"টাল্টু" নামক মরণনেশা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ব্যুরো অব নার্কোটিক্স অ্যান্ড সাবস্ট্যান্স কন্ট্রোল যেন সরিষার ভেতর ভূত।দুর্ধর্ষ ড্রাগলর্ডরা হাত গুটিয়ে বসে নেই, টাল্টুর প্রসার চালিয়ে যাচ্ছে পুরোদমে। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ক্যালটেকের চাকরি ছেড়ে দেশে চলে এসেছে ইসরাফিল আনসারি ওরফে ডিলান। কী তার উদ্দেশ্য? একের পর এক ড্রাগ পেডলারদের খুন হয়ে যাওয়ার রহস্যের কি আদৌ কোনো কিনারা হবে? রহস্যময় ওস্তাদ, লড়াকু রূপা এদেরই বা কী হবে? ঘাতপ্রতিঘাত, বিশ্বাসঘাতকতা, নাশকতায় পূর্ণ, মৃত্যুর পেলব স্পর্শ-র পরবর্তী অন্ধকার উপাখ্যানে পাঠককে স্বাগতম।
Rafat Shams has spent all of his years in the city of Dhaka. The underbelly of the city always intrigued him and such is reflected in his writing. He goes for a bold, unabashed approach in his writing.
গল্পের প্রধান আকর্ষণ 'ডিলান' ওরফে ইসরাফিল আনসারি। ডিলানের অংশটুকু বাদ দিলে পুরো গল্পটাই ম্যাড়ম্যাড়ে। প্রথম ৭০-৮০ পৃষ্ঠা শুধু চরিত্রগুলোর নিজস্ব ভাবনাচিন্তার প্রতিফলন দেখা দেখা গেছে। কাজের কাজ শুরু হয়েছে ১০০ পৃষ্ঠার পর। কাজ করেছে একমাত্র ডিলান। তা বাদে বাকি সবার কার্যক্রম একদম ডাবল শুন্য। তাছাড়া পুরো গল্পের মধ্যে একটা সিনেমাটিক বা ওভার ড্রামাটিক ভাইব আছে যা আমার কাছে ভীষণ বিরক্তিকর লেগেছে।
ড্রাগলর্ড সিরিজের ইউনিভার্সে খুব ভয়াবহভাবে ঢুকে গেছিলাম। সিরিজের দ্বিতীয় বই 'মৃত্যুরেণু' খুব প্রত্যাশা নিয়েই শুরু করেছিলাম৷ প্রত্যাশা রাখা অনুচিত হয়নি। প্রতিটা চরিত্রের অরিজিন,ফিলোসোফি ভাবিয়ে তুলেছে নতুন করে। চমৎকৃত করেছে গল্পের গাঁথুনি, লেখকের লেখনী। লেখার গতি পাঠককে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে বাধ্য। একটা নতুন ড্রাগ কিভাবে সমাজকে,প্রশাসনকে গলায় দড়ি দিয়ে নাচাতে পারে, অব্যবস্থার চরম পর্যায় কতদূর পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে... পাঠক দুর্নিবার গতিতে পড়ে যেতে বাধ্য হবে প্রতিটি অঘটন। একটাই যন্ত্রনা বইটির, লেখকের ক্লিফ হ্যাঙ্গার। ওটা মেনে নেবার মত ছিল না। তবুও বলতে হয়, এটাই লেখকের সাফল্য, পাঠককে সে এই দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দিতে পেরেছে।
(বইটা নিয়ে রিভিউ দেয়ার আগে এটুকু উল্লেখ করে নেয়া ভাল যে বইটা আমার বন্ধুর লেখা, কিছুটা বায়াসনেস থেকে যেতে পারে কিন্তু চেষ্টা করেছি আনবায়াসড ওপিনিওন দিতে)।
ড্রাগলর্ড সিরিজের ২য় বই মৃত্যুরেণু। দেশে চালু হওয়া নতুন এক ড্রাগ, সেটি বিপনন ও তার সাথে জড়িত ব্যাবসায়ী গোষ্ঠীর সাথে পুলিশ, নার্কোটিক্স ডিপার্টমেন্ট এবং ড্রাগ বিপননকারীদের মধ্যে ঘটনাবলী প্রবাহিত হতে থাকে এর প্রথম পর্বে। মৃত্যু রেণুতে এসে পুরো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর বর্তমান কর্মকান্ডের সাথে সাথে চরিত্রগুলোর অতীতের ও একটু একটু খোলাসা হতে থাকে তবে অবশ্যই পুরো খোলাসা হয়না। তারমানে ৩য় পর্ব আসবে।
এই পর্ব প্রথম পর্বের মত ধুম ধারাক্কা একশন প্যাকড না, তারমানে এইটা না যে একশন নেই। আছে, তবে একশনের চেয়ে বেশি আছে ঘটনাপ্রবাহ, চরিত্রায়ন এবং ডিটেইলড বর্ণনা। আমার ব্যাক্তিগত ধারণামতে লেখকের জাত চেনা যায় বর্ণনায়। দক্ষ লেখকের বইয়ে বর্ণনা মূখ্য ভুমিকা পালন করে। যারা বই থেকে বইয়ের বর্ণনা ফেলে দিয়ে কেবল ঘটনা জানতে চান, আমি তেমন পাঠক নই, সে হিসেবে এই বইয়ের ঘটনা পরম্পরার বর্ণনায় আমার অনুসন্ধিৎসা মিটেছে। বইয়ের আরেকটি শক্তিশালী দিক হল এর চরিত্রায়ন, মূল চরিত্রগুলোর চরিত্রায়ন সুন্দর করে করা হয়েছে এই পর্বে।
প্রথম পর্বে আমার একটু আফসোস ছিল যে বইটা বেশ ছোট হয়ে গেছে। এই বইয়ে সে আফসোস করব না। ২০০ পৃষ্ঠার এই পর্বটি পড়ে মনে হয়েছে একদম পার্ফেক্ট সাইজ, এর চেয়ে ছোট হলে হয়তো ছোট বইয়ের খেতাব দিতে হোত, এর চেয়ে বেড়ে গেলে মেদযুক্ত হয়ে যাবার আশংকা ছিল। এবার আসি লেখনিশৈলীতে। লেখক এবার গুছিয়ে লেখার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি মুন্সীয়ানা দেখিয়েছেন বলে আমার মনে হয়েছে, আমার জন্য কিছুটা আশাতীত ব্যাপার এটা। সাধারণত এত জলদি এত ইম্প্রুভমেন্ট আমার মত সাধারণ পাঠকরা আশা করে না। এই ব্যাপারটা চমৎকার লেগেছে।
২টা নেগেটিভ দিক- কিছু জায়গা সিনেমার মত ওভার ড্রামাটিক লেগেছে (কিন্তু খারাপ লাগেনি।আমি একটু বাস্তব ঘেষা স্টোরিলাইন বেশি পছন্দ করি।)। একটা টুইস্ট আছে যেটা আবার এই ওভার ড্রামার সাথে যায়না, টুইস্টটা কিছুটা বাস্তব ঘেষা। আর প্রচ্ছদটা আরো ভাল করা যেত কিনা এইটা ভেবে দেখা যেতে পারে।