আওলাদ মিয়া আবার ফিরেছে তার গল্পের পসরা নিয়ে। পলাশবাড়ির এক বৃষ্টি বিঘ্নিত রাতে হাজির হয় এক উদভ্রান্ত মানুষ। আওলাদ মিয়া ও তার বন্ধুকে শোনায় এক বানরের গল্প। মধুপুরের জঙ্গল থেকে যে হাজির হয়েছে প্রেসিডেন্ট জিয়ার আমলের ঢাকা শহরে। রাস্তায় এক টুকরো রিকশা আর্ট দেখে আওয়ারা হয়ে ফিরছেন রিকশা পেইন্টার জবদুল হোসেন। কে দেবে ওই আর্টিস্টের সন্ধান? হোমিও চিকিৎসক আলতাব হোসেনের ব্যবসা লাটে উঠেছে হাতুড়ে হরিনারায়ণের দাপটে। কী এমন ঔষধের খোঁজ পেয়েছে যে পিল পিল করে লোক জড়ো হচ্ছে তার বাড়িতে? আছে চৌধুরানীর সিঁধেল চোর লিয়াকত, পরিত্যক্ত পীরের মাজারে ঘাঁটি গেড়ে থাকা এক অলৌকিক বাঘ, শাউরিয়ার মেলায় কুড়িয়ে পাওয়া একটা এক টাকার কয়েন, ডাকবাংলোতে গিয়ে আটকে পরা এক যুবক, চলন বিলের রহস্যপুরুষ নিপেল হালদার, ইনস্টাগ্রামের পশ গার্ল সঙ্গীতা, ত্রিমোহনী ঘাটের ডাকাত সর্দার মাকড়া; পুলিশ যাকে কোনোদিন পাকড়াও করতে পারেনি। কিংবা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সুবেদার মেজরের দাড়ি কামাতে বাধ্য হওয়া কুমরগঞ্জের নাপিত বগার দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অদ্ভুত সময়। অথবা একই মেয়ের প্রেমে পরা মিলিটারি একাডেমির দুই ক্যাডেট অফিসারের গল্প। নিয়াজ মেহেদী ফিরেছেন তার প্রিয় বিষয়ে। অতিলৌকিক, অলৌকিক, অতিপ্রাকৃত যাই বলুন। ‘মর্কট মঞ্জিল’ এর বারোটি গল্প পাঠককে রোমাঞ্চিত করবে, ভাবাবে, মানব মনের ওইসব বন্ধ দরজায় কড়া নাড়তে বলবে যেগুলো বন্ধ করে রাখতেই আমরা স্বচ্ছন্দ বোধ করি
নিয়াজ মেহেদীর জন্ম রংপুরের বেনীপুর গ্রামে, ২৯ আগস্ট ১৯৮৯ সালে। মা-বাবার জ্যেষ্ঠ সন্তান নিয়াজের হাতেখড়ি পত্রিকার ছোটদের পাতায় লিখে। একসময় লেখালিখি ভুলে গিয়েছিলেন। প্রত্যাবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর অনুজ নাবিল মুহতাসিম ও অগ্রজ লেখক মশিউল আলমের। ২০১৮ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল বিপুলভাবে সমাদৃত। এরপর লিখেছেন উপন্যাস আড্ডা দেওয়া নিষেধ ও ধাঁধার থেকেও জটিল। ছোটগল্পের দুটি বই বিস্ময়ের রাত ও মর্কট মঞ্জিল। তাঁর ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলো, রহস্য পত্রিকা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, বণিক বার্তা ও কিশোর আলোর পাতায়।
নিয়াজ ভাইয়ার লেখা সুখপাঠ্য। প্লট বা গল্পের দিকে মনোযোগ না দিয়েও পড়ে ফেলা যায় তরতর করে, শব্দের মুন্সিয়ানা মুগ্ধতার রেশ ছড়ায়৷ ১২ টা গল্পের প্রতিটিই অভিনব। তবে হ্যাঁ, কয়েকটা গল্পের কলেবর আরেকটু বড় হতে পারত। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে ইন্সটাগ্রাম আর মর্কট মঞ্জিল। শুধু শেষের গল্পটার জন্যেই এই বইকে চার তারা দেয়া যায়। আওলাদ মিয়ার সাথে অনেক দিন পর দেখা হয়ে ভালো লাগল।
'অজানা উড়ন্ত বস্তু' আর 'নিরুদ্দেশ' গল্প দুটি মোটামুটি ভালো লেগেছে। বাকিগুলো মনে রাখার মতো না। চলনসই। তবে লেখকের গল্প বলার ঢংটা বেশ পছন্দ হয়ছে। শুধুমাত্র এ কারণেই একটা তাঁরা বেশি।
বিভিন্ন জনরার গল্পগুলোর মাঝে একটা বিষয় সাধারণ (কমন)- সবকয়টাই অভিনব। তাই মুখোমুখি বাড়ির হোমিও ডাক্তার আর কবিরাজের দ্বন্দ্ব সামাজিক গল্প না হয়ে হয় সাইফাই, আমনুরার দিগন্তজোড়া আমবাগানের ডালে লুঙ্গির কোচড় ভরে আম কুড়ানোতেও গায়ে কাঁটা দেয়, মাকড়া ডাকাতকে গ্রামের চারপাশ থেকে পুলিশ ঘিরে ফেললে গল্প থ্রিলারের বদলে হয় পরাবাস্তব, আর মধুপুরের বন ছেড়ে টেম্পুর ছাদে বাতাস খেতে খেতে শহরে চলে আসা বানরের গল্প আদি পুরান ঢাকার স্বাদ পাইয়ে দিয়ে যাদুবাস্তবতায় ঢুঁ মেরে যায়। এইসব গল্পের প্রেক্ষাপট তৈরীতেও দক্ষতা দেখিয়েছেন লেখক, বৈচিত্র এনেছেন দেশের একেক জায়গার, একেক সময়ের গল্প লিখতে গিয়ে। এবং পারিপার্শ্বিকের বর্ণনা যারপরনাই জীবন্ত। উত্তরবঙ্গ, ঢাকা, চরের গ্রাম, মফস্বলের পৈতৃক ভিটা- যেখানকার ছবিই এঁকেছেন লেখক, আশপাশের সমাজ বাস্তবতা, সংস্কৃতি, ভাষা, মানুষের ছবিও তুলে ধরেছেন বাস্তবের মতো করে।
একক গল্প সংকলন হিসেবে মর্কট মঞ্জিল নির্দ্বিধায় একশ'য় একশ।
অলৌকিক, অতিলৌকিক গল্প পড়তে ইদানীং বেশ ভালো লাগছে। সাথে সেটা যদি হয় সুখপাঠ্য লেখনীর সাথে, ব্যাপারটা খুব জমে তাহলে। লেখক নিয়াজ মেহেদী লেখনীর জাদু দেখিয়ে মুগ্ধ করেছেন এর আগেও। আমি এই বইয়ের ১২টি ছোটগল্প বেশ উপভোগ করেছি। অপেক্ষার ফল মিষ্ট হলো তবে!
বেশিরভাগ গল্পতেই ছিল নানান ধরণের ভিন্নতা। কখনও ইউএফও বেরিয়ে আসছে পুকুরের নীচ থেকে, কখনও পাকসেনাদের ছিন্নভিন্ন করছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, আবার ব্যার্থ প্রেমের প্রতারণার কারণ উন্মোচিত হচ্ছে সেইন্ট পিটার্সবার্গের ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্সে! অদ্ভুতুরে গল্পই যখন পড়তে চেয়েছেন, লেখক একদম বোয়াম উলটো করে ঢেলে দিয়েছেন পাঠকদের।
পাশাপাশি লেখক উত্তরবঙ্গের ভাষা, সংস্কৃতি যেভাবে তুলে ধরছেন, সেটাও একটা দারুণ ব্যাপার আমি বলবো। লেখকের সহোদর নাবিল মুহতাসিমও এই কাজটি করে যাচ্ছেন সমান তালে। সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে। তবে, কিছু গল্প মনে হয়েছে তাড়াহুড়ো করে লেখা, আরেকটু সময় দিলে, কিছুদিন ফেলে রাখলে গল্পগুলো জমতো আরও। তাছাড়া, লেখকের বর্ণণা করবার গুণ অত্যন্ত ভালো, যেটি এখানে প্রায় গল্পেই কম উপস্থিত ছিলো বলে আমার মনে হয়েছে। তাই সামান্য আক্ষেপ আছে।
মর্কট মঞ্জিলের মূল আকর্ষণ ছিলেন আওলাদ মিয়া। আওলাদ মিয়াকে যারা চেনেন তাদের একটা বড় অংশ বিশাল এক্সপেকটেশন রেখে বসে আছে চরিত্রটাকে নিয়ে। তাকে উপস্থিত রেখে 'মর্কট' অর্থাৎ বানর নিয়ে শেষ অদ্ভুত গল্পটা ফেঁদেছেন লেখক। আমি ধারণা করেছিলাম প্রথমের এই ছোটগল্পগুলো সব গুলো এক সুতোয় বাঁধবেন আওলাদ মিয়া। নতুন কোনো গল্প না হোক সেটা, কেন কিভাবে এই অদ্ভুত গল্পগুলো এলো, সেটার পেছনের এক গল্প হবে তা। সেটা হলোনা হয়তো, তবে শেষ গল্পটা হতাশ করেনি একদমই। শেষ কয় পৃষ্ঠায় পাশার দান উলটে গেলো একদম! (আমি যদিও শুরুতেই দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে ফেলেছিলাম। তবে কিভাবে তা চার হয় এটা দেখার জন্য আগ্রহ নিয়ে গল্পটি পড়েছি)
আওলাদ মিয়াকে আরও চাই ছাপার অক্ষরে। কারণ হয়তো বাস্তবের আওলাদ মিয়া আমি নিজেই, যে অতিলৌকিক, চমকপ্রদ গল্প না হোক অন্তত মানুষের ভেতরকার গল্প শুনতে পছন্দ করে!
১২টা ছোট ছোট অতিলৌকিক গল্প এক বইতে। গল্পগুলোতে ভূত-প্রেত, হরর,সাই-ফাই,রহস্য এর চেয়ে বেশি চোখে পড়েছে আমাদের চিরপরিচিত জীবনধারাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন। কবিরাজের ঔষধ, দুই রুমমেটের একই নারীর সাথে প্রেম, ইন্সটাগ্রাম ফ্রিক, পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ডাকাত সর্দার, এরকম প্রতিটা ঘটনাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার মাঝে অস্বাভাবিকতা আছে, ভিন্ন কিছু দৃষ্টিভঙ্গী আছে। আর সেগুলো দিয়ে সুন্দর গল্প সাজানো। কিছু কথা মাথার উপর দিয়ে গেলেও সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে পড়তে।
নিয়াজ মেহেদীর লেখার সাথে পরিচয় 'আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল' বইটির মাধ্যমে। বইটা মুগ্ধ করেছিল। কিছুদিন আগে একটা রিভিউতে সেই পুরনো আওলাদ মিয়ার নতুন গল্পের ব্যাপারে জানতে পারি। সেই তাগিদেই বইটি নিয়েছিলাম। বইটি মূলত ১২ টি ছোট গল্পের সংকলন এবং শেষ গল্প 'মর্কট মঞ্জিল' এর নাম অনুসারে বইটির নামকরণ করা হয়েছে।
'অজানা উড়ন্ত বস্তু' বইটির প্রথম গল্প। পলাশবাড়ির হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার আলতাব হোসেনের একসময় পসার থাকলেও সম্প্রতি তাতে ভাটা পড়েছে। একই এলাকার দর্জি দোকান খোলার ফন্দি-ফিকির করা হরিনারায়ণ নাকি ধন্বন্তরি একটি ওষুধ পেয়েছে এবং রোগীরা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। কোনো ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও অলৌকিক ক্ষমতার জোরে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে হরিনারায়ণ। এদিকে আলতাব ডাক্তারের ছেলের দীর্ঘদিন যাবত জ্বর। নিজের ছেলের চিকিৎসা করেও সুস্থ করতে না পারায়, স্ত্রী তাকে হরিনারায়ণ এর কাছে যেতে বলে। ডাক্তার হয়ে আরেক ডাক্তারের কাছে গেলে কোনো রোগীই আর আসবেনা। কিন্তু বাধ্য হয়েই ছেলের অসুস্থতা ও অলৌকিক ক্ষমতার রহস্য উদঘাটনে সেখানে যায় আলতাব ডাক্তার। তারপর কী হয়?
'আমনুরার নাম রহস্য' গল্পটা বেশ ভালো লেগেছে। লিয়াকত বিল্লাহ নামকরা চোর। এক রাতে বন্ধুর প্ররোচনায় পড়ে গলা পর্যন্ত মদ গিলে বাড়ির গোয়ালে ঘুম ভাঙে। সেই রাতেই খোকা ডিলারের বাড়ি চুরি হয় এবং গোলজার দারোগা লিয়াকতকেই সন্দেহ করে। তবে তাকে এলাকায় থাকার শর্তে গ্রেফতার করেনা দারোগা। সেদিনই গা ঢাকা দিয়ে বন্ধু হরেকেষ্টর বাড়ি বামনডাঙায় চলে যায় লিয়াকত। কিন্তু বাড়িতে হরেকেষ্টকে না পেলেও, বন্ধ���র স্ত্রী সুমতি তাকে আশ্রয় দেয়। ঢেঁকি যেমন স্বর্গে গেলেও ধান ভানে, তেমনি লিয়াকত এখানে এসেও চুরির ফন্দি করতে থাকে। তখন আমনুরা গ্রামে একটি আমবাগানে আম চুরি করতে গাছে উঠে। সেই আম যখন সুমতিকে দেয় লিয়াকত, তখন সুমতি জানতে পারে সেগুলো একটি নির্দিষ্ট বাগানের আম; তখনই সেই আম ফেলে দিতে বলে লিয়াকতকে। কারণ কী এমন আচরণের?
'দুই বন্ধু' গল্প মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের ঘটনা। কুমরগঞ্জের হাটের বগা নাপিত কিষাণ আনোয়ারকে 'ভ্যাল্টা' বলে খেপায়। কারণ আনোয়ার বোকাসোকা হওয়াতে বারবার ঠকে আবার ঠকবাজকে মাফ করে দেয়। আমজাদ চেয়ারম্যানের ভাষায় যা মুক্তিযুদ্ধ, ফজলু মৌলবিরা তাকে বলে গন্ডগোল। সেই মুক্তিযুদ্ধ কিংবা গন্ডগোলের কারণে হাটে ক্রেতা নেই বললেই চলে। বগা ও আনোয়ার যখন বাড়ির পথ ধরবে ঠিক তখনই এক গাড়ি পাকিস্তানি আর্মি হাটে প্রবেশ করে। সকলের সাথে তারাও পালাতে যায়; কিন্তু আনোয়ার অত্যাধিক ভয়ে পালাতে পারেনা। এদিকে বগা বন্ধুকে রেখে যেতে পারেনা এবং ধরা পড়ে যায়। হিন্দুদের তো আর্মিরা দেখামাত্রই গুলি করে হত্যা করে। বগার ভাগ্যে কী লেখা আছে?
'নিরুদ্দেশ' গল্পটা বেশ অভিনব। সামরিক একাডেমিতে ৬ মাসের ট্রেনিং এ আছে তমাল। ফেসবুকে মুনা নামের এক মেয়ের সাথে পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের কখনো সামনাসামনি দেখা হয়নি; আর মাত্র ৩ মাস পরই ট্রেনিং সমাপ্ত করে দেখা হবে মুনার সাথে। হঠাৎ করে একদিন মুনার সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তমাল কোনোভাবেই মুনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনা। তমালের রুমমেট অনিক কিছুদিন যাবত ফোন দেখে মিটিমিটি হাসে। অনিকের আচরণে আগ্রহী হয়ে তমাল কারণ জানতে চায় এবং অনিক জানায় সে প্রেমে পড়েছে। অনিক যখন তার প্রেমিকার বর্ননা দেয়, তখন সেই বর্ননা মুনার সাথে মিলে যায়। তখন কৌতুহলী তমাল অনিককে বলে, সে যেন মুনা ভিডিও কল দিলে তাকে জানায়। ভিডিও কলে মুনা তমালকে অবাক করে দিয়ে চিনতে পারেনা। তমালের বুকে যেন সমুদ্র আছড়ে পড়ে। মুনার এমন আচরণের কারণ কী? সে কি প্রতারণা করেছে তমালের সাথে?
নাম ভূমিকার গল্প 'মর্কট মঞ্জিল'। মর্কট শব্দের অর্থ ক্ষুদ্রাকৃতি বানর। এই গল্পে আমাদের সেই পুরনো আওলাদ মিয়াকে দেখা যায়। যার কিনা গল্প শোনার অনেক শখ। এক বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় আওলাদ মিয়ার বন্ধু আলতাব ডাক্তারের কম্পাউন্ডার আসে হোটেলে। আলতাব ডাক্তারের কাছে অদ্ভুত এক রোগী এসেছে এবং সে একটি গল্প শোনাতে চায়, যা কিনা কখনো কেউ শোনেনি। আওলাদ মিয়ার অদ্ভুত সব গল্পের প্রতি আগ্রহ থাকায় আলতাব ডাক্তার তাকে ডেকে পাঠিয়েছে। ছাতা নিয়ে সেই বৃষ্টির মধ্যেই আলতাব ডাক্তারের চেম্বারে উপস্থিত হয় আওলাদ মিয়া। গিয়ে দেখে একজন ছোটখাটো মানুষ বসে আছে গল্প শোনানোর জন্য। পান খেয়ে গল্প শুরু করে সানোয়ার নামের সেই লোকটি। টাঙ্গাইল জেলার উত্তরে মধুপুর জঙ্গলের এক বানরের প্রেমকাহিনী দিয়ে গল্প শুরু হলেও, গল্পের সমাপ্তি এমনভাবে টানা হয়েছে; যা পাঠককে রোমাঞ্চিত করবে।
সবগুলো গল্পকে নির্দিষ্ট কোনো জনরায় রাখা যাবেনা। অনেকটা ভৌতিক/সাই-ফাই/থ্রিলার ঘরানার বলা যেতে পারে। ৩-৪ টা গল্প বাদে বাকি গল্পগুলো আমার মোটেই ভালো লাগেনি। নাম ভূমিকার গল্পটা দারুণ ছিল। এই গল্পটাই বলতে গেলে বইটিকে জীবন্ত করেছে। গল্প যত ছোটই হোক, লেখকের মুন্সিয়ানা সেটাকে অসাধারণ করে তুলতে পারে। তবে এই বইটাতে দেখা গেল গল্পগুলো পরিপক্কতা পায়নি। 'ইনস্টাগ্রাম' গল্পের এন্ডিংটা ভালো লাগেনি। 'জবদুল হোসেনের জগৎ' গল্পের রহস্যটা লেখক খোলাসা করেছেন তবে সেটা মনঃপুত হলো না। 'অজানা উড়ন্ত বস্তু' গল্পটা শিশুসুলভ গল্পের আকার পেয়েছে। 'জলদানব', 'প্রতিধ্বনি' গল্প দুইটার কনসেপ্ট ভালো তবে সেই অনুযায়ী লেখক এগিয়ে নিতে পারেন নি। 'পয়সা', 'বাঘপীর' এই দুইটি গল্প লোভ ও হিংস্রতার। 'রূপান্তর' গল্পটা পড়তে গিয়ে কাফফার 'মেটামরফোসিস' এর একটা আবহ পাচ্ছিলাম কিন্তু শেষে এসে যেন মাঠে মারা গেল।
বইটাকে আমি খারাপ বলব না। সার্বিকভাবে মধ্যমমানের একটা বই। অদ্ভুত গল্প নিয়ে আগ্রহ থাকলে বইটা পড়ে দেখতে পারেন। শেষ গল্পটার জন্য বইটা আপনার ভালো লেগেও যেতে পারে। হ্যাপি রিডিং।
শেষ হয়েও হইলোনা শেষ। মূলত অতিপ্রাকৃত গল্পের সমন্বয়ে মর্কট মঞ্জিল বইটি। মোট বারোটি গল্প আছে বইতে। প্রতিটা গল্পই দারুণ। সাধারণত গল্পগ্রন্থ পড়ার সময় দেখা যায় বেশ কিছু গল্পই সাদামাটা হয়ে থাকে। তবে এখানে প্রতিটা গল্পই চমকপ্রদ এবং প্রতিটা গল্পেই রয়েছে ট্যুইস্ট। যাদের ছোট গল্প ভালো লাগে তারা বইটা পড়ে ফেলতে পারেন। আশা করি হতাশ হবেন না। তবে গল্পগুলোর মধ্যে ইনস্টাগ্রাম, জবদুল হোসেনের জগৎ, নিরুদ্দেশ, পয়সা, প্রতিধ্বনি আমার কাছে অনেক বেশি নাড়া দিয়ে যাওয়ার মতো মনে হয়েছে। আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল দারুণ লেগেছিল।সেই ভরসায় এই বইটা নিয়ে ছিলাম। হতাশ হইনি।
I like Niaz Mehedi’s writing style because it is simple and nice. But I didn’t feel this book was very special. The stories seemed familiar like the ones our grandparents used to tell us.
The story about the rikshawala is very common and the story of Awlad Mia is something I have heard before. So the book didn’t feel new or surprising to me.
Overall, it is a good and easy book to read, but not extraordinary.
ভূত নাই, তবু অদ্ভুত। এই হলো বইটার ধরণ। অনেক রকম অদ্ভুত ঘটনার সমারোহ। নিয়াজ মেহেদীর লেখার বৈশিষ্ট্য হলো ডিটেইলিং। খুব বেশি শব্দ তিনি খরচ করেন না কিন্তু অল্পের মধ্যেই একটা অবস্থা, অবস্থান বুঝিয়ে দিতে পারেন। গল্প বলার ধরণটা ভালো। গল্প পড়তে যারা পছন্দ করেন তাদের ভালো লাগবে।
A collection of mediocre to bellow average short stories. Except one or two none stood out for me. Kinda disappointed considering how much it costed. XD [yes I'm salty ]
বইটা খুব ভাল লাগলো। প্রতিটা গল্প আলাদা এবং ইন্টারেস্টিং। লেখকের লেখা আগে পড়েছি বলে ঠিক মনে পড়ছেনা। উনার লেখার স্টাইল বেশ অসাধারণ বলে মনে হলো। শেষ গল্পটা একদম চেরি অন টপ। উনার লেখা আরো পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হলো।
১২ টি ছোটগল্পের সমন্বয়ে মিনি সাইজের এই বইটি। গল্পগুলো অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃতিক না বলে অলীক গল্প বলা যায়।
এর মধ্যে কিছু গল্প ছিলো একবারে সংক্ষিপ্ত, যেগুলো শুরু না হতেই শেষ। গল্পগুলো আরো বিস্তৃত হতে পারতো। আবার, কিছু গল্প ছিলো সুখপাঠ্য, শেষটা চমকপ্রদ। যেমন - আমনুরার নাম রহস্য, জবদুল হোসেনের জগৎ, রূপান্তর, মর্কট মঞ্জিল।
অসাধারণ গল্পগ্রন্থ। পরাবাস্তব গল্পই বেশি। অন্য জনরার গল্পও রয়েছে। গল্পগুলো লেখনী দারুণ৷ গল্পগুলো পড়তে মোটেও বেগ পেতে হয়নি। শেষ গল্পটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।
নিয়াজ মেহেদীর বই পড়ার সময় গল্প ভাল লাগলো না লাগলো সেটা নিয়ে বেশি চিন্তা করি না। এই গল্পগ্রন্থের সব গল্প আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তারপরও মনের ভিতর ভাললাগা কাজ করবে। বিভিন্ন জনরার গল্প দিয়ে বইটা সাজানো আর সেই সাথে তার সিগনেচার লেখা। লেখকের থেকে আওয়াদ মিয়ার আরো লেখা চাই।
ফ্লাপ থেকে: আওলাদ মিয়া আবার ফিরেছে তার গল্পের পসরা নিয়ে। পলাশবাড়ির এক বৃষ্টি বিঘ্নিত রাতে হাজির হয় এক উদভ্রান্ত মানুষ। আওলাদ মিয়া ও তার বন্ধুকে শোনায় এক বানরের গল্প। মধুপুরের জঙ্গল থেকে যে হাজির হয়েছে প্রেসিডেন্ট জিয়ার আমলের ঢাকা শহরে। রাস্তায় এক টুকরো রিকশা আর্ট দেখে আওয়ারা হয়ে ফিরছেন রিকশা পেইন্টার জবদুল হোসেন। কে দেবে ওই আর্টিস্টের সন্ধান, হোমিও চিকিৎসক আলতাব হোসেনের ব্যবসা লাটে উঠেছে হাতুড়ে হরিনারায়ণের দাপটে। কী এমন ঔষধের খোঁজ পেয়েছে যে পিল পিল করে লোক জড়ো হচ্ছে তার বাড়িতে, আছে চৌধুরানীর সিঁধেল চোর লিয়াকত, পরিত্যক্ত পীরের মাজারে ঘাঁটি গেড়ে থাকা এক অলৌকিক বাঘ, শাউরিয়ার মেলায় কুড়িয়ে পাওয়া একটা এক টাকার কয়েন, ডাকবাংলোতে গিয়ে আটকে পরা এক যুবক, চলন বিলের রহস্যপুরুষ নিপেল হালদার, ইনস্টাগ্রামের পশ গার্ল সঙ্গীতা, ত্রিমোহনী ঘাটের ডাকাত সর্দার মাকড়া; পুলিশ যাকে কোনোদিন পাকড়াও করতে পারেনি। কিংবা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সুবেদার মেজরের দাড়ি কামাতে বাধ্য হওয়া কুমরগঞ্জের নাপিত বগার দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অদ্ভুত সময়। অথবা একই মেয়ের প্রেমে পরা মিলিটারি একাডেমির দুই ক্যাডেট অফিসারের গল্প। নিয়াজ মেহেদী ফিরেছেন তার প্রিয় বিষয়ে। অতিলৌকিক, অলৌকিক, অতিপ্রাকৃত যাই বলুন। ‘মর্কট মঞ্জিল’ এর বারোটি গল্প পাঠককে রোমাঞ্চিত করবে, ভাবাবে, মানব মনের ওইসব বন্ধ দরজায় কড়া নাড়তে বলবে যেগুলো বন্ধ করে রাখতেই আমরা স্বচ্ছন্দ বোধ করি।
পাঠ্য প্রতিক্রিয়া: বইটিতে মোট ১২টি ছোট গল্প রয়েছে। খুব ভাল লেগেছে বইটি। ছো্ট ছো্ট গল্পগুলি বেশ উপভোগ করেছি। বইটির উৎসর্গ পত্রটিও অনেক ভাল লেগেছে। আমার কাছে সবথেকে ভাল লেগেছে মর্কট মঞ্জিল গল্পটি, বাঁদরের দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজ ব্যবস্থা অনেক উপভোগ করেছি। বিশেষ করে গল্পের শেষের দিকে চমকটি দারুণ ছিল, আমরা যারা আউলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল পড়েছি, তাদের কাছে বইটি আরও বেশি উপভোগ্য হবে।
যারা একটু ব্যতিক্রমধর্মী বই পড়তে চাচ্ছেন, তাদেরকে আমি অবশ্যই বইটি রেকমেন্ড করব।
শুনিয়া রাখ দু’কান খুলে ওহে নারী-নর ডারউইন কিন্তু বলেননি হে- মানুষ ছিল বানর। একই রকম আদি কোষ হইতে উদ্ভব জীবজগতে বিরাজ করি আমরা যত সব। বহু মিলিয়ন বছর ধরে পরিবেশের হয় বদল কেউ বা হয় বিলুপ্ত কেউ থেকে যায় সচল। পরিবেশে তাল মিলাতে কেউ বা পালটে আকার, এক দু-দিনে ঘটেনি এ সব বিবর্তনের ব্যাপার। বানরের যে আদি পুরুষ মানুষের ও তা মানুষ তবে ছিল বানর এ ডাহা মিথ্যা। না পড়িয়া, না জানিয়া ডারউইনকে দেয় গালি, এরাই যদি বানর না হয় বানর কাদের বলি! - চক্রবাক লেখক নিয়াজ মেহেদী'র ১২টি ছোটো গল্পের সমাবেশে মলাটবদ্ধ হয়েছে "মর্কট মঞ্জিল" বইটি। শেষের গল্পের নামকরণে বইটির নাম দেয়া হয়েছে। ১. অজানা উড়ন্ত বস্তু আলতাব ডাক্তার একজন হোমিওপ্যাথ। এককালে রোগী দেখে ভালোই কামাই করত। কিন্তু ইদানিং তার শনির দশা চলছে। নারায়ণবাড়ির হরিনারায়ণের জন্যে তার এই দশা। ডিগ্রি নিয়ে হোমিও চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও মূর্খ হরির সাথে পেরে উঠছে না সে। কী এক ধন্বন্তরি ঔষধ পেয়েছে যা নাকি সর্বোরোগের নিরাময় করে। তাতেই মানুষ পিল পিল করে ছুটে যাচ্ছে হরির কাছে। গভীর রাতে গ্রামবাসীরা উড়ন্ত থালা জাতীয় বস্তু দেখে। যা নারায়ণবাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। কী সেই বস্তু? হরির সর্বোরগ নিরাময়ী ঔষুধের পিছের রহস্য কী? ২.আমনুরার নাম রহস্য চৌধুরানীর সিঁধেল চোর লিয়াকত। মদ খেয়ে রাত কাবার করে বাড়ি ফিরে মুখোমুখী হয় গোলজার দারোগার। খোকা বাড়ির চুরির দায়ে তাকে জেলে যেতে হবে। আদতে যে চুরি সে করেইনি। দারোগাকে অনেক দহরম মহরম করে এ যাত্রায় বেঁচে যায় সে। তবে পালিয়ে চলে যায় বন্ধু হরেকেষ্টর বাড়ি আমনুরায়। সেখানে গিয়ে সন্ধান পায় এক আম বাগানের। আম বাগানকে ঘিরে আছে অভিশাপ। লিয়াকত কি সেই অভিশাপে বিশ্বাস করে? কী হবে তার পরিণতি? আমনুরার নাম কেন আমনুরা হলো? ৩. বাঘপীর রণচন্ডী গ্রামে থিসিস করতে এসে জানতে পারেন "বাঘপীরের মাজার" এর কথা। অলৌলিক ঘটনা জড়িয়ে আছে এই মাজারকে ঘিরে। এখানে পীর যে বাঘ ছিলেন কিংবা বাঘের রূপ ধারণ করতে পারতেন তেমন কোন ঘটনা। এখানে আছে এক অলৌকিক বাঘ। যার সাথে জড়িয়ে আছে ৭১ এর যুদ্ধের এক রোমহর্ষক ঘটনা। ৪. দুই বন্ধু দেশে হাঙ্গামা শুরু হয়েছে, যাকে আমজাদ চেয়ারম্যানের ভাষায় বলে মুক্তিযুদ্ধ আর ফজলু মৌলবিরা বলে গন্ডগোল। নাপিত বগার মন মেজাজ খারাপ। হাটের দিনে যেখানে কুমরগঞ্জ গমগম করে সেখানে আজ সব নিস্তব্দ। ওদিকে কিষাণ আনোয়ারের সেসব নিয়ে চিন্তা নেই। সে দিব্যি থাকে নিজের মতো। বগাকে তার প্রিয় বন্ধু হিসেবে মনে করে। তবে সেটা শু���ু আনোয়ারের পক্ষ থেকেই। হাটের শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুজন মুখোমুখি হয় পাক সুবেদারের। হিন্দু হওয়ায় বগা শিকার হতে নেয় পাক সুবেদারের। কিন্তু বোকা আনোয়ার তাকে বাঁচানোর জন্য সাহসী এক পদক্ষেপ নেয়। আজীবন তুচ্ছ করে আসা আনোয়ারের এই সাহসীকতা বগাকে করে দেয় বাকরুদ্ধ। কী হয়েছিল সেদিন? ৫. ইনস্টাগ্রাম ইনস্টাগ্রামের পশ গার্ল সঙ্গীতা। আধুনিক যুগের নতুন নতুন ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে সে হারিয়ে যায় নেশার জগতে। প্রাক্তনের সাথে ছয় বছরের সম্পর্ক শেষ হয় যাবার এক বছর পর তাকে নিজ বাসায় ডাকে একসাথে মুভি দেখবে বলে। তাও কোনো ব্লকবাস্টার কিংবা সিনেপ্লক্সে নয়, নিজের বাসায়। হঠাৎ কী কারণে সঙ্গীতার এমন ইচ্ছে? এটাও কি নতুন কোনো ট্রেন্ডেরই অংশ? ৬. জবদুল হোসেনের জগত রিক্সা আঁকিয়ে জবদুল হোসেন। সৈয়দপুরের সকলে এক নামে চেনে তাকে। তার মতো রিক্সা আর্ট করে তাকে টেক্কা দেবার কেউ নেই। তবে গণি ওস্তাদ নামে আরেকজন আর্টিস্টের প্রশংসা শুনে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়ায় জবদুল। পেয়েছিল কি তার দেখা? গণি ওস্তাদের ভালো আর্ট করার পি���ে কোন জাদু মন্তর আছে কি? ৭. জলদেব চলনবিলের এক রহস্য পুরুষ নিপেন হালদার। লোকে বলে সে নাকি খালি হাতে মাছ ধরতে পারে। তবে এ কথা বিশ্বাস করতে নারাজ থানার নতুন জয়েন করা অফিসার। তাই স্বচক্ষেই দেখতে যান এই রহস্য পানিচারি নিপেনকে। নিপেন কি সত্যিই পারে পানির নিচে কোন প্রকার জাল, বড়শি ছাড়াই মাছ ধরতে? কিভাবে সে পারে পানির নিচে দীর্ঘ সময় থাকতে? আসলেই কি সে জলদেব? ৮. নিরুদ্দেশ মিলিটারি একাডেমির দুই ক্যাডেট অফিসার প্রেমে পরে এক নারীর। নাম তানজিনা মুনা। একদিন নিরুদ্দেশ হয়ে যায় মুনা নামের মেয়েটি। এতে পাগলপ্রায় হয়ে যায় অনিক নামের ক্যাডেট অফিসার। তবে তমাল নিজেকে ধীরে ধীরে সামলে নেয়। কিন্তু সাত বছর পর এক কনফারেন্সে তমাল তার মুনা রহস্য উদঘাটন করতে পারে। হতবাক হয়ে যায় সে। কি ছিল সেই রহস্য? মুনা কে? কেনই বা মুনা নিরুদ্দেশ হয়ে গেল? ৯. পয়সা শাউরিয়ার মেলায় নাসরিন খুঁজে পেল একটা এক টাকার কয়েন। যা একটা থেকে দুটো হয়ে যায়। টাকা নিয়ে সে বাড়ি ফিরতে থাকে। পথিমধ্যে দেখা হয় এক অজানা ব্যক্তির সাথে। কে সে? টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরা হয়েছিল কি নাসরিনের? ১০. প্রতিধ্বনি অফিস পলিটিক্সের শিকার হয়ে এনায়েত বদলি হয়ে যায়। নতুন ডাকবাংলোয় এসে সে সন্তুষ্ট হতে পারে না। এরমধ্যে রাত বিরাতে সে শুনতে পায় নিজের কথা বা একটু আগে শুনতে থাকা অঞ্জন দত্তের গানের প্রতিধ্বনি। এই প্রতিধ্বনির উৎস কোথায়? কেন বারবার নিজের কথারই রেকর্ড শুনতে পায় সে? ডাকবাংলোর অতিথিশালায় কি তবে আটকা পরে যাবে এনায়েত? ১১. রূপান্তর ডাকাত সর্দার মাকড়া। পুলিশ যাকে কোনদিন পাকড়াও করতে পারেনি। লোকে বলে সে নাকি মাকড়সার আকার ধারণ করতে পারে। তাই পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারে সে। মাকড়ার পাকড়াও না হবার পিছের রহস্য কি আসলেই তার মাকড়সায় রূপান্তর হয়ে যাওয়া? ১২. মর্কট মঞ্জিল ভাদ্র মাসের অনাকাঙ্খিত টানা বর্ষণে আওলাদ মিয়া সহ পলাশবাড়ির সকলে অলস সময় পার করছে। সানোয়ার নামের ব্যক্তি এসেছে গল্প বলতে। গল্প শোনার পাগল আওলাদ মিয়াকে তাই তলব করেছে তার বন্ধু আলতাব হোমিওপ্যাথ। সানোয়ার সাহেবের সেই গল্প কী ছিল? তার গল্পের শেষটা কী ছিল, যাতে সকলেই অবাক হয়ে যায়? টাঙ্গাইল জেলার উত্তরে মধুপুর জঙ্গলের বিতাড়িত বানরের রহস্য কী? পাঠ প্রতিক্রিয়া: লেখক নিয়াজ মেহেদির লেখা আমার পড়া প্রথম বই ছিল "আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল"। বইটা পড়ে আওলাদ মিয়া নামক চরিত্রটাকে আমার বেশ ভালো লাগে। যার রেশ ধরেই "মর্কট মঞ্জিল" বইটা নেয়া। গল্পগ্রন্থ বা গল্প সংকলন পড়তে ব্যক্তিগতভাবে আমার বিশেষ ভালো লাগে না। শুরু হতে হতেই শেষ হয়ে যায় এমন একটা অনুভূতি হয়। তবে ১৬৩পৃষ্ঠার ক্রাউন সাইজের এই বইটি পড়তে খুব একটা খারাপ লাগেনি। ১২টি ছোটো গল্প নিয়ে বইটি রচিত। আমার কাছে সবথেকে ভালো লেগেছে "নিরুদ্দেশ" গল্পটি। শেষের দিকে এসে বেশ ভালো একটা ধাক্কা খেয়েছি। গল্পের শেষে এসে আমার একটা হলিউড মুভির নাম মাথায় এসেছিল। যদিও একদম একইরকম না, তবে আমার মাথায় ঐ মুভির নামটাই ঘুরছিল। নামটা বললে হয়তো এই গল্পের জন্য স্পয়লার হয়ে যাবে। তবে অভিনেতার নাম বলাই যায়। মুভিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিল "𝙹𝚘𝚊𝚚𝚞𝚒𝚗 𝙿𝚑𝚘𝚎𝚗𝚒𝚡." এরপর "জলদেব" গল্পটা মোটামুটি ধরনের লেগেছে। আর অবশ্যই জলদেবকে আমি বারবার "𝒜𝓆𝓊𝒶𝓂𝒶𝓃" ই ভাবছিলাম। "বাঘপীর" গল্পের মুক্তিযুদ্ধের বর্ণনাটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। "ইনস্টাগ্রাম" পড়ার পর মনে হচ্ছিল আসলেই এখনকার প্রযুক্তিনির্ভর আর নতুন নতুন ট্রেন্ড্রের দুনিয়ায় এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক না। মাঝে "Blue Whale" চ্যালেঞ্জ নিয়েও এরকম ঘটনা ঘটেছিল। "দুই বন্ধু" গল্পে বন্ধুত্বের ব্যাপারটা ভালো লেগেছে বেশ। "জবদুল হোসেনের জগত" গল্পের শিক্ষাটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। নিজেকে উন্নত করার জন্য শুধু নিজের ধৈর্য আর শ্রমটাই আসল। "মর্কট মঞ্জিল" গল্পটা প্রেডিক্ট করতে পেরেছিলাম। আরেকটু ভালো আশা করেছিলাম। বাকি গল্পগুলো মোটামুটি ভালো লেগেছে। তবে প্রথম গল্পের আলতাব ডাক্তার আর শেষ গল্পের আলতাব ডাক্তার কি একই মানুষ? আমার কাছে মনে হয়েছে দুইজন এক। ওয়ান টাইম রিড হিসেবে পড়ে নেয়া আয় বইটি। প্রচ্ছদ, মুদ্রণ প্রমাদ: বইয়ের প্রচ্ছদটা ভালোই লেগেছে। তবে বইতে টুকিটাকি বানান ভুল ছিল। ফ্ল্যাপের দিকে "নিপেন" কে "নিপেল" লেখাটা বেশ দৃষ্টিকটু লেগেছে। আশা করছি পরবর্তী সংস্করণে ঠিক করে নেওয়া হবে। বইয়ের প্রোডাকশন এভারেজ লেগেছে।
আপনার জীবন যদি সামান্যতমও বৈচিত্রময় হয়ে থাকে, তাহলে খেয়াল করবেন- চেনাপরিচিত গণ্ডির মাঝে, হয়তো বন্ধু মহলে কিংবা পরিবার আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে এমন একজনকে পাবেন; যিনি গল্প বলায় দারুণ পটু। যার মুখ থেকে একবার শোনা যেকোনো গল্প বারবার শুনতে মন চায়। এমন কী যে ঘটনা-গল্পের আবেদন আপনার কাছে শূন্যের সমান, সেটিও গল্পবাজ সেই মানুষটির মুখে অসাধারণ হয়ে ফুটে ওঠে। ফলস্বরূপ আশপাশের মানুষজন হয়ে যান মনোযোগী শ্রোতা।
আপনার কথা জানি না, কিন্তু আমি শ্রোতার বদলে ওরকমই একজন মনোযোগী পাঠক হয়ে যাই যখন লেখক নিয়াজ মেহেদী’র গল্প পড়তে বসি। শব্দের উপর অসামান্য দখল থাকা এই মানুষটি ছোটগল্পে যে দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, তা যেকোনো পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করতে বাধ্য।
‘আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল’ বইটির বিপুল জনপ্রিয়তার পর লেখক নিয়াজ মেহেদী তার বইয়ের প্রধান চরিত্র আওলাদ মিয়াকে নিয়ে আবার ফিরে এসেছেন। তবে এবার একেবারেই ভিন্ন আঙ্গিকে; ছোটগল্পে। হিস্ট্রি, হরর, থ্রিলার, সাসপেন্স, মিথ, সায়েন্স ফিকশনসহ একাধিক জনরার স্পর্শে লেখা মোট ১২টি গল্প যেন একেকটা রোলার কোস্টার রাইড। যেটাতে ওঠা মাত্রই গল্পগুলোর লৌকিক, অলৌকিক, অতিলৌকিক জগতে হারিয়ে যাবেন। অসাধারণ লেখনশৈলী, ভাষাশৈলী এবং লেখকের দুর্দান্ত গল্প বলার ক্ষমতা বইয়ের মূল আকর্ষণ।
ছোটগল্প লেখার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো- অল্পকথায় পাঠককে আকৃষ্ট করা। এখানে লেখক-পাঠক উভয়েই জানেন, গল্পে বিশদ বর্ণনার অবকাশ নেই। চরিত্রের সাথে পুরোপুরি মিশে যাওয়ার জন্য যতটুকু সময় ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন, সেটাও পাওয়া যাবে না। তাহলে গল্পে কী থাকবে? যা থাকবে তা হলো- নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংক্ষিপ্ত কাহিনি, আবেগ অনুভূতির ঝড়, কতিপয় সমস্যা এবং কখনো-বা তা থেকে নিরসনের চেষ্টা, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, জিঘাংসা, রহস্য, কৌতুহল, জীবন-যাপনের নৈমিত্তিক বিষয়-আশয় ইত্যাদি। বইয়ের প্রতিটি গল্পে এসবের উপস্থিতি ছিল। শুধু ছিল বললে ভুল হবে, শৈল্পিকভাবে তা উপস্থাপিত হয়েছে।
কেমন ছিল বইয়ের গল্পগুলো? না, সবিস্তারে লিখব না। ছোট্ট থেকে ছোট্টতর বর্ণনাতেও স্পয়লার হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। সেক্ষেত্রে দুই-তিন বাক্যে অল্প কয়েকটি গল্প সম্পর্কে বলা যাক, যা পাঠকমনে কৌতুহলের সৃষ্টি করবে।
আহ্লাদিপাড়ার হোমিও চিকিৎসক আলতাব ও নারায়ণবাড়ির কবিরাজ হরিনারায়ণের মধ্যে পেশাগত জীবন নিয়ে উত্থান-পতন চলছে, লোকেমুখে শোনা যায়- হরিনারায়ণ রাতারাতি এক ঔষধ আবিষ্কার করেছেন যা সর্বরোগের নিরাময় করে। অপরদিকে গভীর রাতের আকাশে গ্রামবাসীরা উড়ন্ত থালা জাতীয় বস্তু দেখে যা কী না নারায়ণবাড়ির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঘটনা কী? জানতে হলে পড়তে হবে ‘অজানা উড়ন্ত বস্তু’ গল্পটি।
খোকা বাড়ির চুরির দায়ে এবং গোলজার দারোগার কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে গ্রাম ছাড়তে হয় নামজাদা চোর লিয়াকত’কে। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে পালিয়ে চলে যায় আমনুরা গ্রামে, বন্ধু হরেকেষ্ট’র বাড়িতে। যেখানে সন্ধান মেলে এক অভিশপ্ত আম বাগানের। এরপর কী ঘটে? তা জানা যাবে ‘আমনুরার নাম রহস্য’ গল্পটিতে।
হাটের দিনেও কুমরগঞ্জের মতো লোকসমাগমপূর্ণ এলাকা আজ নিস্তব্ধ। গোটা দেশে হাঙ্গামা শুরু হয়েছে; যা আমজাদ চেয়ারম্যানের ভাষায়- মুক্তিযুদ্ধ। আর ফজলু মৌলবির ভাষায়- গণ্ডগোল। অস্থিতিশীল এই সময়ে নাপিত বগা যখন হিন্দু পরিচয়ে পাক বাহিনির হাতে প্রাণ খোয়াতে বসে, তখন তার বোকা বন্ধু আনোয়ার নিজের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে বগাকে বাঁচাতে উদ্ধত হয়। পুরো ঘটনাটি জানতে হলে পড়তে হবে ‘দুই বন্ধু’ গল্পটি।
লোকে-মুখে শোনা যায় চলন বিলের জলদেব খ্যাত রহস্য পুরুষ নিপেন হালদার না-কি জাল বড়শি ছাড়াই খালি হাতে মাছ ধরতে পারে, ডুব দিয়ে দীর্ঘ সময় থাকতে পারে পানির নিচেও। প্রথমদিকে তা বিশ্বাস না করলেও পরবর্তীতে ঘটনাটি চাক্ষুষ দেখতে সেকেন্ড অফিসার আতিকুল্লাহকে নিয়ে চলন বিলে যান থানায় নতুন জয়েন করা অফিসার। মুখোমুখি হন অদ্ভুত ঘটনার। কী সেটা? সবিস্তারিত মিলবে ‘জলদেব’ গল্পটিতে।
ত্রিমোহনী ঘাটে অদ্ভুত এক ব্যক্তির কথা শোনা যায়, গ্রামবাসীরা তার নাম দিয়েছিল মাকড়া ডাকাত। জনসাধারণের বক্তব্য- বিপদে পড়লে মাকড়া মিয়া মাকড়সার রূপ ধারণ করতে পারে। তখন জল-স্থল-অন্তরীক্ষ কোনোকিছুই তার কাছে বাধা নয়; সংক্ষুব্ধ, গেরস্ত, দলবদ্ধ গ্রামবাসী, অস্ত্রধারী পুলিশ সবার নাগালের বাইরে চলে যায়। এই কিংবদন্তির জন্ম কীভাবে হলো তা কেউ জানে না। কিন্তু যা কিছু রটে, তার কিছু তো ঘটে। সেটারই দেখা মিলবে ‘রূপান্তর’ গল্পে।
পলাশবাড়ির এক বৃষ্টি বিঘ্নিত রাতে হোমিও ডাক্তার আলতাব সাহেবের চেম্বারে হাজির হন এক উদভ্রান্ত মানুষ, নাম সানোয়ার সাহেব। এরপর তাদের সঙ্গে আওলাদ মিয়া যোগ দিলে সানোয়ার সাহেব এক বানরের গল্প শোনান। মধুপুরের জঙ্গল থেকে যে হাজির হয়েছে প্রেসিডেন্ট জিয়ার আমলের ঢাকা শহরে। এরপর গল্পের শাখা-প্রশাখা যত বিস্তৃত হয়, বাস্তবতা-পরাবাস্তবতা তত রহস্যময় হয়ে ওঠে। সেই রহস্যের জট খুলতে চাইলে পড়তে হবে বইটির সবচাইতে বড় গল্প ‘মর্কট মঞ্জিল’।
এছাড়াও বইয়ের অন্যান্য গল্প ‘বাঘপীর’, ‘ইনস্টাগ্রাম’, ‘জবদুল হোসেনের জগৎ’, ‘নিরুদ্দেশ’, ‘পয়সা’ ও ‘প্রতিধ্বনি’ নিজ নিজ স্বকীয়তায় দারুণ ছিল। গল্পগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ, অলৌকিকতা, আধুনিক যুগের প্রযুক্তি সংক্রান্ত নির্মম ঘটনা, স্বপ্ন সাধনার পেছনে ছুটতে থাকা মানুষ, প্রেম-প্রতারণা, জাদু বাস্তবতা, অশরীরী ও ফ্যান্টাসি সম্পর্কিত বিষয়গুলো দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। সেইসাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উত্তরবঙ্গের ভাষা-সংস্কৃতি, সেখানকার জীবন ব্যবস্থা। ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন স্থান, ভিন্ন সময়কাল বর্ণনায় লেখক যে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন; তা প্রতিটি গল্পের আমেজকে করেছে ভিন্ন ও অসাধারণ। দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ এবং বইয়ের প্রোডাকশন বেশ চমৎকার। ক্রাউন সাইজ হওয়াতে হাতে নিয়ে পড়তে বা কোথাও বহন করতেও সুবিধা।
আমি হয়তো জোর দিয়ে বলতে পারবো না প্রতিটি গল্পই আপনার ভালো লাগবে। তবে বইটি পড়া শেষে আপনি ঠিকই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে পারবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষ করে ‘মর্কট মঞ্জিল’ শীর্ষক গল্পটি বহুদিন মনে রাখার মতো একটি গল্প। যারা গল্পগ্রন্থ পছন্দ করেন, তারা সময় করে পড়তে পারেন বইটি। হ্যাপি রিডিং।
হোমিও চিকিৎসক আলতাবের ব্যবসা লাটে উঠেছে হাতুড়ে হরিনারায়ণের দাপটে। কী যেন এক ধনন্তরি দাওয়াইয়ের সন্ধান পেয়েছে সে স্বপ্নে যার বদৌলতে গ্রাম শুদ্ধ লোক চিকিৎসা নিতে ছুটে যাচ্ছে তার ডেরায়।
এদিকে রাত্তিরে আকাশে দেখা যাচ্ছে অদ্ভুত এক গামলা। সেটা কি নিছক লোকের দেখার ভুল নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো রহস্য?
জানতে হলে পড়তে হবে গ্রাম্য পটভূমিতে লেখা সাইফাই "অজানা উড়ন্ত বস্তু"।
সবাই জাতে মাতাল, তালে ঠিক হতে পারে না। হওয়াটা সম্ভবও নয়। এই যেমন লিয়াকত বিল্লাহর কথাই ধরা যাক, মাতাল হলে সে কে, তার পরিচয় কী সেসব ভুলে পরিণত হয় আশ্চর্য এক চিড়িয়ায়। রহস্যময় আমবাগানের সেই অদ্ভুত বাহাত্তরে বুড়োটাই বা কে? এরকম একটা গল্প নিয়েই লেখা "আমনুরার নাম রহস্য"।
বাংলাদেশে পীর-ফকিরের দাপট স্মরণাতীত কাল থেকেই। এসব পীর-ফকিরদের মাজারগুলোকে ঘিরে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে রয়েছে হাজারো অবিশ্বাস্য গল্পের ঝুলি। " বাঘ পীর" এর মাজারেরও আছে এমন একটা গল্প যার সাথে জড়িয়ে আছে দেশের ইতিহাস।
বিপদের মুখে দাঁড়ালেই আসলে বোঝা যায় কার মুরোদ কতটুকু। বিশাল সাহস দেখানো, সাহস নিয়ে বড় বড় বুলি কপচানো লোকেরা বিপদে পড়ে অনেক সময় ভয়ে সিঁটিয়ে যায়। আবার অনেক ভীতু লোকেরা সময়ে সময়ে চরম সাহসের পরিচয় দিয়ে বসে। কে কখন জার করুণার পাত্র হয়ে যাবে তাও আগে থেকে বলা কঠিন...কতকটা নিয়তির পরিহাসও এটা। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি অন্যরকম বন্ধুত্ব বা বন্ধুতে পরিণত হওয়ার গল্প "দুই বন্ধু"।
বহুদিন যোগাযোগ না থাকা এক্স গার্লফ্রেন্ড হঠাৎ মুভি ডেটের আমন্ত্রণ জানিয়ে বসলে কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে একজন ক্যারিয়ারকেন্দ্রিক পুরুষের?
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি ভয়াবহ আসক্তি, অনেকের মাঝে থেকেও কুরে কুরে খাওয়া একাকীত্ব আর ভার্চুয়াল লাইফ কেন্দ্রিক জীবন মানুষকে কী অসুস্থ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে তার উদাহরণ 'ইনস্টাগ্রাম' গল্পটা। এছাড়া মানুষের দায় এড়ানো বা দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলার প্রবণতা মানুষকে কতটা আত্মকেন্দ্রীক আর নির্মম করে তোলে তারও উদাহরণ পাওয়া যায় গল্পে।
স্বীয় সৃষ্টির গর্বে গর্বিত শিল্পী জবদুল হোসেন আচমকা জানতে পারে যে তাঁর চেয়েও বড় এক আর্টিস্ট তার বাড়ির কাছেই থাকেন। কিছুটা কৌতূহল আর কিছুটা ঈর্ষানুভূতি বুকে নিয়ে নানা ঝক্কি-ঝামেলা করে সে হাজির হয় সে শিল্পীর দোরগোড়ায়। আশা ভঙ্গ আর বিস্ময়ের মিশ্র অনুভূতি ছেয়ে ফেলে তার মন। " জবদুল হোসেনের জগৎ " আমাকে কিছুটা কুংফু পান্ডা সিরিযের প্রথম মুভির একটা কথা মনে করিয়ে দিয়েছে," There is no secret ingredient. "
প্রায় দুই যুগ ধরে পুলিশে থাকা পোড় খাওয়া এক অফিসার মামলার সূত্র ধরে পরিচিত হল এক অদ্ভুত লোকের সাথে জলাশয় সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে যার অদ্ভুত দক্ষতা রয়েছে। তার যুক্তিবাদী মন ব্যাপারটা একইসাথে মেনে নিতে না পারলেও একেবারে উড়িয়েও দিতে পারছেনা। এক সত্য-মিথ্যের দোলাচালে আটকে আছে সে। এই অদ্ভুত চরিত্রকে নিয়েই লেখা, 'জলদেব'।
'নিরুদ্দেশ' গল্পটা একজন আত্ম গর্বে গর্বিত সেনা কর্মকর্তার। শুরুতে রোমান্টিক ঘরানার মনে হলেও পরবর্তীতে লেখা যতোই এগিয়েছে, সেটা যথাক্রমে থৃলার, সাইফাই এবং এসপিওনাজে রুপ নিয়েছে।
যৌনতা আর টাকার মাঝে বেশিরভাগ সময়ই টাকা জিতে যায় রেসে। আর জীবন বা ইজ্জতের সাথে টাকার রেসে জীবন। সম্ভবত 'পয়সা' এমনই জিস্ট ধারণ করে বা হয়তো শুধু একটা ঘটনাই এটা।
ডাকবাংলো নিয়ে তো ভুতের গল্প তো সেই কবে থেকেই পড়ে আসা। কিন্তু এটা একটু ব্যতিক্রম। ঠিক ভুতের গল্প গল্প নয় 'প্রতিধ্বনি'। এটাকে ভুতুড়ে গল্প বললে হয়তো ঠিকভাবে বোঝা যাবে।
অতিপ্রাকৃত জীবরাও তাহলে গুজবে কান না দিয়ে পারে না? এটা গ্রাম্য পটভূমিতে লেখা একটি অতিপ্রাকৃত গল্প যা একই সাথে মজার এবং ভয়ানক। বাই দ্য ওয়ে, গুজব যে সবসময় সুবিধে দেয় না, সময়ে স���য়ে ভয়াবহ অসুবিধের কারণ হয়ে দাঁড়ায় 'রুপান্তর' সেটা দেখিয়েছে।
ফিরে এলেন আওলাদ মিয়া। সাথে অবশ্যই একজন নয়া গল্পকথক। গল্পটা মধুপুরের এক বান্দরের যে উন্নততর জীবনের আশায় পাড়ি জমায় শহরে যেখানে সে মুখোমুখি হয় অদ্ভুত সব ঘটনার। সংকলনের সব থেকে কড়া গল্প "মর্কট মন্জিল"।
লেখকের পূর্বের গল্প সংকলন " বিস্ময়ের রাত" এর মতোই এটাও বেশ জমাটি ছিল।তবে ওটাতে সামাজিক বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পেয়েছে আর এটাতে অতিপ্রাকৃত ঘরানার গল্পই বেশিরভাগ। সমাজে নারীর অবস্থান, নিম্ন আয়ের মানুষদের থট প্রসেস, দুনিয়াকে দেখার ভঙ্গি, উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নাক উঁচু স্বভাব,সামাজিক কুসংস্কার উঠে এসেছে গল্পচ্ছলে। একটা কথা প্রায়ই শোনা যায় যে থৃলার গল্পে জীবনের গভীরতা থাকে না। কথাটার অসাড়তা বোঝা টের পাওয়া যায় গল্পগুলো পড়তে গেলে। একটু "আউট অফ দ্য বক্স" গোছের ব্যক্তিত্বের প্রতি লেখকের টান আগের লেখাগুলোতেও পেয়েছি, এবারও পেলাম।
মোট বারোটি গল্পের সমাহার মর্কট মঞ্জিল বইটিতে।সংক্ষেপে যতটুকু সম্ভব গল্পগুলো সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করলাম।
১) অজানা উড়ন্ত বস্তু: আলতাব সাহেবের দিনকাল মন্দ যাচ্ছে কারণ তার পরিচিত সব রোগীরা ছুটে যাচ্ছে হরিনারায়ণের কাছে। সে একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও হরিনারায়ণের মতো দর্জির কাছে সবার ছুটে যাওয়া এবং রোগীর সুস্থ হয়ে ফিরে আসা নিয়ে তার মনে সন্দেহ জাগে। এর মধ্যে গ্ৰামবাসীরা বলাবলি করছে যে আকাশে প্রতিদিন কিছু একটা উড়তে দেখা যায়। আলতাবের বিশ্বাস এই উড়ন্ত বস্তুর সাথে হরিনারায়ণের জাদুকরী চিকিৎসার সংযোগ আছে এবং এই রহস্যের উন্মোচন করেই ছাড়বে সে।
২) আমনুরার নাম রহস্য: লিয়াকত বিল্লাহ গ্ৰামের খাস চোর। চুরি করার অপরাধে তাকে গ্ৰেফতার করতে আসলে সে গা ঢাকা দেয় বন্ধুর গ্ৰামের বাড়িতে। বন্ধুকে না পেয়ে পুরো গ্ৰাম ঘোরার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভাগ্যক্রমে আমগাছ দেখতে পেয়ে তার আম চুরি করার সাধ জাগে। আম চুরি করতে গিয়ে দেখা হয় এক বুড়োর সঙ্গে যার বাড়িতে ছিল সিন্দুক। লোভ সামলাতে না পেরে সে রাতে যায় বুড়োর সিন্দুক চুরি করতে কিন্তু মরণফাঁদ যে তার জন্য প্রস্তুত ছিল।
৩) বাঘপীর: গ্ৰামে কাজে এসেছেন গল্পকথক। মনতাজ মণ্ডল নামের সেখানকার একজন তাকে মাজার দেখাতে নিয়ে যাচ্ছে। পথে যেতে যেতে মনতাজ বলতে লাগলেন মাজারের বিচিত্র সব ইতিহাস।
৪) দুই বন্ধু: বগা নাপিতের মেজাজ খারাপ, পুরো গ্ৰাম খালি মিলিটারির ভয়ে। অন্যদিকে শাক বিক্রেতা আনোয়ারের এসব নিয়ে খুব একটা মাথা ব্যথা নেই। হঠাৎ মিলিটারি প্রবেশ করলো বাজারে, বগার তো ভয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়। অপছন্দ করা পাগলাটে আনোয়ারই শেষমেশ তার প্রাণ রক্ষা করলো।
৫) ইনস্টাগ্রাম: গল্পকথক ও সঙ্গীতার দীর্ঘ সময়ের প্রেম যা এখন নেই। হঠাৎ সঙ্গীতা দেখা করতে বললো। ইনস্টাগ্রামের নানারকম ডেয়ার এ অংশ নেওয়া ছিল সঙ্গীতার পছন্দের কাজ, আজ এ কারণেই পুরানো প্রেমিককে ডাকা।
৬) জবদুল হোসেনের জগৎ: সৈয়দপুরের নামকরা রিকশা পেইন্টার জবদুল হোসেন। একদিন হঠাৎ এক রিকশাচালক তাকে গণি মাস্টারের কথা জানালো, সে নাকি বিরাট মাপের শিল্পী। তাকে খুঁজতে পার্শ্ববর্তী গ্রামে রওনা দেয় জবদুল , যদি সেও গণি মাস্টারের মতো হতে পারে সে আকাঙ্ক্ষায়।
৭) জলদেব: গল্পকথক একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার। সেকেন্ড অফিসার আতিকুল্লাহ তাকে এক অদ্ভুত মানুষের গল্প শোনাতে চাচ্ছে, অদ্ভুত মানুষটির নাম নিপেন, তার বিশেষত্ব হচ্ছে বিনা কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়াই সে মাছ ধরে আনতে পারে। তাকে কেন্দ্র করে গল্পটি।
৮) নিরুদ্দেশ: ফেইসবুকে মুনা নামের এক তরুণীর সাথে গল্পকথকের পরিচয়, তারপর প্রেম। হঠাৎ সে গায়েব হয়ে যায় এবং তারপর জানা যায় তার রুমমেটের সাথে মুনার প্রেম চলছে। সাতটি বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আর্মি অফিসারদের জরুরি মিটিং এ এই মুনার আর্মি অফিসারদের সঙ্গে প্রণয়ের পেছনের রহস্য জানা যায়।
৯) পয়সা: টাকা কুড়ানোর শখ নাসরিনের। মেলায় পড়ে থাকা অর্থ কড়ি সংগ্রহ করাই তার আয়ের উৎস। মেলা থেকে টাকা কুড়িয়ে বাড়ি ফেরত আসার সময় এক লোক তার পথ আটকে রাখে, তার মূল লক্ষ্য কুড়িয়ে পাওয়া টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এটা আসলে কি গল্প কিছুই বুঝলাম না।
১০) প্রতিধ্বনি: এনায়েতের বদলি হলো ঢাকা থেকে মফস্বল শহরে। ডাকবাংলো তে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে তার জন্য। পুরো বাংলোতে বুড়ো এক কেয়ারটেকার বাদে আর কেউ নেই। সন্ধ্যায় খাওয়া দাওয়া করে যখন রাতে সে ঘুমোতে যায়, হঠাৎ ঘুম ভাঙলে সে নিজের সন্ধ্যায় বলা কথাগুলোর প্রতিধ্বনি শুনতে পায়।
১১) রূপান্তর: মাকড়া ডাকাত তার ক্ষীপ্রতা ও চতুরতার জন্য বিখ্যাত। বিপদের গন্ধ পেলেই নাকি সে মাকড়সায় রূপান্তরিত হয়ে পালায় কিন্তু লোক মুখে বলা রুপ নিয়েই সে জীবন শঙ্কায়।
১২) মর্কট মঞ্জিল: আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল আছে। বৃষ্টি হওয়ায় তেমন একটা খদ্দের নেই। তার বন্ধুর বাড়িতে ডাক পড়লো গল্প করার উদ্দেশ্যে। সেখানে আওলাদ মিয়ার বন্ধুর রোগী তাদেরকে গল্প শোনাতে চাচ্ছে। গল্পটি মধুপুরের এক বানরের গল্প।
গল্পগুলোর মধ্যে কোনো বিশেষত্ব নেই, লেখার জন্য লিখে যাওয়া আরকি। আমনুরার নাম রহস্য ও মর্কট মঞ্জিল এই দুটো গল্প বাদে বাকিগুলো এভারেজের তালিকাতেও রাখা যায় না।
বইটা পড়ার আগেই কাভারটা যখন ফেসবুকে ঘুরপাক খাচ্ছিলো,তখনই চোখ আটকে যায়,অসম্ভব ক্লেভার একটা কাভার তাই।তারপর অফিসিয়ালি প্রকাশ পাওয়ার আগেই পড়ে ফেলি😬😬"মর্কট মঞ্জিল" আসলে একটি গল্প সংকলন।লেখকের প্রথম বই "আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল" এ দেখা যায় আওলাদ মিয়া এক গল্পপাগল হোটেল মালিক।বিভিন্ন মানুষ হোটেলে জড়ো করে তাদের গল্পের ঝুলির রস আস্বাদনই তার নেশা।বইয়ের নামগল্পে (গল্প না বলে একে নভেলা বললেই যুক্তিযুক্ত হবে) আওলাদ মিয়া আবার ফিরে এসেছেন,কিন্তু যেহেতু বই পিউরলি আওলাদ মিয়াকে নিয়ে নয় তাই আওলাদ মিয়াকে এখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে বা উপলক্ষ করে একটি গল্প শোনানো হয়েছে।এই নভেলার শুরুতেই প্রচ্ছদের শানেনজুল পাঠকের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। এর বাইরেও ভালো লেগেছে "আমানুরার নাম রহস্য", " রূপান্তর" এবং হাল জেনারেশনের বা মিড টোয়েন্টি ক্রাইসিসে ভোগা মানুষের ভাল্লাগবে "ইন্সটাগ্রাম" (আরো অনেক গল্পই ভালো লেগেছিলো,কিন্তু এত আগে আগে পড়ে ফেলেছি প্রকাশ পাওয়ার যে এখন মনেই করতে পারছিনা)। লেখকের প্রথম গল্প সংকলন "বিস্ময়ের রাত" ও আমার পড়া।তাই পুরোনো পাঠক হিসেবে বলবো যে তখনকার আর এখনকার নিয়াজ মেহেদী লেখক হিসেবে ৫ গুণ বেশি পরিণত। গল্পের মান+প্রচ্ছদ+বইয়ের কিউট ছোট সাইজ-- সব মিলিয়ে কালেকশন পিস হিসেবে রাখার মতো বই।
মাত্রই পড়ে শেষ করলাম বহুল প্রতীক্ষিত "মর্কট মঞ্জিল"। নানা স্বাদের বারোটা গল্প নিয়ে এই বই। লেখকের "আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল" আমার অসম্ভব প্রিয় একটা বই। কাজেই এই বইটার ব্যাপারে যে বেশ আগ্রহ ছিলো তা বলাই বাহুল্য।
মোটের ওপর ভালোই লেগেছে বলবো। সবগুলোর মধ্যে তিনটা গল্প তুলনামূলক বেশি ভালো লেগেছে।
"আমনুরার নাম রহস্য" পড়ে রাতের বেলায় বেশ ভয় পেয়েছিলাম।
"বাঘপীর" মাত্র সাড়ে তিন পৃষ্ঠার, অথচ খুব স্ট্রং একটা গল্প।
"নিরুদ্দেশ" পড়ে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। সাধারণ একটা প্রেম ও প্রতারণার গল্প মনে হলেও এর শেষটা বেশ চমক জাগানিয়া।
শেষ গল্পে এসে আওলাদ মিয়ার একটা ক্যামিও পেয়ে খুশিই হয়েছি।
গোটা দশেক বানান ভুল বাদ দিলে বাদবাকি সব ঠিকই আছে। ওয়ান-টাইম রিড হিসেবে বেশ মানানসই।
পড়ে শেষ করলাম " বুক ফার্ম " থেকে প্রকাশিত " অদ্ভুতুড়ে ভাতের হোটেল " নামক বই এর দ্বিতীয় উপন্যাসিকা " মর্কট মঞ্জিল " , কেমন লাগলো ? হা ভালো তবে কনসেপ্ট টা নতুন নয় | এ রূপ কথার গল্প , এ বিউটি এন্ড বিস্ট এর গল্প , এ ইভোল্যুশন বা বিবর্তন এর কাহিনী | গল্পের শুরু তে যখন হাত মেলানোর সময় , গায়ের জোর বেশি উপলব্ধির জায়গা টা দেবা হয়েছে তখন থেকেই গল্পের বাঁদর কোন গাছে চড়বে কিছুটা আন্দাজ করা যাচ্ছিলো | গল্পের গতি বেশ সুন্দর , সাসপেন্স এ ভরা | এই গল্প আবার মনে করিয়ে দেয় : একজন নারী এর প্রতি আকর্ষণ এক পশু কে মানুষ এ পরিবর্তন করে | পড়ে খারাপ লাগে নি , তবে বার বার পড়বার মতো কিছু নয় , পড়ে সময় ভালো কাটে |
হুট করে শুরু করা বইগুলোর মধ্যে এটার কথা ভালোমতো মনে থাকবে গল্পগুলো দারুণ ছিল রহস্য,অতিপ্রাকৃত,থ্রিল সবকিছুর দারুণ একটা যুগলবন্দী লেখক শুরুতেই লিখে রেখেছিলেন যে,কিছু গল্প পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে।'রূপান্তর' পড়তে গিয়ে সেটা বুঝেছি।কারণ,গল্পটা প্রথম আলোতে পড়েছিলাম। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে 'ছদ্মবেশ' আর 'মর্কট মঞ্জিল' গল্পটা তবে, 'মর্কট মঞ্জিল' এর এক পর্যায়ে আওলাদ মিয়ার মতো আমারও মনে হচ্ছিলো যে, এক বান্দরের কাহিনী পড়ে কী করবো!তবে কিছুদূর পর থেকে গল্প দারুণ মোড় নেয় পরিশেষে,দারুণ একটা বই
১২টা ছোট ছোট অতিলৌকিক গল্প এক বইতে। গল্পগুলোতে ভূত-প্রেত, হরর,সাই-ফাই,রহস্য এর চেয়ে বেশি চোখে পড়েছে আমাদের চিরপরিচিত জীবনধারাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন। কবিরাজের ঔষধ, দুই রুমমেটের একই নারীর সাথে প্রেম, ইন্সটাগ্রাম ফ্রিক, পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ডাকাত সর্দার, এরকম প্রতিটা ঘটনাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার মাঝে অস্বাভাবিকতা আছে, ভিন্ন কিছু দৃষ্টিভঙ্গী আছে। আর সেগুলো দিয়ে সুন্দর গল্প সাজানো। কিছু কথা মাথার উপর দিয়ে গেলেও সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে পড়তে।
আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেলে আবার বসেছে জমজমাট গল্পের আসর। ভিন্ন বয়সী ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের ভিন্ন কিছু মানুষ একত্রিত হয়েছে নিজের জীবনের অতিপ্রাকৃত সব গল্প নিয়ে। গল্পের রেশ থেকে যাবে পড়ার পরেও, গা শিরশিরানি ভাব চলে যেতে যেতেও যাবে না, ভাবতে বাধ্য করবে।
নিয়াজ মেহেদীর ছোট গল্প লেখার হাত বরাবরের মতোই কারিশমা দেখিয়েছে দুই মলাটের বাঁধনে।
ছোটো গল্পের প্রতি আসক্তি আমার বরাবরই ছিলো। এই বইটি সেই আসক্তিকে বেশ সিক্ত করেছে বলা যায়। আমানুরার নাম রহস্য ও মর্কট মঞ্জিল গল্প দুটি সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। বইয়ের ইতিবাচক দিক বলতে গেলে লেখকের গল্প বলার ভঙ্গিমা বেশ ভালো লেগেছে, বিশেষ করে গল্পে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার দারুণ ছিলো। তবে যারা আঞ্চলিক ভাষা পড়তে অভ্যস্ত না তাদের হয়তো ওই বিশেষ অংশগুলো ভালো লাগবে না।