সখীপুরের জিন্দারকের চর। সখীপুরের মানুষের মতে এ এমন জায়গা যেখানে নিজের জীবনের প্রতি মায়া আছে সে কখনও পা দিতে যাবে না এই রহস্যময় ভৌতিক জিন্দারকরে চরে। এমনি এক জায়গায় হুট করে আশ্রয় নিলো এক অগোছালো পাগলাটে আগন্তুক। যে আসার পরপরই সখীপুরে শুরু হলো একের পর এক ভূমিকম্প, সখীপুরের মানুষ দেখতে শুরু করলো অদ্ভুত এক স্বপ্ন। তাকে খুঁজতে সখীপুরে পা দিলো এক সাংবাদিক যুবক, একটাই উদ্দেশ্য তার বাঁধা দিতে হবে তাকে, না হলে পৃথিবীর অস্তিত্ব পড়বে সংকটে।
অধ্যাপক সুব্রামানিয়াম আন্দামান দ্বীপে গবেষণার কাজে গিয়েই আবিষ্কার করলেন অদ্ভুত এক নাস্তিক নৃগোষ্ঠী। অথচ ফিরে এসেই করলেন আত্মহত্যা, এদিকে বিখ্যাত আরেক গবেষক ডা. সিলভার হন্য হয়ে উঠেছে তারই শেষ গবেষণাপত্রের জন্য, যা তিনি লিখেছেন আন্দামান থেকে ফিরে এসেই । যেখানে এমন কিছু আছে যা বদলে দিতে পারে পৃথিবীর মানবজাতির সূচনালগ্নের ইতিহাস। ডেকে আনতে পারে ধ্বংস, এবং কি কেড়ে নিতে পারে জীবনও।
বইটা যখন পড়ছিলাম তখন বইয়ের গল্পটা কসমিক হরর জনরার হলেও গল্পের কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে হয়েছে সায়েন্স ফিকশনের উপদানের স্বাদ পাচ্ছি। এছাড়াও প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত লেখকের গল্প বর্ণনাটা ছিলো খুবই পরিপক্ব। অল্প চরিত্রে লেখক চমৎকার একটা গল্প তুলে এনেছেন। যেখানে দোহা, শমীক দাশগুপ্ত, মোস্তফা চাচা এসব চরিত্রগুলো নিয়ে লেখক যেভাবে অল্প চরিত্রে অল্প পৃষ্ঠাতে এতো পরিপূর্ণ গল্পকে তুলেছেন যে, পড়ে খুব ভালো লেগেছে। তবে শেষের দিকে এসে মনে হয়েছে কিছু বিষয় নিয়ে আরো ব্যাকস্টোরি থাকলে ভালো হতো। এই যেমন জিন্দারকের চর, এবং শেষটাতে আরো কিছু বর্ণনা থাকলে বিষয়টা আরো উপভোগ্য হতো৷ তাছাড়া দোহা চরিত্রটাকে প্রথম থেকে শেষপর্যন্ত যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে শেষটাতে এসে চরিত্রটা ম্লান হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে।
সম্পূর্ণ গল্পটা দারুণ। বইটা যখন নিয়েছিলাম এতোটা পরিপক্ব লেখা পাবো আশা করিনি। লেখকের বাক্যগঠন, লেখনশৈলী মুগ্ধ করার মতো। লেখাও এগিয়েছে একদম সাবলীল ভাবে, বর্ণনা মেদহীন। তাছাড়া বইটার প্রচ্ছদটাও একেবারে প্রাসঙ্গিক, যেখানে গল্পের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা মুহূর্তকে দৃশ্যমান করা হয়েছে। এবং তাতে প্রচ্ছদকারক সফল বলতে হয়। আশাকরি বইটা যারা পড়বেন, তাদের ভালো লাগবে।