Jump to ratings and reviews
Rate this book

সেদিন দু'জনে

Rate this book

Hardcover

40 people want to read

About the author

Anwara Syed Haque

40 books16 followers
Anwara Syed Haq is a writer of Bangla literature. She has written a number of novels, short stories, children's books and also written a number of essays. She has been praised for using her knowledge of human psychology beautifully in her writings. She is a psychiatrist by profession.

After completing her SSC and HSC in Jessore, Haq moved to Dhaka in 1959 and enrolled in Dhaka Medical College. She obtained her MBBS degree in 1965. In 1973 went to the United Kingdom for higher education. After having completed her post graduate degree in medical psychiatry in 1982 she returned home from the UK. She has since then worked at a number of institutions, among which are Bangladesh Airforce, Dhaka Medical College and BIRDEM.

Haq's first short story "Paribartan" was published in Sangbad in 1954. From 1955 to 1957, she regularly wrote for Ittefaque's "Kachi Kanchar Ashor". Her first novel was published in Sachitra Shandhani in 1968. After her first novel, she has written a number of novels and short stories. Many of her novels are set in Dhaka and London where she spent much of her time. Her publications consist of twenty-five novels, three volumes of poems, eight collections of short stories, eight collections of essays, three autobiography volumes, two collections of travel writing, forty fictional stories for young readers.

Now she works professionally as a psychiatrist.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
3 (17%)
4 stars
8 (47%)
3 stars
5 (29%)
2 stars
1 (5%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,664 reviews424 followers
May 28, 2024
"সৈয়দ হক রিকশাওলাকে বলল, ভাই, তুমি রমনা পার্কের পাশ দিয়ে ঘুরে চল।
আমি তার সঙ্গে যথেষ্ট ছোঁয়া বাঁচিয়ে রিকশায় উঠলাম! রিকশা যখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দিয়ে ঘুরে চলেছে, শাহবাগ মোড়ের কাছাকাছি এসেছে, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি তো লেখাপড়া শেষ করেননি, বুঝলাম, সাহিত্য করবেন বলে লেখাপড়া শেষ করেননি, বেশ, তাহলে বিখ্যাত সাহিত্যিকদের ইংরেজি নামের বানান বলতে পারবেন?
আমার কথা শুনে যেন একটু হকচকিয়ে গিয়ে সৈয়দ হক বললেন,তার মানে?
মানে,আপনি বড় বড় কথা সাহিত্যিক এবং কবিদের নামের বানান বলতে পারবেন?
সৈয়দ হক কী ভেবে বলল, পারব!
আমি সেদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাশিয়ার বড় বড় সব কথা সাহিত্যিক এবং কবিদের নামের ইংরেজি বানান মুখস্ত করেছি, এবং হাতের একটা চিরকুটে লিখে রেখেছি। এবং সে চিরকুটটি আমার হাতব্যাগের ভেতরে। কারণ আমি নিজেই সেসব বানান জানতাম না, কিন্তু সেসব আমার গোপন কথা, কেউ কোনদিন জানবে না!
প্রথমেই আমি জিজ্ঞাসা করলাম, বানান করুন তো 'ডস্টয়োভস্কি? ইংরেজিতে'।
আমার কথা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে সৈয়দ হক বানান বলে সারল।
তারপর আমি আমি বললাম, এবার বলুন 'লিও টলস্টয়'। সৈয়দ হক গড় গড় করে বানান বলল।
আমি বললাম, বলুন 'মায়াকোভস্কি'।
সৈয়দ হক মুহূর্তমাত্র দেরি না করে বানান বলল।
সেও যেন তখন আমারই মতো ছেলেমানুষ!
এরপর আমি বললাম, এবার বলুন 'বরিস পাস্টারনেক'।
সৈয়দ হক নামের বানান ঠিকঠিক বলল।
এরপর বললাম, এবার বলুন, 'ইয়েভগনি ইয়েভতুশেঙ্কু'।
এভাবে বারবার যখন সে নামের বানান বলছে, আমি আমার হাতের চিরকুট ব্যাগ থেকে বের করে রাস্তার টিউবলাইটের আলোয় বানানটা দেখে নিচ্ছি। ঠিক ঠিক বানান বলতে পারছে কি না! শেষবার হঠাৎ সৈয়দ হক আমার দিকে ফিরে বলল, কী? তুমি বারবার করে হাতব্যাগ খুলে কী দেখছ?
আমি চট করে ব্যাগ বন্ধ করে বললাম, কিছু না!
আর সৈয়দ হক বলল, পরীক্ষায় কি পাশ করলাম?"
Profile Image for Akash.
446 reviews149 followers
May 21, 2024
স্মৃতিগদ্য। বইয়ের লেখক এবং নায়ক দু'জনই বাংলা সাহিত্যঙ্গনে সুপরিচিত। ষাটের দশকে মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া একজন মেয়ে, এমন একজন ছেলের প্রেমে পড়ে যে নাকি সাহিত্যের জন্য একাডেমিক পড়ালেখাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছেন। সেই অদেখা-অপরিচিত লেখকের গল্প পড়ে ভালোলাগা, চিঠি চালাচালি, অতঃপর সরাসরি সাক্ষাৎ পরিণত হয় প্রণয়ে।

হ্যাঁ, বলছিলাম সব্যসাচী কবি সৈয়দ শামসুল হক ও আনোয়ারা সৈয়দ হকের কথা। এই বইয়ে তাঁদের যাপিত জীবনের স্মৃতিগুলো যেন জীবন্ত; প্রাণবন্ত। দু'জনের প্রণয়ের গল্প, সংসার জীবনের ৫০ বছরে আনোয়ারা সৈয়দ হকের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে সৈয়দ শামসুল হকের জীবন ও সাহিত্য, সৈয়দ শামসুল হকের সাহিত্যসৃষ্টির পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা, লেখার ঘর, যেকোনো দরজা উপন্যাসের প্রাসঙ্গিকতা, শিশুসাহিত্যে শামসুল হকের অবদান, জন্মদিন, লেখকের প্রয়াণের পর আনোয়ারা সৈয়দ হকের যাতনা ও শামসুল হকের প্রতি মিডিয়া, সরকার ও সাধারণ মানুষের অপরিসীম ভালোবাসার আখ্যান।

মিষ্টি সুপাঠ্য একটা বই। যারা আনোয়ারা সৈয়দ হকের লেখার সাথে পরিচিত তারা হয়তো জানেন যে আনোয়ারা সৈয়দ হক এমন একজন লেখক যার সকল বই ধরে ধরে পড়া উচিত। তেমনি ষোল কোটি মানুষের প্রিয় কবি সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হকের প্রতিটা লেখাও। বাংলাসাহিত্যে এই সাহিত্যিক যুগলের অবদান অনস্বীকার্য। যেন অমৃতা-ইমরোজ অথবা তাঁদের থেকেও বেশি।
Profile Image for musarboijatra  .
283 reviews356 followers
May 16, 2024
আনোয়ারা যখন সৈয়দ হক-কে প্রথম চেনেন, তিনি তখন ঢাকা মেডিকেলের ছাত্রী। ষাটের দশকের পূর্ব পাকিস্তান। ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে দেখা করতে যাবেন একজন পুরুষের সাথে, তা খুব বিশেষ ঘটনা-ই বটে। বান্ধবীদের জল্পনা আর প্রস্তুতির পর, গুলিস্তানের এই চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ঠিক করা সময়ে দেখা করেন মোটা ফ্রেমের চশমা পরা একহারা গড়নের যুবকের সাথে। চশমার পেছনে 'চোখ যেন তার সর্বগ্রাসী!' আইএ পাস করে আর পড়ালেখা করেননি সৈয়দ শামসুল হক। করতে চাননি। তার সাথে সম্পর্ক? পরে আবার দেখা হলো যেদিন, বিখ্যাত কবিদের নামের ইংরেজি বানান ধরে ধরে জিজ্ঞেস করেছিলেন লেখককে। নিজের হ্যান্ডব্যাগের ভেতর টুকে রাখা সব নাম, ডস্টয়েভস্কি, টলস্টয়, মায়াকোভস্কি... জিজ্ঞেস করামাত্রই বলে দিচ্ছেন সৈয়দ হক। রিকশা চলছে, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। সব শেষে হক শুধালেন, "কী, পরীক্ষা পাস করলাম?"

পত্রিকায় সৈয়দ হক-এর একটা উপন্যাস পড়ে তাঁকে চিঠি লিখেছিলেন আনোয়ারা সৈয়দ হক। চিঠির উত্তর এলো। সে লেখায় পরিশীলতার ছাপ মুগ্ধ করেছিল আনোয়ারা'র বান্ধবীদেরও। সেখান থেকে দেখা করা, সাক্ষাতে চেনা। দোনামনা ছিল, বেশিদূর পড়াশোনা না করা ছেলে, বিয়ে হবে তো? নিজে ডাক্তার, অন্যদিকে আইএ পাসের পর আর পড়েননি হক, লিখবেন বলে। তাও বিয়ে করলেন, ঘরের মানুষ মানতে চাইবে না জেনেও, কারণ আনোয়ারা জানতেন নিজে ছোটবেলা থেকেই কতটা একরোখা।

কবি'র সাথে সংসার, চারপাশে বই, সঙ্গীত, আর সাহিত্যের জীবন কল্পনা করেছিলেন। সংসারের শুরুতেই ভুল ভাংলো। জীবনে শুধু কাজ আর কাজ, দেনা আর দেনা, শোধ আর শোধ। অথৈ সমুদ্রে ভেসে চলেছেন দুইজন। গল্প লিখে মাসে ত্রিশ টাকা পেতেন সৈয়দ হক, তা দিয়ে ঘর-খরচা। মাদুর পেতে বসে আশ্বাসের গান আওড়াতেন দুইজনে, এই দিন কাটবেই।

৫০ বছর একসাথে ছিলেন তাঁরা, সৈয়দ শামসুল হক চলে যাবার আগে। পাসপোর্ট মিলিয়ে হিসেব করে দেখলেন, তার মাঝে ১৮ বছর-ই নিজেদের ছেড়ে থেকেছেন তাঁরা! কী আফসোস! স্বামীর মৃত্যুর দু'বছর অব্দি তাঁর পড়ার ঘরে ঢোকেননি আনোয়ারা হক। এর আগে ঘরটা ছিল শুধুই সৈয়দ হক-এর, টেবিলে বসে বামে তাকালে যার দক্ষিণমুখী বারান্দা, যে ঘরে তাঁর মায়ের দেওয়া ট্রাঙ্ক, তার ওপর শ্বশুরের দেওয়া অজগরের চামড়া ভাঁজ করে রেখেছেন। আছে শান্তিনিকেতনে কবি'র বাড়ি থেকে লুকিয়ে আনা কয়েকটা নুড়ি, আর হকের পছন্দের সব বই আর টুকিটাকি। সৈয়দ হক গর্ব করে বলতেন, "আমার মতো বিভিন্ন ভাষার কবিদের বইয়ের সংগ্রহ কিন্তু আর কারো নেই! এসব বই কাউকে ধরতে দিও না।"

আনোয়ারা সৈয়দ হক লিখেছেন-
"এখন যখন তিনি আর নেই, ছায়াপথে গড়ে নিয়েছেন নতুন আবাস, সেখানে হয়তো শুধুই জলন্ত তারাদের বসবাস; আমি নিঃশব্দে তার পড়ার ঘরে বসে কাজ করি এবং তার আলমারি খুলে যখন দেখি একের পর এক সাজিয়ে রাখা তার বইগুলো, কত কত বই, সেসব বই, বা সে সব লেখার অধিকাংশই হয়তো আমি পড়িনি, তখন বড় অদ্ভুত মনে হয় নিজেকে।
অদ্ভুত এজন্য যে, এই যে তার বই আমি পড়িনি আর তিনি পড়েননি আমার বই, কই, তাতে করে তো আমাদের ভেতরে কোনো কিছুর কমতি ছিল না? কোনো ভুল বোঝাবুঝি ছিল না? আমরা দুজনে দুজনের মতো করে কত সাহিত্যিকের বইই না পড়েছি, দেশ-বিদেশের সাহিত্য, আমাদের দেশের সাহিত্য, কিন্তু নিজেরা যেন একে অপরের সাহিত্য সেভাবে পড়িনি। বা সেভাবে যে পড়তে হবে বা পড়ার দরকার এমনও কখনো মনে হয়নি!
তাহলে এই জীবনটা নিয়ে আমরা কী করলাম?
এখন যেন মনে হয় জীবনের কর্মকাণ্ডগুলোকে আমরা একটি প্রোজেক্ট হিসেবে নিয়েছিলাম। ৫ বছর মেয়াদি প্রোজেক্ট বা দশবছর মেয়াদি প্রোজেক্ট হিসেবে নয়, এ ছিল যেন সারা জীবনের প্রোজেক্ট! এই প্রোজেক্ট সফল করার জন্য আমরা যেন দেশ-বিদেশ তোলপাড় করে ফেলেছি। শুধু তাই নয়, আমাদের ভাই-বোন ও ছেলেমেয়েগুলোকেও যেন সেই প্রোজেক্টের আওতার ভেতরে ফেলে দিয়েছিলাম। আমাদের ছিল কিছু কাজ, বড় নিম্ন জাতীয় কাজ, বেঁচে থাকার জন্য যেসব কাজ দরকার হয়, তার বাদে বাকি সময়টা ছিল আমাদের লেখার প্রোজেক্ট।"


স্বামীকে প্রচন্ড ভালবাসতেন, তাই তাঁর মৃত্যুর পরও আনুষ্ঠানিক চিঠি দিতে চেয়েছেন সেসব প্রতিষ্ঠান-প্রধানদের, যারা সৈয়দ হকের জন্মদিনকে বিশেষ দিন হিসেবে স্মরণীয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নিজেদের কথা ভুলে গেছিল তাঁর মৃত্যুর পরেই। এখনো কি লেখিকা অপেক্ষায় থাকেন, লক্ষ্য করেন তাঁর প্রিয় মানুষটাকে কেউ স্মরণ করলো কি না?

আনোয়ারা সৈয়দ হক-কে সৈয়দ শামসুল হক-এর স্ত্রী হিসেবে, পরে লেখিকা হিসেবে জেনেছিলাম। তাঁর লেখার বিষয় বেশ আগ্রহী করেছে। যে দম্পতিকে তাঁদের লেখায় চিনতাম, তাঁদের নিজস্ব স্মৃতিচারণ হাতে ঠেকলো দোকানে বই ঘাঁটতে গিয়ে। স্বামীকে স্মৃতিতে, সন্তাপে ধারণ করেছেন বিভিন্ন সময়ে লেখা কিছু টুকরো লেখায়, ৫৫ পাতার 'সেদিন দুজনে' তার সংকলন।

বই : সেদিন দুজনে
লেখক : আনোয়ারা সৈয়দ হক
জঁরা : স্মৃতিকথা
প্রকাশনা : ঐতিহ্য
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৫৫
মুদ্রিত মূল্য : ১৪০ টাকা
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
364 reviews34 followers
February 19, 2022
সাধারণত গল্প উপন্যাসে দেখা যায় লেখকের লেখায় মুগ্ধ হয়ে চিঠি আদান-প্রদান হয়ে থাকে এবং এক সময় দেখায় হয় লেখক এবং পাঠিকার।
হ্যাঁ এমনটাই হয়েছিল লেখক সৈয়দ শামসুল হক এবং আনোয়ার সৈয়দ হক এর সাথে।

সৈয়দ শামসুল হক এর " তিন পয়সার জ্যোছনা" গল্প পড়ে মুগ্ধ হয়ে চিঠি লিখেছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রী আনোয়ারা।
তার পর দেখা হয়, কথা হয় এবং প্রেম ও প্ররিণয়ে আবদ্ধ হয়ে যুগলজীবন অতিবাহিত করলেন অর্ধশতাব্দী।

লেখিকা আনোয়ারা সৈয়দ হক " সেদিন দু'জনে" বইটাতে তাঁদের জীবনের সেই টুকরো স্মৃতি তুলে এনেছেন। স্মৃতি হাতড়ে নানা ঘটনা তিনি বলেগেছেন।

চমৎকার একটা বই দুজনের এক সাথে চলা জীবনের কিছু মুহূর্ত নিয়ে।
Profile Image for SAWROV JAMAN.
11 reviews1 follower
January 18, 2025
সচিত্র সন্ধানী পত্রিকায় তিন পয়সার জ্যোছনা উপন্যাসটি পড়ে অভিভূত হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ পড়ুয়া আনোয়ারা বেগম। সেই থেকে তাঁর মনে বাসনা জাগলো এর লেখকের সাথে দেখা করার, কে এই সৈয়দ শামসুল হক? চিঠি লেখালেখি চললো। এরপর ৬৩ সালের জুন মাসের একদিন এলো, গুলিস্তানের চাইনিজ রেস্টুরেন্টে দেখা করলেন সৈয়দ হকের সাথে। প্রথম দেখাতে তিনি বেশ শঙ্কিত। এরকম ছিপছিপে, কালো, একহারা গড়নের লোক; তার উপর আবার ইন্টারের পর আর পড়ালেখা করেনি, লেখালেখির জন্য! এরকম একটা মানুষকে বেছে নেয়ার চিন্তা করাটা ঝুঁকির ব্যাপার হয়ে যায় না? এরপর ঠিক করলেন: লেখাপড়া শেষ করেনি। বিদ্যা কতদূর আমাকে জানতে হবে! তারপর তো সম্পর্ক! সম্পর্ক করার আগে শার্লক হোমসের মত ইনভেস্টিগেশন দরকার!
এভাবে আরেকদিন দেখা করলেন। রিকশা যখন শাহবাগ মোড়ের কাছাকাছি তিনি সৈয়দ হককে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি তো লেখাপড়া শেষ করেননি। বুঝলাম, সাহিত্য করবেন বলে শেষ করেননি, বেশ, বিখ্যাত সাহিত্যিকদের ইংরেজি নামের বানান করতে পারবেন?
সৈয়দ হক হকচকিয়ে গেলেন, কি? পারব!
━ বানান করুন তো ডস্টয়োভস্কি ইংরেজিতে?
━ এবার বলুন লিও টলস্টয়
━ বলুন মায়াকোভস্কি
━ বলুন বরিস পাস্টারনেক
━ বলুন ইয়েভগনি ইয়েভতুশেঙ্কু
এভাবে বারবার বানান বলার সময় আনোয়ারা বেগম তাঁর হাতের চিরকুট বের করে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় মিলিয়ে দেখছেন। কারন সেসব বানান আদতে তিনি নিজেও জানেন না। সৈয়দ হক বলল, কি ব্যাপার? তুমি বারবার হাতব্যাগ খুলে কি দেখছ?
━ কিছু না!
━ পরীক্ষায় কি পাশ করলাম?

এভাবে পরিচয়, পরিচয় থেকে প্রণয়, এরপর পরিণয়। সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে আনোয়ারা সৈয়দ হক দীর্ঘ ৫০ বৎসর কাটিয়েছেন। সৈয়দ হক আদতে কেমন মানুষ ছিলেন, তার সাহিত্য অনুরাগ এসব স্মৃতিচারণ তুলে এনেছেন লেখক বইটিতে। বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচী লেখক হিসেবে সৈয়দ শামসুল হক অধিষ্ঠিত। দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গে যে কজন শক্তিমান ও প্রধান লেখকদের হাত ধরে এগিয়ে চলে বাংলা সাহিত্য তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। সেই লেখকের সংসারজীবনের সঙ্গী আনোয়ারা সৈয়দ হকও একজন বিশিষ্ট লেখক। তাঁর লেখা এই বইটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ জানাই ঐতিহ্যকে বইটি পড়ার সুযোগ করে দেবার জন্যে।
Profile Image for Adwitiya (অদ্বিতীয়া).
298 reviews40 followers
September 24, 2025
2.5 / 5.0

বহুবছর ধরে বাংলা সাহিত্য থেকে ভালোই দূরে আছি। এই দূরত্ব শীঘ্রই ঘুচবে এমন কোন আশাও রাখি না সত্যি বলতে। তবু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আকস্মিক দীর্ঘ বন্ধ পেয়ে যাওয়ায় কী মনে করে আবার বহুদিন পর একটু বাংলা বই ঘাঁটাঘাঁটি করা শুরু করলাম। বিশেষ করে বাঙালির লেখা স্মৃতিকথা পড়ার ইচ্ছে জাগলো। মেময়ের সবসময়ই আমার অতিপ্রিয় একটা জনরা - 'যদ্যপি আমার গুরু' তেমন আহামরি কোন লেখা না হলেও আমি ভালো লাগা থেকেই একাধিক বার পড়েছি। ২ দিন আগে আয়েশা ফয়েজের জীবন-কথা পড়লাম - বেশ লেগেছে। তো এই বইয়ে আমি যেই প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলাম সেটা মোটেই পূরণ হয়নি। প্রথম লেখায় তাদের প্রথমবার দেখা করবার গল্প ছাড়া ব্যক্তিগত জীবনের তেমন স্মৃতিকথা বা গল্প-কাহিনি এখানে নেই। আছে বরং প্রতিভাবান স্বামী ও তার জীবন নিয়ে লেখিকার নিজের ধারণা ও প্রচুর আক্ষেপের কথা। এই অংশগুলো পড়তে আমার বিরক্ত লেগেছে। লেখিকার ছেলের ভাষ্য অনুযায়ী এ দেশের মানুষ কি সত্যিই তাদের মৃত গুণী মানুষদের প্রতি প্রতিহিংসা পালন করে? জানি না, কিন্তু আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে দেশভাগের পরে লেখা পড়ার যোগ্য বাংলাদেশি সাহিত্য আমি খুব কমই পেয়েছি। সৈয়দ শামসুল হকের লেখার মাঝের দর্শনও খুব বেশি উচ্চমার্গীয় কিছু বলে মনে হয়নি। বাংলাদেশি 'বুদ্ধিজীবি'দের মাঝে এত অহংকার কোত্থেকে আসে? এক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কত টানাটানি করার পর অন্য কিছুতে যাওয়া যাবে? জানি না এবং সম্ভবত আর জানতেও চাই না।

আনোয়ারা সৈয়দ হকের বাংলা লেখার হাত ভালো। স্বামীর স্মৃতি ও কীর্তির প্রতি সম্মান জানিয়ে এককালীন কোন সাহিত্য পত্রিকায় কলাম হিসাবে প্রবন্ধগুলো বেশ যুতসই, তবে আস্ত একটা আলাদা বই হিসাবে নয়। দুঃখিত কিন্তু কেন জানি প্রচণ্ড মেজাজ গরম হলো পড়ে। বুঝলাম তাঁর স্বামীর প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না, যথাযোগ্য সম্মান তিনি পাচ্ছেন না - কিন্তু এই একই কথা ঘুরেফিরে কয়বার পড়া যায়?

Sorry for the weird rant. But I seriously want the 110tk I spent on this book back.

~ 24 August 2025
Profile Image for Nidra.
28 reviews5 followers
January 21, 2025
পুরো বইয়ের নানান জায়গায় লেখিকাকে বারবার স্বামীর পুরষ্কার না পাওয়ার ব্যাপারে কথা বলতে দেখেছি (তার ধারণা তার স্বামীকে ষড়যন্ত্র করে পুরষ্কার দেওয়া হয়নি) এবং বারবারই বিরক্ত হয়েছি। একজন লেখককে সব্যসাচী বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়- এর থেকে বড় পুরষ্কার আর হতে পারে!!!

জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিন পালনের মধ্যেও আমি বিশেষ কিছু দেখতে পাই না। যে দেশে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে দুইদল ঝগড়া করে, ধর্ম নিয়ে টানাটানি করে সে দেশে এসব চিন্তা আসলে বাড়াবাড়িই মনে হয়। তাছাড়া সৈয়দ শামসুল হক ছাড়াও আমাদের দেশে আরো লেখক আছেন। তাহলে তাদের জন্মদিন, মৃত্যুদিনও পালন করতে হবে যদি এভাবে ভাবি আরকি। এমন জোর করে মানুশের মধ্যে ভালোবাসা জাগানো যায় না বরং একজন সব্যসাচীকে এভাবে আসলে অপমান করা হয়। এভাবে পুরষ্কারের কথা ভাবলে জীবনানন্দ দাশ তো তাহলে তেমন কোনো ভালো কবিই নন।

শান্তিনিকেতন থেকে পাথর চুরি করে আনা, নিজের লেখার ঘরে কারো ঢুকা পছন্দ না করা বা লেখালেখি নিয়ে মগ্ন থাকার গল্পগুলোর মাধ্যমে ভীষণ দারুণ একজন মানুশকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Displaying 1 - 9 of 9 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.