ক্ষমতার লিপ্সায় সব কিছুর বলি দিতে প্রস্তুত আগামেমনন। গ্রিসের সম্রাট বলে কথা। ক্ষুদ্র এক রাজ্যের রাজা কি না তার বশ্যতা স্বীকার করবে না! প্যারিসের পাখির মতো বুকে হেলেনের মতো এক অঙ্গারকে হরণ করে ট্রয়ে নিয়ে যাবার সাহস এলো কোত্থেকে? কী সেই উৎস? একিলিসের রাজত্বে মন নেই। নিজের শৌর্যবীর্য প্রদর্শন আর নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কারের দিকেই যত ঝোঁক তার। একগুঁয়ে এই বীরের পা কেন পড়লো ট্রয়ের মাটিতে? হেলেন একই সাথে সুন্দরী এবং বুদ্ধিমতী। কেন সে অশান্তি মাথায় নিয়ে ট্রয়ে চলে গেলো। দেবী আফ্রোদিতির কী এতোই ভুলিয়ে দেবার ক্ষমতা? ফিনিসিয় সম্ভ্রান্ত কুমারিহরণের নেপথ্য নায়ক কে? একিলিসের শিরস্ত্রাণ পরে মার্মাডনদের নেতৃত্বে দিচ্ছে কে? দুর্ভেদ্য এই দেয়াল গ্রীকেরা পার হবে কিভাবে? হেলেনই বা কিসের লোভে বিয়ে করেছিলো এক বুড়ো রাজাকে? সব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আসছে দিবাকর দাসের ঐতিহাসিক ফিকশন 'দ্য নেস্ট অব স্পাইডার'।
হিস্ট্রিকাল ফিকশন নিয়ে আমার এক্সাইটমেন্ট বরাবর খুব বেশি। সেই এক্সপেক্টেশন পূরন করাও বেশ কষ্ট সাধ্য।
আমার ব্যেক্তিগত রুলসের বাইরে গিয়ে আসলে কাজ টা করেছি। আমি হুমায়ূন আহমেদ ছাড়া কখনো একই লেখকের বই ২-৩ মাসের সর্বনিম্ন গ্যাপ না নিয়ে পড়িনা৷ অথচ দিবাকর দার দুইটা বই এক মাসের ভেতরে শেষ করলাম। আর সত্যি বলতে ভয়াবহ মিক্স ফিলিংস আসলো!
আমার অভিমন্যু পড়ে এভারেজ এর বেশি লাগে নাই। বাট দ্য নেস্ট সত্যিই দূর্দান্ত। যেমন স্টোরি টেলিং, তেমন ক্যারেক্টার বিল্ডাপ আর সাথে লেখনি! এইবার আমি মহাকাল আর মহাযাত্রা পড়ার সাহস পেলাম।
তবে আফসোস একটাই অভিমন্যু নিয়ে যত আলোচনা হয়েছিল, এইটা নিয়ে কি তার কাছাকাছিও হয়েছে?
বাংলায়, বাংলাদেশে হালকা হিস্টোরিক্যাল ফিকশন বেশ কিছু হইছে। হালকা হিস্টোরিক্যাল মানে হইলো ইতিহাসের কোন ঘটনার ফ্ল্যাশব্যাক ১/২ চ্যাপ্টার, আর তারপর সেই ঘটনার সাথে গুরুত্বপূর্ণ কোন লিঙ্ক নিহিত হইয়া যায় বর্তমানের ঘটনায়। প্রকৃতপক্ষে হিস্ট্রি থেকে একটা এলিমেন্ট নিয়া ড্যান ব্রাউন, জেমস রলিন্স টাইপ থ্রিলার।
কিন্তু বাংলায় পুরোদস্তুর হিস্টোরিক্যাল ফিকশনই আছে হাতেগোণা কয়েকটা, তার মাঝে থ্রিলার যে নেই সেটা বলা বাহুল্য। আর, ট্রয় যুদ্ধ নিয়া হিস্টোরিক্যাল ফিকশনের কথা তো আমার মোটামুটি দূরতম চিন্তাতেও আসে নাই। কিন্তু অচিন্তযনীয় কাজটাই করে বসেছেন লেখক!
রানী হেলেনের জন্য যে সুদীর্ঘ ট্রয়ের যুদ্ধ হয়েছিল সেটা সবারই জানা। আর এ যুদ্ধের পটভূমি, যুদ্ধে কার কী স্বার্থ ছিল, কে কেমন ভূমিকা নিয়েছিলেন - এ সবই আমাদের জানা। এসবই নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখক কলমের কালিতে এঁকেছেন নিজের মতো করে, পার্থিব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। নিজের স্বার্থে কেমন করে সমগ্র জাতিকে রাজা-রাজড়ারা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতেন তার এক সুনিপুণ চিত্র এঁকেছেন লেখক নিপুণ দক্ষতায়। রানী হেলেন, রাজপুত্র প্যারিস, রাজা আগামেমনন, মেনেলাউস, বীর একিলিস প্রমুখ প্রসিদ্ধ চরিত্রদের চিন্তা-ভাবনা, মনন, কাজকর্ম মানবিক দিক থেকে বর্ণনা করার প্রয়াস পেয়েছেন লেখক। ঠাস বুনটে ফুটিয়ে তুলেছেন মানুষের স্বার্থপরতা, শঠতা, ক্ষমতার লোভ, প্রেম, বীরত্ব, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। মাত্র ১৩৮ পাতার ফ্রেমে নিপুণ শিল্পীর দক্ষতায় লেখক বন্দি করেছেন ট্রয় যুদ্ধকে। লেখকের সাবলীল, প্রাঞ্জল লেখনীতে বইয়ের কাহিনি এগিয়েছে তরতর করে। সত্যি বলতে কী, আমার পড়া লেখকের এই প্রথম বই থেকে এতটা আশা করিনি। চমৎকার সাবলীল, প্রাঞ্জল লেখনী, ভাষার উপর চমৎকার দখল লেখকের সহজাত। টানা পড়ে শেষ করার মতো বই।
চমৎকার লাগল বইটা। লেখনী বেশ স্বতঃস্ফূর্ত, আর সে কারণেই জটিল জটিল নামগুলোও বিশেষ প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়নি। ছলনা আর কূটচক্রের ভিড়ে গুছিয়ে একটি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। গ্রিক সম্রাটের এলেম আছে বলতে হবে। যদিও তার সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি সহমত নই। তাছাড়া আশা করেছিলাম হেলেনের পরিণীতি ভিন্ন কিছু হবে। যাক, যা হয়েছে, হয়েছে।
রাজতান্ত্রিক গল্প যারা পছন্দ করেন তাদের জন্য বইটি ভাল হবে। আমার এ ধরনের গল্প বেশ লাগে। আগামীতে দিবাকর দাসের আরো কিছু বই পড়ার আগ্রহ রইল।
এটা আসলে ইতিহাসের রিটোল্ড স্টোরি। ট্রয়ের যুদ্ধ নিয়ে আমরা যা জানি ঘটনা আসলেই কি তাই। কি হবে যদি প্রতি পদে পদে থাকে ষড়য্ত্রের জাল। বেস ভালো লেগেছে বইটা।
গ্রিকদের সমৃদ্ধ উপাখ্যানে ট্রয়ের যুদ্ধ আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছে। আজও হেলেনের দেবতুল্য সৌন্দর্যের বর্ণনা আর একিলিসের বীরত্বের কথা আমরা শুনতে পাই এবং বিভিন্ন সময় উপমা হিসেবে ব্যবহার করি।
সেই বিশাল ট্রয়ের যুদ্ধকে নিজের কল্পনার মাধুরি মিশিয়ে ছোট্ট এক বইয়ে ফুটিয়ে তোলা চাট্টিখানি কথা নয়। এক্ষেত্রে দিবাকর দাস পাস করে গিয়েছেন। তার সহজ সরল আর সাবলীল বর্ণনায় চমৎকার ভাবে সবকিছু ফুটে উঠেছে। তার উপমার প্রয়োগ কিংবা বর্ণনাভঙ্গি যেকোনো পাঠককে ধরে রাখতে সক্ষম। তার এই সাবলীল বর্ণনার জন্যই কঠিন কঠিন নামগুলো কোন ঝামেলার সৃষ্টি করেনি।
কাঠামো পুরনো হলেও গল্পের হালটা ঠিকই সামলেছেন লেখক। একটার পর একটা ষড়যন্ত্র আর কুটচালের যে বহর বইয়ে এসেছে তা ভীষণ উপভোগ করেছি। আর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বর্ণনাও মোটামুটি ভালো লেগেছে।
চরিত্রগুলো বেশ শক্তপোক্ত হলেও মনে ধরেনি কাউকে। এছাড়া বইয়ে উত্তেজনা আর সাসপেন্স আবহটুকু বেশ ভালো রকম মিসিং মনে হয়েছে আমার কাছে। যেটা এরকম এক পৌরাণিক কাহিনি অবশ্যই ডিজার্ভ করে।
মোটা দাগে, দ্য নেস্ট অভ স্পাইডার পড়ে ভালো লেগেছে। তবে শেষটুকুতে যেমন লেখক আলেকজান্ডার কিংবা জারাক্সিসের বিরুদ্ধে গ্রীকদের অদম্য বীরত্বের কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন সেগুলো নিয়েও তার লেখা উচিত বলে মনে করি আমি। আরেকটা জিনিস যেটা ভালো লেগেছে সেটা হলো গ্রীক মিথলজির সাথে হিন্দু মিথোলজির মিলগুলো।
সতীর্থের পেপারব্যাক প্রোডাকশনে বইয়ের বাহ্যিক দিক ভালো হলেও মাত্র ২০০ পেজের বই খুলে পড়তে সমস্যার সম্মুখীন হইছি। বাইন্ডিংয়ে কিছু একটা করলে হয়তো সমস্যার সমাধান হবে।
রিজন ভাইয়ের করা প্রচ্ছদটা ভালো লাগেনি৷ নর্মাল হয়ে গেছে একদম।
দিবাকর দাসের প্রথম দিককার বই। দুর্বল গদ্যশৈলী, চরিত্রায়ন আর সংলাপ। বইটা এক বসায় পড়ার মতো একটা নভেলা, তবে বিরক্তি আসে পড়তে।
এইটুকু হলেও দুই স্টার দিতাম না। বইটার ফ্ল্যাপে লেখা এটা একটি ঐতিহাসিক ফিকশন৷ আসলেই? না৷ ট্রয়ের যুদ্ধ স্রেফ নিজের ভাষায় লিখেছেন লেখক, সাথে কয়েকটা কনস্পিরেসি আর এডিথ হ্যামিল্টনের "মিথলজি" বইয়ে আমরা যা পড়েছি, ওইটুকুই।
সতীর্থ প্রকাশনার বইটার প্রোডাকশন বেশ বাজে। পেপারব্যাক হওয়াতে সমস্যা নেই। কিন্তু বাইন্ডিং জঘন্য । টিপিক্যাল বইয়ের মতো সেলাই করা না, অষুধ কোম্পানি থেকে পাওয়া প্যাডের মতো আঠা দিয়ে লাগানো। বইটার মাঝপথে এসে "চড় চড়" শব্দ করে যখন বাইন্ডিং খুলতে শুরু করলো, তখন মনে হলো দুইশ টাকা মুদ্রিত মূল্যের বইটা বিশাল এক লস প্রজেক্ট।
“No man or woman born, coward or brave, can shun his destiny.”— Homer, The Iliad - ❛দ্য নেস্ট অভ স্পাইডার❜ - আগামেমনন, গ্রীসের সবগুলো রাজ্য জয় করা এক রাজা। কিন্তু সমগ্র গ্রীসের রাজা হয়েও তার মনে তেমন কোন শান্তি নেই, তার কারণ ফিনিশিয়া এবং ট্রয় অঞ্চল। তাই এই দুই অঞ্চলকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায় সে বিষয়েই এক বিশাল পরিকল্পনা করা শুরু করেন তিনি। - হেক্টর, ট্রয়ের রাজপুত্র। ট্রয়ের আরেক রাজপুত্র প্যারিসকে নিয়ে ভ্রমণে বেরিয়েছেন তিনি। তাদের সেই ভ্রমণের শেষ স্থল ছিলো স্পার্টা। সেখানে তারা নামার পর থেকেই আগামেমননের পরিকল্পনার মূল অংশ শুরু হয়। এখন আগামেমননের সেই পরিকল্পনা কী শেষ পর্যন্ত সফল হয় এবং তার ফলে গ্রীস আর ট্রয়ের যোদ্ধাদের ভাগ্য কীভাবে পরিবর্তিত হয় তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক দিবাকর দাস এর হিস্টোরিক্যাল ফিকশন ❛দ্য নেস্ট অভ স্পাইডার❜। - ❛দ্য নেস্ট অভ স্পাইডার❜ বইটিকে বলা যায় গ্রীস এবং ট্রয়ের বিখ্যাত 'ট্রোজান যুদ্ধ' এর রিটেলিং। বিশাল সেই আখ্যানের অনেকটা সারাংশ আকারে বইটি লেখা হয়েছে। এই যুদ্ধ সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা থাকায় কাহিনির গতি প্রকৃতি আগে থেকেই জানা ছিলো। যেভাবে ঐতিহাসিক ফিকশন হিসেবে প্লটটি এগিয়েছে তা বেশ দ্রুতই লেগেছে, কিছু যায়গায় মনে হয়েছে ন্যারেটিভ আরেকটু স্লো হলে নতুন পাঠকেরা ব্যপারগুলো হয়তো আরো ভালোভাবে বুঝতে পারতো। - ❛দ্য নেস্ট অভ স্পাইডার❜ বইয়ের পুরোটা জুড়েই আগামেমনন, মেনেলাউস, হেলেন, হেক্টর, প্যারিস, অ্যাকিলিসের মতো নানা বিখ্যাত চরিত্র দিয়ে ভর্তি ছিলো। তার ভেতরে অ্যাগামেমননই বেশিরভাগ সময়ে ফোকাসে ছিলো বলে মনে হয়েছে, এছাড়া অ্যাকিলিসও গল্পে যখন এসেছে সেই জায়গাগুলো ভালো লেগেছে। তবে চরিত্র অনুসারে কয়েক জায়গায় ন্যারেশন এবং সংলাপ দুর্বল লেগেছে, এই যায়গাগুলো আরো শক্তিশালী হলে গল্পটা আরো ভালো লাগতো হয়তো। সে সময়ের মহাকাব্য হিসেবে ভাষাশৈলীতেও কিছু যায়গায় উন্নতি করা যেতে পারতো বলে মনে হয়েছে। - ❛দ্য নেস্ট অভ স্পাইডার❜ বইটি ক্রাউন সাইজের পেপারব্যাকে প্রকাশিত হয়েছে। বইয়ের সাইজ অনুসারে প্রোডাকশন বেশ ভালোই হয়েছে, সহজেই বহন করার মতো। বইয়ের প্রচ্ছদ কাহিনি অনুসারে ঠিকঠাকই লাগলো। তবে বইতে কিছু ছোটখাটো টাইপিং এরর ছিলো, আশা করি সামনে সেগুলো ঠিক করে ফেলা হবে। - এক কথায়, গ্রীস এবং ট্রয়ের যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে একটি ১০১ কোর্স বলা যায় ❛দ্য নেস্ট অভ স্পাইডার❜ বইটিকে। যারা এই যুদ্ধের ঘটনাবলী জানেন তাদের কতটুক ভালো লাগবে তা বলা মুশকিল, তবে যারা জানেননা তাদের ❛দ্য নেস্ট অভ স্পাইডার❜ বইটি ভালো লাগার সম্ভাবনা রয়েছে।
সত্যি বলতে বইটা কেনার আগে মনে সংশয় ছিল।ট্রয়,হেলেন এগুলা আমার কাছে নতুন না, কেনার পর যদি দেখি ওই গুলাই , থিতু লাগবে।তার উপর নতুন লেখক।কিন্তু যখন বইটা আদীর শোরুমে দেখি,দুই পেজ উল্টিয়ে উৎসর্গ টা পড়লাম, মনটা বিমর্ষ হলো।তার পরের পেজে ভূমিকা আর পরের পেজে দিবারাত্রির কাব্য থেকে নেয়া জীবনান্দের কবিতা টা পড়লাম এবং শেষে কাহিনি সংক্ষেপ পড়ে আমি বইটা কিনেই ফেলি।যাই হোক কাহিনী আর লেখনী ছিল যথেষ্ট ভালো।একটা কাব্যিক ভাব ছিল লেখায়।শব্দ চয়ন, বাচন ভঙ্গী ছিল খুব সুন্দর।হাল্কা কিছু টাইপিং মিস্টেইক যেমন এক জায়গায় "সফল" এর পরিবর্তে "বিফল" হয়ে গেছে।কিন্তু ওভারঅল বইটা আমার খুব একটা খারাপ লাগেনি।
সলিড ৪.৫ তারা। ছোট পরিসরের মাঝে ট্রয়ের যুদ্ধের মতন বিশাল আখ্যানকে তুলে ধরা সত্যিই প্রসংশনীয়। এই বইয়ের মূল আকর্ষন এর কাহিনী নয়, চরিত্র। চরিত্রদের মাঝ থেকে মিথের অংশ মুছে বাস্তব রূপে তুলে ধরা কম কঠিন নয়। সেই কাজটাই লেখক সুন্দরভাবে করেছেন। শব্দচয়নও সুন্দর ছিল। তবে জায়গায় জায়গায় কিছু আধুনিক শব্দ, যেমন- গিলোটিন এর ব্যবহার দৃষ্টিকটু লেগেছে৷ নইলে বইটা পুরোপুরি ৫ তারা পাবার যোগ্য।
লেখকের কোন লেখাই এর আগে পড়ার সুযোগ হয়নি আমার। এই প্রথম পড়লাম। আর প্রথমবারেই বলা চলে মুগ্ধ। লেখকের লেখা সাবলীল, ভাষা প্রাঞ্জল, শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ। সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ্য একটি বই পড়লাম।
বিশাল পরিসরের ট্রোজান যুদ্ধকে মাত্র ২০০ পৃষ্ঠার মধ্যে ধারণ করা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। লেখক বেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই কাজটি সম্পন্ন করেছেন। একটানা পড়ে শেষ করেছি, যা সম্ভব হয়েছে ঝরঝরে লেখনীর কারণে।
ট্রয়ের যুদ্ধ...ছোট দুটি শব্দ। কিন্তু এই দুই শব্দেই লুকিয়ে আছে কত জনের কত লোভ, কত স্বার্থ, কত কামনা, কত চাতুর্য, কত কৌশল তা ভাবলে অবাক হতে হয়।
তৎকালীন অখন্ড গ্রীসের সম্রাট আগামেমনন এই বইয়ের প্রধান চরিত্র। ক্ষমতার লোভ, অহংবোধ, স্বার্থপরতা, দূরদর্শীতা, বিচক্ষণতায় পরিপূর্ণ একটা ক্যারেক্টার। তো এই আগামেমনন তার ভাই-স্পার্টার রাজা মেনেলাউস আর মেনেলাউসের স্ত্রী দেবকন্যা হেলেনকে নিয়ে পরিকল্পনা করেন সুরক্ষিত ট্রয় নগরী দখলের, যা কিনা দেবতাদের কাছেও ছিল অজেয়। তাদের এই পরিকল্পনায় ফিনিসিয়দেরও কৌশলে জড়িয়ে নেয়া হয়। মূলত এই নিয়েই কাহিনীর সূত্রপাত। তারপর কূটনীতি আর সমরনীতির স্রোতে কাহিনী এগিয়েছে দূর্দান্ত গতিতে।
লেখক দিবাকর দাসের আগে দুটো বই প্রকাশিত হলেও পড়া হয়নি কোনটাই। কিন্তু অনলাইনের খাতিরে বেশ কিছু ছোটগল্প পড়া হয়েছে। ছোটগল্প লেখার হাত উনার বেশ ভালই। স্বতন্ত্র লেখার স্টাইল। ট্রয় নিয়ে যেখানে হাজার লাইনের মহাকাব্যও রচনা করা হয়েছে সেখানে মাত্র দেড়শত পৃষ্ঠারও কম কলেবরে গোটা কাহিনী উপস্থাপনের প্রয়াসের ক্ষেত্রে লেখকের সাহসের তারিফ করতে হয়। এই প্রচেস্টায় তাকে বিফল বলা যাবেনা কোনমতেই।
ইতিহাস নিয়ে কোন বই লেখার ক্ষেত্রে চরিত্রগুলোর স্বকীয়তা বজায় রাখা কঠিন একটা কাজ। এই বইতেও চরিত্রের সংখ্যা নেহায়েৎ কম না। চরিত্রবিন্যাসের ক্ষেত্রে লেখক যথেষ্ট মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। ঘটনাপ্রবাহও খাপে খাপে বসে গিয়েছে।
গোটা বইয়ের কাহিনী লেখক নিজের জবানিতেই বর্ণনা করেছেন। কাহিনী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথাও ঝুলে যায়নি। কিন্তু কিছু জায়গায় একটু ডিটেইলিং এর অভাব বোধ হয়েছে আমার। আর বইয়ের প্রথম দিকে সর্বনামের ব্যবহার একটু কম ছিল। পরে অবশ্য সেটা চোখে পড়েনি। বাক্য বিন্যাসের দিকে আরেকটু নজর দিলে ভাল হত।
প্রচ্ছদটা ভাল ছিল। অনিক ভাইকে ধন্যবাদ।
ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য একটা বই। সংগ্রহ করে পড়ে ফেলুন। আশাহত হবেন না। রেটিং- ৪/৫
ট্রয় নগরী সম্পর্কে দুই চার লাইন জানতাম, এইটাতে বেশ ভালোই অনেক কিছু দেওয়া আছে, যদিও অল্টারনেটিভ হিস্টোরি, লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা।
বইটাতে রাজনীতি, প্রেম, লোভ-লালসা, যুদ্ধবিগ্রহ, ষড়যন্ত্রের অংশ খুবই সুন্দরভাবে লেখক উপস্থাপনা করছেন। সবকিছুই অদৃশ্য মাকড়সার জালের মত একসাথে বাধা।
এক নারীর জন্যই একটা জাতি সমূলে ধ্বংস হওয়া সম্ভব, তা ট্রয় নগরী সম্পর্কে জানলেই বুঝা যায়। হেলেনের সৌন্দর্যতা মন কেড়ে নেওয়ার মতো হলেও বেশি ভালো লাগছে একিলিসকে। নির্ভীক, দুঃসাহসি যোদ্ধা।
সবমিলিয়ে ছোট একটা বই, তবে খুবই ভালো। আমার মতে অবশ্যই মাস্টরিড।
ছোটবেলায় গ্রিস আর ট্রয়ের উপাখ্যান পড়েছিলাম। এই কাহিনীগুলো টানত খুব কিন্তু নামের ভারিক্কির জন্য সে সময় বইটা একটু কঠিনই লাগছিল। এইজন্য হয়ত তারপর আর এদিক মাড়াই নাই। যাই হোক বইটা যখন ধরলাম বেশ সহজ সাবলীলভাবে প্রথম পৃষ্ঠা থেকেই টানছিল। মাত্র ১৩৮ পৃষ্ঠার বইয়ে এত সুন্দর ভাবে বিশদ প্লট সংক্ষিপ্ত করে লেখা খুব কমই পেয়েছি। উপরন্তু এতে এর পড়ার আকর্ষণ এতটুকুও কমে নি ।
ট্রয় মুভিটা দেখেছিলাম অনেক আগেই।এমনিতেই আমার হিস্টোরিক্যাল থ্রীলারের প্রতি অনেক আগ্রহ তাই বইটা আমি গোগ্রাসে গিলেছি। কি নেই এতে যুদ্ধ,প্রেম,বিশ্বাসঘাতকতা, চাতুরতা,বীরত্ব সব সব আছে।যেই আনন্দ মুভি দেখে পাইনি বইটা পড়ে তা পরিপূর্ন হয়েছে।
ট্রয় যুদ্ধ নিয়ে যারা আগে পড়েনি তাদের দুর্দান্ত লাগবে, যেমন আমার লেগেছে। গল্পের চরিত্রগুলো আর ঘটনা প্রক্রিয়া ট্রয়ের ইতিহাস থেকে নেওয়া তাতে কি একটা দারুণ বই আর ঘটনা তো পড়তে পারলাম
#qotd- ২০২২ আপনি কোন বইটি পড়ার মাধ্যমে শুরু করেছেন?
রাজা, রাজ্য ও রাজনীতি এই তিনটি শব্দ শুধু শব্দ নয়,এর রয়েছে ভারত্ব! এই শব্দগুলোর মাঝে আছে চাটুকারিতা, ষড়যন্ত্র,কুটনীতি,যুদ্ধ,সন্ধীর মতো কিছু ঘটনাপ্রবাহের মেলবন্ধন! একটি অপরটির প্রবাহ ছাড়া মরা নদীর মত শুকনো ও স্থবির। ঠিক তেমনি মাকড়সার জাল আমরা সবাই দেখেছি।অদ্ভুত কৌশলে এই প্রাণী সূক্ষ জালের বাড়ি তৈরি করে। তবে পৃথিবীতে আরও একটা প্রানী আছে যার জাল বানানোর ক্ষমতার কাছে মাকড়সা নেহাত শিশু।সে এতোই সুক্ষ জাল তৈরি করে যা, চোখে দেখা তো দূরে থাক, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতেও ধরা পরে না।সেই প্রানীর অদৃশ্য জাল তৈরির বর্ণনাই হলো দ্য নেস্ট অভ স্পাইডার।
মিথলোজির জগতে আমরা অনেক মিথ সম্পর্কেই জানি।একটু ভাবুন তো ট্রয় নগরী ও গ্রিস মিথোলজির একটি অলটারনেট হিস্ট্রি যদি রচিত হতো তাহলে ব্যাপারটা কেমন হতো!পাঠক হিসেবে আমি বলবো দারুণ হতো।কারণ এই বইটি তেমনই কিছু নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।
রণক্ষেত্র হয়তো শক্তি ও বীরত্বের প্রয়োজন হতে পারে। তবে রাজ্যপরিচালনা ও রণক্ষেত্র তৈরি করে তাতে জয় লাভের জন্য প্রয়োজন বুদ্ধির! আগামেমনন পুরো গ্রিসের সম্রাট হবার পর,গ্রিসের প্রতিটি রাজ্যের চাবিকাঠি নিজের হাতে রাখা ও ট্রয় নগরী জয়ের এই যাত্রাটা অনেক মারপেঁচ এর হলেও ছিল আনন্দঘন ও থ্রিলে ভরপুর।কারণ পদে পদে রয়েছে রহস্যে বুনা জাল। দাবা খেলার মতো করেই কখন কোন চালটি শত্রুপক্ষের চালকে বাজিমাত করে দিল তা বুঝে উঠতে উঠতেই বইটি পাঠকের পড়া শেষ হয়ে যাবে।
তবে রাজপুত্র প্যারিসের হেলেন এর ফাঁদে পা দেওয়ার প্লটিংটির ভিত্তি আরো জোরালো হতে পারতো বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।এছাড়া উপন্যাসের গতিবিধি সঠিকভাবে প্রবাহিত রাখার জন্য বাকী চরিত্র ও ঘটনা গুলোর প্লটিং দারুণ ছিল। গ্রিস, ট্রয় ও ফিসিনিয় এই তিনটি রাজ্যকে নিয়ে তৈরি দ্য নেস্ট অভ স্পাইডার দারুণ একটি বই। এই পৌরাণিক থ্রিলার বইয়ের প্রতিটি বর্ণনা পাঠক চোখের সামনে ঘটার মতো করেই অনুধাবন করতে পারবে।
শুধু শেষে বইটি নিয়ে আমার দুই বাক্যের অনুভূতি হলো, আমরা আসলে চোখের সামনে যা ঘটতে দেখি, তা ঘটছে বলেই দেখি না।তার পিছনে থাকে অনেক প্রাকৃতিক ও কৃত্রিমতার রহস্যে তৈরি করা বিভিন্ন জাল!
দীর্ঘদিন স্টক আউট থাকা বইটি আবার নতুন করে সতীর্থ থেকে প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে। যদি না হতো তবে হয়তো দারুণ একটা বই না পড়াই থেকে যেত।
পাঠ প্রতিক্রিয়া— গ্রীসের একচ্ছত্র সম্রাট আগামেমনন কিংবা সর্বনাশা রূপবতী হেলেন, কে চিনে এদের? মূলত গ্রীসের ট্রয় নগরী জয়, আর তার আগে পিছের গল্পকে মূল উপজীব্য করেই এই কাহিনীর আবির্ভাব। আরেকটা কথে বলে রাখি, এই বইয়ের কাহিনী কিন্তু সম্পূর্ণ লেখকের মস্তিষ্কপ্রসূত। লেখক নিজেও এ কথা বলে দিয়েছেন।
যা-হোক, গ্রীসের ট্রয় নগরী জয়ের গল্পটা জানলেও এর পিছনের গল্প অজানা ছিল। এই বইটা পড়ে সেটাই যেন পুরোন হলো। ইতিহাস আর মিথ, এ ব্যাপারগুলোতে বরাবরই দুর্বলতা কাজ করে আমার। তাই তো বাছ বিচার না করেই বইটা কিনেছিলাম। আর তা ষোলকলা পূর্ণ করতে পেরেছেন লেখক।
যুদ্ধের ঘাত প্রতিঘাত, কূটনৈতিক চাটুলতা আর সরাসরি যুদ্ধের বর্ণনা... এসব পড়ার সময় যে কোনো পাঠকেরই বুক ধরফর করাতে বাধ্য। আর লেখকের সাবলীল লিখনশৈলী যেন তা আরও শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বইয়ের শেষটা কেন যেন আমার মনে ধরেনি। এ বই যদি আরও শত পৃষ্ঠা বেশি হতো আমি খুশিই হোতাম। অবশ্য লেখক অত বাড়াবাড়ি হয়তো করতে চান নি।
ঐতিহাসিক বইয়ের ক্ষেত্রে আমি বরাবরই দেখেছি, এসব বইয়ে প্রচুর চরিত্র থাকে। ছোটখাটো বইয়েও মূল চরিত্র আর পার্শ্ব চরিত্র মিলে অসংখ্য হয়ে যায়। তাই চরিত্রের ব্যাপারে আর তেমন কিছু বলছি না। আর তাছাড়া বই পড়তে পড়তে, একেকটা চরিত্রের সাথে পরিচিত হওয়ায় বেশি আনন্দের।
বইটা ক্রাউন সাইজ+সতীর্থ এর পেপারব্যাক। দুটো মিলিয়ে যাস্ট অসাধারন হয়েছে প্রডাকশন। এ নিয়ে কিছু বলার নাই। আর রিজন ভাইয়ের দারুন প্রচ্ছদটাও বেশ মনে ধরেছে। বইয়ের ভিতর কিছু ভুল ছিল বটে। যেমন– 'আ' (আর*)। টিটকিরি (টিটকারি*)। আরও কিছু ছিল, ঠিক খেয়াল নাই। এমন ছোটখাটো ভুল সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায়। তবে আগামী সংস্করণে ঠিক করে নিলেই ভালো হবে।
শেষে বলবো, বইটা আমাকে তৃপ্তি দিয়েছে। এবং এ বই আরও আলোচনা ডিজার্ভ করে।🖤
গ্রীসের একচ্ছত্র সম্রাট আগামেমনন কিংবা সর্বনাশা রূপবতী হেলেন, কে চিনে এদের? মূলত গ্রীসের ট্রয় নগরী জয়, আর তার আগে পিছের গল্পকে মূল উপজীব্য করেই এই কাহিনীর আবির্ভাব। আরেকটা কথে বলে রাখি, এই বইয়ের কাহিনী কিন্তু সম্পূর্ণ লেখকের ��স্তিষ্কপ্রসূত। লেখক নিজেও এ কথা বলে দিয়েছেন।
যা-হোক, গ্রীসের ট্রয় নগরী জয়ের গল্পটা জানলেও এর পিছনের গল্প অজানা ছিল। এই বইটা পড়ে সেটাই যেন পুরোন হলো। ইতিহাস আর মিথ, এ ব্যাপারগুলোতে বরাবরই দুর্বলতা কাজ করে আমার। তাই তো বাছ বিচার না করেই বইটা কিনেছিলাম। আর তা ষোলকলা পূর্ণ করতে পেরেছেন লেখক।
যুদ্ধের ঘাত প্রতিঘাত, কূটনৈতিক চাটুলতা আর সরাসরি যুদ্ধের বর্ণনা... এসব পড়ার সময় য�� কোনো পাঠকেরই বুক ধরফর করাতে বাধ্য। আর লেখকের সাবলীল লিখনশৈলী যেন তা আরও শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বইয়ের শেষটা কেন যেন আমার মনে ধরেনি। এ বই যদি আরও শত পৃষ্ঠা বেশি হতো আমি খুশিই হোতাম। অবশ্য লেখক অত বাড়াবাড়ি হয়তো করতে চান নি।
ঐতিহাসিক বইয়ের ক্ষেত্রে আমি বরাবরই দেখেছি, এসব বইয়ে প্রচুর চরিত্র থাকে। ছোটখাটো বইয়েও মূল চরিত্র আর পার্শ্ব চরিত্র মিলে অসংখ্য হয়ে যায়। তাই চরিত্রের ব্যাপারে আর তেমন কিছু বলার নেই।
লেখক ইলিয়াডের কাহিনি নিয়ে অল্টারনেটিভ হিস্ট্রি লিখেছেন। তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছেন ইলিয়াডের বিভিন্ন অসঙ্গতি, ফাঁক-ফোঁকর এর উপর ভিত্তি করে। আর এই মহাকাব্যকে ছোট কলেবরে তুলে এনেছেন পৌরাণিক ঘরানার ফিকশন হিসেবে। বইটায় মিথকে ম্লান করে বাস্তবতার মোড়কে নিয়ে এসেছেন মহাকাব্যিক গল্পকে। একেবারেই মেদহীন লেখা, একটানে পড়া যায়, সুখপাঠ্য। আরও ন্যারেটিভ থাকলে হয়তো মহাকাব্যসম উপন্যাস হিসেবে পেতাম এই বইটাকে৷
ক্ষমতালোভী সম্রাট আগামেমনন, হেলেনকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা, তাদের ষড়যন্ত্র, গ্রিক- ফিনিসিয়দের সংঘাত, ট্রয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যবহার করার জন্য মাকড়সার জাল সম ষড়যন্ত্রের রহস্য, একিলিসের বীরত্ব, নিয়তির ক্রীড়নক দুর্বল পুরুষ প্যারিস, প্যান্ডারাসের বিভীষণসম ষড়যন্ত্র, ট্রোজান বীর হেক্টরের পরিণতি, পরিশেষে যুদ্ধই যে সভ্যতার শত্রু, একই সাথে অবিচ্ছেদ্য অংশ যুগে যুগে, তাই সত্যি হয়ে উঠে বইয়ের পাতায় পাতায়।
ধীরে ধীরে থ্রিলারের প্রতি আগ্রহ প্রবল হচ্ছে, এরই মধ্যে দ্য নেস্ট অভ স্পাইডার বইটি এই প্রবলতায় মোটামুটি ভালোই প্রভাব রাখলো বলে মনে হচ্ছে।
মূলত কম ধৈর্যের আমি সাসপেন্স ব্যাপার টা কম সহ্য করতে পারি, ঠিক এজন্যই থ্রিলার জনরা আমার মধ্যে একটা খিটমিটে ভাবের তৈরী করতো। সে বিষয়টা যে ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে তা ইদানীং আন্দাজ করতে পারছি। যাক গে ওসব কথা, মূল কথায় আসি। ট্রয়, গ্রীস নিয়ে আমি অনেক আর্টিকেল, ফিচার পড়েছি তবে বিশাল এ কাহিনীকে লেখক যেভাবে ছোট পরিসরে পৌরাণিক ঘরানার ফিকশন হিসেবে তুলে এনেছেন সেটাকে পুরোমাত্রায় ৫ তারা দেয়াই যায়। শুরুর দিকে চরিত্রের শক্ত নামগুলোর জন্য মূল কাহিনী এলোমেলো করে ফেলি কিনা তা নিয়ে সন্দিহান ছিলাম তবে এ ক্ষেত্রে লেখকের সরল বর্ননায় পাঠক হিসেবে আমিও পাশ করে গিয়েছি আর লেখকও। তবে থ্রিলার হিসেবে কয়েকটা জায়গায় প্লটিং দূর্বল লেগেছে। সাসপেন্স, থ্রিলড এসব ব্যাপার স্যাপারে কিছুটা ঘাটতি আছে মনে হয়েছে। সবমিলিয়ে পাঠককে আত্মতুষ্টি দেয়ার মতনই বই।
দ্য নেস্ট অভ স্পাইডার মূলত একটি পৌরাণিক ইতিহাস। প্রেম,কাম,রাজনীতি, কূটনীতি, ষড়যন্ত্র সব মিলিয়ে অস্থির একটি উপন্যাস। উপন্যাসে হেলেনের সৌন্দর্য যে এতটা মোহনীয় করে তুলেছেন লেখক সত্যিই প্রশংসার দাবিদার তিনি। হেক্টর আর একিলিসের বীরত্বের বর্ণনা খুব সুন্দরভাবে লেখক প্রকাশ করেছেন। গ্রীক ও ট্রয় নগরীর যুদ্ধ নিয়েই বইয়ের মূল প্রেক্ষাপট রচিত। পুরো বই জুড়ে আগামেমননের ষড়যন্ত্রের জাল ছিটিয়ে ছিলো। এইজন্য বোধহয় বইটার নামকরণ সার্থক, তাছাড়া প্রথমে মনে করেছিলাম এই বইটার নাম এমন কেনো..? এটা কি অনুবাদ নই..? নাহ…! লেখক নিজস্ব লেখনিতে সহজসরল ভাবে পুরো উপন্যাস নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ইতিহাস অন্য এক আঙ্গিকে দেখা গেলো দ্য নেস্ট অফ স্পাইডার বইটিতে। বইয়ের গল্প ট্রয়ের সেই বিখ্যাত যুদ্ধ নিয়ে। তবে লেখক প্রচলিত মিথলজিতে বর্নিত আধ্যাতিক প্রেক্ষাপট থেকে বাইরে এসে সম্ভাব্য আরেকটা প্লটে গল্পটা লিখেছেন। আমরা জানি হাজার বছর আগের কোন কাহিনি মুখে মুখে প্রচলিত হতে থাকলে একসময় সেটার ডালপালা গজায়। মুল কাহিনির সাথে মুখরোচক কিছু অংশ যুক্ত হয়ে পাল্টে যায় আসল ঘটনা। দিবাকর দাসের লেখনি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। অসাধারন লেখনিতে ইতিহাসকে ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরতে তার জুড়ি নেই।
গল্পের মূল প্রেক্ষাপট ট্রয়ের যুদ্ধ। ট্রয়ের যুদ্ধে মূল প্রেক্ষাপট সুন্দর ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এখানে গিলোটিনের প্রসঙ্গটি অপ্রাসঙ্গিক লেগেছে আমার কাছে। আমি যে বইটি পড়েছি সেটা ছিল সতীর্থ প্রকাশনীর। বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি ছিল বেশ ভালো। কিছু বানান ভুল ছিল যা পরিহার যোগ্য। যারা মিথোলজির ভক্ত তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
ট্রয়ের যুদ্ধ নিয়ে লেখা চমৎকার একটা অল্টার্নেট হিস্ট্রি ফিকশন বই। লেখক দেবত্ব থেকে মানুষের কাতারেই নামিয়ে এনেছেন চরিত্রগুলোকে। রাজনীতি, ছল, প্রেম, শৌর্য, ক্রোধ, সব মিলিয়ে অনবদ্য একটা মিথলজিকাল লেখা হয়ে উঠেছে এটি। অত্যন্ত রেকমেন্ডেড।