ধ্রুব এষ। জন্ম ১৯৬৭। সুনামগঞ্জের উকিলপাড়ায়। বাবা শ্রী ভূপতি এষ। মা শ্রীমতী লীলা এষ। দেশের অপরিহার্য প্রচ্ছদশিল্পী। রঙে, রেখায় কত কিছু যে আঁকেন! গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের প্রচ্ছদ শিল্পের একচ্ছত্র অধিপতি।
এ যাবৎ প্রায় বিশ হাজার প্রচ্ছদ এঁকেছেন। প্রচ্ছদের পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। সব ধরনের লেখাতেই সিদ্ধহস্ত। কী ছোটদের কী বড়দের—সব বয়সি পাঠক তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হন সমানভাবে।
তাঁর লেখায় দেখা-না-দেখা জীবন আর মানুষের এক বিচিত্র সম্মিলন ঘটে যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় পাওয়াকে, না-পাওয়াকে। জীবনের বহুবর্ণিল বাস্তবতাকে নতুন মোড়কে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এই লেখক।
ধ্রুব এষের গল্প বলার ধরনটা বেশ অদ্ভুত। ছোট পরিসরের গল্প, তাতে বর্ণণার চেয়ে সংলাপ বেশি প্রাধান্য পায়। হুট করে শুরু হয়ে আবার হুট করেই শেষ হয়ে যায়। অনেক সময় মনে হয় গল্পটা ঠিক পাঠককে বলা হচ্ছে না, লেখক নিজেকেই একটা গল্প শোনাচ্ছেন।
"পরেশের বউ" নামের অতিপ্রাকৃত কাহিনির এই সংকলনে স্থান পেয়েছে দুটো বড় গল্প: "পরেশের বউ" এবং "শীতাবিবি"। গল্প বলার ধরনের পাশাপাশি ধ্রুব এষের চরিত্রগুলোও অদ্ভুত গোছের হয়। পরেশের বউয়ের মূল চরিত্র পরেশ 'নিউ মুক্তা হেয়ার কাটিং সেলুনের' ক্ষৌরকার। আটচল্লিশ বছরের জীবনকালে সে অনেকবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং প্রতিবারই তার বউ মরে যায়। ঘটনাচক্রে বৃন্দাবন কৈবর্তর গাঁজাখোর মেয়ে শিবানীর সাথে তার বিয়ে হয় এবং তাতেই গল্পের পরিণতি ঘটে। প্রশ্ন ওঠে, শিবানী কি জলের নিচেই থাকল? থার্ড পার্সন ন্যারেটিভে লেখা এই গল্পের শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত অতিপ্রাকৃতের দেখা না মিললেও, একেবারে শেষ পৃষ্ঠায় একটা দম আটকানো অনুভূতি জন্ম নেয়। এখানেই ধ্রুব এষের মূল সার্থকতা।
দ্বিতীয় গল্প "শীতাবিবি" এক মাতাল আর্টিস্টের ফার্স্ট পার্সন ন্যারেটিভে এগোতে থাকে। হঠাৎ এক শীতের রাতে হাটখোলায় বাল্যবন্ধু বিজনের সাথে দেখা হয়ে যায় তার। তীব্র শীতে একটা পাতলা সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট পরে সে বটগাছঅলা শ্মশানঘাট খুঁজতে ঢাকায় এসেছে। এই গল্পতেও প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জুড়ে কোন কাহিনি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে আবারও শেষের দিকে এসে বিজনের গর্ভবতী বউ শিবানীর খাট থেকে পড়ে যাওয়া, মাটিতে ছোট ছোট পায়ের রক্তমাখা ছাপের উপস্থিতি পাঠককে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করবে। তীব্র আতঙ্ক নিয়ে গল্পের শেষ লাইনে এসে আবারও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে কোন বটগাছের ভেতর থেকে শীতাবিবি হাসল?
বইমেলা ২০২৩ এ বইয়ের নাম, প্রচ্ছদ দেখে আগ্রহ নিয়ে বইটা কিনেছিলাম। বইটা নিয়ে বসেছিলাম অতি উৎসাহে, কিন্তু আমি বইটা পড়ে সত্যি হতাশ।
দুটো গল্প আছে, পরেশর বউ আর শীতাবিবি। শুরু করার ২-৩ পাতা পরেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছি। দুটো গল্পই খুবই সাধারণ মানের লেগেছে আমার। "অতিপ্রাকৃত ঘটনা" শুধু প্রচ্ছদেই পেলাম। গল্পের তার স্থান ছিটে-ফোঁটা।