বল্লালসেন তাঁর পুত্রের নামে একটি রাজধানী স্থাপন করেছিলেন 'লক্ষ্মণপুর' নামে, মুসলিম ঐতিহাসিকেরা যাকে 'লখ্নুর' নামে চিহ্নিত করেছেন। বীরভূমে হঠাৎই এক অচেনা 'চর্যাপদ'-এর সন্ধান পেয়ে সেটির মূল পাণ্ডুলিপির খোঁজ করতে গিয়ে তিন বন্ধু পেয়ে গেল সেই লখ্নুরের হদিশ।
এদিকে মূর্তিপাচার এক চক্রের খবর নিতে গিয়ে পাল ও সেনযুগের সন্ধিক্ষণে ঘটে চলা ইতিহাসের একের পর এক পরত খুলে যেতে লাগল সরকারি আধিকারিক মনোময়ের সামনে। তিন নবীনকে সঙ্গে নিয়ে মনোময় নেমে পড়লেন এক বিরাট রহস্যের সমাধানে। বীরভূমির যে মাটি দীর্ঘ তন্ত্রসাধনার কেন্দ্র, সেই মাটি যে নানান অতিলৌকিক 'ডায়াগ্রাম' দ্বারা সুরক্ষিত, সেই তথ্য উঠে আসতে লাগল। এইসব 'যন্ত্রম'-এর সঙ্গে কি কোনো সম্পর্ক রয়েছে সান্ধিবিগ্রহিক ও পণ্ডিত ভবদেব ভট্টের? হরিবর্মার পরে কে হয়েছিলেন বঙ্গের রাজা? সামলবর্মা, নাকি অন্য কেউ? মূর্তিপাচারকারীরাই কি ওই দুর্লভ পাণ্ডুলিপি হাতাতে চায়? নাকি তারা অন্য কেউ? এক রূদ্ধশ্বাস অভিযানে এসব প্রশ্নের উত্তর সামনে আসতে লাগল মনোময় ও তিন সহযোগীর।
প্লট: নেই। কয়েকটি চরিত্রের মুখে ইতিহাস ও ভূগোলের রাশি-রাশি তথ্য ডাম্প করা হয়েছে শুধু। চরিত্র: কাঠের পুতুলদেরও এর তুলনায় বেশি নিজস্বতা থাকে। নারী চরিত্রদের তো হাস্যকর ক্যারিকেচার হিসেবেই আঁকা হয়েছে। পড়ার কারণ: সহজ ভাষায় বীরভূমের এবং রাঢ় বঙ্গের ইতিহাস জানা। থ্রিলারের পাঠক হিসেবে এটি পড়লে নিঃসীম হতাশ হবেন। ইতিহাসের পাঠক হিসেবে বইটি পড়তে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে মহিমারঞ্জন চক্রবর্তী সম্পাদিত 'বীরভূম বিবরণ'-এর দু'টি খণ্ড পড়ে নেওয়াই কাঙ্ক্ষিত।
"বীরভূম " বরেন্দ্র অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । একসময় অবিভক্ত ভারতীয় উপমহাদেশের এই বরেন্দ্র অঞ্চল ছিল রাঢ় বাংলার রাজধানী । বীরভূম শুধু শান্তিনিকেতন আর বোলপুরের লালমাটির রূপ নয় । এর সাথে আছে এক বিশাল শিব-শক্তি ক্ষেত্র।
সজল, নিত্য, রত্নদ্বীপ, মনোময় এরা এক জটিল রহস্যের সমাধানে নামে । মনোময় আর সজলের লক্ষ্য তাঁর দাদু অনাদিবাবুর লেখা প্রাচীর ইতিহাস খুঁজে বের করা, নিত্যর লক্ষ্য খাতায় থাকা অনাবিষ্কৃত দুইটি চর্যাপদ খুঁজে বের করা , আর রত্নদ্বীপের লক্ষ্য পুরনো রাঢ় বাংলার প্রত্নত্বাত্তিক শহর বের করা ।কিন্তু এরই মাঝে ঘটে যায় অনাকাংখিত নানান ঘটনা । কে শত্রু , কে চুরি করল অনাদিবাবুর দ্বিতীয় খাতা , তাদের উদ্দেশ্য কি , এটা কি শুধুই একজনের কাজ নাকি এর পেছনে রয়েছে দুর্ধর্ষ কোনো চক্র, তারা কি পারবে এই রহস্য সমাধান করতে নাকি শিবশক্তি ক্ষেত্র নিজের সমহিমায় নিজেকে রক্ষা করবে ??
সব কিছুর উত্তর পাওয়া যাবে বইটির শেষে । ২৪ বইমেলা থেকে কিনেছিলাম বইটা । একটু জটিল হলেও ঐতিহাসিক উপন্যাস যারা পছন্দ করেন তাদের বইতি অবশ্যই ভালো লাগবে। বাংলাদেশীদের জন্যে বইটা এক্সট্রা জটিল হবার কারণ বীরভূম বা আশেপাশের জায়গা ব্যাপারে জ্ঞান কম থাকা । এটা মূলতঃ একটা গবেষণামূলক উপন্যাস।
বাংলার আদিম ইতিহাস সম্পর্কিত একটি বই যেখানে গবেষণা ও আবিষ্কার কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা, একটু মাঝারি মনের থ্রিলার। বীরভূম জেলা কে কেন্দ্র করে , আবিষ্কৃত একটু চর্যা পদ নিয়ে , নতুন নতুন তথ্য ও তার বিশ্লেষণ । তার সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে , একের পর এক থিয়োরিটিকাল বিশ্লেষণ।
প্রচুর তথ্য রয়েছে বললাম সেন ও তার পূর্ববর্তী রাজা ও সমন্তদের দিয়ে। পরবর্তী সময়ের বৌদ্ধ বিহার ও তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সরোজন্ত্র , ও সেন রাজাদের বঙ্গ পুনঃ রাজত্ব স্থাপন। আছে তন্ত্র আছে বজ্রযান নিয়ে কিছু অসাধারণ তথ্য।।।
এখানে রহস্য বলতে সেরকম কিছুই লেখক ফুটিয়ে তুলতে পারেন নি।।। মতের ওপর একটি গবেষণায় বই মনে হয়েছে।।
খুবই উপভোগ্য একটা টানটান থ্রিলার পড়লাম। তবে থ্রিলার মানেই মারদাঙ্গা খুনখারাপি ইত্যাদি মনে করে পড়তে শুরু করলে পাঠকদের হতাশ হতে হবে। শুধুমাত্র বীরভূম জেলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসকে সম্বল করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এতসুন্দর একটা লেখা পড়লাম,অনেকদিন মনে থাকবে। লেখক রজত পাল এর নাকি এটাই প্রথম ফিকশন! তবে তথ্য প্রচুর থাকলেও কোথাও জোর করে তথ্য গিলিয়ে খাওয়ানোর প্রয়াস নেই,এজন্যই বিরক্তিকর হয়ে ওঠেনি উপন্যাসটি। তবে মধ্যযুগের গল্পটি আরেকটু টানলে মন্দ হতো না।