ফেব্রুয়ারি মাস এলেই চারিদিকে বেহায়াপনার এক রমরমা ব্যবসা শুরু হয়ে যায়। ভালোবাসার নাম ভাঙিয়ে চলে নানান রঙের অশ্লীলতা। ভালোবাসার ব্যকরণ ভুলে যাওয়া এই প্রজন্মকে ভালোবাসার আদি ও অকৃত্রিম পাঠ শেখাতেই প্রকাশিত হয়েছে কিশোর ম্যাগাজিন ‘ষোলো’ এর ফেব্রুয়ারি সংখ্যা।
স্কুল-কলেজ বন্ধের এই সময়টা অনেকেই হেলায় নষ্ট করে। প্রচুর অবসর থাকায় এ সময় অনেকেই অনলাইন গেইম, টিকটক, লাইকির মতো বাজে অভ্যাসে আসক্ত হয়ে পড়ে। অখণ্ড এই অবসরে কিশোর-কিশোরীদের জন্য চমৎকার উপহার হতে পারে কিশোর ম্যাগাজিন ‘ষোলো’। সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি তারা জানতে পারবে ছাত্রজীবনকে কীভাবে আরও বেশি সুন্দরভাবে সাজানো যায়।এবারের সংখ্যায় ছড়া-গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ ছাড়াও থাকছে থ্রিলার গল্প, সীরাত কুইজ, গণিত ধাঁধা, অরিগামি, রহস্যজট-সহ আরও অনেক কিছুই।
হায়, প্রত্যেক টিন এজারকে যদি এই ম্যাগাজিন গুলো পড়ানো যেতো!! বাতাসের স্রোতে এদিক ওদিক উড়ে বেড়ানোর এই বয়স। যেন যেদিকে হেমিলনের বাঁশি ওয়ালা নিয়ে যাবে সেদিকেই ঝাপ দিতে প্রস্তুত সকলেই। এমনই অনিশ্চয়তা আর অস্থিরতার বয়স এটি।
আমাদের সমাজের বেশিরভাগ টিন এজারের কাহিনী এরকমই, কেবল দ্বীনি পরিবারগুলো বাদে। দ্বীনি মূল্যবোধ ও দিকনির্দেশনার অভাবে তারা অনেক ক্ষেত্রে কেবল কৌতুহল বা আনন্দ-ফুর্তি করার লক্ষ্যে এমন সব অভ্যাস ও কার্যকলাপের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যায় যা তাদের স্বভাবচরিত্র,মনমানসিকতা,দুনিয়া,আখিরাত সবকিছুর জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে যায়। আর এ সমাজের বাসিন্দা হিসেবে ছাত্রজীবনে যে কি পর্যায়ের ঝুঁকি ও ফিতনার সম্মুখীন হচ্ছে আমাদের যুবকরা তা আমাদের কারও অজানা নেই।
আবেগে অনেক বেশি কথা বলে ফেললাম,দুঃখিত। যাই হোক, এমন সময় লস্ট মডেস্টি নিয়ে এসেছে এমন কিছু যা যথাযোগ্য মূল্যায়ন পেলে, আমাদের যুব সমাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে বলে আমার বিশ্বাস ইন শা আল্লাহ। কেননা এতে এমন সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা এসেছে যেগুলোর প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হয় একজন টিন এজারকে। যেমনঃ-স্বার্থপরতাকে পরিহার করে পরোপকারী হওয়া,অবৈধ প্রেমে না জড়ানো,শরীর ফিট রাখা,সর্বদা আল্লাহর স্মরণ জারি রাখা,স্ক্রিন আশক্তি থেকে দূরে থাকা,বোনদের অসুস্থ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা এসেছে।
এরকম ম্যাগাজিন ঘরে ঘরে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে পৌঁছে গেলে ও যথাযোগ্য চর্চা হলে আমরা এত্থেকে অবশ্যই একটি ভালো ফলাফল আশা করতে পারি ইন শা আল্লাহ। আমরা এমন একটি প্রজন্ম আশা করতে পারি যারা হবে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসে দৃঢ়, যাদের অন্তর হবে সংশয়মুক্ত, অন্তর জুড়ে থাকবে আল্লাহ,আল্লাহর রাসূল ও তাঁর দ্বীনের প্রতি তীব্র ভালোবাসা,নেক আমলের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও পাপকাজের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা।
এই সুন্দর প্রজেক্টের সাথে জড়িত সকলকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন। প্রজেক্টটিতে বরকত দান করুন ও কবুল করে নিন। ভবিষ্যতে এরকম কল্যাণকর কাজ করার আরও তৌফিক দান করুন। আমীন। সকল প্রশংসা এই বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর।