What do you think?


বাসিত জীবন - সৈয়দ হকের সঙ্গে শেষ দিনগুলো
সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের জীবনের শেষ দিনগুলোতে সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী আনোয়ারা সৈয়দ হক। নিজের বাড়ি, ঢাকা ও লন্ডনের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং স্বজনদের গৃহে অসুস্থতার সেই দুঃসহ সময়েও সৈয়দ হকের লেখকসত্তা বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি, কিছুমাত্র ধূসর হয়নি স্মৃতি। স্ত্রীর কাছে তিনি প্রতিদিন বলে গেছেন শিল্প-সাহিত্যের নানা বিষয়, খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিক-দার্শনিকদের লেখালেখির বিভিন্ন প্রসঙ্গ, নিজের বংশকথা, শৈশব-কৈশোর, বেড়ে ওঠা, গড়ে ওঠা ও জীবনযুদ্ধের গল্প। সেসব গল্পকথায় আরও উঠে এসেছে নানা বন্ধু-স্বজনের প্রতি তাঁর মুগ্ধতা এবং পারিবারিক জীবনের আনন্দ-বেদনা ও সংকটের কথা। অসীম ধৈর্য নিয়ে মৃত্যুপথযাত্রী জীবনসঙ্গীর সেবাযত্ন আর চিকিৎসার জন্য ছোটাছুটির মধ্যেও আনোয়ারা সৈয়দ হক ডায়েরিতে লিখে গেছেন রোজকার সেসব কথা আর বিপন্ন দিনলিপি। এ বই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে সৈয়দ শামসুল হকের জীবনের শেষ দিনগুলোর রোজনামচা।
264 pages, Hardcover
First published December 1, 2020
About the author
Anwara Syed Haque
82 books18 followersAnwara Syed Haq is a writer of Bangla literature. She has written a number of novels, short stories, children's books and also written a number of essays. She has been praised for using her knowledge of human psychology beautifully in her writings. She is a psychiatrist by profession.
After completing her SSC and HSC in Jessore, Haq moved to Dhaka in 1959 and enrolled in Dhaka Medical College. She obtained her MBBS degree in 1965. In 1973 went to the United Kingdom for higher education. After having completed her post graduate degree in medical psychiatry in 1982 she returned home from the UK. She has since then worked at a number of institutions, among which are Bangladesh Airforce, Dhaka Medical College and BIRDEM.
Haq's first short story "Paribartan" was published in Sangbad in 1954. From 1955 to 1957, she regularly wrote for Ittefaque's "Kachi Kanchar Ashor". Her first novel was published in Sachitra Shandhani in 1968. After her first novel, she has written a number of novels and short stories. Many of her novels are set in Dhaka and London where she spent much of her time. Her publications consist of twenty-five novels, three volumes of poems, eight collections of short stories, eight collections of essays, three autobiography volumes, two collections of travel writing, forty fictional stories for young readers.
Now she works professionally as a psychiatrist.
After completing her SSC and HSC in Jessore, Haq moved to Dhaka in 1959 and enrolled in Dhaka Medical College. She obtained her MBBS degree in 1965. In 1973 went to the United Kingdom for higher education. After having completed her post graduate degree in medical psychiatry in 1982 she returned home from the UK. She has since then worked at a number of institutions, among which are Bangladesh Airforce, Dhaka Medical College and BIRDEM.
Haq's first short story "Paribartan" was published in Sangbad in 1954. From 1955 to 1957, she regularly wrote for Ittefaque's "Kachi Kanchar Ashor". Her first novel was published in Sachitra Shandhani in 1968. After her first novel, she has written a number of novels and short stories. Many of her novels are set in Dhaka and London where she spent much of her time. Her publications consist of twenty-five novels, three volumes of poems, eight collections of short stories, eight collections of essays, three autobiography volumes, two collections of travel writing, forty fictional stories for young readers.
Now she works professionally as a psychiatrist.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 4 of 4 reviews
October 30, 2025
সৈয়দ হকের বই পড়েছি সামান্য। হাতে গুণে বলা যায়, যেমন : হডসনের বন্দুক(কিশোর উপন্যাস),নিষিদ্ধ লোবান(উপন্যাস),অন্ধ রমজান(গল্প গ্রন্থ)। মাত্র তিনটে! যদিও প্রিয় হতে তিনটে বই লাগে না। একটিই যতেষ্ট! " নিষিদ্ধ লোবান " শেষ করে বুঝেছিলাম,এই সব্যসাচী মানুষটিকে ভালো না বেসে থাকা অসম্ভব।
'নিষিদ্ধ লোবান" পাঠের কিছু দিন পরেই "বাসিত জীবন" হাতে পেয়েছিলাম। পড়া হয়নি। কিন্তু পড়ার ইচ্ছে টা তীব্র ছিল,কারণ সৈয়দ হক আমার প্রিয় লেখকের একজন। অবশেষে সময় সুযোগ মত পড়লাম।
" বাসিত জীবন " কিছু কাল পড়ে পড়লেই বোধ হয় ভালো করতাম। ভীষণ আহত হয়েছি। কারণ এ বইয়ে সৈয়দ হকের অন্তিম সময়ের ধারাপাত করা আছে। যদিও লেখক বেশ দীর্ঘ জীবন পেয়েছেন,তা স্বত্বেও বিদায় সর্বদা বেদনার।
সৈয়দ আনোয়ারা হক, লন্ডনের হাসপাতাল ঘুরে বেড়িয়েছেন, মনে এক টুকরো আশা নিয়ে ; সৈয়দ হক আবার সুস্থ হবেন। আবার চলবে তাঁর সোনার কলম। কিন্তু নিয়তির বিধান খন্ডায় কার সাধ্য! হাজারো চেষ্টা, অগণিত মানুষের ভালোবাসা সব উপেক্ষা করলেন সৈয়দ হক। তিনি চলে গেলেন...
আমি শুধু ভাবছি,ক্যানসারের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে,তীব্র অসুস্থতা নিয়ে,কোন ধরনের রেফারেন্স বই ছাড়া, ছোট্ট একটা প্রকোষ্ঠে বসে, শুধু মাত্র নিজের জ্ঞানকে সম্বল করে কিভাবে একটা মানুষ "হ্যামলেট" এর মত রচনা অনুবাদ করতে পারে! কতটুকু প্রজ্ঞা, ধী শক্তি থাকলে এটা সম্ভব?
অসম্ভব অসুস্থতার মধ্যেও সৈয়দ হকের কলম চলেছে। তিনি হ্যামলেট অনুবাদ করেছেন,কবিতা লিখেছেন,প্রিয়তম মানুষদের লিখেছেন চিঠি। আর নিরন্তর আড্ডা দিয়ে গেছেন তার চিরসখা,প্রিয়তম স্ত্রীর সঙ্গে। সেই আড্ডাতে উঠে এসেছে, বিভিন্ন গল্প,বিভিন্ন স্মৃতি। পড়তে পড়তে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম। একটা ১৮ বছরের কিশোর তার একমাত্র গল্প গ্রন্থের(তাস) জন্য পেয়েছিলেন বাংলা একাডেমি পুরষ্কার, চাট্টি খানি কথা?
শেষের দিকে এসে সৈয়দ হক অন্ধকার সহ্য করতে পারতেন না। সব সময় মানুষের মধ্যে থাকতে চাইতেন। কিন্তু আলো আর থাকে কতক্ষণ! রাতের নগ্ন অন্ধকার কেড়ে নেয় দিনের আলো। সূর্য ডুবে যায়,ডুবে যেতে হয়। সৈয়দ হক চলে গেলেন!
'নিষিদ্ধ লোবান" পাঠের কিছু দিন পরেই "বাসিত জীবন" হাতে পেয়েছিলাম। পড়া হয়নি। কিন্তু পড়ার ইচ্ছে টা তীব্র ছিল,কারণ সৈয়দ হক আমার প্রিয় লেখকের একজন। অবশেষে সময় সুযোগ মত পড়লাম।
" বাসিত জীবন " কিছু কাল পড়ে পড়লেই বোধ হয় ভালো করতাম। ভীষণ আহত হয়েছি। কারণ এ বইয়ে সৈয়দ হকের অন্তিম সময়ের ধারাপাত করা আছে। যদিও লেখক বেশ দীর্ঘ জীবন পেয়েছেন,তা স্বত্বেও বিদায় সর্বদা বেদনার।
সৈয়দ আনোয়ারা হক, লন্ডনের হাসপাতাল ঘুরে বেড়িয়েছেন, মনে এক টুকরো আশা নিয়ে ; সৈয়দ হক আবার সুস্থ হবেন। আবার চলবে তাঁর সোনার কলম। কিন্তু নিয়তির বিধান খন্ডায় কার সাধ্য! হাজারো চেষ্টা, অগণিত মানুষের ভালোবাসা সব উপেক্ষা করলেন সৈয়দ হক। তিনি চলে গেলেন...
আমি শুধু ভাবছি,ক্যানসারের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে,তীব্র অসুস্থতা নিয়ে,কোন ধরনের রেফারেন্স বই ছাড়া, ছোট্ট একটা প্রকোষ্ঠে বসে, শুধু মাত্র নিজের জ্ঞানকে সম্বল করে কিভাবে একটা মানুষ "হ্যামলেট" এর মত রচনা অনুবাদ করতে পারে! কতটুকু প্রজ্ঞা, ধী শক্তি থাকলে এটা সম্ভব?
অসম্ভব অসুস্থতার মধ্যেও সৈয়দ হকের কলম চলেছে। তিনি হ্যামলেট অনুবাদ করেছেন,কবিতা লিখেছেন,প্রিয়তম মানুষদের লিখেছেন চিঠি। আর নিরন্তর আড্ডা দিয়ে গেছেন তার চিরসখা,প্রিয়তম স্ত্রীর সঙ্গে। সেই আড্ডাতে উঠে এসেছে, বিভিন্ন গল্প,বিভিন্ন স্মৃতি। পড়তে পড়তে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম। একটা ১৮ বছরের কিশোর তার একমাত্র গল্প গ্রন্থের(তাস) জন্য পেয়েছিলেন বাংলা একাডেমি পুরষ্কার, চাট্টি খানি কথা?
শেষের দিকে এসে সৈয়দ হক অন্ধকার সহ্য করতে পারতেন না। সব সময় মানুষের মধ্যে থাকতে চাইতেন। কিন্তু আলো আর থাকে কতক্ষণ! রাতের নগ্ন অন্ধকার কেড়ে নেয় দিনের আলো। সূর্য ডুবে যায়,ডুবে যেতে হয়। সৈয়দ হক চলে গেলেন!
February 2, 2024
সৈয়দ শামসুল হকের ভক্ত সেই রক্ত গোলাপ পড়ার পর থেকেই। আনোয়ারা সৈয়দের লেখা পড়া হয় নি কখনো, আগ্রহও হয় নি আসলে। অথচ বাসিত জীবন পড়তে পড়তে মনে হলো, ইনাকেও তো আবিষ্কার করা প্রয়োজন। যে সৈয়দ হকের লেখা আমি ভালোবাসি, সেই সৈয়দ হকের সৈয়দ হক হয়ে উঠায় তাঁর প্রভাবও কম কী!
পাশাপাশি থেকে দীর্ঘ এক জীবন বাস করার শেষ দিনগুলোর বিবরণ পড়তে গিয়ে ফাঁকে ফাঁকে উঠে এসেছে দু'জনের শুরুর দিন গুলোর গল্পও, সাথে সাহিত্য কিংবা রাজনীতিও। চমৎকার লাগছিলো ভাবতে।
বিয়ে নিয়ে প্রায়ই আজকাল একটা ভীতি কাজ করে, সম্পূর্ণ অপরিচিতা কারও সাথে সংসার, দাম্পত্যের দুর্ভাবনা... সফল সুখী দাম্পত্যের, জীবনের গল্পে আজকাল হয়তো ভরসা খুঁজি তাই। সহমর্মি, সমধর্মী আর সমমনা একজন সাথে থাকলে জীবন যাপনের পাশাপাশি মরণের যাত্রাটাও হয়তো কিছুটা স্বস্তির হয়, আনোয়ারা সৈয়দ হক সেই স্বস্তিটাই দিয়েছিলেন তাঁর হেমিংওয়েকে।
পাশাপাশি থেকে দীর্ঘ এক জীবন বাস করার শেষ দিনগুলোর বিবরণ পড়তে গিয়ে ফাঁকে ফাঁকে উঠে এসেছে দু'জনের শুরুর দিন গুলোর গল্পও, সাথে সাহিত্য কিংবা রাজনীতিও। চমৎকার লাগছিলো ভাবতে।
বিয়ে নিয়ে প্রায়ই আজকাল একটা ভীতি কাজ করে, সম্পূর্ণ অপরিচিতা কারও সাথে সংসার, দাম্পত্যের দুর্ভাবনা... সফল সুখী দাম্পত্যের, জীবনের গল্পে আজকাল হয়তো ভরসা খুঁজি তাই। সহমর্মি, সমধর্মী আর সমমনা একজন সাথে থাকলে জীবন যাপনের পাশাপাশি মরণের যাত্রাটাও হয়তো কিছুটা স্বস্তির হয়, আনোয়ারা সৈয়দ হক সেই স্বস্তিটাই দিয়েছিলেন তাঁর হেমিংওয়েকে।
February 22, 2023
১৯৮৮ তে একবার হার্ট অ্যাটাক হয় আর ২০১৬ তে এসে ফুসফুসের ক্যান্সার ধরা পরে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক এর। দু-বারই তাকে লন্ডনে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়, সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডাক্তার ও লেখিকা আনোয়ারা সৈয়দ হক। অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হাসপাতালে ও বাসায় বসে বসে স্ত্রীর সাথে অনেক গল্প করেছেন সৈয়দ হক, নিজের ছেলেবেলার গল্প, সিনেমায় এসিট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করার সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন বারবার, তাঁর গল্পে উঠে এসেছে বিবিসিতে চাকরি করার সময়ের নানা স্মৃতি। অনেক বন্ধুদের কথাও মন খুলে বলেছেন। সেই সবকিছু খুব যত্ন করে লিখে রেখেছিলেন আনোয়ারা সৈয়দ হক। সেইসব স্মৃতিকথা নিয়েই এই বই, সৈয়দ হকের কথা ছাড়াও তাঁর অসুস্থতা ও চিকিৎসা নিয়ে আনোয়ারা সৈয়দ হকের অনেক অনুভূতিও উঠে এসেছে এই বইয়ে।
রেটিংঃ ৩.৫
রেটিংঃ ৩.৫
February 27, 2023
বইটি কবির জীবনের বিপন্ন একটা সময়ের রোজনামচা বলা যায়। সৈয়দ শামসুল হকের জীবনের ক্রান্তিকালে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর আটমাস বেঁচেছিলেন তিনি। দেশে এবং বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় লেখকের সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিলো তার স্ত্রী। তার সাথে নানা কথোপকথন এই বইয়ের গুটি গুটি অক্ষরে ফুটিয়ে তুলেছেন আনোয়ারা সৈয়দ হক। আমি বারবার অবাক হয়েছি কবির স্মৃতির প্রখরতা দেখে। কতটা খেয়ালী হলে পুরোনো স্মৃতির অন্তরালে ঢুকে যেতেন তিনি। স্ত্রীর সাথে ইতিহাস, শৈশব, বংশের নানা কথা, রাজনীতি, লেখালেখির নানা প্রসঙ্গ- এহেন কোনো ব্যাপার নেই যা নিয়ে গপ্পো করতেন না। তাদের দু'জনের বন্ধুসুলভ এই আলাপচারিতার ব্যাপারটা খুব ভালো লেগেছে আমার। সেই সাথে বইটি পড়লে ব্যাক্তি সৈয়দ শামসুল হক-কে আরো কাছ থেকে জানা যায়।
Displaying 1 - 4 of 4 reviews





