এ বইয়ের কিছু অংশ আমার খুবই পছন্দের, কিছু অংশ একেবারেই না। বইতে এমন অনেক প্রশ্ন উত্থিত হয়েছে যা আমাদের চিন্তাধারা শানিত করবে, এমন কিছু বিষয়ে নতুনভাবে আলোকপাত করা হয়েছে যা আমরা নির্বিবাদে সত্য বলে মেনে নিয়েছি। পুরো বইতে যুক্তি তর্কের শক্ত জাল বিস্তার করে লেখক অনেককিছু নতুন দৃষ্টিতে দেখতে বাধ্য করেছেন।পুস্তক পর্যালোচনা ও সমালোচনার অংশটি পড়ে বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়েছি। স্বভাবতই লেখকের অনেক বক্তব্যের সাথে একমত হতে পারিনি। যে অংশ পছন্দ হয়নি সেখানেও কথা বলার ও সৃষ্টিশীল বিতর্কের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করার সুযোগ আছে। সবচেয়ে বড় কথা- বইটা আমাকে আরো অনেক বই পড়ার,আরো অনেক তথ্য ঘাটাঘাটি করার উৎসাহ যোগাচ্ছে।
এ বইয়ের ভাষায় মোহাম্মদ আজম প্রচুর আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহার করেছেন। বিষয়টাতে মজা লাগলো যে ভাষার এই রীতিতে বর্তমানে ইংরেজি শব্দের চল, দুইটাই পরিষ্কারভাবে স্ট্রং ঔপনিবেশায়নের ফলাফল। আরবি-ফারসির মিশেলে এসব শব্দের ব্যবহারের মাধুর্য সম্ভবত গভীরভাবে ইংগিত করে ভাষার “ফ্রি-মিক্সিং” মেনে নেওয়া ছাড়া কিছু করার নেই, কারণ এটাই ভাষার সহজাত ধর্ম, বহমান স্রোতধারার মত, মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে যায়, উল্টাটা করতে গেলে কেবল মুখে কালির ঝাপটাই আসে। বাংলার আঞ্চলিক ভাষা বা ডায়ালেক্টগুলির ভবিষ্যৎ আসলে কী বলে মনে হয়?
বইয়ে উঠে এসেছে “বাংগালী মুসলমান” সত্ত্বা বিষয়ে যারা কাজ করেছেন তাদের কথা। আবদুর রাজ্জাক, আহমেদ ছফাদের লেখা আগে পড়া হয়েছে, এখানে সমালোচনা পড়লাম। পাশাপাশি মুহম্মদ আবদুল হাই, আবদুল ওদুদ, হুমায়ূন কবির, আবুল মনসুর আহমেদদের অবদান সম্পর্কে জানা গেছে। বেশ কিছু সাহিত্যকর্মের বিশ্লেষণ আছে বইয়ে।
এখন এই বইয়ের দুইটা চ্যাপ্টার আমি পড়ি নাই, কারণ পড়তে গেলে রবীন্দ্রনাথ 'গোরা' উপন্যাস ও হুমায়ুন কবিরের 'বাংলার কাব্য' বই দুইটা পড়া থাকতে হবে।
মোহাম্মদ আজমের ব্যাখা আমার ভালো লেগেছে, একটা ব্যতিক্রম হইলো উনি সবকিছু যা ভালো তা সেক্যুলার বলে সাব্যস্ত করতে চান, যা ভালো তা প্রকৃত সেক্যুলার এই টাইপের আলাপ।