What do you think?


প্রিয়তম অসুখ সে
বিকেলের দিকে হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি নামল। হৃদি তখন খোলা মাঠে একটা শুকনো খড়ের গাদার ওপর বসেছিল। যতদূর চোখ যায়, কোথাও কেউ নেই। কেবল ধুধু ফসলের মাঠ। মাঠের পাশে নদী। নদীর বুকে শব্দ। সেই শব্দে নুপূরের ছন্দ তুলে নেমে এল বৃষ্টি। হৃদি তটস্থ গলায় বলল, ‘এখন ? এখন কী হবে ?’
‘কী হবে ?’
‘এই যে বৃষ্টি চলে এল।’
‘তাতে কী ?’
‘আমি এই ভেজা শাড়িতে ফিরব কী করে ?’
‘ফিরতে হবে না।’ বলে হৃদির বুকের কাছে এগিয়ে গেল অনিক। তারপর দুহাতে আঁকড়ে ধরল তাকে। বলল, ‘তোমার কাজল ধুয়ে যাচ্ছে।’
হৃদি কথা বলল না। অনিকের এই কথা, এই কণ্ঠস্বর, নদী, মাঠ, বৃষ্টি সবই তার ভালো লাগছে। কিন্তু এখান থেকে ফেরার চিন্তা তাকে আড়ষ্ট করে রাখল। অনিক হঠাৎ তার ঘাড়ের কাছের ভেজা চুলে নাক ডুবিয়ে দিল।
তারপর ফিসফিস করে বলল,
‘বৃষ্টি এলেই তোমার চুলে খানিক ভুলে গন্ধ নেব
তোমার ঠোঁটেই খুঁজব নেশা, নিকোটিনটা বন্ধ দেব
বেহিসেবি হাটবাজারে ছেড়েই দেব দামাদামি
বৃষ্টি এলেই বদলে যাব, আবার হব তোমার আমি।’
হৃদি কথা বলল না। সে টলমল চোখে তাকিয়ে রইল। সূর্য লুকিয়েছে অনেক আগেই। মেঘলা আকাশও যেন আগেভাগেই দিনের যবনিকা টেনে দিচ্ছে। কিন্তু হৃদির চোখে, মুখে, বুকে জ্বলে রইল আশ্চর্য দ্যুতিময় এক আলো!
সন্ধ্যার অন্ধকারের সাধ্য কী সেই আলো নেভায় ?
‘কী হবে ?’
‘এই যে বৃষ্টি চলে এল।’
‘তাতে কী ?’
‘আমি এই ভেজা শাড়িতে ফিরব কী করে ?’
‘ফিরতে হবে না।’ বলে হৃদির বুকের কাছে এগিয়ে গেল অনিক। তারপর দুহাতে আঁকড়ে ধরল তাকে। বলল, ‘তোমার কাজল ধুয়ে যাচ্ছে।’
হৃদি কথা বলল না। অনিকের এই কথা, এই কণ্ঠস্বর, নদী, মাঠ, বৃষ্টি সবই তার ভালো লাগছে। কিন্তু এখান থেকে ফেরার চিন্তা তাকে আড়ষ্ট করে রাখল। অনিক হঠাৎ তার ঘাড়ের কাছের ভেজা চুলে নাক ডুবিয়ে দিল।
তারপর ফিসফিস করে বলল,
‘বৃষ্টি এলেই তোমার চুলে খানিক ভুলে গন্ধ নেব
তোমার ঠোঁটেই খুঁজব নেশা, নিকোটিনটা বন্ধ দেব
বেহিসেবি হাটবাজারে ছেড়েই দেব দামাদামি
বৃষ্টি এলেই বদলে যাব, আবার হব তোমার আমি।’
হৃদি কথা বলল না। সে টলমল চোখে তাকিয়ে রইল। সূর্য লুকিয়েছে অনেক আগেই। মেঘলা আকাশও যেন আগেভাগেই দিনের যবনিকা টেনে দিচ্ছে। কিন্তু হৃদির চোখে, মুখে, বুকে জ্বলে রইল আশ্চর্য দ্যুতিময় এক আলো!
সন্ধ্যার অন্ধকারের সাধ্য কী সেই আলো নেভায় ?
360 pages, Hardcover
First published February 1, 2022
About the author
Sadat Hossain
41 books389 followersSadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015. Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 10 of 10 reviews
June 20, 2025
সাদাত হোসাইনের শেষ বইটা পড়েছিলাম অন্দরমহল যা আমার খুব একটা ভাল লাগে নি। এই বইটা শুরু করার আগেও বেশ বিভ্রান্তিতে ছিলাম যে পড়া শুরু করবো কি না কারণ একে তো বইটা প্রায় ৪০০ পেজের তার উপর আমি আবার এক বই শেষ করলে ওইটা শেষ না করে উঠতে পারি না এখন সেটা যত বাজে বই ই হোক না কেনো। তবে এই বইটার শেষটার জন্য বলতে হচ্ছে যে না তেমন একটা বাজে সময় কাটে নি।
বইটার কাহিনী মূলত অনেক গুলো চরিত্র নিয়ে। মাঝ বরাবর অবধি ক্লাসিক সাদাত হোসাইনের বই মনে হলেও এর পর থেকেই শুরু হয়েছে একের পর এক টুইস্ট। সব ডট যখন একের পর এক মিলে যাচ্ছিল কি যে শান্তি লাগছিল।
যেহেতু আমার ফেভারিট জনরা হচ্ছে থ্রিলার তাই শেষের দিকে খুবই ভালো লেগেছে বইটা। লেখক খুবই সুন্দর ভাবে এতোগুলো চরিত্র সমান ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রথমে কাহিনী একদমই এক ঘেয়ে লাগলেও শেষটা খুবই দারুন।
বইটার কাহিনী মূলত অনেক গুলো চরিত্র নিয়ে। মাঝ বরাবর অবধি ক্লাসিক সাদাত হোসাইনের বই মনে হলেও এর পর থেকেই শুরু হয়েছে একের পর এক টুইস্ট। সব ডট যখন একের পর এক মিলে যাচ্ছিল কি যে শান্তি লাগছিল।
যেহেতু আমার ফেভারিট জনরা হচ্ছে থ্রিলার তাই শেষের দিকে খুবই ভালো লেগেছে বইটা। লেখক খুবই সুন্দর ভাবে এতোগুলো চরিত্র সমান ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রথমে কাহিনী একদমই এক ঘেয়ে লাগলেও শেষটা খুবই দারুন।
December 30, 2022
সমকালীন গল্প ও থ্রিলার রহস্যের এর অদ্ভুত মেলবন্ধন দেখলাম এই বইটিতে। গল্পে প্রেম, বিরহ, সম্পর্কের উথান পতন, মনোজগতে দোলাচাল যেমন আছে তেমনি আছে রহস্য, কুটকৌশল, খুন, উত্তেজনা, রহস্য উন্মোচন।
কাহিনি সংক্ষেপ:
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া জুটি অনিক ও হৃদি বিয়ে করে ফেলে গোপনে। হঠাৎ এক রহস্যজনক দূর্ঘটনায় মারা যায় অনিকের বাবা। অনিক টের পায় পরিবারের অভাব অনটন দূর করার জন্য তার বাবা হয়ত কোন অবৈধ কাজে যুক্ত হয়েছিল। কোন একটা ঘটনায় তার বাবার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। কিন্তু দরিদ্র অনিকের পক্ষে তার বাবার মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করার মত অর্থ বা সময় কোনটাই ছিল না। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ব্যায় এর ব্যাবস্থা করতেই বেকার অনিককে গলদঘর্ম হতে হয়। এর প্রভাব পরে তার ও হৃদির সম্পর্কেও। যদিও হৃদি অনিকের দুর্বল অবস্থানের কথা আগে থেকেই জেনেই তার সাথে থাকার জন্য সংকল্প বদ্ধ ছিল তারপরও বাস্তবতা ধিরে ধিরে দুজনের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। এর মাঝে হৃদির জীবনে আসে তার বাবা মায়ের পছন্দ করা প্রবাসী ছেলে নেহাল। সুদর্শন ও প্রতিষ্ঠিত নেহাল খুব সহজে মিশে যায় হৃদির পরিবারের সাথে। পাত্তা না দিতে চাইলেও একসময় নিজের ব্যাক্তিত্ব ও ভালোবাসার জাদুতে সে জায়গা করে নেয় হৃদির মনেও। হৃদি নেহালের প্রতি আরো দুর্বল হয়ে যায় তার অসুস্থ বাবার মৃত্যুর সময়টায়। নিজের মাকে নিয়ে ব্যাস্ত অনিকের অনুপস্থিতিতে হৃদির
পরিবারের পাশে দাড়িয়ে তার আস্থা অর্জন করে নেয় নেহাল। মায়ের অনবরত তাগাদা ও নিজের মনোজগতের দোলাচালে একসময় হৃদি ভাবতে থাকে অনিককে বিয়ে করা তার ভুল হয়েছে। মনকে বুঝিয়ে নিয়ে অনিকের কাছে ডিভোর্স চায় সে। জীবন যুদ্ধে ক্রমশ পরাজিত হতে থাকা অনিক মেনে নেয় হৃদির ইচ্ছা। দিয়ে দেয় ডিভোর্স। তার মায়ের মৃত্যূ ও হৃদির বিয়ে হয় একই দিনে।
প্রত্যন্ত এক গ্রামাঞ্চলে খুব গোপনে গড়ে উঠেছে বিষাক্ত সাপের খামার। উদ্দেশ্য সাপের বিষ সংগ্রহ করে হীন উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে পাচার। দায়িত্বে আছে জমসেদ নামে এক নিষ্ঠুর ব্যাক্তি। তার কাজে সাহায্য করার জন্য রয়েছে লালচান নামে ঢাকার নীলক্ষেতের এক লেপ তোষক ব্যাবসায়ি। বিষ পাচারের বড় একটা চক্রের একটা অংশ তারা। লালচানের দোকানে কাজ করা কিশোর রাশু সামিল হয় এই চক্রে। ঘটনাক্রমের বিষের একটা চালান হারিয়ে ফেলার অপরাধে লালচানকে খুন করে জমসেদ। ওই চালানটা আসলে হারিয়ে গেছে রাশুর দোষেই। হারিয়ে যাওয়া সাপের বিষ ফিরে পাবার জন্য রাশুর কর্মকান্ড গল্পে আনে নতুন মোড়। পাল্টে দেয় অন্যান্য চরিত্রগুলোর ভাগ্য।
হৃদির খালাতো বোন অবন্তি। গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে ভর্তি হয় হৃদির বিশ্ববিদ্যালয়েই। হৃদিদের বাড়িতে তার আসা যাওয়া ছিল। হৃদির বিয়ের পর একদিন হৃদির রুমে থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে কেউ। সন্দেহ গিয়ে গড়ায় অনিকের উপর। পুলিশ ভাবে হয়ত অনিক প্রতিহিংসা বশত হৃদি ভেবে গুলি করেছে অবন্তিকে। ভয় পেয়ে গা ঢাকা দেয় অনিক। প্রফেসর মাহমুদ যার ছেলেকে অনিক টিউশন পড়ায় তারই পরামর্শক্রমে অনিক গিয়ে লুকায় সেই প্রত্যন্ত গ্রামের সাপের খামারে। ওখানে গিয়ে সম্মুখিন হয় একের পর এক বিভৎস কিছু ঘটনার। সে তার বাবার মৃত্যূর সাথে যোগসুত্র খুজে পায় ওই খামার ও তার পেছনের পাচার কার্যক্রমের। একদিকে পুলিশ আরেকদিকে এই দুর্বৃত্তরা। দিশেহারা অনিক এখন।
ওদিকে বিয়ের পর নেহালের সাথে হানিমুনে বিদেশে গিয়ে হৃদি দেখতে পায় নেহালের আরেক রুপ। ভদ্রতার আড়ালে নেহালের অবৈধ কর্মকান্ডের কথা জেনে ফেলে সে। পরিনামের তার উপর নেমে আসে ভয়ানক অত্যাচার। নেহালের কবল থেকে মুক্তি পেতে আকূল হয়ে ওঠে সে। দেশ থেকে হৃদির মা বোনও তার চিন্তায় অস্থির। কিছু একটা যে ঠিক নেই তারাও টের পেয়েছে। অবন্তির ডানপিটে বান্ধবী রিয়া হঠাৎ নিখোঁজ। পুলিশের সন্দেহ অনিক সহ এখন অবন্তির পুরোনো প্রেমিক মঈনের উপর। সুদর্শন ব্যাক্তিত্যবান বিবাহিত প্রফেসর মাহমুদের সাথে রিয়ার গোপন সম্পর্কের কারনে সন্দেহ গড়ায় তার উপরেও। তদন্তকারি পুলিশ অফিসার আবছার আহমেদের সামনে একের পর এক রহস্যের প্যাচ। একটা প্যাচ খুলতে না খুলতেই আরেকটা জটিল ঘটনা ঘটেই চলেছে।
হবে কি এই রহস্যগুলোর সমাধান? অনিক কি পারবে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে? মানুষরুপি শয়তান নেহালের কবল থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে হৃদি? অবন্তিুর বিছানার তোষেকের ভেতর সাপের বিষ ভরা শিশিগুলো এলো কোথা থেকে? কে খুন করতে চায় তাকে এবং কেনো? রিয়ার অন্তর্ধানের পেছনে কে দায়ি? তবে কি সব রহেস্যের সমাধান লুকিয়ে আছে সেই সাপের খামার ও তার পেছনের লোকগুলোর সাথে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
বইটি অর্ধেক পর্যন্ত সম্পর্কের ভাঙ্গা গড়া, চরিত্রগুলোর পরিচিতি নিয়েই মুলত লেখা। তারপর থেকে শুরু হয়েছে টুইস্ট। গুম, খুন ও রহস্যের বেড়াজালে চরিত্রগুলোর জড়িয়ে পরা খুব চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখক। গল্পের এই অংশ থেকে থ্রিলারপ্রিয় পাঠকরাও চমকে উঠবেন বার বার। শুরুর দিকটায় ধীর হলেও পরের দিকে প্রত্যেকটা অধ্যায়ই পেজ টার্নিং। শেষের দিকে মূল কালপ্রিটের পরিচয় প্রকাশ পাবার পাঠক আঁতকে উঠবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে গল্পটা শেষ হয় একরাশ বিষাদ নিয়ে। যা পাঠক হৃদয়কে করবে ভারাক্রান্ত। ব্যাক্তিগত রেটিং ৮/১০।
কাহিনি সংক্ষেপ:
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া জুটি অনিক ও হৃদি বিয়ে করে ফেলে গোপনে। হঠাৎ এক রহস্যজনক দূর্ঘটনায় মারা যায় অনিকের বাবা। অনিক টের পায় পরিবারের অভাব অনটন দূর করার জন্য তার বাবা হয়ত কোন অবৈধ কাজে যুক্ত হয়েছিল। কোন একটা ঘটনায় তার বাবার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। কিন্তু দরিদ্র অনিকের পক্ষে তার বাবার মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করার মত অর্থ বা সময় কোনটাই ছিল না। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ব্যায় এর ব্যাবস্থা করতেই বেকার অনিককে গলদঘর্ম হতে হয়। এর প্রভাব পরে তার ও হৃদির সম্পর্কেও। যদিও হৃদি অনিকের দুর্বল অবস্থানের কথা আগে থেকেই জেনেই তার সাথে থাকার জন্য সংকল্প বদ্ধ ছিল তারপরও বাস্তবতা ধিরে ধিরে দুজনের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। এর মাঝে হৃদির জীবনে আসে তার বাবা মায়ের পছন্দ করা প্রবাসী ছেলে নেহাল। সুদর্শন ও প্রতিষ্ঠিত নেহাল খুব সহজে মিশে যায় হৃদির পরিবারের সাথে। পাত্তা না দিতে চাইলেও একসময় নিজের ব্যাক্তিত্ব ও ভালোবাসার জাদুতে সে জায়গা করে নেয় হৃদির মনেও। হৃদি নেহালের প্রতি আরো দুর্বল হয়ে যায় তার অসুস্থ বাবার মৃত্যুর সময়টায়। নিজের মাকে নিয়ে ব্যাস্ত অনিকের অনুপস্থিতিতে হৃদির
পরিবারের পাশে দাড়িয়ে তার আস্থা অর্জন করে নেয় নেহাল। মায়ের অনবরত তাগাদা ও নিজের মনোজগতের দোলাচালে একসময় হৃদি ভাবতে থাকে অনিককে বিয়ে করা তার ভুল হয়েছে। মনকে বুঝিয়ে নিয়ে অনিকের কাছে ডিভোর্স চায় সে। জীবন যুদ্ধে ক্রমশ পরাজিত হতে থাকা অনিক মেনে নেয় হৃদির ইচ্ছা। দিয়ে দেয় ডিভোর্স। তার মায়ের মৃত্যূ ও হৃদির বিয়ে হয় একই দিনে।
প্রত্যন্ত এক গ্রামাঞ্চলে খুব গোপনে গড়ে উঠেছে বিষাক্ত সাপের খামার। উদ্দেশ্য সাপের বিষ সংগ্রহ করে হীন উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে পাচার। দায়িত্বে আছে জমসেদ নামে এক নিষ্ঠুর ব্যাক্তি। তার কাজে সাহায্য করার জন্য রয়েছে লালচান নামে ঢাকার নীলক্ষেতের এক লেপ তোষক ব্যাবসায়ি। বিষ পাচারের বড় একটা চক্রের একটা অংশ তারা। লালচানের দোকানে কাজ করা কিশোর রাশু সামিল হয় এই চক্রে। ঘটনাক্রমের বিষের একটা চালান হারিয়ে ফেলার অপরাধে লালচানকে খুন করে জমসেদ। ওই চালানটা আসলে হারিয়ে গেছে রাশুর দোষেই। হারিয়ে যাওয়া সাপের বিষ ফিরে পাবার জন্য রাশুর কর্মকান্ড গল্পে আনে নতুন মোড়। পাল্টে দেয় অন্যান্য চরিত্রগুলোর ভাগ্য।
হৃদির খালাতো বোন অবন্তি। গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে ভর্তি হয় হৃদির বিশ্ববিদ্যালয়েই। হৃদিদের বাড়িতে তার আসা যাওয়া ছিল। হৃদির বিয়ের পর একদিন হৃদির রুমে থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে কেউ। সন্দেহ গিয়ে গড়ায় অনিকের উপর। পুলিশ ভাবে হয়ত অনিক প্রতিহিংসা বশত হৃদি ভেবে গুলি করেছে অবন্তিকে। ভয় পেয়ে গা ঢাকা দেয় অনিক। প্রফেসর মাহমুদ যার ছেলেকে অনিক টিউশন পড়ায় তারই পরামর্শক্রমে অনিক গিয়ে লুকায় সেই প্রত্যন্ত গ্রামের সাপের খামারে। ওখানে গিয়ে সম্মুখিন হয় একের পর এক বিভৎস কিছু ঘটনার। সে তার বাবার মৃত্যূর সাথে যোগসুত্র খুজে পায় ওই খামার ও তার পেছনের পাচার কার্যক্রমের। একদিকে পুলিশ আরেকদিকে এই দুর্বৃত্তরা। দিশেহারা অনিক এখন।
ওদিকে বিয়ের পর নেহালের সাথে হানিমুনে বিদেশে গিয়ে হৃদি দেখতে পায় নেহালের আরেক রুপ। ভদ্রতার আড়ালে নেহালের অবৈধ কর্মকান্ডের কথা জেনে ফেলে সে। পরিনামের তার উপর নেমে আসে ভয়ানক অত্যাচার। নেহালের কবল থেকে মুক্তি পেতে আকূল হয়ে ওঠে সে। দেশ থেকে হৃদির মা বোনও তার চিন্তায় অস্থির। কিছু একটা যে ঠিক নেই তারাও টের পেয়েছে। অবন্তির ডানপিটে বান্ধবী রিয়া হঠাৎ নিখোঁজ। পুলিশের সন্দেহ অনিক সহ এখন অবন্তির পুরোনো প্রেমিক মঈনের উপর। সুদর্শন ব্যাক্তিত্যবান বিবাহিত প্রফেসর মাহমুদের সাথে রিয়ার গোপন সম্পর্কের কারনে সন্দেহ গড়ায় তার উপরেও। তদন্তকারি পুলিশ অফিসার আবছার আহমেদের সামনে একের পর এক রহস্যের প্যাচ। একটা প্যাচ খুলতে না খুলতেই আরেকটা জটিল ঘটনা ঘটেই চলেছে।
হবে কি এই রহস্যগুলোর সমাধান? অনিক কি পারবে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে? মানুষরুপি শয়তান নেহালের কবল থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে হৃদি? অবন্তিুর বিছানার তোষেকের ভেতর সাপের বিষ ভরা শিশিগুলো এলো কোথা থেকে? কে খুন করতে চায় তাকে এবং কেনো? রিয়ার অন্তর্ধানের পেছনে কে দায়ি? তবে কি সব রহেস্যের সমাধান লুকিয়ে আছে সেই সাপের খামার ও তার পেছনের লোকগুলোর সাথে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
বইটি অর্ধেক পর্যন্ত সম্পর্কের ভাঙ্গা গড়া, চরিত্রগুলোর পরিচিতি নিয়েই মুলত লেখা। তারপর থেকে শুরু হয়েছে টুইস্ট। গুম, খুন ও রহস্যের বেড়াজালে চরিত্রগুলোর জড়িয়ে পরা খুব চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখক। গল্পের এই অংশ থেকে থ্রিলারপ্রিয় পাঠকরাও চমকে উঠবেন বার বার। শুরুর দিকটায় ধীর হলেও পরের দিকে প্রত্যেকটা অধ্যায়ই পেজ টার্নিং। শেষের দিকে মূল কালপ্রিটের পরিচয় প্রকাশ পাবার পাঠক আঁতকে উঠবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে গল্পটা শেষ হয় একরাশ বিষাদ নিয়ে। যা পাঠক হৃদয়কে করবে ভারাক্রান্ত। ব্যাক্তিগত রেটিং ৮/১০।
March 18, 2022
বাসায় না জানিয়ে অনিক আর হৃদি বিয়ে করেছে। ঐ দিকে হৃদির মা প্রতিষ্ঠিত ছেলে ঠিক করেছে হৃদির জন্য। হটাত করে "মারা" গেলে অনিকের বাবা, মায়ের শরীর যাচ্ছে যাচ্ছে করতে করতে চলেও গেল, পক্কাত।
পথিমধ্যে বাবা-মা হারিয়ে অনিক যখন অকুল পাথারে, হৃদি ঠুস করে বিয়ে করে ফেলল প্রতিষ্ঠিত ছেলেকে, চলে গেল বার্লিন মধুচন্দ্রিমায়। গিয়েই উপলব্ধি করতে পারলো ফাটা বাঁশের চিপায় পরে গেছে। ব্যথায় আওয়াজ করতে পারে না, কষ্ট তেব্র। তেব্র এই যন্ত্রণার নাম "প্রিয়তম অসুখ সে"।
পথিমধ্যে বাবা-মা হারিয়ে অনিক যখন অকুল পাথারে, হৃদি ঠুস করে বিয়ে করে ফেলল প্রতিষ্ঠিত ছেলেকে, চলে গেল বার্লিন মধুচন্দ্রিমায়। গিয়েই উপলব্ধি করতে পারলো ফাটা বাঁশের চিপায় পরে গেছে। ব্যথায় আওয়াজ করতে পারে না, কষ্ট তেব্র। তেব্র এই যন্ত্রণার নাম "প্রিয়তম অসুখ সে"।
Read
March 22, 2022এই উপন্যাসে একটি ভুল তথ্য দেয়া আছে। এই বইতে দাবী করা হয়েছে আফ্রিকান মাগুর মাছ মানুষ খেয়ে ফেলে।
বইয়ের ৬১ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছেন –“জামশেদ হাসলেন। বললেন,'এইগুলাও ভয়ংকর কম না। আস্ত মানুষ ছেড়ে দিলে উঠে আসার চান্স কম৷খেয়ে সাফ করে ফেলবে।“
পৃষ্ঠা নম্বর ২৬০ এ আপনি লিখেছেন, “ঝাঁকে ঝাঁকে রাক্ষুসে জীব (আফ্রিকান মাগুর) যেন রক্তমাংসের গন্ধে উন্মাদ হয়ে গেছে। লাল চানের মৃত শরীরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা।“
পৃষ্ঠা নম্বর ২৭৯ এ বলা হয়েছে –“মাছগুলো(আফ্রিকান মাগুর) এখন শান্ত চুপচাপ। কিছুদিন আগেই যে এখানে একটা আস্ত মানুষকে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়েছে, তা বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় নেই।“
বইয়ের ৩১৩ নম্বর পৃষ্ঠায় বলেছেন – “রাশু তার(জামশেদের) শরীরটা ধাক্কা দিয়ে পাশের ডোবায়(আফ্রিকান মাগুরভর্তি ডোবা) ফেলে দিল। ততক্ষণে অন্ধকার নেমে এসেছে। সেই অন্ধকারে জামশেদের ভয়ানক আর্তচিৎকার বড় কানে বিঁধল৷তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই চিৎকার ঢেকে গেল পচা জলের বুজে জেগে ওঠা তীব্র জলকেলির শব্দে।“
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আফ্রিকান মাগুর তো মানুষ খায় না। আমি আপনার বইয়ে দেয়া তথ্যের রেফারেন্স চাইছি।
নিচে আমার বক্তব্যের স্বপক্ষে কিছু প্রমাণঃ
https://www.practicalfishkeeping.co.u...
ইউটিউবের লিংকঃ
https://m.youtube.com/watch?v=tWrOVVj...
বইয়ের ৬১ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছেন –“জামশেদ হাসলেন। বললেন,'এইগুলাও ভয়ংকর কম না। আস্ত মানুষ ছেড়ে দিলে উঠে আসার চান্স কম৷খেয়ে সাফ করে ফেলবে।“
পৃষ্ঠা নম্বর ২৬০ এ আপনি লিখেছেন, “ঝাঁকে ঝাঁকে রাক্ষুসে জীব (আফ্রিকান মাগুর) যেন রক্তমাংসের গন্ধে উন্মাদ হয়ে গেছে। লাল চানের মৃত শরীরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা।“
পৃষ্ঠা নম্বর ২৭৯ এ বলা হয়েছে –“মাছগুলো(আফ্রিকান মাগুর) এখন শান্ত চুপচাপ। কিছুদিন আগেই যে এখানে একটা আস্ত মানুষকে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়েছে, তা বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় নেই।“
বইয়ের ৩১৩ নম্বর পৃষ্ঠায় বলেছেন – “রাশু তার(জামশেদের) শরীরটা ধাক্কা দিয়ে পাশের ডোবায়(আফ্রিকান মাগুরভর্তি ডোবা) ফেলে দিল। ততক্ষণে অন্ধকার নেমে এসেছে। সেই অন্ধকারে জামশেদের ভয়ানক আর্তচিৎকার বড় কানে বিঁধল৷তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই চিৎকার ঢেকে গেল পচা জলের বুজে জেগে ওঠা তীব্র জলকেলির শব্দে।“
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আফ্রিকান মাগুর তো মানুষ খায় না। আমি আপনার বইয়ে দেয়া তথ্যের রেফারেন্স চাইছি।
নিচে আমার বক্তব্যের স্বপক্ষে কিছু প্রমাণঃ
https://www.practicalfishkeeping.co.u...
ইউটিউবের লিংকঃ
https://m.youtube.com/watch?v=tWrOVVj...
October 4, 2022
৪.৫
একটি কাহিনির সাথে আরেকটি কাহিনির প্যাচ বেশি ছিলো। এই জটিলতা আরো কম থাকলে ৫ দিতাম।
একটি কাহিনির সাথে আরেকটি কাহিনির প্যাচ বেশি ছিলো। এই জটিলতা আরো কম থাকলে ৫ দিতাম।
March 9, 2023
খুব সুন্দর, খুব মন খারাপি, খুব আনন্দের, খুব যন্ত্রণার।
Read
May 12, 2023বেশি ভালো লাগে নি।কিন্তু কিছু কিছু লাইন ছিলো যা মারাত্মক রকমের সুন্দর!
May 4, 2026
দারুন প্লট।
March 3, 2022
Wonderful one
February 17, 2026
সে এসে বসুক পাশে, যেভাবে অসুখ আসে,
তারপর হয়ে যাক যন্ত্রণা অনায়াসে।
তবুও আসুক সে,
জানুক, প্রিয়তম অসুখ সে।
◼️ কাহিনী সংক্ষেপ -
প্রণয় থেকে গোপনে পরিণতির পথে যাওয়ার পর হৃদির মনে হয় অনিকের সাথে সম্পর্কটা বয়ে নেওয়া সম্ভব না। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি ভালো থাকা। তাই আলো ঝলমলে জীবনের হাতছানিতে হৃদি অনিকের সাথে কাটানো অন্ধকার জীবন থেকে হাতটা ছেড়ে দেয়। অপরদিকে, দারিদ্রতা, বাবার মৃ ত্যুর, মায়ের অসুস্থতা, হৃদির প্রস্থান, খু নে র দায় সবকিছু মিলিয়ে দিশেহারা জীবন কাটাতে থাকে অনিক।
শহরের বুক থেকে কিছুটা দূরে মাছের খামারের আড়ালে চাষ করা হয় সাপ। সাপ যতোটা ভয়ংকর তার থেকে দামী সাপের বিষ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিবাচক কারণে সাপের বিষের ব্যাপার চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশে ব্যক্তিগতভাবে এর চাষ করা বেআইনি। এসবের পেছনে থাকা জমসেদ যেনো সাপের মতোই ভয়ংকর এক মানব। চালচান, রাসু, অনিক, প্রসেসর, রিয়া কিংবা অবন্তী সকলের জীবনে কোথাও গিয়ে এক সুতোয় বেঁধে যায়। সজ্ঞানে কিংবা অজান্তে ভয়ংকর এক খেলায় মেতে যাওয়া এতো গুলো জীবনের শেষ পরিণতি কি হবে?
◼️ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা -
আমি সঠিক জানি না তবে আমার মনে হয়েছে অনিক এবং হৃদির সম্পর্কের সমীকরণ দিয়ে লেখক হয়তো বোঝাতে চেয়েছে যারা ভালো কিছু পাওয়ার আশায় পুরনো মানুষকে ছেড়ে যায় তারা আসলে ভালো থাকতে পারে না। তবে আমার মনে হয়, ভালোবাসা যদি একটা গাছ হয় তবে যত্ন, আস্থা, ভরসা হলো সেই গাছের শেকড়। শেকড় ছাড়া গাছ যেমন বাঁচে না তেমনি শুধু ভালোবাসা থাকলেই যত্ন, ভরসা এগুলো ছাড়া সম্পর্ক বাঁচে না। অনিক হয়তো তখন কঠিন সময়ে ছিল কিন্তু হৃদিও একেবারে ভালো সময়ে ছিল না এটা জানা। অথচ হৃদিকে নিজের সাথে রাখার কোনো প্রচেষ্টাই দেখতে পাইনি। দুঃসময়ে ভরসার হাত পেলে সেই হাত লুফে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে খুব কম মানুষ। শুরুতে হৃদিকে আমি দোষী ভাবলেও পরে মনে হয়েছে পুরোপুরি দোষ হৃদিকেও দেওয়া যায় না। সবসময় বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা সবার থাকে না, অনিকের হয়তো একটু চেষ্টা করার প্রয়োজন ছিল।
পুরো উপন্যাস চলেছে দুটো অবস্থান নিয়ে। বিষের জগত এবং এর বাইরের জগত। শুরুতে মনে হয়েছিল এই দুটোর যোগসূত্র কোথায়? কেনো এতক্ষণ ধরে চলছে এসব। কিন্তু শেষে গিয়ে পরপর এতো গুলো টুইস্ট ছিল আমি আশা করিনি। শুরু থেকে নিজস্ব গতিতে এগিয়েছে তবে শেষ গিয়ে গল্পের মোড় বদলেছে প্রত্যাশিতভাবে। বিশেষ কিছু চরিত্র আমাকে অবাক করেছে।
শুরুর দিকে ঘটনা এগিয়েছে ধীরভাবে। চরিত্রগুলোর মনোভাব সবকিছু আলোচনা করা হয়েছে বিস্তারিতভাবে। সবার থেকে অবন্তীকে আলাদা এবং ভালো লেগেছে আমার কাছে। তবে রিয়া ও প্রফেসরের কাহিনীগুলো পড়তে চূড়ান্ত বিরক্ত হয়েছি। নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে সহজ ভাষায় পরকিয়া কতোটা উচ্ছ্বাসের হতে সেটাই যেনো দেখিয়েছে দুজন।
বললাম না কিছু চরিত্র শেষে অবাক করেছে। পুরো বইয়ের মেইন আকর্ষনই শেষ অংশ। সমাপ্তি কিছুটা প্রত্যাশিত এবং অপ্রত্যাশিত মিলেই হয়েছে। তবে খেয়াল করে দেখলাম লেখক তার প্রায় সব বইয়ের সমাপ্তিই বিষাদে ভরা রাখার চেষ্টা করেছে। বইয়ে ছোট ছোট কিছু কবিতা ছিল, উপন্যাসের থেকে সেগুলো আমি বেশি উপভোগ করেছি। চরিত্রগুলো এক পর্যায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলেও এক সময় আবার নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে। গল্পের অতিরঞ্জিত ঘটনা বা দৃশ্যপট ছিল না। বাস্তবতার আলোকেই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
◼️ পরিশেষে -
উপন্যাসের মূল প্লট যদি বইয়ের অর্ধেক পৃষ্ঠার সমান হয় তবে ফিলোসফির কথা দিয়ে ভর্তি বাকি অর্ধেক বই। পারিপার্শ্বিক অতিরিক্ত বর্ণনা এবং ফিলোসফির আলোকে প্রত্যেকটা চরিত্রের মনোভাব তুলে ধরার প্রয়োজন দেখি না আমি। এই বিষয়গুলো ছাঁটাই করে বইটা আরো ছোট করে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যেতো। ফিলোসফির অতিরিক্ত বর্ণনায় আমি অবশ্য প্রচুর বিরক্ত হয়েছি। তবে যাদের এই ধরণের লেখা পছন্দ তারা পড়তে পারেন অনায়াসে।
◼️ বই পরিচিতি -
বই: প্রিয়তম অসুখ সে
লেখক: সাদাত হোসাইন
প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ
জনরা: সমকালীন উপন্যাস
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬০
মুদ্রিত মূল্য: ৬০০
রিভিউ : জান্নাতুল ফেরদৌসী রুনা
তারপর হয়ে যাক যন্ত্রণা অনায়াসে।
তবুও আসুক সে,
জানুক, প্রিয়তম অসুখ সে।
◼️ কাহিনী সংক্ষেপ -
প্রণয় থেকে গোপনে পরিণতির পথে যাওয়ার পর হৃদির মনে হয় অনিকের সাথে সম্পর্কটা বয়ে নেওয়া সম্ভব না। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি ভালো থাকা। তাই আলো ঝলমলে জীবনের হাতছানিতে হৃদি অনিকের সাথে কাটানো অন্ধকার জীবন থেকে হাতটা ছেড়ে দেয়। অপরদিকে, দারিদ্রতা, বাবার মৃ ত্যুর, মায়ের অসুস্থতা, হৃদির প্রস্থান, খু নে র দায় সবকিছু মিলিয়ে দিশেহারা জীবন কাটাতে থাকে অনিক।
শহরের বুক থেকে কিছুটা দূরে মাছের খামারের আড়ালে চাষ করা হয় সাপ। সাপ যতোটা ভয়ংকর তার থেকে দামী সাপের বিষ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিবাচক কারণে সাপের বিষের ব্যাপার চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশে ব্যক্তিগতভাবে এর চাষ করা বেআইনি। এসবের পেছনে থাকা জমসেদ যেনো সাপের মতোই ভয়ংকর এক মানব। চালচান, রাসু, অনিক, প্রসেসর, রিয়া কিংবা অবন্তী সকলের জীবনে কোথাও গিয়ে এক সুতোয় বেঁধে যায়। সজ্ঞানে কিংবা অজান্তে ভয়ংকর এক খেলায় মেতে যাওয়া এতো গুলো জীবনের শেষ পরিণতি কি হবে?
◼️ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা -
আমি সঠিক জানি না তবে আমার মনে হয়েছে অনিক এবং হৃদির সম্পর্কের সমীকরণ দিয়ে লেখক হয়তো বোঝাতে চেয়েছে যারা ভালো কিছু পাওয়ার আশায় পুরনো মানুষকে ছেড়ে যায় তারা আসলে ভালো থাকতে পারে না। তবে আমার মনে হয়, ভালোবাসা যদি একটা গাছ হয় তবে যত্ন, আস্থা, ভরসা হলো সেই গাছের শেকড়। শেকড় ছাড়া গাছ যেমন বাঁচে না তেমনি শুধু ভালোবাসা থাকলেই যত্ন, ভরসা এগুলো ছাড়া সম্পর্ক বাঁচে না। অনিক হয়তো তখন কঠিন সময়ে ছিল কিন্তু হৃদিও একেবারে ভালো সময়ে ছিল না এটা জানা। অথচ হৃদিকে নিজের সাথে রাখার কোনো প্রচেষ্টাই দেখতে পাইনি। দুঃসময়ে ভরসার হাত পেলে সেই হাত লুফে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে খুব কম মানুষ। শুরুতে হৃদিকে আমি দোষী ভাবলেও পরে মনে হয়েছে পুরোপুরি দোষ হৃদিকেও দেওয়া যায় না। সবসময় বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা সবার থাকে না, অনিকের হয়তো একটু চেষ্টা করার প্রয়োজন ছিল।
পুরো উপন্যাস চলেছে দুটো অবস্থান নিয়ে। বিষের জগত এবং এর বাইরের জগত। শুরুতে মনে হয়েছিল এই দুটোর যোগসূত্র কোথায়? কেনো এতক্ষণ ধরে চলছে এসব। কিন্তু শেষে গিয়ে পরপর এতো গুলো টুইস্ট ছিল আমি আশা করিনি। শুরু থেকে নিজস্ব গতিতে এগিয়েছে তবে শেষ গিয়ে গল্পের মোড় বদলেছে প্রত্যাশিতভাবে। বিশেষ কিছু চরিত্র আমাকে অবাক করেছে।
শুরুর দিকে ঘটনা এগিয়েছে ধীরভাবে। চরিত্রগুলোর মনোভাব সবকিছু আলোচনা করা হয়েছে বিস্তারিতভাবে। সবার থেকে অবন্তীকে আলাদা এবং ভালো লেগেছে আমার কাছে। তবে রিয়া ও প্রফেসরের কাহিনীগুলো পড়তে চূড়ান্ত বিরক্ত হয়েছি। নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে সহজ ভাষায় পরকিয়া কতোটা উচ্ছ্বাসের হতে সেটাই যেনো দেখিয়েছে দুজন।
বললাম না কিছু চরিত্র শেষে অবাক করেছে। পুরো বইয়ের মেইন আকর্ষনই শেষ অংশ। সমাপ্তি কিছুটা প্রত্যাশিত এবং অপ্রত্যাশিত মিলেই হয়েছে। তবে খেয়াল করে দেখলাম লেখক তার প্রায় সব বইয়ের সমাপ্তিই বিষাদে ভরা রাখার চেষ্টা করেছে। বইয়ে ছোট ছোট কিছু কবিতা ছিল, উপন্যাসের থেকে সেগুলো আমি বেশি উপভোগ করেছি। চরিত্রগুলো এক পর্যায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলেও এক সময় আবার নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে। গল্পের অতিরঞ্জিত ঘটনা বা দৃশ্যপট ছিল না। বাস্তবতার আলোকেই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
◼️ পরিশেষে -
উপন্যাসের মূল প্লট যদি বইয়ের অর্ধেক পৃষ্ঠার সমান হয় তবে ফিলোসফির কথা দিয়ে ভর্তি বাকি অর্ধেক বই। পারিপার্শ্বিক অতিরিক্ত বর্ণনা এবং ফিলোসফির আলোকে প্রত্যেকটা চরিত্রের মনোভাব তুলে ধরার প্রয়োজন দেখি না আমি। এই বিষয়গুলো ছাঁটাই করে বইটা আরো ছোট করে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যেতো। ফিলোসফির অতিরিক্ত বর্ণনায় আমি অবশ্য প্রচুর বিরক্ত হয়েছি। তবে যাদের এই ধরণের লেখা পছন্দ তারা পড়তে পারেন অনায়াসে।
◼️ বই পরিচিতি -
বই: প্রিয়তম অসুখ সে
লেখক: সাদাত হোসাইন
প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ
জনরা: সমকালীন উপন্যাস
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬০
মুদ্রিত মূল্য: ৬০০
রিভিউ : জান্নাতুল ফেরদৌসী রুনা
Displaying 1 - 10 of 10 reviews










