নামাজে কাতার'
'একদিন ভুল করে ধরেছিলে আমার আঙুল
রুকুতে যেভাবে কেউ ভুলে পড়ে সেজদার দোয়া'
'তুমি কি প্রথম রোজা রাখতে চাওয়া শিশুদের জিদ!'
কাব্যগ্রন্থের শুরুতেই কবি নিজেকে শুধু মুসলমানের ছেলে হিসেবে ঘোষণা করেছেন; হানাফি নয়, আহলে হাদীস নয়, কাদিয়ানি নয়-শুধুই মুসলমান। প্রথম ও তৃতীয় কবিতা মুসলিমদের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, আধুনিক সময়ে মুসলমানের প্রচলিত ধর্মবিশ্বাস নিয়ে বিবাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে লেখা।কিন্তু উৎসাহী হয়ে নড়েচড়ে বসতে না বসতেই দেখা গেলো প্রায় পুরো বইটির বিষয় প্রেম, মানবীর প্রতি প্রেম, এক হিন্দু নারীর প্রতি ব্যর্থ প্রেম।যে প্রেমকে কবি ধর্মীয় অনুষঙ্গ ও রূপকের সাহায্যে প্রকাশ করেছেন।বেশকিছু কবিতায় ভাবের ও উপমার পুণরাবৃত্তি চলে এসেছে। বিদ্রোহ ক্রমশ সমর্পণে বদলে যাওয়ায় বই পাঠের মুগ্ধতা শেষাবধি পুরোপুরি বজায় থাকেনি। তারপরও কবি তার নিরুচ্চার কিন্তু দৃঢ় যে বিশ্বাস নিয়ে বইটি লিখেছেন তার জন্যই "মুসলমানের ছেলে" উল্লেখযোগ্য।
কবিকে নিয়ে দুয়েকটা কথা-গল্পকার বা ঔপন্যাসিক হওয়ার চাইতে কবি হয়ে ওঠা কঠিন।কথাসাহিত্য শুধু গুণে ভালো হলেই হয় কিন্তু কবির কবিতাকে গুণে উৎকৃষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিজস্বতার দায়ও বহন করতে হয়। জীবনানন্দের অচেনা কোনো কবিতা কোথাও পড়লে আমরা মুহূর্তেই সেটা জীবনানন্দের কবিতা বলে চিহ্নিত করতে পারি এই নিজস্বতার গুণে। নিজস্ব স্টাইল না থাকলে সেই কবিকে যথার্থ কবিই বলা যায় না।হাসান রোবায়েত তার প্রতিটা কাব্যগ্রন্থে নিজস্বতার ছাপ রেখে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত। এই কবি টিকে থাকার জন্যই এসেছেন।
'তোমার চলে যাওয়া
সূরা বাকারার মতো
দীর্ঘ-'
"মুসলমানের ছেলে" পড়তে যেয়ে যে কোনো মুসলিম পাঠক প্রথম যে বিস্ময়বোধে আক্রান্ত হবে তা হচ্ছে ধর্মীয় উপমার সাবলীল ব্যবহার।এসব "উপমা" আমাদের প্রাত্যহিক ও ধর্মীয় জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কিন্তু কবিতার জগতে অনাস্বাদিত ও অভূতপূর্ব।
'তুমি চলে গেলে
নিজেকে সেই বাচ্চার মতো মনে হয়,
যার মা
হেফজোখানায় এসে
দেখা করে ফিরে গেল বাড়ি'
'যদি ভুলে যাই, যেন ফিরে আসি তোমার হাতের চাল ধোয়া পানি হয়ে–সুরা ইখলাস যেইভাবে বারবার ফিরে আসে মুসল্লির ওয়াক্ত নামাজে'
'তোমার খেয়াল রাখি,যদি তুমি হারাও আবার
যেভাবে খেয়াল রাখে মুসল্লিরা নামাজে কাতার'
'একদিন ভুল করে ধরেছিলে আমার আঙুল
রুকুতে যেভাবে কেউ ভুলে পড়ে সেজদার দোয়া'
'তুমি কি প্রথম রোজা রাখতে চাওয়া শিশুদের জিদ!'
কাব্যগ্রন্থের শুরুতেই কবি নিজেকে শুধু মুসলমানের ছেলে হিসেবে ঘোষণা করেছেন; হানাফি নয়, আহলে হাদীস নয়, কাদিয়ানি নয়-শুধুই মুসলমান। প্রথম ও তৃতীয় কবিতা মুসলিমদের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, আধুনিক সময়ে মুসলমানের প্রচলিত ধর্মবিশ্বাস নিয়ে বিবাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে লেখা।কিন্তু উৎসাহী হয়ে নড়েচড়ে বসতে না বসতেই দেখা গেলো প্রায় পুরো বইটির বিষয় প্রেম, মানবীর প্রতি প্রেম, এক হিন্দু নারীর প্রতি ব্যর্থ প্রেম।যে প্রেমকে কবি ধর্মীয় অনুষঙ্গ ও রূপকের সাহায্যে প্রকাশ করেছেন।বেশকিছু কবিতায় ভাবের ও উপমার পুণরাবৃত্তি চলে এসেছে। বিদ্রোহ ক্রমশ সমর্পণে বদলে যাওয়ায় বই পাঠের মুগ্ধতা শেষাবধি পুরোপুরি বজায় থাকেনি। তারপরও কবি তার নিরুচ্চার কিন্তু দৃঢ় যে বিশ্বাস নিয়ে বইটি লিখেছেন তার জন্যই "মুসলমানের ছেলে" উল্লেখযোগ্য।
কবিকে নিয়ে দুয়েকটা কথা-গল্পকার বা ঔপন্যাসিক হওয়ার চাইতে কবি হয়ে ওঠা কঠিন।কথাসাহিত্য শুধু গুণে ভালো হলেই হয় কিন্তু কবির কবিতাকে গুণে উৎকৃষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিজস্বতার দায়ও বহন করতে হয়। জীবনানন্দের অচেনা কোনো কবিতা কোথাও পড়লে আমরা মুহূর্তেই সেটা জীবনানন্দের কবিতা বলে চিহ্নিত করতে পারি এই নিজস্বতার গুণে। নিজস্ব স্টাইল না থাকলে সেই কবিকে যথার্থ কবিই বলা যায় না।হাসান রোবায়েত তার প্রতিটা কাব্যগ্রন্থে নিজস্বতার ছাপ রেখে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত। এই কবি টিকে থাকার জন্যই এসেছেন।
March 25, 2022
আমার দাদা ছিলেন মোহাম্মাদি, আব্বাও— একটু সুন্দর ভাষায়, যেখানে সমুদ্রের দূরত্বকে বলা হয় নিঃসঙ্গ সাঁতার, সে ভাষা অনুযায়ী তারা ছিলেন আহলে হাদিস—
পারিবারিক আলাপ দিয়ে শুরু 'মুসলমানের ছেলে'। না! আহলে হাদিস নয়, হানাফী নয়, কাদিয়ানিও নয়। শুধুই মুসলমানের ছেলে।
কবিতায় মুসলমানের ছেলেটি এক হিন্দু মেয়ের প্রেমে পড়েছিল। সহজেই বলা যায় সঙ্গত কারণেই এ প্রেম পরিণতি পায় নি। এই মুসলমানের ছেলেটি খুব ধার্মিক না হলেও তার ছিল ধর্মপ্রীতি আর ধর্মভীতি। মুসলমানের ছেলেটি বলছে-
নামাজে দাঁড়ালেই আমার কেবল মনে পড়ে 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' এই ছোট সূরাটা— এমন ছোট সূরা যে আর নাই, তেমনও তো নয়, কিন্তু প্রথম রাকাতেই আমার কেন সব সময় মনে পড়ে তাকে— আমার তো কত সূরাই মুখস্থ—যেমন সূরা বাকারার প্রথম পঁচিশ আয়াত অথবা সেপারার সবগুলো সূরা— অথচ সেসব মনে পড়ে না কিছুতেই— যেমন একজন ক্লান্ত ভ্যানঅলার মনে পড়ে পানি, হাওয়ায় দুলে ওঠা ফুটিখেতের সবুজ ধূসরতা পার হয়ে একটা নির্জন পাখির মনে পড়ে যায় ঘর, তেমন— তবে কি আমি সারাক্ষণই ঘোষণা করতে চাই— আল্লা এক?
কিন্তু মুসলমানের ছেলে "মুসলমানের বিবাহ বহির্ভূত প্রেম হারাম" এই কথাগুলোকে উপেক্ষা করে প্রেমে পড়েছে। সে বরং সব মিলিয়ে একাকার করে বলছে -
খালি তোমার দিকেই ফুল হয়ে ফোটে বেহেশতে আমার কৃষ্ণচূড়ার বন—
আর,
তোমার সরলতা ভালো লাগে—
যেভাবে হেফজোখানার শিশুরা ফজরের সেজদায় ঘুমায়া পড়ে সহজে
কিংবা,
তোমার ফিরে আসা বোখারির শেষ হাদিসের মতো সুন্দর—
শেষ রক্ষা তার হয়নি।
কে যে কাকে চায় আর কাকে করে বুকের মানিক
কার জন্যে ডুবে মরে, আজীবন কাকে দেয় ধীক—
আর সে জন্যেই কিনা মুসলমানের ছেলেটি নিজেকে ভোলানোর চেষ্টা করে, স্মরণ করে অবহেলা, কটাক্ষও করে-
আমার গানের কথা বাকি
আজও একা আঙিনায় নিম
দাও নি মেঘের ছায়া যাকে
সে ছিল শুধুই মুসলিম—
কিংবা,
বোতাম লাগাতে গিয়ে
বলে দিও সবটা যা বাকি
‘মুসলমানের ছেলে
কবিতা লিখতে পারে নাকি—!
কিংবা,
আজো পশ্চিমে টারবাইনের রোদে
ঘোরে সালফার মেঘে ফিশানের ভঙ্গি
ফেলে নিউট্রন আমেরিকা ইয়োরোপ
নারঙ্গী-হাওয়া ভীত কাঁপে, শোনো, সঙ্গী
আমাকেই শুধু বলবে তুমিও জঙ্গি—?
এই কবিতায় শুধুই যে একজন প্রেমিক তার প্রাক্তনের ব্যাপারে হা-হুতাশ করেই যাচ্ছে ব্যাপারটা তা নয়। এখানে এমন কিছু টপিক উঠে এসেছে যে তা নিয়ে বোদ্ধাদের তর্কে বিতর্কে আকাশ বাতাস ভারি হওয়াও তেমন কোনো ব্যাপার নয়। একজন মুসলমানের ছেলে শুধু তার মুসলমান হওয়ার স্বকীয়তা ঘোষণা করছে গলা উঁচিয়ে। যৌক্তিক প্রশ্ন সে রেখে যায় পাঠকের কাছে।
এর আগে পড়েছি তারাধূলিপথ, আনোখা নদী, মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বই এবং মাধুডাঙাতীরে বইয়ের বেশ কিছুটা। এবারে মুসলমানের ছেলে কবিতার বই পড়ে মনের একটা ধারণা পাকাপোক্ত হয়ে গেল বোধহয়- ইনি কবিতার জগতে থেকে যাবেন অবলীলায়। আমি আগেই বলেছি উনার শব্দচয়ন ঈর্ষণীয় আর আনোখাও বটে। এই যে, কবিতার লাইনগুলোতে ব্যবহার করা শব্দগুলোই পরবর্তীতে জানান দেবে আমরা হাসান রোবায়েতের কলমে সৃষ্ট; যেমনটা সাহিত্য জগতের আঁকে-বাঁকে কিছু কবিতার লাইন দেখেই বোঝা যায় তা একজন নির্জনতম কবির।
আমি যেহেতু খুব বেশি কবি পড়ি নি কিংবা ফারসি, ইসলামীভাব ধারার কবিতা পড়া হয়নি কাজেই আমার কাছে এগুলো অদেখা।
সবমিলিয়ে 'মুসলমানের ছেলে' বইটি অদ্ভুত লেগেছে আমার কাছে। পড়তে গিয়ে নিজের সাথে তর্কাতর্কি করা যায়। আবার কবির ইসলামিস্ট কিংবা নন-ইসলামিস্ট হওয়ার ব্যাপারেও প্রশ্ন আসতে পারে। আমার আর কী! আমার দিন গুজরান হচ্ছে; কবির কবিতা পড়ছি সময়ে অসময়ে! এই তো..
মানুষ এমন— একদিন অরণ্যের পাশ দিয়ে যেতে যেতে নিজেকেই ভাবে বন—
~২৫ মার্চ, ২০২২
Read
February 28, 2022বইটা পুরাই ব্লাইন্ড বাই করেছি, শুধুমাত্র প্রচ্ছদ দেখে। এত সুন্দর মিনিমাল সামনে থেকে না দেখলে বোঝা যায় না। তবে কবির রেকমেন্ডশন অবশ্য ছিল।
কবিতাগুলোর বেইজলাইন বা লিংকেজ ছিল বাংগালি মুসলমান জীবন। এনালজি বা উপমা গুলো সরাসরি মুসলিম জীবনের সাথে সমান্তরালে বা লম্বালম্বি টানা।
আমি অনেকগুলো কবিতার সাথেই কানেক্টেড হইতে পারসি আবার অনেকগুলোতে পারিনাই।
"তোমার সরলতা
ভালো লাগে ----
যেভাবে হেফজোখানার শিশুরা
ফযরের সেজদায়
ঘুমায়া পড়ে সহজে"
কবিতাগুলোর বেইজলাইন বা লিংকেজ ছিল বাংগালি মুসলমান জীবন। এনালজি বা উপমা গুলো সরাসরি মুসলিম জীবনের সাথে সমান্তরালে বা লম্বালম্বি টানা।
আমি অনেকগুলো কবিতার সাথেই কানেক্টেড হইতে পারসি আবার অনেকগুলোতে পারিনাই।
"তোমার সরলতা
ভালো লাগে ----
যেভাবে হেফজোখানার শিশুরা
ফযরের সেজদায়
ঘুমায়া পড়ে সহজে"
March 4, 2022
সময়কে ধরে রাখার একটা ব্যাপার কিছু কবির মধ্যে আগেও ছিলো। এজন্যই হয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেছিলেন, 'এই যে বলা হয় অমুক ইসলামী ভাবধারার কবি, এটা একদমই ভুল কথা। আসলে সময়টাই ছিলো এমন। আর অমুক কবি সেই সময়টাই শুধু ধারণ করেছিলেন'। এই বইটির ক্ষেত্রেও আমি এই মন্তব্য দিয়েই বলতে পারি। কবিতা আমি বুঝি না ঠিক কিন্তু বলতে পারি, এই বইটা সময়কে বেশ ভালোভাবে ধারণ করেছে।
মুসলমানের ছেলে হওয়ায় এই সংকটগুলোর সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। প্রতিটা কবিতা আমাকে নিয়ে গেছে শৈশব থেকে কৈশোরের এমন সব সময়ে, যখন আমার পরিচয় ছিলো- আমি মুসলমানের ছেলে।
হাসান রোবায়েতের লেখার রূপান্তর হচ্ছে, তা এই বইয়ের কবিতাগুলো পড়লে স্পষ্ট হয়। প্রথম থেকে তার বইগুলো পড়া শুরু করলে মুসলমানের ছেলে নামক এই বইতে এসে আপনি বুঝবেন হাসান রোবায়েত এখন আর কবিতা লিখছেন না, মনে হবে কবিতাগুলো হয়ে উঠছে নিজের মত করে।
ধর্মীয় নাম হওয়ায় এই বইটি নিয়ে বিভিন্ন মতামত দেবার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নেতিবাচক বা ইতিবাচক যে কোন মতামতের বাইরেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে কবিতার অন্যরকম এক পরিচয়- আমি মুসলমানের ছেলে।
উদারপন্থী কবিতাপাঠকারী যে কারও জন্য এই বইটি পড়ার পরামর্শ রইলো।
*** *** ***
Poets already had the feature of capturing time. This may be the reason why Dhaka University Professor Mohammad Azam said, 'It is wrong to say that this is a poet of such Islamic ideology. In fact, that was the time. And such a poet only captured that time '. In the case of this book too, I can say with this comment. Poetry I don't understand exactly but I can say, this book captures the time quite well.
Being the son of a Muslim, I am familiar with these crises. Every poem has taken me from childhood to adolescence when I had an identity - I am the son of a Muslim.
Hasan Robayet's writing is being transformed, it is clear from reading the poems in this book. If you start reading his books from the beginning, you will understand that Hasan Robayet is not writing poetry anymore, it will seem that the poems are becoming like his own.
Being a religious name, this book has created an opportunity to give different opinions. A different identity of poetry is emerging out of any negative or positive opinion - I am the son of a Muslim.
This book is a must-read for anyone reading liberal poetry.
মুসলমানের ছেলে হওয়ায় এই সংকটগুলোর সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। প্রতিটা কবিতা আমাকে নিয়ে গেছে শৈশব থেকে কৈশোরের এমন সব সময়ে, যখন আমার পরিচয় ছিলো- আমি মুসলমানের ছেলে।
হাসান রোবায়েতের লেখার রূপান্তর হচ্ছে, তা এই বইয়ের কবিতাগুলো পড়লে স্পষ্ট হয়। প্রথম থেকে তার বইগুলো পড়া শুরু করলে মুসলমানের ছেলে নামক এই বইতে এসে আপনি বুঝবেন হাসান রোবায়েত এখন আর কবিতা লিখছেন না, মনে হবে কবিতাগুলো হয়ে উঠছে নিজের মত করে।
ধর্মীয় নাম হওয়ায় এই বইটি নিয়ে বিভিন্ন মতামত দেবার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নেতিবাচক বা ইতিবাচক যে কোন মতামতের বাইরেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে কবিতার অন্যরকম এক পরিচয়- আমি মুসলমানের ছেলে।
উদারপন্থী কবিতাপাঠকারী যে কারও জন্য এই বইটি পড়ার পরামর্শ রইলো।
*** *** ***
Poets already had the feature of capturing time. This may be the reason why Dhaka University Professor Mohammad Azam said, 'It is wrong to say that this is a poet of such Islamic ideology. In fact, that was the time. And such a poet only captured that time '. In the case of this book too, I can say with this comment. Poetry I don't understand exactly but I can say, this book captures the time quite well.
Being the son of a Muslim, I am familiar with these crises. Every poem has taken me from childhood to adolescence when I had an identity - I am the son of a Muslim.
Hasan Robayet's writing is being transformed, it is clear from reading the poems in this book. If you start reading his books from the beginning, you will understand that Hasan Robayet is not writing poetry anymore, it will seem that the poems are becoming like his own.
Being a religious name, this book has created an opportunity to give different opinions. A different identity of poetry is emerging out of any negative or positive opinion - I am the son of a Muslim.
This book is a must-read for anyone reading liberal poetry.
February 21, 2024
(৩০ নম্বর কবিতা থেকে) প্রতিটি কবিতার শেষের দুটো লাইন যেনো সুলতান'স ডাইনের কাচ্চির শেষে এক গ্লাস বোরহানি। সবগুলো কবিতা পড়ার সময় মন বারবার চাচ্ছিল এটা জানতে যে, শেষের দুই লাইনে কী অপেক্ষা করছে না জানি!
কয়েকটি লাইন শেয়ার না করে পারছি না:
❝আমি তো নই-ই কেউ তা-ও যদি কোনো কথা থাকে
তোমাকে দেখার পরও বহুকাল না দেখাই লাগে—❞
❝মানুষ যাকেই চায় ভুল করে চায় জেনেশুনে
নিজেকে পোড়াতে চেয়ে হাত রাখে গভীর উনুনে-❞
❝তোমার খেয়াল রাখি, যদি তুমি হারাও আবার
যেভাবে খেয়াল রাখে মুসল্লিরা নামাজে কাতার-❞
❝এখন কোথায় গেলে পাব আমি তোমার হদিস
যে কেউ আড়ালে গেলে জেনে বুঝে রেখে যায় বিষ-❞
❝তোমার ছুরির নিচে আমার তো পশুর দশাই
দু চোখে সুরমা দেওয়া তুমি যেন তরুণ কসাই-❞
❝আমাকে দাফন করে চলে গেছ হে গোরখােদক
তোমাকে দেখার জন্য কবরেও খুলে আছি চোখ-❞
❝তোমাকেই খুঁজি আমি তুমি যেন চোখের আরাম
নামাজে যেভাবে খোঁজে ছোেট সুরা অলক্ষ্যে ঈমাম-❞
❝পানির পিপাসা তা-ও পানি খেলে হয়ে যায় শেষ
তোমাকে পিপাসা লাগে তুমি যেন কাছের বিদেশ-❞
❝আমরা কোথাও আছি একই রোদে সান্দ্র হাওয়ায়
এ শহর ভালো লাগে তোমাকে দেখার অছিলায়-❞
কয়েকটি লাইন শেয়ার না করে পারছি না:
❝আমি তো নই-ই কেউ তা-ও যদি কোনো কথা থাকে
তোমাকে দেখার পরও বহুকাল না দেখাই লাগে—❞
❝মানুষ যাকেই চায় ভুল করে চায় জেনেশুনে
নিজেকে পোড়াতে চেয়ে হাত রাখে গভীর উনুনে-❞
❝তোমার খেয়াল রাখি, যদি তুমি হারাও আবার
যেভাবে খেয়াল রাখে মুসল্লিরা নামাজে কাতার-❞
❝এখন কোথায় গেলে পাব আমি তোমার হদিস
যে কেউ আড়ালে গেলে জেনে বুঝে রেখে যায় বিষ-❞
❝তোমার ছুরির নিচে আমার তো পশুর দশাই
দু চোখে সুরমা দেওয়া তুমি যেন তরুণ কসাই-❞
❝আমাকে দাফন করে চলে গেছ হে গোরখােদক
তোমাকে দেখার জন্য কবরেও খুলে আছি চোখ-❞
❝তোমাকেই খুঁজি আমি তুমি যেন চোখের আরাম
নামাজে যেভাবে খোঁজে ছোেট সুরা অলক্ষ্যে ঈমাম-❞
❝পানির পিপাসা তা-ও পানি খেলে হয়ে যায় শেষ
তোমাকে পিপাসা লাগে তুমি যেন কাছের বিদেশ-❞
❝আমরা কোথাও আছি একই রোদে সান্দ্র হাওয়ায়
এ শহর ভালো লাগে তোমাকে দেখার অছিলায়-❞
March 14, 2023
৩.৫/৩
প্রাক্তন প্রেমের সারল্যমাখা অনূভুতির বয়ান ধর্মের পবিত্রতায় রূপ নিয়ে হাসনাত রোবায়েতর "মুসলমানের ছেলে" কবিতাগুলোয় যেভবে উঠে এসেছে, সেটা মক্তবে মাথাশরীর দুলিয়ে কোরান শরীফ পাঠের সময় টিনের চালে পাখির কলধ্বনির মতই শান্তি দেয়।
প্রাক্তন প্রেমের সারল্যমাখা অনূভুতির বয়ান ধর্মের পবিত্রতায় রূপ নিয়ে হাসনাত রোবায়েতর "মুসলমানের ছেলে" কবিতাগুলোয় যেভবে উঠে এসেছে, সেটা মক্তবে মাথাশরীর দুলিয়ে কোরান শরীফ পাঠের সময় টিনের চালে পাখির কলধ্বনির মতই শান্তি দেয়।
Read
May 23, 2023"ব্রীজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশ" বইটা পড়ার পর এটা কিনেছিলাম। এই বইটা ভালো লাগেনি।
June 26, 2023
গত বছর বইমেলার সময়ে বইটা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল। সমসাময়িক কবিতার বইয়ের তালিকা করলে এই বইটাকে সামনে রাখবেন অনেকেই! গদ্য কবিতার মিশ্রণ। সুন্দর কিছু লেখা রয়েছে। মূলত প্রেমকে উপজীব্য করেই উপমার সচেতন প্রয়োগে কবিতাগুলো হয়ে উঠেছে বেদনাবিধুর। বইয়ের প্রচ্ছদটাও সুন্দর। হ্যাপি রিডিং।
December 31, 2023
৩.৫/৫
হাসান রোবায়েতের কাব্যভাষা অভিনব। পড়তে বেশ লেগেছে।
হাসান রোবায়েতের কাব্যভাষা অভিনব। পড়তে বেশ লেগেছে।
September 18, 2024
তোমার চলে যাওয়া সূরা বাকারার মতো দীর্ঘ।
March 1, 2023
‘If a poem hasn’t ripped apart your soul;
You haven’t experienced poetry’
Edgar Allan Poe
এই কথাটির সত্যতা আমার সম্মুখে এত তীব্রভাবে যে পরিস্ফুট হবে হাসান রোবায়েতের ‘মুসলমানের ছেলে’ পড়ার আগে কখনো ভাবতেই পারিনি।
‘আমি তো করুণ মীন হাঁসফাঁস মাটিতে জীবন
তুমি ছিলে অপরূপ তলতা বাঁশের কোনো ছিপ
আমাকে টেনেছ কাছে যেইভাবে টেনেছ আজান
আমার নামাজে পড়া তুমি যেন দরুদ শরিফ—‘
রোবায়েত ভাই’র কাব্যের একটা বড় গুণ এর অকৃত্রিমতা। এই অকৃত্রিম কাব্যের স্বাদ এর আগে আমরা পেয়েছি শাহ্ মুহম্মদ সগীর, দৌলত উজির বাহরাম খাঁ-দের মতো কবিদের কাব্যে। হাসান রোবায়েত যখন লেখেন:—
‘খালি তোমার দিকেই ফুল হয়ে ফোটে বেহেশতে আমার কৃষ্ণচূড়ার বন—‘
হৃদয়ের এত কাছাকাছি এসে পৌঁছায় এই কথা, এত গভীরভাবে স্পর্শ করে, এত করুণভাবে যে, জড়িয়ে ধরা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এমন নিরুপায় হয়ে যাই, এমন অসহায় মনে হয় নিজেকে।
‘তোমাকে হঠাৎ যেন দেখতে পাই আজারে-বাজারে
কখনো স্বামীর পাশে হাত ধরে থাকা রিকশায়
তোমার শাঁখার গায়ে আমি যেন নগরীর ধুলা
প্রেম তো এমন ক্ষত ওষুধে যা আরও বেড়ে যায়—‘
মধ্যযুগের প্রণয়কাব্য পড়াকালীন যেভাবে দ্রবীভূত হয়েছি, ঠিক তেমন অনুভূতিই আবারও হয়েছে ‘মুসলমানের ছেলে’ পড়ে। কাব্যগ্রন্থের প্রতিটা লাইনের শ্বাসপ্রশ্বাসে বেহুলা বাংলার ঘ্রাণ।
আমি ইন্টেলেকচুয়াল নই, এক অতীব গ্রাম্য সাধারণ পাঠক। তবুও এটুকু বলি, এই বই আবহমান বাংলা কাব্য-সাহিত্যে একটা উল্লেখযোগ্য স্থান নিয়ে থাকবে।
You haven’t experienced poetry’
Edgar Allan Poe
এই কথাটির সত্যতা আমার সম্মুখে এত তীব্রভাবে যে পরিস্ফুট হবে হাসান রোবায়েতের ‘মুসলমানের ছেলে’ পড়ার আগে কখনো ভাবতেই পারিনি।
‘আমি তো করুণ মীন হাঁসফাঁস মাটিতে জীবন
তুমি ছিলে অপরূপ তলতা বাঁশের কোনো ছিপ
আমাকে টেনেছ কাছে যেইভাবে টেনেছ আজান
আমার নামাজে পড়া তুমি যেন দরুদ শরিফ—‘
রোবায়েত ভাই’র কাব্যের একটা বড় গুণ এর অকৃত্রিমতা। এই অকৃত্রিম কাব্যের স্বাদ এর আগে আমরা পেয়েছি শাহ্ মুহম্মদ সগীর, দৌলত উজির বাহরাম খাঁ-দের মতো কবিদের কাব্যে। হাসান রোবায়েত যখন লেখেন:—
‘খালি তোমার দিকেই ফুল হয়ে ফোটে বেহেশতে আমার কৃষ্ণচূড়ার বন—‘
হৃদয়ের এত কাছাকাছি এসে পৌঁছায় এই কথা, এত গভীরভাবে স্পর্শ করে, এত করুণভাবে যে, জড়িয়ে ধরা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এমন নিরুপায় হয়ে যাই, এমন অসহায় মনে হয় নিজেকে।
‘তোমাকে হঠাৎ যেন দেখতে পাই আজারে-বাজারে
কখনো স্বামীর পাশে হাত ধরে থাকা রিকশায়
তোমার শাঁখার গায়ে আমি যেন নগরীর ধুলা
প্রেম তো এমন ক্ষত ওষুধে যা আরও বেড়ে যায়—‘
মধ্যযুগের প্রণয়কাব্য পড়াকালীন যেভাবে দ্রবীভূত হয়েছি, ঠিক তেমন অনুভূতিই আবারও হয়েছে ‘মুসলমানের ছেলে’ পড়ে। কাব্যগ্রন্থের প্রতিটা লাইনের শ্বাসপ্রশ্বাসে বেহুলা বাংলার ঘ্রাণ।
আমি ইন্টেলেকচুয়াল নই, এক অতীব গ্রাম্য সাধারণ পাঠক। তবুও এটুকু বলি, এই বই আবহমান বাংলা কাব্য-সাহিত্যে একটা উল্লেখযোগ্য স্থান নিয়ে থাকবে।
March 17, 2023
শেষ হওয়াটা এত দীর্ঘ যেনো সূরা বাকারাহ'র মতো!
হাসান রোবায়েত কালক্রম অতিক্রম করছেন, করে যাবেন।
হাসান রোবায়েত কালক্রম অতিক্রম করছেন, করে যাবেন।
October 8, 2022
তোমার সরলতা
ভালো লাগে
যেভাবে হেফজোখানার শিশুরা
ঘুমায়া পড়ে সহজে
বলছেন কবি হাসান রোবায়েত। এত সরল, সাবলীলভাবে কবিতা বলা যায়! আমার লাগছিল, আমি ডুবে যাচ্ছি তার শব্দের ফাঁকে, উপমাগুলি বুনছিল কোনো জমিতে, এবং তা থেকে তখনই জন্মাচ্ছিল অংকুর। আমি কবিতা খুব পড়ি না তা। তাই কবিতার বিষয় শূন্যজ্ঞান বলা চলে। তবে আল মাহমুদের পর হাসান রোবায়েতের কবিতার পঙ্ক্তি আমার নজর কাড়লো। আমার সবচে' অবাক লেগেছে ধর্ম, ধর্মবই, ধর্মের মানুষগুলিকে নিয়ে এত সুন্দর বিবরণ দেওয়া যায় এ বিষয়টা। যখন ফার্সি কী উর্দূ কবিতা পড়েছি, তখন এমনটি পেয়েছি। কবি ফখরুখের ভাষায়ও এত সরল-সহজ স্বীকারোক্তি লাগেনি আমার কাছে।
এখানে কবি তার না পাওয়া কোনো প্রেমিকার উদ্দেশ্যে কবিতা বলছেন। এক এক করে। আর উপমা, উদাহরণ দেওয়া হচ্ছিল ধর্ম, ধর্মের মানুষ নিয়ে। যাদেরকে আমরা বাংলা শিল্প-সাহিত্যে খুব কম স্থান দেই।
ভালো লাগে
যেভাবে হেফজোখানার শিশুরা
ঘুমায়া পড়ে সহজে
বলছেন কবি হাসান রোবায়েত। এত সরল, সাবলীলভাবে কবিতা বলা যায়! আমার লাগছিল, আমি ডুবে যাচ্ছি তার শব্দের ফাঁকে, উপমাগুলি বুনছিল কোনো জমিতে, এবং তা থেকে তখনই জন্মাচ্ছিল অংকুর। আমি কবিতা খুব পড়ি না তা। তাই কবিতার বিষয় শূন্যজ্ঞান বলা চলে। তবে আল মাহমুদের পর হাসান রোবায়েতের কবিতার পঙ্ক্তি আমার নজর কাড়লো। আমার সবচে' অবাক লেগেছে ধর্ম, ধর্মবই, ধর্মের মানুষগুলিকে নিয়ে এত সুন্দর বিবরণ দেওয়া যায় এ বিষয়টা। যখন ফার্সি কী উর্দূ কবিতা পড়েছি, তখন এমনটি পেয়েছি। কবি ফখরুখের ভাষায়ও এত সরল-সহজ স্বীকারোক্তি লাগেনি আমার কাছে।
এখানে কবি তার না পাওয়া কোনো প্রেমিকার উদ্দেশ্যে কবিতা বলছেন। এক এক করে। আর উপমা, উদাহরণ দেওয়া হচ্ছিল ধর্ম, ধর্মের মানুষ নিয়ে। যাদেরকে আমরা বাংলা শিল্প-সাহিত্যে খুব কম স্থান দেই।
May 6, 2023
হাসান রোবায়েত কালক্রম অতিক্রম করেছেন।।
"সহজ করেই বলি, আজীবন তোমাকেই চাই
নামাজে বেহেশত মেলে প্রেমে মেলে স্বয়ং খোদাই"—
"সহজ করেই বলি, আজীবন তোমাকেই চাই
নামাজে বেহেশত মেলে প্রেমে মেলে স্বয়ং খোদাই"—
May 18, 2026
'যদি ভুলে যাই, যেন ফিরে আসি তোমার হাতের চাল ধোয়া পানি হয়ে-সুরা ইখলাস যেইভাবে বারবার ফিরে আসে মুসল্লির ওয়াক্ত নামাজে'
'তুমি কি প্রথম রোজা রাখতে চাওয়া শিশুদের জিদ!'
'তুমি কি প্রথম রোজা রাখতে চাওয়া শিশুদের জিদ!'
April 5, 2022
মুসলমানের ছেলে || হাসান রোবায়েত
'মুসলমানের ছেলে' জোরে জোরে পড়েছি। কখনও পুরো কবিতা, কখনও অর্ধেক পড়েই বলে উঠেছি, ' ইশশ কী লেখা! এ যে জীবন্ত বাস্তব!
অনেকেই খুব ভালো ভালো পাঠ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুসলমানের ছেলে'র। তাই আমি পাঠ প্রতিক্রিয়া দিচ্ছি না। দিলে হয়তো কাবাবের মধ্যে হাড্ডির সামিল হবে আমার প্রতিক্রিয়া। কারণ আমি ঠিকমতো গুছিয়ে লিখতে পারিনা।
তবু অনুভূতি বলি- ৭২ টা কবিতার মধ্যেই অফুরন্ত উপযোগ রয়েছে, যা ক্ষুধা (কবিতা পড়ার ক্ষুধা, অনুধাবনের ক্ষুধা, ভালোলাগার ক্ষুধা...) মেটাবে ঠিকই কিন্তু উপযোগ শেষ হবে না। বারবার পড়া যাবে, হাজারবার পড়া যাবে।
'মুসলমানের ছেলে' অদূর ভবিষ্যতে ইতিহাস হবে। আর আমি এখন থেকেই সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইলাম।
Raihan Musfiq
'মুসলমানের ছেলে' জোরে জোরে পড়েছি। কখনও পুরো কবিতা, কখনও অর্ধেক পড়েই বলে উঠেছি, ' ইশশ কী লেখা! এ যে জীবন্ত বাস্তব!
অনেকেই খুব ভালো ভালো পাঠ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুসলমানের ছেলে'র। তাই আমি পাঠ প্রতিক্রিয়া দিচ্ছি না। দিলে হয়তো কাবাবের মধ্যে হাড্ডির সামিল হবে আমার প্রতিক্রিয়া। কারণ আমি ঠিকমতো গুছিয়ে লিখতে পারিনা।
তবু অনুভূতি বলি- ৭২ টা কবিতার মধ্যেই অফুরন্ত উপযোগ রয়েছে, যা ক্ষুধা (কবিতা পড়ার ক্ষুধা, অনুধাবনের ক্ষুধা, ভালোলাগার ক্ষুধা...) মেটাবে ঠিকই কিন্তু উপযোগ শেষ হবে না। বারবার পড়া যাবে, হাজারবার পড়া যাবে।
'মুসলমানের ছেলে' অদূর ভবিষ্যতে ইতিহাস হবে। আর আমি এখন থেকেই সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইলাম।
Raihan Musfiq
January 13, 2026
'বোতাম লাগাতে গিয়ে
বলে দিয়ো সবটা যা বাকি
মুসলমানের ছেলে
কবিতা লিখতে পারে নাকি!'
‘মুসলমানের ছেলে’ একটি কবিতার বই। একেবারে নিরেট কবিতা—যা কবিতা বললে আমরা সত্যিই বুঝি। আজকাল অনেক ‘জাতে উঠতে চাওয়া’ কবি কিছু হাবিজাবি লাইন লিখে সেটাকে কবিতা বলে চালাতে চান। সেগুলোর মাথামুণ্ডু আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না; তাই সামনে এলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এই বইয়ের প্রতিটি কবিতা পড়ার পর মনে হয়েছে—এখানে ফাঁকিজুঁকির কোনো চেষ্টা নেই। বরং কবি অত্যন্ত সচেতনভাবে, সময় নিয়ে, কবিতার ছক মেনেই তার সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোকে আমাদের সামনে হাজির করেছেন। নিঃসন্দেহে প্রতিটি কবিতার পেছনে সময় ও শ্রম রয়েছে।
কাব্যগ্রন্থের শুরুতেই কবি নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেন—তিনি হানাফি নন, আহলে হাদীস নন, কাদিয়ানি নন; তিনি শুধুই মুসলমানের ছেলে। প্রথম ও তৃতীয় কবিতায় মুসলিম সমাজের বিভিন্ন গোত্রগত দ্বন্দ্ব, আধুনিক সময়ে মুসলমানের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই জায়গায় পাঠক উৎসাহী হয়ে নড়েচড়ে বসতেই দেখেন—বইটির মূল সুর ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে।
কারণ প্রায় পুরো বইটির বিষয় প্রেম। মানবীর প্রতি প্রেম, বিশেষ করে এক হিন্দু নারীর প্রতি ব্যর্থ প্রেম। এই প্রেম কোনোভাবেই কামনাকে উসকে দেয় না। বরং কবি ধর্মীয় অনুষঙ্গ, প্রতীক ও রূপকের সাহায্যে এমনভাবে প্রেমকে প্রকাশ করেছেন, যেখানে প্রতিটি কবিতায় হৃদয়ের গভীর থেকে একটা নীরব আকুতি উঠে আসে। পড়তে পড়তে মন অজান্তেই কোমল হয়ে যায়।
আমাদের তথাকথিত বড় কবিদের একটা অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলা কবিতা থেকে আরবি, উর্দু, ফার্সি শব্দ সরিয়ে রাখতে চান। অথচ কিছু শব্দ আছে—যেগুলো শুধু ভাষার সঙ্গে নয়, একেবারে আত্মার সঙ্গে মিশে আছে। সেগুলো বাদ দেওয়া কি আদৌ সম্ভব?
নামাজ, রোজা, হজ, কাবা, কিবলা, বেহেশত, মক্তব, হেফজোখানা, দরুদ, মিলাদ, পীর, দরগা, সেপারা—এমন বহু শব্দের অপূর্ব ও নতুনতর ব্যবহার করেছেন হাসান রোবায়েত। হারিয়ে যেতে বসা শব্দগুলোকে তিনি একেবারে নতুন আঙ্গিকে কবিতার শরীরে ফিরিয়ে এনেছেন—এটাই এই বইয়ের বড় শক্তি।
সব কবিতাকে জোড়া দিলে একটা গল্প পাওয়া যায়। সেই গল্পের সঙ্গে কবির ব্যক্তিজীবনের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানি না, তবে বারবার ঘুরে ফিরে মহিমাগঞ্জ আর বাঙালি নদীর উপস্থিতি মনটাকে কেমন যেন উদাস করে দেয়।
তবে সমালোচনার জায়গা একেবারে নেই—এমন নয়। শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে আমি সংবেদনশীল; বইয়ের কয়েকটি জায়গায় ব্যবহৃত কিছু শব্দ পড়তে গিয়ে সামান্য অস্বস্তি অনুভব হয়েছে।
কবি হিসেবে টিকে থাকা সহজ নয়। গল্পকার বা ঔপন্যাসিক শুধু গুণে ভালো হলেই হয়; কিন্তু কবিকে গুণের পাশাপাশি নিজের আলাদা স্বাক্ষর বহন করতে হয়। জীবনানন্দের কোনো অচেনা কবিতা পড়লেও আমরা মুহূর্তেই চিনে ফেলি—এই শক্তির নামই নিজস্বতা। হাসান রোবায়েত তার প্রতিটি কাব্যগ্রন্থে সেই নিজস্বতার চর্চা করছেন, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই কবি টিকে থাকার জন্যই এসেছেন।
বইটি শেষ করে আমার মনে হয়েছে—মুসলমানের ছেলে কবিতা লিখতে পারে বটে। আর দক্ষতা থাকলে আরবি, উর্দু, ফার্সি শব্দ ব্যবহার করেও যে দুর্দান্ত কবিতা লেখা যায়—এই বই তার প্রমাণ।
অনেকদিন পর কোনো কবিতার বই পড়ে এত ভালো লাগলো।
তাই এই ভালোলাগাটা সবার সঙ্গে শেয়ার করলাম। কবিতা পড়তে ভালো লাগলে চোখ বুঁজে ‘মুসলমানের ছেলে’ পড়তে পারেন। আশা করি ঠকবেন না।
বইয়ের তথ্য:
বই: মুসলমানের ছেলে
লেখক: হাসান রোবায়েত
প্রকাশক: ঐতিহ্য
পৃষ্ঠা: ৮০
মুদ্রিত মূল্য: ২০০ টাকা
রেটিং: ৪.৫/৫
বলে দিয়ো সবটা যা বাকি
মুসলমানের ছেলে
কবিতা লিখতে পারে নাকি!'
‘মুসলমানের ছেলে’ একটি কবিতার বই। একেবারে নিরেট কবিতা—যা কবিতা বললে আমরা সত্যিই বুঝি। আজকাল অনেক ‘জাতে উঠতে চাওয়া’ কবি কিছু হাবিজাবি লাইন লিখে সেটাকে কবিতা বলে চালাতে চান। সেগুলোর মাথামুণ্ডু আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না; তাই সামনে এলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এই বইয়ের প্রতিটি কবিতা পড়ার পর মনে হয়েছে—এখানে ফাঁকিজুঁকির কোনো চেষ্টা নেই। বরং কবি অত্যন্ত সচেতনভাবে, সময় নিয়ে, কবিতার ছক মেনেই তার সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোকে আমাদের সামনে হাজির করেছেন। নিঃসন্দেহে প্রতিটি কবিতার পেছনে সময় ও শ্রম রয়েছে।
কাব্যগ্রন্থের শুরুতেই কবি নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেন—তিনি হানাফি নন, আহলে হাদীস নন, কাদিয়ানি নন; তিনি শুধুই মুসলমানের ছেলে। প্রথম ও তৃতীয় কবিতায় মুসলিম সমাজের বিভিন্ন গোত্রগত দ্বন্দ্ব, আধুনিক সময়ে মুসলমানের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই জায়গায় পাঠক উৎসাহী হয়ে নড়েচড়ে বসতেই দেখেন—বইটির মূল সুর ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে।
কারণ প্রায় পুরো বইটির বিষয় প্রেম। মানবীর প্রতি প্রেম, বিশেষ করে এক হিন্দু নারীর প্রতি ব্যর্থ প্রেম। এই প্রেম কোনোভাবেই কামনাকে উসকে দেয় না। বরং কবি ধর্মীয় অনুষঙ্গ, প্রতীক ও রূপকের সাহায্যে এমনভাবে প্রেমকে প্রকাশ করেছেন, যেখানে প্রতিটি কবিতায় হৃদয়ের গভীর থেকে একটা নীরব আকুতি উঠে আসে। পড়তে পড়তে মন অজান্তেই কোমল হয়ে যায়।
আমাদের তথাকথিত বড় কবিদের একটা অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলা কবিতা থেকে আরবি, উর্দু, ফার্সি শব্দ সরিয়ে রাখতে চান। অথচ কিছু শব্দ আছে—যেগুলো শুধু ভাষার সঙ্গে নয়, একেবারে আত্মার সঙ্গে মিশে আছে। সেগুলো বাদ দেওয়া কি আদৌ সম্ভব?
নামাজ, রোজা, হজ, কাবা, কিবলা, বেহেশত, মক্তব, হেফজোখানা, দরুদ, মিলাদ, পীর, দরগা, সেপারা—এমন বহু শব্দের অপূর্ব ও নতুনতর ব্যবহার করেছেন হাসান রোবায়েত। হারিয়ে যেতে বসা শব্দগুলোকে তিনি একেবারে নতুন আঙ্গিকে কবিতার শরীরে ফিরিয়ে এনেছেন—এটাই এই বইয়ের বড় শক্তি।
সব কবিতাকে জোড়া দিলে একটা গল্প পাওয়া যায়। সেই গল্পের সঙ্গে কবির ব্যক্তিজীবনের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানি না, তবে বারবার ঘুরে ফিরে মহিমাগঞ্জ আর বাঙালি নদীর উপস্থিতি মনটাকে কেমন যেন উদাস করে দেয়।
তবে সমালোচনার জায়গা একেবারে নেই—এমন নয়। শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে আমি সংবেদনশীল; বইয়ের কয়েকটি জায়গায় ব্যবহৃত কিছু শব্দ পড়তে গিয়ে সামান্য অস্বস্তি অনুভব হয়েছে।
কবি হিসেবে টিকে থাকা সহজ নয়। গল্পকার বা ঔপন্যাসিক শুধু গুণে ভালো হলেই হয়; কিন্তু কবিকে গুণের পাশাপাশি নিজের আলাদা স্বাক্ষর বহন করতে হয়। জীবনানন্দের কোনো অচেনা কবিতা পড়লেও আমরা মুহূর্তেই চিনে ফেলি—এই শক্তির নামই নিজস্বতা। হাসান রোবায়েত তার প্রতিটি কাব্যগ্রন্থে সেই নিজস্বতার চর্চা করছেন, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই কবি টিকে থাকার জন্যই এসেছেন।
বইটি শেষ করে আমার মনে হয়েছে—মুসলমানের ছেলে কবিতা লিখতে পারে বটে। আর দক্ষতা থাকলে আরবি, উর্দু, ফার্সি শব্দ ব্যবহার করেও যে দুর্দান্ত কবিতা লেখা যায়—এই বই তার প্রমাণ।
অনেকদিন পর কোনো কবিতার বই পড়ে এত ভালো লাগলো।
তাই এই ভালোলাগাটা সবার সঙ্গে শেয়ার করলাম। কবিতা পড়তে ভালো লাগলে চোখ বুঁজে ‘মুসলমানের ছেলে’ পড়তে পারেন। আশা করি ঠকবেন না।
বইয়ের তথ্য:
বই: মুসলমানের ছেলে
লেখক: হাসান রোবায়েত
প্রকাশক: ঐতিহ্য
পৃষ্ঠা: ৮০
মুদ্রিত মূল্য: ২০০ টাকা
রেটিং: ৪.৫/৫
July 23, 2023
ভালো কবিতার বই পাওয়া এখন দুষ্কর। এই দুর্দিনে হাসান রোবায়েত এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ভাষা-উপমার এত সুন্দর ব্যবহার! পড়লে মন জুড়ায়। যাঁরা কবিতা ভালোবাসেন তাঁরা নিঃসন্দেহে এই বইটি পছন্দ করবেন বলেই আমার মনে হয়।
"মানুষ কোথায় যাবে দাঁড়াবে কোথায় বলো আর
যদি না ঘরের মধ্যে থাকে ঘর, প্রেম, সংসার!"
"মানুষ কোথায় যাবে দাঁড়াবে কোথায় বলো আর
যদি না ঘরের মধ্যে থাকে ঘর, প্রেম, সংসার!"
January 26, 2026
কবি হাসান রোবায়েত আমাকে মুগ্ধ করেন।
তবে এই বইটির শেষের দিকের কিছু কবিতা একঘেয়ে লাগলো। সেজন্য এক তারা কম দিলাম।
তবে এই বইটির শেষের দিকের কিছু কবিতা একঘেয়ে লাগলো। সেজন্য এক তারা কম দিলাম।
Read
October 20, 2022' আমার দাদা ছিলেন মোহাম্মাদি, আব্বাও— একটু সুন্দর ভাষায়, যেখানে সমুদ্রের দূরত্বকে বলা হয় নিঃসঙ্গ সাঁতার, সে ভাষা অনুযায়ী তারা ছিলেন আহলে হাদিস'— হাসান রোবায়েত এইখানে 'অপেক্ষাকৃত সুন্দর ভাষা'কে কোনো নিদিষ্ট বস্তুগত বা অবস্তুগত উপাদানের সাথে তুলনা না করে একটা বৃহৎ মনোজগতের সাথে তুলনা করেছেন। মনোজগতকে ব্যখ্যা করতে গিয়ে উদাহরণ হিসেবে এসেছে 'সমুদ্রের দূরত্ব' ও 'নিঃসঙ্গ সাঁতার'। মোহাম্মাদিদের আহলে হাদিস ডাকার বিষয়টা উপমায় টানতে গিয়ে তিনি যে নির্মাণটুকু করেছেন, সেটা নিঃসন্দেহে দারুণ এবং এটা নিয়ে কাজ করা যায়৷
May 4, 2022
মুসলমানের ছেলে
হাসান রোবায়েত
ঐতিহ্য প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮০
মুদ্রিত মূল্য ১৬০/
কবিতাগুলোতে আরবি-ফারসি ও ইসলামি অনুষঙ্গ কে উপমা ও মেটাফর হিসেবে আনলেও বাঙালি মুসলমান যুবক আর হিন্দু মেয়ের প্রেম ও বিরহ এই কাব্যগ্রন্থের মূল উপজীব্য বিষয়।
// ধর্ম ও অধর্মের থেকে দূরে একটা শিমুলগাছ
কী গভীর ফুটে আছে লাল হয়ে-
কী দারুণ মেটাফর এই শিমুলগাছ! ধর্ম ও অধর্মের থেকে দূরে থাকা প্রেমের স্যানাটোরিয়াম!
//একটা বিষণ্ণ জীবন কাটাব বলে
ঘরে বসে থাকি-
.....
এমন মন্দ্র দুপুর-
যেন ফাঁকা ট্রেনে বসে আছি
আমার জীবন ঘিরে রয়েছে অজস্র টিকিট চেকার।
কবি বিরহবেলার তীব্রতা অনুভব করেন ক্ষনে ক্ষনে।
//রাস্তা পার হতে গিয়ে
তুমি পেছন ফিরে তাকালে
সমস্ত বিকাল ঢলে পড়ল কৃষ্ণচূড়ায়-
// তোমাকে দেখলেই মনে হয়
দিনরাত সানাই বাজাচ্ছেন
বিসমিল্লা খান-
//পাতায় পাতায় কাঁপে বাতাসের শুভ মহরত
সেহেরি খাওয়ার পরে তুমি যেন রোজার নিয়ত
//ইফতার শেষে তুমি মনে হয় খতম তারাবি!
প্রেমিকার প্রতি কবির মুগ্ধতা কবিতার পরতে পরতে।
কবি কখনো কখনো বিগত দিনের প্রেমের স্মৃতি কাতরতায় আচ্ছন্ন হন।
//রিকশা থেকে মেঘদূতমের পথে
যাচ্ছে ভেসে বাক্যবিনিময়
পাতার পাশেই কাঁপছে ভরা পথ
বৃষ্টি এসে বাধ্য হলো স্নানে
পর্দা টেনে ছুঁই তোমাকে ধীরে
মির্জা গালিব ভিজছে দূরের গানে।
//বোতাম লাগাতে গিয়ে
বলে দিও সবটা যা বাকি
মুসলমানের ছেলে
কবিতা লিখতে পারে নাকি!
মুসলমানের ছেলে বলে বিধায় যে প্রেম হারাতে হয়, সেই বেদনা কী করে ভুলে যাওয়া যায়?
//বনতল ঘুমিয়েছে দূরে
সারা রাত ঝরে নিমফুল
ওপারে তোমার সংসার
ভেঙে গেছে মাটির দুকূল!
প্রেমহীন সংসারে কি আর ভালোবাসার ফুল ফোটে?
//'..যে গাঙে নামতে পারবে না কোনো দিন, সেখানে সাইকেল থামিয়ে কখনো চেয়ো না তৃষ্ণায় মিঠাপানি!'
'..তোমারও সংসার হলো, আর আমি দূরের তুষারে দাঁড়িয়ে গথিক গির্জার বাতি, সন্ধ্যা শেষ প্রায়, স্কিমের ঘর থেকে কে যেন মেশিন পুড়ছে ডিজেলে, ধূমাভ আলোর মধ্যে বসে আছি মনোলীন, মুসলমানের ছেলে-'
পাওয়া না পাওয়ার তীব্র দহনে পুড়ছে যে মন দুটি, বাহাস হয়, আশা পূরণের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও।
//হঠাৎ ছোঁয়ার পরে মনে হলো
তোমার তো আছে স্বামী, সংসার
আমি সামান্য কেরানির চিঠি
হাতে হাতে বিলি হই বহুবার-
...
'যদি কেউ দেখে ফেলে', কাঁদতেছ
টের পাও কথোপকথনকালে-
তোমার শাঁখার ঘ্রাণে ভাঙে রাত
হরিণেরা নৈঃশব্দ্যে নামে
এ হাওয়া কাদের ছিল আগে আর
বেজেছে সরোদ বন-বিশ্রামে-
কবির সাথে বিবাহিতা প্রেমিকার দেখা হলে ভালোবাসার দহনে পুড়লেও সচেতন হয়ে পড়েন তার বাস্তবতা নিয়ে।
//তোমার চিঠি এলো- খোঁপা খুলতে খুলতে তুমি লিখেছিলে, 'শ্মশান'... …. 'সবাই তো বলে স্বামীর সঙ্গে রয়েছ সুখে, বিমূঢ় সুষুপ্তিতে-' 'এসব কানকথা, গভীর বৃষ্টির রাতে সমুদ্রে না নামার মতো অক্ষরহীনতা..'
তার নিচে বসি, খানিক দূরের থেকে একজন মুদিদোকানিকে দেখি-... ..
কে যেন দরদাম করতে করতে বাড়িয়ে দিচ্ছে নুনের বয়স,...
এসব দৃশ্যমানতার প্রতি মায়া লেগে যায়, যেমন কেউ আত্মহত্যার ওড়না হাতে খবর নেয়, গত রাতেও যে পুরুষ বিড়াল সারা পাড়া ঘুরে এখনো ফেরে নি বাড়ি, তার ভাগের 'আউটা' কাঁটাগুলো অপরাহ্নে টেনে নিয়ে যাচ্ছে পিঁপড়ের সারি!
কী দারুণ অ্যাবসার্ডিটি!
//প্রতিবেশীদের দেশে সীমান্তরক্ষীর মতো তুমি
ফেলানীকে ঝুলে রাখা বর্বর কূট কাঁটাতার-!
//হলোকাস্টের বদলেছে পরিচয়
বৃষ্টি পড়ছে কতকাল ওকগাছে-
আজও পশ্চিমে টারবাইনের রোদে
ঘোরে সালফার মেঘে ফিশানের ভঙ্গি,
ফেলে ক্লাস্টার আমেরিকা-ইউরোপ
নারঙ্গি- হাওয়া ভীত কাঁপে, শোনো, সঙ্গী
মুসলমানের ছেলেরাই শুধু জঙ্গি?
বিশ্বরাজনীতির নোংরা প্রতিহিংসার স্বীকার মুসলমানরা। ইনফেরিয়র কমপ্লেক্সিসিটিতে ভোগা মানুষটি ইতিহাসের গলি ঘুপচি ঘুরে দেখতে পান আসলে কারা সাম্রাজ্যবাদী, কারা শোষক সম্প্রদায়।
//তোমাকে ডাকার পাশে রোজ একটা করে
শেফালির ফুল ফোটে
আহা! প্রেম! আাহা! বেদনা!!
//তোমার চলে যাওয়া
সুরা বাকারার মতো
দীর্ঘ -
//তোমার বিরহ করি চোখ ছুঁয়ে, খোদার কসম-
কি বিরহ ভাবনা!
//বিবাহে স্বামীর হলে
প্রেমে তবে ছিলে কার,
সে ছুরি কেমন বলো
যার ছিল দুই দিকে ধার?
মন্ত্রমুগ্ধকর!
//যে ট্রেন দেরিতে আসে
সবুরটা তার কাছে শিখি,
//বিরহে নীরব থেকো, নীরবতা বেহেশতের রং-
//জীবনকে পুলিশ ভেবে আমি পালিয়ে যাচ্ছি আমি
উইটি আর স্যাটায়ার! কোটেশন করা রাখতে হয় এসব লাইন।
//মানুষ ভুলে যায় সহজে সবকিছু
অথচ ভান করে কাউকে সে-ও চায়-
কবির অভিমান ফুটে উঠে কখনো কখনো।
//তোমার হাতে ঘুমায় সেলাই মেশিন
আমার শার্টে শূন্য বোতাম পাতা,
বৃষ্টি এলে স্মরণ করে দিয়ো
স্বামীর হাতে নতুন কেনা ছাতা-
ঘটনা তো উল্টো হতেও পারতো! প্রেমে কী ক্ষতি হয় দুনিয়ায়!
//হিন্দুর মেয়ে তুমি, আমারও ধর্মে ছিল ভয়,
//কে যে কাকে চায় আর কাকে করে বুকের মানিক
কার জন্য ডুবে মরে, আজীবন কাকে দেয় ধিক-
//তোমাকে বেসেছি ভালো সংসারে পাবো না জেনেও
ঘ্রাণ নাই তারপরও লাল ফুল ফোটায় অশোক
আমার ভাতের মাড় উথলে পড়ল অহেতুক
হিন্দুর মেয়ে তুমি আমিও তো বাঙালি যুবক-
জীবন যেন পুতুল নাচের ইতিকথা।
//মানুষ যাকেই চায় ভুল করে চায় জেনেশুনে
নিজেকে পোড়াতে চেয়ে হাত রাখে গভীর উনুনে-
//তোমাকে যে ভালোবাসি তার জন্যে কোনো খেদ নাই
যেমন নামাজ পড়ে বেহেশতের আশাও করে না
কেউ কেউ, আমি যেন সে রকম- তোমাকেই ভাবি
***
সমস্ত পৃথিবীজুড়ে থমথম করছিল প্রেম-
কবি যাদের উল্লেখ করেছেন- কবিতা, শের, সংগীত এ
মির্জা গালিব, বিসমিল্লা খান, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, আঁফরি,আঁফরি, বেগম আখতার, মেহেদি হাসান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নুসরাত ফতেহ আলী খান,
//পুরানা ড্রয়ারে থাকা তুমি যেন ভিনদেশী টাকা
হঠাৎ কৈশোরে কেউ দিয়েছিল যে আধুলি-সিকি-
যে প্রেম জমিয়ে রাখতে চায় মন।
//তোমার শাঁখার গায়ে আমি যেন নগরীর ধুলা
প্রেম তো এমন ক্ষত ওষুধে যা আরও বেড়ে যায়-
//তুমি ছাড়া ফাঁকা সব, ফিরে আসো যেইভাবে পারো
একলা বসলে খেতে আদতে ভরে না পেট কারও-
কবির প্রগাঢ় ইচ্ছে ফিরে আসুক তার প্রেম।
//তোমার ছলনা ছিল যেনবা নিপুন অভিনয়
ছলনা প্রেমের মতো মাঝেমধ্যে প্রেমই মনে হয়-
বিরহ যন্ত্রণায় দগ্ধ যে কবি!
//আল্লার কাছে আমি এইবার দিলাম নালিশ
আমার সাথেই যেন দেখা হয় তোমার হাশরে-
সহজ করেই বলি, আজীবন তোমাকেই চাই
নামাজে বেহেশত মেলে প্রেমে মেলে স্বয়ং খোদাই-
আহা!
মুসলমানের ছেলে কাব্যগ্রন্থটি দারুণ লেগেছে । নিখাদ কবিতাগুলো মুগ্ধ করে।
হাসান রোবায়েত
ঐতিহ্য প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮০
মুদ্রিত মূল্য ১৬০/
কবিতাগুলোতে আরবি-ফারসি ও ইসলামি অনুষঙ্গ কে উপমা ও মেটাফর হিসেবে আনলেও বাঙালি মুসলমান যুবক আর হিন্দু মেয়ের প্রেম ও বিরহ এই কাব্যগ্রন্থের মূল উপজীব্য বিষয়।
// ধর্ম ও অধর্মের থেকে দূরে একটা শিমুলগাছ
কী গভীর ফুটে আছে লাল হয়ে-
কী দারুণ মেটাফর এই শিমুলগাছ! ধর্ম ও অধর্মের থেকে দূরে থাকা প্রেমের স্যানাটোরিয়াম!
//একটা বিষণ্ণ জীবন কাটাব বলে
ঘরে বসে থাকি-
.....
এমন মন্দ্র দুপুর-
যেন ফাঁকা ট্রেনে বসে আছি
আমার জীবন ঘিরে রয়েছে অজস্র টিকিট চেকার।
কবি বিরহবেলার তীব্রতা অনুভব করেন ক্ষনে ক্ষনে।
//রাস্তা পার হতে গিয়ে
তুমি পেছন ফিরে তাকালে
সমস্ত বিকাল ঢলে পড়ল কৃষ্ণচূড়ায়-
// তোমাকে দেখলেই মনে হয়
দিনরাত সানাই বাজাচ্ছেন
বিসমিল্লা খান-
//পাতায় পাতায় কাঁপে বাতাসের শুভ মহরত
সেহেরি খাওয়ার পরে তুমি যেন রোজার নিয়ত
//ইফতার শেষে তুমি মনে হয় খতম তারাবি!
প্রেমিকার প্রতি কবির মুগ্ধতা কবিতার পরতে পরতে।
কবি কখনো কখনো বিগত দিনের প্রেমের স্মৃতি কাতরতায় আচ্ছন্ন হন।
//রিকশা থেকে মেঘদূতমের পথে
যাচ্ছে ভেসে বাক্যবিনিময়
পাতার পাশেই কাঁপছে ভরা পথ
বৃষ্টি এসে বাধ্য হলো স্নানে
পর্দা টেনে ছুঁই তোমাকে ধীরে
মির্জা গালিব ভিজছে দূরের গানে।
//বোতাম লাগাতে গিয়ে
বলে দিও সবটা যা বাকি
মুসলমানের ছেলে
কবিতা লিখতে পারে নাকি!
মুসলমানের ছেলে বলে বিধায় যে প্রেম হারাতে হয়, সেই বেদনা কী করে ভুলে যাওয়া যায়?
//বনতল ঘুমিয়েছে দূরে
সারা রাত ঝরে নিমফুল
ওপারে তোমার সংসার
ভেঙে গেছে মাটির দুকূল!
প্রেমহীন সংসারে কি আর ভালোবাসার ফুল ফোটে?
//'..যে গাঙে নামতে পারবে না কোনো দিন, সেখানে সাইকেল থামিয়ে কখনো চেয়ো না তৃষ্ণায় মিঠাপানি!'
'..তোমারও সংসার হলো, আর আমি দূরের তুষারে দাঁড়িয়ে গথিক গির্জার বাতি, সন্ধ্যা শেষ প্রায়, স্কিমের ঘর থেকে কে যেন মেশিন পুড়ছে ডিজেলে, ধূমাভ আলোর মধ্যে বসে আছি মনোলীন, মুসলমানের ছেলে-'
পাওয়া না পাওয়ার তীব্র দহনে পুড়ছে যে মন দুটি, বাহাস হয়, আশা পূরণের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও।
//হঠাৎ ছোঁয়ার পরে মনে হলো
তোমার তো আছে স্বামী, সংসার
আমি সামান্য কেরানির চিঠি
হাতে হাতে বিলি হই বহুবার-
...
'যদি কেউ দেখে ফেলে', কাঁদতেছ
টের পাও কথোপকথনকালে-
তোমার শাঁখার ঘ্রাণে ভাঙে রাত
হরিণেরা নৈঃশব্দ্যে নামে
এ হাওয়া কাদের ছিল আগে আর
বেজেছে সরোদ বন-বিশ্রামে-
কবির সাথে বিবাহিতা প্রেমিকার দেখা হলে ভালোবাসার দহনে পুড়লেও সচেতন হয়ে পড়েন তার বাস্তবতা নিয়ে।
//তোমার চিঠি এলো- খোঁপা খুলতে খুলতে তুমি লিখেছিলে, 'শ্মশান'... …. 'সবাই তো বলে স্বামীর সঙ্গে রয়েছ সুখে, বিমূঢ় সুষুপ্তিতে-' 'এসব কানকথা, গভীর বৃষ্টির রাতে সমুদ্রে না নামার মতো অক্ষরহীনতা..'
তার নিচে বসি, খানিক দূরের থেকে একজন মুদিদোকানিকে দেখি-... ..
কে যেন দরদাম করতে করতে বাড়িয়ে দিচ্ছে নুনের বয়স,...
এসব দৃশ্যমানতার প্রতি মায়া লেগে যায়, যেমন কেউ আত্মহত্যার ওড়না হাতে খবর নেয়, গত রাতেও যে পুরুষ বিড়াল সারা পাড়া ঘুরে এখনো ফেরে নি বাড়ি, তার ভাগের 'আউটা' কাঁটাগুলো অপরাহ্নে টেনে নিয়ে যাচ্ছে পিঁপড়ের সারি!
কী দারুণ অ্যাবসার্ডিটি!
//প্রতিবেশীদের দেশে সীমান্তরক্ষীর মতো তুমি
ফেলানীকে ঝুলে রাখা বর্বর কূট কাঁটাতার-!
//হলোকাস্টের বদলেছে পরিচয়
বৃষ্টি পড়ছে কতকাল ওকগাছে-
আজও পশ্চিমে টারবাইনের রোদে
ঘোরে সালফার মেঘে ফিশানের ভঙ্গি,
ফেলে ক্লাস্টার আমেরিকা-ইউরোপ
নারঙ্গি- হাওয়া ভীত কাঁপে, শোনো, সঙ্গী
মুসলমানের ছেলেরাই শুধু জঙ্গি?
বিশ্বরাজনীতির নোংরা প্রতিহিংসার স্বীকার মুসলমানরা। ইনফেরিয়র কমপ্লেক্সিসিটিতে ভোগা মানুষটি ইতিহাসের গলি ঘুপচি ঘুরে দেখতে পান আসলে কারা সাম্রাজ্যবাদী, কারা শোষক সম্প্রদায়।
//তোমাকে ডাকার পাশে রোজ একটা করে
শেফালির ফুল ফোটে
আহা! প্রেম! আাহা! বেদনা!!
//তোমার চলে যাওয়া
সুরা বাকারার মতো
দীর্ঘ -
//তোমার বিরহ করি চোখ ছুঁয়ে, খোদার কসম-
কি বিরহ ভাবনা!
//বিবাহে স্বামীর হলে
প্রেমে তবে ছিলে কার,
সে ছুরি কেমন বলো
যার ছিল দুই দিকে ধার?
মন্ত্রমুগ্ধকর!
//যে ট্রেন দেরিতে আসে
সবুরটা তার কাছে শিখি,
//বিরহে নীরব থেকো, নীরবতা বেহেশতের রং-
//জীবনকে পুলিশ ভেবে আমি পালিয়ে যাচ্ছি আমি
উইটি আর স্যাটায়ার! কোটেশন করা রাখতে হয় এসব লাইন।
//মানুষ ভুলে যায় সহজে সবকিছু
অথচ ভান করে কাউকে সে-ও চায়-
কবির অভিমান ফুটে উঠে কখনো কখনো।
//তোমার হাতে ঘুমায় সেলাই মেশিন
আমার শার্টে শূন্য বোতাম পাতা,
বৃষ্টি এলে স্মরণ করে দিয়ো
স্বামীর হাতে নতুন কেনা ছাতা-
ঘটনা তো উল্টো হতেও পারতো! প্রেমে কী ক্ষতি হয় দুনিয়ায়!
//হিন্দুর মেয়ে তুমি, আমারও ধর্মে ছিল ভয়,
//কে যে কাকে চায় আর কাকে করে বুকের মানিক
কার জন্য ডুবে মরে, আজীবন কাকে দেয় ধিক-
//তোমাকে বেসেছি ভালো সংসারে পাবো না জেনেও
ঘ্রাণ নাই তারপরও লাল ফুল ফোটায় অশোক
আমার ভাতের মাড় উথলে পড়ল অহেতুক
হিন্দুর মেয়ে তুমি আমিও তো বাঙালি যুবক-
জীবন যেন পুতুল নাচের ইতিকথা।
//মানুষ যাকেই চায় ভুল করে চায় জেনেশুনে
নিজেকে পোড়াতে চেয়ে হাত রাখে গভীর উনুনে-
//তোমাকে যে ভালোবাসি তার জন্যে কোনো খেদ নাই
যেমন নামাজ পড়ে বেহেশতের আশাও করে না
কেউ কেউ, আমি যেন সে রকম- তোমাকেই ভাবি
***
সমস্ত পৃথিবীজুড়ে থমথম করছিল প্রেম-
কবি যাদের উল্লেখ করেছেন- কবিতা, শের, সংগীত এ
মির্জা গালিব, বিসমিল্লা খান, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, আঁফরি,আঁফরি, বেগম আখতার, মেহেদি হাসান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নুসরাত ফতেহ আলী খান,
//পুরানা ড্রয়ারে থাকা তুমি যেন ভিনদেশী টাকা
হঠাৎ কৈশোরে কেউ দিয়েছিল যে আধুলি-সিকি-
যে প্রেম জমিয়ে রাখতে চায় মন।
//তোমার শাঁখার গায়ে আমি যেন নগরীর ধুলা
প্রেম তো এমন ক্ষত ওষুধে যা আরও বেড়ে যায়-
//তুমি ছাড়া ফাঁকা সব, ফিরে আসো যেইভাবে পারো
একলা বসলে খেতে আদতে ভরে না পেট কারও-
কবির প্রগাঢ় ইচ্ছে ফিরে আসুক তার প্রেম।
//তোমার ছলনা ছিল যেনবা নিপুন অভিনয়
ছলনা প্রেমের মতো মাঝেমধ্যে প্রেমই মনে হয়-
বিরহ যন্ত্রণায় দগ্ধ যে কবি!
//আল্লার কাছে আমি এইবার দিলাম নালিশ
আমার সাথেই যেন দেখা হয় তোমার হাশরে-
সহজ করেই বলি, আজীবন তোমাকেই চাই
নামাজে বেহেশত মেলে প্রেমে মেলে স্বয়ং খোদাই-
আহা!
মুসলমানের ছেলে কাব্যগ্রন্থটি দারুণ লেগেছে । নিখাদ কবিতাগুলো মুগ্ধ করে।
October 12, 2022
উপমার ব্যবহারে হাসান রোবায়েত সেরা।
December 13, 2025
আমি কোনো উপমা দিয়ে এই কবিতার বইকে ব্যাখ্যা করতে পারবো না, না আমি বলবো এটা একান্ত আমারই কবিতা, এটা আমি, তুমিকে ছাড়িয়ে পথের ধুলো হয়ে সবার গায়ে লেপ্টে গ্যাছে। আমি খুঁজে পেয়েছি অনেকভাবে কবিতায় নিজেকে, কখনও শৈশবে ফিরেছি, কখনও মায়ের কোলে আবার কখনও শিউলি তলায় ভরদুপুরে।
"আমরা অর্থাৎ ভবঘুরে কবিরা পৃথিবী চষে বেড়িয়েছি, খুঁজেছি তাকে—জীবন আমাদের স্বাগত জানিয়েছে—প্রতিটি দরজায় দরজায়—মাটি-কাদা-জলের সংগ্রামে"
পাবলো নেরুদার এই কবিতার মতো কবি রোবায়েতকেও পেয়েছি আপনভাবে, জল-কাদা মাড়িয়ে, মরুভূমি পেরিয়ে কবি রোবায়েত যেনো আমার আপন গৃহেই এসেছে শীতল হতে।
তাঁর কবিতায় আন্দোলিত বা এমনকি উন্মাদ প্রেমিক কর্তাসত্তা যেমন লিরিকের ঘনিষ্ঠতা পেয়েছি, তেমনই পেয়েছি প্রেমময় আবিষ্ঠ ছোঁয়া, চেয়েছি সেই কবিতা, যা একই সঙ্গে ঘাম আর ধোঁয়ায় ঠাসা, যা একই সঙ্গে ফুল আর রাত্রিতে বাড়ি ফেরা বাবার শার্ট মলিন হওয়া।
আমি ফিরতে চাই কবিতার অলিগলির অজস্র পথ মাড়িয়ে,
"সুন্নতে খতনার ব্যথা নিয়ে শিশুরা যেমন
ধীরে ধীরে হেঁটে যায় হেমন্তের ধুলাপথ দিয়ে”
কবিতার বৈচিত্র্য, বিস্তার ও বৈভবকে বিবেচনায় রাখলে তাঁর কোনো দ্রুত ও একমাত্রিক চরিত্রায়ণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই কবিতার ব্যাখ্যায় আমার মতো নাদান প্রেমিক নাই বা করলাম। খুব কাছ থেকে দেখা কবির আবেগ,অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়েছে। তাই কবিতায় সরলভাবে ফুটে উঠেছে সেই কথাগুলো। যেমনঃ
"মানুষ যাকেই চায় ভুল করে চায় জেনেশুনে
নিজেকে পোড়াতে চেয়ে হাত রাখে গভীর উনুনে"
কবিতায় বড়ত্ব ও ক্ষুদ্রতা এবং দুঃখ ও আনন্দকে সমান ধৈর্য্য ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে স্পর্শ করতে পারার সক্ষমতা ছিল বলে রোবায়েত ভাই কবিতায় অন্যান্য।
সব পথের একই গন্তব্য, সেটা হলো আমরা কী সে বার্তা অন্যদের কাছে পৌঁছে দেয়া। আর এই মাধ্যমের ভিতর দিয়ে ঠাঁই পায় নৈঃসঙ্গ্য ও কষ্ট এবং বিচ্ছিন্নতা, নীরবতা ও অবশিষ্ট ভালোবাসা।
আপনার জন্য সব সময় তোলা রইলো শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। কবি আপনি আমাকে আপনার সাথেই পথে নামালেন, আপনার ডাক উপেক্ষা করিও বা কী করে!
"আমার বকরির ডাক ফিরে আসে মাঠের কোথাও
ঝরাপাতা, ঝরাপাতা, আমাকেও তুমি নিয়ে যাও"
"আমরা অর্থাৎ ভবঘুরে কবিরা পৃথিবী চষে বেড়িয়েছি, খুঁজেছি তাকে—জীবন আমাদের স্বাগত জানিয়েছে—প্রতিটি দরজায় দরজায়—মাটি-কাদা-জলের সংগ্রামে"
পাবলো নেরুদার এই কবিতার মতো কবি রোবায়েতকেও পেয়েছি আপনভাবে, জল-কাদা মাড়িয়ে, মরুভূমি পেরিয়ে কবি রোবায়েত যেনো আমার আপন গৃহেই এসেছে শীতল হতে।
তাঁর কবিতায় আন্দোলিত বা এমনকি উন্মাদ প্রেমিক কর্তাসত্তা যেমন লিরিকের ঘনিষ্ঠতা পেয়েছি, তেমনই পেয়েছি প্রেমময় আবিষ্ঠ ছোঁয়া, চেয়েছি সেই কবিতা, যা একই সঙ্গে ঘাম আর ধোঁয়ায় ঠাসা, যা একই সঙ্গে ফুল আর রাত্রিতে বাড়ি ফেরা বাবার শার্ট মলিন হওয়া।
আমি ফিরতে চাই কবিতার অলিগলির অজস্র পথ মাড়িয়ে,
"সুন্নতে খতনার ব্যথা নিয়ে শিশুরা যেমন
ধীরে ধীরে হেঁটে যায় হেমন্তের ধুলাপথ দিয়ে”
কবিতার বৈচিত্র্য, বিস্তার ও বৈভবকে বিবেচনায় রাখলে তাঁর কোনো দ্রুত ও একমাত্রিক চরিত্রায়ণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই কবিতার ব্যাখ্যায় আমার মতো নাদান প্রেমিক নাই বা করলাম। খুব কাছ থেকে দেখা কবির আবেগ,অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়েছে। তাই কবিতায় সরলভাবে ফুটে উঠেছে সেই কথাগুলো। যেমনঃ
"মানুষ যাকেই চায় ভুল করে চায় জেনেশুনে
নিজেকে পোড়াতে চেয়ে হাত রাখে গভীর উনুনে"
কবিতায় বড়ত্ব ও ক্ষুদ্রতা এবং দুঃখ ও আনন্দকে সমান ধৈর্য্য ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে স্পর্শ করতে পারার সক্ষমতা ছিল বলে রোবায়েত ভাই কবিতায় অন্যান্য।
সব পথের একই গন্তব্য, সেটা হলো আমরা কী সে বার্তা অন্যদের কাছে পৌঁছে দেয়া। আর এই মাধ্যমের ভিতর দিয়ে ঠাঁই পায় নৈঃসঙ্গ্য ও কষ্ট এবং বিচ্ছিন্নতা, নীরবতা ও অবশিষ্ট ভালোবাসা।
আপনার জন্য সব সময় তোলা রইলো শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। কবি আপনি আমাকে আপনার সাথেই পথে নামালেন, আপনার ডাক উপেক্ষা করিও বা কী করে!
"আমার বকরির ডাক ফিরে আসে মাঠের কোথাও
ঝরাপাতা, ঝরাপাতা, আমাকেও তুমি নিয়ে যাও"
April 3, 2022
এই বইয়ের প্রতিটা কবিতা যেন আমার কথাই বলেছে। আমার পরিচয় ফুটে উঠেছে অধিকাংশ কবিতাই। আমি যেমনই হই না কেন দিনশেষে আমার পরিচয় আমি 'মুসলমানের ছেলে'
অনেকেই বলে থাকে সাধারণই সুন্দর এটার প্রমান পেয়েছি বইয়ের এই নান্দনিক প্রচ্ছদ দেখে। এই বই আপনাকে টানবে, তার প্রধান কারণ হচ্ছে এর প্রচ্ছদ। যদিও বইটা হাতে না নিয়ে দেখলে এটা অনুভব করা যাবে না।
কখনো প্রেম হয়েছে, হয়েছে বিচ্ছেদ, আবার কখনোও দিয়েছেন কবি নিজ সত্ত্বার পরিচয়। এভাবেই এগিয়ে গিয়েছে, মুসলমানের ছেলে।
অনেকেই বলে থাকে সাধারণই সুন্দর এটার প্রমান পেয়েছি বইয়ের এই নান্দনিক প্রচ্ছদ দেখে। এই বই আপনাকে টানবে, তার প্রধান কারণ হচ্ছে এর প্রচ্ছদ। যদিও বইটা হাতে না নিয়ে দেখলে এটা অনুভব করা যাবে না।
কখনো প্রেম হয়েছে, হয়েছে বিচ্ছেদ, আবার কখনোও দিয়েছেন কবি নিজ সত্ত্বার পরিচয়। এভাবেই এগিয়ে গিয়েছে, মুসলমানের ছেলে।
May 2, 2023
কখনো ভুলি না সুরা ফাতেহার প্রতিটা আয়াত
সেইমতো ভুলি নাই তোমার কথাও কোনো দিন
স্বজনের জন্য যদি দোয়া করে ইমাম সাহেব
তোমার মুখটা ভেবে আমি বলি 'ছুম্মা আমিন'
৭২টা কবিতা নিয়ে লেখা এই বইখানা।কয়েকটা কবিতা খুবই ছোট সাইজের,আর বেশিরভাগই মাঝারি ধরনের।মজার বিষয় হচ্ছে এই কবিতা গুলো লেখা হয়েছে অনেকটা ইসলামিক আদলে।প্রতিটা কবিতায় হাসান রোবায়েত যেই উপমা গুলো ব্যবহার করেছেন তা দেখে আমি রীতিমতো বিস্মিত।এত চমৎকার উপমা! মুগ্ধ হয়েছি সত্যি।
সবমিলিয়ে বইটা বেশ ভালো লেগেছে।
সেইমতো ভুলি নাই তোমার কথাও কোনো দিন
স্বজনের জন্য যদি দোয়া করে ইমাম সাহেব
তোমার মুখটা ভেবে আমি বলি 'ছুম্মা আমিন'
৭২টা কবিতা নিয়ে লেখা এই বইখানা।কয়েকটা কবিতা খুবই ছোট সাইজের,আর বেশিরভাগই মাঝারি ধরনের।মজার বিষয় হচ্ছে এই কবিতা গুলো লেখা হয়েছে অনেকটা ইসলামিক আদলে।প্রতিটা কবিতায় হাসান রোবায়েত যেই উপমা গুলো ব্যবহার করেছেন তা দেখে আমি রীতিমতো বিস্মিত।এত চমৎকার উপমা! মুগ্ধ হয়েছি সত্যি।
সবমিলিয়ে বইটা বেশ ভালো লেগেছে।
February 26, 2023
মুগ্ধকর একটি কবিতার বই।
March 18, 2023
আমার পড়া অন্যতম সেরা কাব্যগ্রন্থ
February 20, 2024
"তোমার চলে যাওয়া
সূরা বাকারার মতো
দীর্ঘ"
প্রথম দিককার ছোট্ট কবিতাগুলো একটু বেশিই সুন্দর।
সূরা বাকারার মতো
দীর্ঘ"
প্রথম দিককার ছোট্ট কবিতাগুলো একটু বেশিই সুন্দর।
Displaying 1 - 28 of 28 reviews



























