সাইকোলজিস্ট জিব্রান আহমেদ দেখা পেল একাকীত্বে ভোগা, হতাশাগ্রস্থ এক তরুণের, নিরানন্দ বাস্তব জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে যে স্বপ্নের জগতে বাস করতে পছন্দ করে। হ্যাঁ, স্বপ্ন দেখার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে তার। যে কোন স্বপ্ন নয়, শুধুমাত্র লুসিড ড্রিম দেখে সে। এটি এমন এক ধরনের স্বপ্ন, যেখানে স্বপ্নদ্রষ্টা বুঝতে পারে যে সে স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু লুসিড ড্রিমের জগতে বাস করতে করতে একসময় সে আবিষ্কার করে, বাস্তবতার খেই হারিয়ে ফেলেছে। বাস্তব আর স্বপ্নের মধ্যে পার্থক্য ধরতে পারছে না আর। কিন্তু পার্থক্য কি আদৌ আছে? আমাদের দেখা স্বপ্নগুলো কি আসলেই স্রেফ স্বপ্ন? নাকি আরও বেশি কিছু? স্বপ্ন আর শূন্যবিন্দুর মধ্যে সম্পর্ক কোথায়? কী আছে কুয়াশায় ছেঁয়ে যাওয়া জগতের ওপারে? যতই রহস্যের গভীরে ঢুকতে চাইল জিব্রান, ততোই রোমাঞ্চকর, রহস্যজনক, অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে লাগল।
Mohammad Mohaiminul Islam, known as Mohaiminul Islam Bappy is a Bangladeshi thriller and SciFi writer. Born in Barisal. Grew up in Chittagong. Currently Living in Dhaka. He completed B. Sc. (Hon's) and M. Sc. (Thesis) from the University of Chittagong. His first novel "Je Shohore Golpo Lekha Baron" (The Town is Forbidden for Storytellers) was published by the renowned Bangladeshi publisher- Batighar Prokashoni in 2020.
মনে রাখার মতো একটা বই 'শুন্যবিন্দু' । আমি নিজেই লুসিড ড্রিমের শিকার। স্বপ্নের মধ্যেই আমি বুঝতে পারি আমি স্বপ্ন দেখছি। লজিকগুলো সাজাতে পারি। ইভেন অনেকসময় ঘুম ভাঙ্গার পরও আমি লজিক খুঁজতে থাকি আদৌ ঘুম ভেঙেছে কি না। মাঝে মধ্যে অবাক হতাম যে, স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর যেটা ভাবছি সেটাও আসলে স্বপ্ন। বেশ ইন্টারেস্টিং লাগতো। সে যাকগে, গল্পের চরিত্রের সাথে ঠিক যায়গাটায় আমার মারাত্মক মিল। তাই দারুণ উপভোগ করেছি। তাছাড়া লেখকের লেখার ধরনটাও খুব সুন্দর। মেদহীন এবং ঝরঝরে। তবে ভালো গল্প একটু বিস্তৃত হলে কিন্তু মন্দ লাগে না। যাইহোক, একটা প্রশ্ন শেষে থেকেই গেছে, জেলের মধ্যে জিব্রান সাহেবের সাথে বাঁধনের যা আলাপ সেটাও কি লুসিড ড্রিম?
বইয়ের কনসেপ্টটা নিয়ে বলতে হবে আগে। দারুণ! লুসিড ড্রিম বা স্বপ্ন নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে, তারা ভীষণ উপভোগ করবেন। জমাট, মেদহীন লেখনী। তরতর করে পড়ে যাওয়া যায়। লেখকের আগামী প্রজেক্টগুলো নিয়েও আগ্রহ বেড়ে গেল।
মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর গল্পের বিশেষ দিক হল গল্পের কনসেপ্ট। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দারুণ কনসেপ্টে গল্প লেখেন তিনি। শূণ্যবিন্দুর কনসেপ্টও অন্যরকম। সাইকোলজিক্যাল আর সাইফাইয়ের মিশেল ঘটেছে বইটাতে, সেটা অনেকটা সফলভাবেই। লুসিড ড্রিমের মত একটা ব্যাপারকে চমৎকার ভাবে মনস্তাত্বিক উপায়ে বিশ্লেষণ করে গল্প উপস্থাপন করা হয়েছে, সেইসাথে দেখানো হয়েছে আরেকটা জগৎ। সেইসাথে বিভিন্ন তত্বের ছোট করে ব্যাখ্যা তো ছিলই। শুরু থেকেই কাহিনীতে আটকে গিয়েছিলাম। লেখকের সর্বশেষ বই এক্সপেক্টেশন পূরণ করতে পেরেছিল না একদমই। এবার একটু হলেও পূরণ হয়েছে এক্সপেক্টেশন। প্রত্যেকটা অধ্যায়েই ক্লিফহ্যাঙ্গার, সাসপেন্স ছিল। সাইকোলজিস্টের সাথে, মূল চরিত্রের সেশনগুলো ভালো লেগেছে সবথেকে বেশি। জিব্রান চরিত্রটাও ভালো লেগেছে। তবে শেষের দিকে একটু দুর্বল লেগেছে। টুইস্টগুলা গড়পড়তা ছিল। তাড়াহুড়োর ছাপ দেখা গেছে শেষে। এজন্য একটা তারা কাটা। শূন্যবিন্দুর সবথেকে জোরালো দিক হল এর লেখনশৈলী, জটিল একটা ব্যাপারকে সাবলীলভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখক। সবমিলিয়ে বলা চলে বইটা উপভোগ করেছি। রিকমেন্ডেড।
❝Everything you can imagine is real.❞ ― Pablo Picasso - ❛শূন্যবিন্দু❜ - শহরের নামকরা সাইকোলজিস্ট জিব্রান আহমেদের চেম্বারে এক অদ্ভুত সমস্যা নিয়ে আসেন এক ব্যক্তি। তার কাউন্সেলিং করতে গিয়ে জিব্রান আহমেদ বুঝতে স্বপ্ন দেখার এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে সেই ব্যক্তির। বিশেষ করে লুসিড ড্রিম বোঝার ক্ষমতা এই ব্যক্তির ক্ষেত্রে অকল্পনীয়। - লুসিড ড্রিম দেখার নেশা শুরু হওয়ার পরে এক সময়ে সেই ব্যক্তি বাস্তবতা এবং স্বপ্নের ভেতরের পার্থক্য হারিয়ে ফেলতে থাকে। এখন লুসিড ড্রিম দেখার জন্য লোকটি কোন পর্যায়ে যেতে পারে? শূণ্যবিন্দু আসলে কোন ধরণের জিনিস? এসকল প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য পড়তে হবে লেখক মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার গল্প ❛শূন্যবিন্দু❜। - ❛শূন্যবিন্দু❜ বইটি মোটাদাগে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বলা যায়। গল্পটি যে টপিকের (লুসিড ড্রিমিং) উপরে লেখা হয়েছে তা বেশ ইন্টারেস্টিং লাগলো। বইয়ের লেখনশৈলীও চমৎকার, এক বসায় শেষ করার মতো। গল্পটি শুরু হবার পর থেকেই প্রায় সবগুলো অধ্যায় পাঠকের আগ্রহ জাগিয়ে রাখার মতো করেই লেখা হয়েছে, তবে এর এন্ডিং সে দিক থেকে আমার কাছে হতাশাজনক লাগলো। মনে হলো তাড়াহুড়ো করে কোনরকমে একটা এন্ডিং দেওয়া হয়েছে যা গল্পের পটভূমির প্রেক্ষিতে খুব একটা বাস্তবিক নয়। বইয়ের চরিত্রায়নের দিক দিয়ে সাইকোলজিস্ট জিব্রান গড়পড়তা ছিলো, বাকি চরিত্রগুলো তেমন একটা মনে রাখার মতো না। - ❛শূন্যবিন্দু❜ বইয়ের প্রোডাকশন একেবারে টিপিক্যাল বাতিঘরের যেকোন বইয়ের মতোই। বইয়ের বাধাঁই বেশ ভালোই হয়েছে, পড়তে গিয়ে তেমন ঝামেলা মনে হয়নি, তবে প্রচ্ছদ টিপিক্যাল লাগলো। বইয়ের ভেতরে দু-এক জায়গা বাদে বানান-ভুল বা টাইপো তেমন একটা পাইনি। - এক কথায়, শেষের কিছু অংশ বাদ দিলে একবসায় পড়ার মতো একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ধারার বই হচ্ছে ❛শূন্যবিন্দু❜। তাই যারা এ ঘরানার বই পড়তে পছন্দ করেন এবং লেখকের আগের লেখা বইগুলো ভালো লেগেছে তারা এই বইটিও পড়ে দেখতে পারেন।
হেঁটে যাচ্ছেন একটা রেলিং এর উপর দিয়ে। খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমানটা দেখে মনে হলো উঠে পড়ি, উঠে গেলেন লাফ দিয়ে। উঠে দেখলেন বিমান চালাচ্ছেন খোদ বিমান মন্ত্রী! তারপর দাঁত বের করে হেসে আপনাকে অভ্যর্থনা জানালেন।। আপনার পাশে বসেছে অতীব সুন্দরী এক রমনী যিনি আপনাকে ঘিয়ে ভাজা চানাচুর প্রস্তুত করে দিচ্ছেন গলায় ঝোলানো ওয়াশিং মেশিন থেকে!
কিসব আবলতাবল বকছি মনে হচ্ছে না? স্বপ্নের দুনিয়ায় দেখলে এই সবই মনে হয় সত্য, স্বাভাবিক। যে স্বপ্নে আপনি বুঝতে পারবেন আপনি স্বপ্ন দেখছেন, অবাস্তবতা ধরতে পারবেন, আপনার কনশাস মাইন্ড কাজ করবে, আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন আপনার স্বপ্ন, সেসব স্বপ্নকে সহজ কথায় 'লুসিড ড্রিম' বলে। আরও কঠিন ব্যাপার থাকতে পারে, সহজ করে বললাম।
অসাধারণ এই টপিকটি নিয়ে অসাধারণ একটা বই লিখে ফেলেছেন লেখক মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী। এবছর পড়া চমৎকার বইগুলোর মধ্যে এটি থাকতে যাচ্ছে নিঃসন্দেহে। লেখক 'ভ্রম সমীকরণ' এর পর আবার কন্সেপ্টের জাদু দেখিয়ে আমাকে অবাক করলেন একই ভাবে। মিস যাবেনা আর কোনো লেখা। স্বপ্ন নিয়ে যেহেতু গল্পটা, অবশ্যই এখানে মনস্তাত্বিক ব্যা���ার স্যাপার থাকবেই বুঝতে পারছেন, সাথে ঘটেছে সাইফাই এর মিশেল। স্বপ্ন নিয়ে মানুষের জল্পনা কল্পনা সেই আদি কাল থেকেই। এখনও অনাবিষ্কৃত এই স্ব���্ন নিয়ে, ডেজা ভ্যু নিয়ে দুনিয়াতে ঘটে যাচ্ছে নানা রকম আজব ঘটনা (স্বপ্নে পাওয়া সর্বরোগের ঔষধের ব্যাপারটা বাদে! :3), সৃষ্টি হচ্ছে স্যুডো সাইন্সের নানা থিওরি।
'একশ বছর আগে আমরা যেটাকে ভূতের আছর বলতাম, এখন সেটাকে মানসিক সমস্যা বলি। যে ব্যাপারটা আজ অকল্পনীয়, হতে পারে অদূর ভবিষ্যতে সেটাই বিজ্ঞান।'
এই গল্পটা এক হতাশাগ্রস্থ তরুণের যে বাস্তব দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে বাস করতে চায় স্বপ্নের জগতে, লুসিড ড্রিম দেখার ক্ষমতা তার ইতোমধ্যে আছে। তাকে দেখতে সাহায্য করেন বিশিষ্ট এক মনোবিজ্ঞানী। স্বপ্নে সে আবিষ্কার করে ভিন্ন এক জগৎ। একসময় স্বপ্ন দেখতে দেখতে বাস্তব আর অবাস্তবের খেই হারিয়ে ফেলার এক দারুণ গল্প ফেঁদেছেন লেখক। গল্পের প্রতিটা মোড়ে মোড়ে এতটা উৎকন্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করেছি, যে গল্পটা মাথায় গেঁথে গেছে একদম। লুসিড ড্রিম নিয়ে বেশ জনপ্রিয় সিনেমা ভ্যানিলা স্কাই, ইনসেপশন, হোয়াট ড্রিমস মে কাম, এটারনাল সানশাইন...প্রায় অনেকেই দেখেছেন কম বেশি। এই গল্পটাও সেরকম থিওরি ধরে সুন্দর একটা প্লট তৈরি করেছে। সেজন্য অনেকেই অনেক টপিকে মিল খুঁজে পেতে পারেন। তবে লেখক ছিলেন স্বাতন্ত্র ।
বইটার সবচাইতে চমৎকার ব্যাপার ছিলো বিল্ডআপটা। প্রতিটি সিকোয়েন্স ছিলো দারুণ গোছানো। প্রায় প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরই লেখক দেবার চেষ্টা করেছেন। আসল উত্তরটুকু বাদে। 'কিভাবে?' টুইস্টগুলো খুব প্রেডিক্টেবল না, আবার কিছু টুইস্ট দেখেই বুঝে যাবেন কি হতে যাচ্ছে.। তবে মূল কথা গল্পে এতটাই আচ্ছন্ন হয়ে পড়বেন, মনেই থাকবেনা টুইস্টের কথা। শেষের দিকটাও ভালো মিলেছে, তবে আরেকটু রয়েসয়ে গোছানো উচিত ছিলো শুরুটার মতো। হঠাৎ করে বিশাল এক সিনারিওতে ঢুকে পড়লে কেমন যেনো লাগে। তবে হতাশ হইনি। আর অ্যাস্ট্রাল বডি, মরফিক রেজোন্যান্স ইত্যাদি কঠিন কঠিন শব্দগুলোও লেখক এতো চমৎকার করে ব্যাখ্যা করেছেন... এরকম সাবলীল লেখা পড়তে খুব আরাম লেগেছে, আগ্রহ পেয়েছি শতভাগ।
আমি অবশ্যই রেকোমেন্ড করবো বইটি। বেশ ভালো লেগেছে। মাথায় থাকবে অনেকদিন। ভালো ভালো কন্সেপ্টের গল্প বেরোচ্ছে দেশে। না পড়লে কিভাবে হয়?
(স্পয়লার এলার্টঃ গল্পের শেষাংশে নাম নিয়ে যখন খেলাটা খেললেন লেখক, আমি চমকে উঠে পুরো বই আবার ওলোট পালট করে দেখি মূল চরিত্রের নাম কোথাও উল্লেখ নেই!! কি সাংঘাতিক দারুণ প্ল্যানিং!)
❝Everything You Can Imagine Is Real .❞ পাবলো পিকাসোর এই লাইনটা যেনো বইয়ের সাথে একদম খাপেখাপ মিলে যায়!
স্বপ্ন! আমরা সবাই-ই কম বেশি স্বপ্ন দেখে থাকি ঘুমিয়ে গেলে। ঘুম ভেঙে গেলে কারও কারও স্বপ্নটা মনে থাকে, কারও বা আংশিক আবার অনেকে তো স্বপ্ন দেখেছিল কিনা সেটাই মনে করতে পারে না। আমরা অনেকেই স্বপ্ন দেখে থাকি যেমন কোনো পাহাড় বা বিল্ডিংয়ের চূড়া থেকে পড়ে যাচ্ছি, কখনো বা উড়ছি, আবার কখনো সাপের কামড় খাচ্ছি, নয়তো কুকুরের দৌড়ানি। যেনো কোনো থ্রিডি মুভি চালিয়ে দেয়া হতো আমাদের চোখের সামনে। কেমন হতো যদি আমরা সেই পড়ে যাওয়া বা কামড় খাওয়া গুলো আটকাতে পারতাম। পারতাম স্বপ্নগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে। যদি পারতাম পৃথিবীর সকল বাধা নিষেধগুলো স্বপ্নে প্রয়োগ করতে তাহলে কেমন হতো আমাদের জীবন যাত্রা? আমূল পাল্টে যেতো নাকি বেশ সুখে থাকতাম?
লুসিড ড্রিম নামটা অনেকের কাছেই নতুন আবার অনেকে হয়তো কিছুটা জানেন এই বিষয়ে। লুসিড ড্রিম হলো যে স্বপ্নে আপনি অনুভব করতে পারেন যে আপনি স্বপ্ন দেখছেন, স্বপ্নের কার্যাবলী আংশিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। চেতন ও অবচেতন মন দুইয়ের মাধ্যমেই এমনটা ঘটে থাকে। স্বপ্নগুলো হয় বেশ পরিস্কার, আনন্দ ও ব্যথার অনুভূতিও হয় তীব্র, সবকিছুই প্রায় বাস্তবেরই প্রতিচ্ছবি। দারুণ না ব্যাপারটা!
পাঠ পর্যালোচনাঃ আমার পড়া লেখকের চতুর্থ বই এটি। আবারও লেখকের সেই পুরোনো চরিত্র সাইকোলজিস্ট জিব্রান। যার সাথে পরিচয় লেখকের প্রথম গ্রন্থে। জিব্রান যিনি রিসার্চ করছেন লুসিড ড্রিমিং নিয়ে। তো এভাবে একদিন দেখা পেলো জীবন নিয়ে হতাশায় ভোগা এক যুবকের। যে বাস্তব জীবনের থেকে স্বপ্নের জীবনকেই বেশি পছন্দ করে। নিজের স্বপ্নকে মাঝেমধ্যেই সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, করতে পারে যা ইচ্ছে তা, উপভোগ করতে পারে জীবনকে। কিন্তু লুসিড ড্রিমের জগতে বাস করা মোটেও সোজা কাজ নয়, যা বাস্তবতা ও স্বপ্নের মাঝে পার্থক্য করতে পারে না। এভাবেই দেখা স্বপ্নে দেখা পেলো কোনো কুয়াশায় মোড়ানো জগতের। কি আছে কুয়াশার আড়ালে? আসলেও কি কিছু আছে নাকি শুধুই শুন্যতা?
বইয়ের যতই গভীরে যাচ্ছিলাম ততই যেন আগ্রহ তুঙ্গে উঠছিলো। নতুন নতুন কিছু ঘটছে, নতুন কোনো থ্রিলের আভাস পাচ্ছি। যা এক অসাধারণ অনুভূতির সৃষ্টি করছিলো। স্বপ্নের জগৎ ও বাস্তব জগতের সাথে বেশ সামঞ্জস্য রেখে চলছিল। এক এক অধ্যায়ে এক এক রকম ফিল পাচ্ছিলাম। বেশ সুন্দর ভাবে লিখনশৈলী সম্পন্ন করেছেন লেখক। কিন্তু বইটা শেষটা যেনো বেশ তাড়াহুড়োতে শেষ হয়েছে এই বিষয়টাই বেশি খারাপ লেগেছে। শেষ আরও বড় করা যেতো। শেষে লেখক বেশ কিছু টুইস্ট রেখেছিলেন কিন্তু লেখকের কাছ থেকে আরও বেশি টুইস্ট, থ্রিল আশা করেছিলাম।
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার আমার ভীষণ পছন্দের। সেক্ষেত্রে এই ঘরনার এই বইটিও আমি বেশ উপভোগ করেছি। এক বসায় শেষ করার মতো বই। মোটেও বোর করবে না। যদি না ড্রিমিং নিয়ে লেখা কিছু টার্মগুলো বুঝতে কারো কষ্ট হয়। শেষটা আরেকটু সুন্দর হলেই একদম পরিতৃপ্ত হতাম।
বানান, প্রচ্ছদ ও বাধাইঃ বানান ভুল তেমন একটা চোখে পড়েনি দু-একটা টাইপিং মিস্টেক ব্যতিত। প্রচ্ছদটা নরমাল হলেও বেশ আকর্ষনীয়, ভালোই লেগেছে। আর বাধাই বাতিঘরের এজ ইউজুয়াল যেমন হয় তেমনই, তবে বই খুলে পড়তে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।
লেখককে সাধুবাদ জানাই এমন একটা দারুণ কনসেপ্ট নিয়ে বেশ ডিটেইলিং এই কাজটার জন্য। ভবিষ্যতে আরও দারুণ দারুণ সব লেখার জন্য আশাবাদী।
বইঃ শূন্যবিন্দু লেখকঃ মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পি জনরাঃ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার প্রকাশনীঃ বাতিঘর পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১২৮ মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০ টাকা মাত্র
বাস্তবতা এবং স্বপ্নের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু? আদৌ কি কোন ব্যবধান আছে রিয়েলিটি এবং ড্রিমে? এমনো তো হতে পারে যে কোন সিমুলেটেড রিয়েলিটিতে বাস করছি আমরা সবাই। তবে যখন কেউ বুঝে ফেলে সে বাস করছে এক ম্যাট্রিক্সে তখন সে কিরকম আচরণ করতে পারে বলা মুশকিল।
প্রথাবিরোধী এক তরুণ এসে হাজির হয় ডঃ জিব্রান আহমেদের কাছে। মনোবিজ্ঞানের প্রফেসর জিব্রানের কাছে আসা এই অদ্ভুত মানুষটি প্রচন্ড নার্সিসিস্ট। একই সাথে বেশ প্রতিভাধর এই তরুন সমাজব্যবস্থার ধার ধারে না। প্রতিষ্ঠানবিরোধী মনোভাবাপন্ন নিভৃতচারি এই ব্যক্তি দেখে কিছু অদ্ভুত স্বপ্ন। যার মধ্যে "লুসিড ড্রিম" এর মধ্য দিয়ে বেশি ভ্রমণ হয় তার।
লুসিড ড্রিম হল এমন একধরণের স্বপ্ন যা যিনি দেখছেন তার কাছে স্বপ্ন-ই। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষজন আব��র এই সকল ড্রিম কিছুটা ইচ্ছেমতো দেখতে পারেন। একইসাথে তাঁরা বেশ কিছুটা পারেন এই বিশেষ স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করতে। আদৌ কি তাঁরা তা পারেন?
মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর লিখা কোন বই এই প্রথম পড়া হল। নির্মেদ এই গ্রন্থে লেখক চমৎকার স্টোরিটেলিং করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে গল্পকথনের দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। "শূণ্যবিন্দু" এক বসায় পড়ে শেষ করার মত। বেশ ফাস্ট রিড বইটি লেখক চাইলে আরেকটু বড় পরিসরে লিখতে পারতেন। তবে তিনি যেভাবে শেষ করেছেন তাতে আমার পাঠক হিসেবে কোন সমস্যা নেই।
স্বপ্ন বেশ রহস্যময় এক বিষয়। মানুষের মনও হয়তো পাল্লা দিয়ে কম রহস্যময় নয়। বাস্তবে বা স্বপ্নে ইউটোপিয়ার জগতে বাস করতে চান অনেকেই। সেই একান্ত কাঙ্ক্ষিত ভুবন মানুষভেদে ভিন্ন। ফলে বিভিন্ন মানুষের লুসিড ড্রিম বা ইউটোপিয়ায় অনিবার্য সংঘাত ঘটে যায়। সেই জিরোপয়েন্ট বা শূণ্যবিন্দু এই সংঘাতে পরিণত হয়ে যায় ডিসটোপিয়ায়।
শূন্যবিন্দু লেখকের চতুর্থ বই। তবে আমার পড়া লেখকের দ্বিতীয় বই এটা। ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’ বইটা পড়ে আমি লেখকের মেদহীন লেখনশৈলীতে আসক্তি হই৷
শূন্যবিন্দু বইয়ের বিষয় বস্তু স্বপ্ন। বইয়ের জনরা সায়েন্স ফিকশন হলেও গল্পের সাথে সাইকোলজির মিশ্রন আছে। সাইকোলজি নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে তাদের জন্য পারফেক্ট হতে পারে বইটা।
স্বপ্নের পাশাপাশি এখানে একটা নতুন বিষয় জানতে পারি সেটা হলো লুসিড ড্রিম। লুসিড ড্রিম নিয়ে এই গল্পের আদ্যোপান্ত। সংক্ষেপে লুসিড ড্রিম সর্ম্পকে বলতে গেলে, লুসিড ড্রিম হচ্ছে এমন ধরনের স্বপ্ন যেখানে ব্যক্তি স্বপ্নের মধ্যেও সজাগ থাকেন এবং তিনি যে স্বপ্ন দেখছেন তা বুঝতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, অনেক ক্ষেত্রে স্বপ্নে দেখা ঘটনা, পরিবেশ, উপস্থিত ব্যক্তি- সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করতে পারেন। ব্যাপারটা এমন বাস্তবে যেমন ইচ্ছে মতো নিজের চারপাশে প্রভাব ফেলা যায়, লুসিড ড্রিমের ক্ষেত্রেও তেমন। যিনি লুসিড ড্রিমিং করেন তিনি অনেকসময় বাস্তব এবং স্বপ্নের পার্থক্য করতে পারেন না৷ মানে ব্যক্তি মনে করছেন তিনি বাস্তব আছেন কিন্তু সে আসলে স্বপ্নের বিরাজ করছেন। আবার স্বপ্নে থেকে মনে করছেন তিনি বাস্তবে আছেন।
এবার আসি বইয়ে,
একাকিত্বে ভোগা, হতাশাগ্রস্থ এক তরুণ, যে কিনা বাস্তব জীবনে চেয়ে স্বপ্ন থাকতে পছন্দ করেন, সাধারণ কোনো স্বপ্ন সে দেখে না, স্বপ্ন দেখার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে তার, সে লুসিড ড্রিমিং করে।
বাস্তব জীবনের একাকিত্ব, হতাশা আর স্বপ্নের জটিলতা নিয়ে সাইকোলজিস্ট জিব্রান আহমেদের কাছে যান, গল্পের গভীরতা এখান থেকেই শুরু হয়। আমাদের বাস্তবের জীবনের কর্মকাণ্ড মূলত স্বপ্নে প্রভাবিত হয়। কিন্তু গল্পের মূল চরিত্র স্বপ্নে এক রহস্যময় জগতে সন্ধান পায়, যেখানে সময়ের মান শূন্য। যেখানে সময়কাল অসীম। যাকে শূন্যবিন্দু বলা হয়েছে। এই শূন্যবিন্দুতে ঘটা ঘটনা নিয়েই গল্প এগুতে থাকে। শেষে পর পর কিছু দুর্দান্ত টুইস্ট আছে, যা পাঠকের চিন্তার বাইরে। একটা বিষয় বলে রাখি, এই গল্পের যে মূল চরিত্র কোথাও তার নাম পাওয়া যাবে না৷ তার নাম বলে দিলেই স্পয়লার।
এই দারুণ বিষয়ের উপর লেখা গল্পটি আরো বড় আশা করেছিলাম, মেদহীন লেখনশৈলী, গল্প বলার সাবলীল গুন আছে লেখকের টানা পড়া যায়। কষ্ট লাগে, তিনি তার গল্পের সমাপ্তি হুট করে টেনে আনেন। এমন গল্পের আরো বড়সড় সমাপ্তি আশা করতেই পারি। আরেকটা বিষয়ে দৃষ্টিকটু লেগেছে, গল্পের খাতিরে এখানে অনেক চরিত্র এসেছে, লেখক তাদের তেমন আগ্রহ দেখায়নি। খাপছাড়া লাগলো।
সর্বোপরি, লেখকের ভবিষ্যৎ প্রজেক্ট গুলো আরো চমৎকার হবে আশা করছি। তার দু'টি বই পড়েছি, দুটোই পড়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছি।
বইটার সবচেয়ে স্ট্রং ব্যাপার হচ্ছে ইউনিক প্লট আর অসম্ভব স্মুথ লিখনশৈলী। এতটা স্মুথ লেখা আসলে পাঠককে বই ছেড়ে উঠতে দেয় না। তবে ক্যারেক্টারাইজেশন একেবারেই দূর্বল। ১২৮ পৃষ্ঠায় আপনি খুব বেশি ক্যারেক্টারাইজেশন আশা না করলেও অ্যাট লিস্ট প্রটাগোনিস্ট এর ক্যারেক্টারাইজেশন আশা করা উচিত। যারা লেখকের আগের বই পড়েছেন, তারা হয়তো খেয়াল করে থাকবেন ওনার প্রটাগোনিস্ট একটু বেশি জিনিয়াস, প্রথাবিরোধী ছাঁচে গড়া। এটা মোটেও খারাপ কিছু না, তবে সব বইতে মূল চরিত্র এমন হলে ভালো লাগে না সবসময়। আর চমৎকার কনসেপ্টের এই বইটাতে বেশ কিছু প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। তবে বইটা আরেক বার পড়লে হয়তো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমি ভালো করে বুঝতে পারবো। তাই ডিটেইল রিভিউ পরেই দেবো।
অত্যন্ত অভিনব প্লট এবং টুইস্টফুল হবার কারনে বেশ উপভোগ্য। তবে গল্পটা আরো বিস্তারিত বলা যেতে পারতো। তাড়াহুড়ায় শেষ না করে যদি ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিংয়ে আরো একটু সময় দিয়ে সুস্থিরতার সাথে শেষ করতেন তাহলে আরো ভালো হতো। লেখা বেশ ঝরঝরে, একটা দুটা উপমা ভালো লাগেনি তবে বইটি অনেক এংগেজিং ছিলো। সবমিলিয়ে স্বপ্নময় দুর্দান্ত এক রাইড ছিলো।
ফ্রাইড চিকেনের সাথে পরোটা খাওয়ার ব্যাপারটা হজম হয়নি। ভাঙা কাচের টুকরা দিয়ে প্লেন হাইজ্যাক করার লজিকও মাথায় ঢোকেনি। আর যা-ই হোক, ককপিট তো ভেতর থেকে লক করাই থাকে!!! ওভারল গল্প হিসেবে মন্দ না, তবে আমার কাছে এটাকে লেখকের সেরা কাজ বলে মনে হয়নি। তবে খুব সম্ভবত আমার চোখে এটাই তার সেরা স্টোরিটেলিং সম্বলিত গল্প। কোথাও তাল কেটে যায়নি, একটানা গল্পটা বলে যেতে পেরেছেন। তবে বড় সংলাপগুলোর আরেকটু উন্নতি কাম্য। বেশ কিছু সংলাপ আর ন্যারেশনের বর্ণনাভঙ্গি হুবহু সেম!
This entire review has been hidden because of spoilers.
দারুণ একটা বই। মূলত সাইন্স ফিকশন কিন্তু সাথে আরও অনেককিছুই পেয়েছি। এক যুবকের স্বপ্নের রাজ্যে জড়িয়ে পড়ার গল্প। কিভাবে সে সেখানে আটকে গেল, কি কি ঘটলো তার সাথে সেসব নিয়েই এগিয়েছে বইটার কাহিনী। এর আগে লেখকের ভ্রম সমীকরণ পড়ে দারুণ লেগেছিল, সেটার ধারাবাহিকতায় এটাও ভালো লাগলো। তাঁর আরও কিছু কাজ আছে, পড়তে হবে।
দারুন একটা গল্প ছিল এক কথায় অসাধারণ । গল্প পড়তে পড়তে কিছুক্ষণ পরেই নতুন নতুন টুইস্ট পেয়েছি তাই হয়ত এটা পড়ে খুব মজা পেলাম। শুরুতে ভেবেছিলাম ক্রিস্টোফার নোলান এর ইনসেপশন । কিন্তু এটা তো তার থেকেও ট্রিকি ছিল ( বেশি বলে ফেলেছি নাকি জানি না)। পাঁচ তারকায় চার দশমিক পাঁচ পাওয়ার মত গল্প❤️
একা একা চলতে চাওয়া মানুষ গুলো একটু অদ্ভুত টাইপের। নিজেকে নিয়েই যেন তাদের দুনিয়া, সেই দুনিয়ায় ���ন্য কাউকে যায়গা দিতে চায়না তেমন। যদি কেউ ঢুকেও পরে বেশিদিন টিকতে পারে না।
তার বাবা যখন মারা যায় মা'য়ের অন্য যায়গায় বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর নিজেকে সব কিছু থেকেই একেবারে আলাদা করে নেয়। এতটাই আলাদা যে নিজের দুনিয়ায় কাউকে যায়গা দিতে বিরক্ত হতো। একা থাকতে থাকতে ঘুমের মাঝে অদ্ভুত সব বিষয় দেখা শুরু করলো, যেটা নিজেই কন্টোল করতে পারে। তবে বিষয়টা নিয়ে জানা ছিল না তখনো
একা মানুষ বাঁচতে পারে না ভেবে যখন মনোবিজ্ঞানীর ডাক্তার দেখায় তখন ডাক্তার বলে তার 'লুসিড ড্রিম' হয়। যেটা মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপে দেখে, সেই স্বপ্ন নিজের মতো করেও চালানো যায়। সেখানে মানুষ চাইলে নিজের পিঠে দুটা ডানাও লাগাতে পারে, আবার সেটা দিয়ে উড়তেও পারে।
তখন ডাক্তার থেকে সব জানার পর সে সিদ্ধান্ত নেয় এই লুসিড ড্রিম সে আরো দেখবে। কারণ এটাই তো চায় সে, নিজের মতো একটা দুনিয়া। কিন্তু সবার চাওয়া জিনিস কি আদেও হয়?
পাঠপ্রতিক্রিয়া:
স্বপ্ন! আমি নিজেও প্রতিদিন স্বপ্ন দেখি, মাঝে মাঝে মিস যায়, দেখা যায় দিনের বেলা ঘুমালেও মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখি, কিছু স্বপ্ন কিছুটা মনে থাকে কিছু একেবারেই ভুলে যাই। বইটা পড়তে গিয়ে নিজেকে বসাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু শেষে গিয়ে মনে হয়েছে নিজেকে না বসানোই ভালো। এত ভয়ানক জিনিস নিয়ে মানুষ বাঁচবে কিভাবে।
১২৭ পেইজের একটা বই। আমাকে অনেকটা ভাবিয়ে তুলেছে, মানসিক রোগ আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক রোগ কিছু ক্ষেত্রে সারানো যায়। মানুষ শারীরিক রোগকে যতটা গুরুত্ব দিয়ে থাকে মানসিক রোগকে তেমন দেয় না। এই গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে কত মানুষ যে অকালেই ঝড়ে পড়ে তার হিসেব নেই।
বইটা খারাপ লেগেছে বলবো না, বেশ ভালো লেগেছে। তবে মনে হয়েছে কিছু যায়গায় লেখক লেখা বাড়িয়েছে যেটা না করলে বইয়ের পাতা আরো কমে যেতো। বইয়ের এন্ডিং ভালো লেগেছে, তবে তার আগের কিছু ঘটনা আমার কাছে পুরো বই থেকে খাপছাড়া লেগেছে।
লেখকের লেখার হাত বেশ ভালো। চরিত্র নিজে কাহিনির বর্ণনা দেয় দেখে পড়তে ভালো লাগে। পড়তে গিয়ে বিরক্ত আসেনা তেমন।
বইটা শেষ করার পর আমার প্রথম প্রশ্ন। মোহাইমিনুল ইসলামে বাপ্পির মোটা ৪টা বই বের হয়েছে সবকটাই আমার পড়া, যে জিনিটা উনার বইয়ে প্রায়'ই দেখা যায় তা হলো তিনি চরিত্রদের সাইকলজি নিয়ে খেলতে ভালোবাসেন, যেটা এ বইয়ে প্রকটভাবে ধরা দেয়। লেখক জিব্রান আহমেদ নামের একজন সাইকলজিস্টের চরিত্র সৃষ্টি করেছেন যার উপস্থিতি সল্প সময়ের জন্য উনার প্রথম দুই বইয়ে দেখা যায়। অনেকটা মিসির আলীর আপগ্রেটেড ভার্সন যেনো জিব্রান আহমেদ, তুলনা করছি না তবে কিছুটা ইন্সপায়ার্ড সেটা মানতে হবে।
“লুসিড ড্রিম” হলো এমন একধরনে স্বপ্ন যেখানে স্বপ্নদৃষ্টা বুঝতে পারে সে স্বপ্ন দেখছে এবং সচেতনভাবে চিন্তা করতে পারে। আমাদের গল্পের প্রধানচরিত্র, সেল্ফ কনসিয়াশ নার্সিসিস্ট যার সকল চিন্তাভাবনা আত্মকেন্দ্রিক, বাকিরা তার কাছে গুরুত্বহীন। এই হতাশাগ্রস্ত তুরুণ বাস্তবতা পালাতে সাহায্য নেয় লুসিড ড্রিমের । তার কাছে এখন বাস্তবতা আর স্বপ্নের পার্থক্য বুঝা অনেকটা কষ্টসাধ্য, দুই জগতের গন্ডি বহু আগেই ভেঙ্গে গেছে । সে ডুব দেয় স্বপ্নের গভীর থেকে গভীর স্তরে, যেতে চায় আরো গভীর, কুয়াশার ঐ পারে.......।
্ একবসায় শেষ করার মতো ছোটখাটো বই এটা তবে এর রেশ রয়ে যাবে বহুক্ষন । লেখকের মসৃণ বর্ণনা আর ছোট ছোট ডিটেইল কাহিনীতে অন্যমাত্রা যোগ করে। মাঝে মধ্যে আচমকা টুইস্টগুলো হজম করতে কিছু বিরতি নিতে হয়েছে। শুরু যে শেষ পর্যন্ত কাহিনী কোথায় ঝুলে পরেনি, পুরোটা সময় আমার অ্যাটেনশন ধরে রেখেছিল। সবশেষে বলবো সময়টা ভালো কেটেছে লেখকের পরবর্তী কাজের অপেক্ষায় থাকবো।
এত সুন্দর ইউনিক একটা প্লট আর অসাধারণ লেখনশৈলীর দরুণ একটা যাকে বলে তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছি।এরকম প্পট নিয়ে লিখার সাহস লাগে আসলে।সাই ফাইয়ের সাথে এক চিলতে সাইকোলজি মিশে মিলে একাকার একদম।সাবলীল লেখনী না থাকলে মনে হয় না এত জটিল প্লট নিগে লিখা বইটা ভাল লাগত। বইগির দূর্বল জায়গা একটাই সেটা হচ্ছে ফিনিশিং টা।এর জন্যই ১ রেটিং কম দিলাম। সবমিলে দারুণ উপভোগ্য একটা বই
সাইকোলজিস্ট হিসাবে জিব্রান আহমেদ চরিত্রটি অনেকটা দুর্বল প্রকৃতির মনে হয়েছে। পাইলট এন্ড্রুর সাথে শেষমেষ কি ঘটল (সে আসলে চক্রান্তকারীদের সাথে ছিল কিনা)..সেটা স্পষ্ট করা হয় নি। তবে শেষ প্লটে নাম নিয়ে টুইস্টটি ছিল এই বইয়ের সেরা অংশ এবং বইটা পড়তে পড়তে যত প্রশ্নের উদয় হবে আপনার মনে, এই শেষ প্লটেই সব উত্তর পেয়ে যাবেন।। সাইকো-থ্রিলার প্রেমি হলে অবশ্যই বইটি পড়বেন।
প্রথমত লেখক আমার কাছে নতুন। এইটাই উনার পড়া প্রথম বই । অনেক আলোচনা দেখেছি বইটার। বইটার প্লট বলতে গেলে অনেক চমৎকার এবং ইউনিক। এরকম প্লটের বই আমি আর কখনো পড়েছি বলে মনে হয় না। মেদহীন লেখনীতে দারুন ভাবে পুরো বই এগিয়েছে। লুসিড ড্রিম নিয়ে লেখক মুন্সিয়ানার পরিচয় দেখিয়েছেন। মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার গুলোও ভালো ছিলো। উত্তম পুরুষে লিখা বইটা পড়ে মনে হবে আচ্ছা আমরা স্বপ্নে যা দেখি তা কি আসলেই ব্যাখ্যাতীত? নাকি এর পিছনে কোনো রহস্য জড়িয়ে আছে? বইয়ের শেষের দিকের টুইস্ট টা ভালো ছিলো৷ চিন্তাই করতে পারিনি এমন হবে। সমাপ্তিটা একটু ফাস্ট লেগেছে কিন্তু টুইস্ট এর জন্য সেটা ঢেকে গিয়েছে৷ শুভকামনা রইল লেখকের জন্য।
🔴বই হিসেবে এই বইটাকে মোটামুটিভাবে সফল বলা যায়(আমার জন্য)।
◾️বইটাতে ২-৩টি বিষয় লক্ষ্য করলাম-
▪️১.স্বপ্ন বিষয়ক কিছু ত্বত্ত ▪️২.ভ্রম সমীকরণ উপন্যাসের কিছু অংশের রিপিট ▪️৩.লিখনভঙ্গি ▪️৪. দর্শন ▪️৫.কিছু এক্সট্রা ইউনিক থ্রিলিং মোমেন্ট ▪️৬.ছোট্ট করে একটা প্যারাডক্স
১- বইটাতে স্বপ্ন নিয়ে কিছু আলোচনা করা হয়েছে। কিছু বলতে ভালোই আলোচনা করা হয়েছে। তবে এই বিষয়টা আমাকে মোটেই প্রভাবিত করে নাই। কারণ এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বহু আগেই "ক্রিস্টোফার নোলানের" "ইনসেপশন" মুভি দেখে জেনে গিয়েছিলাম। যারা এই বিষয়ে কোনো কন্টেন্ট আগে দেখেন নাই বা পড়েন নাই তাদের বিষয়টা খুবই চমকপ্রদ মনে হবে। বিষয়টা আসলেই চমকপ্রদ।
২- "ভ্রম সমীকরণ" উপন্যাসের কিছু অংশ রিপিট করা হয়েছে বলে মনে হলো। ভালোভাবেই বিষয়টা মনে হয়েছে। যারা ভ্রম সমীকরণ উপন্যাস আগে পড়ে ফেলেছেন এবং তৃপ্তি পেয়েছেন তারা এই উপন্যাসকে পড়ার সময় ভ্রম সমীকরণের সাথে মিলিয়ে ফেলতে চাইবেন।
৩- লিখনশৈলী ভ্রম সমীকরণ থেকে ভালো না। কোনো কোনো জায়গাতে বাক্যগুলো খাপছাড়া খাপছাড়া লেগেছে। হয়তো তাত্ত্বিক বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়েই এমনটা হয়েছে। তবে শেষের দিকের ৩৫-৪০ পেজের ঘটনা প্রবাহ করার লিখনশৈলী ভালো ছিল।
৪- লেখকের দর্শনবিদ্যা ভালো। প্রত্যকটি বিষয়েই ভালো দর্শনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
৫,৬- এগুলো সম্পর্কে বলার দরকার নেই। সংক্ষেপিত ৫,৬নং এর শিরোনাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এই বিষয়গুলো আমার ভালো লেগেছে। হুট করে প্লেন ক্রাশ করার বিষয়টা ছিল আমার চেতন মনের একটা় ভাবনা। অনেকবার ভেবেছি বিষয়টা নিয়ে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টা বাদ দিলে বিষয়টা ইন্টারেস্টিং লাগবে অনেকের কাছে। এন্ডিংটাও মোটামুটি ভালোই ছিলো।
সব কথার এককথা লেখকের শেষ বই "এভাবেও ফিরে আসা যায়" এর চেয়ে এই বইটা বেশি আকর্ষণীয় এবং সফল..
🔰 পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ অনেকদিন পর দারুণ একটা বই পড়লাম। বেশ ইউনিক প্লট। রহস্য ও রোমাঞ্চে ভরপুর। সাই ফাই ও সাইকোলজির এক অসাধারণ মেলবন্ধন রীতিমতো মুগ্ধ করেছে। এক বসায় শেষ করে ফেলার মতো একটি বই।
এর আগে লেখকের দুটো বই পড়েছি 'যে শহরে গল্প লেখা বারণ' ও 'এভাবেও ফিরে আসা যায়'। দুটো বইয়ের মতো এটারও লিখনশৈলী, বর্ণনা, সংলাপ সবকিছুই দারুণ সুখপাঠ্য ছিলো। লুসিড ড্রিম, শূন্যবিন্দুর কঠিন ও মাথা নষ্ট করার মতো সব থিওরি উনার লেখনীর মাধ্যমে খুব সহজভাবে তুলে ধরেছেন। পুরো বইটাতে লেখক রহস্য ধরে রেখেছেন যা পাঠকদের ভাবতে বাধ্য করবে। বলা বাহুল্য লেখক মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী ভাই ইতিমধ্যে আমার প্রিয় লেখকদের কাতারে চলে এসেছেন।
🔰 কাহিনি সংক্ষেপঃ সাইকোলজিস্ট জিব্রান আহমেদ দেখা পেল একাকীত্বে ভোগা, হতাশাগ্রস্থ এক তরুণের, নিরানন্দ বাস্তব জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে যে স্বপ্নের জগতে বাস করতে পছন্দ করে। হ্যাঁ, স্বপ্ন দেখার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে তার। যে কোন স্বপ্ন নয়, শুধুমাত্র লুসিড ড্রিম দেখে সে। এটি এমন এক ধরনের স্বপ্ন, যেখানে স্বপ্নদ্রষ্টা বুঝতে পারে যে সে স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু লুসিড ড্রিমের জগতে বাস করতে করতে একসময় সে আবিষ্কার করে, বাস্তবতার খেই হারিয়ে ফেলেছে। বাস্তব আর স্বপ্নের মধ্যে পার্থক্য ধরতে পারছে না আর। কিন্তু পার্থক্য কি আদৌ আছে? আমাদের দেখা স্বপ্নগুলো কি আসলেই স্রেফ স্বপ্ন? নাকি আরও বেশি কিছু? স্বপ্ন আর শূণ্যবিন্দুর মধ্যে সম্পর্ক কোথায়? কী আছে কুয়াশায় ছেঁয়ে যাওয়া জগতের ওপারে?
যতই রহস্যের গভীরে ঢুকতে চাইল জিব্রান, ততোই রোমাঞ্চকর, রহস্যজনক, অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে লাগল।
আরো একবার মুগ্ধ হলাম। যে শহরে গল্প লেখা বারন দিয়ে এই মুগ্ধতার শুরু। এরপর একবারও হতাশ হইনি। গল্পের কাহিনির কথা ছেড়েই দিলাম। এত অল্প কয়েকটা পেইজে, একটুও টানাটানি করে পেইজ বাড়ানোর চেষ্টা না করে, কোন বাড়তি কথা খরচ না করে, শেষ পর্যন্ত আগ্রহ ধরে রাখা যায় এমনটা আমি উনার লেখাতেই পেয়েছি! বছরটা চমৎকার একটা বই দিয়ে শেষ হলো।
ভাল লেগেছে। স্বপ্ন জগতে আরেকটু থাকতে পারলে আরো ভাল লাগত। সাইকোলজিক্যাল স্যায়েন্স ফিকশন বলা যায় বইটিকে। যাদের এদিকে আগ্রহ আছে নির্বিধায় পড়তে পারেন বইটি