(বইটা নিয়ে রিভিউ দেয়ার আগে এটুকু উল্লেখ করে নেয়া ভাল যে বইটা আমার বন্ধুর লেখা, কিছুটা বায়াসনেস থেকে যেতে পারে কিন্তু চেষ্টা করেছি আনবায়াসড ওপিনিওন দিতে)।
ড্রাগলর্ড সিরিজের ২য় বই মৃত্যুরেণু। দেশে চালু হওয়া নতুন এক ড্রাগ, সেটি বিপনন ও তার সাথে জড়িত ব্যাবসায়ী গোষ্ঠীর সাথে পুলিশ, নার্কোটিক্স ডিপার্টমেন্ট এবং ড্রাগ বিপননকারীদের মধ্যে ঘটনাবলী প্রবাহিত হতে থাকে এর প্রথম পর্বে। মৃত্যু রেণুতে এসে পুরো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর বর্তমান কর্মকান্ডের সাথে সাথে চরিত্রগুলোর অতীতের ও একটু একটু খোলাসা হতে থাকে তবে অবশ্যই পুরো খোলাসা হয়না। তারমানে ৩য় পর্ব আসবে।
এই পর্ব প্রথম পর্বের মত ধুম ধারাক্কা একশন প্যাকড না, তারমানে এইটা না যে একশন নেই। আছে, তবে একশনের চেয়ে বেশি আছে ঘটনাপ্রবাহ, চরিত্রায়ন এবং ডিটেইলড বর্ণনা। আমার ব্যাক্তিগত ধারণামতে লেখকের জাত চেনা যায় বর্ণনায়। দক্ষ লেখকের বইয়ে বর্ণনা মূখ্য ভুমিকা পালন করে। যারা বই থেকে বইয়ের বর্ণনা ফেলে দিয়ে কেবল ঘটনা জানতে চান, আমি তেমন পাঠক নই, সে হিসেবে এই বইয়ের ঘটনা পরম্পরার বর্ণনায় আমার অনুসন্ধিৎসা মিটেছে। বইয়ের আরেকটি শক্তিশালী দিক হল এর চরিত্রায়ন, মূল চরিত্রগুলোর চরিত্রায়ন সুন্দর করে করা হয়েছে এই পর্বে।
প্রথম পর্বে আমার একটু আফসোস ছিল যে বইটা বেশ ছোট হয়ে গেছে। এই বইয়ে সে আফসোস করব না। ২০০ পৃষ্ঠার এই পর্বটি পড়ে মনে হয়েছে একদম পার্ফেক্ট সাইজ, এর চেয়ে ছোট হলে হয়তো ছোট বইয়ের খেতাব দিতে হোত, এর চেয়ে বেড়ে গেলে মেদযুক্ত হয়ে যাবার আশংকা ছিল। এবার আসি লেখনিশৈলীতে। লেখক এবার গুছিয়ে লেখার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি মুন্সীয়ানা দেখিয়েছেন বলে আমার মনে হয়েছে, আমার জন্য কিছুটা আশাতীত ব্যাপার এটা। সাধারণত এত জলদি এত ইম্প্রুভমেন্ট আমার মত সাধারণ পাঠকরা আশা করে না। এই ব্যাপারটা চমৎকার লেগেছে।
২টা নেগেটিভ দিক- কিছু জায়গা সিনেমার মত ওভার ড্রামাটিক লেগেছে (কিন্তু খারাপ লাগেনি।আমি একটু বাস্তব ঘেষা স্টোরিলাইন বেশি পছন্দ করি।)। একটা টুইস্ট আছে যেটা আবার এই ওভার ড্রামার সাথে যায়না, টুইস্টটা কিছুটা বাস্তব ঘেষা। আর প্রচ্ছদটা আরো ভাল করা যেত কিনা এইটা ভেবে দেখা যেতে পারে।
৩য় পর্বের অপেক্ষায় আছি।
#boikothareadndiscuss