সৈয়দ হকের বই পড়েছি সামান্য। হাতে গুণে বলা যায়, যেমন : হডসনের বন্দুক(কিশোর উপন্যাস),নিষিদ্ধ লোবান(উপন্যাস),অন্ধ রমজান(গল্প গ্রন্থ)। মাত্র তিনটে! যদিও প্রিয় হতে তিনটে বই লাগে না। একটিই যতেষ্ট! " নিষিদ্ধ লোবান " শেষ করে বুঝেছিলাম,এই সব্যসাচী মানুষটিকে ভালো না বেসে থাকা অসম্ভব।
'নিষিদ্ধ লোবান" পাঠের কিছু দিন পরেই "বাসিত জীবন" হাতে পেয়েছিলাম। পড়া হয়নি। কিন্তু পড়ার ইচ্ছে টা তীব্র ছিল,কারণ সৈয়দ হক আমার প্রিয় লেখকের একজন। অবশেষে সময় সুযোগ মত পড়লাম।
" বাসিত জীবন " কিছু কাল পড়ে পড়লেই বোধ হয় ভালো করতাম। ভীষণ আহত হয়েছি। কারণ এ বইয়ে সৈয়দ হকের অন্তিম সময়ের ধারাপাত করা আছে। যদিও লেখক বেশ দীর্ঘ জীবন পেয়েছেন,তা স্বত্বেও বিদায় সর্বদা বেদনার।
সৈয়দ আনোয়ারা হক, লন্ডনের হাসপাতাল ঘুরে বেড়িয়েছেন, মনে এক টুকরো আশা নিয়ে ; সৈয়দ হক আবার সুস্থ হবেন। আবার চলবে তাঁর সোনার কলম। কিন্তু নিয়তির বিধান খন্ডায় কার সাধ্য! হাজারো চেষ্টা, অগণিত মানুষের ভালোবাসা সব উপেক্ষা করলেন সৈয়দ হক। তিনি চলে গেলেন...
আমি শুধু ভাবছি,ক্যানসারের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে,তীব্র অসুস্থতা নিয়ে,কোন ধরনের রেফারেন্স বই ছাড়া, ছোট্ট একটা প্রকোষ্ঠে বসে, শুধু মাত্র নিজের জ্ঞানকে সম্বল করে কিভাবে একটা মানুষ "হ্যামলেট" এর মত রচনা অনুবাদ করতে পারে! কতটুকু প্রজ্ঞা, ধী শক্তি থাকলে এটা সম্ভব?
অসম্ভব অসুস্থতার মধ্যেও সৈয়দ হকের কলম চলেছে। তিনি হ্যামলেট অনুবাদ করেছেন,কবিতা লিখেছেন,প্রিয়তম মানুষদের লিখেছেন চিঠি। আর নিরন্তর আড্ডা দিয়ে গেছেন তার চিরসখা,প্রিয়তম স্ত্রীর সঙ্গে। সেই আড্ডাতে উঠে এসেছে, বিভিন্ন গল্প,বিভিন্ন স্মৃতি। পড়তে পড়তে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম। একটা ১৮ বছরের কিশোর তার একমাত্র গল্প গ্রন্থের(তাস) জন্য পেয়েছিলেন বাংলা একাডেমি পুরষ্কার, চাট্টি খানি কথা?
শেষের দিকে এসে সৈয়দ হক অন্ধকার সহ্য করতে পারতেন না। সব সময় মানুষের মধ্যে থাকতে চাইতেন। কিন্তু আলো আর থাকে কতক্ষণ! রাতের নগ্ন অন্ধকার কেড়ে নেয় দিনের আলো। সূর্য ডুবে যায়,ডুবে যেতে হয়। সৈয়দ হক চলে গেলেন!