Jump to ratings and reviews
Rate this book

রুদ্ধতায়

Rate this book
রুদ্ধতায় ভবিষ্যতের এক অস্থির সময়ের গল্প, যখন মানুষ মস্তিষ্কে নিউরোকম চিপ বসিয়ে সরাসরি যেকোনো যন্ত্রের সাথে যোগ স্থাপনে সক্ষম। পৃথিবীব্যাপী মানুষ তখন দুটো ভাগে বিভক্ত--সভ্য, যারা নিবন্ধিত চিপধারী ও সরকারের স্বীকৃত নাগরিক আর দুর্বৃত্ত, যাদের চিপ নেই, সরকারের স্বীকৃত নাগরিক নয় ও সমাজের চোখে অপরাধী। একত্রিত পৃথিবীর সরকারের ভূমিকায় রয়েছে নিউরোকম চিপ প্রস্তুত ও নিয়ন্ত্রণকারী মেগা টেক কোম্পানি ‘এক্স কর্পোরেশন’।
এরকম একটি পটভূমিতে দুর্বৃত্তরা সভ্যদের শনাক্ত করার উপায় না রেখে খুন করে তাদের নিবন্ধিত চিপ হাতিয়ে নিয়ে সেগুলো ব্যবহার করে ফেক আইডেন্টিটি তৈরির কাজে। কী করে তারা সেই ফেক আইডেন্টিটি দিয়ে?
ব্যুরো অব ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের সিনিয়র ইনভেস্টিগেটর সেইচি ইনোউর কাছে এমনই একটি খুনের তদন্ত আসে, যেখানে সে আশাতীতভাবে পায় অদ্ভুত একটা সূত্র। সেই সূত্র ব্যবহার করে কঠিন এক জাল পাতার পরিকল্পনা করে সে। কী হবে সেই জালের পরিণতি?
দুর্বৃত্ত রিগাল ধরা পড়েছে পুলিশের হাতে। তাকে পাঠানো হয়েছে স্পেস প্রিজনে, যেখানে তাকে মুখোমুখি হতে হবে কঠোর ব্রেইনওয়াশিং প্রক্রিয়ার। আর কখনো পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবে কিনা, তারও নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু, ঝুঁকি আছে জানার পরও বিশেষ একটি উদ্দেশ্য নিয়ে সে ধরা দিয়েছে পুলিশের হাতে। কী সেই উদ্দেশ্য?
দুর্বৃত্ত দলের আলিয়াহর ওপর দায়িত্ব পড়লো ইনভেস্টিগেটর সেইচিকে ঠেকানোর। কিভাবে এগোবে সে? বুদ্ধিমান দুই পক্ষ। ধারালো বুদ্ধির লড়াই। কোন দিকে মোড় নেবে গল্প?
দুর্বৃত্তদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের গোপন বৈঠকেই বা কিসের পরিকল্পনা হচ্ছে? সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বিরাট কোনো বিপর্যয় ঘটে যাবে না তো?
পাঠক, তানজিরুল ইসলাম এবার আপনাদের সামনে হাজীর হয়েছেন সাইবার পাংক ধারার একটি সায়েন্স ফিকশন নিয়ে। ভবিষ্যতের অন্ধকার এক সময়ে বুঁদ হতে রুদ্ধতায়-এ স্বাগতম।

240 pages, Hardcover

Published March 8, 2022

54 people want to read

About the author

Tanjirul Islam

14 books132 followers
তানজিরুল ইসলামের জন্ম লালমনিরহাটে। এসএসসি রংপুর জিলা স্কুল থেকে আর এইচএসসি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুরে। স্নাতক শেষ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগ থেকে। বর্তমানে স্বনামধন্য একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। শৈশব থেকেই লেখালেখির প্রতি আগ্রহ। সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি ও থৃলার সাহিত্যের প্রতি রয়েছে তার প্রবল ঝোঁক। ‘অনুভূতিহীন’ নামক তার একটি সাইয়েন্স ফিকশন গল্প প্রথম প্রকাশিত হয় কলেজ-ম্যাগাজিনে। এরপরে লিখেছেন বেশ কয়েকটি পাঠক-প্রিয় গল্প ও উপন্যাস, যা তাকে অন্যতম সম্ভাবনাময় লেখক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মার্কিন থৃলার লেখক হারলান কোবেনের ‘টেল নো ওয়ান’ তার প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ। ‘প্রজাপতি বসে আছে মাত্রায়’ তার প্রথম মৌলিক সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
2 (8%)
4 stars
12 (50%)
3 stars
7 (29%)
2 stars
3 (12%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 11 of 11 reviews
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books282 followers
May 30, 2022
‘রুদ্ধতায়’; শেষ করলাম অদ্ভূত এক মুগ্ধতায়।

মোটামুটি বড় প্লটের ২৪০ পৃষ্ঠার ‘রুদ্ধতায়’ কেমন লেগেছে তা বলার আগে বলি এই নিউরোকম চিপ জিনিসটা কি। নিউরোকম মাইক্রোচিপের কাজ অনেকটা ‘অ্যাভাটার’ মুভিতে দেখানো Neural Queue এর মতো (ঐ যে মাথার পেছনে বেণীর মত অঙ্গটা)। ‘অ্যাভাটার’ এ যেমন ওটা দিয়ে কোন লিভিং বিয়িং এর সাথে কানেক্ট হয়ে তাকে কন্ট্রোল করা যেত, ‘রুদ্ধতায়’র নিউরোকম মাইক্রোচিপও তাই। তবে এখানে ছোট্ট চিপটা মানুষের মস্তিষ্কে সার্জারি করে লাগিয়ে দেয়া হয় আর মানুষ ওটার নেটওয়ার্ক দিয়ে কোন তারের সাহায্য ছাড়াই যে কোন যন্ত্রকে কন্ট্রোল করতে পারে।

এই যে জিনিসটা, মূলত বই শুরু করার সাথে সাথেই এই আইডিয়াটাতে আমি হুকড হয়ে গেছি। বারবার ভেবেছি, বাহ কি দারুণ আইডিয়া! এই আইডিয়ার সাথে সাথে লেখক এ বইতে ডেভেলপ করেছেন দারুণ একটা কন্সপিরেসী, যেটা দুর্বৃত্তরা করে সরকার দমনের উদ্দেশ্যে। এই কন্সপিরেসীকে ও তার এক্সিকিউশনকে লেখক যেভাবে রুপ দিয়েছেন তাতে করে বইটা আর শুধু সাই ফাই থাকে না, এর সাথে যোগ হয় থ্রিল। প্রতিমূহূর্তে মনে হয় কি জিতবে? সায়েন্স না ন্যাচার? পার্ফেক্ট হিউম্যান রেস নাকি দোষগুণে ভরা ন্যাচারাল হিউম্যান রেস? পড়তে গিয়ে আমার মনে হয়েছে আমি আসলে ওখানেই আছি, তবে বুঝতে পারছি না কার পক্ষ নেবো। এই যে একটা ডিলেমা, সেটা তৈরী করতে পারফেক্ট ব্যালেন্স এর একটা ধারণা থাকা দরকার। এখানে তানজিরুল ইসলাম ওভার দ্য বাউন্ডারী হাঁকিয়েছেন (Take a bow)। আর যারা থ্রিলারে টুইস্ট আশা করেন, তারাও এই বইতে কয়েকটা টুইস্ট পাবেন এবং টুইস্টগুলো ওয়েল এক্সিকিউটেড।

তবে গল্পের যে জায়গাটা আমি সবচাইতে বেশি উপভোগ করেছি তা হলো, রিগ্যালের স্পেস প্রিজনে থাকার দিনগুলো। এপসেলন নামে একটা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাথে তার যে কনভার্সেশন হয়েছে ঐ জায়গাটাকে সাইকোলজিক্যাল কোন বইয়ের অংশ বললেও ভুল হবে না। তবে শেষটায় এপসেলনের কি হয় এটা জানার একটা আকাঙ্ক্ষা তৈরী হয়েছে। লেখক যেহেতু বলেছেন, এই বইয়ের আর কোন সিক্যুয়েল/প্রিক্যুয়েল আসবে না, তাই এই বইতে না পাওয়ার হিসেব করলে এইটাই সবচেয়ে বড় হবে।

লেখকের লিখনশৈলী নিয়ে বললে বলবো, বইতে লেখক যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা একেবারেই সহজবোধ্য এবং সাই ফাই হওয়া সত্ত্বেও এই বই পড়তে কারোরই কষ্ট হবার কথা না। কারণ লেখক একদমই কঠিন কোন থিওরী এখানে কপচাননি। তবে লেখার প্যাটার্নটা একদমই প্লেইন। এটা কার কেমন লাগে জানিনা, তবে জনরা ফিকশনে প্লেইন লেখা আমার খারাপ লাগে না। লিখনশৈলীতে গতি জিনিসটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং এই বইটা একদম শুরু থেকে যে গতি ছিলো বইয়ের প্রায় তিন চতুর্থাংশ সে গতিতেই এগিয়েছে। শেষে এসে বইয়ের গতি খানিকটা বেড়ে যায় যেটা থ্রিলার পাঠকদের আরো বেশি ভালো লাগবে।
ক্যারেক্টারাইজেশন নিয়ে বলতে হলে বলবো, প্রায় প্রতিটি ক্যারেক্টারই একটা অ্যাভারেজ ব্যাকগ্রাউন্ড পেয়েছে। তাই এই গল্পে একক কোন ব্যক্তিকে প্রোটাগনিস্ট/অ্যান্টাগোনিস্ট বলার সুযোগ নেই। ব্যক্তিগত ভাবে রিগ্যাল, এপসেলন, আলিয়াহ এদেরকে বেশি ভালো লেগেছে।

সবমিলিয়ে ২০২২ এর মার্চে বাতিঘর থেকে প্রকাশিত বই ‘রুদ্ধতায়’ আমার অপ্রাপ্তি একদম নেই বললেই চলে। গোছালো মাপা প্লট, সুন্দর গতিশীলতা ধরে রাখা এই বইটি আমার কাছে লেখকের এখন পর্যন্ত লেখা সেরা বই বলে মনে হয়েছে (‘দাবনিশ আখ্যান’ পড়া হয়নি যদিও)। এমনকি, এটা ২০২২ এ আমার পড়া সেরা বইগুলোর একটা। তাই শুরু করেছিলাম যে লাইন দিয়ে সেটিই বলছি-

‘রুদ্ধতায়’; শেষ করলাম অদ্ভূত এক মুগ্ধতায়।

রেকমেন্ডেশন : সকল থ্রিলার পাঠকরা, স্পেশালি যারা সাইবার পাঙ্ক, সাই-ফাই থ্রিলার পছন্দ করেন তাদের এই বই মিস দেয়া ঠিক হবেনা।
April 7, 2022
সাইবার পাঙ্ক হিসাবে বেশ ভালো। সাথে টানটান থ্রিল, এসপিওনাজ ও একশন; সব মিলিয়ে ভালো প্লট। তবে লেখার স্টাইল নিয়ে কিছুটা হতাশ হয়েছি। সাবলিলতার যথেষ্ট অভাব ছিলো। লেখক শো এর চেয়ে টেল বেশি করেছেন। ইনফেক্ট প্রায় পুরো উপন্যাসটাই টেল এর মাধ্যমে এগিয়েছে। বর্ননাভঙ্গীর দিকে আরেকটু নজর দিলে নিসন্দেহে মনে রাখার মতো একটা বই হতো।
আরেকটা বিষয়ের খুব অভাব বোধ করেছি, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। গল্পে প্রটাগনিষ্টরা যা চাইছিলো যেভাবে চাইছিলো ঠিকঠিক তাই যেন হয়ে যাচ্ছিলো।

যাই হোক, সবমিলিয়ে ভালো বলা চলে।

সাইফাই লাভারদের জন্যে রিকমেন্ডেট।
ব্যক্তিগত রেটিং ৩.৭৫/৫
Profile Image for Aishu Rehman.
1,114 reviews1,090 followers
July 6, 2024
আপাতত এটাকে আনফিনিসড শেলফে ফেলে রাখি। প্রথম ৩০ পৃষ্ঠা পড়ে আর এগোতে ইচ্ছে হচ্ছে না।
-আগষ্ট, ২০২২

দীর্ঘ দুই বছর পর:..
আবার হাতে নিয়েছিলাম 'রূদ্ধতায়'। এবার একটু ধীর স্থির ভাবে পড়ার চেষ্টা করেছি। কনসেপ্টটা পরিপূর্ণভাবে ব্রেনে ইনপুট নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তারপরও প্রথম ১০০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত খানিকটা খাবি খেতে হয়েছে আমাকে। নিউরোকম চিপটা কিভাবে দুর্বৃত্তরা কাজে লাগাচ্ছিলো, ফেক আইডেন্টিটি কিভাবে ব্যাবহার করছিল, তাদের ব্রেনে অন্য কারো চিপ থাকা সত্বেও কেন ধরা পড়ছিল না, তাদের ব্রেনে যদি অন্য কারো চিপ নেওয়া হয় তাহলে সভ্যদের সাথে পার্থক্যটাই বা কিভাবে তৈরি হলো? এরকম অসংখ্য প্রশ্নের সদ উত্তর পাচ্ছিলাম না। আর ঠিক এজন্যই হোঁচট খাচ্ছিলাম বারবার। তবে লেখক এই ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করেছেন ঠিক ১০১ নাম্বার পৃষ্ঠাতে।

গল্পের প্লট বেশ সুন্দর। লেখক ডায়লগ কমিয়ে স্টোরি টেলিংয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এটা আমার কাছে ভালো লাগে। এবং লেগেছেও।

অতৃপ্তির যায়গা অনেকখানি। লেখক সেইচি ইনোউ বাদে শক্ত কোন প্রতিরোধ গড়ে তোলেননি। দুর্বৃত্তরা যা চেয়েছেন খাপে খাপ কম্ম সেরে ফেলেছেন। রিগাল এতো সহজে একটা এআই কে হাত করে পুরো সিস্টেম কব্জা করে ফেললেন বিষয়টা একটু বাড়াবাড়ি। নিউরোকমের অসুবিধা গুলো সেইচির কাছে গ্রহনযোগ্য ভাবে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরাও হয়নি। এইখানের অংশটুকু বড্ড দায়সারা ভাবে লেখক লিখেছেন। শেষের ক্লাইম্যাক্সেটাও ম্যাড়ম্যাড়ে। এবং সম্পূর্ণ প্রেডিক্টেবল। আর দুটো শব্দের মাঝে স্পেস প্রবলেম তো আছেই। ওটা যদিও আমি ধরার মধ্যে নিই না।

এতোকিছু সত্বেও গল্পটা আমাকে টেনেছে। লেখকের স্টোরি টেলিং আমাকে গল্পের শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। আর এজন্যই তিনটে তারা।

-৬ই জুলাই, ২০২৪
Profile Image for Zahidul.
450 reviews95 followers
June 9, 2022
“Well, all information looks like noise until you break the code.”― Neal Stephenson, Snow Crash
-
❛রুদ্ধতায়❜
-
❛রুদ্ধতায়❜ বইয়ের পটভূমি ভবিষ্যতের এমন এক পৃথিবী যেখানে বেশিরভাগ মানুষদের চিন্তাভাবনা নিউরাল চিপের মাধ্যমে সংযুক্ত এবং নিয়ন্ত্রিত। তবে কিছু মানুষ তথা দুর্বৃত্ত সেই নিউরাল চিপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাদের থামানোর প্রচেষ্টার ভেতরে চিপ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা 'এক্স কর্পোরেশন' পরিচালিত ব্যুরো অব ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের সিনিয়র ইনভেস্টিগেটর 'সেইচি ইনোউ' হঠাৎ এক ক্লু পেয়ে যান যা দুর্বৃত্তদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে পারে।
-
রিগাল, একজন ভয়ানক দুর্বৃত্ত। 'এক্স কর্পোরেশন' এর সভ্যদের হাতে ধরা পড়ার পরে তাকে একটি স্পেস প্রিজনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার সাথে 'এপসেলন' নামের এক আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাথে পরিচয় হয়। তাকে ঘিরে রিগাল রচনা করতে থাকে এক সুবৃহৎ পরিকল্পনা।
-
আলিয়াহ, দুর্বৃত্ত দলের এক বিশেষ পদে আসীন। তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ব্যুরো অব ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের সিনিয়র ইনভেস্টিগেটর সেইচি ইনোউকে ঠেকানোর জন্য। শুরু হয় সেইচি এবং আলিয়াহ এর ভেতর এক ইঁদুর-বিড়াল খেলা।
-
এখন স্পেস প্রিজনে আটক থাকা রিগালের আসল পরিকল্পনা কী? সেইচি এবং আলিয়াহ এর ভেতর এই ইঁদুর-বিড়াল খেলায় জয়ী হবে কে? এ সকল ঘটনা ভবিষ্যতের পৃথিবীতে কীরকম প্রভাব ফেলবে? তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক তানজিরুল ইসলাম এর সাইবারপাঙ্ক সায়েন্স ফিকশন ❛রুদ্ধতায়❜।
-
❛রুদ্ধতায়❜ বইটি মূলত একটি সাইবারপাঙ্ক সায়েন্স ফিকশন। বইয়ের জনরাটি আমার বেশ পছন্দের হওয়ায় প্রথম থেকেই গল্পের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলাম। বইতে যে ধরনের টেকনোলজিক্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট এবং ফিকশনাল ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং দেখানো হয়েছে তা বুঝতে তেমন কোন অসুবিধেই হয়নি। সাইবারপাঙ্ক সায়েন্স ফিকশনের যে ধরনের ট্রোপ থাকে যেমন উড়ন্ত গাড়ি, বিশাল একীভূত কর্পোরেশন থেকে সাইবর্গ সবকিছুই কম বেশি এসেছে গল্পে। মোটকথা গল্পের প্লটের সাথে সাইবারপাঙ্কের এলিমেন্টগুলো চমৎকারভাবে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। বইয়ের অধ্যায়গুলোর নাম বাইনারি পদ্ধতিতে দেওয়ার ব্যপারটাও ইউনিক ছিলো।
-
❛রুদ্ধতায়❜ বইয়ের ভেতরে নানা ধরনের চরিত্র আসলেও মূলত রিগাল, আলিয়াহ আর সেইচির উপরেই মেইন ফোকাস ছিলো গল্পে। গল্পে কোন চরিত্রই আসলে খুব বেশি এক্সপ্লোর করার সুযোগ পায়নি। বইতে বেশ কমপ্লেক্স কিছু বিষয় থাকলেও বেশ সরলভাবেই কাহিনি লেখা হয়েছে। এই কাহিনির সরলতার কারণে বিভিন্ন ধরনের ফিউচারিস্টিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির কথা আসলেও সব ধরনের পাঠকই সেগুলোর সাথে কানেক্ট হতে পারবেন। বইয়ের বর্ণনাশৈলীর ব্যপারে অবশ্য কিছু জায়গায় মনে হয়েছে আরো সহজভাবে ব্যপারগুলো বর্ণনা করা যেত। তাছাড়া বইয়ের শেষটা খুবই প্রেডিক্টেবল লাগলো, যারা এ ধরনের গল্প পড়ে থাকেন তারা আগেই হয়তো প্রেডিক্ট করে ফেলতে পারেন সেটি।
-
❛রুদ্ধতায়❜ বইয়ের প্রোডাকশনের দিক থেকে সবথেকে ভালো লেগেছে বইয়ের কভার এবং নামলিপি। বইয়ের কাহিনি অনুসারে একেবারে পারফেক্ট কভার এবং নামলিপি তৈরি করা হয়েছে। তবে নামলিপির উপরের অংশ সম্ভবত কেটে গিয়েছে প্রোডাকশনগত সমস্যার কারণে। বইয়ের সম্পাদনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে চোখে লেগেছে একাধিক শব্দ বার বার জোড়া লেগে যাওয়া, পুরো বই জুড়ে এই সমস্যা প্রায় প্রতিটি পেইজেই কম বেশি ছিলো। একজায়গায় "এপসেলন" এর জায়গায় এআইকে "সিগমা" বলা হয়েছে যেখানে এ নামে কোন এআই বইতে উল্লেখ ছিলো না। আশা করছি পরবর্তী সংস্করণে ব্যপারগুলো শুধরে নেওয়া হবে।
-
এক কথায়, বাংলা ভাষায় সায়েন্স ফিকশনের চল কম দিনের না হলেও একেবারে বিশুদ্ধ সাইবারপাঙ্ক বলতে গেলে এখনো কমই পাওয়া যায়, সে দিক থেকে বলা যায় বাংলা মৌলিক সাইবারপাঙ্কের অভাব কিছুটা হলেও মিটিয়েছে ❛রুদ্ধতায়❜ বইটি। যাদের বাংলা মৌলিক সায়েন্স ফিকশন বই পড়তে পছন্দ তারা বইটা পড়ে দেখতে পারেন।
Profile Image for রাগিব নিহাল তন্ময় .
Author 6 books15 followers
March 27, 2022
A table spoon of Blade Runner with a Deus Ex like base and all the socio-commentary that comes as package deal in the cyberpunk genre. 'Ruddhotay' doesn't try to reinvent or deconstruct the well established tropes and cliches of cyberpunk, contrarily it feels more like a love-letter/homage to the genre as a whole and I must admit it is masterfully executed, Tanjirul bhai's aka the writer's love for the genre is felt in every prose. But the books strong reluctance to not stray from the established tropes and cliches leaves a lot more to be desired and I'm conflicted. On one hand, this is a perfectly adequate cyberpunk novel that feels like it was ripped straight out of the 80s, but on the other hand, it fails to step out of the shadows of its predecessors and inspirations to really become its own new and unique thing.
But whatever, I'm just glad that there's an original Bangla cyberpunk book out there for me to read and its pretty damn good. Certified frosty, a great time, no alcohol required :'3
Profile Image for Safwan  Mahmood.
115 reviews5 followers
March 13, 2025
In the book Ruddhatay, author Tanjirul Islam shows a future where everyone is implanted with a chip called Neurocom to enhance brain function and control behavior to reduce crime. Society is split between the 'Shovyo'—those with chips—and the 'Durbritto'—rogues who reject the system. When intelligent police officer Seiichi Inoue investigates a murder linked to the Rogues, he finds a clue that will help him catch the Rogues' organizational leaders. Aliyah, an important rogue, becomes his adversary, and a mind game between them begins. Meanwhile, a captured rogue named Regal has been sent to a space prison to be brainwashed, but actually, he has gone there with a secret mission that can change everything.

The concept of 'Ruddhatay' is intriguing—an authority controlled dystopian world, cybernetic implants, and an underground rebellion. If you’re looking for a fast-paced, one-time-read cyberpunk light novel, it’s not a bad pick. The book delivers surface-level entertainment, with high-tech elements appearing when needed, though the world-building lacks depth. Action scenes are present but not particularly remarkable, and the writing is straightforward, moving directly through the plot without any major twists or surprises.

However, one major flaw is its one-sided portrayal of the conflict. 'Durbritto', the rouges, supposedly the rebels against a dystopian regime, are so powerful that they act more like an untouchable mafia organization, making them feel like dystopian creators themselves rather than liberators. To win them over, the story relies on illogical and overly coincidental plot, which weaken the narrative. The most problematic issue is psychologically manipulating an AI, which comes off as completely unconvincing.

Character-wise, the book introduces interesting premises but doesn’t develop them well. The depth is lacking, making the characters feel underwhelming. In the end, if you skip the deeper themes and treat it purely as a light cyberpunk thriller, 'Ruddhatay' is okay—but with stronger plotting and more balanced world-building, it could have been much better.

📚 Name of the Book : Ruddhatay

📚 Author : Tanjirul Islam

📚 Book Genres : Dystopian Science Fiction, Cyberpunk, Suspense Thriller

📚 Personal Rating : 3/5
Profile Image for শুভাগত দীপ.
280 reviews44 followers
December 23, 2022
|| রিভিউ ||

বইঃ রুদ্ধতায়
লেখকঃ তানজিরুল ইসলাম
প্রকাশকঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ মার্চ, ২০২২
ঘরানাঃ সাইবারপাংক সায়েন্স ফিকশন
প্রচ্ছদঃ জুনায়েদ ইকবাল ইশমাম
পৃষ্ঠাঃ ২৪০
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ টাকা
ফরম্যাটঃ হার্ডকভার

কাহিনি সংক্ষেপঃ ভবিষ্যতের পৃথিবী। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে মানুষ এখন অনেক এগিয়ে গেছে। দুই দলে ভাগ হয়ে গেছে মানুষ। একদল সভ্য, যাদের মস্তিষ্কে সংযুক্ত করা আছে নিউরোকম চিপ। এই চিপ তাদের সমস্ত চিন্তা-চেতনা নিয়ন্ত্রণ করে। সেই সাথে যেকোন ইলেকট্রনিক ডিভাইস এই চিপের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সভ্যরা। সভ্যরাই সংখ্যায় বেশি। দ্বিতীয় দলে যারা আছে তারা দুর্বৃত্ত নামে পরিচিত। এই দলের সদস্যরা মস্তিষ্কে নিউরোকম চিপ বসানোর ঘোর বিরোধী। নিউরোকম চিপধারী সভ্য সমাজকে তারা শত্রু হিসেবে জ্ঞান করে। এদিকে নিউরোকম চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এক্স কর্পোরেশনই এখন পুরো পৃথিবীকে শাসন করে। দুর্বৃত্তরা পরিচয় লুকিয়ে নানা অপরাধকর্ম করতে থাকে, আর সভ্যরা চিপের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে চেষ্টা করতে থাকে তাদের প্রতিহত করার।

ব্যুরো অভ ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন (বিসিআই)-এর একজন সিনিয়র ইনভেস্টিগেটর এজেন্ট সেইচি ইনোউ। দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে তার নৈতিক ও পেশাগত যুদ্ধটা একটু অন্যরকম। অন্যান্য এজেন্টদের মতো সে খুচরো দুর্বৃত্তদের ধরতে চায় না। বরং চায় এই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে পৌঁছাতে। সোজা কথায়, দুর্বৃত্তদলের নেটওয়ার্ক সমূলে ধ্বংস করাই তার উদ্দেশ্য। কে জানতো, এমন একটা সুযোগ হয়তো সে শীঘ্রই পেতে যাচ্ছে!

সাইবেক রিগাল একজন দুর্বৃত্ত। সভ্যদের কাছে ধরা পড়ে তার স্থান হয়েছে স্পেসের এক টপ সিকিউরড প্রিজনে। বিভিন্ন উপায়ে রিগালের ব্রেইনওয়াশিংয়ের চেষ্টা চলছে সেখানে। এই প্রিজনের অত্যন্ত স্মার্ট এআই এপসেলনের সাথে নানা বিষয়ে কথা হতে থাকে রিগালের। রিগাল আসলে কি চায়? তাকে ভেতর-বাহির দুই দিক থেকেই কি ভেঙে ���েলবে সভ্যদের চিপ নিয়ন্ত্রিত সিস্টেম?

দুর্বৃত্তদলের অত্যন্ত মেধাবী একজন সদস্য আলিয়াহ। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দেয়া জটিল ও কঠিন নানা মিশনের রূপকার সে। এবার তার হাতে এসে পড়লো এমন এক মিশন, যেটাতে বুদ্ধির খেলা ও ভাগ্যের সাহায্য দুটোই প্রয়োজন হবে তার। সভ্য আর দুর্বৃত্ত দুই দলের তাদের নিজেদের আদর্শে অটল থাকতে চায়। এদিকে দুর্বৃত্তরা চায় নিউরোকম চিপের প্রভাবমুক্ত এক পৃথিবী। সেটা পাওয়ার জন্য একরকম সবকিছুই করতে পারে তারা। কারা জিতবে? সভ্যরা, নাকি দুর্বৃত্তরা?

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ অনেকদিন পর কোন সায়েন্স ফিকশন পড়লাম। তাও সাইবারপাংক সায়েন্স ফিকশন। সায়েন্স ফিকশনের এই ধারার মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে এমন এক ভবিষ্যতের পৃথিবীর কথা বলা হয় যেখানে একদল মানুষ বিজ্ঞানের উৎকর্ষের শীর্ষে থেকে 'পাংক' আখ্যা পাওয়া নিম্নস্তরের জীবন-যাপন করতে থাকা মানুষদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে সাইবারপাংক সায়েন্স ফিকশন নিয়ে বিখ্যাত লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল অতীতে কিছু কাজ করলেও সম্প্রতি এমন মৌলিক কাজ দেখতে পাওয়া যায় না। লেখক তানজিরুল ইসলামের 'রুদ্ধতায়' এই ধারার সাম্প্রতিক এক সংযোজন বলা যেতে পারে।

'রুদ্ধতায়'-এর প্লটটা বেশ ইন্টারেস্টিং। ভবিষ্যতের পৃথিবীতে মানুষ নিজের মস্তিষ্কে প্ল্যান্ট করা নিউরোকম চিপের মাধ্যমে যানবাহন থেকে শুরু করে যেকোন ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করছে, এই কনসেপ্টটা চমৎকার লেগেছে আমার কাছে। এই চিপ তাদের চিন্তাধারাকেও নিয়ন্ত্রণ করে বা বলা ভালো, লাগাম টেনে ধরে। সুদূর বা অদূর যেকোন ভবিষ্যতে হয়তো সত্যিই মানুষ নিউরোকম চিপের মতো কোন টেকনোলজির ওপর সত্যিই নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এটা ছাড়াও মাইক্রোড্রোন, প্রস্থেটিক অর্গান, অ্যানড্রয়েড রোবট, সিম্যুলেটেড ব্রেইন সহ বেশ কিছু টপিক বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে আমার কাছে। তবে আমি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি এআই এপসাইলনের সাথে রিগালের কথোপকথন। রিগাল তাকে যে গল্পগুলো শুনিয়েছে সেগুলো সত্যিই চিন্তার খোরাক জোগায়। বলা হয়ে থাকে, প্রত্যেকটা মানুষই কারো না কারো গল্পে ভিলেন। 'রুদ্ধতায়' উপন্যাসে এই ব্যাপারটা ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে।

কি কি নেগেটিভ লেগেছে, সেগুলো নিয়ে এখন কিছু বলা যাক। প্রথমত, কাহিনির ধীর গতি। শুরুতে কাহিনিটা যেভাবে এগিয়েছে, মাঝপথে এসে সেই গতি অনেকটাই হারিয়েছে বলে মনে হয়েছে আমার। কিছু কিছু জায়গায় রীতিমতো বোর হতে হয়েছে আমাকে৷ দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ বাক্যগঠন। এই সমস্যার কারণে পূর্ণাঙ্গ মনোযোগ আসছিলো না অনেক সময়ই। আরো একটা সমস্যার দেখা আমি বইটা পড়তে গিয়ে খুব বেশি পরিমাণে পেয়েছি। সেটা হলো, প্রোপার স্পেসের অভাব। প্রায় প্রত্যেকটা পৃষ্টাতেই এই সমস্যাটা আছে। ধরে নিন, একটা বাক্যে 'বিশেষ এক ধরণের ছোট্ট চিপ' কথাটা স্পেসের অভাবে হয়ে গেছে 'বিশেষএক ধরণের ছোট্ট চিপ'। এই সমস্যাটা খুবই বিরক্তিকর লেগেছে আমার কাছে। বানান জনিত সমস্যাও খেয়াল করেছি বেশ কিছু, যেগুলো চোখে লেগেছে৷ সম্পাদনার ব্যাপারে আরো সতর্ক হওয়া উচিৎ ছিলো বলে মনে হয়েছে আমার।

এর আগে তানজিরুল ইসলামের 'প্রজাপতি বসে আছে মাত্রা' পড়েছিলাম৷ ভালো লেগেছিলো। 'রুদ্ধতায়' আমার কাছে ওই লেভেলের ভালো লাগেনি। তবে একবারে খারাপও লাগেনি। সাইবারপাংক সায়েন্স ফিকশন হিসেবে বইটা ব্যর্থ না। তবে আরো উপভোগ্য হতে পারতো। কারণ, প্লটটা আসলেই চমৎকার।

জুনায়েদ ইকবাল ইশমামের করা প্রচ্ছদটা অসাধারণ লেগেছে আমার কাছে। বইয়ের বাঁধাই আর কাগজের মানও ভালো ছিলো। আগ্রহীরা চাইলে পড়ে দেখতে পারেন 'রুদ্ধতায়'।

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ৩.৮৭/৫

#Review_of_2022_19

~ শুভাগত দীপ ~

(২৩ ডিসেম্বর, ২০২২, শুক্রবার, দুপুর ২ টা ৪৯ মিনিট; আরএসটি ইউনিভার্সিটি, নাটোর)
Profile Image for Aadrita.
278 reviews228 followers
June 9, 2022
চিন্তা করুন এমন একটা পৃথিবী যেখানে সবার মস্তিষ্কে এক ধরণের চিপ বসানো। এর মাধ্যমে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাদের চিন্তাভাবনা। অবসাদ, ক্লান্তি, বিষণ্নতার অনুভূতি দূর করে চিপগুলো মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় অনেকগুনে, উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায় সভ্যতাকে। আবার কোনো ধরণের অপরাধমূলক, ধ্বংসাত্মক, অন্যের ক্ষতি করার প্রবৃত্তি মাথা থেকে দূর করে সমাজকে নিরাপদ রাখতেও সাহায্য করে। চমৎকার তাইনা? তবে কেনো এই নিউরোচিপকে প্রত্যাখ্যান করছে একদল দুর্বৃত্ত? কেনো সমগ্র নিউরোচিপ সিস্টেমকে সমূলে উৎপাটন করতে উঠেপড়ে লেগেছে তারা? এই নিয়েই সাইবারপাংক জনরার সায়েন্স ফিকশন 'রূদ্ধতায়' এর গল্প।

উত্তরটা হলো মুক্তচিন্তা এবং এর মূল্য। মুক্তচিন্তার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে সমাজের কার্যক্ষমতা আর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলেও এর বিপরীতে চুকানো মূল্যটা কী একটু বেশিই হয়ে যায় না? স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতাকে বাদ দিয়ে গড়ে ওঠা উন্নত মানবসমাজ সত্যিকার অর্থে আসলেই কী উন্নত?

বইটা পড়তে পড়তে এসব চিন্তাই মাথায় ঘুরবে পাঠকের। এই জনরার একদম নতুন পাঠক হওয়ার পরও পড়ার অভিজ্ঞতা বেশ চমৎকার ছিলো। দারূণ কনসেপ্ট, সাবলীল লেখনী, দ্রুতগতির প্লট এবং চমৎকার এক্সকিউশন। সব মিলিয়ে ঘন্টা কয়েকের জন্য 'রূদ্ধতায়' এর পৃষ্ঠায় রূদ্ধ থাকতে মন্দ লাগেনি।
Profile Image for Fariha Sabrina.
1 review4 followers
March 23, 2022
প্রথমত আমি সাইফাই খোর নই,তবে তানজিরুল ইসলামের 'রুদ্ধতায়' পড়ার পর ভাবলাম একটা রিভিউ দেয়াই যাক, আমার পড়া অন্যতম সেরা বই এই বছরের, আমার মত থ্রিলার প্রেমী দের ও ভাল লাগবে আই গেস, বইয়ে সাইন্স ফিকশনের ফাঁকে থ্রিলার ভাইব আছে, দুর্বৃত্ত আর সভ্য -দুই দলের কোল্ড ওয়ার, ম্যানিপুলেশন আর কাউন্টার ম্যানিপুলেশন ভাল লেগেছে, কে কার উপর বিজয়ী হবে, কে কতভাবে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ আর উদ্দেশ্যে হাসিল করবে আর সত্যিকারে কাকে সাপোর্ট করা উচিত, সায়েন্স না ন্যাচার, পার্ফেক্ট হিউম্যান রেস নাকি দোষগুনে ভরা ন্যাচারাল হিউম্যান রেস কে, তা জানতে বইটি পড়ে ফেলুন, আমি আর স্পয়লার দিলাম না, তবে রিগালের এপসেলন কে গল্পে গল্পে ম্যানিপুলেট করা টা ভাল লেগেছে, এই দুজনের মধ্যে আরও কিছু সিনারিও ডেভেলপ করা হলে ভাল হত, লাস্টে এপসেলনের কি হবে জানার ইচ্ছা আসলেও লেখক তার গল্পটি স্ট্যান্ড এলোন বলেই দিয়েছেন সো লেখককে রিকোয়েস্ট করতে পারি এটার এন্সয়ার দেবার জন্য নেক্সট কোন গল্পতে, অভারওল বেশ ভাল একটি সায়েন্স ফিকশন জনরার ডার্ক স্টোরি , ডার্ক সায়েন্স স্টোরি উপহার দেবার জন্য লেখককে ধন্যবাদ 🙂
Profile Image for পটের দুধের কমরেড.
209 reviews25 followers
June 8, 2024
মোটামুটি৷ আগ্রহ জাগানিয়া কন্সেপ্ট বাট পুওরলি ডেভেলপড৷ শেষে আরেকটু টেনে দৈর্ঘ্য প্রস্থ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল, সবকিছু খোলাসা করে তুড়ি মেরেই খেল খতম৷ ২.৭৫/৫
Profile Image for Zakaria Minhaz.
261 reviews24 followers
October 14, 2022
#Book_Mortem 72

#রূদ্ধতায়

লেখকঃ তানজিরুল ইসলাম
প্রচ্ছদঃ জুনায়েদ ইকবাল ইশমাম
প্রকাশনীঃ বাতিঘর
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৪০
মূদ্রিত মূল্যঃ ৩০০

রূদ্ধতায় বইটিতে ভবিষ্যতের এমন এক পৃথিবীর গল্প বলা হয়েছে, যে গল্পে মানুষ মনের কল্পনার সাহায্যেই সবকিছু করে ফেলতে পারে। মানুষের মস্তিষ্কে বসিয়ে দেয়া হয়েছে "নিউরোকম" নামক বিশেষ এক ধরণের মাইক্রো চিপ। যে চিপের সাহায্যে মানুষ চাইলেই হাতের ব্যবহার না করে যেকোনো তথ্যের এক্সেস পেতে পারে, ফোন করতে পারে কিংবা দিক নির্দেশনা দেখতে পারে। জীবন এখানে অনেক সহজ, তবে এই সহজ জীবন পাওয়ার জন্য মানুষকে হারিয়ে ফেলতে হয়েছে তার নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার কিংবা চিন্তা করার স্বাধীনতা। মানুষ এখন আর অধিক আবেগাক্রান্ত হতে পারে না, পারে না হিংস্র হয়ে উঠতে কিংবা কোনো কিছুর প্রতিবাদ করতে (এই জিনিসটা অবশ্য আমাদের দেশে মস্তিষ্কে নিউরোকম স্থাপন করা ছাড়াই এচিভ করে ফেলা হয়েছে 🙃)। এতে করে পৃথিবী জুড়ে কোনো ধরণের অপরাধ এখন আর সংগঠিত হয় না। যথারীতি এই প্রযুক্তির বিরোধী একটা পক্ষও আছে। যারা চায় না মানুষ তার নিজের ইচ্ছায় কিছু করার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলুক। এই দুই পক্ষের গল্প নিয়েই এগিয়েছে রূদ্ধতায় এর কাহিনী।

#প্রতিক্রিয়াঃ লেখক বইয়ের ভুমিকাতেই বেশ সুন্দরভাবে সাইবারপাংক জনরা কি এই ব্যাপারে একটা ছোট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এবং সেই অনুসারে বেশ চমৎকার একটা প্লট উপহার দিয়েছেন আমাদেরকে।

এই সাইবারপাংক থ্রিলারে লেখক নিউরোকম চিপের বিশদ ব্যবহার, আপগ্রেডেড প্রস্থেটিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বর্ণনা, উড়ুক্কু গাড়ি তথা স্কাইকার, মস্তিষ্কের ক্লোনিং কিংবা স্পেস প্রিজন সহ অসংখ্য সাই-ফাই এলিমেন্ট এনেছেন। ভবিষ্যৎ পৃথিবীর যে আবহ লেখক এখানে তৈরী করেছেন তা বেশ ভালো লেগেছে আমার। যান্ত্রিক কলাকৌশল কিংবা বৈজ্ঞানিক টার্মসগুলো অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন; যে কারনে যে কেউ বইটা সহজেই বুঝে নিতে পারবে।

গল্পটা মস্তিষ্কে চিপ সম্বলিত "সভ্য" এবং চিপ বসাতে অস্বীকৃতি জানানো "দুর্বৃত্ত", এই দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব নিয়ে এগিয়েছে। তবে ফোকাস করা হয়েছে মূলত সেইচি ইনোউ, আলিয়াহ এবং রিগাল এই তিন চরিত্রের ঘটনাবলীকে। তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমেই সভ্যদের বিরুদ্ধে দুর্বৃত্তদের যুদ্ধের এই গল্প এগিয়েছে বেশ গতিময়তার সাথে। তবে পেইজ টার্নার হলেও গল্পে তেমন কোনো উত্তেজনা পরিলক্ষিত হয় না। কারন গল্পের প্রোটাগনিস্টরা যেভাবে যা চাচ্ছিলো, তার সব হয়ে যাচ্ছিলো অনায়াসে; তেমন কোনো শক্ত বাঁধার সম্মুখীন না হয়েই। আর তাই গল্পের শেষটাও অত্যন্ত অনুমেয় এবং গতানুগতিক।

লেখকের প্লট, আইডিয়া এবং আবহ এই ৩টা বিষয় ব্যক্তিগতভাবে আমার বেশ ভালো লেগেছে৷ বিশেষ করে আমাদের মৌলিকে এমন প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে সমস্যা হচ্ছে লেখকের বর্ণনাভঙ্গি অত্যন্ত দূর্বল। পড়তে সহজবোধ্য হলেও কেমন যেনো খাপছাড়া দূর্বল লিখনশৈলী মনে হয়েছে।

চরিত্রায়নের ব্যাপারেও আক্ষেপ রয়ে গেছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই লেখক চরিত্রগুলোর কর্মকান্ড দিয়ে তাদেরকে উপস্থাপন না করে, নিজের বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। কোনো দৃশ্যে হয়তো একটা চরিত্র এক রকম আচরণ করছে, এদিকে লেখক আবার বলে দিচ্ছেন তার মনে এখন অন্য রকম চিন্তা চলছে!! এই ধরণের ব্যাপারগুলোও আসলে বইটাকে দূর্বল করে দিয়েছে। কারেক্টারদের ডায়লগ ডেলিভারির অবস্থাও তথৈবচ।

প্লট এক্সিকিউশনের ক্ষেত্রে বেশকিছু ব্যাপারে অসংগতিও লক্ষ্য করা গিয়েছে (স্পয়লার হয়ে যেতে পারে তাই রিভিউতে সেগুলোর উল্লেখ করলাম না, তবে কেউ চাইলে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে কমেন্ট বক্সে কিংবা ইনবক্সে), যা মোটাদাগে এতো সুন্দর আইডিয়ার একটা প্লটকে শেষ পর্যন্ত সঠিক পরিণতি দিতে পারেনি।

#ব্যক্তিগত_রেটিংঃ ৬/১০ (লেখকের "দাবনিশ আখ্যান" পড়ে প্রচন্ড হতাশ হয়েছিলাম। সেই তুলনায় এই বইটি কিছুটা বেটার। তবে এখনো আরো পরিপক্কতা আশা করার জায়গা রয়ে গিয়েছে।)

#প্রোডাকশনঃ প্রোডাকশনের সবচেয়ে বিশ্রী ব্যাপার ছিলো বইয়ের প্রতিটা পেইজেই বেশ অনেক জায়গায় দুইটি শব্দ একটা আরেকটার সাথে জোড়া লেগে যাওয়ার ব্যাপারটা। পড়ার সময় অনেক বিরক্তির উদ্রেক করেছিলো এটা। বাদবাকী সব টিপিক্যাল বাতিঘর। প্রচ্ছদটা অবশ্য বেশ ভালো লেগেছে।

#পরিশিষ্টঃ সেই ছোটোবেলা থেকেই আমি একজন প্যাশনেট গেমার। ইদানিং আমাদের গেমিং সেক্টরে রিমেকের হিড়িক পড়েছে। ছোটোবেলায় খেলা গেমগুলো নতুন জেনারেশনের আপগ্রেডেড গ্রাফিক্স এবং ফ্রেম রেটে বের হচ্ছে। খেলতে ভালোই লাগে। এই বইটা শেষ করার পর আমার মনে হয়েছিলো, ইশ!! যদি লেখক আরো পরিণত হওয়ার পর বইটার একটা রিমেক (পরিমার্জিত) সংস্করণ বের করতেন!! তাহলে আমাদের মৌলিক সাইফাই থ্রিলারে মনে রাখার মতো একটা বই পেতাম আমরা।
Displaying 1 - 11 of 11 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.