শুরুতেই বলি, ভয়ের অক্ষরগুলো অলৌকিক তোরোর মলাটে স্থান করেছে নিয়েছে এই বইটায়। বইটি কালো কাপড়ে মুড়ে রাখতে হয় কিনা, বালিশের নিচে রেখে ঘুমানো মানা কিনা, এসব আমরা জানি না। তাই, কোনো ধরনের এক্সপেরিমেন্ট না করাই ভালো। শুধু বলবো, সারা পৃথিবী থেকে পাওয়া ভূত.কম এর সেরা ঘটনা আছে এই বইটায়। এই বইটি হয়তো বুক শেলফে বাকি বইদের ভয় দেখাবে। আসলে সারা পৃথিবীর মতো লোকসাহিত্যের কদর আছে আমাদের দেশেও। শিল্পে, সহিত্যে খুব সাধারণ মানুষ রচনা করেছেন ইতিহাসের এক একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভূত এফএম বা ভূত.কম সাধারণ মানুষের মনের ভাবের পাশাপাশি সেই প্রতিভা দেখানোর জায়গা। ভয়ের ঘটনা শেয়ার করতে গিয়ে তারা হয়তো নিজের অজান্তেই সৃষ্টি করেছেন এক একটি মূল্যবান সাহিত্য। আর তাই, ভূত.কম এর এবারের উদ্যোগ অলৌকিক তেরো। এখানে ভূমিকার ঘটনাটি রাসেলের নিজের। এছাড়াও রয়েছে আরো তেরোটি রক্তহীম করা ঘটনা। যদি ভালো লাগে, ফিরে আসবো আবারো সামনের বইমেলায়। তখন হয়তো পৃথিবী সুস্থ হবে। মার্চে নয়, বইমেলা শুরু হবে শহীদ মিনারের পলাশ ফোটার কালে।
যারা ১৩টি কালো জোনাকি বইটা পড়েছেন বা পড়বেন তাদেরকে অনুরোধ করবো এই বইটি না কেনার জন্য। ২টা বইয়েই ১৩ টা করে গল্প আছে, কিন্তু প্রথম ৮টা গল্প হুবহু এক, যদিও পরের ৫টা গল্প উভয় বইয়েই আলাদা । তবু অর্ধেকের বেশি গল্প এক হওয়ার পরেও ২টা বই কেনার কোনো মানে হয় না, যেকোনো ১টা কেনাই যথেষ্ট। কিন্তু শেষ ৫টি গল্পের উপর ভিত্তি করে বললে আমি বলবো ১৩টি কালো জোনাকির গল্পগুলো বেশি ভয়ের। তবে আমার মতো ভূত এফএম এবং ভূত ডটকমের ভক্ত হলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার।
গল্পগুলো দারুণ ছিল। যদিও গল্প বলাটা ঠিক নয় এগুলো আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সাথে ঘটা অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতা। কিছু টা গা ছমছমে অনুভূতি হয়েছিল বইটি পড়ার সময়। আর জে রাসেল ভাইয়া থেকে আরও এমন দারুণ দারুণ ভৌতিক বই চাই।
ছোটবেলায় আমি নানুর সাথে বেশি ঘুমাতাম। তখন এন্ড্রয়েড ফোন ছিল না। বাটন ফোন ছিল, যেগুলাতে without earphone, Radio চালানো যেত। আমি নানুর বাটন ফোনটা মাথার কাছে রাখতাম এবং রাত ১১:৫৯ মিঃ ফোনটা কাথার নিচে চাপা দিয়ে কাথায় মাথা রেখে গল্প শুনতাম। তখন আমি ক্লাস ৩-৪ পড়ি। আমি সেই সময়ের কথা বলছি যখন, রাসেল ভাইকে ফোন থেকে মেসেজ টাইপ করে পাঠাতে হত।
এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর, আমার পড়ালেখা চাপ বেড়ে যায়, আর আব্বু আম্মুর চাকরির জন্য, সিফট হই অন্য এক শহরে...আর ভূত এফএম শোনা হয় নাই...
এডমিশন পরীক্ষা দিলাম এবছর, পরীক্ষার পর ভাবলাম কিছু বই পড়া দরকার, আর সেটা অবশ্যই ভূতের বই হতে হবে। আমার বাচ্চা মনের আবদার। কয়েকদিন খোজাখুজি করে অবশেষে সন্ধান পেলান রাসেল ভাইয়ের ৪ টি বইয়ের। আমি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারতেছিলাম না, অতঃপর খোঁজা শুরু করি, ফেসবুকের যত পেজ আছে সবগুলোতে নক করে জানতে চাই কেউ ম্যানেজ করে দিতে পারবে কিনা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সবগুলা প্রিন্ট আউট। ভাঙা জীর্ণশীর্ণ মনে বসে ছিলাম, হঠাৎ ফেসবুকের "পড়ুয়া বুকশপ" মেসেজ করে বলে দুইটা বই পাওয়া গেছে, একটা হল "অলৌকিক ১৩" আরেকটি হল "১৩ টি কালো জোনাকি " আমি সময় নষ্ট না করেই অর্ডার করে দি। এবং হাতে পাওয়ার সাথে সাথে পড়া শুরু করে দি।
আহহ, এ যে কী মানসিক শান্তি তা ভাষায় ব্যক্ত করা কঠিন। সবার প্রথমে পড়ি অলৌকিক ১৩। গল্পগুলা সব যেমনটা আমরা রাসলে ভাইয়ের পড়া গল্প শুনতাম একদম ঠিক তেমন। তবে ব্যাকগ্রাইন্ড মিউজিক ছাড়া। বইটায় ১৩ টি গল্প ছিল, যা আমার পড়ে ভাল লাগছে খুব। গল্প গুলা কতটা আপনাকে ভয় দিবে জানিনা৷ কিন্তু এটা সত্যি গল্প গুলা সব সত্যিকারের জীবনে ঘটে যাওয়া সব কাহিনি ,যদিও সত্যি না মিথ্যা সেটা বিচার করার দায়িত্ব রাসেল ভাই আমাদের দিয়েছেন। বইটা আমাকে কিছু সময়ের জন্য হলেও আমাকে আমার সেই ছোটবেলায় নিয়ে যেতে পেরেছিল। জ্বী আমি টাইম ট্রাভেলের কথাই বলছি। Nostalgic একটা অনুভূতি শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে যায়। আর একটা ক্লাসিক লাইন গল্পে পূর্ণতা দেয় "এরপর আমি যা দেখলাম, তা দেখার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না"
ঘটনাগুলো ভালো ছিল তবে,অত্যাধিক টাইপিং মিসটেক এর কারণে বিরক্ত লেগেছে তার চেয়েও বিরক্তিকর এইটার ৮টা গল্পের নাম পরিবতর্ন করে 'তেরোটি কালো জোনাকি'তে দিয়েছে।আলাদা বই-ই যখন প্রকাশ করবে,তাহলে এমন করার যুক্তি বুঝলাম না