Harishankar is a promising Bangladeshi author. The most significant point to notice is that all the four novels produced from Harishankar's pen sketch the life of the downtrodden, some of whom are from among fisherfolks, some from among prostitutes and some others are the 'harijons' or 'methors'.
যেই অর্থে একটি ভ্রমণকাহিনি হয়, ঠিক সেই অর্থে ‘নতুন জুতোয় পুরনো পা’ ভ্রমণকাহিনি নয়। তাহলে এই বইকে কোন ক্যাটাগরিতে রাখা যায়?—স্মৃতিচারণ? হ্যাঁ, সেটাই সম্ভবত সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে এটি এমন এক ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ, যার অধিকাংশ স্মৃতিই নেতিবাচক অভিজ্ঞতা।
বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা আছে— “আসলে এটি শুধু ভ্রমণকাহিনি নয়; এখানে স্থান আছে, কাল আছে, দ্রষ্টব্যের বিবরণও আছে ঠিক, কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে আছে মানুষ।” আমার মনে হয়েছে, কথাটি একটু অন্যভাবে বলা যেত— “এখানে আছে শুধু মানুষ, আর সেই মানুষদের কাছ থেকে বারবার পাওয়া অসম্মানের গল্প।”
হরিশংকর বাবু এই বইয়ে জীবনের বিভিন্ন সময়ে পরিচিত হওয়া নানা মানুষের কথা বলেছেন। একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে তাঁদের না চেনাটাই স্বাভাবিক। ফলে তাঁদের নিয়ে দীর্ঘ বর্ণনা আমাকে তেমন টানেনি। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে তাঁদের কাছ থেকে বারবার অসম্মানিত হওয়ার অভিজ্ঞতা পড়তে পড়তে একঘেয়েমি এসেছে। মনে হয়েছে, জীবনানন্দ দাশের সেই পঙ্ক্তিটি হয়তো হরিশংকর বাবুর মনে ছিল না—
“মানুষেরই হাতে তবু মানুষ হতেছে নাজেহাল; পৃথিবীতে নেই কোনো বিশুদ্ধ চাকরি।”
থাকলে হয়তো বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিতে দেখতেন।
কর্মক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় অপমানের শিকার হই—এটি অন্যায়। কিন্তু সবসময় মুখ বুজে তা সহ্য করাও সমাধান নয়। অবশ্য এমন পরিস্থিতিও আসে, যখন প্রতিবাদ করা সম্ভব হয় না। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের বাইরে? আপনি যখন ভ্রমণে গিয়ে অর্থনৈতিক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তখনও যদি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখান, সেটি বোঝা কঠিন।
স্মৃতিচারণের পাশাপাশি বইটিতে ভ্রমণেরও কিছু প্রসঙ্গ রয়েছে। সাধারণত ভ্রমণবিষয়ক বই বলতে আমরা বুঝি—কোনো স্থানের প্রকৃতি, ইতিহাস, স্থাপত্য, স্থানীয় সংস্কৃতি কিংবা ভূগোল নিয়ে লেখা, সঙ্গে লেখকের ব্যক্তিগত অনুভূতি। কিন্তু এখানে সেই দিকগুলো প্রায় অনুপস্থিত। নেপাল ভ্রমণের বর্ণনাতেও দেশ, প্রকৃতি বা সংস্কৃতির চেয়ে লেখক কীভাবে প্রতারিত হয়েছেন, সেই ঘটনাই পৃষ্ঠা-পর-পৃষ্ঠা জায়গা দখল করে আছে।
হরিশংকর বাবু নিজেকে প্রায় সবসময় নির্যাতিতদের দলে দেখেছেন, বিশেষ করে তাঁর জলদাস পরিচয়ের প্রসঙ্গে। তাঁর বিশ্বাস, এই পরিচয়ের কারণেই তিনি বারবার অপমানিত হয়েছেন। সমাজে জাতপাতের সংকীর্ণতা যে এখনও আছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু লেখক যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন, তা আমার কাছে অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে।
হরিশংকর বাবু যদি নিজের জলদাস পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করেন, তাহলে একজন ব্রাহ্মণও যদি নিজের বংশপরিচয় নিয়ে গর্ব করেন, তাতে দোষ কোথায়—যতক্ষণ না সেই গর্ব অন্য কাউকে ছোট করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়?
বরং আমার মনে হয়েছে, হরিশংকর বাবু নিজের জলদাস পরিচয় নিয়ে যতটা না গর্বিত, তার চেয়ে বেশি ভোগেন এক ধরনের হীনম্মন্যতায়। তা না হলে নানা পরিস্থিতিতে নিজের পরিচয় গোপন করার প্রবণতা দেখা যায় কেন?
বইটির ইতিবাচক দিকও অবশ্য আছে। এর মাধ্যমে কয়েকটি বইয়ের সন্ধান পেয়েছি, যেগুলো ভবিষ্যতে পড়ার ইচ্ছা আছে। আর বইটিতে শুধু অপমানের ঘটনাই নয়, অনেক মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সম্মান ও আন্তরিকতার কথাও রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেগুলো লেখকের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার ভিড়ে ম্লান হয়ে গেছে।
আমি হরিশংকর বাবুর নিয়মিত পাঠক নই। তাঁর লেখার ভঙ্গি আমার সঙ্গে খুব একটা মেলে না। তাঁর কয়েকটি নন-ফিকশন বই অবশ্য এখনও অপঠিত অবস্থায় আমার সংগ্রহে আছে; কোনো একসময় পড়ব। এই বইটি আমাকে কে যেন উপহার দিয়েছিল, এখন আর নামটা মনে নেই।
ভালো লাগেনি বেশি।ভ্রমণকাহিনি থেকে মানুষ কাহিনি বেশি মনে হয়েছে।দেশ এবং বৈদেশে ঘুরতে গিয়ে কিছু মানুষের ব্যবহার দ্বারা লেখক অসম্মানিত হয়েছে।মূলত এই ব্যাপারগুলোই মূখ্য বিষয় এই বইয়ের।
গত বছর “খেয়াল খুশির লেখা” বইটা পড়ে এই লেখকের সাথে পরিচয় আমার। ভালো লাগে নি আমার বইটা। এবারো বই এর নাম দেখেই কিনেছিলাম বইমেলা থেকে। তার বই গুলো সব নিজের জীবনের কষ্ট অপমান নিয়েই লেখা। যেমনটা তিনি বলেছেন তার খেয়াল খুশির লেখা বইতে “আমি সুখে লিখতে আসিনি, দুঃখে লিখতে এসেছি। আনন্দে লিখতে আসিনি, অপমানে লিখতে এসেছি। আত্মতৃপ্তি পাওয়ার জন্য কলম ধরি নি, অপমানের জবাব দেওয়ার জন্য কলম হাতে তুলে নিয়েছি”। এই কথার মর্মার্থ আমি এই বইটিতে পেলাম । প্রথম খুব বিরক্ত হয়েছি পড়তে নিয়ে, কারণ আমার ধারণা ছিল এটা কোন travelogue. কিন্তু যখন বুঝলাম এটা ভ্রমণের নামে অপমানের বর্ণনা, তখন ধীরে ধীরে ভালো লাগা কাজ করেছে। কিছু কিছু কাহিনী পড়ে খুব হেসেছি ও একা একা। বাঙালের নেপাল ভ্রমণ chapter টা খুবই enjoy করলাম, লেখাকের জন্য খরাপ ও লেগেছে । কতটা অবিচার, অপমান আর অভদ্রতার স্বীকার না হলে একজন মানুষ এভাবে নিজের অপমানের কথা লিখতে কলম তুলে নেয়!!! আরো বই পড়তে চাই তার ….
একটা নন-ফিকশন বই যে এক মুহূর্তের জন্যও বিরক্তি বা একঘেয়েমিতা দেয়নি - এতেই লেখকের সার্থকতা। এটা পুরোদস্তুর ভ্রমণকাহিনি বলা যায় না; ভ্রমণের থেকেও এখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় ও তার আচরণ। লেখক বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে আশেপাশের মানুষের কাছ থেকে কেমন ব্যবহারের শিকার হয়েছেন, সেটাই ফুটে উঠেছে। আবার ভ্রমণ বলতে শুধু বিদেশ ভ্রমণ নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্রমণের ঘটনাও এই বইয়ে আছে।