—“সত্যির উলটোদিকে মিথ্যে থাকে, তুই তাে আমাকে ঠিক মিথ্যে বলবি না, বলবি গল্প... গল্পের উলটোদিকে কে থাকে?” -“আচ্ছা, ধর, গল্পের উলটোদিকে থাকে জোনাকি...” -“তুই একটা একটা করে সত্যিকারের গল্প বলবি আর আমি তার উলটোদিকে হেটে এক-একটা করে জোনাকি খুঁজে পাব, কেমন?” | লেখক কাম স্টোরিটেলার শতরূপ ঘােষের কাছে আসে এক অদ্ভুত। প্রস্তাব। গল্প শােনাতে হবে তাকে, মােটা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে, তবে শ্রোতা এখানে কেবল একজন। কাজটা কঠিন কিছু নয়। খানিকটা উপন্যাস লেখার মতােই। কেবল তফাত হল যে উপন্যাসটা সে লিখবে, সেটা কেউ সত্যি বলে বিশ্বাস করবে। কারও জীবনের গল্প লিখতে হবে তাকে। যে ছবিগুলাে ডার্ক আর গ্রে কালারে আছে, সেগুলােতে প্যালেটের যে-কোনও ব্রাইট রং লাগিয়ে নিজের ইচ্ছামতাে সাজিয়ে নিতে হবে সেই একজনের অতীত। কিন্তু গল্প লেখা কি সত্যিই এত সােজা? নর্থ বেঙ্গলের গভীর জঙ্গলের মধ্যে এক পরিত্যক্ত ভাঙা মন্দিরে খােদাই করা রয়েছে মায়ান সভ্যতার সুইসাইডের দেবতা ইক্সট্যাব’র ছবি। কিন্তু কেন? কেন বিনির চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা যায় না বেশিক্ষণ? সত্যি কি ন্যাচারাল হিলিঙের ক্ষমতা রয়েছে বিনির? আর ইলােরা... সে কি সত্যিই এসেছিল পৃথিবীর বাইরের অন্য কোনও জগৎ থেকে? ইলােরার হাতের জার কি কোনােদিনও পুরােপুরি ভরতি হবে জোনাকি দিয়ে?
আমাদের সবার একখানা দুর্দান্ত জঘন্য স্বভাব আছে - দুঃখ নিয়ে বরাই করা। কেউ যদি বলে আমার গার্লফ্রেন্ড ছেড়ে চলে গেছে তো তাকে জ্ঞান দিয়ে দেব জানিস আসল চলে যাওয়া হল বাবা মা চলে যাওয়া। কারোর বাবা মরে গেলে বলে দেব মা মরে যাওয়ার মত দুঃখ না। এতে লাভ কারোর হয় না, শুধু নিজের সর্বদা স্পটলাইটে থাকার স্বার্থপর ইচ্ছাটাকে একটু আদর করে দেওয়া হয়।
🍄 এই গল্পে দুই চরিত্র ঠিক এর উল্টো করছে। দুজনেই চরম depressed, কিন্তু একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করেই চলেছে। নিজেরই পশ্চাতভাগের ঠিক নেই, সে অন্য কে সামলানোর চেষ্টা করছে। বিফল হয়ে চলেছে কিন্তু তাও চেষ্টা ছাড়ছে না। এই চেষ্টা করে যাওয়ারই মারাত্মক depressing গল্প এই "জোনাকির রং।" 🍄 লেখক শুরুতেই এর জন্য ক্ষমা টমা চেয়ে নিয়েছেন। তাই মন ভালো করা গল্প চাইলে এই বই থেকে দূরে থাকুন। যদি আপনি "ওসব দুঃখ টুক্ষ কি? সব কে মেরে উড়িয়ে দেব।" "Don't be sad, be happy" "ভেঙে পড়লে হবে না, তোকে শক্ত হতে হবে।" typer ফালতু জ্ঞান দেওয়া গর্দভ হন, তাহলেও এই বই আপনার জন্য নয়।
🍄 এই বই দুঃখকে মেনে নিয়েই তার মধ্যে বেঁচে থাকার এক গল্প। আমার বেশ ভালো লাগল। মনকে ছুঁয়ে গেল। লেখক মনঃস্তত্বের এত জটিল জটিল layer গুলোকে তুলে ধরে তার চুল চেরা বিশ্লেষণ করেছেন যে সব ঢপের self-help book ফেল এর সামনে। 🫠
🍄 এত সুন্দর সুন্দর metaphore ব্যবহার করেছেন মনের কিছু mechanism বোঝানোর জন্য, সত্যিই প্রশংসা করতে হয় লেখকের। 🤗
🧲 But as usual, এটা সায়ক আমানের বই। সুতরাং twist, রহস্য থাকবে না তা ক্যামনে হয়! তাই বলে রাখি সবই আছে। তবে পরিমাণে অল্প। মন ভরে যাবে, তবে ওটা যে গল্পের প্রধান আকর্ষণ নয় সেটাও বুঝতে পারবেন।
🌟 সব মিলিয়ে বলব, যদি ভালো মনে থাকেন, একটু challenge হিসেবে বইটা পড়ে দেখুন। অন্যকে বুঝতে শেখাবে এই বই। 5 🌟 এর বেশি নেই তাই দিতে পারলাম না।
বিখ্যাত গল্প বলিয়ে শতরূপ ঘোষকে একটি অদ্ভুত প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ী আশিস দত্ত। তাঁর ভাইঝি বিনি নাকি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে এবং তার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এসবের মূলে রয়েছে মেয়েটির ভয়াবহ ও দুঃখজনক অতীত। শতরূপের চাকরির কাজ হবে মেয়েটির সেই ভুলে যাওয়া অতীতকে সুস্থসবল হাসিখুশি ভরা একটি অতীত হিসেবে গড়ে গল্প শোনানো। শতরূপ সেখানে যায় এবং ধীরে ধীরে তার নিজের জীবনটাও অন্যভাবে বাঁক নিতে থাকে। ক্রমশ মনে হতে থাকে যে শতরূপ ও বিনির মধ্যে কোন একটি যোগসূত্র আছে। দুজনেরই অতীতে পাওয়া অনেক দুঃখকষ্ট তাদের মনে ও জীবনে ভয়ানক ছাপ ফেলে গেছে। সেই যোগসূত্র খুঁজতে থাকে শতরূপের বান্ধবী ডঃ নীহারিকা আর চারপাশে ছড়িয়ে থাকে মায়ান সভ্যতার আত্মহত্যার দেবতা ইক্সট্যাবের ডাক। দুঃখজনক শৈশব ও অতীত মানুষকে কতটা বদলে দিতে পারে তার একটি ভয়ানক নিদর্শন। ---
পাঠ প্রতিক্রিয়া- একদম অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতার জন্য তৈরি হয়ে যান। প্রথম পাতাতেই এত সুন্দর করে লেখক ভূমিকা লিখেছেন যে প্রথম লাইন পড়েই আপনি মুগ্ধ হয়ে পাতার পর পাতা পড়তে বাধ্য হবেন। একটা অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করবে পাঠকের মনে।
তারপর শুরু হবে মূল কাহিনী। প্রথমদিকে সবকিছু বাস্তব বলে মনে হবে। শতরূপের থেকে আপনিও একটি গল্প শুনতে চাইবেন। কাহিনীর মাঝখানে হঠাৎ মনে হতে থাকবে যে আমি কি এটা থ্রিলার পড়ছি? কাহিনীর শেষের দিকে মনে হবে যেন রূপকথা পড়লাম। বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা আর রহস্য- সব মিলেমিশে হয়ে যাবে একাকার।
বইটা পড়তে পড়তে আমার এমন মনে হচ্ছিল যেন এই গল্পটা শেষ হবে না আর আমি এই গল্পটার শেষটা জানার জন্যও পড়ছি না। আমি গল্পটা পড়ছি তার কথাগুলোর জন্য, অনুভূতিগুলো হৃদয়ে গেঁথে নেওয়ার জন্য, এর শেষ যাই হোক না কেন, পড়ার যাত্রাটাই যেন সেরা অভিজ্ঞতা। পাঠক হিসেবে একটা টিপস দিতে ইচ্ছে আছে। সেটা হচ্ছে এই যে কোনো বিষন্নতার সমস্যায় থাকা মানুষকে এই বইটি উপহার না দেওয়া ভালো। না না তাই বলে ভাববেন না যে বইটি সম্পর্কে আমার কোনো অভিযোগ আছে। একেবারেই না। আমি শুধু আমার মনে হওয়াটা বললাম। বইটির লেখনী খুবই অন্যরকম বলে মনে হয়েছে। এরকম আরো বই আশা করছি লেখক সায়ক আমানের থেকে। দাদা, অডিও স্টোরি তো অনেক হচ্ছেই, এবার আরো কিছু বই লিখতে হবে কিন্তু। আপনার আরো অনেক বই লেখা বাকি।
দুমদাম করে বই কেনার কুফলের উদাহরণ হিসেবে এই বইটা প্রথম সারিতে জায়গা করে নেবে। ২৭২ পাতার একটি বইয়ের প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত মনে হয়েছে, আসলে লেখক লিখতেটা কী চেয়েছেন! সারমর্ম:- দুজন মনোরোগে আক্রান্ত বাচ্চা, একে অপরকে চেনে, বড়ো হয় খুঁজে পায়, গল্প শোনা ও বলার মাধ্যমে। এই দু-লাইনকে, দুশো পাতা বানানোর জন্য লেখক ব্যবহার করেছেন - আত্মহত্যা, মায়া দেবতা, অন্য জগতের বাসিন্দা, ইউটোপিয়া-ডিস্টোপিয়ার নাম, কিছু আজে-বাজে ভালোবাসার ব্যখ্যা। এবং প্রতি দশ পাতা অন্তর একই জিনিসের চর্বিত চর্বণ। বি. দ্র. :- পুরো বইটার মধ্যে একমাত্র ভালো জিনিস 'ভূমিকা'। প্রথমবার বোধহয় এতটা খুঁটিয়ে ভূমিকা পড়েছিলাম! সবশেষে,এক প্লেট বিরিয়ানির টাকাটা এভাবে নষ্ট হলো বলে, নিদারুণ কষ্ট হচ্ছে। রেটিং : ১.৫/৫
বিখ্যাত আর. জে. শতরূপ ঘোষকে একটি অদ্ভুত প্রস্তাব আসে এক অজানা চিরকুটের মাধ্যমে। তাকে মোটা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গল্প শোনাতে হবে ঐন্দ্রিলা দত্ত ওরফে বিনি নামের এক স্মৃতিভ্রংশ তরুণীকে। বিনির ভুলে যাওয়া শৈশব ও কৈশোরের সমস্ত ভয়াবহ ও দুঃখজনক ঘটনাকে গল্পের মাধ্যমে সুস্থ সুন্দর, হাসিখুশি করে গড়ে তুলতে হবে শতরূপকে। গল্প শোনাতে শতরূপ আসে নর্থ বেঙ্গলে। সেখানে তার জীবনেও ঘটতে থাকে নানান ঘটনা। মনে হতে থাকে শতরূপ আর বিনি যেন পূর্বপরিচিত। কাহিনীর ভাঁজে ভাঁজে থাকে জংলু, আশিষ দত্ত, সোমাদি, বিনয় কাকার কথা।
শতরূপেরও কি কোনো দুঃখজনক অতীত আছে? মায়ের দেওয়া ইরেজার আর বাবার দেওয়া শেষ চিঠিটা কেন সে ফেলে দেয়? কেনই বা সে মরে যেতে চায়?
শতরূপের কাছে এসেছে ইলোরা, বিনির কাছে এসেছে পুনা। তারা কি সত্যিই পৃথিবীর বাইরের কোনো জগতের প্রাণী? কী রহস্য লুকিয়ে আছে জঙ্গলের মধ্যে সেই মন্দিরের? কেন সেখানে খোদাই করা আছে মায়ান সভ্যতার ���ত্মহত্যার দেবতা "ইক্সট্যাব"-এর ছবি? "নয়" এর রহস্যই বা কী?
এই গল্প শতরূপের গল্প, এই গল্প বিনির, এই গল্প কোথাও গিয়ে ডাক্তার নীহারিকার। ইলোরা, পুনা, শতরূপের দাদু - সবাইকে নিয়েই এই কাহিনী। দুজন Depressed মানুষের দুজনকে বোঝার গল্প। পড়তে পড়তে আবিষ্কা�� করা যায় আর নতুন Twist, এক এক করে চরিত্রের জট খুলতে থাকে।
আমার মনে হয় এটা একটা ভীষণই Depressing গল্প। তাই কোনো মানুষ বিষণ্ণতা বা অবসাদে ভুগলে এই বই না পড়াই ভালো। তবুও সত্যি বলতে এই কাহিনী একদম মন ছুঁয়ে গেল।
🍂✨📖উপন্যাসের নাম - জোনাকির রং📖✨🍂 ✍️লেখক - সায়ক আমান 🖨️প্রকাশক - বিভা 📃পৃষ্ঠা সংখ্যা - ২৭২
🍂🍁 “ সত্যির উলটোদিকে মিথ্যে থাকে , তুই তো আমাকে ঠিক মিথ্যে বলবি না , বলবি গল্প ... গল্পের উলটোদিকে কৈ থাকে ? ” “ আচ্ছা , ধর , গল্পের উলটোদিকে থাকে জোনাকি ... " “ তুই একটা একটা করে সত্যিকারের গল্প বলবি আর আমি তার উলটোদিকে হেঁটে এক - একটা করে জোনাকি খুঁজে পাব কেমন , লেখক কাম স্টোরিটেলার শতরূপ ঘোষের কাছে আসে এক অদ্ভুত প্রস্তাব । গল্প শোনাতে হবে তাকে , মোটা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে , তবে শ্রোতা এখানে কেবল একজন । কাজটা কঠিন কিছু নয় । খানিকটা উপন্যাস লেখার মতোই । কেবল তফাত হল যে উপন্যাসটা সে লিখবে , সেটা কেউ সত্যি বলে বিশ্বাস করবে । কারও জীবনের গল্প লিখতে হবে তাকে । যে ছবিগুলো ডার্ক আর গ্রে কালারে আছে , সেগুলোতে প্যালেটের যে - কোনও ব্রাইট রং লাগিয়ে নিজের ইচ্ছামতো সাজিয়ে নিতে হবে সেই একজনের অতীত । কিন্তু গল্প লেখা কি সত্যিই এত সোজা ? নর্থ বেঙ্গলের গভীর জঙ্গলের মধ্যে এক পরিত্যক্ত ভাঙা মন্দিরে খোদাই করা রয়েছে মায়ান সভ্যতার সুইসাইডের দেবতা ‘ ইন্সট্যাব ’ - র ছবি । কিন্তু কেন ? কেন বিনির চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা যায় না বেশিক্ষণ ? সত্যি কি ন্যাচারাল হিলিঙের ক্ষমতা রয়েছে বিনির । আর ইলোরা ... সে কি সত্যিই এসেছিল পৃথিবীর বাইরের অন্য কোনও জগৎ থেকে ? ইলোরার হাতের জার কি কোনোদিনও পুরোপুরি ভরতি হবে জোনাকি দিয়ে ?🍁🍂
🍁এই পৃথিবীর প্রত্যেকটা সুইসাইড নোট কি মৃত্যুকে লেখা প্রেমপত্র নয় ?
🍁“ তুই সব থেকে বেশি মিস করিস কাকে ? ” “ নিজেকে , একটা পুরোনো আমিকে ... ”
"আমাদের সবার নিজেদের জীবনের উপর, জীবনের গল্পগুলোর উপর একটা অধিকার আছে। ভালো হোক, খারাপ হোক, সেগুলোই তো তৈরি করে আমাদের।... মানুষ তো আর চিরকাল থাকে না, কিন্তু তাদের গল্পগুলো রয়ে যায়।"
একাকীত্ব, বিষণ্নতা, হতাশা, বিফলতা এই দৈত্যগুলো যখন আমাদের পিছনে তাড়া করে, মানুষ প্রাণপণে বাঁচার চেষ্টা করে। এসময় দরকার এমন একজন এমন বন্ধুর, যার কাছে আশ্রয় পাওয়া যায়। মানুষ কখনো কখনো বাঁচার জন্যও আত্মহত্যা করে। সায়ক আমনের লেখা 'জোনাকির রং' একটা জীবনের গল্প, যেখানে সঠিক মানুষটার সঙ্গে দেখা হয়ে গেলেই দুঃখ আর কষ্টগুলো জোনাকি হয়ে জার থেকে বেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীতে। আর আশ্রয়ের বারান্দাটা খুঁজে পাওয়া যায়। কাহিনীটিতে সাইকোলজি ও কল্পনা হাত ধরাধরি করে এগিয়ে গেছে।
"কিছু কিছু মানুষের ভালোবাসা আজন্ম কাল শিশুর মত থেকে যায়, তারা ভালোবাসার বদলে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেনা, দেখাতে পারেনা। স্বার্থপরতার মোড়ক ঢেকে রাখে তাদের। কেবল ভালবাসা না পেলে তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে তারা। তাদের প্রেমের প্রকাশ এই যন্ত্রণাময় চিৎকারই মিশে থাকে কেবল। তারপর সে বড় হতে থাকলে আর তাদের ভালোবাসার শেষ চিহ্নটুকুও পড়ে থাকে না।"
কলকাতার লেখক ও আরজে শতরুপের কাছে একদিন হঠাৎ করেই আশিষ দত্ত নামে একজন ব্যবসায়ী তার ভাইঝি ঐন্দ্রিলাকে (বিনি) গল্প শোনানোর প্রস্তাব দেয় এবং এইভাবে গল্পগুলো বলতে বলে যাতে বিনি সত্যি বলে মনে করে। বিনি থাকে নর্থ বেঙ্গলে। একাধিকবার আত্মহত্যা চেষ্টা করার জন্য সে স্মৃতি হারিয়েছে। বিনির ছোটবেলার দুঃখজনক অতীত স্মৃতি যেন আর কখন ফিরে না আসে, সেই চেষ্টাই করতে বলা হয় শতরুপকে। বিনি তার বাবার কাছে এতটাই নিগৃহীত হয়েছিল যে, সে একদিন বিষ দিয়ে তার বাবাকে মারতে চেয়েছিল।
"আমরা যা কিছু সবচেয়ে বেশি আগলে রাখতে চাই সেগুলোই সবার আগে চলে যায়।"
শতরুপ নর্থ বেঙ্গলে আসার পর থেকেই একটি বাচ্চা ছেলেকে দেখতে পায়। কে এই বাচ্চা? অমর ঘোষ কে? শতরূপ আর বিনির জন্মরহস্য কী? বিনির চোখের দিকে বেশীক্ষণ তাকানো যায় না, কিন্তু কেন? ধীরে ধীরে শতরুপের জীবনও বদলাতে থাকে। পুন কে? পুনের সাথেই বিনি জঙ্গলে একটি পোড়া মন্দিরের সন্ধান পায়। সেই মন্দিরে আবার মায়ান সভ্যতার আত্মহত্যার দেবতা ইক্সট্যাবের মূর্তি। এই মূর্তির ইতিহাস কি? ইলোরা কে? ইলোরার হাতে সবসময় থাকে একটি জোনাকি ভরতি জার? কী সম্পর্কে আছে জারটার সাথে শতরুপের? শতরুপের ছোটবেলার বন্ধু ডাঃ নীহারিকাই এখন বিনির ডাক্তার।
সব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পড়ে ফেলতে হবে টানটান উত্তেজনায় ভরা এই বইটি। সমস্ত রহস্য একেবারে উন্মোচন না করে ধীরে ধীরে প্রত্যেকটা অধ্যায়ে একটু একটু করে উন্মোচন করা হয়েছে।প্রতিটি চরিত্রের বিশেষত্ব এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের যে বর্ননা উঠে এসেছে লেখকের কলনী, তার জন্য লেখককে কুর্নিশ জানাতেই হয়।
"প্রত্যেকটা সুইসাইড নোট কী মৃত্যুকে লেখা প্রেম পত্র নয়?"
কিছু ভীষণ মন খারাপের মুহুর্ত থাকে। এক অদ্ভুত গভীর মন খারাপ.. কারও সঙ্গে তখন কথা বলতে ইচ্ছে করে না, গল্প করে দুঃখের কথা বলতেও আর শক্তি পাওয়া যায় না। বুকের ভেতর ভারী হয়ে আসে। এ এক ভয়ঙ্কর মুহুর্ত। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে নাকি মনের প্রসারতা বাড়ে, হয়তো সত্যি , একটানা দীর্ঘক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে নাকি অনেকটা হালকা লাগে। হয়তো লাগে। কিন্তু আমার মনে হয়, আমাদের সবার মনে একজন কাল্পনিক মানুষ থাকে যার সঙ্গে আমরা আমাদের সমস্ত সিক্রেটস আর ইনসিকিউরিটিস শেয়ার করি, তারা আমাদের সবকিছু জানে ও বোঝে। একজন নিখুঁত মানুষ যে সবসময় আমাদের পাশে থাকে।কখনো কখনো আমরা ভাবি যে আমাদের গল্পগুলো কত সুন্দরই না হয়ে উঠতো যদি সেই মানুষটা বাস্তবিক জীবনে কোথাও থাকতো।। 🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂 আচ্ছা আপনি কখনো একটানা একটা ফাঁকা দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে থেকেছেন?? কখনো দেখতে দেখতে মনে হয়নি, হঠাৎ ঐ দেওয়ালটা দুভাগ হয়ে যাবে, খুলে যাবে এক অন্য দুনিয়া, যেখানে কোনো মনখারাপ নেই দুঃখ নেই, কেউ আর সেখানে স্মৃতি হয়ে ভীড় করবে না... আসলে যখন মানুষ একা থাকতে শুরু করে, অনেক অনেক মানুষের মধ্যে একদম একা.. সে নিজের চারপাশে একটা কৃত্রিম অথচ একেবারে খাঁটি বাস্তব দুনিয়া তৈরি করে ফেলে.. সে নিজেও বুঝতে পারে জানেন যে তাকে দেখে তার আচরণ দেখে অনেকেই ভাবছে সে সুস্থ নেই... কিন্তু ঐ যে না বোঝার ভান!! ওটায় একটা জান্তব সুখ আছে.. ধরা না পরার সুখ, সক���ের থেকে শেষ পর্যন্ত নিজেকে আলাদা করে ফেলার সুখ,একা থাকার সুখ... 🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂 “সত্যির উলটোদিকে মিথ্যে থাকে, তুই তাে আমাকে ঠিক মিথ্যে বলবি না, বলবি গল্প... গল্পের উলটোদিকে কে থাকে?” -“আচ্ছা, ধর, গল্পের উলটোদিকে থাকে জোনাকি...” -“তুই একটা একটা করে সত্যিকারের গল্প বলবি আর আমি তার উলটোদিকে হেটে এক-একটা করে জোনাকি খুঁজে পাব, কেমন?” | লেখক কাম স্টোরিটেলার শতরূপ ঘােষের কাছে আসে এক অদ্ভুত। প্রস্তাব। গল্প শােনাতে হবে তাকে, মােটা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে, তবে শ্রোতা এখানে কেবল একজন। কাজটা কঠিন কিছু নয়। খানিকটা উপন্যাস লেখার মতােই। কেবল তফাত হল যে উপন্যাসটা সে লিখবে, সেটা কেউ সত্যি বলে বিশ্বাস করবে। কারও জীবনের গল্প লিখতে হবে তাকে। যে ছবিগুলাে ডার্ক আর গ্রে কালারে আছে, সেগুলােতে প্যালেটের যে-কোনও ব্রাইট রং লাগিয়ে নিজের ইচ্ছামতাে সাজিয়ে নিতে হবে সেই একজনের অতীত। কিন্তু গল্প লেখা কি সত্যিই এত সােজা? নর্থ বেঙ্গলের গভীর জঙ্গলের মধ্যে এক পরিত্যক্ত ভাঙা মন্দিরে খােদাই করা রয়েছে মায়ান সভ্যতার সুইসাইডের দেবতা ইক্সট্যাব’র ছবি। কিন্তু কেন? কেন বিনির চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা যায় না বেশিক্ষণ? সত্যি কি ন্যাচারাল হিলিঙের ক্ষমতা রয়েছে বিনির? আর ইলােরা... সে কি সত্যিই এসেছিল পৃথিবীর বাইরের অন্য কোনও জগৎ থেকে? ইলােরার হাতের জার কি কোনােদিনও পুরােপুরি ভরতি হবে জোনাকি দিয়ে? 🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂 যেসব মানুষ একা, যাদের জীবনের একপাশে দুংখবিলাস আর অন্যপাশে বাগানবিলাস সমান্তরাল ভাবে এগিয়ে চলেছে... তাদের আর আলাদা করে হারানোর ভয় থাকে না... ভগবান আর শয়তানের মধ্যে যে আসলে চারিত্রিক কোনো পার্থক্য নেই সেটা বুঝে গেলেই হয়তো একা একাই ভীড় হয়ে ওঠা যায়। কারণ, "ভগবান বা শয়তান বলে কিছু হয়না। যার হাতে সাঁড়াশি, সেই অন্যের কাছে কাছে ভগবান। যার চোখে সাঁড়াশিটা ঢুকে যায়, তার কাছে শয়তান...।। "
My brother once told me that while listening to audiobooks, he came across an author, previously a RJ, whose short stories he loved. When I spotted one of his novels in the bookfair, I didn't hesitate to pick it up.
I give it 3 stars out of 5.
⭐- The author's expertise in writing dialogues is appreciable. From the very first page, you feel a connection with the characters just from the way they speak.
⭐- The characters were down to earth, people you meet in day-to-day life. The protagonist, Roop, reminded me so strongly of a person that I had an urge to throw this book at his face. The resemblance was too eerie. Like the author picked him up, changed his name and pushed him in the storyline.
⭐- I experienced some very raw emotions while reading this one. Sorrow, thrill, fear but most especially anger. An uncontrollable urge to slap Roop whenever he was being insolent to Niharika. For Roop's grandfather too. Yes, he was mentally ill but that doesn't allow him to destroy the lives of two children. (He doesn't evoke sympathy in me!!)
⭐🚫- Leaving questions unresolved at the end of a thriller novel is a bad decision. I would have been happier if it was resolved.
⭐🚫- Though the designing of dialogues are good, the prose needs much, much work. But I think it would come with time and experience. He has potential in himself.
🐱- I saw myself in Niharika. The way Niharika loved Roop, Oindrila can never. It's a thing to love someone when you know he loves you back and a complete different thing to love when you know you will never get anything in return.
🐱- I loved this book so much!! It got flaws of its own but that doesn't negate it's awesomeness.
🐱- Personally, I think this book shouldn't be read by people who suffer from suicidal thoughts or who have weak hearts.
সায়ক আমানের লেখা 'জোনাকির রং' উপন্যাসটা অমবস্যার রাতে জানলায় এসে বসা কয়েক মুঠো জোনাকির মতো। এমন একটা রূপকথা, যেখানে এক মুহুর্তের জন্যেও দুঃখকে অস্বীকার করা হয়নি, বরং দুঃখ বুনে বুনেই সৃষ্টি করা হয়েছে একটা ইউটোপিয়া। মানুষের জীবনের যত কষ্ট, দুঃখ, যন্ত্রণা, সব যেন জোনাকি হয়ে উড়তে উড়তে জড়ো হয়েছে একটা কাঁচের জারের ভেতর, জীবনের রঙ হয়ে জ্বলে উঠেছে আঁধারতম রাতে । অন্ধকারকে আলোর প্রধান উৎস হিসেবে স্থাপিত করতে চায় এই গল্প। এ এক নিদারুণ মনস্তাত্ত্বিক স্তরের রিসার্চ। সায়ক আমানকে কুর্নিশ জানাই এমন এক জীবনবোধ তাঁর পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য।
While reading thoroughly the book,l was constantly relating the character of Roop to a person who is no longer in my life.Though l absolutely love the narrative in some points, being a person who is suffering from depression and once having suicidal thoughts, this book is not a right choice for me.
One of the best fantasy in bengali I have ever come by. Thanks a lot to the writer for presenting us with this piece of diamond. No wonder why they call him " The Magician!"
People fear death even more than pain. It's strange that they fear death. Life hurts a lot more than death. At the point of death, the pain is over. Yeah, I guess it is a friend. ~Jim Morrison
-“সত্যির উলটোদিকে মিথ্যে থাকে, তুই তাে আমাকে ঠিক মিথ্যে বলবি না, বলবি গল্প... গল্পের উলটোদিকে কে থাকে?” -“আচ্ছা, ধর, গল্পের উলটোদিকে থাকে জোনাকি...” -“তুই একটা একটা করে সত্যিকারের গল্প বলবি আর আমি তার উলটোদিকে হেটে এক-একটা করে জোনাকি খুঁজে পাব, কেমন?”
লেখক কাম স্টোরিটেলার শতরূপ ঘােষের কাছে আসে এক অদ্ভুত প্রস্তাব। গল্প শােনাতে হবে তাকে, মােটা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে, তবে শ্রোতা এখানে কেবল একজন। কাজটা কঠিন কিছু নয়। খানিকটা উপন্যাস লেখার মতােই। কেবল তফাত হল যে উপন্যাসটা সে লিখবে, সেটা কেউ সত্যি বলে বিশ্বাস করবে। কারও জীবনের গল্প লিখতে হবে তাকে। যে ছবিগুলো ডার্ক আর গ্রে কালারে আছে, সেগুলােতে প্যালেটের যে-কোনও ব্রাইট রং লাগিয়ে নিজের ইচ্ছামতাে সাজিয়ে নিতে হবে সেই একজনের অতীত। কিন্তু গল্প লেখা কি সত্যিই এত সোজা? নর্থ বেঙ্গলের গভীর জঙ্গলের মধ্যে এক পরিত্যক্ত ভাঙা মন্দিরে খােদাই করা রয়েছে মায়ান সভ্যতার সুইসাইডের দেবতা ইক্সট্যাব’র ছবি। কিন্তু কেন? কেন বিনির চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা যায় না বেশিক্ষণ? সত্যি কি ন্যাচারাল হিলিঙের ক্ষমতা রয়েছে বিনির? আর ইলােরা... সে কি সত্যিই এসেছিল পৃথিবীর বাইরের অন্য কোনও জগৎ থেকে? ইলােরার হাতের জার কি কোনােদিনও পুরােপুরি ভরতি হবে জোনাকি দিয়ে?
গল্পের শুরুতেই শতরূপ ঘোষের একগাদা গালাগাল আর খিস্তি পড়ে মনে হচ্ছিলো এই বইটাও হয়তো 'আরিন ও আদিম দেবতার উত্থানের' মতোই গালাগালগুলি কষ্ট ���রে পড়ে / সহ্য করে শেষ পর্যন্ত যেতে হবে, যদিও সেক্ষেত্রে তেমনটা হয় নি। তবে মিল অবশ্য আছে আর সেটি হচ্ছে প্লট, মিথোলজি নিয়ে। একটি নর্স মিথলজি এবং অন্যটি মায়ান। 'জোনাকির রং' এর শুরুর দিকটা কিছুটা স্লো... যেনো একটা বৃক্ষের শিকড়গুলি অনেক দূর অবধি ছড়িয়ে যাবার পর, সেটার প্রতিটা শিকড় অনুসরণ করে এক জায়গায় আসার পর মূল বৃক্ষ বা কাহিনির সন্ধান পাওয়া যাবে... কাহিনি আসলে অতো ও বড় না, উপন্যাস না হয়ে গল্প আকারে হলেই বেশি ভালো লাগতো। কিছু জায়গায় শুধু মানুষের অনুভূতি ব্যক্ত করা হয়েছে, দুঃখবিলাস দিয়েই কাহিনীর অনেকটুকু বিস্তৃত। আমাদের প্রতিটা মনখারাপের স্মৃতি, বিষণ্ণতা এবং বিভিন্ন আবেগ লেখক এই গল্পের মাঝে খুব সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সেই সাথে রয়েছে কিছু রহস্য আর থ্রিলারের মশলা। বইটা পড়ার সময় দুটো বিষয় হতে পারে। এক. যদি আপনার মন খারাপ থাকে তাহলে বইয়ের চরিত্রদের সাথে আপনার দুঃখগুলি ভাগাভাগি হয়ে মন কিছুটা ভালো হয়ে যাবে। দুই. মন বেশি ভালো থাকলে মানুষের জীবনের দুঃখগুলি পড়ে মন বিষণ্ণতায় ছেয়ে যাবে। থ্রিলার, রোমান্স আর মিথলজির সংমিশ্রণ ই মূলত 'জোনাকির রং'।
এখানে আমার দুটো জিনিস একটু বিরক্তিকর লেগেছে। মূল চরিত্র বা কেন্দ্রীয় চরিত্র বিনির আসল নাম ঐন্দ্রিলা, সেটা প্রথমে কোথাও উল্লেখ করা হয় নি। এরপর এক জায়গায় এসে হুট করেই ঐন্দ্রিলা নামটা ব্যবহার হয়েছিলো এবং একই লাইনের মাঝে একবার বিনি এবং আরেকবার ঐন্দ্রিলা দুটো নাম ই ব্যবহার হচ্ছিলো। দ্বিতীয়ত কাহিনিগুলি ঝাম্প করতো, কোথাও দেখা গেলো বনের ধারে কথা হচ্ছিলো, আবার পরক্ষণেই অতীতের এক রেডিয়ো স্টেশনে অন্য আরেকটা চরিত্র প্রবেশ করে বসে আছে। ( নীহারিকার পরিচয় এবং বর্ণনা এই জায়গায় আমার বুঝতে একটু সমস্যা হয়েছিলো।)
বইয়ের ভিতরের চিত্রগুলি সুন্দর কিন্তু প্রচ্ছদটা অসাধারণ! বোতলটা আমাদের মন। আর সেই বন্দি বোতল থেকে আমাদের অনুভূতিগুলি জোনাকিরূপে যেন বেড়িয়ে যাচ্ছে....
প্রিয় কিছু উক্তি :
❄ "আমাদের গল্প ছাড়া আর কী আছে, মিস্টার ঘোষ? আমরা কোন পথে যাব, কী করব-সব ঠিক করে দেয় আমাদের অতীতের গল্প... খারাপ ইনসিডেন্ট আমাদের সবার জীবনেই ঘটে। কিন্তু সে ঘটনায় আমরা কীভাবে রিঅ্যাক্ট করব, সেটা ঠিক করে দেয় আমাদের পাস্ট।
❄ বিনি আর কোনও প্রশ্ন করে না। একটা অদ্ভুত হাসি হাসে- "আমরা যা কিছু সব থেকে বেশি আগলে রাখতে চাই, সেগুলোই সবার আগে চলে যায়, না?"
❄ মরে গেলে ভয়ের কী আছে? মরে গেলে তো আর জানতে পারব না যে মরে গেছি। তা ছাড়া জন্মাবার আগে এত কোটি বছর ছিলাম না পৃথিবীতে, কিছুই তো ফিল করতে পারিনি। শুধু আমি বেঁচে থাকতে থাকতে আমার কাছের মানুষগুলো মরে যাওয়ার ভয় পেতাম...
❄ সেই মুহূর্তটা থেকে বহু বছর পর এক-একদিন রাতে ঘুম আসতে চায় না। এক-একটা রাতে মরে যেতে ইচ্ছা করে। তখন মনে হয়, ধুর, এটা একটা মরার সময় হল? বেঁচে থাকার লোভ খুঁটে খুঁটে শেষে সফল না হয়ে মরে যাচ্ছি। এর মধ্যে বীরত্বের কিছু নেই, স্যাক্রিফাইসের কিছু নেই। তখন ভীষণ ইচ্ছা করে সেই অদ্ভুত মুহূর্তটায় ফিরে যেতে। মনে হয়, ওই সময়টায় ফিরে যেতে পারলে...
বই - জোনাকির রং লেখক - সায়ক আমান জনরা - মিথলজিক্যাল থ্রিলার প্রকাশনী - বিভা পৃষ্ঠা সংখ্যা - 272 মূল্য - 550 টাকা ( বাংলাদেশি মুদ্রা)
বই - জোনাকির রং লেখক - সায়ক আমান পাবলিশার - বিভা মূল্য - ২৫০ টাকা
সদ্য পড়ে শেষ করলাম সায়ক আমানের লেখা , জোনাকির রং। স্যাডিসষ্টিক ডিস্টোপিয়ান ঘনার লেখা বলতে বাংলায় খুব একটা লেখা বর্তমান সময় খুব একটা পাওয়া যায় না , সেক্ষেত্রে এরকম একটা কাহিনী পড়ে মোটের ওপর ভালই লাগলো। কাহিনীর বেড়াজাল বোনা হয়েছে , দুইটি প্রধান চরিত্রকে কেন্দ্র করে যাদের শৈশব জীবনের খারাপ অভিজ্ঞতার দরুন প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েও কিসের এক দুর্নিবার ইচ্ছের ওপর ভর করে তাদের মরে যেতে ইচ্ছে করে ।। আর তাই তারা ক্রোমাগত চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে , কিভাবে মরা যায়।।
পাঠ প্রতিক্রিয়া - সত্যি কথা বলতে , আবেগ আর কল্পনার মিশেলে একটা ভালো গল্প হলেও হতে পারত ,কিন্তু অতিরিক্ত কোনো কিছুই যেমন ভালো না , এই বইয়ের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে, কিছু জায়গা পড়ে চোখে জল আসবে , ঠিক তার পরের মুহূর্তে পাঠক হিসেবে আপনি আশা হত হবেন , আর একি পাগলামো মার্কা নেকা কাহিনী পড়ে আমার লাভ কি?? আবার হয়তো কোনো জায়গায় গিয়ে একটু ভালো লাগলো ব্যস এই টুকুই।। কাহিনীর টুইস্ট হিসেবে যেই বিষয় গুলিকে লেখক জুড়ে এই গল্প টিকে দার করাতে চেয়েছেন তা খুবই দূর্বল ও অর্বাচীন ।। মন খারাপের শেষ সীমায় পৌছে যখন আর কোনো কারণ থাকে না মন খারাপ হওয়ার ঠিক সেই জায়গাটির একটি চিত্র লেখক তুলে ধরলেও পরিণতি হিসেবে যদি বেঁচে থাকা কেই লেখক প্রাধান্য দেন , তাহলে পুরো কাহিনীটাই অমূলক হয়ে যায়।। মৃত্যুই যেখানে শ্রেষ্ঠ উপহার সেখানে দুই মানসিক রুগী একসাথে বেঁচে থেকে , আর এক মানসিক রুগীর সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া মনে হয়না কিছু করবে ভবিষ্যতে। হ্যাঁ ওই একটু ভালো লাগার পরশ পেয়েছি এতেই সন্তুষ্ট।।