কোনো এক প্রাগৈতিহাসিক নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তির প্রাচীরে গন্তব্যহীন অন্ধকার হয়ে সেঁটে রইল তারা। অযুত বাধার অজস্র পথ পেরিয়ে এসেও যেন ডিঙাতে পারল না অনভ্যাসে অগম্য হয়ে ওঠা অকর্ষিত অভিমানী মনভূমিটুকু। কিন্তু তাদের মন ও শরীর আলগোছে হাওয়ায় ছড়িয়ে দিতে লাগল স্মৃতির সুবাস। সেই সুবাস কি ডিঙিয়ে যেতে পারবে এই অলঙ্ঘনীয় দ্বিধার দেয়াল? হেমন্তের বিষণ্ণ সন্ধ্যায় দূর কোথাও থেকে ভেসে আসছে অদ্ভুত হাহাকারের সুর। বুকের ভেতর আলগোছে নেমে আসছে মেঘ কিংবা কুয়াশা। কিংবা গাঢ় শীতল অন্ধকার। নাম না জানা দুঃখ। সেই দুঃখের ভেতর মন কেমনের হাওয়া। সেই হাওয়ায় ওই বিষাদ অন্ধকারে যেন স্থির হয়ে আছে প্রাচীন পাথরে খোদাই করা দুটি মূর্তি। কী আশ্চর্য, সেই মূর্তির বুকেও হঠাৎ জলের ঢেউয়ের মতো ছলাৎ ছলাৎ শব্দ হতে থাকে!
Sadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015.[4] Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.
আছমার জন্যই অনেক বেশি খারাপ লাগল। এছাড়া ফরিদ আর মহিতোষ বাবুর পাগলামি অসহ্য আর একঘেয়ে লাগছিল। শুধু গ্ৰাম্য প্রভাবশালীদের কূটকচালই রিলেট করতে পারলাম... আর বাকিসব চলে মোটামুটি ...
লেখকের "স্মৃতিগন্ধা" বইয়ের সিকুয়াল এটি। আমার পড়া সাদাত হোসাইনের প্রথম বই "আরশীনগর"। আরশীনগর না পড়ে এটা প্রথম পড়লেও আমি উনার লেখার ভক্ত হতাম। গ্রাম্য রাজনীতির সাথে মিলেমিশে কিছু মানুষের জীবন, প্রেম, পরিবেশ আর আবেগের মেটাফোরিকাল বর্ণনা আর সাথে থ্রিল। বেশ কম্পলিট প্যাকেজ বলা চলে।
সমস্যা হচ্ছে লেখকের লেখার পরিধি এই গণ্ডির মধ্যেই আটকে গেছে। উনার সকল উপন্যাসের প্লটই গ্রাম্য রাজনীতি দাঙ্গা হাঙ্গামার সাথে প্রেম আর নয় শহুরে জীবনে পরকীয়া এই এক জনরার মধ্যে পড়ে। যেকোন ক্যারেক্টার ২ পেজ পজিটিভলি ডেভেলপ করলে এরপরে অবশ্যই তার একটা দূর্ঘটনা ঘটবে, প্রচুর রোমান্টিক নায়ক মাঝে মধ্যেই কবিতা বলে নায়িকাকে আবেগী করে ফেলবে, অলৌকিকভাবে সবাই সবার সাথে কানেক্টেড থাকবে, শেষে এসে সবকিছু একজায়গায় এসে মিলে যাবে।
সিঙ্গেল একটা বই বা দুই পর্বের উপন্যাস হিসাবে " ইতি স্মৃতিগন্ধা"৪.৫/৫। সাদাত হোসাইনের প্রথাবদ্ধ লেখা হিসাবে ২/৫।
পারু নিখোঁজ! পারু তাহলে কোথায়? ঠিক এই জায়গায় শেষ হয়েছিল ২০২১ সালে প্রকাশিত সাদাত হোসাইনের 'স্মৃতিগন্ধা' বইটি। ২০২২ সালে প্রকাশিত বইটির দ্বিতীয় খন্ড 'ইতি স্মৃতিগন্ধা' তে পারুকে কি খুঁজে পায় ফরিদ? পারু কি ফিরে যেতে পারে বাবা মহিতোষের কাছে? সেই উত্তর দিবো না। তবে বইটি শেষ করার পর অপ্রাপ্তির মাঝে অন্য রকম একটা অনুভূতি আচ্ছন্ন করে রাখবে পাঠককে।
বইয়ের কিছু নিগুঢ় উক্তি অনেকটা সময় ধরে ভাবিয়েছেও যেগুলো শেয়ার না করলেই নয়ঃ
'যে আঘাত করে, সে সহসাই তা ভুলে যায়। কিন্তু যে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, সে সারাজীবনেও সেই আঘাতের কথা, যন্ত্রনার কথা ভুলতে পারে না। চেতনে-অবচেতনে সারাক্ষণ সে তা বুকে পুষে রাখে।'
'কিছু মানুষ এমন হয়। দেখলেই কেমন মাটির মানুষ মনে হয়। যেন তাদের শরীরে, মনে, কথায় ওই মাটির মায়াময় সোঁদা গন্ধটুকুও লেগে থাকে। ঐ গন্ধটা এত কোমল, এত পেলব যে তার স্পর্শ সারাক্ষণ ছুঁয়ে যায়। মনে লেগে থাকে। চারপাশের অজস্র মানুষ, অসংখ্য স্পর্শ, পাপ কিছুই আর ঐ স্পর্শটুকু মুছে ফেলতে পারে না।'
'মানুষ মাটি ছাড়া টিকে থাকতে পারে না। গাছের মতোই মানুষেরও বোধ হয় মাটিতেই শিকড় গাঁথা থাকে। সেও তাই নিজের মাটিতে গাঁথা শিকড় ছাড়া প্রাণ প্রাচুর্যে বাঁচতে পারে না।'
'আসলে জগতে ভালোবাসার মতো এমন সার্বজনীন অথচ বহুমুখী অনুভূতি আর নেই। ঘৃণার রূপ যেখানে ঐ একই, সেখানে ভালোবাসার রূপ অজস্র।'
বইয়ের সুন্দর এই প্রচ্ছদখানা করেছে সাদিতউজ্জামান। প্রচ্ছদের দিকে বার বার তাকালেই মনে হয়, ইস! এমন সুন্দর শিমুল আর কাঠগোলাপে ভরা ছায়াশীতল গাছের তলের পুকুর পাড়ে খানিকক্ষণ যদি বসে থাকতে পারতাম!
সংক্ষিপ্তসার: গল্পটি তার প্রথম বইয়ের cliffhanger থেকে আগাতে থাকে। এবং এটি বিভিন্ন চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রসর হয়। এর মধ্যে ক্রমেই গ্রাম্য রাজনীতি জটিল হতে থাকে। পারু তার গর্ভাবস্থায় অভূতপূর্ব বিপদের সম্মুখীন হয়। এদিকে মহিতোষ এবং ফরিদ ও পারুর সন্ধানে তাদের নিজস্ব মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যায়।পারু কি তার বাবা, পরিবার এমনকি ফরিদের সাথে আবার মিলিত হতে পারবে? নাকি সময়ের জোয়ারে নিজ নিজ যাত্রায় হারিয়ে যাবে?
পাঠ-প্রতিক্রিয়া: এই সিরিজের দ্বিতীয় এবং শেষ বইটিতে প্লটটিতে আরও টুইস্ট এবং জটিলতা রয়েছে। তবে যে জিনিষটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে তা হলো যেভাবে অধ্যায়গুলো প্রোটাগোনিস্ট এবং সহায়ক চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়েছে। এভাবে গল্প ও চরিত্র উভয়ই বিকশিত হয়। তবে এই বইয়ে ফরিদ চরিত্রের উপর আমার বিরক্তি এসেছে। বুঝলাম যে সে এক মানসিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলো, কিন্তু গ্রামবাসীরা তার জন্য যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা সম্পর্কে সে যে অজ্ঞাত ছিল, তা আমার কাছে বোধগম্য মনে হয়নি।
কোনো স্পয়লার ছাড়াই, আমি অবশ্যই পাঠকদের সতর্ক করতে চাই যে এটি স্লো-বার্ন বই এবং কিছুটা ধৈর্যের প্রয়োজন।
আগের বই স্মৃতিগন্ধার তূলনায় এই বইটির কাহিনী এগিয়েছে খুব দ্রুত। পুর্বের বইটিতে কিছু চরিত্রের ভুমিকার গৌন ছিলো, তাদের এই বইতে খুব শক্তিশালি চরিত্রে দেখা গেছে। কেন্দ্রিয় চরিত্র পারু বালিকা থেকে ধিরে ধিরে ঘাত পরিপুর্ণ এক নারীতে পরিনত হয়েছে এখানে। আরো কিছু ঘটনার অবতারনা হয়েছে যার ফলে ক্ষনে ক্ষনে পাল্টে গেছে ঘটনার মোড়। তবে একটা সময় পর কাহিনী খুব দ্রুত এগিয়েছে। চরিত্রগুলোর গঠনের চেয়ে কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যাবার দিকে লেখকের নজর ছিলো বেশি। অনেক উথান পতন থাকলেও কেনো জানি গল্পটা শেষে এসে আর জমলো না আমার কাছে।
এই বইটা আমার সাদাত হোসাইনের লেখা ২য় পড়া বই, এর আগেরটা ছিলো এই বইয়ের প্রথম পার্ট। আমার কাছে মনে হয় বাংলা উপন্যাস এর কথা যদি বলি তাহলে বর্তমানে হুমায়ূন আহমেদের পরে সাদাত হোসাইন বাংলাদেশে সব থেকে জনপ্রিয় লেখক। উনার আগের বই কেমন আমি জানি না কিন্তু স্মৃতিগন্ধা সিরিজটা আমার কাছে ভালো লেগেছে অনেক। অনেকে বলে গল্প ছোট অনেক টেনে লম্বা করেছে এইটা আমার কাছে মনে হয়েছে উপন্যাসের খাতিরে করা কারন এইটা থ্রিলার বই না যে ২৫০-৩০০ পেজে শেষ করে দিবে। পারু, ফরিদ সবার পছন্দের বলেও আমার কাছে আসমা ছিলো সব থেকে বেশি পছন্দের।
আমার জিবনের সবচেয়ে পড়া ভালো একটা বই🌼 যদিও আমার কোন বই পড়তে তেমন সময় লাগে না এই বার এই বইটা পড়তে আমার যদিও ২ দিন সময় লেগেছে কিন্তু মাঝে অনেক অসুস্থ এর জন্য পড়তে পারি নি।কিন্তু মনটা বই এর মধ্যেই ছিল। ধন্যবাদ লেখকে এত সুন্দর একটা বই কে আমাদের মাঝে আনার জন্য। এবং অনেক অনেক শুভ কামনা 🌼
This entire review has been hidden because of spoilers.